পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৪৫ বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিক - শব্দ প্রকরণ [শব্দের শ্রেণিবিভাগ; শব্দের উৎসমূল; ধাতু, প্রকৃতি - প্রত্যয়; ক্রিয়ার কাল ও এর প্রয়োগ] এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস; মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল; মুক্তিযুদ্ধে বৃহৎ শক্তিবর্গের ভূমিকা; iii) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস। iv) জুলাই -২০২৪ গণ অভ্যুত্থান ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
'কসাই' শব্দটি কোন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে?
  1. উর্দু 
  2. ফারসি 
  3. আরবি 
  4. পর্তুগিজ 
সঠিক উত্তর:
আরবি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি 
ব্যাখ্যা

• ‘কসাই’ শব্দটি 'আরবি' ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে

​কিছু আরবি শব্দ:
- এলাকা,
- এলাহি,
- কয়েদ,
- কসাই,
- কসরত,
- খারাবি,
- খারাপ,
- খারিজ,
- তুফান,
- তকদির ইত্যাদি।

​উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'ছিন্ন' শব্দের প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ছিদ্‌ + ন্ন
  2. √ছিদ্‌ + ক্ত
  3. √ছিদ্‌ + ন
  4. √ছি + ক্ত
সঠিক উত্তর:
√ছিদ্‌ + ক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ছিদ্‌ + ক্ত
ব্যাখ্যা

• ক্ত-প্রত্যয় পরে থাকলে ধাতুর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন হয়। এখানে এরূপ কয়েকটি প্রকৃতি- প্রত্যয়ের উদাহরণ দেওয়া হলো।
যেমন:
- √গম্ + ক্ত = গত,
- √গ্রন্থ + ক্ত = গ্রথিত,
- √চুর্ + ক্ত = চূর্ণ,
- √ছিদ্‌ + ক্ত = ছিন্ন,
- √জন্‌ + ক্ত = জাত,
- √দা + ক্ত = দত্ত,
- √সৃজ্ + ক্ত = সৃষ্ট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
"বাবুয়ানা" কোন ধরনের শব্দ?
  1. যৌগিক
  2. রূঢ়ি
  3. যোগরূঢ়
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। 
​যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
- চিকামারা = চিকা + মারা - অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
"আমরা তখন বই পড়ছিলাম।" এই বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান অতীত
  2. সাধারণ অতীত
  3.  নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা

• ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।

অন্যদিকে,
• সাধারণ অতীত:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত কাল।
 যেমন:
- প্রদীপ নিভে গেল।
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

• নিত্যবৃত্ত অতীত: অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
 যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

• পুরাঘটিত অতীত কাল: যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়। 
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
  2. √বাড়ু + অন্ত = বাড়ন্ত
  3. √জিব্‌ + অন্ত = জীবন্ত
  4. √উঠ্‌ + আন্তি = উঠন্তি
সঠিক উত্তর:
√ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত
ব্যাখ্যা

অন্ত >-অন্তি -উন্তি(প্রত্যয়)

যেমন:
- √ভাস্ + অন্ত = ভাসন্ত;
- √বাড়্‌ + অন্ত = বাড়ন্ত;
- √জীব্‌ + অন্ত = জীবন্ত;
- √উঠ্‌ + অন্তি = উঠন্তি;
এ রকম- উড়ন্ত, চলন্ত, পড়ন্ত, ঝুলন্ত, ডুবন্ত, বাড়ন্ত, ফুটন্ত ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

.
"তানভীর নির্বাচনে কেদারা মার্কা পেয়েছে।" এখানে 'কেদারা' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. তুর্কি
  2. পর্তুগিজ
  3. সংস্কৃত
  4. ফারসি
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা

• 'কেদারা' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ
• 'কেদারা অর্থ': হেলান দেওয়ার ব্যবস্থা-সহ একজনের বসার উপযোগী উঁচু আসনবিশেষ, চেয়ার।

উল্লেখ্য,
'কেদারা' অর্থ যদি রাত্রির প্রথম প্রহরে গেয় সংগীতের রাগবিশেষ বুঝায় তবে সেটির উৎস সংস্কৃত।

কিছু পর্তুগিজ শব্দ:
ইংরেজ, পাউরুটি, আনারস, আচার, আলকাতরা, আলপিন, চাবি, আলমারি, বেহালা, বালতি, পেয়ারা, ইস্পাত, নিলাম, গরাদ, গামলা, পেরেক, মিস্ত্রি, যিশু, কেদারা, কামরা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'আজ যদি আশরাফ আসত, তবে ভালোই হতো।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত 
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ 
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

'আজ যদি আশরাফ আসত, তবে ভালোই হতো।'নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:

অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে। 
যেমন:
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

নিত্যবৃত্ত অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
(১) কামনা প্রকাশে: আজ যদি সুমন আসত, কেমন মজা হতো।
(২) অসম্ভব কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
(৩) সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালোই হতো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. কণ্টকিত
  2. পাগলামি
  3. চোরাই
  4. গিন্নীপনা
সঠিক উত্তর:
কণ্টকিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্টকিত
ব্যাখ্যা

 সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেসব প্রত্যয় কে সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- কণ্টক + ইত = কণ্টকিত;
- ফেন + ইল্ = ফনিল;
- সুখ + ইন্ = সুখিন;
- নীল + ইমন = নীলিমা।

• বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়:
সংস্কৃত ও বিদেশি প্রত্যয় বাদে বাংলা ভাষার সকল তদ্ধিত প্রত্যয় বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়।
যেমন:
- পাগল + আমি = পাগলামি;
- থাল + আ = থালা;
- চোর + আই = চোরাই;
- বাত + উয়া = বাতুয়া;
- ঘর + ওয়া = ঘরোয়া।

• বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়:
শব্দের পরে যেসব বিদেশি প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে সেসব প্রত্যয়কে বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
যেমন:
- বিবি + আনা = বিবিয়ানা;
- দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা;
- গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
নিচের কোনটি ফারসি শব্দ?
  1. বাবরি
  2. খাতা
  3. বাবা
  4. চাহিদা 
সঠিক উত্তর:
বাবরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবরি
ব্যাখ্যা

"বাবরি" ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ।



অন্যদিকে,
খাতা - আরবি।
বাবা - তুর্কি।
চাহিদা- বাংলা শব্দ।

• ফারসি শব্দ:
সেতার, গুনাহ, পরহেজগার, দরগা, চশমা, খানা, জায়নামাজ, নামায ,রোজা, আইন, সালিশ, নালিশ, বাদশাহ, সুপারিশ, সর্দি, শিরোনাম, হাঙ্গামা, ফরমান, ফরিয়াদ , বান্দা , শাদি আমদানি ,সবজি , রসিদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
'হিংসক' এর সঠিক প্রকৃতি-প্রত্যয় কোনটি?
  1. √হিস + অক 
  2. √হিং + অক 
  3. √হিন্‌স + অক 
  4. √হিন + অক 
সঠিক উত্তর:
√হিন্‌স + অক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√হিন্‌স + অক 
ব্যাখ্যা

• অক (ণক্) প্রত্যয়:
- √নী + অক = নায়ক,
- √কৃ + অক = কারক,
- √বহ + অক = বাহক,
- √রুধ+ অক = রোধক;
- √নিন্দ + অক = নিন্দক;
- √হিনস্‌ + অক = হিংসক;

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

১১.
যোগরূঢ় শব্দ কোনটি?
  1. বিদ্যালয়
  2. সরোজ
  3. দুহিতা
  4. জেঠামি
সঠিক উত্তর:
সরোজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরোজ
ব্যাখ্যা

শব্দ: 
- অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনি সমষ্টিকে বলা হয় শব্দ। 
- এক বা একাধিক ধ্বনি একত্রিত হয়ে যখন মনের ভাব প্রকাশ করে, তখন তাকে বলা হয় শব্দ। 
- শব্দ হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম একক। 
- অর্থগতভাবে শব্দকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 
১। যৌগিক শব্দ, 
২। রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ এবং 
৩। যোগরূঢ় শব্দ। 

যৌগিক শব্দ: 
- যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ অনুযায়ী হয়ে থাকে, তাকে বলা হয় যৌগিক শব্দ।
- অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ এক, সেসব শব্দকে বলা হয় যৌগিক শব্দ। 
যেমন- পাঠক, মিতালি, সংবাদদাতা, বিদ্যালয়, পাচক ইত্যাদি। 

রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ: 
- যে সব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থের অনুগামী না হয়ে ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় রূঢ় বা রূঢ়ী শব্দ। 
যেমন- সন্দেশ, জ্যাঠামি, প্রবীণ, অতিথি, কুশল, গবাক্ষ, দুহিতা, পাঞ্জাবি, বাঁশি, রাখাল, স্নাতক ইত্যাদি। 

যোগরূঢ় শব্দ: 
- সমাসনিষ্পন্ন যেসব শব্দ তার ব্যাসবাক্যের কোনো অর্থ প্রকাশ না করে, তৃতীয় কোনো অর্থ প্রকাশ করে, সেসব শব্দকে বলা হয় যোগরূঢ় শব্দ। 
যেমন- পঙ্কজ, মন্দির, জলদ, রাজপুত, জলধি, মহাযাত্রা, সরোজ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
"মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল।" কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

(ক) অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়:
যেমন:
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
- মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল।

(খ) অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

অন্যদিকে, 
• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৩.
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. চতুরালি
  2. বাবুয়ানা
  3. তেজাল
  4. ধুনাচি
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাবুয়ানা
ব্যাখ্যা

বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:

• আনা, আনি:
- বাবু + আনা = বাবুয়ানা,
- সাহেবি + আনা = সাহেবিয়ানা,
- নজর + আনা = নজরানা।

• খানা:
মুদি + খানা = মুদিখানা,
ছাপা খানা = ছাপাখানা।

অন্যদিকে,
বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে শব্দ গঠন:
• কানু + আই = কানাই, ধুনা + আচি = ধুনাচি, বেত + আন্ = বেতান > বেতানো।
• আরি/আরী/আবু-প্রত্যয়: বিশেষণ গঠনে: ভিখ-ভিখারি, শাঁখ-শাঁখারি, বোমা-বোমারু।
• আলি/আলো/আলি/আলী>এল-প্রত্যয়: বিশেষ্য ও বিশেষণ গঠনে: দাঁত-দাঁতাল, লাঠি-লাঠিয়াল> লেঠেল, তেজ-তেজাল, ধার-ধারাল, শাঁস-শাঁসাল, জমক-জমকালো, দুধ-দুধাল >দুধেল, হিম-হিমেল, চতুর- চতুরালি, ঘটক -ঘটকালি, সিঁদ-সিঁদেল, গাঁজা-গেঁজেল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।

১৪.
"এবার মা খেতে ডেকেছেন।" কোন কালের উদাহরণ?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ বর্তমান
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 

যেমন: 
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
- এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

১৫.
নিচের কোনটি মৌলিক শব্দ?
  1. বাঁশি 
  2. হাত
  3. মিতালি
  4. সদস্য
সঠিক উত্তর:
হাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাত
ব্যাখ্যা

গঠন অনুসারে শব্দ দুই প্রকার। যথা:
• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, ভাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলোকে সাধিত শব্দ বলে। উপসর্গ বা প্রত্যয় যোগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন:
- পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ, সদস্য, নীলাকাশ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- 'বাঁশি' রূঢি শব্দ।
- 'মিতালি' যৌগিক শব্দ।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

১৬.
নিচের কোনটি দেশি শব্দ?
  1. হাত
  2. ঝিনুক
  3. পাত্র
  4. উনান
সঠিক উত্তর:
ঝিনুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিনুক
ব্যাখ্যা

• ঝিনুক দেশি শব্দ।

অন্যদিকে,
হাত ও উনান - তদ্ভব শব্দ।
পাত্র - তৎসম শব্দ।

• কিছু দেশি শব্দ:

ঢোল, ডিঙি, টোপর, বাখারি, কয়লা, কামড়, চাউল, ঝোল, ডাহা, ঢিল, পয়লা, ডাঁসা, ডাব, ডাঙর, ঢিল, মাঠ, চাটাই, ঝিনুক, শিকড়, কচি, খড়, পেট।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৭.
অর্থনুসারে 'প্রবীণ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. রূঢ়ি
  2. যৌগিক 
  3. যোগরূঢ় 
  4. মৌলিক
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি
ব্যাখ্যা

রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
• হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ-হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
• গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
• বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
• তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন- বাদাম তেল।
প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি 'অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
• সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে 'সংবাদ'। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে 'মিষ্টান্ন বিশেষ'।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৮.
"টাকা দে" এখানে 'দে' কোন ধরনের ধাতু?
  1. মৌলিক ধাতু 
  2. নাম ধাতু 
  3. সংযোগমূলক ধাতু
  4. বিদেশাগত ধাতু
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগমূলক ধাতু
ব্যাখ্যা

• সংযোগমূলক ধাতু:
 বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, দে, পা, খা, ছাড় ইত্যাদি মৌলিক ধাতু সংযুক্ত হয়ে যে নতুন ধাতু গঠিত হয়, তা-ই সংযোগমূলক ধাতু।
যেমন:
- যোগ (বিশেষ্য পদ) + কর্ (ধাতু) = 'যোগ কর' (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- তিনের সঙ্গে পাঁচ যোগ কর। 
- সাবধান (বিশেষ্য) + হ (ধাতু) = সাবধান হ (সংযোগমূলক ধাতু)। বাক্য- এখনও সাবধান হও, নতুবা আখেরে খারাপ হবে।

সংযোগমূলক ধাতুজাত ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে। নিচে সংযোগমূলক ধাতু যোগে গঠিত কয়েকটি ক্রিয়াপদের উদাহরণ দেওয়া হলো।
• হ-ধাতু যোগে: বড় হ, ছোট হ, ভালো হ, রাজি হ, সুখী হ। 
• দে-ধাতু যোগে: উত্তর দে, ঢাকা দে, দাগা দে, জবাব দে, কান দে, দৃষ্টি দে। 
• পা-ধাতু যোগে: কান্না পা, ভয় পা, দুঃখ পা, লজ্জা পা, ব্যথা পা, টের পা। 
• খা-ধাতু যোগে: মার খা, হিমশিম খা, ছাক খা, ঘষা খা। 
• কাট্-ধাতু যোগে: সাঁতার কাট্, ভেংচি কাট্, জিভ কাট্।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১৯.
‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে কবে?
  1. ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৫ জানুয়ারি 
  3. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি 
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী 
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ:
-  ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’।  
-  এর লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন।
- ও প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান। 
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যা করা হয় ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

২০.
কোন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়?
  1. জেনারেল ইয়াহিয়া খান
  2. জেনারেল আইয়ুব খান
  3. খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. জুলফিকার আলী ভুট্টো
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেনারেল আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান:
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসে ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে শহরে ও গ্রামের শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। 
- পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে এক দুর্বার আন্দোলন গড়ে ওঠে যা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
- আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবার একসাথে আন্দোলনে নামে।
- আইয়ুব খানের পতনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে খাজা নাজিমউদ্দীন পূর্ব বাংলার (পূর্বপাকিস্তান) মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। 
- ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জিন্নাহ ইন্তেকাল করলে তিনি ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদে অধিষ্ঠিত হন।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১.
১৯৬৯ সালের কত তারিখে জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন?
  1. ২০ মার্চ
  2. ২২ মার্চ
  3. ২৪ মার্চ
  4. ২৫ মার্চ 
সঠিক উত্তর:
২৪ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৪ মার্চ
ব্যাখ্যা

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান: 
- ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন ছিল পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে।
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর এই আন্দোলন ছিল সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- আইয়ুব খানের পতনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের দুই অংশের মানুষ প্রথমবার একসাথে আন্দোলনে নামে। 
- আইয়ুব খানের পতনের মধ্যে দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
- ১৯৬৯ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল আইয়ুব খান জেনারেল ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, 
- ২৫ মার্চ পাকিস্তানে আবার জারি করা হয় সামরিক আইন।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্ব পাকিস্তানি নিহত হয়েছিলেন। 
- এছাড়াও ৩৪ জন শিল্প-কারখানার শ্রমিক, ২০ জন ছাত্র, ৭ জন সরকারি কর্মচারী, ৫ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ১ জন স্কুল শিক্ষক অন্যতম।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
১৯৬৯ সালে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. লাহোর
  2. ঢাকা
  3. রাওয়ালপিন্ডি
  4. আগরতলা
সঠিক উত্তর:
রাওয়ালপিন্ডি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাওয়ালপিন্ডি
ব্যাখ্যা

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাবলি:
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে।
- মধ্য জানুয়ারিতে গণআন্দোলনের রূপ নেয়। 
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হলে আন্দোলন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। 
- সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।
- মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- মুক্তি দেয়ার পর আন্দোলনের ব্যাপকতা আরো বেড়ে যায়।
- এমনি পরিস্থিতিতে আইয়ুব খান সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবি মেনে নেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন। 
- এমনকি আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে না দাঁড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দেন।
- ১৯৬৯ সালের ১০ই মার্চ রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে বসার আহ্বান জানান যা রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত হয়। 
- মওলানা ভাসানী ও জুলফিকার আলী ভুট্টো উক্ত গোলটেবিল বৈঠক বয়কট করেন। 
-  কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠক ব্যর্থ হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৩.
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন কবে?
  1. ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাবলিঃ
- আইয়ুব বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ১৯৬৮ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হলেও তা ১৯৬৯-এর জানুয়ারিতে তুঙ্গে ওঠে।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়।
- ১৯৬৯ সালের  ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা পুলিশের গুলি ও বেয়নেট চার্জের ফলে মৃত্যুবরণ করেন।
- সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে।
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়?
  1.  ৪ 
  2. ১০
  3. ১১
  4. ক+গ
সঠিক উত্তর:
১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ: 
- যুদ্ধ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশকে প্রথমে ১০ এপ্রিল ৪টি সামরিক জোনে এবং পরবর্তীকালে জুলাইতে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই বাহিনীতে।
- আতাউল গণি ওসমানী মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি।
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস- এর বাঙালি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত সৈন্য ব্যাটেলিয়ান ই পি আর পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়। 
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয় যথাক্রমে এস ফোর্স, জেড ফোর্স এবং কে ফোর্স।
   
উৎসঃ  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫.
পাকিস্তান বাহিনী কত হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন?
  1. ৯০ হাজার
  2. ৯১ হাজার 
  3. ৯২ হাজার
  4. ৯৩ হাজার
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ঃ 
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর। 
- মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ৬-১৬ ডিসেম্বর। 
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।
- বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

উৎসঃ  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
সর্বশেষ বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে গণভোটঃ
- এ পর্যন্ত মোট ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। 
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে প্রশাসনিক গণভোট ২ বার অনুষ্ঠিত হয়।
- এবং সাংবিধানিক গণভোট ১ বার অনুষ্ঠিত হয়।
• প্রথম গণভোটঃ
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।
• দ্বিতীয় গণভোটঃ
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।
• তৃতীয় গণভোটঃ
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে। এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭.
১৯৭১ সালের কত তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করা হয়?
  1. ২৫শে মার্চ
  2. ২৬শে জুন
  3. ২৪শে জুলাই
  4. ১লা আগস্ট
সঠিক উত্তর:
১লা আগস্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১লা আগস্ট
ব্যাখ্যা

কনসার্ট ফর বাংলাদেশেঃ
- বিশ্বখ্যাত ভারতীয় সেতরাবাধক রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু ছিলেন গিটারবাধক জর্জ হ্যারিসন। 
- উভয়ে মিলে ১লা আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে ও শরণার্থীদের সাহায্যে তহবিল সংগ্রহ ছিল এই কনসার্টের উদ্দেশ্য।
- সংগীতানুষ্ঠানটি কনসার্ট ফর বাংলাদেশে নামে পরিচিত।
- কনসার্টে সংগৃহীত অর্থ - ইউনিসেফ এর মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্যে দিয়ে দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৮.
নিচের কোন সেক্টরের সদরদপ্তর বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ছিল?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৫নং সেক্টর
  4. ৬নং সেক্টর
সঠিক উত্তর:
৬নং সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

সেক্টর ও সদরদপ্তরঃ 
• ৬ নং সেক্টরঃ
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।
উল্লেখ্য, 
- ১নং সেক্টরের (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র) সদরদপ্তর: হরিণা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ২নং সেক্টর (ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত)সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- এবংসেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।
- ৫নং সেক্টরের (সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- এবং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২৯.
বাংলাদেশে প্রথম জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল কবে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জরুরি অবস্থাঃ
- জরুরি অবস্থা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থে সংকটকালীন অবস্থায় মৌলিক অধিকারে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ।
- জরুরি অবস্থা সংবিধানে যুক্ত হয় ১৯৭৩ সালের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে।
- জরুরি অবস্থার সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ১৪১(ক), ১৪১(খ), ১৪১(গ)।
- জরুরি অবস্থার মেয়াদ সর্বাধিক ১২০ দিন।
- বাংলাদেশে মোট ৫ বার জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।
- ১ম বার জারি হয় ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জারি করা হয়েছিল। এর ফলে দেশজুড়ে বাকস্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছিল এবং সংবাদপত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। 
- ২য় বার ১৯৮১ সালের ৩০ মে, জারি করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার; কারণ-জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড পরবর্তী পরিস্থিতি।
- ৩য় বার ১৯৮৭ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ; কারণ-রাজনৈতিক অস্থিরতা।
- ৪র্থ বার ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর, জারি করেন জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ (দ্বিতীয়বার); কারণ-সরকারবিরোধী আন্দোলন।
- ৫ম বার  ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি, জারি করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ; কারণ- রাজনৈতিক সংকট (১/১১ নামে পরিচিত)।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস.এস.এইচ.এল., বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০.
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে কোন বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থল?
  1. ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান
  2. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  3. সিপাহী হামিদুর রহমান
  4. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা

ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- সেক্টর: ৭ নং।
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।
- সমাধিস্থল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণ।
অন্যদিকে,
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান; মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১ এবং সমাধিস্থল: মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল (২ নং সেক্টর); মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১ এবং সমাধিস্থল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে।
- সিপাহী হামিদুর রহমান (৪ নং সেক্টর); মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১; আর তার সমাধিস্থল: মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান।
- নূর মোহাম্মদ শেখ (৮ নং সেক্টর); মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১ এবং সমাধিস্থল: যশোরের কাশিপুর নামক স্থানে।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৩১.
'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন' কবে গঠন করা হয়?
  1. ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  2. ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  3. ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  4. ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
সঠিক উত্তর:
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
- গঠনের তারিখ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- উদ্দেশ্য: জুলাই ২০২৪-এর গণআন্দোলনে নিহত ও আহতদের সহায়তা ও স্মৃতির সংরক্ষণ।
- প্রধান কার্যক্রম: শহীদ পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রদান, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম।
- পরিচালনা সংস্থা: সরকার-নিযুক্ত ট্রাস্টি বোর্ড।
- বর্তমান প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) (নভেম্ভর-২০২৫) - লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: www.jssfbd.com।

উৎস: প্রথম আলো ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অফ জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।

৩২.
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর' প্রতিষ্ঠা করা হয় কবে?
  1. ৩০ আগস্ট, ২০২৪
  2. ২৭ অক্টোবর, ২০২৪
  3. ২৩ এপ্রিল, ২০২৫
  4. ৩০ এপ্রিল, ২০২৫
সঠিক উত্তর:
২৩ এপ্রিল, ২০২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৩ এপ্রিল, ২০২৫
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরঃ 
- ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহিদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্তকরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং শহিদের পরিবারবর্গকে সহায়তা প্রদান এর মুল লক্ষ্য।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপন দ্বারা 'গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল' গঠন করা হয়।
- সরকার কর্তৃক ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর' প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- 'জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫' গত ১৭ জুন, ২০২৫ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
- ২০ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিধিমালা, ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

উৎস: জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর [লিঙ্ক]।

৩৩.
'জুলাই ৩৬ গেট' কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
  4. সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

জুলাই ৩৬ গেট:
- 'জুলাই ৩৬ গেইট' বাংলাদেশের সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)- এর প্রধান ফটক।
- উদ্বোধনের তারিখ: ৪ জুলাই ২০২৫। 
- উদ্বোধন করেন: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম। 
- উদ্দেশ্য: জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে সংরক্ষণ এবং স্বাধীনতা, ন্যায় ও গণতন্ত্রের চেতনা প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। 
- নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। 
- প্রতীকী অর্থ: জাতীয় সংহতি, সাহস ও শহীদদের আত্মত্যাগের চিহ্ন। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার অনলাইন পোর্টাল।

৩৪.
যশোর জেলা কত তারিখে সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয়?
  1. ১৯৭১ সালের ৩ই ডিসেম্বর 
  2. ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
  3. ১৯৭১ সালের ৮ই ডিসেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের ১০ই ডিসেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ ও যশোর জেলা:
- ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রু মুক্ত হয় যশোর জেলা।
- ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে ২-জনই বৃহত্তর যশোর জেলার কৃতি সন্তান।
- এরা হলো বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সেপাহী হামিদুর রহমান।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যশোরই হল প্রথম শত্রু মুক্ত জেলা।

উৎস: যশোর জেলার ওয়েবসাইট।

৩৫.
'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের' প্রথমটি নির্মিত হয়েছে কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. রংপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. নারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- ২০২৪-এর জুলাই মাসে সংঘটিত গণআন্দোলন ও আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণে।
- বাংলাদেশে ৬৪টি জেলায় একই নকশায় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- প্রথমটি নির্মিত হয়েছে হাজীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-এ ১৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে।
- নির্ধারিত নকশাজুড়ে রয়েছে একটি প্ল্যাটফর্মে স্টিল বা কংক্রিটের স্তম্ভ; দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১৮ ফুট, ব্যাস ৬ ফুট।
- উদ্বোধনের পর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণসহ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
- রাজধানীর ওসমানী উদ্যানেও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হচ্ছে।

উৎস: প্রথম আলো অনলাইন নিউজ।

৩৬.
কোনটি বিগ্রেড ফোর্স নয়?
  1. এস ফোর্স
  2. জেড ফোর্স
  3. এম ফোর্স
  4. কে ফোর্স
সঠিক উত্তর:
এম ফোর্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এম ফোর্স
ব্যাখ্যা

বিগ্রেড ফোর্স :
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস-এর ই পি আর পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়।
- নিয়মিত সেনা ব্যাটেলিয়ান পরে তিনটি বিগ্রেডে পরিণত হয়। 
- বিগ্রেড কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহর ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় এস ফোর্স
- মেজর জিয়াউর রহমানের ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় জেড ফোর্স
- এবং মেজর খালেদ মোশাররফের ইংরেজি নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিগ্রেডের নামকরণ করা হয় কে ফোর্স।
- এম ফোর্স বিগ্রেডের ফোর্স নয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭.
প্রথম সাধারণ নির্বাচন ১৯৭৩-এ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন ছিল কতটি?
  1. ৩০০ টি
  2. ৩১০ টি
  3. ৩১৫ টি
  4. ৩৩০ টি
সঠিক উত্তর:
৩১৫ টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩১৫ টি
ব্যাখ্যা

প্রথম সাধারণ নির্বাচন :
- ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর গণপরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট আসন ৩১৫টি।
- এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ৩০৮, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ১টি, বাংলাদেশ জাতীয়লীগ ১টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা ৫টি আসনে জয়লাভ করেন। 
- নির্বাচনে রাজনৈতিক দল সমূহের প্রার্থী ছিল ১,০৮৯ জন ও স্বতন্ত্র ছিল ১২০ জন।
- অর্থাৎ মোট প্রার্থী ছিল ১,২০৯ জন।
- নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মোট ১৫ জন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহের গেরিলা বাহিনীর নাম কী ছিল?
  1. রফিক মির্জা বাহিনী
  2. আকবর বাহিনী
  3. কুদ্দুস বাহিনী
  4. আফসার বাহিনী
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আফসার বাহিনী
ব্যাখ্যা

আফসার বাহিনী বা ব্যাটালিয়নঃ
- ল্যান্স নায়েক আফসার উদ্দিন ছিলেন আফসার ব্যাটালিয়নের প্রধান।
- আফসার উদ্দিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 
- ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী।
- তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থানার মল্লিকাবাড়ী গ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। 
- এই বাহিনীতে ৪ হাজার ৫০০ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। 
- ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ অংশ, ঢাকা এবং গাজীপুর জেলার কিছু অংশে আফসার ব্যাটালিয়ন তাদের অভিযান পরিচালনা করত। 
- এই বাহিনীর উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ ছিল ভালুকা যুদ্ধ, গফরগাঁও যুদ্ধ, ত্রিশাল যুদ্ধ, শ্রীপুর যুদ্ধ, মির্জাপুর যুদ্ধ ও মুক্তাগাছা যুদ্ধ।
• অন্যান্য গেরিলা বাহিনী-
- টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী।
- সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী।
- ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী।
- ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী।
- বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী।

উৎস: প্রথম আলো [লিঙ্ক] এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
‘বাংলাদেশ অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ’ জারি করে কবে?
  1. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
  3. ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর
  4. ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা

১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নঃ
- সংবিধান হলো একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন। 
- সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য, আদর্শ ও লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়। 
- তৎকালীন সরকার বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ অস্থায়ী সাংবিধানিক আদেশ’ জারী করে।
- এই আদেশে বলা হয়, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা থাকবে।
- এই আদেশে আরো বলা হয় একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান প্রবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত মন্ত্রিসভা বাংলাদেশের একজন নাগরিককে রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন।
উল্লেখ্য,
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
মুক্তিযুদ্ধের এয়ার উইং প্রতিষ্ঠা লাভ করে ভারতের কোন রাজ্যে?
  1. মেঘালয়
  2. মিজোরাম
  3. নাগাল্যান্ড
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে বিমানবাহিনী:
- ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ সালে ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে মুক্তিযুদ্ধের এয়ার উইং প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 
- এয়ার উইংয়ের কাছে একটি ডিসি-৩ বিমান, একটি অটার বিমান এবং একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টারের খুব কম মজুদ ছিল।
- তৎকালীন স্কোয়াড্রন লিডার সুলতান মাহমুদের দক্ষ নির্দেশনায় 'কিলো ফ্লাইট' নামে একটি উড়ন্ত ইউনিট গঠন করেছিলেন।
- ৯ জন বৈমানিক এবং ৫৭ জন বিমান ক্রূর সমন্বয়ে গড়ে ওঠে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কিলো ফ্লাইট।
- বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে একটি হেলিকপ্টার, একটি যুদ্ধবিমান ও একটি পরিবহন বিমান ছিল।
- মুক্তিযুদ্ধে তারা প্রায় ৩৬টি অভিযান পরিচালনা করেন।
- বিমানবাহিনীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অভিযান হলো চট্টগ্রাম তেল শোধনাগার ও নারায়ণগঞ্জ তৈলাধার ধ্বংস ও কুশিয়ারা নদীতে শত্রু নৌযান ধ্বংস।

উৎস: বিমানবাহিনীর ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া। 

৪১.
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী নিধনযজ্ঞ সরাসরি নেতৃত্বে দিয়েছিলেন কে?
  1. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজীর
  2. জেনারেল টিক্কা খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. রাও ফরমান আলী
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা

বুদ্ধিজীবী হত্যা :
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। 
- বুদ্ধিজীবী হত্যা স্পষ্টতই ছিল সামরিক জান্তার নীলনকশার বাস্তবায়ন। 
- নীলনকশার লক্ষ্য ছিল বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চিহ্ন করে বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দেউলিয়ায় পরিণত করা। 
- বুদ্ধিজীবী নিধনের নীলনকশা পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীর নেতৃত্বে অন্যূন দশ জনের একটি কমিটি কর্তৃক প্রণীত হয়।
- ১৪ ডিসেম্বরের নিধনযজ্ঞ সরাসরি রাও ফরমান আলী কর্তৃক পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর গভর্নর হাউজে ফেলে যাওয়া রাও ফরমান আলীর ডায়েরীর পাতায় বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একটি তালিকা পাওয়া যায় (যাঁদের অধিকাংশই ১৪ ডিসেম্বরে নিহত হন)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২.
বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা
  2. সংবিধান প্রণয়ন
  3. পরিকল্পনা কমিশন গঠন করা
  4. সরকার গঠন
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদ :
- সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করে। 
- সংবিধান প্রণয়নই ছিল গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য।
- আদেশটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়।
- এই আদেশ জারির মধ্য দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। 
- ৪৩০ সদস্য বিশিষ্ট গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট ‘একটা খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি’ গঠিত হয়।
- বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন এই খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি একমাত্র মহিলা সদস্য।
- এই কমিটি মোট ৭৪টি বৈঠকে মিলিত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ জুন অনুষ্ঠিত সভায় সংবিধানের প্রাথমিক খসড়া অনুমোদন করে।
- ১২ অক্টোবর গণপরিষদের দ্বিতীয় অধিবেশনে খসড়া সংবিধান বিল আকারে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়।

উৎস:  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
মুক্তিযুদ্ধে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোন দেশের সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে?
  1. সৌদি আরব
  2. আমেরিকা
  3. চীন
  4. যুক্তরাজ্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ভুমিকা :
- যুক্তরাজ্যের নীতির মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের কাঠামোর অভ্যন্তরে বাঙালির স্বাধীকার সমস্যার সমাধান করা।
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য সরকার নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে।
- বাংলাদেশের ঘটনায় ব্রিটেন সরকারিভাবে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে এবং ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের জন্য ব্রিটিশ সরকার আন্তর্জাতিক ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করে। 
- ব্রিটিশ সরকারের নিরপেক্ষ নীতির কারণে ব্রিটেনের পত্র-পত্রিকায় ও বেতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে প্রচারণা সহজতর হয়েছিল। 
- ব্রিটেনের মাটিকে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তোলার জন্য কোন সরকারি বাধা বিঘ্ন ছাড়াই জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিল। 
অন্যদিকে,
- চীন পাকিস্তানকে সমর্থন করেছে। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করে।
- সৌদি আরব, ইরান, ইরাক প্রভৃতি দেশসমূহ এবং ওআইসি বাংলাদেশে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদ করেনি। 
- বরং পাকিস্তানকে সমর্থন করতে বিশ্বের মুসলমানদের আহ্বান জানিয়েছে।

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।