পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়01 hr 30 mins
মোট প্রশ্ন১৪০
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 14” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- ৪৭তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট⎯১৫
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪০ প্রশ্ন

.
ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন কোন কবি?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. সমর সেন 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।

- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

- তিনি ট্রামের নিচে পড়ে আহত হন এবং হাসপাতালে মারা যান।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ ইত্যাদি।

• 'কবিতার কথা' হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
আবুল ফজল রচিত দিনলিপি কোনটি?
  1. চৌচির
  2. রেখাচিত্র
  3. প্রদীপ ও পতঙ্গ
  4. মাটির পৃথিবী
ব্যাখ্যা

• 'রেখাচিত্র':
'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক দিনলিপি বা স্মৃতিগ্রন্থ, যা ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এই বইটিতে লেখক তাঁর জীবন ও তৎকালীন সমাজ সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। 

-----------------------
আবুল ফজল কবি পরিচিতি:
আবুল ফজল ছিলেন একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, ও কথাসাহিত্যিক। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৩০ সালে এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনীসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৪০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
-'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য। তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে। পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 - ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমিদারদের সহায়তার কারণে পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ততটা জোরালোভাবে সমালোচনা না করে বরং শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে, নীলচাষের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সংবাদ প্রভাকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পুবের হাওয়া
  2. বিষবাণী
  3. চক্রবাক
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

• 'বিষবাণী' প্রবন্ধ:
- 'বিষবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ। 

- প্রাবন্ধিক তাঁর বিষবাণী প্রবন্ধে নিজেকে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থের অন্তর্গত বিষবাণী প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী শিশুর একজন প্রতিনিধি হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

- যারা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত প্রাবন্ধিক তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য হলো-
'স্বরাজ টরাজ বুঝিনা, ও-কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাঁদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটলি বেঁধে সাগরপার পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না।'
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের প্রতি তিনি দ্রোহে উদ্বেলিত হয়ে বক্তব্যকে বিষবাণী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

- ভারতবর্ষের তরুণদের তিনি অগ্নিরূপ ধারণকারী নাগ-নাগিনীর আখ্যা দিয়ে অভয়দান করেছেন। তরুণদের তিনি বিষ সঞ্চয় করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবন্ধে সে জাতীয় বিদ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক নজরুলের মতে, তরুণদের সমস্ত শরীরে আছে বিষের ভাণ্ডার। আর এই বিষ হলো অধরা।

-----------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল'কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় আছে। কবি বিপ্লবী মনোভাব নিয়ে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় জাগরণের বাণী।

- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে,
----------------
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, সর্বহারা, ঝিঙ্গে ফুল, সাম্যবাদী, পুবের হাওয়া, সিন্ধু-হিন্দোল, ভাঙার গান, ফণী-মনসা, নতুন চাঁদ, এবং চক্রবাক

উৎস: 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ; 'বিষবাণী' প্রবন্ধ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. সনেট পঞ্চাশৎ
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. অশোক সংগীত
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলি
ব্যাখ্যা

• 'চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- 'চতুর্দশপদী কবিতাবলি' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি। সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

অন্যদিকে, 
• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে।
• ইসলামী স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি/ মুসলিম জাগরনের কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন- মুহূর্তের কবিতা।
• 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ। এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।

----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
-তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য (মহাকাব্য),
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য (কাহিনি কাব্য),
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. দুই সৈনিক
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নীল দংশন
ব্যাখ্যা

• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসগুলো হলো:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
-সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

অন্যদিকে, 
----------------
- হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা।
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো- জাহান্নম হইতে বিদায়, দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, জলাংগী ইত্যাদি।
- 'নীল দংশন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

.
'স্বাধীনতা তুমি, শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রফিক আজাদ 
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• প্রশ্নে প্রদত্ত পঙ্‌ক্তিটি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের 'স্বাধীনতা তুমি' কবিতার অন্তর্গত। 

স্বাধীনতা তুমি
- শামসুর রাহমান
স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল, ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা,
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত স্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল,
স্বাধীনতা তুমি ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি।

---------------------
• 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:

- শামসুর রাহমানের খ্যাতি ও পরিচিতি আগেও কিছুটা ছিল তবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে তাঁর 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থটি।
- শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এপ্রিল- ডিসেম্বর, ১৯৭১ সময়ে রচিত।
- ১৯৭২ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থের শুরুতে 'পূর্বলেখ' শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
- ৩৮টি কবিতা এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 'তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা', 'স্বাধীনতা তুমি', 'মধুস্মৃতি', 'রক্তাক্ত প্রান্তরে' ইত্যাদি।
- প্রতিটি কবিতায় স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা ব্যক্ত। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের শহিদদের উদ্দেশ্যে।

-------------------
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও  সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ'শ উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।
- 'স্বাধীনতা তুমি' ও 'তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা' তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

.
১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের কোন তত্ত্বের বিশ্লেষণ করেন?
  1. তিব্বতি অনুবাদ তত্ত্বের
  2. ধর্মতত্ত্বের
  3. ছন্দের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের
  4. অন্তর্নিহিত তত্ত্বের
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ - বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ।অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
-  বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান - ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

.
নগেন্দ্রনাথ বসু মধ্যযুগের কোন গ্রন্থের পুথি সংগ্রহ করে নামকরণ করেছিলেন?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  3. শূন্যপুরাণ
  4. গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা

• নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথি সংগ্রহ করে সেগুলোর পাঠ সংকলন করে ’শূন্যপুরাণ’ নামকরণ করেন এবং এই গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। 

• 'শূন্যপুরাণ':

- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
----------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
-এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

• 'গীতগোবিন্দম্':
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১০.
কোনটি সার্থক বাক্যের গুণ?
  1. আবেগ 
  2. অনুজ্ঞা
  3. আকাঙ্ক্ষা
  4. আসক্তি 
ব্যাখ্যা

• সার্থক বাক্যের গুণ- আকাঙ্ক্ষা। 

অন্যদিকে, 
• আবেগ, অনুজ্ঞা, এবং আসক্তি—এই প্রসঙ্গে সার্থক বাক্যের গুণ হিসেবে প্রযোজ্য নয়।

------------------------
একটি আদর্শ বাক্যের জন্যে ৩টি গুণ থাকা থাকা জরুরি। যথা-
• আকাঙ্ক্ষা:
বাক্যের অর্থ স্পষ্টকরণে এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা বা প্রয়াস তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
উদাহরণ- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া।
উপরের বাক্যটি অসম্পূর্ণ। অর্থাৎ বাক্যে আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়নি। বাক্যটিকে এভাবে পরিপূর্ণ করা যায়- কাজল নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• আসত্তি:
বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদবিন্যাসই হলো আসত্তি।
উদাহরণ: নিয়মিত করে হাসান লেখাপড়া।
বাক্যটির পদগুলো সন্নিবেশ না হওয়ায় অন্তর্নিহিত ভাব প্রকাশ হয়নি। তাই এটি আদর্শ বাক্য নয়। পরিপূর্ণ বাক্য গঠনে বাক্যের পদগুলো সাজাতে হবে- হাসান নিয়মিত লেখাপড়া করে।

• যোগ্যতা:
বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম হল যোগ্যতা।
উদাহরণ: বর্ষার রৌদ্র প্লাবনের সৃষ্টি করে।
বাক্যটি ভাব প্রকাশের যোগ্যতা হারিয়েছে। কেননা রোদ কখনো প্লাবন সৃষ্টি করতে পারে না। তাই যোগ্যতাসম্পন্ন বাক্যটি হবে- 'বর্ষার বৃষ্টি প্লাবনের সৃষ্টি করে'।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১.
'সওগাত' শব্দের অর্থ কী?
  1. উপহার
  2. আহ্বান 
  3. পণ্য 
  4. বার্তা 
ব্যাখ্যা

• সওগাত। 
- তুর্কি ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ:
- উপহার,
- ভেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১২.
'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
  3. বিভক্তির সাহায্যে
  4. প্রত্যয়যোগে
ব্যাখ্যা

• 'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে গঠিত হয়েছে।

--------------
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৩.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির কাব্যের অনুকরণে রচিত বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. মধুমালতী 
  2. লায়লী মজনু
  3. গুলে বকাওলী
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'মধুমালতী' কাব্য:
মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।

• 'লায়লী মজনু' কাব্য:
- 'লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- 'লায়লী মজনু' কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে (১৫৪৩-১৫৫৩) সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির 'লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ। 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ-ইরান।

• 'গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪.
বিদ্রোহের বাণী বহনকারী 'রঞ্জন' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকে?
  1. বিসর্জন
  2. রক্তকরবী
  3. অচলায়তন
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- "রক্তকরবী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি রূপক-সাংকেতিক নাটক, যা প্রথমত 'যক্ষপুরী' নামে লেখা হয়েছিল এবং ১৯২৪ সালে 'প্রবাসীতে' প্রকাশিত হওয়ার পর এর নামকরণ হয় 'রক্তকরবী'।

- নাটকটি একটি স্বৈরাচারী রাজ্যের অধীনে থাকা এক সাহসী নারীর গল্প বলে, যেখানে যক্ষপুরীর অর্থনীতি তার সোনার খনির উপর নির্ভরশীল, এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র নন্দিনীর মৃত্যুর মাধ্যমে এর ট্র্যাজিক পরিণতি ঘটে। 

- রক্তকরবীতে 'ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের' জয়গান গাওয়া হয়েছে।

- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- নন্দিনী ও রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।  'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে।শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে, 
-------------------------------
• 'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মঞ্চসফল এবং জনপ্রিয় নাটকগুলির মধ্যে অন্যতম। এই নাটকে রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং নিজে প্রধান দুটি চরিত্র অভিনয় করেন। ১৮৯০-এ রঘুপতি, এবং ১৯২৩-এ জয়সিংহের ভূমিকায়।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। এই নাটকের বিষয়বস্তু হচ্ছে, উদার ধর্মবোধ এবং সংকীর্ণ ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেমন এই নাটকের প্রধান উপকরণ, তেমনি বিশ্বাসের উগ্রতা এবং মানব সম্পর্কের নিবিড়তা এই নাটকের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র গুলো হলো: রঘুপতি, গুণবতী, গোবিন্দমাণিক্য, অপর্ণা, জয়সিংহ।

• 'অচলায়তন’ নাটক: 
- 'অচলায়তন’ নাটকে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক প্রাধান‍্য পেয়েছে, দ্বন্দ্বের মধ‍্য দিয়ে সেই সম্পর্ক স্পষ্টতা লাভ করেছে। মানুষের তৈরি বহুদিনের অর্জিত অন্ধ ও বিকৃত সংস্কার এবং অনুশাসনগুলি সমাজকে কীভাবে নাগপাশের সহস্র বন্ধনে বেঁধে রেখেছে তার স্বরূপ প্রকাশ করে সেখান থেকে মুক্তির কথা বলেছেন ‘অচলায়তন’ নাটকে।
- 'অচলায়তন' নাটকের প্রধান চরিত্রগুলি হলো-  পঞ্চক, গুরু, মহাপঞ্চক, সূতসোম, এবং অন্যান্য অচলায়তনের ছাত্র ও শিক্ষকরা। 

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানবভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।  টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: সুরমা, ধনঞ্জয় বাউল, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১৫.
"আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি"- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপটে উক্তিটি করেন?
  1. মুক্তিযুদ্ধ 
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা

• ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিম। তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

- ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কারন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযুক্ত হন।

- ভাষা, সাহিতা ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ড প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিডিয় পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আন এমলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫) ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিতা পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২৯) হিসেবে তিনি যোগাতার পরিচয় দেন।

- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা নি লীম (১৯৯০), বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭) সম্পাদনা করেন।

- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিতা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিক-ওয়ায় ও জওয়াব-ই-শিকওয়ায়,
- রুবাইয়াত-ই-উমর অয়্যাম,
- Essays on Islam,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিতোর কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আমর কী তারিখ,
- বাংলা সাহিতোর কথা,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকারা,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিতা জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৬.
কোনটি আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস?
  1. পাগলা দাশু 
  2. অবাক জলপান 
  3. রানিখালের সাঁকো
  4. কাকতাড়ুয়া
ব্যাখ্যা

• 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস 'রানিখালের সাঁকো'। উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

- বরিশালে একটি গ্রাম। বরিশালের গ্রামগুলো যেরকম হয় আর কি, শান্ত, সবুজ গাছগাছালি, পাখির কলরব মুখর আর সব কিছুর সংযোগ করে অসংখ্য খাল। সেই খালগুলোর এপাড় ওপাড় যাতায়াত করতে লাগে সাঁকো। বাঁশ দিয়ে বানানো এমন একটি সাঁকোর নামেই উপন্যাসটির নাম, “রানিখালের সাঁকো”। 

- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'আজীজ’।

- রানিখালের সাঁকো সবার সাঁকো। সে সাঁকো পার হয়ে পারাপারের অধিকার সবারই সমান। তবু স্কুল ছুটির পরে জয়নালের জন্য অপেক্ষা করে এপারেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সব ছেলের। কিন্তু কেন, কেন এমন হবে? এই প্রশ্ন আজীজের মনে একদিন আগুন ছড়িয়ে দিলো। এই প্রশ্নই এতিম ছেলে আজীজকে গ্রাম ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে এলো বিচিত্র মানুষের মেলা রাজধানী শহরে। একটি মাত্র প্রতিজ্ঞায় অটল তার অন্তরকে কোন বাধাই বুঝি টলাতে পারবে না।

---------------------------
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

অন্যদিকে, 
-------------------
• পাগলা দাশু ও অবাক জলপান সুকুমার রায় রচিত গ্রন্থ। 
• সেলিনা হোসেন রচিত 'কাকতাড়ুয়া' বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ উপন্যাস, যা ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭.
'গ্রানাডার শেষ বীর' কী ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. নাটক 
  2. ঐতিহাসিক কাব্যগ্রন্থ 
  3. কাহিনিকাব্য 
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'গ্রানাডার শেষ বীর' ঐতিহাসিক উপন্যাসের রচয়িতা- এস ওয়াজেদ আলি।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

-------------------
• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনি:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জগদানন্দপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শান্তিপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- জগদানন্দপা। 
- জগদানন্দ ছিলেন বৈষ্ণব সাহিত্যের পণ্ডিত। 

--------------------
• চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১৯.
'ফুড কনফারেন্স' গ্রন্থে কোন পটভূমির চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. ১৯৪৬ এর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা 
  2. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ 
  3. পঞ্চাশের মন্বন্তর
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

-----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ
- অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২০.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. ভারতচন্দ্র রায় 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. চণ্ডিদাস 
ব্যাখ্যা

• 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
-' নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২১.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কবিরত্ন
  2. সত্যপীর
  3. কলমসৈনিক
  4. প্রিয়দর্শী
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাস্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২২.
'যা বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়' এক কথায় কী বলে?
  1. অকথ্য
  2. দুরুচ্চার্য
  3. অনির্বচনীয়
  4. অনুচ্চার্য
ব্যাখ্যা

• 'যা বাক্যে প্রকাশযোগ্য নয়' এক কথায় বলে-  অনির্বচনীয়/অবর্ণনীয়। 

অন্যদিকে, 
---------------
• 'ভাষায় প্রকাশের অযোগ্য' এক কথায় বলে - অকথ্য/অবাচ্য।
• 'যা উচ্চারণ করা কঠিন' এক কথায় বলে - দুরুচ্চার্য।
• 'যা উচ্চারণ করা যায় না' এক কথায় বলে - অনুচ্চার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩.
'তারা একটি দারুণ খবর নিয়ে এসেছে।' বাক্যে 'খবর' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি 
  2. আরবি 
  3. তুর্কি 
  4. বাংলা 
ব্যাখ্যা

খবর (বিশেষ্য পদ)। 
- এটি আরবি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- সংবাদ, তথ্য; বৃত্তান্ত।
- তত্ত্ব, সন্ধান, উদ্দেশ।
- যত্ন; তত্ত্বাবধান।

----------------
কিছু আরবি শব্দ হলো:
- আদাব,
- খাজনা,
- খালাস,
- জলসা,
- দালাল,
- আদালত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. স্বায়ত্ত্বীকরণ 
  2. স্বায়ত্ত্বিকরণ 
  3. সায়ত্ত্বীকরণ 
  4. স্বায়ত্তীকরণ 
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান: স্বায়ত্তীকরণ। 
- শব্দটি বিশেষ্য পদ। 
- এটি সংস্কৃত ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- নিজ অধিকারে আনয়ন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. পেয়ে বসা
  2. মরে যাওয়া
  3. রাজি হওয়া
  4. বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

• সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- হওয়া ক্রিয়া যোগে: উদয় হওয়া, বড়ো হওয়া, রাজি হওয়া।
- দেওয়া ক্রিয়া যোগে: কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

অন্যদিকে,
--------------------
• যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬.
'যুগ্ম' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগ্‌নোঁ 
  2. জুগ্‌মো
  3. জুগ্‌নো
  4. জুগ্‌মঁ   
ব্যাখ্যা

• যুগ্ম (বিশেষণ পদ),
- এটি সংস্কৃত শব্দ। 
- শুদ্ধ  উচ্চারণ- জুগ্‌মো।
অর্থ:
- যুগল, জোড়া।
-  দুই দিয়ে বিভাজ্য, জোড় (যুগ্ম সংখ্যা)।

-----------------
কিছু শব্দের প্রমিত উচ্চারণ:
- পদ্ম [পদ্‌দোঁ],
- জন্ম [জন্‌মো],
- গুল্ম [গুল্‌মো],
- শ্মশান [শঁশান],
- স্মরণ [শঁরোন],
- আত্মীয় [আতিঁয়ো]। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৭.
সংস্কৃত ধাতু যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কহন
  2. কাটা
  3. কথিত
  4. কাঁদুনে
ব্যাখ্যা

• সংস্কৃত ধাতু 'কথ্‌' যোগে গঠিত শব্দ- কথ্য, কথিত। 

 অন্যদিকে, 
---------------
বাংলা ধাতু যোগে গঠিত শব্দ- 
কহ্- কওয়া, কহন। 
কাট্- কাটা। 
কাঁদ্- কাঁদা, কাঁদুনে। 

----------------------
• মৌলিক ধাতু:

যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়ু, কর্ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন: কাদ্, কাট্, নাচ, আক্, কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্‌ , কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু। যেমন: খাট্, আঁট্, চেঁচ্, টান, টুট্, ডর্, ফির্, চাহ্, ভিজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৮.
'বিয়েপাগলা' কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ সমাস
  2. কর্মধারয় সমাস
  3. বহুব্রীহি সমাস 
  4. অব্যয়ীভাব সমাস
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস: 
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা-
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি,
- বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা ইত্যাদি।

এরূপ- ছাত্রাবাস, ডাকমাশুল, চোষকাগজ, শিশুমঙ্গল, মুসাফিরখানা, হজ্বযাত্রা, মালগুদাম, রান্নাঘর, মাপকাঠি, বালিকা-বিদ্যালয়, পাগলাগারদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৯.
'কুঁজড়োপনা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. অপদার্থ লোক
  2. অত্যন্ত কৃপণ
  3. ঝগড়াটে স্বভাব
  4. অকর্মণ্য লোক
ব্যাখ্যা

• 'কুঁজড়োপনা' বাগ্‌ধারার অর্থ - ঝগড়াটে স্বভাব। 

অন্যদিকে, 
-------------
• 'কায়েতের ঘরের ঢেঁকি' অর্থ - অপদার্থ লোক। 
• 'কিপটের জাসু' অর্থ - অত্যন্ত কৃপণ। 
• 'কুমড়ো কাটা বটঠাকুর' অর্থ - অকর্মণ্য লোক। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩০.
আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরনী
  2. বাঘিনী 
  3. কাঙালিনী
  4. চাকরানী
ব্যাখ্যা

• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ: 
ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ইনী-প্রত্যয়: কাঙাল-কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি।
• নী-প্রত্যয়: কামার-কামারনী, জেলে-জেলেনী, কুমার-কুমারনী, ধোপা-ধোপানী, মজুর-মজুরনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৩১.
The Lady of Shalott, a famous poem, was written by -
  1. Robert Browning
  2. Thomas Gray
  3. Alfred Lord Tennyson
  4. W.B. Yeats
ব্যাখ্যা

• The Lady of Shalott: 
- Alfred Lord Tennyson রচিত একটি narrative poem. 
- 'The Lady of Shalott' is a lyrical ballad by the 19th-century English poet Alfred Tennyson and one of his best-known works.
- এটি ১৮৩২ সালে প্রকাশিত হয়। 

• Alfred Tennyson:
- Alfred, Lord Tennyson ছিলেন Victorian যুগের একজন English poet. 
- তিনি ১৮৫০ সালে ইংল্যান্ডের Poet Laureate নিযুক্ত হোন। 
- বন্ধু Arthur Hallam এর মৃত্যুশোকে তিনি রচনা করেন বিখ্যাত elegy (শোকগাথা) 'In Memoriam'. 
- He is often regarded as the chief representative of the Victorian age in poetry. 

• তার বিখ্যাত কবিতাসমূহ:
- Oenone,
- Ulysses,
- The Lotos-Eaters,
- Locksley Hall,
- Morte D'Arthur,  
- The Lady of the Shalott, etc.

Source: Encyclopedia Britannica. 

৩২.
Choose the incorrectly spelled word:
  1. Liaison
  2. Aesthetic
  3. Consensus
  4. Exhillarate
ব্যাখ্যা

The incorrectly spelled word is: ঘ) Exhillarate.

The correct spelling is - Exhilarate.

• Exhilarate: 
English meaning: to give someone strong feelings of happiness and excitement.
Bangla meaning: উৎফুল্ল করা; উল্লসিত করা।

Other options,

ক) Liaison:
- দুই পক্ষের সংযোগ বা যোগাযোগ।

খ) Aesthetic:
- নান্দনিক; কান্ত; সৌন্দর্যতাত্ত্বিক।

গ) Consensus:
- মিল; ঐক্য; ঐকমত্য।

Source: Cambridge & Accessible Dictionary.

৩৩.
Which of the following sentences is incorrect?
  1. Jamil reminded me taking medicine.
  2. He became addicted to playing video games during the lockdown.
  3. Many years have passed since his father died. 
  4. Nazrul’s Agnibina was published in 1922. 
ব্যাখ্যা

Incorrect sentence: Jamil reminded me taking medicine.

এর সঠিক বাক্যটি হলো - Jamil reminded me to take medicine.


• কিছু কিছু শব্দের পর object আসলে সবসময় to-infinitive হয়।
- যথা -Advise, remind, allow, permit, recommend ইত্যাদির পর object থাকলে gerund না বসে infinitive বসে।
• যেমন-
- Rahim reminded me to take medicine.
- She advised me to give up smoking.
- The manager allowed us to leave work early.
- The park permits visitors to bring their food.
- She encouraged her friend to pursue her dreams.
 
• তবে Advise, remind, allow, permit, recommend ইত্যাদির পর object না এসে সরাসরি verb আসলে তখন verb+ ing হবে।
• যেমন-
- They allow fishing here.
- I would advise taking out some Insurance.
-------------------

• যদি কোনো বাক্যে with a view to, look forward to, conducive to, addicted to, mind, cannot help, could not help, be used to, get used to, worth ইত্যাদির পর কোন verb আসলে উক্ত verb এর সাথে ing যুক্ত হয়।
- তাই, প্রশ্ন প্রদত্ত বাক্যে addicted to আছে, তাই এরপরে verb + ing (addicted to watching) হবে।

Correct sentence: He became addicted to playing video games during the lockdown.
------------------
• Since এর প্রথম অংশ Present Indefinite/ Present Perfect Tense হলে পরের অংশ Past Indefinite Tense হয়। 
- আবার Since এর প্রথম অংশ Past Indefinite Tense হলে পরের অংশ Past Perfect Tense হয়। 
 
Correct sentence: Many years have passed since his father died. 
• প্রদত্ত বাক্যে since এর পূর্বের অংশ 'Many years have passed' অর্থাৎ Present Perfect Tense বিধায় পরের অংশ Past Indefinite Tense হবে। 
----------------

• Article এর নিয়মানুযায়ী,
- বিখ্যাত গ্রন্থের নামের পূর্বে লেখকের নাম থাকলে তার পূর্বে Article বসে না।
Correct sentence: Nazrul’s Agnibina was published in 1922.

৩৪.
He just walked straight past us! Here, 'past' is - 
  1. Noun
  2. Adjective
  3. Adverb
  4. Preposition
ব্যাখ্যা

He just walked straight past us! Here, 'past' is - Preposition.
- এই বাক্যে "past" একটি preposition হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- Past এখানে "walked" (verb) এবং "us" (object) এর মধ্যে সম্পর্ক দেখাচ্ছে।
- এটা direction/দিক বোঝাচ্ছে - সে আমাদের পাশ দিয়ে/অতিক্রম করে হেঁটে গেছে।
- "Past us" = preposition + object (prepositional phrase).
- 'past' এখানে preposition হিসেবে ব্যবহার হয়েছে কারণ এটি 'us' এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে: "আমাদের পাশে দিয়ে।"
- এটি কোনও verb এর সাথে অন্য কিছু বা কারো সম্পর্ক নির্দেশ করছে, যা preposition-এর কাজ।

past: [preposition]
English meaning: on or to the other side of somebody/something.
Bangla meaning: পেরিয়ে; ছাড়িয়ে। 

Example: 
- We live in the house just past the church.
- He hurried past them without stopping.
- He just walked straight past us!

Source: Oxford Dictionary.

৩৫.
"Was this the face that launch’d a thousand ships" is a famous line from —
  1. Doctor Faustus
  2. Don Juan
  3. Hamlet
  4. Paradise Lost
ব্যাখ্যা

"Was this the face that launch'd a thousand ships"
— বিখ্যাত নাট্যকার Christopher Marlowe-এর লেখা নাটক "Doctor Faustus" থেকে নেওয়া হয়েছে।

•  Doctor Faustus:
- এটি Christopher Marlowe লিখিত একটি tragedy.
- Doctor Faustus নাটকে Marlowe, Faustus এর জীবনের কাহিনী বর্ণনা করেন।
- Faustus ছিলেন একজন Doctor যিনি পরে জাদুকরে পরিণত হন।
- তিনি শয়তানের সাথে এমন একটি চুক্তি করেন যাতে করে তিনি জ্ঞান ও শক্তি প্রাপ্ত হতে পারেন।

• Mephistopheles ছিলেন Faustus এবং Lucifer এর মধ্যস্থতাকারী।
- এভাবে Faustus তার আত্মার বিক্রির মাধ্যমে ২৪ বছরে ক্ষমতাপূর্ণ একটি জীবন লাভ করে।
- এই সময়কালে সে তার এই ক্ষমতার অনেক ব্যবহার ও অপব্যবহার করতে থাকেন।

• কিন্তু জীবনের শেষ দিনে এসে তিনি খুবই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পরেন এবং তার জীবন ভিক্ষা চাইতে থাকেন।
- তিনি তার কৃত কর্মের জন্য অনেক অনুতপ্ত বোধ করেন।
- তবে তখন আর কোন লাভ হয় না কারণ ততোদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়।
- সেই মধ্যরাতে শয়তানের অতিথিসেবক আসে এবং Faustus এর আত্মা তার সাথে করে নরকে নিয়ে যায়।

• More quotes:
- Was this the face that launch'd thousand ships,
And burnt the topless towers of Ilium.
- Sweet Helen, make me immortal with a kiss.

• Christopher Marlowe:
- তিনি একজন Elizabethan poet.
- তিনি একজন University Wit ছিলেন।
- Shakespeare এর আগে তিনিই ছিলেন English drama এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- He is noted especially for his establishment of dramatic blank verse.

• Notable work:
- Doctor Faustus,
- Edward II,
- Hero and Leander,
- Tamburlaine the Great,
- The Jew of Malta.

Source: Britannica.

৩৬.
Which of the following quotes is from the famous play As You Like It?
  1. Sweet are the uses of adversity.
  2. Out, damned spot! out, I say!
  3. Frailty, thy name is woman.
  4. Veni, Vidi, Vici.
ব্যাখ্যা

• "Sweet are the uses of adversity." - এই উক্তিটি উইলিয়াম শেক্সপিয়র (William Shakespeare) এর নাটক "As You Like It" থেকে এসেছে।

• As You Like It: 
- এটি Shakespeare লিখিত 5 acts বিশিষ্ট একটি বিখ্যাত comedy যেটিকে "Pastoral comedy" ও বলা হয়। 
- এটি ১৫৯৮-১৬০০ সালে রচিত ও মঞ্চস্থ করা হয় এবং ১৬২৩ সালে comedy টি First Folio এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- The Forest of Arden নামক একটি কাল্পনিক বনে অধিকাংশ কাহিনির অবতারণা।
- রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের এই নাটকে Orlando এবং Rosalind এর প্রেমের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে ছোটভাই Duke Frederick তার বড় ভাই Duke Senior কে নির্বাসিত করে।
- এদিকে Orlando কে তার ছোট ভাই Oliver নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।
- অপর দিকে, Oliver এবং Celia পরস্পরের প্রেমে পড়ে।
- এভাবে নানা ঘটনা দূর্ঘটনার পর প্রেমিক যুগলের প্রেম পরিণতি পায় আর্ডেনের জঙ্গলে।

• The important quotations of this comedy:
• 'All the world's a stage
And all the men and women are merely players.'
• Sweet are the uses of adversity.
• Love is merely a madness.
• To the last gasp with truth and loyalty.
• I'll have no husband if you be not he.
• 'Under the greenwood tree who loves to die with me, and turn his merry note.'
• “Blow, blow, thou winter wind,
 Thou art not so unkind”.

• William Shakespeare:
- William Shakespeare was born on 23 April 1564 AD and died on 23 April 1616 AD.
- তার জন্মস্থান Stratford upon Avon.
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে English national poet বলা হয়।
- তাকে 'Bard of Avon' বা Swan of Avon বলা হয়।
- Shakespeare wrote a total of 37 plays and 154 sonnets.

অন্যান্য options গুলো:

খ) "Out, damned spot! out, I say!" - এটি "Macbeth" নাটক থেকে (Lady Macbeth এর dialogue).

গ) "Frailty, thy name is woman." - এটি "Hamlet" নাটক থেকে (Hamlet এর dialogue).

ঘ) "Veni, Vidi, Vici" - এটি Shakespeare এর নাটক থেকে নয়, এটি Julius Caesar এর বিখ্যাত Latin উক্তি (I came, I saw, I conquered).

Source: Britannica.

৩৭.
Green-eyed monster means -
  1. Danger
  2. Hatred
  3. Deep sorrow
  4. Jealousy
ব্যাখ্যা

• Green-eyed monster:
English meaning: jealousy is imagined as a monster that attacks people.
Bangla meaning: ঈর্ষা / হিংসা। 

Green-eyed monster → ঈর্ষা বা হিংসার প্রতীক।
প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল William Shakespeare-এর নাটক Othello তে।

অপশন গুলোর অর্থ - 

ক) Danger:
- বিপদ; ঝুঁকি; আশঙ্কা; শঙ্কা।

খ) Hatred:
- ঘৃণা; তীব্র বিরাগ।

গ) Deep sorrow:
- গভীর শোক / তীব্র দুঃখ / গভীর কষ্ট।

Source: Merriam-Webster Dictionary.

৩৮.
Fill in the blank:
The teacher prohibited the students _____ noise in the class.
  1. from making
  2. to make 
  3. making
  4. of making
ব্যাখ্যা

• Prohibit, desist, refrain, abstain, exempt, debar, hinder, prevent ইত্যাদি verb এর পর
- from + gerund (verb+ing) ব্যবহৃত হয়।

Complete sentence: The teacher prohibited the students from making noise in the class.

Example:
- They exempted the boy from paying the fine.

Source: Live MCQ English Wizard.

৩৯.
The burnt toast smelled bitter and unpleasant. Here 'burnt' is a
  1. Gerund 
  2. Past participle
  3. Finite verb
  4. Linking verb
ব্যাখ্যা

The burnt toast smelled bitter and unpleasant. Here 'burnt' is a - Participle.

- এখানে burnt হলো toast শব্দের আগে এসেছে এবং toast এর অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করছে।
- অর্থাৎ, এটি toast-এর গুণ/বৈশিষ্ট্য দেখাচ্ছে।
- এমন ক্ষেত্রে verb-এর past participle বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

• Participle:
- যে word একই সাথে Verb এবং Adjective (মাঝে মধ্যে Adverb) এর কাজ করে, তাকে Participle বলে।

• A participle is a verb that ends in -ing (present participle) or -ed, -d, -t, -en, -n (past participle). Participles may function as adjectives, describing or modifying nouns.
- Participle একই সাথে Verb ও Adjective এর কাজ করে।

• Participle মূলত: তিন প্রকার: 
1. Present Participle. Ex: Do not disturb a sleeping dog. 
2. Past Participle. Ex: This is a book written by Charles Dickens. 
3. Perfect Participle. Ex: Having eaten rice, he went to bed.

৪০.
Macbeth killed the king. He was arrested on the charge of -
  1. Patricide
  2. Regicide
  3. Fratricide
  4. Filicide
ব্যাখ্যা

উল্লিখিত অপশন গুলো - 

ক) Patricide:
English meaning: the crime of killing your own father.
Bangla meaning: পিতৃহত্যা।

খ) Regicide:
English meaning: a person who kills a king, or the act of killing a king.
Bangla meaning: রাজহন্তা।

গ) Fratricide:
English meaning: the crime of murdering your brother, or killing members of your own group or country.
Bangla meaning: ভ্রাতৃহন্তা; ভগ্নিহন্তা; ভ্রাতৃহত্যা বা ভগ্নিহত্যা।

ঘ) Filicide:
English meaning: the crime of killing your child or your children, or a case of this.
Bangla meaning: সন্তান হত্যা।

অপশন বিবেচনায় বুঝা যায়, Macbeth killed the king. He was arrested on the charge of -Regicide.

Source - Cambridge Dictionary.

৪১.
"There are more things in Heaven and Earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." - This famous line is taken from -
  1. Macbeth
  2. Hamlet
  3. Othello
  4. Julius Caesar
ব্যাখ্যা

"There are more things in Heaven and Earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." - This famous line is taken from - Hamlet.

• Hamlet:
- William Shakespeare রচিত tragedy গুলোর মধ্যে Hamlet is one of the most celebrated tragedies in English literature.
- তাঁর অন্যান্য tragedy গুলোর মত এটিও 5acts বিশিষ্ট।
- ১৫৯৯-১৬০১ সালের মধ্যে লেখা এই tragedy টি প্রকাশিত হয় 1603 সালে।
- এর কেন্দ্রীয় চরিত্র Prince Hamlet ছিলেন 'prince of Denmark' যিনি  জার্মানি থেকে নিজ দেশে ফিরে আসে তাঁর বাবার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ  করতে এবং জানতে পারে যে তার চাচা Claudius তার মাকে বিয়ে করেছে এবং এই চাচাই তার বাবার খুনী।
- সত্য উদঘাটনের পর বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মধ্যে দিয়ে tragedy -এর কাহিনী সামনে এগিয়ে যায় এবং শেষাংশে Hamlet -এর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে এই tragedy -র সমাপ্তি ঘটে।

• Main characters:
- King Hamlet,
- Hamlet (Prince of Denmark),
- Ophelia (Hamlet's love interest),
- Claudius (Hamlet's uncle),
- Gertrude (Queen),
- Horatio (Loyal and Best friend of Hamlet),
- Polonius (Ophelia's Father),
- Laertes (Ophelia's brother), etc.

• Famous quotations from Hamlet:
- "To be or not to be, that is the question."
- "Frailty, thy name is woman."
- "Brevity is the soul of wit."
- "Listen to many, speak to a few."
- "Though this be madness, yet there is method in't."
- "Conscience does make cowards of us all."
- "One may smile, and smile, and be a villain."
- "There's a divinity that shapes our ends,
Rough-hew them how we will."
- "There is nothing either good or bad, but thinking makes it so."
- "There are more things in heaven and earth, Horatio,
Than are dreamt of in your philosophy."

• William Shakespeare (1564-1616):
- William Shakespeare একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে 'English National Poet' বলা হয়।
- Stratford-upon-Avon -এ জন্মগ্রহণ করেছেন বলে তাকে Bard of Avon বা Swan of Avon বলা হয়।
- তাকে অনেকেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
- Shakespeare occupies a unique position in world literature.
- William Shakespeare মূলত তাঁর Drama and Sonnet -এর জন্য পরিচিত।
- তিনি মোট ১৫৪ টি sonnet এবং ৩৭ টি play লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি Long narrative poem ও লিখেছেন।

Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.

৪২.
The documents are _____ by tomorrow.
  1. to be submitted
  2. to submitted
  3. to be submitting
  4. having submit
ব্যাখ্যা

• 'to be' এবং 'having 'এর পর মূল verb এর Past participle হয়। 
- Active voice এ 'having' ব্যবহৃত হয় যখন কর্তা নিজে কাজ করে।
- আর passive voice এ ব্যবহৃত হয় যখন ক্রিয়া দ্বারা কর্তার অবস্থা নির্দেশিত হয়।

Example: 
- The thief ran away, having taken the ornaments. 
- The principal desired the notice to be hung.

Complete Sentence -The documents are to be submitted by tomorrow.

Options,
- to submitted → ভুল, কারণ এখানে be নেই।
- to be submitting → ভুল, continuous tense-এর জন্য, এখানে দরকার নেই।
- having submit → ভুল, tense এবং structure উভয়ই ঠিক নয়।

Source: Advanced Learner's English Grammar & Composition by Chowdhury & Hossain.

৪৩.
The word 'Cotton' is -
  1. Material noun
  2. Abstract Noun
  3. Common noun
  4. Proper noun
ব্যাখ্যা

The word 'Cotton' is - Material noun.

• যে সব পদার্থ ওজন করা যায়, কিন্তু গণনা করা যায় না, তাদেরকে Material noun বলে।
- Cotton – তুলা, যা ওজন করা যায়, গণনা করা যায় না, তাই এটি Material noun.

• Material noun:
- যে Noun দ্বারা কোন বস্তু বা পদার্থকে নির্দেশ করে তাকে Material noun বলে।
- Material noun সাধারণত uncountable noun হয়।
- একে গণনা করা যায় না কিন্তু পরিমাপ বা ওজন করা যায়।

উদাহরণ: Silver, Iron, Cotton, Diamond, Milk, Paint, Rubber, Paper, Steel, Sand, Wood, Mutton, Oil etc.

Source: A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

৪৪.
Robert Browning is especially noted for —
  1. Pastoral poetry
  2. Dramatic monologue
  3. Blank verse
  4. Elegy
ব্যাখ্যা

Robert Browning is especially noted for — Dramatic monologue.

• Robert Browning:

- He is noted for his mastery of dramatic monologue.
- Victorian age এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়। 
- তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তার dramatic monologues বা স্বগতোক্তিমূলক কবিতার জন্য।
- So, he is often called the father of dramatic monologue. 
- এছাড়া মানব চরিত্রের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক দিকও তিনি তার কবিতায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতেন। তার কবিতায় ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ উপস্থাপিত হয়েছে। 
- His wife, Elizabeth Barrett, was also a poet of that time. 

• Notable Works:
• Poems:
- My Last Duchess.
- The Pied Piper of Hamelin.
- Fra Lippo Lippi.
- Andrea del Sarto.

• Plays: 
- Browning's first play, Strafford (1837), closed after only five performances.

Source: Britannica.com and Encyclopedia.com

৪৫.
The phrase "the empire on which the sun never sets" is often associated with which literary period’s background?
  1. Old English Period
  2. Renaissance Period
  3. Victorian Period
  4. Restoration Period
ব্যাখ্যা

• "The empire on which the sun never sets" বাক্যটি Victorian Period (ভিক্টোরিয়ান যুগ) এর সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত।

• এই বিখ্যাত বাক্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি বোঝাতে ব্যবহৃত হত, যার অর্থ ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এতটাই বিশাল যে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সবসময় সূর্য থাকত - কখনো সূর্য অস্ত যেত না।“যে সাম্রাজ্যের উপর সূর্য কখনো অস্ত যায় না”—এই কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিশালতা বোঝাতে। 18th থেকে 20th শতাব্দীর মধ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বহু নতুন অঞ্চল দখল করেছিল, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দ্বীপে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আধিপত্য বিস্তৃত ছিল। ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন যে পৃথিবীর প্রায় ২৫ শতাংশ স্থলভাগ ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। সাম্রাজ্য এতই বিস্তৃত ছিল যে পৃথিবীর যে কোনো সময় কোনো না কোনো উপনিবেশে সূর্য আলো দিচ্ছিল।

Source: World Atlas.

৪৬.
Diction refers to —
  1. The theme of a poem
  2. The choice and use of words in speech or writing
  3. The rhyme scheme of a poem
  4. The moral of a story
ব্যাখ্যা

Answer - The choice and use of words in speech or writing.

• Diction:
- The selection of words in writing or speech.
- A particular writer chooses a particular type of words and phrases অর্থাৎ প্রতিটি লেখকের নিজস্ব বা বিশেষ শব্দচয়ন রয়েছে।
Example:
- John Milton তাঁর লেখায় bombastic, unusual, allusive এবং latinized শব্দের ব্যবহার করেছেন - কিন্তু George Orwell এর সাহিত্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে তাঁর লেখায় simple, lucid এবং common শব্দের ব্যবহার বেশি। 
- সুতরাং, সাহিত্যিকদের সাহিত্য রচনার জন্য করা শব্দচয়নকে সেই সাহিত্যিকের diction বলা হয়।

Source: An ABC Of English Literature by Dr M Mofizar Rahman.

৪৭.
"A thing of beauty is a joy for ever." - Who created it?
  1. P.B. Shelley
  2. John Keats
  3. T.S. Eliot
  4. W.B. Yeats
ব্যাখ্যা

"A thing of beauty is a joy for ever."
এটি John Keats-এর বিখ্যাত কবিতা “Endymion” থেকে নেওয়া হয়েছে।

• Endymion:
- গ্রীক মিথ অনুযায়ী Endymion একজন অনিন্দ্য সুন্দর যুবকের নাম।
- কবিতায় দেখানো হয়েছে Endymion একজন রাখাল যে তার প্রেমিকার সন্ধান করে, যার নাম Cynthia.
- এই কবিতায় কবি truth of beauty এর অনুসন্ধান করেছেন। 
- সৌন্দর্য চিরস্থায়ী এবং সৌন্দর্যের এই চেতনা আমাদের অন্তরকে আলোকিত করে রাখে।
- কবিতার প্রথম লাইন: A thing of beauty is a joy forever.
- এই কবিতাটি John Ketas এর  first long poem.
- কবিতাটিকে poetic epic ও বলা হয়ে থাকে।
- This work is divided into four 1,000-line sections, and its verse is composed in loose rhymed couplets.
• 'A thing of beauty is a joy for ever' এই কবিতাটির প্রথম লাইন।

• John Keats:
- English Romantic lyric poet who devoted his short life to the perfection of a poetry marked by vivid imagery, great sensuous appeal, and an attempt to express a philosophy through classical legend.

• John Keats এর Title গুলো হলো -
- Poet of Beauty,
- Poet of sensuousness,
- A Death Hunted Poet,
-The Youngest Poet of English Literature.
- এছাড়া তিনি ছিলেন- Physician, surgeon, এবং Doctor.
- John Keats তার Sense of Beauty এর জন্য বিখ্যাত।
- তার সাহিত্যকর্মের মধ্যে আছে, sonnets, odes, and epics ইত্যাদি।

• John Keats's famous poems are:
- Ode to Psyche,
- Ode on Melancholy,
- To Autumn,
- Bright Star,
- On First Looking into Chapman's Homer,
- Lamia,
- Hyperion,
- The Eve of St,
- La Belle Dame Sans Merci.

Source: Britannica and Poetry Foundation.

৪৮.
Who of the following is a University Wit?
  1. Robert Greene
  2. Thomas Nashe
  3. John Lyly
  4. All of them
ব্যাখ্যা

Answer - All of them.

University Wits:
Elizabethan Period - এর একদল নাট্যকার (Dramatist) - কে একত্রে University Wits বলা হয়।
এই নাট্যকারদের প্রায় সবাই Oxford বা Cambridge University এর গ্রাজুয়েট।
তারা তাদের লেখনীতে গতানুগতিক ধারা পরিহার করে বৈচিত্র্য ও সমসাময়িক আধুনিকতা আনায়ন করেন।

University Wits - এর সদস্যরা হচ্ছেন:
1. Christopher Marlowe - (Cambridge)
2. Robert Greene - (Cambridge)
3. Thomas Nashe - (Cambridge)
4. Thomas Lodge - (Oxford)
5. George Peele- (Oxford)
6. John Lyly - (Oxford)
7. Thomas Kyd (not university-trained)

Source: Britannica.com

৪৯.
Detailed designation and address on the envelope is called —
  1. Heading
  2. Subscription
  3. Superscription
  4. Salutation
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) Superscription.

• There are six parts in a formal/ official letter:

1. Heading: Date, Designation (পদবী) & Address of the Recipient.
2. Salutation (সম্বোধন) : যেমন - Dear Sir/ Madam.
3. Body (মূল বক্তব্য).
4. The Subscription: যেমন - Yours faithfully/ I remain, Sir.
5. Signature of the Writer.
6. Superscription: Detailed Designation & Address on the Envelope.

৫০.
Make it passive: Do they know the rules?
  1. Are the rule known to them?
  2. Are the rules know to them?
  3. Are the rules known to them?
  4. Are the rules being known to them?
ব্যাখ্যা

Active: Do they know the rules?
Passive: Are the rules known to them?

• Active voice কে Passive voice- এ রূপান্তরের নিয়ম:
- Active Voice এর object‌ টি Passive voice এর subject হয়,
- Tense অনুযায়ী Auxiliary verb,
- মূল verb এর past participle,
- Active voice এর subject টি Passive voice এর object হয় এবং তার পূর্বে Preposition (By, with, at, to ,in) বসে।
- আর known এর পর preposition to ব্যবহৃত হয়।

বিকল্পগুলো:

ক) Are the rule known to them? → singular rule ব্যবহার হয়েছে, ভুল।
খ) Are the rules know to them? → know past participle নয়, ভুল।
ঘ) Are the rules being known to them? → continuous passive, এখানে প্রয়োজন নেই → ভুল।

৫১.
Fill in the blank: 
I would rather ____ at home than go out in the rain.
  1. stay
  2. to stay
  3. stayed
  4. staying
ব্যাখ্যা

• would rather অর্থ – বরং করব/বলব/যাব ইত্যাদি।
- would rather দিয়ে দুটি কাজের মধ্যে দ্বিতীয়টির চেয়ে প্রথমটি শ্রেয়, এ রকম বোঝায়।
- Would rather এর পরে Verb এর Present form হয়।
- Structure: Sub + would rather + verb এর present form + than + এরপর সরাসরি verb/noun বসে।

• সুতরাং, নিয়মানুযায়ী সঠিক উত্তর - I would rather stay at home than go out in the rain.

৫২.
"Cut no ice" means —
  1. To have no influence
  2. To start a conflict
  3. In a state of disorder
  4. To release a secret
ব্যাখ্যা

Answer - To have no influence.

Cut no ice
English Meaning: have no influence or effect.
Bangla Meaning: নিষ্ফল হওয়া / ব্যর্থ হওয়া।

Ex. Sentence: The salesman’s arguments cut no ice at all.
Bangla Meaning: সেলসম্যানের যুক্তি প্রমাণও ব্যর্থ হলো।

Source: Live MCQ Lecture.

৫৩.
"Keep one’s hair on" means —
  1. Stay calm
  2. Be stylish
  3. Be careless
  4. Work hard
ব্যাখ্যা

উত্তর: ক) Stay calm.

ইংরেজি কথ্যভাষায় “Keep one’s hair on” একটি idiom।
এর অর্থ হলো ধৈর্য ধরো বা শান্ত থাকো, বিশেষ করে যখন কেউ রাগ বা উত্তেজিত হয়।

• Keep one’s hair on
English Meaning: used to urge someone not to panic or lose their temper.
Bangla Meaning: কাউকে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে বলা।

Ex. Sentence: Keep your hair on! Your car isn't badly damaged!
Bangla Meaning: মাথা ঠান্ডা রাখো! তোমার গাড়ির খুব বেশি ক্ষতি হয় নি।

Source: Live MCQ Lecture.

৫৪.
The Duchess of Malfi, a famous play, was written by -
  1. Christopher Marlowe
  2. John Webster
  3. Ben Jonson
  4. William Shakespeare
ব্যাখ্যা

The Duchess of Malfi, a famous play, was written by - John Webster.

• The Duchess of Malfi

- এটি একটি 5 acts বিশিষ্ট tragedy play যা Revenge Tragedy/ Tragedy of Suffering হিসেবে পরিচিত।
- এটি ১৬১৩-১৪ সালে লেখা এবং ১৬২৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- The Duchess of Malfi tells the story of the spirited duchess and her love for her trustworthy steward, Antonio.
- তার দুই ভাই Ferdinand (ক্যালাব্রিয়ার ডিউক) এবং Cardinal বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা গোপনে বিয়ে করে।
- পরবর্তীতে তাদের তিনটি সন্তান জন্ম নেয়  কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি কখনো তাঁর ভাইদের কাছে তাঁর বাচ্চাদের নাম বলেন নি।
- Duchess এর ভাইয়েরা সকল খবর বের করার জন্য তার বিরুদ্ধে Bosola নামক একজন গোয়েন্দা ( Bosola) নিযুক্ত করে।
-  Bosola বিভিন্ন কৌশলে Dutchess এর কাছ থেকে তাড় স্বামি সন্তানদের খবর জেনে তার ভাইদেরকে বলে দেয় এবং তাদের আদেশে এদেরকে গ্রেফতার করতে যায়।
- নাটকের শেষে দেখা যায় সবাই মারা গিয়েছে কেবল মাত্র Dutchess এর বড় সন্তানটি ছাড়া যে কিনা পরবর্তীতে Malfi এর শাসক হয়।
- Webster’s The Duchess of Malfi কে সচরাচর last great tragedy of the Elizabethan and Jacobean eras হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

• John Webster: 
- তিনি একজন English Dramatist. 
- তাঁর জন্ম ১৫৮০ সালে এবং ১৬৩২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
- তিনি Jacobean যুগের একজন সাহিত্যিক। 

• Famous Tragedies of John Webster:
- The White Devils
- The Devil's Law Case
- The Duchess of Malfi

Source: Ab ABC of English Literature by Dr M Mofizar Rahman and Britannica.

৫৫.
The word Splendid means —
  1. Excellent
  2. Everywhere
  3. Rare
  4. Active
ব্যাখ্যা

• Splendid:
English meaning: excellent, or beautiful and impressive.
Bangla meaning: (১) জমকালো; চমৎকার: a splendid house. (২) (কথ্য) অত্যন্ত তৃপ্তিকর; অত্যন্ত সন্তোষজনক: a splendid dinner. 

Example: 
- The splendid old opera house was torn down.
- The hotel stands in splendid isolation, surrounded by moorland.
- He made a lot of money and had a splendid house built.

Other options,
- Everywhere → সর্বত্র। 
- Rare → বিরল। 
- Active → সক্রিয়। 

Source - Cambridge Dictionary.

৫৬.
Which of the following has no feminine form?
  1. Nun
  2. Parson
  3. Wizard
  4. Emperor
ব্যাখ্যা

• উল্লিখিত অপশনগুলোর মধ্যে -
• Parson (masculine) - পাদ্রী / ধর্ম যাজক।
- এটি হচ্ছে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ যার কোন স্ত্রীবাচক শব্দ নেই।

• Nun:
- Bangla meaning: মঠবাসিনী; সন্ন্যাসিনী।
- It is a feminine gender.
- এর masculine gender হচ্ছে - Monk (সন্ন্যাসী)। 

• Wizard: [Masculine]
- Meaning: জাদুকর।
- এর Feminine form হলো- Witch (ডাইনি; মোহিনী নারী).

• Emperor [Masculine]
- English Meaning: The sovereign or supreme male monarch of an empire.
- Bangla Meaning: সম্রাট।
- এর Feminine gender হলো Empress (রানী)।

৫৭.
Synonym of 'Stubborn' -
  1. Wilful
  2. Weak
  3. Reserved
  4. Silent
ব্যাখ্যা

Stubborn:
English meaning: A stubborn person is determined to do what he or she wants and refuses to do anything else.
Bangla meaning: একগুঁয়ে; জেদি; সংকল্পবদ্ধ; শক্ত; কঠিন; বিরূপ; দুঃসাধ্য: stubborn soil; stubborn illness.

Options,

ক) Wilful:
- একগুঁয়ে; একরোখা।

খ) Weak:
- দুর্বল; ভঙ্গুর; গুরুভার বহনে বা চাপ, আক্রমণ ইত্যাদি প্রতিরোধে অক্ষম।

গ) Reserved:
-  (ব্যক্তি অথবা চরিত্রের ক্ষেত্রে) গুরুগম্ভীর; চাপা স্বভাবের।

ঘ) Silent:
- (১) নীরব; শব্দহীন: a silent night, a silent film, নির্বাক ছায়াছবি। (২) স্বল্পভার্ষী; বাকবিমুখ; নিরুত্তর।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, Synonym of 'Stubborn' - Wilful.

Source - Accessible Dictionary.

৫৮.
The antonym of Perspicacious is —
  1. Vacuous
  2. Tasteless
  3. Harmony
  4. Confuse
ব্যাখ্যা

• Perspicacious:
English meaning: quick in noticing, understanding, or judging things accurately.
Bangla meaning: বিচারবিবেচনার জন্য দ্রুত বোধশক্তিসম্পন্ন; স্বচ্ছ দৃষ্টিসম্পন্ন। 

Options, 

ক) Vacuous:
- চিন্তা বা বুদ্ধিমত্তার অভাবসূচক; শূন্য; ফাঁকা; উদাস; শূন্যগর্ভ।

খ) Tasteless:
- বিস্বাদ; নীরস।

গ) Harmony:
-  সাদৃশ্য; মিল।

ঘ) Confuse:
- গুলিয়ে ফেলা; বিশৃঙ্খল করা; বিভ্রান্ত বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হওয়া বা করা।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, The antonym of Perspicacious is — Vacuous.

Source - Accessible Dictionary.

৫৯.
The family _____ their homeland during the 1990s.
  1. left
  2. was left 
  3. had been left
  4. had left
ব্যাখ্যা

Complete sentence: The family left their homeland during the 1990s.

• অতীতের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা বোঝাতে Simple Past ব্যবহার হয়।
- এখানে 1990s একটি নির্দিষ্ট অতীত সময় নির্দেশ করছে।
- অতএব, left (simple past of leave) সঠিক।

Other options,
খ) was left
- এটি passive form.
- অর্থ: "ছাড়া হয়েছিল" বা "পরিত্যক্ত ছিল"।
- উদাহরণ: The house was left in ruins after the storm.
- এখানে “the family” মূল subject হওয়ায় passive voice ব্যবহার করা ভুল।

গ) had been left:
- এটি Past Perfect Passive। এর অর্থও হবে "পরিবারটিকে ছেড়ে যাওয়া হয়েছিল" যা সঠিক নয়।

ঘ) had left:
- ভুল — Past perfect, সাধারণত তখন ব্যবহার হয় যখন কোনো ঘটনা আরেকটি অতীত ঘটনার আগে ঘটেছে।

৬০.
নিচের ক্রমজোড়গুলোর মধ্যে কোনটি সহমৌলিক?
  1. (৮, ১২)
  2. (৪, ১৮)
  3. (১৫, ২৬) 
  4. (২১, ৩৫)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নিচের ক্রমজোড়গুলোর মধ্যে কোনটি সহমৌলিক?

সমাধান:
সহমৌলিক: দুই বা ততোধিক সংখ্যার সাধারণ গুণনীয়ক কেবল ১ হলে, ঐ সংখ্যাগুলো পরস্পর সহমৌলিক।

এখানে, 
১৫ = ১ × ৩ × ৫
২৬ = ১ × ২ × ১৩
১৫ ও ২৬ ক্রমজোড়টি সহমৌলিক। 
কারণ, (১৫, ২৬)  ক্রমজোড়টির সাধারণ গুণনীয়ক ১,
(১৫, ২৬) ক্রমজোড়টি সহমৌলিক।

৬১.
6টি বইয়ের মধ্যে 3টি বিশেষ বই একত্রে রেখে বইগুলোকে কত প্রকারে সাজানো যায়?
  1. 24
  2. 48
  3. 96
  4. 144
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 6টি বইয়ের মধ্যে 3টি বিশেষ বই একত্রে রেখে বইগুলোকে কত প্রকারে সাজানো যায়?

সমাধান:
3টি বিশেষ বই একত্রে একটি ধরে মোট বই = (6 - 3) + 1 = 4টি
4টি বই সাজানোর মোট উপায় = 4!

বিশেষ বই 3টি সাজানোর মোট উপায় = 3!

∴ সবগুলো বই সাজানোর মোট উপায় = 4! × 3!
= 24 × 6
= 144

৬২.
চা পাতার মূল্য ২০% কমে যাওয়ায় কোন পরিবারের চা পাতার ব্যবহার শতকরা কত ভাগ বাড়ালে চা পাতা বাবদ খরচ একই থাকবে?
  1. ২০%
  2. ২৫%
  3. ৩০%
  4. ১৫%
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: চা পাতার মূল্য ২০% কমে যাওয়ায় কোন পরিবারের চা পাতার ব্যবহার শতকরা কত ভাগ বাড়ালে চা পাতা বাবদ খরচ একই থাকবে?

সমাধান:
মনেকরি,
চা পাতার মূল্য ১০০ টাকা
২০% কমে চা পাতার মূল্য = ১০০ - ২০ = ৮০ টাকা

বর্তমান মূল্য ৮০ টাকা হলে পূর্বমূল্য = ১০০ টাকা
∴ বর্তমান মূল্য ১ টাকা হলে পূর্বমূল্য = ১০০/৮০ টাকা
∴ বর্তমান মূল্য ১০০ টাকা হলে পূর্বমূল্য =  (১০০ × ১০০)/৮০
= ১২৫ টাকা

∴ চা পাতার ব্যবহার বাড়াতে হবে = (১২৫ - ১০০) টাকা
= ২৫ টাকা

৬৩.
x এর কোন মানের জন্য 72 × 33x - 5 = 23 × 20 হবে?
  1. 0
  2. 2
  3. 1
  4. 1/3
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x এর কোন মানের জন্য 72 × 33x - 5 = 23 × 20 হবে?

সমাধান:
72 × 33x - 5 = 23 × 20
⇒ 72 × 33x - 5 = 8 × 1
⇒ 72 × 33x - 5 = 8
⇒ 9 × 33x - 5 = 1
⇒ 32 × 33x - 5 = 1
⇒ 32 + 3x - 5 = 1
⇒ 33x - 3 = 30
⇒ 3x - 3 = 0
⇒ 3x = 3
∴ x = 1

৬৪.
যদি M = {x : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 8} হয়, তবে M এর প্রকৃত উপসেট সংখ্যা কত? 
  1. 7
  2. 8
  3. 15
  4. 16
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি M = {x : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 8} হয়, তবে M এর প্রকৃত উপসেট সংখ্যা কত? 

সমাধান: 
দেওয়া আছে,
M = {x : x, 2 এর গুণিতক এবং x ≤ 8}
M = {2, 4, 6, 8}
M এর উপাদান সংখ্যা, n = 4

M এর প্রকৃত উপসেট সংখ্যা = 2n - 1 
= 24 - 1
= 16 - 1 
= 15

৬৫.

  1. 1/5
  2. 3
  3. 5
  4. 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:

সমাধান:
দেওয়া আছে,
a + b = √3
a - b = √2

প্রদত্ত রাশি = {2a2 + 2b2)}/4ab 
= {2(a2 + b2)}/4ab
= {(a + b)2 + (a - b)2}/{(a + b)2 - (a - b)2}
= {(√3)2 + (√2)2}/{(√3)2 - (√2)2}
= (3 + 2)/(3 - 2)
= 5/1
= 5

৬৬.
একটি কোণকের ভূমির ব্যাস 10 সে.মি. এবং উচ্চতা 12 সে.মি. হলে, কোণকটির তীর্যক উচ্চতার দৈর্ঘ্য কত?
  1. 6 সে.মি.
  2. 15 সে.মি.
  3. 13 সে.মি.
  4. 15.62 সে.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি কোণকের ভূমির ব্যাস 10 সে.মি. এবং উচ্চতা 12 সে.মি. হলে, কোণকটির তীর্যক উচ্চতার দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ব্যাসার্ধ, r = 10/2= 5 সে.মি.
উচ্চতা, h = 12 সে.মি.

আমরা জানি,
কোণকের তীর্যক উচ্চতা, L = √(h2 + r2) সে.মি.
= √(122 + 52) সে.মি.
= √(144 + 25) সে.মি.
= √169 সে.মি.
= 13 সে.মি.

৬৭.
কোন ত্রিভুজের শীর্ষবিন্দু হতে ভূমির উপর অঙ্কিত লম্বের দৈর্ঘ্য 20 সে.মি. এবং ত্রিভুজাকৃতি ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল 150 বর্গ সে.মি. হলে, ত্রিভুজটির ভূমির দৈর্ঘ্য কত সে.মি?
  1. 25 সে.মি.
  2. 15 সে.মি.
  3. 36 সে.মি.
  4. 10 সে.মি.
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন ত্রিভুজের শীর্ষবিন্দু হতে ভূমির উপর অঙ্কিত লম্বের দৈর্ঘ্য 20 সে.মি. এবং ত্রিভুজাকৃতি ক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল 150 বর্গ সে.মি. হলে, ত্রিভুজটির ভূমির দৈর্ঘ্য কত সে.মি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ক্ষেত্রফল = 150 বর্গ সেমি
লম্ব = 20 সে.মি.

আমরা জানি,
(1/2) × ভূমি × উচ্চতা = ক্ষেত্রফল
⇒ (1/2) × ভূমি × 20 = 150
⇒ ভূমি = (150 × 2)/20
∴ ভূমি = 15

∴ ভূমির দৈর্ঘ্য = 15 সে.মি.

৬৮.
3m2 - 6m + 8 = 0 সমীকরণের মূলদ্বয়ের প্রকৃতি নিচের কোনটি?
  1. অবাস্তব ও অসমান 
  2. অবাস্তব ও সমান 
  3. বাস্তব ও অসমান 
  4. বাস্তব ও সমান 
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 3m2 - 6m + 8 = 0 সমীকরণের মূলদ্বয়ের প্রকৃতি নিচের কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
3m2 - 6m + 8 = 0

∴ নিশ্চায়ক = b2 - 4ac
= (- 6)2 - 4 × 3 × 8
= 36 - 96
= - 60 < 0
যেহেতু, b2 - 4ac < 0 হলে মূলদ্বয় অবাস্তব ও অসমান।

দ্বিঘাত সমীকরণের মূলের প্রকৃতি:
1. যদি b2 - 4ac < 0 হয় তবে দ্বিঘাত সমীকরণের মূলদ্বয় অবাস্তব ও অসমান হবে।
2. যদি b2 - 4ac = 0 হয় তবে দ্বিঘাত সমীকরণের মূলদ্বয় বাস্তব ও সমান হবে।
3. যদি b2 - 4ac > 0 হয় তবে দ্বিঘাত সমীকরণের মূলদ্বয় বাস্তব ও অসমান হবে।
4. যদি b2 - 4ac পূর্ণবর্গ সংখ্যা হয় তবে দ্বিঘাত সমীকরণের মূলদ্বয় মূলদ ও অসমান হবে।

৬৯.

  1. 2
  2. 3
  3. 3/2
  4. 9
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন:

সমাধান:
ধারাটির ১ম পদ, a = 2
সাধারণ অনুপাত, r = (2/3)/2 = 1/3

∴ ধারাটির অসীমতক সমষ্টি, S = a/(1 - r)
= 2/{1 - (1/3)}
= 2/{(3 - 1)/3}
= 2/(2/3)
= 2 × (3/2)
= 3

৭০.
p4 + 6p2 - 7 এর উৎপাদকে বিশ্লেষণ নিচের কোনটি?
  1. (p2 + 7)(p + 1)(p  - 1)
  2. (p2 - 7)(p + 1)(p  - 1)
  3. (p2 + 3)(p + 1)(p  - 1)
  4. (p2 + 7)(p + 2)(p  - 2)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: p4 + 6p2 - 7 এর উৎপাদকে বিশ্লেষণ নিচের কোনটি? 

সমাধান:
p4 + 6p2 - 7
= (p2)2 + 2.p2.3 + 32 - 9 - 7
= (p2 + 3)2 - 42
= (p2 + 3 + 4)(p2 + 3 - 4)
= (p2 + 7)(p2 - 1)
= (p2 + 7) (p2 - 12)
= (p2 + 7)(p + 1)(p  - 1)

৭১.
একটি কোণ তার পূরক কোণ অপেক্ষা ২৮° বেশি হলে, কোণটির মান কত?
  1. ১০৪°
  2. ৫৯°
  3. ৬২°
  4. ৪৯°
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি কোণ তার পূরক কোণ অপেক্ষা ২৮° বেশি হলে, কোণটির মান কত?

সমাধান:

ধরি, কোণটির মান = ক
∴ ক এর পূরক কোণ = ৯০° - ক

শর্তমতে,
ক - ২৮° = ৯০° - ক
⇒ ক + ক = ৯০° + ২৮°
⇒ ২ক = ১১৮°
⇒ ক = ১১৮°/২
∴ ক = ৫৯°

∴ নি‍‍‍‍র্ণেয় কোণ ৫৯°

৭২.
একটি আয়তাকার খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ১৮ মিটার। মাঠটির চারপাশে বেড়া দিতে প্রতি মিটারে ১০৫ টাকা খরচ হলে, পুরো মাঠটি বেড়া দিতে মোট কত টাকা খরচ হবে?
  1. ৯০২০ টাকা
  2. ১০৩০ টাকা
  3. ৯০৬০ টাকা
  4. ৯০৩০ টাকা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি আয়তাকার খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার এবং প্রস্থ ১৮ মিটার। মাঠটির চারপাশে বেড়া দিতে প্রতি মিটারে ১০৫ টাকা খরচ হলে, পুরো মাঠটি বেড়া দিতে মোট কত টাকা খরচ হবে?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
আয়তাকার মাঠের দৈর্ঘ্য ২৫ মিটার
আয়তাকার মাঠের প্রস্থ ১৮ মিটার

আয়তাকার মাঠের পরিসীমা = ২ × (২৫ + ১৮) মিটার
= (২ × ৪৩) মিটার
= ৮৬ মিটার

১ মিটারে খরচ হয় ১০৫ টাকা
∴ ৮৬ মিটারে খরচ হয় (৮৬ × ১০৫) টাকা
= ৯০৩০ টাকা

৭৩.
একটি বক্সে 5 টি সবুজ, 12 টি লাল এবং 13 টি কালো মার্বেল আছে। বক্স থেকে দৈবভাবে একটি মার্বেল নেওয়া হলে মার্বেলটি সবুজ না হওয়ার সম্ভাবনা কত?
  1. 2/3
  2. 5/6
  3. 4/5
  4. 7/10
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বক্সে 5 টি সবুজ, 12 টি লাল এবং 13 টি কালো মার্বেল আছে। বক্স থেকে দৈবভাবে একটি মার্বেল নেওয়া হলে মার্বেলটি সবুজ না হওয়ার সম্ভাবনা কত?

সমাধান:
মোট মার্বেল আছে = (5 + 12 + 13) টি = 30 টি
সবুজ মার্বেল আছে = 5 টি

মার্বেলটি সবুজ হওয়ার সম্ভাবনা = 5/30
= 1/6

∴ মার্বেলটি সবুজ না হওয়ার সম্ভাবনা = 1 - (1/6)
= 5/6

৭৪.
বরফ পানিতে ভাসে কেন?
  1. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে কম
  2. বরফের ঘনত্ব পানির চেয়ে বেশি
  3. বরফের দ্রবণীয়তা পানির চেয়ে কম
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

◉ বরফ হলো পানির কঠিন রূপ। পানি বরফে পরিণত হলে তার অণুগুলো স্ফটিক আকারে সাজানো হয়, ফলে ফাঁকা জায়গা (empty spaces) তৈরি হয়। এই কারণে বরফের ঘনত্ব (Density ≈ 0.917 g/cm3) পানির ঘনত্বের (Density ≈ 1 g/cm3) চেয়ে কম হয়। কম ঘনত্বের কারণে বরফ পানির উপরে ভেসে থাকে।

ঘনত্ব: 
- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়। 
- তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 

৭৫.
অ্যান্টিবায়োটিক কেন ভাইরাসজনিত রোগ নিরাময়ে কার্যকর নয়?
  1. অ্যান্টিবায়োটিক যথেষ্ট শক্তিশালী নয়
  2. ভাইরাসের নিজস্ব কোষীয় গঠন নেই
  3. ভাইরাস আকারে খুব ছোট বলে
  4. ভাইরাস দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা

অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর, প্রোটিন উৎপাদন বা বিপাক প্রক্রিয়া ধ্বংস করে। ভাইরাসের কোনো কোষপ্রাচীর বা নিজস্ব বিপাক প্রক্রিয়া নেই। বরং তারা জীবিত প্রাণীর কোষে প্রবেশ করে সেই কোষের উপাদান ব্যবহার করে নিজেদের সংখ্যা বাড়ায়। ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতা ভাইরাসে দেখা যায় না, কারণ টার্গেট করার মতো কোনো গঠন ভাইরাসের নেই।

ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

উৎস:
১। World Health Organization (WHO) ওয়েবসাইট। 
২। উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭৬.
কোন ধরনের পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা ধাতব পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি থাকে?
  1. রাবার
  2. কাচ
  3. রূপা
  4. জার্মেনিয়াম
ব্যাখ্যা

◉ অর্ধপরিবাহী (Semiconductors) যেমন সিলিকন, জার্মেনিয়াম—এদের পরিবাহিতা পরিবাহী ও অপরিবাহীর মাঝামাঝি।

পরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান সহজে প্রবাহিত হতে পারে সে সব পদার্থকে পরিবাহী বলে। 
যেমন- রূপা, তামা, লোহা ইত্যাদি। 
- মূলতঃ সকল ধাতব পদার্থই পরিবাহী। 
- পরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধানগুলো কোনো জায়গায় আবদ্ধ না থেকে সমস্ত পরিবাহীতে ছড়িয়ে পরে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো পরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে সহজেই আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয়ে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে। 
- পরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে না বললেই চলে। 
- পরিবাহী পদার্থকে তাপ প্রয়োগ করলে তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধপরিবাহী: 
- কিছু কিছু পদার্থ আছে (যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি) যাদের তড়িৎ পরিবহন ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি। 
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে। 
- পরিবাহী এবং অর্ধ পরিবাহীর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় আর অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়। 

অপরিবাহী: 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে আধান প্রবাহিত হতে পারে না সে সব পদার্থকে অপরিবাহী বলে। 
যেমন- কাচ, কাঠ, প্লাস্টিক, রাবার ইত্যাদি। 
- মূলতঃ প্রায় সকল অধাতব পদার্থই অপরিবাহী। 
- অপরিবাহী পদার্থে আধান প্রদান করলে আধান কোথাও সঞ্চালিত না হয়ে অপরিবাহী পদার্থের যে স্থানে আধান প্রদান করা হয় সে স্থানেই আবদ্ধ থাকে। 
- তাই দুটি আহিত বস্তুকে কোনো অপরিবাহী দিয়ে যুক্ত করলে আধান এক বস্তু থেকে অপর বস্তুতে সঞ্চালিত হয় না, ফলে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে না। 
- অপরিবাহী তড়িৎ প্রবাহে বাধা দান করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭.
সোলার প্যানেলে ব্যবহৃত ফটোভোল্টাইক এফেক্টের আবিষ্কারক কে?
  1. আইনস্টাইন
  2. বেকেরেল
  3. টেসলা
  4. এডিসন
ব্যাখ্যা

◉ ফটোভোল্টাইক এফেক্ট (Photovoltaic Effect) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে আলোর প্রভাবে কোনো পদার্থে বিদ্যুৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ফরাসি পদার্থবিদ Alexandre Edmond Becquerel ১৮৩৯ সালে প্রথম এই প্রক্রিয়াটি আবিষ্কার করেন।
- পরে আলবার্ট আইনস্টাইন ১৯০৫ সালে এর তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেন এবং এজন্য তিনি ১৯২১ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান (photoelectric effect নিয়ে কাজের জন্য)।

ফটোভোল্টাইক এফেক্ট ও সোলার প্যানেল: 
- ফটোভোল্টাইক এফেক্ট হলো এমন প্রক্রিয়া, যেখানে আলোর শক্তি সেমিকন্ডাক্টর পদার্থে পড়ে ইলেকট্রন মুক্ত করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে।
- এই প্রভাব ব্যবহার করে তৈরি যন্ত্রকেই সোলার সেল বলে।
- সোলার সেলগুলো একত্রে সাজিয়ে সোলার প্যানেল তৈরি করা হয়, যা সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- এগুলো বাড়ি, শিল্প, মহাকাশযান ও বিভিন্ন ডিভাইসে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও EBSCO ওয়েবসাইট। 

৭৮.
ছত্রাকের (Fungi) কোষপ্রাচীর প্রধানত কোন উপাদান দিয়ে তৈরি?
  1. Lipid
  2. Cellulose
  3. Chitin
  4. Protein
ব্যাখ্যা

◉ ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের মতো সেলুলোজ দিয়ে নয়, বরং কাইটিন (Chitin) নামক শক্ত ও স্থিতিস্থাপক উপাদান দ্বারা গঠিত।

ছত্রাক: 
- ফানজাই (Fungi) এর বাংলা হলো ছত্রাক। 
- ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ সমাঙ্গদেহী উদ্ভিদগুলোই ছত্রাক নামে পরিচিত। 
- ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে মাইকোলজি বলা হয়। 
- আর্দ্রতা, উষ্ণতা, খাদ্যসমৃদ্ধ ছায়াযুক্ত বা অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশেই ছত্রাকের উপযুক্ত বাসস্থান। 
যথা- Penicillium, Agaricus, Mucor, Puccinia, Candida, Botrytis, Arcyria, Saprolegnia ইত্যাদি ছত্রাকের উদাহরণ। 
- ছত্রাকের অঙ্গজদেহ লম্বা সুতার ন্যায় নালিকা বা হাইফি (Hypae) দিয়ে গঠিত। হাইফিকে একবচনে হাইফা (Hypa) বলা হয়। 
- এসব হাইফিগুলো প্রচুর শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট হয়ে একত্রে অবস্থান করে একটি জটের সৃষ্টি করে। একে মাইসেলিয়াম বলা হয়। মাইসেলিয়ামকে বহুবচনে মাইসেলিয়া বলে। 

ছত্রাকের বৈশিষ্ট্য: 
১। ছত্রাক অপুষ্পক উদ্ভিদ। 
২। এরা ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ এবং সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। 
৩। এরা মৃতজীবী, পরজীবী বা মিথোজীবী হিসেবে বাস করে। 
৪। এদের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও বিভিন্ন অঙ্গাণু থাকে। 
৫। ছত্রাকের কোষ প্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। 
৬। ছত্রাকের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন বা চর্বি। 
৭। এদের পরিবহনতন্ত্র বা ভাস্কুলার টিস্যু থাকে না। 
৮। এদের জননাঙ্গ এককোষী। 
৯। স্ত্রীজননাঙ্গে থাকা অবস্থায় জাইগোট বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয় না। 
১০। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবিস্তার হয়। 
১১। জাইগোটে মায়োসিস ঘটে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯.
মানুষের শিশু বয়সে যে দুধদাঁত বা অস্থায়ী দাঁত ওঠে, তার মোট সংখ্যা কত?
  1. ১২টি
  2. ১৬টি
  3. ১৮টি
  4. ২০টি 
ব্যাখ্যা

দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮০.
নিচের কোন অঙ্গাণুটি (organelle) ঝিল্লি বা পর্দা দ্বারা আবৃত নয়?
  1. রাইবোসোম
  2. ক্লোরোপ্লাস্ট
  3. মাইটোকন্ড্রিয়া
  4. পারঅক্সিসোম
ব্যাখ্যা

রাইবোসোম হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্র, যা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত ছোট দানাদার কাঠামো। এগুলোর কোনো ঝিল্লি থাকে না।

রাইবোসোম: 
- সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বিরাজমান অথবা অন্তঃপ্লাজমীয় জালিকার গায়ে অবস্থিত যে দানাদার কণায় প্রোটিন সংশ্লেষণ ঘটে তাই রাইবোসোম। 
- রাইবোসোম অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং প্রায় গোলাকার। 
- রাইবোসোমের কোনো আবরণী নেই। 
- সাইটোপ্লাজমে একাধিক রাইবোসোম মুক্তোর মালার মতো অবস্থান করলে তাকে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম বলে। 
- আদিকোষ ও প্রকৃতকোষ-এই উভয় প্রকার কোষেই রাইবোসোম উপস্থিত থাকার কারণে রাইবোসোমকে সর্বজনীন অঙ্গাণু বলা হয়। 
 
• ক্লোরোপ্লাস্ট:  
- সবুজ বর্ণের প্লাস্টিডকে বলা হয় ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- ক্লোরোফিল-a, ক্লোরোফিল-b, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের সমন্বয়ে ক্লোরোপ্লাস্ট গঠিত। 
- ক্লোরোফিল নামক সবুজ বর্ণকণিকা (pigment) অধিক মাত্রায় ধারণ করে বলে এরা সবুজ বর্ণের। 
- এতে অন্যান্য বর্ণকণিকাও কিছু কিছু পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। 
- ১৮৮৩ সালে বিজ্ঞনী শিম্পার সর্বপ্রথম উদ্ভিদ কোষে সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড লক্ষ্য করেন এবং নামকরণ করেন ক্লোরোপ্লাস্ট। 
- সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তরবিশিষ্ট আংশিক অনুপ্রবেশ্য (semipermeable) মেমব্রেন (ঝিল্লি) দ্বারা আবৃত থাকে। 

• মাইটোকন্ড্রিয়া: 
- প্রকৃত জীবকোষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হলো মাইটোকন্ড্রিয়া।
- কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের 'পাওয়ার হাউস' বা শক্তিঘর বলা হয়।
- এ অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ফ্যাটি অ্যাসিড চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট প্রক্রিয়া প্রভৃতি ঘটে থাকে।
- দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী ঝিল্লি দ্বারা সীমিত সাইটোপ্লাজমন্ত্র যে অঙ্গাণুতে ক্রেবস্ চক্র, ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি ঘটে থাকে এবং শক্তি উৎপন্ন হয় সেই অঙ্গাণুকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে। 
- মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের শ্বসন অঙ্গানু। 

• পারঅক্সিসোম: 
- পারঅক্সিসোম প্রায় সব ধরনের কোষে দেখা গেলেও প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
- অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের আউটপকেটিং-এর মাধ্যমে এরা তৈরি হয়। 
- এরা এক আবরণী বিশিষ্ট, ব্যাস ০.২-১৭ µm, এবং এরা দানাদার। 
- এর ভেতরে ক্রিস্টাল বা দানার আকারে সঞ্চয়ী এনজাইম জমা থাকে। 
- এর মধ্যে catalase প্রধান এনজাইম, এদেরকে মাইক্রোসোম (microsome) নামেও অভিহিত করা হয়। 
- ১৯৬৭ সালে বেলজিয়াম সাইটোলজিস্ট Christian de Duve কোষের সাইটোপ্লাজম থেকে পারঅক্সিসোম অঙ্গাণুটি আবিষ্কার করেন। 
- পারঅক্সিসোম প্রাণীর কিডনি ও লিভার কোষে অধিক থাকে। 
 
উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১.
ক্যান্সারের চিকিৎসায় যে গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়, তা মূলত কোন উৎস থেকে পাওয়া যায়?
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

◉ ক্যান্সার চিকিৎসায় সাধারণত কোবাল্ট-৬০ (Cobalt-60) অথবা রেডিয়াম-২২৬ (Radium-226) এর মতো রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ থেকে উৎপন্ন গামা রশ্মি ব্যবহার করা হয়।

আইসোটোপ এবং এর ব্যবহার:
- আইসোটোপগুলো হলো একটি নির্দিষ্ট মৌলের রূপভেদ।
- বিভিন্ন ভরসংখ্যা বিশিষ্ট একই মৌলের পরমাণুকে ঐ মৌলের আইসোটোপ বলে।
- অর্থাৎ কোনো মৌলের আইসোটোপ সমূহে প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রোনের সংখ্যা বিভিন্ন হয়। 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে ‘পরমাণু চিকিৎসায়' তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ প্ৰধানত রোগ নির্ণয়ের এবং রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। 
- রোগীর শরীরে কোনো স্থানে বা অঙ্গে ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমারের উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের সাহায্যে শনাক্ত করা যায়।
- কোবাল্ট-60 (60Co) আইসোটোপ থেকে নির্গত শক্তিশালী গামা রশ্মি ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
- কোবাল্ট- 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মির সাহায্যে অপারেশনের যন্ত্রপতি রোগ জীবাণুমুক্ত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮২.
ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হতে সমুদ্রপৃষ্ঠের ন্যূনতম তাপমাত্রা কত হতে হয়?
  1. ২০° সেলসিয়াস
  2. ২৬.৫° সেলসিয়াস
  3. ৩০° সেলসিয়াস
  4. ৩৫° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

◉ ট্রপিক্যাল সাইক্লোন গঠনের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের জলকে অন্তত ২৬.৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি উষ্ণ হতে হয়।

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ:
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে এবং আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকায়।
- এই দুর্যোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো উচ্চ তাপমাত্রা ও নিম্নচাপ।
- সাধারণত এই তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং ঝড়ের সময় বাযুপ্রবাহের গতিবেগ ৬৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি হয়।
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এইরূপ তাপমাত্রা বিদ্যমান।
- এছাড়াও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩.
গামা রশ্মি -
  1. আধানহীন
  2. ধনাত্মক চার্জযুক্ত 
  3. ঋণাত্মক চার্জযুক্ত
  4. চার্জ পরিবর্তনশীল 
ব্যাখ্যা

◉ গামা রশ্মি (γ-rays) হলো এক ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ (Electromagnetic Radiation), যা দৃশ্যমান আলোর মতোই প্রকৃতিতে কিন্তু অনেক বেশি শক্তিশালী। এটি কোনো কণা নয়, বরং উচ্চ-শক্তির ফোটন (Photon) দিয়ে গঠিত। যেহেতু ফোটনের ভর নেই এবং কোনো বৈদ্যুতিক আধানও নেই, তাই গামা রশ্মি আধানহীন।

গামা রশ্মি (Gamma Ray): 
- গামা রশ্মি আসলে শক্তিশালী বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ। 
- গামা রশ্মির কোনো চার্জ নেই (আধানহীন), কিন্তু শক্তিশালী হওয়ার কারণে এর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য খুব কম (কম্পন অনেক বেশি)। 
- শক্তি বেশি বা কম হলেও এর বেগ সব সময়েই আলোর বেগের সমান। 
- যখন কোনো নিউক্লিয়াস আলফা কণা কিংবা বিটা কণা বিকিরণ করে 'উত্তেজিত' অবস্থায় থাকে তখন বাড়তি শক্তি গামা রশ্মি হিসেবে বের করে এটি নিরুত্তেজ হয়। 
- গামা রশ্মি চার্জহীন এবং ভরহীন, তাই এর বিকিরণে নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা কিংবা নিউক্লিওন সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- গামা রশ্মির যেহেতু চার্জ নেই তাই এটাকে বিদ্যুৎ কিংবা চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্রভাবিত করা যায় না। 
- চার্জ না থাকলেও এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় অণু-পরমাণুকে আয়নিত করতে পারে এবং সেখান থেকে গামা রশ্মির অস্তিত্বও বোঝা যায়। 
- গামা রশ্মিকে থামাতে সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার সিসার পুরু পাতের দরকার হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪.
Platelet বা অণুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. যকৃত
  2. প্লাজমায়
  3. হৃদপিণ্ড
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

◉ অণুচক্রিকা (Platelet) হলো রক্তের একটি ক্ষুদ্রকণিকা, যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে (Blood clotting) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অস্থিমজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হয়।

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫.
গ্যালভানাইজিং (Galvanizing) বলতে কী বোঝায়?
  1. লোহার উপর রুপার প্রলেপ দেওয়া
  2. লোহাকে তাপে গলিয়ে শক্তিশালী করা
  3. লোহাকে দস্তার প্রলেপ দেওয়া
  4. লোহাকে তাপে গলিয়ে বিশুদ্ধ করা
ব্যাখ্যা

Galvanizing হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে লোহা বা ইস্পাতের উপর দস্তার (Zinc) আবরণ দেওয়া হয়। এই দস্তার স্তর বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শে এসে zinc oxide গঠন করে, যা লোহার উপর প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। এর ফলে লোহা সহজে মরিচা ধরে না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

পেইন্টিং: 
- পেইন্টিং বা রং করেও ধাতব পদার্থসমূহের ক্ষয় রোধ করা যায়। 
- বাসার রেফ্রিজারেটর, আলমারি, গাড়ি, স্টিলের আসবাবপত্র এসবেরই ক্ষয় রোধ করা জন্য পেইন্ট দিয়ে রং করা হয়। 
- এই পেইন্ট সময়ের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব আবার পেইন্টিং করে নেওয়া ভালো। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- এই প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

৮৬.
ENIAC-কে কীভাবে প্রোগ্রাম করা হয়েছিল?
  1. কেবল পাঞ্চ কার্ড দিয়ে
  2. আধুনিক কম্পিউটারের মতো সঞ্চিত প্রোগ্রাম ব্যবহার করে
  3. ম্যানুয়ালি তার বদলানো ও সুইচ ঘোরানোর মাধ্যমে
  4. ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

• ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Computer) প্রোগ্রাম করার পদ্ধতি আধুনিক কম্পিউটারের মতো ছিল না। এটি মূলত একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যেখানে প্রোগ্রাম চালানোর জন্য সরাসরি যন্ত্রটির সার্কিট পরিবর্তন করতে হতো। অর্থাৎ, প্রতিটি গণনার জন্য তার অবস্থান, রাউটিং এবং লজিকাল অপারেশন ম্যানুয়ালি সুইচ ও তার বদলানোর মাধ্যমে সেট করা হতো। পাঞ্চ কার্ড বা ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করা হতো না। এটি সঞ্চিত প্রোগ্রামের ধারণা অনুসরণ করত না, বরং প্রতিটি নতুন কাজের জন্য তার ভেতরের তার, রিলে ও সুইচ পুনরায় সংযোগ করতে হতো। তাই ENIAC-কে প্রোগ্রাম করা হতো ম্যানুয়ালি তার বদলানো ও সুইচ ঘোরানোর মাধ্যমে।

• ENIAC:
- ENIAC-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic Numerical Integrator And Computer
- ১৯৪৬ সালে ড. জন মউসলি এবং তার ছাত্র প্রেসপার একার্ট যৌথভাবে ENIAC (Electronic Numerical Integrator And Calculator) নামক কম্পিউটারটি তৈরি করেছিলেন।
- ENIAC ছিল প্রথম প্রজন্মের ডিজিটাল কম্পিউটার।
- ENIAC কম্পিউটারের প্রোগ্রামের জন্য তারযুক্ত প্লাগবোর্ড ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭.
ট্রানজিস্টর-ভিত্তিক কম্পিউটার কোন প্রজন্মের তুলনায় দ্রুততর, ছোট এবং আরও নির্ভরযোগ্য ছিল?
  1. 1G
  2. 2G
  3. 3G
  4. 4G
ব্যাখ্যা

• ট্রানজিস্টর-ভিত্তিক কম্পিউটার প্রথম প্রজন্মের (1G) কম্পিউটারের তুলনায় দ্রুততর, ছোট এবং আরও নির্ভরযোগ্য ছিল। প্রথম প্রজন্মের (1G) কম্পিউটারগুলি ভ্যাকুম টিউব ব্যবহার করত, যা বড়, বেশি শক্তি খরচকারী এবং অতি তাপ উৎপাদনকারী ছিল। ট্রানজিস্টর ব্যবহারের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো ছোট আকারের, কম শক্তি খরচকারী এবং কম ত্রুটিপূর্ণ হয়ে উন্নত হয়। ট্রানজিস্টর কম্পিউটারকে দ্রুতগতির গণনা, আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব প্রদান করেছিল। ফলে, এটি প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারগুলোর তুলনায় অনেক বেশি কার্যক্ষম এবং ব্যবহারবান্ধব হয়ে ওঠে।

উত্তর: ক) 1G.

• প্রথম প্রজন্ম কম্পিউটার:
- ১৯৪২ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সময়কালকে কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম বলে ধরা হয়।
- এ প্রজন্মের কম্পিউটারের সার্কিটে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হতো।
- অসংখ্য ডায়োড, ট্রায়োড, ভালভ, রেজিস্টার, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি দিয়ে তৈরি হতো বলে প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার ছিল আকৃতিতে বড় এবং স্বল্প গতিসম্পন্ন।
- আকৃতিতে বড় থাকার কারণে সহজে বহনযোগ্য ছিল না।
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে পাঞ্চ কার্ডের মাধ্যমে ইনপুট দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। 
- এ প্রজন্মের কম্পিউটারে প্রোগ্রামের জন্য মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ভাষা ব্যবহার করা হতো।
- UNIVAC, ENIAC, EDSAC, IBM 650, IBM 704, Mark I, Mark IV ইত্যাদি প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারের উদাহরণ। 

• দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯-১৯৬৫):
- ট্রানজিস্টার ব্যবহার।
- আকার ছোট ও হালকা।
- দ্রুত গতি।
- কম উত্তাপ।
- চুম্বকীয় কোর মেমোরি ব্যবহৃত।
- অ্যাসেম্বলি ভাষার প্রচলন।
- যেমন: IBM 1600, CDC 1604, NCR 300 সিরিজ।

উৎস: কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৮.
কোন ফন্টটি MICR-এ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. Times New Roman
  2. Arial
  3. OCR-A
  4. E-13B
ব্যাখ্যা

• MICR (Magnetic Ink Character Recognition) প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফন্ট হলো E-13B। এই ফন্টটি বিশেষভাবে ব্যাংকিং চেক এবং অন্যান্য আর্থিক নথিতে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। E-13B ফন্টের অক্ষরগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তা চৌম্বকীয় কালি দিয়ে প্রিন্ট করলে ম্যাশিন সহজে পড়তে পারে। অন্য ফন্ট যেমন Times New Roman, Arial বা OCR-A সাধারণ লেখার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু সেগুলো চেক বা ব্যাংকিং ডকুমেন্টের ম্যাশিন-পঠনযোগ্যতার জন্য যথেষ্ট নির্ভুল নয়। E-13B ফন্টের সংখ্যা ও প্রতীকগুলো আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নির্ধারিত, যা ব্যাংকিং সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণকে সহজ ও দ্রুত করে। সুতরাং, MICR-এ প্রধান ফন্ট হিসেবে E-13B ব্যবহার করা হয়।

• MICR:
- MICR হলো Magnetic Ink Character Recognition.
- চৌম্বক কালি বা ফেরোসোফেরিক অক্সাইডযুক্ত কালীর সাহায্যে MICR লেখা হয়।
- এই কালিতে লেখা কাগজ শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রে রাখলে কালির ফেরোসোফেরিক অক্সাইড চুম্বকে পরিণত হয়।
- ব্যাংকের চেক বইয়ে MICR টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়।
- MICR চেক ব্যাংক লেনদেনের জন্য নিরাপদ এবং সময় সাশ্রয়ী।
- মূলত MICR চেক ব্যাংক আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম একটি অংশ।

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
- IBM [link]

৮৯.
কোন ধরনের ম্যালওয়্যার নিজে নিজে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং হোস্ট ফাইলের সাথে যুক্ত না হয়েও নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পরতে পারে?
  1. Trojan
  2. Adware
  3. Worm
  4. Rootkit
ব্যাখ্যা

• সযে ধরনের ম্যালওয়্যার নিজে নিজে প্রতিলিপি তৈরি করতে পারে এবং হোস্ট ফাইলের সাথে যুক্ত না হয়েও নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম, সেটি হলো Worm। Worm হলো এক ধরনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া ক্ষতিকারক সফটওয়্যার, যা কোনো প্রোগ্রাম বা ফাইলের সাথে যুক্ত না থেকেও কম্পিউটার নেটওয়ার্কের দুর্বলতা ব্যবহার করে এক সিস্টেম থেকে আরেক সিস্টেমে ছড়ায়। ভাইরাসের মতো এটিকে সক্রিয় করতে ম্যানুয়াল পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। Worm সাধারণত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক বৃদ্ধি করে, সিস্টেমের পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয় এবং ডেটা চুরি বা ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) Worm.

• ম্যালওয়্যার (malware): 
- ম্যালওয়্যার হলো ইংরেজি Malicious Software এর সংক্ষিপ্ত রূপ। 
- ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মোবাইল, কম্পিউটার, সার্ভার, ওয়েবসাইট অথবা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ক্ষতি করার জন্য ডিজাইন ও উন্নয়ন করা হয়েছে এমন সফ্টওয়‍্যারকে ম্যালওয়্যার বলে।
- এই সফটওয়্যার মোবাইল, কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহারকারী স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। 
- যদি কোনো সফ্টওয়্যার তার অক্ষমতার কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে কম্পিউটার সিস্টেমে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে সেক্ষেত্রে তাকে ম্যালওয়্যার বলা চলে না; একে সফটওয়্যার বাগ (bug) বলা হয়। 
- ম্যালওয়্যার এমন এক জাতীয় ক্ষতিকর সফ্টওয়্যার যা কম্পিউটার, মোবাইল বা অন্য কোনো ডিজিটাল সিস্টেমের স্বাভাবিক কাজকে ব্যাহত করতে, গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে, কোনো সংরক্ষিত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে বা অবাঞ্ছিত বিজ্ঞাপন দেখাতে ব্যবহার করা হয়। 

• ম্যালওয়্যার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যথা- 
- কম্পিউটার ভাইরাস (computer viruses), 
- ওয়ার্ম (worms), 
- ট্রোজান হর্স (trojan horses), 
- স্পাইওয়‍্যার (spyware), 
- র‍্যানসামওয়‍্যার (ransomware), 
- অ্যাডওয়্যার (adware), 
- রুটকিটস্ (rootkits) ইত্যাদি।

উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
- geeksforgeeks [link]

৯০.
JSON-এর প্রধান ব্যবহার:
  1. ওয়েব পেজ ডিজাইন করার জন্য
  2. অ্যানিমেশন বানানোর জন্য
  3. ডেটা আদানপ্রদানের জন্য কাঠামো তৈরি করা
  4. ডেটাবেসের প্রশ্ন প্রক্রিয়াকরণ
ব্যাখ্যা

• JSON (JavaScript Object Notation) মূলত একটি হালকা ও সহজ ফরম্যাট যা ডেটা সংরক্ষণ এবং আদানপ্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। ওয়েব পেজ ডিজাইন বা অ্যানিমেশন তৈরি করার জন্য এটি সরাসরি ব্যবহার করা হয় না। বরং, JSON ডেটাকে কাঠামোবদ্ধভাবে উপস্থাপন করে, যাতে বিভিন্ন সিস্টেম বা সার্ভার ও ক্লায়েন্ট সহজে ডেটা পাঠাতে এবং গ্রহণ করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার থেকে ব্যবহারকারীর তথ্য JSON ফরম্যাটে পাঠাতে পারে এবং ব্রাউজার এটি গ্রহণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রদর্শন করে। এছাড়া, API এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলিতে JSON ডেটা বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। তাই JSON-এর প্রধান ব্যবহার হলো ডেটা আদানপ্রদানের জন্য কাঠামো তৈরি করা।

• JSON:
- JSON এর পূর্ণরূপ হলো JavaScript Object Notation.
- একটি হালকা ডেটা-ইন্টারচেঞ্জ ফরম্যাট। এটি মানুষের কাছে সহজে পাঠযোগ্য এবং লেখার উপযোগী, এবং কম্পিউটারের কাছে সহজে পার্স ও জেনারেট করার উপযোগী।
- এটি মূলত ডেটার কাঠামো বজায় রাখার জন্য একটি টেক্সট বেইজড ডেটা বিনিময় বিন্যাস।
- JSON হলো JSON-এ XML ডেটা এক্সচেঞ্জ ফরম্যাটের প্রতিস্থাপন।
- JSON একটি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনডিপেন্ডেন্ট ফরম্যাট যা জাভাস্ক্রিপ্ট থেকে উদ্ভূত।
- JSON-এর অফিসিয়াল মিডিয়া টাইপ হল application/json এবং .json এক্সটেনশনে ফাইল সংরক্ষণ করে।
- JSON প্রাথমিকভাবে 2000 এর দশকের গোড়ার দিকে ডগলাস ক্রকফোর্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৯১.
NFC মূলত কোন প্রযুক্তির অন্তর্গত?
  1. Infrared
  2. Bluetooth
  3. Wi-Fi
  4. RFID
ব্যাখ্যা

• NFC (Near Field Communication) মূলত RFID (Radio Frequency Identification) প্রযুক্তির অন্তর্গত। এটি একটি সংক্ষিপ্ত-দূরত্বের তারবিহীন যোগাযোগ পদ্ধতি, যা সাধারণত কয়েক সেন্টিমিটার দূরত্বে কাজ করে। NFC ব্যবহার করে ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে তথ্য বিনিময় করতে পারে, যেমন মোবাইল পেমেন্ট, টিকেট যাচাই বা ডেটা স্থানান্তর। RFID-এর মতোই NFC-তেও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, কিন্তু NFC-তে কম শক্তি ও ছোট পরিসরের জন্য এটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা। অন্য প্রযুক্তিগুলো যেমন Infrared, Bluetooth বা Wi-Fi তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে তথ্য পাঠাতে সক্ষম, কিন্তু NFC-এর মূল সুবিধা হলো দ্রুত ও নিরাপদ সংক্ষিপ্ত-দূরত্বের যোগাযোগ।

সঠিক উত্তর: ঘ) RFID.

• NFC: 
- NFC এর পূর্ণরুপ Near Field Communication.
- NFC হচ্ছে তারবিহীন যোগাযোগ প্রযুক্তির নাম।
- NFC হলো রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে খুব কাছাকাছি দূরত্বের দুইটি ডিভাইস বা বস্তুর পরস্পর নিজেদের মধ্যে তারবিহীন ডেটা যোগাযোগ করার এক সেট প্রটোকল।
- এটা ৪ সেন্টিমিটার সর্বোচ্চ ১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
- এই প্রটোকল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪২৪ কিলোবিট/সেকেন্ড গতিতে ডেটা বিনিময় করা যায়।
- ২০০৪ সালে সনি, নকিয়া ও ফিলিপস কর্তৃক সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল হচ্ছে NFC.
- এটি RFID (Radio Frequency Identification) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৩.৫৬ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ডাটা যোগাযোগ করে।

সূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ( একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি), প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৯২.
বাইনারি সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় পরিবর্তন করতে সাধারণত কয়টি বাইনারি ডিজিট একসাথে নেওয়া হয়?
  1. ৩টি
  2. ৮টি
  3. ১৬টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

• বাইনারি সংখ্যাকে অক্টাল সংখ্যায় রূপান্তর করার সময় সাধারণত ৩টি বাইনারি ডিজিট একসাথে নেওয়া হয়। কারণ একটি অক্টাল সংখ্যা ০ থেকে ৭ পর্যন্ত মান নিতে পারে, যা বাইনারিতে ৩টি বিট দ্বারা প্রকাশ করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, বাইনারি ০০০ মানে অক্টাল ০, ১১১ মানে অক্টাল ৭। তাই বড় কোনো বাইনারি সংখ্যাকে অক্টালে রূপান্তর করতে সেটি তিনটি করে বিট ভাগ করে অক্টাল মান বের করা হয়। এটি রূপান্তর প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং কোনো মান হারানোর ঝুঁকি কমায়। অতএব, সঠিক উত্তর হলো (ক) ৩টি।

• একটি অক্টাল সংখ্যাকে বাইনারিতে রূপান্তর করলে প্রতি অঙ্কের জন্য ৩টি বাইনারি বিট লাগে।
উদাহরণস্বরূপ:
অক্টাল 7 = বাইনারি 111
অক্টাল 5 = বাইনারি 101

সুতরাং, বাইনারি থেকে অক্টাল রূপান্তরের সময় প্রতি ৩টি বাইনারি বিট = ১টি অক্টাল ডিজিট। এজন্য ৩টি বাইনারি ডিজিট একসাথে গ্রুপ করা হয়।

বাইনারি থেকে অক্ট্যাল রূপান্তর: 
- একটি অক্ট্যাল সংখ্যা তিন বিট বাইনারি দ্বারা প্রকাশ করা যায়। 
- আমরা জানি, বাইনারি সংখ্যার ভিত্তি ২ এবং অক্ট্যাল সংখ্যার ভিত্তি ৮। 
- বাইনারি সংখ্যাকে অক্টালে রূপান্তর করতে সংখ্যাটির অংকগুলোকে তিন বিট বিশিষ্ট ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়। 
- এরপর প্রতিটি গ্রুপের সমতুল্য অক্ট্যাল মান বসালে তা বাইনারি থেকে অক্টালে রূপান্তরিত হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩.
SMTP-এর প্রধান কাজ হল:
  1. ইমেইল এনক্রিপ্ট করা
  2. ক্লায়েন্টে ইমেল স্টোর করা
  3. মেল সার্ভার থেকে ইমেল রিসিভ করা
  4. মেল সার্ভারে ইমেল পাঠানো
ব্যাখ্যা

• SMTP (Simple Mail Transfer Protocol) মূলত ইমেইল প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ইমেইল পাঠানোর প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারীর ক্লায়েন্ট থেকে মেল সার্ভারের মাধ্যমে গন্তব্য সার্ভারে ইমেইল পৌঁছে দেয়। SMTP ইমেইল স্টোর করার বা গ্রহণ করার জন্য ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি নিশ্চিত করে যে মেইলটি নিরাপদভাবে এবং সঠিক ঠিকানায় প্রেরণ করা হয়েছে। তাই ইমেইল এনক্রিপশন, ক্লায়েন্টে ইমেল সংরক্ষণ বা সার্ভার থেকে ইমেল রিসিভ করার কাজ SMTP করে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে, SMTP-এর প্রধান কাজ হলো মেল সার্ভারে ইমেইল পাঠানো, যা ইমেইল যোগাযোগের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• ইমেইল সংক্রান্ত প্রোটোকলসমূহ:
- ইমেইল সার্ভারে POP, IMAP এবং SMTP প্রোটোকল ব্যবহার করা হয়।

• SMTP:
- STMP এর পূর্ণরূপ হলো Simple Mail Transfer Protocol.
- যে সকল মেইল বাইরে পাঠানো হয় সেগুলো কেউ বহির্মুখী বা আউটগোয়িং মেইল বলা হয়।
- আউটগোয়িং মেইল পাঠানোর জন্য এই প্রটোকল ব্যবহার করা হয়।
- SMTP প্রোটোকল পোর্ট 25 এর মাধ্যমে সংযোগ করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৯৪.
একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে, ডাটাবেস সংরক্ষণের জন্য কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়?
  1. Client
  2. Server
  3. Router
  4. Switch
ব্যাখ্যা

• একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে ডাটাবেস সংরক্ষণের জন্য প্রধানত সার্ভার (Server) ব্যবহার করা হয়। সার্ভার হলো একটি শক্তিশালী কম্পিউটার বা ডিভাইস যা নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটার বা ক্লায়েন্টদের জন্য ডেটা, ফাইল, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যান্য সেবা সরবরাহ করে। ক্লায়েন্টরা সরাসরি ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে না, তারা শুধু সার্ভারের কাছে অনুরোধ পাঠায় এবং সার্ভার থেকে তথ্য গ্রহণ করে। রাউটার এবং সুইচ মূলত নেটওয়ার্কের মধ্যে তথ্য পরিবহন ও সংযোগের কাজ করে, কিন্তু ডাটাবেস সংরক্ষণের জন্য নয়। তাই, ডাটাবেস সংরক্ষণের জন্য সার্ভারই সবচেয়ে উপযুক্ত এবং ব্যবহৃত ডিভাইস।

উত্তর: খ) Server.

ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client Server Network) বা সার্ভার বেসড নেটওয়ার্ক: 
- ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে অন্তত একটি কম্পিউটারকে সার্ভার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।
- এই সার্ভারের সাথে একাধিক কম্পিউটারের সংযোগ দেওয়া হয়।
- এই সংযোগকৃত কম্পিউটারগুলোকে ওয়ার্কস্টেশন বা ক্লায়েন্ট বলে।
- সার্ভার ক্লায়েন্টকে সেবা প্রদান করে।
- বিভিন্ন ক্লায়েন্ট বা ওয়ার্কস্টেশন থেকে একই সঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী সার্ভারের রিসোর্স শেয়ার করতে পারে।
- অর্থাৎ একই সঙ্গে একাধিক ব্যবহারকারী সার্ভার থেকে ডেটা ফাইল, প্রিন্টার, বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবে।
- এই পদ্ধতির নেটওয়ার্কিং-এর জন্য সার্ভার কম্পিউটারে নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়।
- নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যারের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো উইন্ডোজ এনটি/২০০০ সার্ভার, ওএস/২ সার্ভার, ইউনিক্স বা লিনাক্স সার্ভার ইত্যাদি।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৯৫.
কোনটি ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ডিভাইসের উদাহরণ?
  1. ডেস্কটপ কম্পিউটার
  2. স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট
  3. ওয়্যার্ড প্রিন্টার
  4. সাধারণ ক্যালকুলেটর
ব্যাখ্যা

• ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) ডিভাইস হলো এমন যন্ত্র যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যান্য ডিভাইস বা সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। দেওয়া অপশন গুলোর মধ্যে, ডেস্কটপ কম্পিউটার, ওয়্যার্ড প্রিন্টার এবং সাধারণ ক্যালকুলেটর সাধারণত শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে কাজ করে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময় বা নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা রাখে না। অন্যদিকে, স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ব্যবহারকারীর পছন্দ অনুযায়ী শিডিউল তৈরি করা এবং মোবাইল অ্যাপ বা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে রিমোট কন্ট্রোলের সুবিধা দেয়। তাই স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট IoT ডিভাইসের সঠিক উদাহরণ।

ইন্টারনেট অফ থিংস (Internal of things - IoT):
- ইন্টারনেট অফ থিংস (IOT) হলো পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত এমন একটি সনাক্তকারী কম্পিউটিং ডিভাইস, যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মানুষের সাথে মানুষের বা মানুষের সাথে কম্পিউটারের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে সাহায্য করে।
- এটি ইন্টারনেটের সাথে শারীরিক ডিভাইস এবং দৈনন্দিন বস্তুকে সংযুক্ত করার ধারণাকে বোঝায়, তাদের ডেটা সংগ্রহ এবং বিনিময় করার অনুমতি দেয়।
- এই সংযুক্ত ডিভাইসগুলি স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট এবং রেফ্রিজারেটরের মতো গৃহস্থালীর যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে শিল্প মেশিন, পরিধানযোগ্য এবং যানবাহন পর্যন্ত হতে পারে।
- IoT-এর প্রাথমিক লক্ষ্য হল এই ডিভাইসগুলিকে একে অপরের সাথে এবং কেন্দ্রীভূত সিস্টেম বা ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম করা।

IoT এর উদাহরণ:
- স্মার্ট হোম ডিভাইস (যেমন স্মার্ট লাইট, স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট)।
- ওয়্যারেবল ডিভাইস (যেমন ফিটনেস ট্র্যাকার)।
- শিল্পক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি (Industrial IoT)।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৯৬.
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে তথ্যের মৌলিক ইউনিট কোনটি?
  1. Qubit
  2. Bit
  3. Byte
  4. Register
ব্যাখ্যা

• কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে তথ্যের মৌলিক ইউনিট হলো Qubit. সাধারণ কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য Bit ব্যবহার করা হয়, যা কেবল ০ বা ১ অবস্থায় থাকতে পারে। কিন্তু Qubit এক ধরনের কণা যা একই সময়ে ০ এবং ১ উভয় অবস্থায় থাকতে পারে, এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় superposition। এছাড়াও, Qubit গুলি একে অপরের সাথে সংযুক্ত হতে পারে entanglement এর মাধ্যমে, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে প্রচলিত কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী করে তোলে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম এবং জটিল সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর। তাই Qubit হলো কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মূল ভিত্তি।

সঠিক উত্তর: ক) Qubit.

• কোয়ান্টাম কম্পিউটার:
- এটি এমন একটি কম্পিউটার যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গুণাবলী (যেমন: সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট) ব্যবহার করে জটিল গণনা করে।
- প্রচলিত ডিজিটাল কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী হতে পারে।
- রিচার্ড ফেইনম্যান প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণা দেন।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কিউবিট (Quantum Bit), যা একসাথে 0 এবং 1 হতে পারে – একে বলে Superposition।
- একটি কিউবিট একই সাথে অনেকগুলো সম্ভাব্য অবস্থায় থাকতে পারে। এটি একাধিক গাণিতিক সমস্যার সমাধান একই সাথে করতে সাহায্য করে।
- ডেভিড ডয়চ (১৯৮৫): কোয়ান্টাম লজিক গেটের ধারণা দেন।
- পিটার শোর (১৯৯৪): কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেন যা বড় সংখ্যা অল্প সময়ে ভেঙে ফেলতে পারে।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ৩টি মূল পদ্ধতি:
- NMR (Nuclear Magnetic Resonance): নিউক্লিয়াস স্পিন ব্যবহার করে।
- Ion Trap: আয়নকে ট্র্যাপ করে এবং লেজার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- Quantum Dots: অতি ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী অঞ্চলে ইলেকট্রনের স্পিন ব্যবহৃত হয়।

• কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।

- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।

Shor's Algorithm:
- Shor's Algorithm কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি প্রধান অ্যালগরিদম যা বড় সংখ্যাকে দ্রুত গুণফলে বিভক্ত (factorization) করতে পারে।
- এটা বিন্যাসযোগ্য সংখ্যা গুণফল (large number factorization) বের করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর মাধ্যমে আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেম যেমন RSA সিকিউরিটি ভেঙে ফেলতে পারে।
- Shor’s Algorithm একটি কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যাগুলি অনেক দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম, যেখানে সাধারণ কম্পিউটারে এসব সমস্যা সমাধান করতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগতে পারে।

- Grover's algorithm - কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যালগরিদমের আরেকটি উদাহরণ।

উৎস:
1) ব্রিটানিকা।
2) geeksforgeeks [link]

৯৭.
A, B এর বোন। C, B এর মা। D, C এর বাবা। E, D এর মা। E, C এর  কী হয়?
  1. মা
  2. ফুফু
  3. দাদী
  4. খালা
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: A, B এর বোন। C, B এর মা। D, C এর বাবা। E, D এর মা। E, C এর  কী হয়?

সমাধান:
A, B এর বোন। ⇒ A একজন মেয়ে।
C, B এর মা।
∴ C, (A ও B এর মা)

E, D এর মা।
∴ E, C এর দাদী।

৯৮.
যদি চ × O  = 90 হয়, তবে ঠ × M = ?
  1. 156
  2. 112
  3. 152
  4. 120
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি চ × O  = 90 হয়, তবে ঠ × M = ?

সমাধান:


চ × O  = 6 × 15 = 90 
এবং ঠ × M = 12 × 13 = 156

৯৯.
What is the correct spelling?
  1. Flourescent
  2. Fluorescent
  3. Fluoroscent
  4. Fluroscent
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: What is the correct spelling?

সমাধান:
Fluorescent শব্দের অর্থ হলো -ফ্লুরোসেন্ট, আলো বিকিরণকারী বা জ্বলজ্বলে।
→ এটি এমন একধরনের পদার্থ বা আলোক-প্রক্রিয়া বোঝায়, যেখানে কোনো বস্তু আলোর (সাধারণত অতিবেগুনি আলো) প্রভাবে উজ্জ্বল আলো বিকিরণ করে।
যেমন,
Fluorescent lamp = ফ্লুরোসেন্ট বাতি (যা সাধারণত সাদা টিউব লাইট হয়)।
Fluorescent color = উজ্জ্বল/জ্বলজ্বলে রঙ।

সঠিক উত্তর: খ) Fluorescent

১০০.
একজন মালি সারি ও কলামে গাছ লাগিয়েছেন, যেখানে সারির সংখ্যা কলামের সংখ্যার চেয়ে চার বেশি। যদি মোট সারি ও কলামের সংখ্যা ৯৬ হয়, তবে মোট গাছের সংখ্যা কত?
  1. ২২৮০ টি
  2. ২৭২০ টি
  3. ১৮৫০ টি
  4. ২৩০০ টি
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একজন মালি সারি ও কলামে গাছ লাগিয়েছেন, যেখানে সারির সংখ্যা কলামের সংখ্যার চেয়ে চার বেশি। যদি মোট সারি ও কলামের সংখ্যা ৯৬ হয়, তবে মোট গাছের সংখ্যা কত?

সমাধান:
ধরি,
কলামের সংখ্যা = ক 
সারির সংখ্যা = ক + ৪

শর্তানুসারে,
ক + ক + ৪ = ৯৬
⇒ ২ক + ৪ = ৯৬ 
⇒ ২ক = ৯২ 
∴ ক = ৪৬ 

অতএব, কলামের সংখ্যা = ৪৬ 
অতএব, সারির সংখ্যা = ৪৬ + ৪ = ৫০ 
অতএব, গাছের মোট সংখ্যা = ৪৬ × ৫০ = ২৩০০

১০১.
Find the odd one out in the set:
{23, 37, 103, 17, 13, 111, 29, 31, 11, 107, 37}
  1. 37
  2. 111
  3. 107
  4. 103
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: Find the odd one out in the set:
{23, 37, 103, 17, 13, 111, 29, 31, 11, 107, 37}

সমাধান:
23: Prime
37: Prime
103: Prime 
17: Prime
13: Prime
111: Not prime (divisible by 3 and 37)
29: Prime
31: Prime
11: Prime
107: Prime
37: Prime

১০২.
Oxygen : Respiration : : Chlorophyll : ?
  1. Carbon dioxide
  2. Plant
  3. Sunlight
  4. Photosynthesis
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: Oxygen : Respiration : : Chlorophyll : ?

সমাধান:
Oxygen : Respiration : : Chlorophyll : Photosynthesis

এখানে,
Oxygen (অক্সিজেন) Respiration (শ্বসন) প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
একইভাবে, Chlorophyll (ক্লোরোফিল) Photosynthesis (সালোকসংশ্লেষণ) প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যান্য অপশনগুলি বিবেচনা করে পাই
Carbon dioxide (কার্বন ডাইঅক্সাইড) সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু এটি ক্লোরোফিলের সরাসরি সাদৃশ্য নয়।
Plant (গাছ) হলো ক্লোরোফিলের আবাসস্থল, কিন্তু এটি প্রক্রিয়া নয়।
Sunlight (সূর্যের আলো) সালোকসংশ্লেষণের জন্য প্রয়োজনীয় তবে এটি ক্লোরোফিলের সাদৃশ্য নয়।

সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো Photosynthesis

১০৩.
'মোক্ষ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. মুক্ত
  2. মুখর
  3. মূখ্য
  4. বন্ধন
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: 'মোক্ষ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?

সমাধান:
'মোক্ষ'-এর বিপরীত শব্দ বন্ধন বা সংসার
মোক্ষ হলো জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি, যা নির্বাণ বা কৈবল্য নামেও পরিচিত, যেখানে 'সংসার' মানে হলো জাগতিক অস্তিত্ব, যা বন্ধন সৃষ্টি করে।  
মোক্ষ এর অর্থ মুক্তি, নিস্তার, বা জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি। 

১০৪.
প্রদত্ত চিত্রটি নিচের কোন চিত্রের মধ্যে লুকায়িত আছে? 

    ব্যাখ্যা

    প্রশ্ন: প্রদত্ত চিত্রটি নিচের কোন চিত্রের মধ্যে লুকায়িত আছে? 

    সমাধান:

    ১০৫.
    'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী শহর ছিল?
    1. সমতট
    2. গৌড়
    3. বঙ্গ
    4. হরিকেল
    ব্যাখ্যা

    গৌড়:
    - বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
    - এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
    - পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
    - সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
    - সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
    - ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
    - আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
    - হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
    - গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
    - মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১০৬.
    ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কতজন?
    1. ১ জন
    2. ২ জন
    3. ৩ জন
    4. ৪ জন
    ব্যাখ্যা

    ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
    - একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
    - চেয়ারম্যান ১ জন।
    - নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
    - সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
    - ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
    - প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
    - কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
    - ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়। 
    - ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

    তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১০৭.
    'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয় কবে?
    1. ১ জুলাই
    2. ১৬ জুলাই
    3. ১৮ জুলাই
    4. ৫ আগস্ট
    ব্যাখ্যা

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস:
    - ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
    - বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ও ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে।
    - ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস' ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
    - গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে।
    - ২৫ জুন, ২০২৫ তারিখে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

    উল্লেখ্য:
    - ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।
    - ১৬ই জুলাইকে 'জুলাই শহীদ দিবস' 'খ' শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

    তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

    ১০৮.
    সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে জরুরী-অবস্থা ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে?
    1. অনুচ্ছেদ ১৪১
    2. অনুচ্ছেদ ১৪১ (ক)
    3. অনুচ্ছেদ ১৪১ (খ)
    4. অনুচ্ছেদ ১৪৪ (গ)
    ব্যাখ্যা

    - অনুচ্ছেদ ১৪০ - কমিশনের দায়িত্ব।
    - অনুচ্ছেদ ১৪১ - বার্ষিক রিপোর্ট।
    - অনুচ্ছেদ ১৪১(ক) - জরুরী-অবস্থা ঘোষণা।
    - অনুচ্ছেদ ১৪১(খ) - জরুরী-অবস্থার সময় সংবিধানের কতিপয় অনুচ্ছেদের বিধান স্থগিতকরণ।
    - অনুচ্ছেদ ১৪১(গ) - জরুরী-অবস্থার সময় মৌলিক অধিকারসমূহ স্থগিতকরণ।
    - অনুচ্ছেদ ১৪২ -  সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
    - অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
    - অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

    ১০৯.
    বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন কে?
    1. নাসিরুদ্দিন মাহমুদ
    2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
    3. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
    4. ফিরোজ শাহ
    ব্যাখ্যা

    তুর্কি শাসন:
    - ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
    - বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
    - এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
    - বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
    - দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
    - দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
    - দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
    - ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
    - ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১১০.
    সংবিধানে প্রস্তাবনার কোন ভাগে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে?
    1. ১ম
    2. ২য়
    3. ৩য়
    4. ৪র্থ
    ব্যাখ্যা

    প্রস্তাবনা:
    - সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
    - সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
    - গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
    - সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি।
    - তফসিল আছে ৭টি।
    - মূলনীতি আছে ৪টি।
    - বাংলাদেশের সংবিধানে ১টি প্রস্তাবনা রয়েছে। 
    - বাংলাদেশের সংবিধানে প্রস্তাবনার ৫টি ভাগ রয়েছে।
    • ১ম- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
    • ২য়- মূলনীতি গ্রহণ (অঙ্গীকার)। 
    • ৩য়- শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (অঙ্গীকার)। 
    • ৪র্থ- সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা (ঘোষণা)। 
    • ৫ম- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হওয়ার নিশ্চয়তা।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

    ১১১.
    ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কে?
    1. দুদু মিয়া
    2. হাজী শরীয়তুল্লাহ
    3. চেরাগ আলী শাহ
    4. মীর নিসার আলী
    ব্যাখ্যা

    ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ:
    - ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ব্যাপ্তিকাল প্রায় ৪০ বছর (১৭৬০-১৮০০ খ্রিস্টাব্দে)।
    - ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু হয়।
    - বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
    - ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন।
    - ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে। এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে।
    - এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
    - ফকির মজনু শাহর যুদ্ধ কৌশল ছিল গেরিলা পদ্ধতি।
    - তিনি ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
    - ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১১২.
    উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত কোনটি?
    1. প্রতিভা
    2. গৌরব
    3. চমক
    4. প্রভাতী
    ব্যাখ্যা

    উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
    - সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

    উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
    - হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

    উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
    - কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

    উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
    - সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

    উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
    - গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

    উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
    - বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

    উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
    - মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

    উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
    - বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

    তথসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।

    ১১৩.
    নিম্নের কোন দেশের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট?
    1. মিয়ানমার
    2. ভুটান 
    3. নেপাল
    4. মালদ্বীপ
    ব্যাখ্যা

    মালদ্বীপ:
    - এশিয়ার ক্ষুদ্রতম দেশ হল মালদ্বীপ।
    - এটি ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
    - এর আয়তন প্রায় ১১৬ বর্গ মাইল।
    - মালদ্বীপ দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্কের সদস্য।
    - রাজধানী: মালে।
    - ভাষা: দিভেহী ও ইংরেজি।
    - মালদ্বীপের আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট।
    - পার্লামেন্ট: পিপলস মজলিস।
    - মুদ্রা: মালদ্বীপীয় রুপাইয়া।

    ⇒ ​দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা:
    ​• যুক্তরাষ্ট্র: পার্লামেন্ট-কংগ্রেস (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস),
    • ভারত: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: কাউন্সিল অফ স্টেটস/ রাজ্যসভা, নিম্ন কক্ষ: হাউজ অফ দা পিপল/লোক সভা),
    • রাশিয়া: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: ফেডারেশন কাউন্সিল, নিম্ন কক্ষ: স্টেট ডুমা)
    ​• যুক্তরাজ্য: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: হাউস অফ লর্ডস, নিম্ন কক্ষ-হাউস অফ কমন্স),
    ​• পাকিস্তান: মজলিস-এ- শূরা (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
    ​• অস্ট্রেলিয়া: ফেডারেল পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: সিনেট, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস),
    ​• ভুটান: পার্লামেন্ট (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল কাউন্সিল, নিম্ন কক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি),
    ​• মিয়ানমার: ইউনিয়ন অ্যাসেম্বলি (উচ্চকক্ষ: ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, নিম্ন কক্ষ: পিপলস অ্যাসেম্বলি),
    ​• জাপান: ডায়েট (উচ্চকক্ষ: হাউস অফ কাউন্সিলর্স, নিম্ন কক্ষ: হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস)।
    • নেপাল: ফেডারেল পার্লামেন্ট (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি, হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ)।

    উৎস: Britannica.

    ১১৪.
    জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি (UNEP)-এর সদরদপ্তর কোথায় অবস্থিত?
    1. নাইরোবি, কেনিয়া 
    2. বন, জার্মানি
    3. জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
    4. সদরদপ্তর নেই
    ব্যাখ্যা

    UNEP:
    - UNEP-এর পূর্ণরূপ: United Nations Environment Programme.
    - এটি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি।
    - প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭২ সালের ৫ জুন।
    - সদরদপ্তর: নাইরোবি, কেনিয়া।
    - বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি
    - UNEP এর প্রধানের পদবী: নির্বাহী পরিচালক।
    - বর্তমান নির্বাহী পরিচালক: ইনগার অ্যান্ডারসেন।
    - জাতিসংঘের উদ্যোগে ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন সুইডেনের স্টকহোম শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন United Nations Conference on the Environment এর প্রেক্ষিতে UNEP প্রতিষ্ঠিত হয়।

    উল্লেখ্য,
    - ১৯৬৮ সালে জাতিসংঘের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিষদের কাছে একটি চিঠি পাঠায় সুইডেন সরকার।
    - চিঠির বিষয়বস্তু ছিল প্রকৃতি ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা।
    - সে বছরই জাতিসংঘের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি সাধারণ অধিবেশনের আলোচ্য সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
    - সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন জাতিসংঘ মানব পরিবেশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    - এর নাম UN Conference on the Human Environment।
    - ১৯৭২ সালের ৫ জুন এই সম্মেলন থেকে United Nations Environment Program গঠিত হয়।
    - ১৯৭৩ সাল থেকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

    উৎস: UNEP ওয়েবসাইট।

    ১১৫.
    ইসরায়েল কত সালে পূর্ব জেরুজালেম দখল করেছিল?
    1. ১৯৬৫ সালে 
    2. ১৯৬৭ সালে 
    3. ১৯৭৩ সালে 
    4. ১৯৮৮ সালে 
    ব্যাখ্যা

    ইসরায়েল ছয় দিনের যুদ্ধের সময় ১৯৬৭ সালে, পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। 

    ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ:
    - ৩য় আরব ইসরাইল যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৯৬৭ সালে।
    - এই যুদ্ধের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র ৬ দিন।
    - এটি ছয় দিনের যুদ্ধ বা জুন যুদ্ধ নামেও পরিচিত।
    - ৫ - ১০ জুন পর্যন্ত মাত্র ছয় দিনের এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

    ⇒ ইসরায়েল মিসরের বিমানবাহিনীর ওপর নিবৃত্তিমূলক হামলা চালালে এই যুদ্ধ শুরু হয়। কারণ, মিসর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপ থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী সদস্যদের বিতাড়ন করবে। একই সঙ্গে তারা তিরান প্রণালি দিয়ে ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছিল। 
    - ছয় দিন যুদ্ধের পর ইসরায়েল সিনাই উপদ্বীপ, গাজা উপত্যকা, গোলান উপত্যকা, পশ্চিম তীর ও পুরো জেরুজালেম দখল করে নেয়। 

    ⇒ ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকেই পূর্ব জেরুজালেম দখল করে রেখেছে ইসরায়েল।
    - পুরো শহরকে তারা নিজেদের রাজধানী বলে মনে করলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ দেশ তাতে স্বীকৃতি দেয়নি।
    - ফিলিস্তিনিরা দাবি করে, পূর্ব জেরুজালেম হবে তাদের স্বাধীন দেশের রাজধানী।

    উলেখ্য,
    - জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল সংঘাত এখনো চলমান।

    উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
    ii) BBC.

    ১১৬.
    কোন সভ্যতায় ‘কলোসিয়াম’ গড়ে ওঠে?
    1. রোমান সভ্যতা
    2. গ্রিক সভ্যতা
    3. মিশরীয় সভ্যতা 
    4. পারস্য সভ্যতা 
    ব্যাখ্যা

    কলোসিয়াম:
    - কলোসিয়াম প্রাচীন রোমান সভ্যতায় গড়ে ওঠে। 

    ⇒ কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
    - কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন। পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
    - কলোসিয়ামটি মূলত গ্ল্যাডিয়েটরদের লড়াই এবং অন্যান্য জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীগুলোর জন্য ব্যবহৃত হতো। 
    - এর প্রাথমিক নাম ছিল ফ্ল্যাভিয়ান অ্যাম্ফিথিয়েটার। 
    - এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
    - ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    • রোমান সভ্যতা:
    - গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
    - রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
    - প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
    - রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
    - রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল। 
    - ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে জার্মান বর্বর জাতিগুলোর হাতে রোমান সম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতন হয়।

    ⇒ সভ্যতায় রোমের অবদান:
    - রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
    - রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
    - রোমের অর্থনীতি ছিল দাসদের ওপর নির্ভরশীল।
    - সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
    - ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়, যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
    - স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।

    উৎস: i) Britannica.
    ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

    ১১৭.
    উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ (Wimbledon Championships) ২০২৫ পুরুষ এককে জয়ী কে?
    1. নোভাক জোকোভিচ
    2. কার্লোস আলকারাস
    3. আলেক্সান্দার জভেরেভ
    4. ইয়ানিক সিনার
    ব্যাখ্যা

    টেনিস:
    - টেনিস বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা।
    - অনেক জায়গায় এটি লন টেনিস নামে পরিচিত।
    - টেনিস খেলার জন্য প্রয়োজন হয় তারযুক্ত একটি দন্ড যা 'রেকেট' নামে পরিচিত, একটি বল এবং জাল।

    উল্লেখ্য,
    - গ্র্যান্ড স্ল্যাম একই বছরে চারটি বৃহৎ টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ- অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ব্রিটেন (উইম্বলডন) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র- জেতাকে বোঝায়।
    - গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন (ITF) দ্বারা পরিচালিত হয়।
    - প্রতিটি টুর্নামেন্ট দুই সপ্তাহ সময়সীমার পরে খেলা হয়।

    ⇒ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে রয়েছে:
    • অস্ট্রেলিয়ান ওপেন (জানুয়ারির মাঝামাঝি),
    • ফ্রেঞ্চ ওপেন (মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরুতে),
    • উইম্বলডন (জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরুতে),
    • ইউএস ওপেন (আগস্ট-সেপ্টেম্বর)।

    ⇒ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ (Wimbledon) ২০২৫:
    • পুরুষ একক:
    - চ্যাম্পিয়ন: ইয়ানিক সিনার (ইতালি)।
    - রানার আপ: কার্লোস আলকারাস।

    • নারী একক:
    - চ্যাম্পিয়ন: ইগা সিয়াতেক।
    - রানার আপ: অ্যামান্ডা অ্যানিসিমোভা।

    উৎস: International Tennis Federation ওয়েবসাইট। 

    ১১৮.
    ২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে?
    1. রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল 
    2. বাকু, আজারবাইজান 
    3. প্যারিস, ফ্রান্স 
    4. ক্যালি, কলম্বিয়া
    ব্যাখ্যা

    ২০২৪ সালে জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (UN COP-16):
    - ‘জীব বৈচিত্র্য কনভেনশন’ সম্পর্কিত জাতিসংঘের ১৬তম সম্মেলন (কপ-১৬) ২০২৪ সালের অক্টোবরে কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    উল্লেখ্য,
    - ‘জৈব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কার্টেজেনা প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর ১১তম সম্মেলন এবং ‘নাগোয়া প্রোটোকলে’র পক্ষগুলোর পঞ্চম সম্মেলন কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    - কপ-১৬ সম্মেলনের থিম হল ‘প্রকৃতির সাথে শান্তি’।
    - উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনের পরিবেশ মন্ত্রী হুয়াং রুন ছিউ উল্লেখ করেন যে, জীব বৈচিত্র্য মানুষের বেঁচে থাকা ও বিকাশের ভিত্তি এবং পৃথিবীতে প্রাণীকুলেরও ভিত্তি। 
    - প্রতিনিধিরা ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর ভূমি ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
    - ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীরা এই জৈব বৈচিত্র্য কনভেনশনের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ক্যালিতে সমবেত হয়েছেন।
    - ২০২২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত শেষ বৈঠকে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়াল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক নামক এক চুক্তিতে নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছেন তারা।

    উৎস: i) OECD.
    ii) Convention on Biological Diversity.

    ১১৯.
    কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব বার্ষিক কী পরিমাণ অর্থায়ন দিতে রাজি হয়?
    1. ১০০ বিলিয়ন
    2. ২০০ বিলিয়ন
    3. ২৫০ বিলিয়ন
    4. ৩০০ বিলিয়ন
    ব্যাখ্যা

    ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29):
    - জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশনের (UNFCCC) আওতায় ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর Conference of Parties (COP) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
    - ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    - এ জলবায়ু সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইন্যান্স কপ’ বা ‘জলবায়ুর আর্থিক সম্মেলন’।
    - কপ-২৯–এর সভাপতিত্ব করেন মুখতার বাবায়েভ (Mukhtar Babayev)।
    - এই সম্মেলনে রাষ্ট্রপ্রধান, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা অংশ নেন যদিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ফ্রান্সের মতো বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধানরা অনুপস্থিত ছিলেন।

    ⇒ এ জলবায়ু চুক্তিতে ঐকমত্যে আসে প্রায় ২০০টি সদস্য দেশ।
    - কপ-২৯ জলবায়ু সম্মেলনে উন্নত বিশ্ব ২০৩৫ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলির জলবায়ু কর্মকাণ্ডের জন্য বার্ষিক কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার প্রদানের লক্ষ্য পূরণে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে, যা মূলত "বাকু জলবায়ু ঐক্য চুক্তি" নামে পরিচিত। এই নতুন বৈশ্বিক অর্থায়ন লক্ষ্যমাত্রা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরে সহায়তা করবে। 
    - পাশাপাশি, দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের জন্য ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে বলে সম্মত হয়েছে।

    উল্লেখ্য,
    - কপ- ৩০ (COP-30) সম্মেলন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ব্রাজিলের বেলেম ডো প্যারাকে অনুষ্ঠিত হবে।

    উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।

    ১২০.
    গেরিলা সংগঠন 'হামাস' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
    1. ১৯৪৯ সালে 
    2. ১৯৫৮ সালে 
    3. ১৯৭৭ সালে 
    4. ১৯৮৭ সালে
    ব্যাখ্যা

    হামাস:
    - হামাস ফিলিস্তিনের গেরিলা সংগঠন।
    - প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭।
    - প্রতিষ্ঠাতা: শেখ ইয়াসিন।
    - এর সদরদপ্তর গাজায় অবস্থিত।
    - সামরিক শাখা: ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডস।

    উল্লেখ্য,
    - ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়। কট্টর ইসরায়েলবিরোধী আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমাদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে আবদেল আজিজ আল-রান্তিসি ও মাহমুদ জহর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
    - শুরু থেকেই নীতিগতভাবে প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্বাধীনতাপন্থী সংস্থা পিএলও এর বিরোধিতা করে আসছে দলটি।
    - তাদের প্রথম উদ্দেশ্য এর সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।
    - ২০০৬ সালে গাজার সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে হামাস।
    - ২০০৭ সালে গোটা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ পায় দলটি।

    উল্লেখ্য,
    - হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানের নাম হলো অপারেশন গিডিয়ন’স চ্যারিয়টস (Operation Gideon’s Chariots)।
    - এই অভিযানটি গাজা উপত্যকায় ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা এবং গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করা।

    উৎস: i) Al Jazeera.
    ii) Britannica.
    iii) CIA World Factbook.

    ১২১.
    বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান ২০২৪ অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ কোনটি? 
    1. চীন 
    2. ভিয়েতনাম 
    3. বাংলাদেশ 
    4. ভারত
    ব্যাখ্যা

    বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান ২০২৪:
    - বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) কর্তৃক 'বিশ্ব বাণিজ্য পরিসংখ্যান ২০২৪' প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
    - শিরোনাম: ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩: কি ইনসাইটস অ্যান্ড ট্রেন্ডস’।
    - সর্বশেষ প্রকাশিত হয়: জুলাই, ২০২৫।
    - পোশাক রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ দেশ চীন এবং বাংলাদেশের অবস্থান ২য়।

    ⇒ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ:
    ১. চীন (১৬৫%), 
    ২. বাংলাদেশ (৩৮%),
    ৩. ভিয়েতনাম (৩৪%),
    ৪. তুরস্ক (১৮%),
    ৫. ভারত (১৬%)।

    এছাড়াও,
    - পোশাক আমদানীতে শীর্ষ দেশ: যুক্তরাষ্ট্র।

    উৎস: WTO ওয়েবসাইট। [link]

    ১২২.
    ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় কাকে?
    1. ভলতেয়ার
    2. ষোড়শ লুই
    3. নেপোলিয়ন বোনাপার্ট
    4. আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট
    ব্যাখ্যা

    নেপোলিয়ন বোনাপার্ট:
    - ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয় নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে।

    উল্লেখ্য,
    - নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ছিলেন একাধারে ফ্রান্সের অবিসংবাদিত সম্রাট ও তুখোড় সেনাপ্রধান।
    - তিনি ফরাসি বিপ্লবের ক্রান্তিলগ্নে ফ্রান্সের হাল ধরেছিলেন এবং ফ্রান্সকে ইউরোপের শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করতে নেপোলিয়ন সক্ষম হয়েছিলেন।
    - ১৮১৫ সালে সংঘটিত 'ওয়াটার লু' যুদ্ধে পরাজিত হন ফরাসি বীর নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।
    - পরাজয়ের ফলে তাঁকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়।
    - যেখানে ১৮২১ সালে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় নেপোলিয়ন মৃত্যুবরণ করেন।

    ⇒ ফরাসি বিপ্লব:
    - ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয় ফ্রান্সে ১৭৮৯ সালে।
    - ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ খাদ্যের দাবিতে রাজতন্ত্রের অত্যাচারের প্রতীক বাস্তিল দুর্গ আক্রমণ করে।
    - বাস্তিল দুর্গেল পতনের মাধ্যমে সমস্ত বন্দিরাও মুক্তি পায় এবং ফরাসি বিপ্লব শুরু হয়।
    - এই বিপ্লব ১০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
    - ১৭৯৯ সালে এই বিপ্লব শেষ হয়।
    - ফরাসি বিপ্লব আধুনিক ইউরোপের রাজনৈতিক, সামাজিক ও চিন্তার জগতে নতুন দিগন্তের সূচনা করে।
    - 'স্বাধীনতা, সাম্য, মৈত্রী (Freedom, Equality, Fraternity)'- ফরাসি বিপ্লবের মূল স্লোগান।

    এছাড়াও, 
    - ফরাসি বিপ্লবের সময় ফ্রান্সের রাজা ছিলেন ষোড়শ লুই।
    - বিখ্যাত দার্শনিক রুশো ও ভলতেয়ার লেখনীর মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন।

    উৎস: Britannica.

    ১২৩.
    নিম্নের কোন চুক্তিটি বর্তমানে বিলুপ্ত রয়েছে?
    1. USMCA
    2. Warsaw Pact
    3. CTBT
    4. APTA
    ব্যাখ্যা

    Warsaw Pact:
    - Warsaw Pact-এর পূর্ণরূপ: Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance.
    - এটি একটি প্রতিরক্ষা ও সহোযোগিতা চুক্তি।
    - স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ মে, ১৯৫৫।
    - স্বাক্ষরের স্থান: ওয়ারশ, পোল্যান্ড।
    - সদস্য সংখ্যা ছিলো: ৮টি (সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া। 
    - উদ্দেশ্য: পশ্চিমা দেশের (বিশেষত ন্যাটো) বিরুদ্ধে সামরিক সুরক্ষা এবং পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধি।
    - এটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট, যা পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছিল।

    উল্লেখ্য,
    - পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্র পোল্যান্ডের বৃহত্তম শহর ও রাজধানী ওয়ারশ এর নাম অনুসারে চুক্তিটির নামকরণ করা হয়।
    - ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পরপরই ওয়ারশ চুক্তি ভেঙে যায়।
    - ১৯৯১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ওয়ারশ চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
    - চেকোস্লোভাক রাষ্ট্রপতি ভ্যাক্লাভ হ্যাভেল ১৯৯১ সালের ১লা জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

    অন্যদিকে, 
    ⇒ USMCA:
    - USMCA-এর পূর্ণরূপ: United States-Mexico-Canada Agreement।
    - এটি হলো উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের তিনটি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
    - কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২০।

    ⇒ CTBT:
    - CTBT-এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty/ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
    - এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
    - জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
    - স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
    - স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।
    - অনুমোদিত দেশ: ১৭৮টি।

    ⇒ APTA:
    - APTA-এর পূর্ণরূপ: Asia Pacific Trade Agreement.
    - এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বাণিজ্য চুক্তি।
    - চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়: ২ নভেম্বর, ২০০৫।
    - চুক্তিটি কার্যকর হয়: ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৬। 
    - বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ৭টি।

    উৎস: i) NATO ওয়েবসাইট।
    ii) Britannica.

    ১২৪.
    সম্প্রতি কোন দেশে দাবা খেলা নিষিদ্ধ হয়েছে? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
    1. রাশিয়া 
    2. আফগানিস্তান 
    3. সিরিয়া
    4. ইউক্রেন
    ব্যাখ্যা

    দাবা খেলা নিষিদ্ধ:
    - সম্প্রতি আফগানিস্তানে দাবা খেলা নিষিদ্ধ হয়েছে।

    ⇒ জুয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আফগানিস্তানে দাবা খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালেবান সরকার। দেশটির ক্রীড়া অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের জুয়া সরকারের নৈতিকতা আইনের পরিপন্থী। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
    - ১১ মে, ২০২৫ তারিখে তালিবানের সরকার জানিয়েছে, সেদেশে সমস্ত দাবা সম্পর্কিত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
    - ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার এমন কিছু আইন ও বিধিমালা আরোপ করে আসছে, যেগুলো ইসলামি আইনের প্রতি তাদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। সেই ধারাবাহিকতায় দেশটিতে এবার দাবা খেলাও নিষিদ্ধ করা হলো।

    উৎস: i) BBC.
    ii) The New York Times.

    ১২৫.
    কাকে 'Grand Old Man of India' বলা হয়?
    1. মহাত্মা গান্ধী
    2. জওহরলাল নেহেরু
    3. বল্লভভাই পটেল
    4. দাদাভাই নওরোজি
    ব্যাখ্যা

    দাদাভাই নওরোজী:
    - 'The Grand Old Man of India' হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নওরোজি।

    ⇒ তিনি একাধারে একজন বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সামাজিক নেতা। এশীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য। 
    - ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
    - তিনি ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
    - ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি সভাপতি ছিলেন।
    - ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।

    উল্লেখ্য,
    -  তার লেখা বই ‘পভার্টি এন্ড আন-ব্রিটিশ রুল ইন ইন্ডিয়া’ সর্বপ্রথম ভারতের সম্পদ ব্রিটেনে স্থানান্তর করার বিষয়টি সবার নজরে নিয়ে আসে।
    - তার স্মৃতির সম্মানে ২০১৪ সালে ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ ব্রিটেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষে ‘দাদাভাই নওরোজি পুরষ্কার’ চালু করেন।

    উৎস: Britannica.

    ১২৬.
    আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বর্তমান সদস্য দেশ কয়টি?
    1. ১২৪টি
    2. ১২৫টি
    3. ১২৬টি 
    4. ১২৮টি
    ব্যাখ্যা

    ICC:
    - ICC-এর পূর্ণরূপ: International Criminal Court.
    - ICC বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
    - প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৭ জুলাই, ১৯৯৮ (রোম সংবিধির মাধ্যমে)।
    - কার্যক্রম শুরু করে: ১ জুলাই, ২০০২।
    - সদরদপ্তর: দ্য হেগ নেদারল্যান্ডস।
    - বর্তমান সদস্য: ১২৫টি [সর্বশেষ: ইউক্রেন]।
    - বর্তমান প্রেসিডেন্ট: তোমোকো আকানেকে (২০২৪-২০২৭ সাল)।
    - প্রেসিডেন্সির সদস্যরা অবিলম্বে তিন বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন।

    ⇒ অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, ICC-তে চার ধরনের অপরাধের বিচার করা যায়:
    - জেনোসাইড,
    - মানবতাবিরোধী অপরাধ,
    - যুদ্ধাপরাধ,
    - আগ্রাসনের অপরাধ।

    ⇒ ১৯৯৮ সালে রোম সংবিধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় আইসিসি। 
    - ১৯৯৮ সালের ১৫ জুন - ১৭ জুলাই ইতালির রোমে বিশ্বের ১২০টি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কূটনীতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
    - ১২০-৭ ভোটের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক ফৌজদারী আদালত সংবিধি বা রোম সংবিধি গৃহীত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়।
    - পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাষ্ট্র কর্তৃক সংবিধিটি অনুমোদিত হওয়ায় ২০০২ সালের ১ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কার্যকারিতা লাভ করে।
    - রোম সংবিধিতে মোট ১৩টি অধ্যায় এবং ১২৮টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

    উৎস: International Criminal Court ওয়েবসাইট।

    ১২৭.
    হাইপারসনিক মিসাইল 'টাইফুন ব্লক-৪' কোন দেশের তৈরি?
    1. জাপান
    2. চীন 
    3. তুরস্ক
    4. ইরান
    ব্যাখ্যা

    টাইফুন ব্লক-৪:
    - তুরস্কের তৈরি দীর্ঘ পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'টাইফুন' এর হাইপারসনিক সংস্করণটি 'টাইফুন ব্লক-৪' নামে পরিচিত। 

    ⇒ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো এমন ক্ষেপণাস্ত্র যা শব্দের গতি থেকে পাঁচ গুণ বা তার বেশি গতিতে ছুটে চলে।
    - ২২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে প্রথমবারের মতো তুরস্ক তাদের নিজস্ব হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করলো।
    - ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মেলায় দেশের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে ‘টাইফুন ব্লক-৪’ আত্মপ্রকাশ করেছে।
    - ৭ টনেরও বেশি ওজনের টাইফুনের এই নতুন সংস্করণের বহুমুখী ওয়ারহেডসহ দূর থেকে অসংখ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু, যেমন- বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সামরিক হ্যাঙ্গার এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম। 

    উৎস: i) NDTV.
    ii) The Economic Times.

    ১২৮.
    'One Big Beautiful Bill Act' কোন দেশের প্রতিরক্ষা খাতের সাথের সম্পর্কিত?
    1. রাশিয়া 
    2. চীন
    3. যুক্তরাষ্ট্র
    4. উত্তর কোরিয়া
    ব্যাখ্যা

    One Big Beautiful Bill Act:
    - যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টে পাশ হওয়া বিতর্কিত বিলটির নাম One Big Beautiful Bill Act।

    ⇒ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন কর ও ব্যয় বিল (One Big Beautiful Bill Act নামে পরিচিত) পাস করেছে।
    - প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮-২১৪ ভোটের ব্যবধানে বিলটি পাস হয়েছে। 
    - এটি ২০২৫ সালের ৪ জুলাই স্বাক্ষরিত হয়।

    উল্লেখ্য,
    - এই বিলের মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি ও বড় কর্পোরেটদের জন্য আয়কর কমানো হয়েছে। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের আমলে যে কর ছাড় আইন পাস হয়েছিল, এটি সে আইনের স্থায়ী রূপ দিচ্ছে। টিপস, ওভারটাইম ও ব্যবসা খাতের গবেষণা ও উন্নয়নের (আরঅ্যান্ডডি)-এ ২০২৮ সাল পর্যন্ত কিছু অস্থায়ী কর ছাড় আনা হয়েছে। স্টেট ও লোকাল ট্যাক্স ডিডাকশনের সীমা অস্থায়ীভাবে ৪০ হাজার ডলার করা হয়েছে। এতে উচ্চ করের রাজ্যগুলোতে বসবাসকারী ধনীরা উপকৃত হবে।
    - প্রস্তাবিত বিলটিতে সীমান্ত অবকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ৪৬.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বিলের আওতায় ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে ১ লাখ অতিরিক্ত শয্যা যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়াও সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকারী বা আশ্রয় সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য নতুন জরিমানা ও শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
    - বাইডেন প্রশাসনের ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’ থেকে ক্লিন এনার্জি প্রণোদনা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া, বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) জন্য ৭ হাজার ৫০০ ডলারের কর ছাড় ২০২৫ সালের পর ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে। 
    - মেডিকেইড ও এসএনএপি (ফুড স্ট্যাম্প) কর্মসূচির অর্থায়নে বড় ধরনের ছাঁটাই করা হয়েছে। ৬৫ বছরের নিচের কর্মক্ষম, কিন্তু সন্তানহীন ব্যক্তিদের জন্য কঠোর কর্মসংস্থান শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ স্বাস্থ্য বীমা হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
    - এই বিলে প্রতিরক্ষা খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ ২৫ বিলিয়ন ডলার। আর মহাকাশ গবেষণায় ১০ বিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) কার্যকারিতা শেষ হলে একে ৩২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও, বিলটিতে নবজাতকদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি নতুন ১ হাজার ডলারের সঞ্চয় কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডোউমেন্টের (স্থায়ী তহবিল) ওপর নতুন করে কর দিতে হবে।

    উৎস: i) The White House (.gov).
    ii) BBC.

    ১২৯.
    নিম্নের কোন দেশটি I2U2 গ্রুপের সদস্য নয়?
    1. যুক্তরাজ্য 
    2. যুক্তরাষ্ট্র
    3. সংযুক্ত আরব আমিরাত
    4. ভারত
    ব্যাখ্যা

    যুক্তরাজ্য I2U2 গ্রুপের সদস্য নয়। 

    The I2U2 Group:

    - I2U2 হলো চারটি দেশের মধ্যে গঠিত একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব।
    - এটি তাই অনেক সময় West Asian Quad/Middle East Quad/New Quad হিসেবে পরিচিত।
    - সদস্য দেশগুলো হলো: I – India (ভারত), I – Israel (ইসরায়েল), U – United Arab Emirates (সংযুক্ত আরব আমিরাত), U – United States (যুক্তরাষ্ট্র)।

    ⇒ পানি, জ্বালানি, পরিবহন, মহাকাশ, স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
    - এই গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা।

    উল্লেখ্য,
    - ২০২১ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আব্রাহাম চুক্তির পর I2U2 প্ল্যাটফর্মটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং পরিবহন সম্পর্কিত বিষয়গুলি সমাধান করা।

    উৎস: U.S. Department of State (.gov) 

    ১৩০.
    ব্যাফিন উপসাগর নিম্নের কোথায় অবস্থিত?
    1. আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে
    2. যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মধ্যে
    3. কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে
    4. যুক্তরাজ্য ও আইসল্যান্ডের মধ্যে
    ব্যাখ্যা

    • ব্যাফিন উপসাগর (Baffin Bay):
    - উত্তর আর্কটিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগর, যা কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে অবস্থান করছে।
    - এটি অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের অংশ।
    - এটি গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল এবং কানাডার নূনাভুত (Nunavut) অঞ্চলের কিছু অংশ দ্বারা বেষ্টিত।
    - এই উপসাগর উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে আর্কটিক মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
    - ব্যাফিন উপসাগরের প্রধান জলধারা হল বাফিন করিডোর, যা গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার আরেকটি অংশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আর্কটিক মহাসাগরের দিকে চলে যায়।

    উৎস: ব্রিটানিকা।

    ১৩১.
    নিম্নের কোন অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম?
    1. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
    2. মেরু অঞ্চলে
    3. বিষুব অঞ্চলে
    4. কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা

    মেরু অঞ্চলে ট্রপোমন্ডলের বিস্তৃতি সবচেয়ে কম।

    ট্রপোমন্ডল:
    - ট্রপোমন্ডল ভূপৃষ্ঠের নিকটতম স্তর।
    - মেঘ, বৃষ্টি, বজ্রপাত, তুষারপাত সবই এই স্তরে ঘটে।
    - তাই এই স্তরকে ক্ষুব্ধমন্ডলও বলা হয়।  
    - নিরক্ষীয় অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ১৬-১৯ কিমি।
    - মেরু অঞ্চলে এই স্তরের বিস্তৃতি প্রায় ৮ কিমি।
    - বায়ুমণ্ডলের মোট ওজনের প্রায় ৭৫% ই এই স্তর বহন করে। 
    - এই স্তরের শেষ প্রান্তের নাম ট্রপোবিরতি। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৩২.
    নিম্নোক্ত কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে? 
    1. খরা
    2. বন্যা
    3. সুনামি
    4. ঘূর্ণিঝড়
    ব্যাখ্যা
    সুনামি: 
    - Tsunami একটি জাপানি শব্দ। 
    - যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
    অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। 
    - এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
    - সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদি সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
    - সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
    - সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
    - সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
    - ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
    - ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
    - অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায়। 
    - বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

    উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৩৩.
    হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে নিম্নের কোন নদী উৎপন্ন হয়?
    1. মেঘনা নদী
    2. কর্ণফুলী নদী
    3. যমুনা নদী
    4. ব্রহ্মপুত্র নদ
    ব্যাখ্যা

    • ব্রহ্মপুত্র:
    - ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে
    - অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
    - এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
    - ধরলা ও তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
    - এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।

    •মেঘনা নদী:
    - আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।

    • কর্ণফুলী নদী:
    - আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

    • যমুনা নদী:
    - ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা পরিবর্তন হয়ে বর্তমান যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। মূলত যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর স্রোতধারা একই হলেও মূল উৎস এক নয়। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

    ১৩৪.
    ’খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল’ কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
    1. প্লাবন সমভূমি
    2. পাদদেশীয় সমভূমি
    3. প্লাইস্টোসিন
    4. টারশিয়ারি
    ব্যাখ্যা

    • ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

    - টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
    - প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
    - এবং প্লাবন সমভূমি 

    • প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
    - আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
    • প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
    - লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
    - বরেন্দ্রভূমি,
    - মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

    • টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
    -  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
    - দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

    • প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
    ১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
    ২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
    ৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
    ৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
    ৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

    ১৩৫.
    একটি রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রধান অবদান রাখে কোনটি?
    1. সুশীল সমাজ
    2. গণমাধ্যম
    3. বিচার বিভাগ
    4. সরকার
    ব্যাখ্যা

    সরকার ও সুশাসন:
    -সরকার একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।
    - কারণ এটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করে যা সুশাসনের ভিত্তি তৈরি করে।
    - এই নীতি ও আইন কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো সরবরাহ করে।
    - যদি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহি সম্পন্ন হয়, তবে এটি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়।
    - সরকারের মূল দায়িত্ব হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা সুশাসনের একটি অপরিহার্য দিক।- যদিও গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ এবং সুশীল সমাজও সুশাসনে ভূমিকা রাখে, তবে সরকারই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে।
    - কারণ এটি নীতিমালা, আইন, এবং কার্যক্রম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকে।

    সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

    ১৩৬.
    নিম্নের কার মতে আইনের একমাত্র উৎস হলো 'সার্বভৌমের আদেশ'?
    1. অধ্যাপক হল্যান্ড
    2. জন অস্টিন
    3. হ্যারল্ড জে লাস্কি
    4. জে এস মিল
    ব্যাখ্যা

    আইন:
    - আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত।
    - জন অস্টিনের মতে আইনের উৎস ১টি। যথা: সার্বভৌমের আদেশ।

    - ওপেনহাইমের মতে আইনের উৎস ৭টি।
    যথা:
    ১. প্ৰথা,
    ২. ধর্ম,
    ৩. বিচারকের রায়,
    ৪. ন্যায়বিচার,
    ৫. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা,
    ৬. আইনসভা,
    ৭. জনমত।

    সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

    ১৩৭.
    'The Most Good You Can Do' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
    1. হাইডেগার
    2. হেগেল
    3. পিটার সিঙ্গার
    4. কোনটি নয়
    ব্যাখ্যা

    পিটার সিঙ্গার:
    - Peter Singer এর পুরো নাম - Peter Albert David Singer এবং তিনি অস্ট্রেলিয়ান নৈতিক ও পলিটিক্যাল দার্শনিক।

    ⇒ তাঁর লেখা আরো কয়েকটি বই:
    - The Life You Can Save,
    - The Most Good You Can Do,
    - Animal Liberation,
    - Ethics in the Real World.

    সূত্র: Britannica ও পিটার সিঙ্গারের ব্যবহারিক নীতিবিদ্যা গ্রন্থের পর্যালোচনা, আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া।

    ১৩৮.
    মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন মিলিতভাবে কোন ধরনের সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হিসেবে পালন করে?
    1. অস্থির ও বিশৃঙ্খল সমাজ
    2. সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ
    3. স্বৈরতান্ত্রিক ও সংঘাতময় সমাজ
    4. দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজ
    ব্যাখ্যা

    মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসন:
    - মূল্যবোধ শিক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয় একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে সহায়ক।
    - মূল্যবোধ শিক্ষা মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, সততা, ও দায়িত্ববোধের বিকাশ ঘটায়, যা সমাজে সুশাসনের ভিত্তি রচনা করে।
    - সুশাসনের কার্যকারিতা তখনই নিশ্চিত হয়, যখন শাসক ও জনগণ উভয়েই ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, এবং জবাবদিহিতার নীতিগুলো মেনে চলে।
    - ফলস্বরূপ, মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের সমন্বয় একটি ন্যায়সঙ্গত, সুশৃঙ্খল এবং স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সহায়ক হয়, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত হয়।

    সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৩৯.
    "সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"- উক্তিটি কে করেছেন?
    1. মারটিন মিনোগ
    2. মিশেল ক্যামডেসাস
    3. ম্যাককরনি
    4. কফি আনান
    ব্যাখ্যা

    • সুশাসন:
    → কোন রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সহজেই নাগরিকগণ তা অনুধাবন করতে পারে।
    → অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সংবেদনশীলতা, ঐকমত্য, কর্তব্য ও ন্যায়পরায়ণতা ও দক্ষতার মত বৈশিষ্ট্যগুলো তখন খুব সহজেই অনুমেয় হয়।
    → সুশাসন না থাকলে সমাজে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না। 

    • প্রামাণ্য সংজ্ঞা:
    → কফি আনান সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"
    → মিশেল ক্যামডেসাস: "রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"
    → ম্যাককরনি সুশাসন সম্পর্কে বলেন, "সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।
    → মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন, “ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

    সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

    ১৪০.
    সুশাসনের অভাবে কোনো দেশের উপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়?
    1. অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত
    2. সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি
    3. দুর্নীতি বৃদ্ধি
    4. উপরোক্ত সবগুলো
    ব্যাখ্যা

    সুশাসনের অভাবজনিত প্রভাব:
    - সুশাসন একটি দেশের কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
    - এর অভাবে দেশের উপর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যেমন: ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি খ)  সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি  গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত।

    ক) দুর্নীতি বৃদ্ধি:
    - সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, কারণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারকরা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পায়।
    খ) সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি:
    - সুশাসনের অভাবে জনগণের অধিকার লঙ্ঘিত হয়, এবং যখন জনগণ অনুভব করে যে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং সরকার তাদের প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়।
    গ) অর্থনৈতিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া:
    - সুশাসনের অভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, কারণ অদক্ষ নীতি, দুর্নীতি এবং অপব্যবহারের কারণে সম্পদের সঠিক ব্যবহার হয় না।

    সূত্র: ব্রিটানিকা এবং পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।