পরীক্ষা আর্কাইভ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

পরীক্ষাভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: সৌরজগৎ, পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ এবং অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখা, পৃথিবীর গতি ও দিন-রাত্রির হ্রাসবৃদ্ধি [Live Class – 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
শ্বেত বামন কী?
  1. ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা
  2. বিশালাকার গ্যাসীয় গ্রহ
  3. অত্যন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র
  4. অতি বৃহৎ গ্যালাক্সি
সঠিক উত্তর:
ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা
ব্যাখ্যা

- শ্বেত বামন (White Dwarf) হলো এক ধরনের ক্ষুদ্র, অত্যন্ত ঘন এবং ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা।
-
এটি সূর্যের মতো মাঝারি আকারের তারকার জীবনের শেষ পর্যায়ে উৎপন্ন হয়।
- যখন তারকার কেন্দ্রে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম জ্বালানি শেষ হয়ে যায়, তখন তার বাইরের স্তরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কেবল একটি ছোট, ঘন কোর বেঁচে থাকে।
- এর আকার পৃথিবীর সমান হলেও ভর সূর্যের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয়।
- ফলে এটি খুবই কম আলো বিকিরণ করে—অর্থাৎ ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা।

নক্ষত্রের জীবনচক্র :

- নক্ষত্র বা তারাদের জীবনের প্রথম পর্যায় হলো বামন নক্ষত্র বা Dwarf star।
- মোট নক্ষত্রের ৯০% হলো বামন নক্ষত্র এবং বর্তমানে সূর্য এ অবস্থায় আছে।
- হাইড্রোজেন জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তারাটি লোহিত দানব বা অতি দানব নক্ষত্রে (Super giant star) পরিণত হয়।
- এখন থেকে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) বছর পর সূর্য দানব নক্ষত্রে পরিণত হবে।
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ নক্ষত্র সূর্যের ভরের কাছাকাছি (দুই সৌর ভরের কম) তারা উজ্জ্বল হয়ে নোভা স্টারে পরিণত হয় এবং বিস্ফোরিত হয়ে শ্বেত বামনে (White dwarf) পরিণত হয়।
- এদের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয় যা মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সেরও বেশি।
- সাধারণত ৯৭% নক্ষত্র শ্বেতবামন হিসেবে মৃত্যুবরণ করে, তাই এদেরকে মৃত তারা বলে।
- শ্বেতবামন ঠান্ডা হয়ে যখন কোনো আলো বা তাপ নির্গত করতে পারে না তখন তাকে কৃষ্ণ বামন বা কালো বামন (Black dwarf) বলে।
- নক্ষত্রের ভর ১.৪ সৌর ভরের বেশি হলে সেটি শ্বেতবামন না হয়ে নিউট্রন স্টার বা কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হবে।
- যে সব তারার ভর সূর্যের চেয়ে বেশি (১.৪ থেকে ৩ সৌর ভর) তারা সুপারনোভাতে পরিণত হয় এবং এর বিস্ফোরণে নিউট্রন স্টারে পরিণত হয়। নিউট্রন স্টার রেডিয়ো পালস বিকিরণ করে বলে একে পালসার বলে।
- আবার নিউটন স্টারের চেয়েও বেশি ভরের (৩.২ সৌর ভরের বেশি) তারাগুলো শেষ পর্যায়ে কৃষ্ণগহ্বর বা কোয়ার্ক নক্ষত্রে পরিণত হয়।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA Science - Universe Glossary.

.
পৃথিবী কোন দিক থেকে কোন দিকে আবর্তন করে?
  1. পশ্চিম থেকে পূর্ব
  2. পূর্ব থেকে পশ্চিম
  3. দক্ষিণ থেকে উত্তর 
  4. উত্তর থেকে দক্ষিণ
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম থেকে পূর্ব
ব্যাখ্যা

পৃথিবী (Earth) :
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি। এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- পৃথিবী পশ্চিম দিক থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।
- অর্থাৎ, পৃথিবী তার নিজস্ব অক্ষে পশ্চিম → পূর্ব দিকে ঘুরে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমণ্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA ওয়েবসাইট। 

.
দুইটি স্থানের দ্রাঘিমাংশের পার্থক্য কত হলে, সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট হয়?
  1. ৪ ডিগ্রি
  2. ১ ডিগ্রি
  3. ১০ ডিগ্রি
  4. ২ ডিগ্রি
সঠিক উত্তর:
১ ডিগ্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা

• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।

 
গ্রিনিচের সময়:
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা শূন্য ডিগ্রি (০ ) ধরা হয়।
- এখন আমরা যদি গ্রিনিচের সময় এবং অন্য কোনো স্থানের সময় জানতে পারি, তাহলে দুই স্থানের সময়ের পার্থক্য অনুসারে প্রতি ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্যে ১দ্রাঘিমার পার্থক্য ধরে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা নির্ণয় করতে পারি।
- গ্রিনিচের পূর্ব দিকের দেশগুলো সময়ের হিসেবে গ্রিনিচের চেয়ে এগিয়ে থাকে এবং গ্রিনিচের পশ্চিমে অবস্থিত দেশগুলোর সময় গ্রিনিচের সময় থেকে পিছিয়ে থাকে।
- বাংলাদেশ গ্রিনিচ থেকে ৯০° পূর্বে অবস্থিত বলে বাংলাদেশের সময় ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
- এভাবে দ্রাঘিমার সাহায্যে সময় এবং সময়ের মাধ্যমে দ্রাঘিমা নির্ণয় করা যায়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রের নাম কী?
  1. শুক্র গ্রহ
  2. সপ্তর্ষি
  3. লুব্ধক
  4. ধ্রুবতারা
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুব্ধক
ব্যাখ্যা

নক্ষত্র বা তারা (Stars):  
- যেসব জ্যোতিষ্ক জ্বালানির মাধ্যমে নিজস্ব আলো তৈরি করে এবং নিজস্ব উত্তাপ আছে তাদের নক্ষত্র বা তারা (Stars) বলে।
- মহাবিশ্বের সৃষ্টিলগ্নে কোনো নক্ষত্র ছিল না, ছিল বিশাল ধূলিকণা ও গ্যাসের পিন্ড।
- এর মধ্যে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম থেকে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়ায় তাপ ও আলো নির্গতকারী নক্ষত্রের জন্ম হয়।
- আলোর তীব্রতা অনুসারে মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তিন বর্ণে ভাগ করা হয়েছে- লাল (এরা বৃহৎ), হলুদ (মাঝারি) ও নীল (ছোট)।
- নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক- আলোক বর্ষ এবং জ্যামিতিক ভিত্তিতে মহাবিশ্বের দূরত্ব মাপার একক- পারসেক।
- আলো ৩ লক্ষ কিলোমিটার/সেকেন্ড বেগে এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে আলোক বর্ষ (Light year) বলে। ১ পারসেক = ৩.২৬ আলোক বর্ষ।
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র; অন্যদিকে সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা বা আলফা সেন্টোরাই।
- আলফা সেন্টোরাই পৃথিবীর দ্বিতীয় নিকটতম নক্ষত্র পৃথিবী থেকে যার দূরত্ব ৪.২ আলোক বর্ষ।
- আকাশের উজ্জলতম নক্ষত্রের নাম লুব্ধক বা সিরিয়াস (Sirius) যা একটি যুগলতারা। 
- মেঘমুক্ত রাতের আকাশে তাকালে কিছু নক্ষত্র একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে আছে বলে মনে হয় যাদেরকে নক্ষত্র মণ্ডলী (Constellation) বলে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং NASA Science - Universe Glossary.

.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে কী করতে হয়?
  1. ১ দিন যোগ
  2. ২ দিন যোগ
  3. ১ দিন বিয়োগ
  4. ২ দিন বিয়োগ
সঠিক উত্তর:
১ দিন যোগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১ দিন যোগ
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাঃ
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।

• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মঙ্গল গ্রহ (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী।
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়। খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং
- কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি খালি চোখে দেখা যায় না?
  1. শুক্র
  2. নেপচুন 
  3. প্লুটো 
  4. বুধ
সঠিক উত্তর:
নেপচুন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেপচুন 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - নেপচুন । 

গ্রহ সম্পর্কিত সাধারণ তথ্য:

- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ।
- সূর্য থেকে গ্রহগুলো দূরত্ব অনুযায়ী পর পর যেভাবে রয়েছে তা হলো বুধ (Mercury), শুক্র (Venus), পৃথিবী (Earth), মঙ্গল (Mars), বৃহস্পতি (Jupiter), শনি (Saturn), ইউরেনাস (Uranus) এবং নেপচুন (Neptune)।
- গ্রহদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৃহস্পতি এবং ছোট বুধ।
- বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শনি বেশ উজ্জ্বল এবং কোনো যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই দেখা যায়।
- ইউরেনাস ও নেপচুন এত দূরে অবস্থিত যে দূরবীক্ষণ ছাড়া এদের দেখা যায় না।

• নেপচুন সম্পর্কিত তথ্য:
- নেপচুন আমাদের সৌরজগতের অষ্টম এবং সবচেয়ে দূরবর্তী গ্রহ।
- এই গ্রহটি পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৬১২ এবং ১৬১৩ সালে গ্যালিলিও তার ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে পর্যবেক্ষণের সময় নেপচুনকে একটি স্থির নক্ষত্র হিসেবে রেকর্ড করেছিলেন। 
- নিরক্ষীয় ব্যাস ৩০,৭৭৫ মাইল (৪৯,৫২৮ কিলোমিটার) হওয়ায়, নেপচুন পৃথিবীর চেয়ে প্রায় চারগুণ প্রশস্ত।
- সূর্য থেকে নেপচুনের গড় দূরত্ব ৪.৫ বিলিয়ন কিলোমিটার।
- নেপচুনের এক দিনে প্রায় ১৬ ঘন্টা সময় লাগে (নেপচুনের একবার আবর্তন বা ঘূর্ণন করতে যে সময় লাগে)।
- নেপচুন সূর্যের চারপাশে একটি সম্পূর্ণ কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে (নেপচুনিয়ান সময়ে এক বছর) প্রায় ১৬৫ পৃথিবী বছরে (৬০,১৯০ পৃথিবী দিন)।
- নেপচুনের নামকরণ করা হয়েছিল রোমান সমুদ্র দেবতার নামে।
- নেপচুনের ১৬টি উপগ্রহ আছে। 
- নেপচুনের বৃহত্তম উপগ্রহ ট্রাইটন আবিষ্কার করেন ১০ অক্টোবর, ১৮৪৬ সালে, জোহান গটফ্রাইড গ্যাল গ্রহটি আবিষ্কার করার মাত্র ১৭ দিন পরে।

উল্লেখ্য - বর্তমানে প্লুটো গ্রহ হিসেবে স্বীকৃত নয়।

উৎস : NASA এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

.
কোন দিনটিকে 'বাসন্ত বিষুব' বলা হয়?
  1. ২১ ডিসেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২১ সেপ্টেম্বর
  4. ২১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২এ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১এ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১এ  মার্চ মাস  পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা
মহাবিষুব বলে ।

এছাড়া, 
- ২৩ এ সেপ্টেম্বরের দেড় মাস আগে থেকেই উত্তর গোলার্ধে শরৎকালের সূচনা হয় এবং দেড় মাস পর পর্যন্ত এই শরৎকাল স্থায়ী থাকে।
২৩এ সেপ্টেম্বর শারদ বিষুব। 

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন-
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ জুন
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর 
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ জুন
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলাধে শীতকাল:
- ২১ এ মার্চের পর থেকে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে এগিয়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর মেরু ক্রমশ সূর্যের দিকে হেলতে থাকে।
- এভাবে ২১ এ জুনে গিয়ে সূর্যকর্কটক্রান্তি রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ এ জুন উত্তর গোলার্ধে বড় দিন এবং ছোট রাত হয়।
- ঐ দিনই সূর্যের উত্তরায়ণের শেষ এবং তার পরের দিন থেকে পুনরায় সূর্য দক্ষিণ দিকে আসতে থাকে।
- দিন বড় হওয়ার কারণে উত্তর গোলার্ধে ২১ এ জুনের দেড় মাস পূর্ব থেকেই গ্রীষ্মকাল শুরু হয় এবং পরের দেড় মাস পর্যন্ত গ্রীষ্মকাল স্থায়ী হয়।
- এই সময়ে দক্ষিণ গোলার্ধে ঠিক বিপরীত অবস্থা দেখা যায় অর্থাৎ শীতকাল অনুভূত হয়।
- এ সময় সূর্য হেলে থাকার কারণে এ গোলার্ধে সূর্য কম সময় ধরে কিরণ দেয়। ফলে দিন ছোট এবংরাত বড় হয়।
- দিনে ভূপৃষ্ঠ যতটুকু উত্তপ্ত হয়, রাতে তাপ বিকিরণের ফলে তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
- এখানে তখন শীতের আবহাওয়া বিরাজ করে। দক্ষিণ গোলার্ধে এ সময়কে শীতকাল বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১০.
ছায়াপথের অন্য নাম কী? 
  1. অ্যান্ড্রোমেডা
  2. আকাশগঙ্গা
  3. নক্ষত্রপথ
  4. সৌরপথ
সঠিক উত্তর:
আকাশগঙ্গা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আকাশগঙ্গা
ব্যাখ্যা

ছায়াপথ (Milky Way):
- আমরা যে গ্যালাক্সিতে অবস্থান করি তার নাম ছায়াপথ বা আকাশ গঙ্গা।
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়। তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মণ্ডল বলে অনুমান করেন।
- সৌরজগৎ ছায়াপথের অন্তর্গত।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১১.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়? 
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. দ্রাঘিমা
  4. অক্ষাংশ
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০। গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০
- মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১০ অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১২.
নিরক্ষরেখা অন্য কী নামে পরিচিত?
  1. বিষুবরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা 
  3. রবিমার্গ
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষুবরেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা :
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator),  অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)।

অপরদিকে, 
কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা: 
- উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
• সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৩.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমা রেখাটি মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৪ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
সঠিক উত্তর:
১৮৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৮৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line):
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। - আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা।
- যেহেতু প্রতি ১ এর জন্য ৪ মিনিট সেহেতু ১৮০ এর জন্য delta*bo * 8 = 9% মিনিট অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার পার্থক্য হয়।
- এভাবে দুই দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ১২ ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান হয়।
- পূর্ব দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা বাড়ে আর পশ্চিম দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা কমে অর্থাৎ একই দ্রাঘিমায় ১৮০° তে সময়ের ব্যবধান দেখা দেয় ২৪ ঘণ্টা।
- এর জন্য তারিখ ও বারের যে সমস্যা হয় তার সমাধানকল্পে ১৮৮৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে integrate b - 0 deg db দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয় ।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৪.
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কোন গ্যাস সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হিলিয়াম
  4. আর্গন
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেন গ্যাস (Hydrogen Gas) :
- হাইড্রোজেন গ্যাস বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়।
- এটি সবচেয়ে হালকা মৌল একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত।
- NASA-এর Universe Glossary অনুসারে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাধারণ পদার্থের (ordinary matter) প্রায় ৭৪% হাইড্রোজেন এবং ২৪% হিলিয়াম দিয়ে গঠিত। বাকি সব মৌল (অক্সিজেন, কার্বন, আয়রন ইত্যাদি) মিলিয়ে মাত্র ২%।
- মহাবিস্ফোরণ (Big Bang)-এর প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বেশিরভাগ হাইড্রোজেন সৃষ্টি হয়।
- সকল নক্ষত্রের (সূর্যসহ) মূল জ্বালানি হাইড্রোজেন। নক্ষত্রের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন পরমাণু ফিউশনের মাধ্যমে হিলিয়ামে পরিণত হয়ে বিপুল শক্তি, আলো ও তাপ উৎপন্ন করে।
- আমাদের সূর্যেরও প্রায় ৭৪% উপাদান হাইড্রোজেন।
- ছায়াপথ (Milky Way), নীহারিকা, আন্তঃনাক্ষত্রিক মাধ্যম ও পুরো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সর্বত্র হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য।
- হাইড্রোজেন না থাকলে কোনো নক্ষত্র জ্বলতে পারত না, আলো-তাপের সৃষ্টি হতো না, ছায়াপথ গঠিত হতো না এবং জীবনের কোনো সম্ভাবনাই তৈরি হতো না।

উৎস : NASA Science - Universe Glossary.