পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes৩৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ পার্ট-১) বাংলা সাহিত্য: টপিকসমূহ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ: [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, জহির রায়হান, জীবনানন্দ দাশ, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনবন্ধু মিত্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হাসান আজিজুল হক, হাসান হাফিজুর রহমান, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ। ২. অন্যান্য লেখকগণ: কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন, জন ক্লার্ক মার্শম্যান, জোশুয়া মার্শম্যান, হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার, দাউদ হায়দার, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, দীনেশচন্দ্র সেন, রফিক আজাদ, হুমায়ুন কবির, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ট-২) ১) এটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, এসিড, ক্ষার, লবণ, পদার্থের ক্ষয়, সাবানের কাজ, মৌলিক কণা, ধাতব পদার্থ এবং তাদের যৌগসমূহ, অধাতব পদার্থ, জারণ-বিজারণ, তড়িৎ কোষ, অজৈব যৌগ, জৈব যৌগ, ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস, শক্তির রূপান্তর। ২) ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, হৃদ্পিণ্ড ও হৃদরোগ, স্নায়ু ও স্নায়ুরোগ, রক্ত ও রক্ত সঞ্চালন, রক্তচাপ, খাদ্য ও পুষ্টি, ভিটামিন, মাইক্রোবায়োলজি। ------------------ পার্ট–১ সোর্স: উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
'বোবাকাহিনী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. রুপাই
  2. বছির
  3. মুনিম
  4. মকবুল
ব্যাখ্যা
• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ- (E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে
- রাখালী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫৫ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো হলো:
- Stop Genocide (প্রামাণ্যচিত্র),
- লেট দেয়ার বি লাইট (ইংরেজী),
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- সঙ্গম এবং
- জীবন থেকে নেয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ঝরা পালক
  2. বেলা অবেলা কালবেলা
  3. বাংলার রূপ
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিকা
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ রচিত সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণির পাঠ্য।
- জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৫ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন, পরে ২২ অক্টোবর মারা যান।
- তিনি ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ঝরা পালক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহা পৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- বেলা অবেলা কালবেলা(এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়),
- রূপসী বাংলা (এটি তাঁর মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়)।

উল্লেখ্য,
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় - বাংলার রূপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কমলে কামিনী' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কমলে কামিনী' নাটক:
- 'কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাজা, সমরকেতু শশাঙ্কশেখর, গান্ধারী, সুশীলা, সুরবালা।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে। তিনি ঈশ্বর গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখেন।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।

• দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পণ
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাব্তী,
- জামাই বারিক,
- কমলে কামিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নন্দিত নরকে
  2. এই সব দিনরাত্রি
  3. জোছনা ও জননীর গল্প
  4. আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস- নন্দিত নরকে (১৯৭২)।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলা।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাট্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ঝিলিমিলি 
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মধুমালা 
ব্যাখ্যা
• ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য নাটক:
- আলেয়া
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক)
- মধুমালা (গীতিনাট্য)
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'অশোকসঙ্গীত' কে রচনা করেছেন? 
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. কামিনী রায়
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. বুকের ভিতর আগুন
  3. ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস
  4. একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্যগ্রন্থটি জাহানারা ইমাম রচনা করেন নি।
- কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ।

• জাহানারা ইমাম:

- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
'ভগ্ন শিবমন্দির' কোন প্রহসনের পূর্বনাম?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কী বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উল্লেখ্য,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' প্রহসনের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'পল্লিজননী' কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. জসীম উদ্‌দীন 
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা
• 'পল্লিজননী' কবিতাটি জসীম উদ্‌দীন রচিত 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত কবর কবিতাটিও এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবৎ' সম্পাদনা করেন কে?
  1. জেমস লং
  2. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক। ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
কায়কোবাদের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. বরিশাল
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'ভাত দে হারামজাদা' কবিতার রচয়িতা কে? 
  1. রফিক আজাদ
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. দাউদ হায়দার
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৫.
কোনটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সামাজিক নাটক?
  1. নূরজাহান
  2. বঙ্গনারী
  3. মেবার পতন
  4. দুর্গাদাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী,
- এক ঘরে
- কল্কি অবতার,
- বিরহ
- পূণর্জন্ম,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- আনন্দ বিদায়।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:

- ১৯ জুলাই, ১৮৬৩ সালে নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সমবেত কণ্ঠসঙ্গীতের প্রবর্তক।
- তিনি বাংলা নাটকে প্রথম দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টি করেছেন।
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind.

• তাঁর রচিত নাটক:

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- নূরজাহান,
- প্রতাপসিংহ,
- তারাবাঈ,
- সিংহল বিজয়,
- তাপসী।

• রোমান্টিক নাটক:
- সীতা,
- ভীষ্ম,
- সোহরাব-রুস্তম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী, -
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৭.
'নীল দর্পণ' নাটক কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৪ সালে 
  4. ১৮৬৬ সালে 
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
• নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- তৎকালীন নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'Uncle Tom`s Cabin-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- ১৮৬০ সালে 'কস্যচিৎ পথিকস্য' ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৮.
'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও' কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. জ্ঞানাণ্বেষণ
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৯.
কোন পরমাণুতে নিউট্রন নেই? 
  1. হাইড্রোজেন 
  2. হিলিয়াম
  3. ডিউটেরিয়াম
  4. ইউরেনিয়াম 
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H।
-  সংকেত- H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০.
থার্মোমিটারে পারদ কেন ব্যবহার করা হয়?
  1. গলনাঙ্ক কম
  2. অল্প তাপে আয়তন বেশি প্রসারিত হয়
  3. একমাত্র তরল ধাতু
  4. স্ফুটনাংক বেশি
ব্যাখ্যা
• পারদ:
- পারদ (Mercury) থার্মোমিটারে ব্যবহারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো:
- এটি তাপমাত্রার সামান্য পরিবর্তনে আয়তনে অনেক বেশি প্রসারিত হয়।
- অর্থাৎ, এটি তাপের প্রতি সংবেদনশীল। ফলে খুব সহজে তাপমাত্রা মাপা যায়।
- এছাড়া পারদের গলনাঙ্ক পানির গলনাঙ্কের অনেক কম এবং স্ফুটনাঙ্ক পানির স্ফুটনাঙ্কের অনেক বেশি।
- এজন্য সাধারণত জীবদেহের তাপমাত্রা মাপতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পারদ থার্মোমিটার ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২১.
নিচের কোনটি লাফিং গ্যাস?
  1. NO2
  2. N2O
  3. SO2
  4. N2O5
ব্যাখ্যা
• লাফিং গ্যাস:
- লাফিং গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত N₂O (ডাই নাইট্রোজেন মনোক্সাইড)।
- এটি একটি বর্ণহীন, মিষ্টি স্বাদের গ্যাস।
- শ্বাস নেওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য মেজাজ চঞ্চল বা হাসির অনুভূতি হয় এজন্যই নাম "Laughing Gas"।

উল্লেখ্য,
- হিলিয়াম (He): হালকা গ্যাস হওয়ায় এটি বেলুন এবং এয়ারশিপে ব্যবহৃত হয়।
- হাইড্রোজেন সালফাইড (H₂S): পচা ডিমের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।
- মিথেন (CH4): পচনশীল জৈব পদার্থ, গবাদি পশুর অস্ত্র থেকে নির্গত হয়।
- আরগন (Ar): এটি বৈদ্যুতিক বাতিতে ব্যবহৃত হয়।
- চিপসের প্যাকেটে নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।


উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২২.
হীরক সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. হীরক কার্বনের একটি রূপ।
  2. আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।
  3. হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
  4. হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
ব্যাখ্যা
• হীরক:
- হীরক কার্বনের একটি রূপ।  
- আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।  
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
২৩.
ক্ষারের একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- 
  1. লাল লিটমাসকে নীল করে 
  2. নীল লিটমাসকে লাল করে
  3. লাল লিটমাসকে কমলা করে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।

• ক্ষারের বৈশিষ্ট্য:
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষারীয় দ্রবণের pH মান সাধারণত ৭-এর বেশি, সাধারণত ৮-১৪ এর মধ্যে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪.
রক্তের কোন কণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• লিউকেমিয়া:
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়।
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

• শ্বেত রক্তকণিকা বা লিউকোসাইট:
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই।
- এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে।
- ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে।
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC এর তুলনায় অনেক কম।
- রক্তের শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পেলে ব্লাড ক্যান্সার হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫.
তরল সাবান তৈরি করতে সাধারণত কোন যৌগ বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. NaOH
  2. NH3
  3. HCI
  4. KOH
ব্যাখ্যা
• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা (NaOH)।
- কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের (KOH) ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও,
- সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়।
- তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
ফলিক এসিড কোন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম?
  1. ভিটামিন বি১
  2. ভিটামিন বি৯
  3. ভিটামিন বি৬
  4. ভিটামিন বি৩
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন B কমপ্লেক্সভুক্ত বিভিন্ন ভিটামিনের রাসায়নিক নাম।
- B1 - Thiamin (থায়ামিন)। 
- B2 - Riboflavin (রিবোফ্লাভিন)। 
- B3 - Niacin (নিয়াসিন)। 
- B5 - Pantothenic acid (প্যানটোথেনিক এসিড)। 
- B6 - Pyridoxine (পাইরিডক্সিন)। 
- B7 - Biotin (বায়োটিন)। 
- B9 - Folate [folic acid) (ফোলেট, ফলিক এসিড)। 
- B12 - Cobalamin (কোবালামিন)। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৭.
ধাতুর ক্ষয়রোধে কী করা হয়?
  1. গ্যালভানাইজিং
  2. ইলেক্ট্রোপ্লেটিং
  3. পেইন্টিং
  4. কোনোটিই নয়
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: উপরের সবগুলো। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো। 
------------------------- 

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
- ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
- এটি বিভিন্নভাবে করা যায়,
যেমন
(i) রং করে
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।
লোহার তৈরি দরজা-জানালা রং করা হয় যেন লোহা বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে।

- আমরা জানি কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না।
- কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়।
যথা-
- ইলেকট্রোপ্লেটিং ও
- গ্যালভানাইজিং।

উৎস: রসায়ন, নবম- দশম শ্রেণি।

২৮.
'লবণ উৎপাদনকারী' মৌল কোনটি?
  1. ফ্লোরিন
  2. নিয়ন
  3. নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন/ লবণ উৎপাদনকারী মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৭ এর ৬ টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (CI), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (1), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা CI এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
গ্যালভানিক কোষ এক ধরনের -
  1. তড়িৎ রাসায়নিক কোষ
  2. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ
  3. ইলেকট্রোলাইটিক কোষ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ কোষ (Electric Cell):
- যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক শক্তি থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে তড়িৎ শক্তি পাওয়া যায় তাকে তড়িৎ কোষ বলে।
- প্রতিটি বৈদ্যুতিক কোষের দুটি প্রান্ত থাকে।
- একটি হলো পজেটিভ বা ক্যাথোড (Cathode) এবং অন্যটি নেগেটিভ বা অ্যানোড (Anode)।
- বৈদ্যুতিক কোষ সর্বপ্রথম ১৮০০ সালে আবিষ্কার সবন ইটালির বিজ্ঞানী আলেকসান্দ্রো ভোল্টা।
- তড়িৎ কোষ দুই প্রকার।
যথা-
• তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বা গ্যালভানিক সেল: যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। একে গ্যালভানিক কোষ বা ভোল্টার কোষও বলা হয়।

• তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ:
- যখন কোন তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থের দ্রাবকে দ্রবীভূত বা বিগলিত অবস্থার মধ্যে দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করা হয়, তখন ঐ তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের রাসায়নিক বিয়োজন ঘটে এবং নতুন রাসায়নিক ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ উৎপন্ন হয়, এই পদ্ধতিকে তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) বলে।
- যে পাত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণ চালানো হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলা হয়।
- তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি খনিজ পদার্থ থেকে বিভিন্ন ধাতু উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
- হামফ্রে লেভি তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সর্বপ্রথম অনেকগুলো মৌলিক পদার্থ আলাদা করতে সক্ষম হন।
- তন্মধ্যে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, বেরিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ শ্রেণি।
৩০.
মানবকোষে অক্সিজেন পরিবহন হয় কোনটির মাধ্যমে? 
  1. ফুসফুস
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. যকৃত 
  4. রক্ত 
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে রক্ত সংবহন (Blood Circulation in human body):
- রক্ত জীবনীশক্তির মূল।
- রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত দেহের সর্বত্র প্রবাহিত হয় এবং কোষে অক্সিজেন ও খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে।
- ফলে দেহের সব কোষ সজীব এবং সক্রিয় থাকে। যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রতিনিয়ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও অংশে চলাচল করে, তাকে রক্ত সংবহনতন্ত্র বলে।
- এ তন্ত্রে প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমেই খাদ্য, অক্সিজেন এবং রক্তের বর্জ্য পদার্থ দেহের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবাহিত হয়।
- মানবদেহে রক্তপ্রবাহ কেবল হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালিগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো এর বাইরে আসে না।
- এ ধরনের সংবহনতন্ত্রকে বদ্ধ সংবহনতন্ত্র (Close circulatory system) বলা হয়।
- সারা দেহে রক্ত একবার সম্পূর্ণ পরিভ্রমণের জন্য মাত্র এক মিনিট বা তার চেয়েও কম সময় লাগে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩১.
'ওলিয়াম' কাকে বলে?
  1. গাঢ় সালফিউরিক এসিড
  2. ধূমায়মান সালফিউরিক এসিড
  3. লঘু সালফিউরিক এসিড
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'ওলিয়াম' (Oleum):
- ওলিয়াম (Oleum) হলো সালফিউরিক এসিডের একটি অত্যন্ত ঘন রূপ, যার মধ্যে সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO₃) গ্যাস দ্রবীভূত থাকে।
- রাসায়নিকভাবে:
• Oleum=H2SO4⋅nSO3

• ব্যবহার:

- উচ্চ ঘনত্বের সালফিউরিক এসিড উৎপাদনে।
- ডিটারজেন্ট, রঞ্জক পদার্থ ও বিস্ফোরকের প্রস্তুতিতে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৩২.
শিম জাতীয় উদ্ভিদে কোন ধরনের ব্যাকটেরিয়া নাইট্রোজেন সংবন্ধনে সাহায্য করে?
  1. Rhizobium
  2. Escherichia coli
  3. Bacillus
  4. Nitrobacter
ব্যাখ্যা
• কৃষিক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
- মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে: মৃত্যুর পরে জীবদেহ এবং অন্যান্য আবর্জনা পচনের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব পদার্থ মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
- নাইট্রোজেন সংবন্ধনে: Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু থেকে নাইট্রোজেন ধরে মাটির সাথে মিশিয়ে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ায়।
যেমন- Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে থাকে।
- পতঙ্গনাশক হিসেবে: কতিপয় ব্যাকটেরিয়া (Bacillus thuringiensis) পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ফলন বৃদ্ধিতে: কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধান এবং গমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: উদ্ভিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)
৩৩.
নিচের কোনটি একটি লবণ?
  1. NH₃
  2. Na₂CO₃
  3. Ca(OH)₂
  4. NH₄OH
ব্যাখ্যা
• Na₂CO₃ (সোডিয়াম কার্বোনেট) হলো একটি লবণ,
এটি সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ও কার্বনিক অ্যাসিড (H₂CO₃) এর বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।

•  2NaOH+H2CO3→Na2​CO3​+2H2​O
- এখানে, NaOH একটি ক্ষার ও H2CO3 একটি দ্বিমূলীয় অম্ল প্রতিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে,
- Ca(OH)₂ ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি একটি ক্ষারক, লবণ নয়।
- NH₄OHঅ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড এটি ক্ষারীয় দ্রবণ, লবণ নয়।
- NH₃অ্যামোনিয়া ক্ষারধর্মী গ্যাস লবণ নয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৪.
স্যাকারিন প্রস্তুত হয়-
  1. বেনজিন থেকে
  2. টলুইন থেকে
  3. ফেনল থেকে
  4. এলডিহাইড থেকে
ব্যাখ্যা
• স্যাকারিন:
- স্যাকারিন হলো একটি কৃত্রিম মিষ্টি, যা প্রকৃত চিনি থেকে প্রায় ৩০০-৪০০ গুণ বেশি মিষ্টি।
- এটি সাধারণত টলুইন (Toluene) থেকে প্রস্তুত করা হয়।
- রাসায়নিক নাম: o-Benzosulfimide
- ব্যবহার: ডায়েট খাবার, ডায়াবেটিকদের জন্য বিকল্প মিষ্টি, সফট ড্রিঙ্ক, ওষুধে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৩৫.
লোহিত রক্তকণিকা সঞ্চিত হয়-
  1. প্লীহায়
  2. হৃৎপিন্ডে
  3. ফুসফুসে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

• লোহিত রক্তকণিকা:

- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকার কাজ:
- দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
- হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬.
ভাইরাসের দেহে কোষের সংখ্যা কত? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. অসংখ্য 
  4. শূন্য
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস মূলত অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।
- ভাইরাস প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে।
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৩৭.
সিলিকনের সাথে কোন পদার্থ যোগ করলে তা n-টাইপ অর্ধপরিবাহীতে পরিণত হয়?
  1. গ্যালিয়াম
  2. ফসফরাস
  3. বোরন
  4. এলুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
ডোপিং:
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

• P- টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ ত্রিযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে, তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: বোরন, এলুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম, ইন্ডিয়াম

• n-টাইপ অর্ধপরিবাহী:
- কোনো বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সামান্য পরিমাণ পঞ্চযোজী মৌল অপদ্রব্য হিসেবে মেশানো হলে তাকে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী বলে।
- যেমন: ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি, বিসমাথ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৩৮.
ডোপামিন হরমোনের স্বল্পতার কারণে কোন রোগটি হয়? 
  1. এপিলেপসি 
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
• পারকিনসন: 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
- মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না।
- ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি