পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ; ২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ; ৩. অন্ধকার যুগ ও তাঁর সাহিত্যকর্ম; ৪. কবি সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম ও উপাধি; ৫. সাহিত্য বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী; ৬. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ/উক্তি। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ---------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগ বিভাগ কয়টি ?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
সঠিক উত্তর:
তিনটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগবিভাগ — তিনটি।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি.),
২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রি.) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' - কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সমরেশ বসু
  4. মধুসূদন মজুমদার
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
খ) প্যারীচাঁদ মিত্র-এর ছদ্মনাম হল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'। তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) রচনা করেছেন।

অন্যান্য লেখকদের ছদ্মনাম:
ক) সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত;
গ) সমরেশ বসু - কালকূট;
ঘ) মধুসূদন মজুমদার - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
____ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ।
  1. ৬৫০-১৩৫০
  2. ৬৫০-১২৫০
  3. ৬৫০-৯৫০
  4. ৬৫০-১২০০
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬৫০-১২০০
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ:
- প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

• দীনেশ্চন্দ্র সেন, সুকুমার সেন, গোপাল হালদার, মুহম্মদ এনামুল হক প্রমুখ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগ সমর্থন করেন।
• তবে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের উল্লেখিত যুগ-বিভাগের মধ্যে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সময়সীমা মেনে নিলেও তাঁর মতে প্রাচীনযুগের সময়সীমা- ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত (মোট ৫৫০ বছর)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীরবলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)।
- নানাকথা।
- আমাদের শিক্ষা।
- রায়তের কথা।
- নানাচর্চা।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'।
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'।
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা'।
- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র-
  1. সমাচার দর্পণ
  2. দিগ্‌দর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. বঙ্গদর্শন
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিগ্‌দর্শন
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র- দিগ্‌দর্শন।

দিকদর্শন: 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিগ্‌দর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা)।
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।  
---------------------
অন্যদিকে,
• সমাচার দর্পণ: 
- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে।   

• সংবাদ প্রভাকর: 
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছরকে কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণব যুগ
  2. গীতিকাব্যের যুগ
  3. রোমান্টিক যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।
- সেক শুভোদয়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিম্নোক্ত কোন সাহিত্যকর্ম অন্ধকার যুগে রচিত হয়?
  1. চর্যাপদ
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. মণিপুরী কীর্তন
  4. শূন্যপুরাণ
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• ঘ) শূন্যপুরাণ অন্ধকার যুগে রচিত সাহিত্যকর্ম।
- রামাই পণ্ডিত রচিত এই গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। এটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আখ্যানকাব্য।

অন্ধকার যুগ (১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ):
এই সময়কালে বাংলা সাহিত্যে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম পাওয়া যায় না বলে একে 'অন্ধকার যুগ' বলা হয়।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

অন্যান্য অপশনগুলোর সময়কাল:
ক) চর্যাপদ - চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। প্রাচীন যুগ (৬৫০/৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ) এর সাহিত্যকর্ম।
খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বড়ু চণ্ডীদাস রচিত একটি মধ্যযুগীয় কাব্য, যা ১৪শ শতকের মধ্যে রচিত বলে মনে করা হয়।
গ) মণিপুরী কীর্তন - মণিপুরী কীর্তন বাংলা সাহিত্যের কোনো সুনির্দিষ্ট সাহিত্যকর্ম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
.
‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধি কোন কবির?
  1. চণ্ডীদাস
  2. কৃত্তিবাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. রামপ্রসাদ সেন
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• গ) বিদ্যাপতি-র উপাধি হল 'কবিকণ্ঠহার'।

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সময়সীমা কবে থেকে শুরু?
  1. ১৭৫৭
  2. ১৮০১
  3. ১৮৫৭
  4. ১৮১৮
সঠিক উত্তর:
১৮০১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮০১
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮০১ সালে শুরু হয় আধুনিক যুগ।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
'যাযাবর' ছদ্মনামটি কোন লেখকের?
  1. মণীশ ঘটক
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• খ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়-এর ছদ্মনাম হলো - 'যাযাবর'।

অন্যদিকে,
• মণীশ ঘটক - এর ছদ্মনাম ''যুবনাশ্ব''।
• 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।
• আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম 'অশোক সৈয়দ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'সংবাদ প্রভাকর' - বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৬ সালে
  2. ১৮৩৭ সালে
  3. ১৮৩৮ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১২.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূন্যপুরাণ
  3. পদাবলী কীর্তন
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শূন্যপুরাণ
ব্যাখ্যা
• রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ হচ্ছে 'শূন্যপুরাণ'।

• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. সংস্কৃত
  2. প্রাকৃত
  3. সন্ধ্যাভাষা
  4. ব্রজবুলি
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যাভাষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সন্ধ্যাভাষা
ব্যাখ্যা
• সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪.
কোনটি প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সহরপাদের দোহা
  2. ডাকার্ণব
  3. কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. নিরঞ্জনের রুষ্মা
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুষ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরঞ্জনের রুষ্মা
ব্যাখ্যা
ঘ) নিরঞ্জনের রুষ্মা প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়।
• এটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 

• 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এক প্রকার চম্পুকাব্য।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, শূন্যপুরাণ এর অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' প্রকৃতপক্ষে সহদেব চক্রবর্তীর রচনা।

অন্যদিকে,
ক) সহরপাদের দোহা;
খ) ডাকার্ণব;
গ) কৃষ্ণপাদের দোহা- 
- প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম (৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
কোন কবির প্রাপ্ত উপাধি - ‘গুণরাজ খান’?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. মালাধর বসু
  4. চণ্ডীদাস
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
গ) মালাধর বসু-র প্রাপ্ত উপাধি হলো - 'গুণরাজ খান'।

• মালাধর বসু ও তাঁর উপাধি: গুণরাজ খান।
মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই উপাধি কে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ, তাঁর কাব্যরচনার সময় দুইজন গৌড়েশ্বর ছিলেন:

এরা হলেন - 
• রুকনুদ্দিন বরবক শাহ – কাব্য রচনার প্রথম পর্যায় গৌড়েশ্বর।
• শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহ – কাব্য রচনার শেষ পর্যায় গৌড়েশ্বর।

তবে কবির নিজ কাব্য থেকেই পাওয়া যায় এই উক্তি-
“গুণ নাই, অধম মুই, নাহি কোন জ্ঞান।
 গৌড়েশ্বর দিল নাম গুণরাজ খান।”

এই পদ থেকেই ধারণা করা হয়, মালাধর বসুকে গুণরাজ খান উপাধি দিয়েছিলেন রুকনুদ্দিন বরবক শাহ।

উল্লেখ্য:
মালাধর বসু ছিলেন গৌড়ের সুলতান রুকনুদ্দিন বরবক শাহের উচ্চপদস্থ কর্মচারী। তিনি সংস্কৃতপটু, হিন্দু ধর্মালম্বী হয়েও মুসলিম শাসকের কাছ থেকে এই সম্মান লাভ করেন, যা তৎকালীন সময়ের ধর্মীয় সহনশীলতার নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১৬.
বাংলা সাহিত্যে “অন্ধকার যুগ” নামে পরিচিত সময়কাল কত বছর ধরে বিস্তৃত?
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- 'শূণ্যপূরাণ,
- সেক শুভদয়ার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৭.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. শান্তিপা
  3. ভুসুকুপা
  4. তুলারম্ভপা
সঠিক উত্তর:
তুলারম্ভপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুলারম্ভপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলারম্ভপা।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৮.
অন্ধকার যুগে বাংলা ভাষায় সাহিত্যসৃষ্টি হয়নি বলে ধরা হয় কেন?
  1. বিদেশি ভাষা প্রভাবিত হওয়ায়
  2. রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
  3. লেখক ছিল না
  4. ছাপাখানা ছিল না
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিত।
- এই সময়ে বাংলা সাহিত্যের লিখিত কোনো নিদর্শন পাওয়া যায় না।

- ১২০৪ সালে তুর্কি বীর ইখতিয়ারউদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি বাংলা অধিকার করেন।
- পরবর্তী দেড়শ বছর রাজনৈতিক আলোড়নের জন্য কোন সাহিত্যসৃষ্টি সম্ভব হয়নি বলে অনেকের ধারণা।
- এ সময় রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া গেছে (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া।
- অবশ্য এগুলোর রচনাকাল নিয়ে মত-পার্থক্য আছে।) সেগুলো মূলত সংস্কৃত।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগ বিভাগ হয়েছে প্রাপ্ত নিদর্শনের ভিত্তিতে।
- চর্যার কবিদের অস্তিত্ব দ্বাদশ শতাব্দীর (১২০০) পূর্ব পর্যন্ত ছিল বলে মনে করা হয়।
- তাই দ্বাদশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত প্রাচীন যুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. কিশোর মেলা
  2. কচি কাঁচার মেলা
  3. আঙুর
  4. রাঙা প্রভাত
সঠিক উত্তর:
আঙুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঙুর
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকাটির নাম - "আঙুর"। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা -
- প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' (১৯২০);
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস' (১৯২৩);
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক 'তকবীর' (১৯৪৭)।

----------------- 
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
তিনি ছিলেন:
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১)।
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের কতটি পদ অনুমান করেন?
  1. ৪৮টি
  2. ৫০টি
  3. ৫১টি
  4. সাড়ে ৪৬টি
সঠিক উত্তর:
৫০টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫০টি
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর মতে, চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২১.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' - কে লিখেছেন?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• "কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

-----------------------
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
২২.
'ব্যাঙাচি' - ছদ্মনামটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। 
- এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
২৩.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. কুক্কুরীপা
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে সর্বাধিক পদ-রচয়িতা কবি কাহ্নপা। তিনি মোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- দ্বিতীয় সর্বাধিক পদ-রচয়িতা কবি ভুসুকুপা। তিনি মোট ৮টি পদ রচনা করেন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি; ২২,৩২,৩৮, ৩৯)।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচনা করেন - কুক্কুরীপা (৩টি; ২, ২০, ৪৮)। তবে তাঁর রচিত ৪৮ নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - কে বলেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ''আত্মাকে চিনলেই আত্মনির্ভরতা আসে।'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ - যুগবাণী।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।
-----------
'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।
২৫.
‘কলমসৈনিক’ - উপাধিটি কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. আবদুল হক
  3. আবদুল কাদির
  4. মোজাম্মেল হক
সঠিক উত্তর:
আবদুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল হক
ব্যাখ্যা
খ) আবদুল হক-এর উপাধি হল 'কলমসৈনিক'।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• মোজাম্মেল হক - কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা। 
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
"অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি কোন ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ছুটি
  2. হৈমন্তী
  3. দেনাপাওনা
  4. কাবুলিওয়ালা
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হৈমন্তী
ব্যাখ্যা
• "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। - উক্তিটি 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত।

⇒ 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। এই গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"। 
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প- 
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ, 
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

• ‘ধূমকেতু’ পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল- "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
• 'দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকা': 
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

• ‘লাঙ্গল’ পত্রিকা:
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - কে লিখেছেন?
  1. রফিক আজাদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. হেলাল হাফিজ
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।
২৯.
"এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জহির রায়হান
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• "এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
নাম ডাকতে ডাকতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব। এক সময়ে বিরক্তির সাথে বললেন, উহ্‌ এত ছেলেকে জায়গা দেবো কোথায়। জেলখানাতে এমনিতে ভর্তি হয়ে আছে।
ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০.
কোন কবির উপাধি 'কবিরাজ'?
  1. জ্ঞানদাস
  2. গোবিন্দদাস
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. আল মাহমুদ
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
➝ কবি গোবিন্দদাসের উপাধি ছিলো ⎯ কবিরাজ।
➝ তার আরো একটি উপাধি হলো ⎯ কবীন্দ্র।

• গোবিন্দদাস: 
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।

- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন।
- জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

- গোবিন্দদাস রচিত একটি পদ:
'ঢল ঢল কাঁচা 
অঙ্গের লাবণি
অবনী বহিয়া যায়।
ঈষত হাসির তরঙ্গ- হিল্লোলে
মদন মুরুছা পায়।।'
⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯
অন্য অপশন:
ক) জ্ঞানদাস: জ্ঞানদাস মধ্যযুগের একজন বিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা। তিনি "পদকর্তা ত্রয়ী"র অন্যতম সদস্য। জ্ঞানদাস রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা বিষয়ক অসংখ্য পদ রচনা করেছেন। 

গ) শেখ ফজলল করিম: শেখ ফজলুল করিম আধুনিক যুগের একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। তিনি মূলত গদ্যকার হিসেবে বেশি পরিচিত। 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

ঘ) আল মাহমুদ: আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯) বাংলাদেশের একজন আধুনিক কবি ও ঔপন্যাসিক। তিনি "লোক লোকান্তর", "সোনালী কাবিন", "কালের কলস" প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের জন্য বিখ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩১.
"মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।" - উদ্ধৃতাংশটুকু কোন সাহিত্যিকের রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কায়কোবাদ
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।"—এই বিখ্যাত উক্তিটি মুনীর চৌধুরী- এর ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক এর অন্তর্ভুক্ত।

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।
 
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীলমণি হালদার
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩.
"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায় দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কালিদাস
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মিনী উপাখ্যান' নামক দেশাত্মবোধক কাব্যের অন্তর্ভূক্ত।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮২৭-১৮৮৭): 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের  সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী (১৮৬২),
- শূরসুন্দরী (১৮৬৮) ও
- কাঞ্চী কাবেরী (১৮৭৯)।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।