পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৩
সিলেবাস
পদার্থের জীববিজ্ঞান-বিষয়ক ধর্ম, টিস্যু, জেনেটিকস, জীববৈচিত্র্য, এনিম্যাল ডাইভারসিটি, প্লান্ট ডাইভারসিটি, এনিম্যাল টিস্যু, অর্গান এবং অর্গান সিস্টেম, সালোক সংশ্লেষণ, জুলোজিক্যাল নমেনক্লেচার, বোটানিক্যাল নমেনক্লেচার, প্রাণিজগৎ, উদ্ভিদ, ফুল, ফল, প্লান্ট নিউট্রেশন, পরাগায়ন ইত্যাদি। সোর্সঃ যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই। [এই পরীক্ষা থেকে পড়া শুরু করলে আগামী ১৫০ দিনে বিসিএসের সম্পূর্ণ সিলেবাস কাভার হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৩ প্রশ্ন

.
স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়-
  1. ক) জটিল টিস্যু থেকে
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু থেকে
  3. গ) ভাজক টিস্যু থেকে
  4. ঘ) ফ্লোয়েম টিস্যু থাকে
ব্যাখ্যা
স্থায়ী টিস্যু- ভাজক টিস্যু থেকে উৎপন্ন যে টিস্যুগুলো বিভাজনে অক্ষম তাদেরকে বলা হয় স্থায়ী টিস্যু। ভাজক টিস্যুগুলো বিভাজন ক্ষমতা লোপ পাওয়ার পর তা বৃদ্ধি পেয়ে একটি নির্দিষ্ট আকার ধারণ করে এবং স্থায়ী টিস্যুতে পরিণত হয়।
স্থায়ী টিস্যুর কোষগুলো বিভাজন ক্ষমতাহীন, পূর্ণভাবে বিকশিত এবং সঠিক আকৃতিপ্রাপ্ত।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মেসোফিল টিস্যু কোথায় থাকে?
  1. ক) মূলে
  2. খ) মজ্জায়
  3. গ) বীজে
  4. ঘ) পাতায়
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের মূল, কান্ডের ত্বক, কর্টেক্স, মজ্জা, মজ্জারশ্মি, পাতার মেসোফিল টিস্যু, বীজের ভ্রূণ ও এন্ডোস্পার্ম, ফল ও ফুলের নরম ও মাংসল অংশ ইত্যাদি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত।
কোন কোন প্যারেনকাইমা কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে তাদেরকে ক্লোরেনকাইমা বলা হয়।
পাতার ক্লোরেনকাইমাকে মেসোফিল বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি পরিবহন টিস্যুতন্ত্রের অন্তর্গত?
  1. ক) জাইলেম
  2. খ) স্ক্লেরেনকাইমা
  3. গ) এরেনকাইমা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পরিবহন টিস্যু তন্ত্র (Vascular Tissue System): জাইলেম ও ফ্লোয়েম এর সমন্বয়ে গঠিত টিস্যুতন্ত্রকে পরিবহন টিস্যুতন্ত্র বলা হয়।
সমস্ত ভাস্কুলার উদ্ভিদের ও পাতার শিরা উপশিরায় এ টিস্যুতন্ত্র থাকে। এ টিস্যুতন্ত্র খাদ্যের উপাদান ও তৈরি খাদ্য পরিবহন করে বলে একে সংযোজনকারী টিস্যুতন্ত্রও (Conducting tissue system) বলা হয়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাস্ট ফাইবারের উৎস কোনটি?
  1. ক) তুলা
  2. খ) আঠা
  3. গ) রবার
  4. ঘ) ছাতিম
ব্যাখ্যা
ফ্লোয়েমের মধ্যে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে ফ্লোয়েম তন্তু বলা হয়। কোষগুলো মৃত এবং স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট। ফ্লোয়েমের আঁশকে বাস্ট ফাইবার বলে। পাট, তুলা, শন, তিসি, গাঁজা ইত্যাদি গাছের তন্তুগুলো বাস্ট ফাইবার। উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির জন্য এসব ফাইবার তৈরি হয়। এরা অনেক লম্বা ও পুরুপ্রাচীরবিশিষ্ট বলে এদের বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) বৃক্কের বোম্যানস ক্যাপসুল প্রাচীর
  2. খ) বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা
  3. গ) প্রাণীদের অন্ত্রের অন্তঃপ্রাচীর
  4. ঘ) হৃদপিন্ডের প্রাচীর
ব্যাখ্যা
ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়।
যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
তরুণাস্থি কোন ধরনের টিস্যুর উদাহরণ?
  1. ক) তরল যোজক টিস্যু
  2. খ) তন্তুজ যোজক টিস্যু
  3. গ) কঙ্কাল যোজক টিস্যু
  4. ঘ) স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
তরুণাস্থি- এরা এক ধরনের নমনীয় কঙ্কাল যোজক টিস্যু। এদের মাতৃকা কঠিন অথচ কোমল হয় এবং কোষগুলোর মধ্যে বড় ফাঁকা স্থান থাকে।
যেমন- স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাকের ও কানের পিনার তরুণাস্থি, হিউমেরাস, ফিমার ইত্যাদি অস্থির দু’প্রান্তে অবস্থিত তরুণাস্থি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে কী বলে?
  1. ক) অ্যালিল
  2. খ) জিনোটাইপ
  3. গ) ফিনোটাইপ
  4. ঘ) লোকাস
ব্যাখ্যা
লোকাস- ক্রোমোসোমে একটি জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে।

অ্যালিল, অ্যালিলোমর্ফ : ক্রোমোসোমের একই লোকাসে অবস্থানকারী জিনগুলোকে পরস্পরের অ্যালিল বলা হয়। জিনগুলোর একত্রে অবস্থান করাকে অ্যালিলোমর্ফ বলে। মনে করি, মানুষে বাদামী চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন B ও নীল চোখের রং এর জন্য দায়ী জিন b পরস্পরের অ্যালিল।

জিনোটাইপ : জীবদেহের দৃশ্যমান অথবা সুপ্ত বেশিষ্ট্যগুলোর নিয়ন্ত্রক জিনসমূহের গঠনকে জিনোটাইপ বলে।
মনেকরি, মটরশুঁটি গাছের লম্বা কান্ডের জন্য T জিন এবং বামন কান্ডের জন্য t জিন দায়ী।
অতএব TT, tt, Tt যথাক্রমে বিশুদ্ধ লম্বা, বিশুদ্ধ বামন ও সঙ্কর লম্বা মটরশুঁটি গাছের জিনোটাইপ।

ফিনোটাইপ - জীবদেহের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যসমূহকে ফিনোটাইপ বলে। ফিনোটাইপ প্রকৃতপক্ষে জিনোটাইপের জিনসমূহের বাহ্যিক প্রকাশ।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জিনতত্ত্বের জনক কে?
  1. ক) চার্লস ডারউইন
  2. খ) থিওফ্রাস্টাস
  3. গ) কার্ল করেন্স
  4. ঘ) জোহান মেন্ডেল
ব্যাখ্যা
মেন্ডেল এর সূত্র অনুযায়ী জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশগতিতে সঞ্চারণের যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকেই মেন্ডেলতত্ত্ব বলে।
মেন্ডেলতত্ত্ব আধুনিক জেনেটিক্স এর প্রধান ভিত্তি। একারণেই মেন্ডেলকে জেনেটিক্স এর জনক বলা হয়ে থাকে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
জেনেটিক ডিসঅর্ডারের জন্য কোনটি দায়ী?
  1. ক) পয়েন্ট মিউটেশন
  2. খ) ক্রোমোজোমের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি
  3. গ) ট্রানসলোকেশন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জেনেটিক ডিসওর্ডারের কারণ : চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন কীভাবে মাতা-পিতা থেকে সন্তানদের মধ্যে উপরিউক্ত রোগগুলো সঞ্চালিত হয় এবং কী ধরনের অনিয়মের কারণে রোগগুলো ঘটে। যে সকল অনিয়মের কারণে
মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হয় তা হলো-
(ক) পয়েন্ট মিউটেশন (জিনের পরিব্যপ্তি, এমনকি একটি নিউক্লিয়োটাইডের পরিব্যপ্তি),
(খ) ক্রোমোসোম সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধি,
(গ) মায়োসিস কোষ বিভাজনের সময় হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের বিচ্ছিন্নকরণ না ঘটা (Non-disjunction) অ্যানাফেজ দশায় দু’মেরুতে সম-সংখ্যক ক্রোমোসোম বিতরণ না হওয়া) এবং
(ঘ) অসমসত্ত্ব ক্রোমোসোমের মধ্যে অংশের বিনিময় (Translocation) ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে কার ক্রোমোজোম মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) পিতার
  2. খ) মাতার
  3. গ) পিতা-মাতা উভয়ের
  4. ঘ) কখনো পিতার আবার কখনো মাতার
ব্যাখ্যা
আমাদের দেশে কন্যা-সন্তান প্রসব করার কারণে অজ্ঞতাবশতঃ অনেক সময় মাতাকে অপবাদ দেয়া হয়।
প্রকৃতপক্ষে প্রত্যাশিত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে মাতার কোনও ভূমিকা নেই। কেননা, মাতৃকোষে সব সময়ই কেবলমাত্র 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। অপরদিকে পিতার জননকোষ তথা শুক্রাণু 'X' এবং 'Y' ক্রোমোসোম বহন করে।
গর্ভধারণকালে কোন্ ধরনের ক্রোমোসোম (X অথবা Y) বহনকারী শুক্রাণু 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হবে, তার উপর নির্ভর করে ভবিষ্যত সন্তানের লিঙ্গ। যদি পিতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XX' তথা সন্তান হবে কন্যা।
অন্যদিকে যদি পিতার 'Y' ক্রোমোসোম বহনকারী শুক্রাণু মাতার 'X' ক্রোমোসোম বহনকারী ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে উৎপন্ন জাইগোট হবে 'XY' তথা ভূমিষ্ট হবে পুত্র সন্তান।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
অঙ্গ গঠিত হয়-
  1. ক) একগুচ্ছ কোষের সমন্বয়ে
  2. খ) এক বা একাধিক তন্ত্র নিয়ে
  3. গ) এক বা একাধিক টিস্যু নিয়ে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু : একই আকার ও আকৃতির কিছু সংখ্যক কোষ গুচ্ছবদ্ধ হলে তাদের বিশেষ কাজ করতে দেখা যায়। এদের উৎসও এক। এ গুচ্ছবদ্ধ কোষগুলোই টিস্যু। অর্থাৎ অবিচ্ছিন্ন ও সুসংগঠিত একগুচ্ছ কোষ যাদের উৎপত্তি এবং প্রধান প্রধান কাজ একই প্রকার সে সকল কোষগুচ্ছ হলো টিস্যু।

অঙ্গ- এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে গঠিত এবং নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম প্রাণীদেহের অংশবিশেষকে অঙ্গ বলা হয়।
কোন অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে। এ সকল অঙ্গ কোন না কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
অবস্থানভেদে মানবদেহে দু’ধরনের অঙ্গ রয়েছে। যথা- বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ। চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হাত, পা, মাথা ইত্যাদি মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গসমূহ এবং পাকস্থলি, ডিওডেনাম, ইলিয়াম, মলাশয়, হৃদপিন্ড, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, প্লীহা, ফুসফুস, বৃক্ক, শুক্রাশয়, ডিম্বাশয় ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গসমূহ।

তন্ত্র- একাধিক অঙ্গ মিলিত হয়ে একই ধরনের কাজ সম্পন্ন করলে তাকে তন্ত্র বলা হয়। যেমন- শ্বসন কাজ পরিচালনার জন্য শ্বাসনালী, ফুসফুস ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয় প্রাণীর শ্বসন তন্ত্র। এ রকম আরও কিছু তন্ত্র হলো পরিপাক তন্ত্র, রেচন তন্ত্র, প্রজনন তন্ত্র ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
কোনটি ঋণাত্মক আন্তঃক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) শোষণ
  2. খ) প্রতিযোগিতা
  3. গ) অ্যান্টিবায়োসিস
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া : যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অথবা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাকে ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে।
ঋনাত্মক আন্তঃক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন- শোষণ, প্রতিযোগিতা, অ্যান্টিবায়োসিস।

শোষণ : এক্ষেত্রে একটি জীব অন্য জীবকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে নিজের অধিকার ভোগ করে।
যেমন- স্বর্ণলতা উদ্ভিদ হস্টোরিয়া নামক চোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতা : কোন নির্দিষ্ট স্থানে আলো, বাতাস, পানি ও খাদ্যের জন্য জীবসমূহের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ প্রতিযোগিতায় যারা সবল তারাই টিকে থাকে।

অ্যান্টিবায়োসিস : একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি ও বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাগ্রস্থ হয় অথবা মৃত্যু ঘটে তখন সে প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে। অণুজীবের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ক অনেক বেশি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩.
লবণাক্ত পরিবেশের উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) কাণ্ড ও পাতা শুষ্ক প্রকৃতির
  2. খ) শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়
  3. গ) উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন।
ফলে বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম আরম্ভ হয় এবং লম্বা ভ্রণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাঁদা মাটিতে ঢুকে পড়ে ও স্থায়ী হয়। এ ধরনের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে।
সমুদ্রতীরবর্তী জোয়ার-ভাটার অঞ্চলের লবণাক্ত পরিবেশে জন্মানো উদ্ভিদসমূহকে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ বলে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
জেরোফাইট উদ্ভিদ কোন ইকোসিস্টেমের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) ট্রপিক্যাল রেইন ফরেস্ট
  2. খ) ট্রপিক্যাল সিজনাল ফরেস্ট
  3. গ) মরুভূমি
  4. ঘ) পত্রঝরা বন
ব্যাখ্যা
মরুপরিবেশে দিন ও রাত্রির তাপমাত্রার পার্থক্য ৩০° সে. পর্যন্ত হয়। এখানে যে সকল উদ্ভিদ অভিযোজিত অবস্থায় আছে তাদেরকে জেরোফাইট (Xerophyte) বলে।
এখানে বর্ষজীবী ও বহুবর্ষজীবী উভয় প্রকার উদ্ভিদ জন্মায়।
সাধারণত বছরে একবারই বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সাথে সাথেই আগের বছরের বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং খুব অল্প দিনেই বিকশিত হয়ে ফুল-ফলে ভরে যায়।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ম্যানগ্রোভ বনের উদ্ভিদ নয় কোনটি?
  1. ক) সুন্দরী
  2. খ) গেওয়া
  3. গ) বাইন
  4. ঘ) বাঁশ
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল : নদীপাড়ের কম লবণাক্ত পানিতে গোলপাতা, হিতাল, সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি জন্মে।
অধিক লবণাক্ত পরিবেশে কাঁকড়া, বাইন, পশুর, ধুন্দুল ইত্যাদি জন্মে। প্রধান লতা সুন্দরীলতা এবং গুল্ম জাতীয় বোহাল ও হাড়গোজা প্রধান।
সুন্দরবনে টাইগার ফার্ণের ঝোপ রয়েছে। এখানে কোন বাঁশ জন্মে না। তবে নানা রকমের অর্কিড জন্মে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
সুন্দরী গাছের বৈজ্ঞানিক নাম কি?
  1. ক) Cocos nucifera
  2. খ) Heritiera fomes
  3. গ) Sonneratia apetala
  4. ঘ) Avicennia alba
ব্যাখ্যা
কেওড়া (Sonneratia apetala),
সুন্দরী (Heritiera fomes),
বাইন (Avicennia alba),
রাইজোফোরা (Rhizophora),
পশুর (Xylocarpus mekongensis),
নারিকেল (Cocos nucifera),
সুপারি (Areca catechu),
গাব (Diospyros peregrina),
বিলাতি গাব (Diospyros discolor)

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মানব সৃষ্ট প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ক) প্রাণির বাসস্থান ধ্বংস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ
  3. গ) অতিমাত্রায় সম্পদ আহরণ
  4. ঘ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

মানব সৃষ্ট কারণঃ
১। বাসস্থান ধ্বংস- জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সব থেকে বড় কারণ হলো তাদের বাসস্থান ধ্বংস করা। বর্তমানে প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ৫০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করা জলজ প্রাণীর বিলুপ্তির কারণ।

২। এক্সপ্লয়টেশন- সম্পদের অতিমাত্রায় আহরণ বহু জীব প্রজাতি বিলুপ্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৩। অতিমাত্রায় পশু চারণ- তৃণভূমিতে অতিমাত্রায় পশুচারণের ফলে অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

৪। পলিনেটর ধ্বংস- মৌমাছিসহ বহু কীটপতঙ্গ উদ্ভিদের পরাগায়ন ঘটায়। অতিমাত্রায় কীটনাশক, পতঙ্গনাশক ব্যবহারের ফলে পরাগায়নের এ বাহকগুলো কমে গিয়েছে। তাই পরাগায়নের অভাবে এ সকল উদ্ভিদ প্রজাতিসমূহ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।

৫। পরিবেশ দূষণ- পরিবেশ দূষণ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি প্রধানত কয়টি ?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বাস্তুতত্ত্ববিদ E.P. Odum (1971) এর মতে ‘মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক, সুন্দর, ও সুখময় জীবন ধারা অক্ষুন্ন রাখার উদ্দেশ্যে অনুকূল ভারসাম্যপূর্ণ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ বজায় রাখার তাগিদে জীব সম্প্রদায়কে অপচয়, ধ্বংস ও বিলুপ্তির কবল থেকে রক্ষার জন্য সুপরিকল্পিত ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কৌশলকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বলে’।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি : জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পদ্ধতি মূলত দুটি। যথা-
(ক) ইন সিটু কনজারভেশন এবং
(খ) এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
এক্স সিটু কনজারভেশন এর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) ন্যাশনাল পার্ক
  2. খ) অভায়ারণ্য
  3. গ) বোটানিক গার্ডেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইন সিটু কনজারভেশন (In situ conservation) : মূল বাসস্থানে তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিবর্তনীয় গতিশীল ইকোসিস্টেমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করাকে ইন-সিটু কনজারভেশন বলে।
যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছ সুন্দরবনের কর্দমাক্ত, লবণাক্ত ও সিক্ত পরিবেশে জন্মে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুন্দরবনে বিচরণ করে। সুন্দরী গাছ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সুন্দরবনের এরূপ বাস্তুতন্ত্রে সংরক্ষণ করা হলো ইন সিটু কনজারভেশন।
ন্যাশনাল পার্ক, অভয়ারণ্য ও মৎস্য অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ইন সিটু পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা যায়।

এক্স সিটু কনজারভেশন (Ex situ conservation) : জীববৈচিত্র্যের উপাদানসমূহকে তাদের মূল বাসস্থান বা প্রাকৃতিক স্বাভাবিক পরিবেশের বাইরে বাঁচিয়ে রাখাই হলো এক্স সিটু কনজারভেশন। যেমন- সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে ঢাকার বোটানিক্যাল গার্ডেনে লাগিয়ে সংরক্ষণ করা হলো এক্স সিটু কনজারভেশন।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০.
নিচের কোনটি আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণী?
  1. ক) আরশোলা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) অক্টোপাস
ব্যাখ্যা

আর্থ্রোপোডা  (গ্রিক, arthron = joint, সন্ধি + pous, podos = foot, পা) পর্বটি প্রাণিজগতে সর্ব বৃহৎ পর্ব। এদের পা দেখলেই বোঝা যায় যে, কয়েকটি ভিন্ন অংশ যুক্ত হয়ে এটি গঠিত হয়েছে, তাই এদের সন্ধিপদী নাম করা হয়েছে। এরা পাহাড়, পর্বত, সমুদ্রের তলদেশ, মরুভূমির বালুকাময় স্থানসহ সর্বত্র বাস করে।

বৈশিষ্ট্যঃ
১। সন্ধিযুক্ত উপাঙ্গ বর্তমান। প্রতিটি খ-ে সাধারণত একজোড়া উপাঙ্গ থাকে।
২। দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, ত্রিস্তরী, খ-ায়িত দেহ।
৩। উন্মুক্ত সংবহনতন্ত্র যা পৃষ্ঠীয় সংকোচনশীল হৃদপি-, ধমনীসমূহ এবং হিমোসিল নিয়ে গঠিত।
৪। দেহ প্রাচীর ফুলকা, ট্রাকিয়া বা পুস্তক ফুসফুস দ্বারা শ্বাসকার্য সম্পাদিত হয়।
৫। কক্সাল, এন্টেনাল, ম্যালপিজিয়ান নালিকা দ্বারা রেচন সম্পাদিত হয়।
৬। স্ত্রী-পুরুষ আলাদা সাধারণত অন্তঃনিষেক সম্পন্ন হয় এবং প্রায় ক্ষেত্রেই মেটামরফোসিস বিদ্যমান।
৭। পৌষ্টিকতন্ত্র সর্ম্পূণ, উপাঙ্গ পরিবর্তিত হয়ে মুখোপাঙ্গ গঠিত যা বিভিন্ন প্রকার খাদ্য গ্রহণের জন্য অভিযোজিত।

উদাহরণঃ
Periplaneta americana (আরশোলা),
Penaeus monodon (বাগদা চিংড়ি),
Carcinus maenas
(কাঁকড়া)।

২১.
মানুষের দৈহিক গঠনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়-
  1. ক) জিনগত বৈচিত্রের কারণে
  2. খ) প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের কারণে
  3. গ) বাস্তুতান্ত্রিক বৈচিত্র্যের কারণে
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
জিনগত বৈচিত্র্য (Genetic diversity)- একই প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে জিনগত পার্থক্যের কারণে যে বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় তাকে জিনগত বৈচিত্র্য বলে। এ ধরনের বৈচিত্র্য যেহেতু একই প্রজাতির মধ্যে ঘটে তাই একে অন্তঃপ্রজাতিক বৈচিত্র্যও বলে।
যেমন- মানব প্রজাতির বিভিন্ন রেস এর মধ্যে নাক ও কানের গঠনগত পার্থক্য, একই পিতা-মাতার সন্তানের মধ্যে পার্থক্য।
আবার মানুষ (Homo sapiens) একই প্রজাতিভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে মঙ্গোঁলয়েড, ককেশয়েত, নিগ্রয়েড ইত্যাদি রেস দেখা যায় এবং এদের দেহের গঠন, গায়ের রং, চুলের রং ও আকৃতি ইত্যাদিতে অনেক পার্থক্য দেখা যায়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২.
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক লোকের হৃদপিন্ডের সিস্টোলিক চাপ কত?
  1. ক) 70 - 90 মিলিমিটার মার্কারি
  2. খ) 110 - 130 মিলিমিটার মার্কারি
  3. গ) 70 - 80 মিলিমিটার মার্কারি
  4. ঘ) 130 - 150 মিলিমিটারি মার্কারি
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩.
উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কোন জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে?
  1. ক) প্রোটিন
  2. খ) কার্বোহাইড্রেট
  3. গ) ফ্যাট
  4. ঘ) ভিটামিন
ব্যাখ্যা
যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ নিজস্ব ক্লোরোফিলের সাহায্যে সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া প্রধানত কয়টি পর্যায়ে বিভক্ত?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
সালোকসংশ্লেষণের পর্যায় : এটি একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ ব্ল্যাকম্যান (১৯০৫) একে দুটি পর্যায়ে ভাগ করেন। যথা-
(ক) আলোক নির্ভর পর্যায় এবং
(খ) আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
নিচের কোনটি C3 উদ্ভিদ?
  1. ক) ইক্ষু
  2. খ) মুথা ঘাস
  3. গ) ভুট্টা
  4. ঘ) ধান
ব্যাখ্যা
C3 উদ্ভিদ: ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট তাই এ চক্রকে C3 চক্রও বলা হয়।
যে সব উদ্ভিদে C3 চক্র বর্তমান তাদেরকে C3 উদ্ভিদ বলা হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদই C3 উদ্ভিদ।
যেমন- ধান, গম, পাট, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি।

Cউদ্ভিদ: যেহেতু এ উদ্ভিদে প্রথম স্থায়ী পদার্থ চার কার্বনবিশিষ্ট সেহেতু হ্যাচ এন্ড স্ল্যাক চক্রকে C4 চক্রও বলা হয় এবং যে সব উদ্ভিদে এ চক্র চলে তাদেরকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়।
ইক্ষু, ভুট্টা, মুথা ঘাস, কাটানটে, ডাটাশাক ইত্যাদি C4 উদ্ভিদ।

সূত্রঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
বায়ুমন্ডলের নাইট্রোজেন সংবন্ধনে উদ্ভিদের কোন পুষ্টি উপাদানটি আবশ্যক?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) পটাশিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) মলিবডেনাম
ব্যাখ্যা
ফসফরাস (P)- নিউক্লিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ফসফোলিপিড, ঘঅউচ, অঞচ ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের সাংগঠনিক উপাদান। উদ্ভিদের মূল বর্ধনের জন্য ফসফরাস অত্যন্তপ্রয়োজনীয় উপাদান।

পটাসিয়াম (K)- উদ্ভিদের পানি শোষণে সাহায্য করে। পত্ররন্ধ্র খোলা এবং বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে পটাসিয়ামের গুরুত্ব অপরিসীম। ইহা মূল, ফুল ও ফল উৎপাদন এবং বর্ধনে সাহায্য করে।

ম্যাগনেসিয়াম (Mg)- ক্লোরোফিল অণুর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উদ্ভিদের শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে।

মলিবডেনাম (Mo)- অণুজীব দ্বারা বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনের জন্য এটি আবশ্যক।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
উদ্ভিদের পুষ্টির মাইক্রো উপাদান কোনটি?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) কপার
  3. গ) ক্যালসিয়াম
  4. ঘ) ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
মাইক্রোউপাদান : উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে সব উপাদান সামান্য পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদেরকে মাইক্রোউপাদান বলা হয়।
এদের সংখ্যা ৭টি।
যথা- দস্তা বা জিংক (Zn), ম্যাংগানিজ (Mn), লৌহ বা আয়রন (Fe), মলিবডেনাম (Mo), বোরন (B), কপার বা তামা (Cu) ও ক্লোরিন (Cl)।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮.
কোনটি স্ব-পরাগী ফুল?
  1. ক) শিমুল
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) ধান
  4. ঘ) সরিষা
ব্যাখ্যা
স্ব-পরাগায়ন : একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলা হয়।
ধুতুরা, সরিষা, কুমড়া ইত্যাদি উদ্ভিদে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।

পর-পরাগায়ন : একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে।
শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছের ফুলে পর-পরাগায়ন হতে দেখা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯.
নিচের কোনটি পতঙ্গ পরাগী ফুল?
  1. ক) ধান
  2. খ) কুমড়া
  3. গ) পাতা শ্যাওলা
  4. ঘ) কদম
ব্যাখ্যা
পতঙ্গ পরাগী ফুল বড়, রঙ্গীন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুন্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। যেমন- জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।

অপরদিকে বায়ু পরাগী ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে।
এদের গর্ভমুন্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের ন্যায় এবং কখনও কখনও দলমন্ডল থেকে বাইরে বের হয়ে থাকে।
ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে, যেমন- ধান।

পানি পরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এ সব ফুলের সুগন্ধ নেই। স্ত্রী পুষ্পে বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুং ফুলের বৃন্ত ছোট। পরিণত পুংপুষ্প বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে, যেমন- পাতা শ্যাওলা।

প্রাণী পরাগী ফুল মোটামুটি বড় ধরনের হয়, তবে ছোট হলে ফুলগুলো পুষ্পমঞ্জরিতে সজ্জিত থাকে। এদের রং আকর্ষণীয় হয়। এ সব ফুলে গন্ধ থাকতে পারে অথবা নাও থাকতে পারে। যেমন- কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০.
অপ্রকৃত ফল কোনটি?
  1. ক) আপেল
  2. খ) চালতা
  3. গ) কাঁঠাল
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
নিষিক্তকরণের পর গর্ভাশয় এককভাবে অথবা ফুলের অন্যান্য অংশসহ পরিপুষ্ট হয়ে যে অঙ্গ গঠন করে তাকে ফল বলা হয়। শুধু গর্ভাশয় ফলে পরিণত হলে তাকে প্রকৃত ফল বলা হয়।
যেমন- আম, কাঁঠাল।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
যেমন- আপেল, চালতা ইত্যাদি।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১.
টিস্যু কালচারের সুবিধা কোনটি?
  1. ক) রোগমুক্ত চারা উৎপাদন
  2. খ) বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ
  3. গ) স্বল্প সময়ে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টিস্যু কালচার : টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার সুবিধাগুলো হলো-
১। একটি উদ্ভিদ বা উদ্ভিদাংশ হতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা তৈরি করা যায়।
২। যে সমস্ত উদ্ভিদ বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে না, তাদের চারাপ্রাপ্তি ও অল্প খরচে সতেজ অবস্থায় স্থানান্তর করা যায়।
৩। সহজে রোগমুক্ত, বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।
৪। ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা হতে মুক্ত থাকা যায়।
৫। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে টিস্যু কালচার নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং
৬। সঠিক বীজ সংগ্রহ ও মজুদ করার সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
কোন পর্বের প্রাণীরা চলাচলে অক্ষম?
  1. ক) পরিফেরা
  2. খ) আর্থোপোডা
  3. গ) নেমাটোডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
ব্যাখ্যা

পরিফেরা পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। এদের দেহ কোষ দুই স্তরে বিন্যস্ত। এরা সরলতম বহুকোষী প্রাণী।
২। এদের দেহপ্রাচীর অস্টিয়া নামক অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত।
৩। এদের দেহে বিশেষ ধরনের নালীতন্ত্র বিদ্যমান, এর সাহায্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহন ঘটে।
৪। এই পর্বের প্রাণীদের কোন অঙ্গ নেই ফলে এরা চলতে পারে না।
৫। এদের পরিপাক অন্তঃকোষীয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩.
কোন প্রাণীর রেচন অঙ্গ শিখা কোষ?
  1. ক) হাইড্রা
  2. খ) জেলিফিশ
  3. গ) ফিতা কৃমি
  4. ঘ) ঝিনুক
ব্যাখ্যা
প্লাটিহেলমিনথিস পর্বের প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ
১। দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং পৃষ্ঠ- অঙ্কীয় তল বরাবর চ্যাপ্টা ।
২। এরা ট্রিপলোব্লাস্টিক অর্থাৎ তিনটি কোষীয় স্তরে বিন্যস্ত থাকে।
৩। সকল প্রাণী সিলোমবিহীন।
৪। পৌষ্টিকতন্ত্র অসর্ম্পূণ ।
৫। শিখা কোষ নামক প্রোটোনেফ্রিডিয়া সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত।
৬। অধিকাংশ উভলিঙ্গী।

উদাহরণঃ Dugesia tigrini, Taenia solium (ফিতাকৃমি), Fasciola hepatica (যকৃত কৃমি)।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।