পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ১৭] বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি পরীক্ষা - ২ টপিক: জীব বিজ্ঞান (উদ্ভিদ ও প্রাণি) ও আধুনিক বিজ্ঞান বিষয়ক মৌলিক বিষয়াবলি। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির জীববিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
"স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর কাজ কী?
  1. ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
  2. মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন
  3. অক্ষিগোলকের সঞ্চালন
  4. দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়
সঠিক উত্তর:
মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন
ব্যাখ্যা

" স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি" করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়ে থাকে।

- স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি করোটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন সম্পূর্ণ হয়।
- করোটিক স্নায়ু হলো মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপত্তি হয়ে করোটিক স্নায়ু ছিদ্রপথ দিয়ে বের হয়ে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বিস্তৃত স্নায়ু।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।
- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- করোটিক স্নায়ু আমাদের স্বাদ, গন্ধ, কথা শোনা এবং অনুভূতি অনুভব করতে সহায়তা করে।

কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ:
- অলফ্যাক্টরি: ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অপটিক: দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
- অকুলোমোটর: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ট্রকলিয়ার: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)।
- ট্রাইজেমিনাল: সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
- অ্যাবডুসেন্স: অক্ষিগোলকের সঞ্চালন (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)।
- ফ্যাসিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
- অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক): শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
- গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল: স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
- ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক): সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
- হাইপোগ্লোসাল: জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিচের কোনটি DNA-এর নাইট্রোজেন বেস?
  1. হিস্টিডিন
  2. গুয়ানিন
  3. গ্লুটামিন
  4. ট্রিপটোফান
সঠিক উত্তর:
গুয়ানিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুয়ানিন
ব্যাখ্যা

গুয়ানিন হলো DNA এর চারটি নাইট্রোজেন ক্ষারের মধ্যে একটি।
- DNA-এর নাইট্রোজেন ক্ষারগুলি দুই ধরনের:
১। পিউরিন: অ্যাডেনিন (A) ও গুয়ানিন (G),
২। পাইরিমিডিন: সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T)।
- গুয়ানিন সর্বদা সাইটোসিনের সাথে তিনটি শক্তিশালী হাইড্রোজেন বন্ধন (G≡C) গঠন করে, যা DNA স্ট্র্যান্ডকে স্থায়িত্ব প্রদান করে।
- এই গঠনে গুয়ানিন DNA-এর দ্বিসূত্রক কাঠামো ও জেনেটিক তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

• ডিএনএ (DNA):
- Deoxyribo Nucleic Acid (DNA) হলো ক্রোমোসোমের প্রধান এবং স্থায়ী উপাদান।
- ক্রোমোসোমের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে ডিএনএ এর পরিমাণ হচ্ছে ৪৫%।
- এটি ৯০% ক্রোমোসোমে থাকে।
- DNA একটি পলিমার। এর একককে নিউক্লিয়োটাইড বলে।
- নিউক্লিয়োটাইডের তিনটি উপাদান থাকে। যথা- পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ স্যুগার, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গোয়ানিন, থায়ামিন, সাইটোসিন) এবং ফসফরিক অ্যাসিড।

• আরএনএ (RNA):
- RNA এর পুরো নাম- Ribo Nucleic Acid.
- এটি ক্রোমোসোমের স্থায়ী উপাদান নয়।
- ক্রোমোসোমে এর পরিমাণ হচ্ছে ০.২-১.৪%।
- প্রতিটি RNA অণু একসূত্রকবিশিষ্ট।
- এটিও পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা (RNA এর রাইবোজ স্যুগারের ২নং কার্বনে অক্সিজেন অণু বিদ্যমান), অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, ইউরাসিল, সাইটোসিন) দিয়ে গঠিত।
- RNA তে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ ক্ষারক থাইমিনের পরিবর্তে ইউরাসিল উপস্থিত থাকে।

উৎস:
১। জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

.
নিচের কোন উদ্ভিদের কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতা হিসেবে কাজ করে?
  1. গোলাপ
  2. শিমুল
  3. ফণিমনসা
  4. ফার্ন
সঠিক উত্তর:
ফণিমনসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফণিমনসা
ব্যাখ্যা

ফণিমনসা হলো একটি বিশেষ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড রূপান্তরিত হয়ে পাতার কাজ করে। এতে ক্লোরোফিল থাকে যা ফটোসিন্থেসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
- ফণিমনসায় পাতার পরিবর্তে কাণ্ডই মূলত সবুজ, সূর্যালোক থেকে শক্তি গ্রহণের প্রধান উৎস।
- মরুভূমি ও শুষ্ক এলাকায় টিকে থাকার জন্য এই অভিযোজন হয়ে থাকে।
- ক্যাকটাসের মতো এটিও পানি সংরক্ষণকারী উদ্ভিদ যা কাণ্ডের ভিতরে পানি ও খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
- পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষার কাজ করে।

অন্যদিকে,
- গোলাপ: এটি একটি সাধারণ উদ্ভিদ যেখানে কাণ্ড, পাতা ও ফুল আলাদা আলাদা অংশ হিসেবে থাকে।
- শিমুল: এটি একটি বড় গাছ যার মোটা কাণ্ড ও বিস্তৃত পাতা রয়েছে। 
- ফার্ন: এটি অপুষ্পক উদ্ভিদ, যার কাণ্ড সাধারণ এবং পাতা হিসেবে রূপান্তরিত হয় না।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

.
মানবদেহে কোনটির অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়?
  1. নিয়াসিন
  2. থায়ামিন
  3. রিবোফ্লাভিন
  4. অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাসকরবিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা

ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিডের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়।
-
এই ভিটামিন কোলাজেন গঠনের জন্য অপরিহার্য এবং এর অভাবে মাড়ি ফুলে যাওয়া, দাঁত পড়ে যাওয়া, ত্বকে রক্তক্ষরণ এবং ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

• ভিটামিন সি:
- ভিটামিন সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড।
- ভিটামিন সি মানুষকে রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে এবং ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে।
- আমলকি, কমলালেবু, লেবু, আনারস প্রভৃতি ভিটামিন সি এর উৎস।

অন্যদিকে,
- ভিটামিন ডি এর অভাবে রিকেটস এবং অস্টিওম্যালাসিয়া হয়।
- ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
- ভিটামিন কে এর অভাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- থায়ামিন (ভিটামিন বি১): এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়।
- রিবোফ্লাভিন (ভিটামিন বি২): এর অভাবে "অ্যারিবোফ্ল্যাভিনোসিস" রোগ হয়। এতে ঠোঁট ফাটা, জিহ্বায় ঘা এবং চোখের সমস্যা হয়, কিন্তু স্কার্ভি হয় না।
- নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩/নিকোটিনিক অ্যাসিড): এর অভাবে পেলাগ্রা রোগ হয়। এই রোগে ত্বকে প্রদাহ, ডায়রিয়া, মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

.
মানবদেহে কোন এনজাইম স্নেহজাতীয় (চর্বিযুক্ত) খাদ্য হজমে প্রধান ভূমিকা পালন করে?
  1. পেপসিন
  2. মল্টেজ
  3. লাইপেজ
  4. ল্যাকটেজ
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাইপেজ
ব্যাখ্যা

লাইপেজ হলো চর্বি বা স্নেহ জাতীয় খাদ্য হজমের প্রধান এনজাইম।
- এটি ট্রাইগ্লিসারাইড (চর্বি) ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারল তৈরি করে। যা মানবদেহে স্নেহজাতীয় খাদ্যের পুষ্টির শোষণে গুরুত্বপূর্ণ।।
- মানবদেহে প্রধানত অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে লাইপেজ নিঃসৃত হয়।
- ছোট অন্ত্রে (ডিওডেনাম) সবচেয়ে সক্রিয় থাকে।
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে।
- লাইপেজ এনজাইমের অভাবে চর্বি সঠিকভাবে হজম হতে পারে না, যার ফলে পুষ্টির অভাব, পেটে অস্বস্তি এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে,
- পেপসিন: প্রোটিন হজমকারী এনজাইম, যা পেটের অ্যাসিডিক পরিবেশে প্রোটিনকে পেপটাইডে ভেঙে দেয়। এটি স্নেহজাতীয় খাদ্যের হজমে কাজ করে না।
- মল্টেজ: কার্বোহাইড্রেট হজমের এনজাইম, যা ম্যলটোজকে তরলাকার ঘন শর্করায় ভেঙে দেয়। এটি চর্বি হজমে কার্যকর নয়।
-  ল্যাকটেজ: দুধে থাকা ল্যাকটোজ (দুগ্ধশর্করা) হজম করতে সাহায্য করে।
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে।
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে।

উৎস:
১।বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২। ব্রিটানিকা।

.
কোনটির জন্য পুষ্প রঙ্গিন ও সুন্দর হয়?
  1. মাইটোকন্ড্রিয়া
  2. রাইবোজোম
  3. ক্রোমোপ্লাস্ট
  4. লিউকোপ্লাস্ট
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট
ব্যাখ্যা

পুষ্পের রঙিন ও সুন্দর হওয়ার প্রধান কারণ হলো ক্রোমোপ্লাস্ট।
- ক্রোমোপ্লাস্ট হলো প্লাস্টিডের বিশেষ একটি ধরনের অঙ্গাণু যা উদ্ভিদের পুষ্প, ফল, ও কিছুমাত্রিক অংশকে রঙিন ও সুন্দর করে তোলে।
- ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা, হলুদ জাতীয় রঞ্জক যেমন ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল সঞ্চিত থাকে, যা পুষ্পকে আকর্ষণীয় রঙ জোগায়।
- ফুলের পাপড়ির রঙ মূলত ক্রোমোপ্লাস্টের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, যা পরাগায়নের জন্য পরাগ বাহকদের আকর্ষণ করে।

• প্লাস্টিড:
- প্লাস্টিড উদ্ভিদ কোষের একটি গুরত্বপূর্ণ অঙ্গাণু।
- প্লাস্টিডের প্রধান কাজ খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা এবং উদ্ভিদদেহকে বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।

- প্লাস্টিড তিন ধরনের।
- যথা- ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট এবং লিউকোপ্লাস্ট।

• ক্রোমোপ্লাস্ট:
- ক্রোমোপ্লাস্ট রঙিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়।
- এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি রঞ্জক থাকে, তাই কোনটিকে হলুদ, কোনটিকে নীল আবার কোনটিকে লাল দেখায়।
- এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
- এরা বিভিন্ন ধরনের রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষণ করে জমা করে রাখে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ কোনটি?
  1. মিথানল
  2. নিকোটিন
  3. ইথানল
  4. আয়োডিন
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিকোটিন
ব্যাখ্যা

নিকোটিন হলো তামাকে উপস্থিত সবচেয়ে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর পদার্থ।
- এটি একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ)।
- অত্যন্ত আসক্তিকারক পদার্থ - হেরোইনের চেয়েও বেশি আসক্তি সৃষ্টি করে।
- স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
রক্তনালী সংকুচিত করে।
- মাত্র ৫০-৬০ মিলিগ্রাম একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য মারাত্মক হতে পারে।
- হার্টের সমস্যা, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য শ্বাসনালী রোগ মূলত নিকোটিনসহ তামাকের রাসায়নিক যৌগগুলো দ্বারা ঘটে।

• ধুমপান:
- ধুমপান হচ্ছে তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণ প্রক্রিয়া।
- ধুমপায়ী যে অবস্থায় জলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভুত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায় তাকে সক্রিয় ধুমপান বলে।
- অপরদিকে ধুমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনৈচ্ছিকভাবে মানুষের দেহে নিশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাকে নিষ্ক্রিয় ধুমপান বলে।
- ধুমপানে সৃষ্ট ধোয়াতে প্রায় ৫০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে।
- তামাকের মধ্যে ক্ষতিকর উপাদানগুলো হলো নিকোটিন, টার ও কার্বন মনো-অক্সাইড।

• ধুমপানের প্রভাব:
১। সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়ায় বিদ্যমান বিষাক্ত নিকোটিন ও টার ফুসফুসে ক্যান্সার সৃষ্টি করে; কার্বন মনোক্সাইড শ্বাসনালীতে ব্রঙ্কাইটিস সৃষ্টি করে।
২। ধুমপানের ধোঁয়া ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং আয়তন বেড়ে যায়।
৩। ধোয়ার প্রভাবে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে ফুসফুসে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি করে ফলে শ্বসনতল কমে গিয়ে গ্যাস বিনিময়ে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে এ অবস্থাকে এমফাইসিমা বলে।
৪। কার্বন মনোক্সাইড এর বৃদ্ধি ঘটে এবং রক্তের অক্সিজেন পরিবহন ক্ষমতা হ্রাস করে।

উৎস:
১। প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২। ব্রিটানিকা।

.
প্রাইমারি দূষক কোনটি?
  1. সালফার ডাইঅক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড
  3. মিথেন
  4. পারঅক্সিঅ্যাসিটাইল নাইট্রেট (PAN)
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাইঅক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালফার ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

• প্রাইমারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ কোনো উৎস থেকে নির্গত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় পরিবেশে বিদ্যমান থাকে এবং পরিবেশের দূষণ ঘটায় তাদেরকে প্রাইমারি দূষক বলে। যেমন:
- নাইট্রিক অক্সাইড (NO)
- কার্বন মনোক্সাইড (CO)
- কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂)
- সালফার ডাইঅক্সাইড (SO₂)
- অ্যামোনিয়া (NH3)
- ছাই, ধুলিকণা
- Volatile organic compounds (VOCs)

• সেকেন্ডারি দূষক:
- যে সকল দূষক পদার্থ সরাসরি কোনো উৎস থেকে পরিবেশে আসে না, বরং বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়া প্রাথমিক দূষকগুলো থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে সেকেন্ডারি দূষক বলে।
- যেমন:
- সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3)
- নাইট্রিক এসিড (HNO3)
- সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)
- হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H₂O₂)
- ওজোন (O3)

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
খাদ্যশক্তি কীসের মাধ্যমে পরিমাপ করা হয়?
  1. ওয়াট
  2. কিলো ক্যালোরি
  3. নিউটন
  4. কিলো জুল
সঠিক উত্তর:
কিলো ক্যালোরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিলো ক্যালোরি
ব্যাখ্যা

কিলো ক্যালোরি হলো খাদ্যশক্তি পরিমাপের প্রধান একক।
- ১ কিলো ক্যালোরি = ১০০০ ক্যালোরি।
- এটি ১ কেজি পানির তাপমাত্রা ১°C বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় শক্তি।
- খাদ্যের লেবেলে "Cal" বা "kcal" দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা দৈনিক খাদ্য চাহিদা নির্ধারণে এটি ব্যবহার করেন।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৈনিক প্রয়োজন প্রায় ২৫০০ কিলো ক্যালোরি।
- খাদ্যের শক্তি হলো খাদ্যে উপস্থিত শর্করা, আমিষ ও ফ্যাট থেকে পাওয়া মোট শক্তি।
- শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে দেহে তাপ উৎপন্ন হয়।
- এই তাপ আমাদের দেহের ভিতরে খাদ্যের পরিপাক, বিপাক, শ্বাসকার্য, রক্তসঞ্চালন ইত্যাদি কাজে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রমে শক্তি ব্যয় হয়।
- যেসব খাদ্যে শর্করা, প্রোটিন ও স্নেহ পদার্থ থাকে, সেসব খাদ্য থেকে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায়।
- যেসব খাদ্যে পানি ও সেলুলোজের পরিমাণ বেশি থাকে, সেসব খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।
- তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।

অন্যদিকে,
- ওয়াট: এটি বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক।
- নিউটন: এটি বলের একক। 
- কিলো জুল: এটি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক একক হলেও, বেশির ভাগ দেশে খাদ্য শক্তি বোঝাতে কিলোক্যালোরি বেশি প্রচলিত।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

১০.
অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. ক্লোরিন
  3. ফ্লুরাইড
  4. ম্যাগনেসিয়াম
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম:
- ক্যালসিয়াম (Ca) হলো অস্থি ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের প্রায় ২% ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- শরীরে থাকা মোট খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সর্বাধিক।
- এটি ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ৯০% পরিমাণে অস্থি ও দাঁতে সংরক্ষিত থাকে।
- এছাড়া, রক্ত ও লসিকাতেও ক্যালসিয়াম বিদ্যমান।
- উদ্ভিজ্জ উৎস: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি, ফল ইত্যাদি।
- প্রাণিজ উৎস: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।

ক্যালসিয়ামের কার্যকারিতা:
- হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করে।
- রক্ত সঞ্চালন ও হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে সহায়তা করে।
- স্নায়ু ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখে।
- শিশুদের রিকেটস (Rickets)- এতে হাড় নরম ও বিকৃত হয়ে যায়।
- বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া (Osteomalacia) – এতে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা দেখা দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। ব্রিটানিকা।