পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১১ বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান বিষয়ক) টপিক: মানবদেহ, রোগ ও প্রতিষেধক, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও পরিবেশ বিজ্ঞান। উৎস: ষষ্ঠ থেকে মাধ্যমিক শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির জীববিজ্ঞান বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
হিমোফিলিয়া রোগটি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. অস্থি
  2. রক্ত
  3. ত্বক
  4. লালা
সঠিক উত্তর:
রক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্ত
ব্যাখ্যা
হিমোফিলিয়া (Hemophilia) হলো একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ অর্থাৎ এটি রক্তের সাথে সম্পর্কিত।
-  এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী প্রোটিনের ঘাটতি থাকে।
-  এর ফলে সামান্য আঘাতেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হতে দেরি হয় বা বন্ধ হয় না।
-  এটি এক্স লিঙ্কড ডিজঅর্ডার বা এক্স ক্রোমোসোম বাহিত রোগ, যা সাধারণত ছেলেদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। 
-  কারন যেহেতু এটি কেবল এক্স ক্রমোসোম এর মাধ্যমে বাহিত হয় এবং ছেলেদের মধ্যে একটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে তাই সেটি আক্রান্ত থাকলে ছেলেদের মধ্যে রোগটি হয়। কিন্তু মেয়েদের মধ্যে দুটি এক্স ক্রোমোসোম থাকে বিধায় একটি এক্স আক্রান্ত থাকলেও মেয়েদের মাঝে রোগ প্রকট না হয়ে মেয়েরা বাহক ও হতে পারে। 

হিমোফিলিয়া দুইরকমের হয়ে থাকে। এগুলো হলো- 
- Hemophilia A: রক্ত জমাট বাঁধার Factor VIII এর অভাবে এটি হয়।
- Hemophilia B: রক্ত জমাট বাঁধার Factor IX এর অভাবে এটি হয়। 

• হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষন:
- সহজে রক্তপাত হওয়া।
- হাড়-জোড়ায় রক্ত জমা হওয়া।
- দাঁতের চিকিৎসা বা কাটা লাগলে দীর্ঘ সময় রক্ত পড়া।
- মস্তিষ্কে রক্তপাত মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে,
 অস্থি: হাড়ের সমস্যা যেমন অস্টিওপোরোসিস বা রিকেটস রোগ হাড়ের সাথে সম্পর্কিত।

 ত্বক: ত্বকের সমস্যা যেমন ছত্রাক ঘটিত, এলার্জি বা চর্মরোগ এখানে প্রযোজ্য নয়।

লালা: লালার সমস্যা মূলত মুখগহ্বর বা হজমসংক্রান্ত হয়, হিমোফিলিয়ার সাথে সম্পর্ক নেই।

তথ্যসূত্র
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
.
মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী কোনটি?
  1. ট্রাইসেপ পেশী
  2. ডেল্টয়েড পেশী
  3. স্টেপিডিয়াস পেশী
  4. ম্যাসিয়েটর পেশী
সঠিক উত্তর:
স্টেপিডিয়াস পেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্টেপিডিয়াস পেশী
ব্যাখ্যা
• স্টেপিডিয়াস পেশী (Stapedius muscle) হল মানবদেহের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম পেশী। এটি মধ্যকর্ণে অবস্থিত এবং স্টেপিস (stapes) নামক ক্ষুদ্র হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত।

অবস্থান: কানের মধ্যভাগে (middle ear) ।
দৈর্ঘ্য: মাত্র ১–১.৩ মিলিমিটার, যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে ছোট পেশীতে পরিণত করে।
কাজ: এই পেশীটি স্টেপিস (stapes) নামক হাড়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি উচ্চ শব্দের সময়  কানকে সুরক্ষা দেয়।
গুরুত্ব: শব্দ তরঙ্গের অতিরিক্ত কম্পন প্রতিহত করে শ্রবণ সংবেদনকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

ট্রাইসেপ পেশী:
-  অবস্থান: বাহুর পিছনে (upper arm)। 
-  কাজ: বাহু সোজা করতে সাহায্য করে (extension)। 
-  আকার: বড় ও সুগঠিত পেশী। 
-  সবচেয়ে ক্ষুদ্র নয়, বরং একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী পেশী। 

ডেল্টয়েড পেশী:
-  অবস্থান: কাঁধে ।
-  কাজ: বাহু উপরে ওঠানো, পাশে সরানো ইত্যাদি ।
-  এটা একাধিক পেশীতন্তু দ্বারা  গঠিত, বৃহৎ ও বহুমুখী কার্যক্ষম পেশী ।

• ম্যাসিয়েটর পেশী:
-  অবস্থান: চোয়ালের পাশে ।
-  কাজ: চিবানো এবং মুখ বন্ধ করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
-  এটি মানবদেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশীগুলোর একটি, কিন্তু ক্ষুদ্রতম নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Encyclopedia Britannica.
.
জন্ডিসের কারণ হিসেবে দায়ী বিলিরুবিন মানবদেহের কোন অংশে তৈরি হয়?
  1. মস্তিস্ক
  2. লিভার
  3. কিডনি
  4. ফুস্ফুস
সঠিক উত্তর:
লিভার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লিভার
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি হলুদ রঞ্জক পদার্থ যা যকৃত বা লিভারে লাল রক্তকণিকার (RBC) ভাঙনের ফলে তৈরি হয়।  লোহিত রক্তকণিকা ১২০ দিন পরপর  যখন  ধ্বংস হয়, তখন হিমোগ্লোবিন ভেঙে গিয়ে বিলিরুবিন উৎপন্ন হয়। 

এই প্রক্রিয়া যেসব ধাপে ঘটে:
-  যকৃতের কাফার কোষে RBC ভাঙে → হিম(আয়রন)  → বিলিভারডিন → বিলিরুবিন। 
- লিভার বিলিরুবিনকে প্রক্রিয়াজাত করে পিত্ত (Bile) এর মাধ্যমে তা নিঃসৃত করে দেয়। 
- যদি এই বিলিরুবিন লিভার থেকে নিঃসরণের পরিমাণ অতিরিক্ত হয়, তবে তা রক্তে অত্যধিক হয়ে যায় এবং ত্বক ও চোখ হলুদ হয়ে যায়, যাকে জন্ডিস (Jaundice) বলে।

অন্যদিকে,  
• মস্তিষ্ক: বিলিরুবিন তৈরি হয় না, তবে অতিরিক্ত বিলিরুবিন (বিশেষ করে নবজাতকদের ক্ষেত্রে) ব্রেইনে ক্ষতি করতে পারে।

কিডনি: রক্ত পরিশোধন করে রক্তের দূষিত পদার্থ দূর করে। কিন্তু এখানে বিলিরুবিন তৈরি হয় না। 

• ফুসফুস: এখানে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটে। এটি বিলিরুবিন সংশ্লিষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- National Institute of Health (NIH).
.
নদী ভরাট বা দখল পরিবেশে কী প্রভাব ফেলে?
  1. নদীর গভীরতা বাড়ে।
  2. মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
  3. বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
  4. পানির প্রবাহ দ্রুত হয়।
সঠিক উত্তর:
বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যার ঝুঁকি বাড়ে।
ব্যাখ্যা
• নদী ভরাট বা দখল করার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়ে। যার ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। 

এতে যা ঘটে থাকে —
-  নদীর ধারণক্ষমতা কমে যায়।
-  বর্ষার সময় অতিরিক্ত পানি নদীতে জায়গা না পেয়ে প্লাবিত হয়।
ফলে বন্যার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।

এছাড়াও,
• নদী ভরাট বা দখলের কারণে— 
- জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
-  মৎস্য সম্পদ হ্রাস পায়।
- জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হয়।

তথ্যসূত্র: 
-  সপ্তম শ্রেণি, বিজ্ঞান ও পরিবেশ ; জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-  বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB): নদী ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ বিষয়ে প্রতিবেদন।
.
প্লাজমা কী?
  1. রক্তের কঠিন অংশ।
  2. রক্তের তরল অংশ।
  3. হাড়ের তরল ।
  4. মজ্জার উপাদান।
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রক্তের তরল অংশ।
ব্যাখ্যা
প্লাজমা বা রক্তরস হল রক্তের একটি তরল উপাদান। রক্তের দুইটি উপাদান হলো রক্তরস ও রক্তকণিকা। 
রক্তরস রক্তের মোট আয়তনের প্রায় ৫৫% অংশ নিয়ে গঠিত এবং এতে প্রধানত পানি (৯০-৯২%), পাশাপাশি বিভিন্ন দ্রবীভূত পদার্থ থাকে।

রক্তরসের উপাদান:
পানি : রক্তের প্রধান উপাদান ও  মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

প্রোটিন (Plasma Proteins): অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন প্রভৃতি প্রোটিন থাকে।  

- গ্লুকোজ ও অ্যামিনো অ্যাসিড: কোষের শক্তির উৎস

ইলেকট্রোলাইট: সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি – কোষীয় কার্যকলাপে সহায়তা করে

- হরমোন ও এনজাইম: শরীরের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়

- বর্জ্য পদার্থ: যেমন: ইউরিয়া, কার্বন ডাই-অক্সাইড – এগুলো রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়
  
• রক্তরস বা প্লাজমার কাজ:
- কোষগুলিকে ভেসে থাকতে সহায়তা করে (RBC, WBC, Platelets)। 
- পুষ্টি, হরমোন ও বর্জ্য পরিবহন করে। 
- অসুখে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। 
- রক্তচাপ ও pH ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- জমাট বাঁধার উপকরণ সরবরাহ করে (ফাইব্রিনোজেন)। 

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
.
নিচের কোনটি জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব?
  1. মেঘলা আবহাওয়া।
  2. অস্থায়ী বৃষ্টি।
  3. মরুকরণ
  4. নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি।
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মরুকরণ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:  জলবায়ু (Climate) হলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান আবহাওয়ার গড় অবস্থা। এর মধ্যে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বাতাসের গতি ও দিক ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের আবহাওয়ার পরিসংখ্যান থেকে একটি অঞ্চলের জলবায়ু নির্ধারিত হয়।

জলবায়ু পরিবর্তন হলো পৃথিবীর জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন যা প্রাকৃতিক কারণ অথবা মানুষের কার্যকলাপের কারণে ঘটতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ের জলবায়ু পরিবর্তন মূলত গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন) বৃদ্ধির কারণে হচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা (Global Warming) সৃষ্টি করছে।

• জলবায় পরিবর্তনের কারনসমুহ- 
-  জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো (কয়লা, গ্যাস, তেল)
-  বনভূমি ধ্বংস (Deforestation)
-  শিল্প ও যানবাহনের নির্গত গ্যাস
-  গবাদিপশু খামারের মিথেন গ্যাস
 
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
- মরুকরণ। 
- গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি । 
- হিমবাহ গলে যাওয়া। 
- জৈববৈচিত্র্যের ক্ষতি। 
- কৃষিজ উৎপাদনে বিঘ্ন। 
• মরুকরণ হলো এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যেখানে উর্বর জমি ধীরে ধীরে অনুৎপাদনশীল, শুষ্ক ও অনুর্বর হয়ে পড়ে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুতর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।

অন্যদিকে,
- মেঘলা আবহাওয়া: এটি স্বল্পমেয়াদী জলবায়ুর আচরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নয়।

- অস্থায়ী বৃষ্টি: এটি আবহাওয়ার একটি সাময়িক বৈচিত্র্য, জলবায়ুর নয়।

- নদীতে মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি: এটি জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাভাবিক বা প্রত্যাশিত প্রভাব নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তথ্যসূত্র: 
- মাধ্যমিক শ্রেনীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB)। 
- বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর (DOE) প্রকাশনা। 
- Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) Reports
.
ওজোন স্তর কিসের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. CFC গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন মনোক্সাইড
সঠিক উত্তর:
CFC গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
CFC গ্যাস
ব্যাখ্যা
• ওজোন স্তর হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত একটি গ্যাসীয় স্তর, যেখানে ওজোন (O₃) গ্যাসের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি।

- এই স্তরটি পৃথিবীর পৃষ্ঠকে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি থেকে রক্ষা করে। UV-B রশ্মি ত্বক ক্যান্সার, চোখের ছানি এবং উদ্ভিদের DNA ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- ওজোন স্তর এই ক্ষতিকর রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে।

CFC:
- CFC বা ক্লোরোফ্লুরো-কার্বন  (Chlorofluorocarbon) হলো এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা প্রধানত রেফ্রিজারেটর, এসি, স্প্রে ক্যান এবং ফোম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- যখন CFC বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে যায়, তখন সূর্যের UV রশ্মির কারণে তা ভেঙে যায় এবং ক্লোরিন (Cl) মুক্ত হয়।
- এই ক্লোরিন ওজোন অণুর (O₃) সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে, যার ফলে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটে।
- একটি CFC অণু প্রায় 1,00,000 ওজোন অণু ধ্বংস করতে পারে।
- এর ফলে ওজোন স্তর পাতলা হয়ে যায়, যার ফলে সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (UV) রশ্মি পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছে ত্বকের ক্যানসার, চোখের সমস্যা ও পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
অর্থাৎ ওজন স্তর CFC গ্যাস এর কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর ভুগোল ও পরিবেশ (NCTB).
- DOE Bangladesh – পরিবেশ অধিদপ্তর।
- UNEP (United Nations Environment Programme)
.
কলেরা রোগের মূল কারণ কী?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
• কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ডায়রিয়া এবং পানি শূন্যতা (dehydration)।

- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

রোগের লক্ষণ- 
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া। 
- বমি
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়।

প্রতিকারের উপায়- 
- বিশুদ্ধ পানি পান করা। 
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine – OCV) গ্রহণ। 
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO).
.
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী?
  1. ভাইরাস ধ্বংস করে।
  2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
  3. প্রোটিন বাড়ায়।
  4. কোষ বিভাজন বন্ধ করে।
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) হল একধরনের ঔষধ যা ব্যাকটেরিয়া-জনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে:
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)। 
- ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)। 

আন্টিবায়োটিক গ্রহনে সতর্কতা- 
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
- কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে। 
- ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে

তথ্যসূত্র: 
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ । 
- WHO (World Health Organization). 
১০.
COVID-19 রোগটি কোন অঙ্গকে প্রধানভাবে প্রভাবিত করে?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. পাকস্থলী
  3. ফুসফুস
  4. মস্তিষ্ক
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা
• COVID-19 রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসটির নাম SARS-CoV-2, যা করোনাভাইরাস গোত্রের সদস্য। এটি একটি RNA ভাইরাস, যা প্রধানত মানুষের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। ভাইরাসটি সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি অথবা স্পর্শের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

• এটি একটি সংক্রামক রোগ, যা ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের উহান শহরে প্রথম সনাক্ত হয়। অল্প সময়েই এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ১১ মার্চ, ২০২০-তে একে বৈশ্বিক মহামারী (Pandemic) ঘোষণা করে।

এর লক্ষণ-
- জ্বর 
- শুষ্ক কাশি
- শ্বাসকষ্ট
- গলা ব্যথা, ক্লান্তি। 
- গন্ধ/স্বাদ হারানো। 
- গাঁট ব্যথা, মাথাব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ। 
-  অনেকে অসিম্পটোমেটিক (লক্ষণহীন) হলেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
 
ফুস্ফুসে যেভাবে সংক্রমন ঘটায়
- ফুসফুসের ভেতরে সংক্রমণ ঘটায়। 
- শ্বাসতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। 
- গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ফুসফুসে তরল জমা, বা অক্সিজেন স্বল্পতা দেখা দেয়। 

গুরুতর অবস্থায়
- Acute Respiratory Distress Syndrome (ARDS) হতে পারে । 
- ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়।
- কখনো কখনো এটি মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- WHO (World Health Organization): “COVID-19 and the Lung.
১১.
স্ট্রোক হলে শরীরে সাধারণত কোন প্রভাব দেখা যায়?
  1. উচ্চ রক্তচাপ কমে
  2. হজম সমস্যা
  3. স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
  4. হাড় দুর্বল হয়
সঠিক উত্তর:
স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়বিক কাজ বন্ধ হয়
ব্যাখ্যা
• স্ট্রোক (Stroke) হলো একটি মেডিকেল ইমারজেন্সি যেখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় বা রক্তক্ষরণ হয়।
এতে ঐ অংশের স্নায়ুকোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি পায় না, ফলে তা দ্রুত মারা যেতে শুরু করে। ফলে স্নায়ুবিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

শরীরে যে প্রভাব দেখা দেয়- 
- হঠাৎ করে শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া। 
- কথা বলায় অসুবিধা। 
- চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাস।
- চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো। 
- স্মৃতি ও বোধশক্তির সমস্যা। 

অন্যদিকে, 
উচ্চ রক্তচাপ কমে → এটি সঠিক নয়।  বরং স্ট্রোকের সময় রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।

হজম সমস্যা → এটি সরাসরি স্ট্রোকের সাথে সম্পর্কিত নয়।

হাড় দুর্বল হয় → স্ট্রোক হাড়ের সমস্যা তৈরি করে না, যদিও দীর্ঘমেয়াদে চলাফেরা না করলে হাড় দুর্বল হতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- WHO: Stroke Facts.
১২.
কোন রোগটি পানিবাহিত নয়?
  1. কলেরা
  2. টাইফয়েড
  3. যক্ষা
  4. হেপাটাইটিস-A
সঠিক উত্তর:
যক্ষা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যক্ষা
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ: পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। 

পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো
- কলেরা
- টাইফয়েড
- হেপাটাইটিস A 
- ডায়রিয়া
- আমাশয়

পানিবাহিত রোগের কারন - 
- অপরিষ্কার পানি পান করা।
- দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া।
- সঠিক স্যানিটেশন না থাকা।
- অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার।

অন্যদিকে, 
যক্ষা (Tuberculosis) পানিবাহিত রোগ নয়।  বরং এটি  হলো একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- World Health Organization (WHO) – Waterborne Diseases.
১৩.
কোনটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ নয়?
  1. টিকা প্রদান
  2. বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ
  3. রক্তপরীক্ষা
  4. কসমেটিক সার্জারি
সঠিক উত্তর:
কসমেটিক সার্জারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কসমেটিক সার্জারি
ব্যাখ্যা
• প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা হলো এমন একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, যা জনগণের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য রক্ষায়, রোগ প্রতিরোধে ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানে সহায়ক।
এটি সাধারণত সরকার বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয় এবং সবার জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও কার্যকর হয়ে থাকে।

• প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ- 
⇒ টিকা প্রদান (Vaccination):
  - শিশুদের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে দেওয়া হয় (যেমন: পোলিও, হাম, ডিপথেরিয়া)।
  -  এটি একটি প্রধান প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা।

⇒ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ:
- পানিবাহিত রোগ যেমন কলেরা, টাইফয়েড প্রতিরোধে অপরিহার্য।

⇒ রক্তপরীক্ষা (Blood test):
- বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে সহায়ক যেমন: ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
কসমেটিক সার্জারির বৈশিষ্ট্য হলো
- এটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্গত নয়।
- এর উদ্দেশ্য শরীরের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা, যেমন: নাক সোজা করা, ত্বক টানটান করা ইত্যাদি।
- এটি বিশেষায়িত চিকিৎসা (Specialized care) এবং অনেক ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক (Elective Procedure) হিসেবে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ। 
- World Health Organization (WHO): What is Primary Health Care.
১৪.
হৃদপিণ্ড থেকে ফুস্ফুসে রক্ত সরবরাহ করে কোন রক্তনালী?
  1. হেপাটিক শিরা
  2. কার্ডিয়াক ধমনী
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
সঠিক উত্তর:
পালমোনারি ধমনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
• যেসব নালীর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে সারাদেহে বা সারাদেহ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ড তে সঞ্চালিত হয় সেগুলো কে বলা হয় রক্তনালী। 

• পালমোনারি ধমনী (Pulmonary Artery) হল সেই রক্তনালী, যা হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় (right ventricle) থেকে ফুসফুসে (lungs) রক্ত বহন করে।

- এ ধমনী শরীরের একমাত্র ধমনী, যা অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত বহন করে।
-  অধিকাংশ ধমনী অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে, কিন্তু পালমোনারি ধমনী ব্যতিক্রম—এটি অক্সিজেনবিহীন রক্তকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। 

- পরবর্তীতে ফুস্ফুস থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দ বা আট্রিয়ামে ফিরে আসে। পালমোনারি শিরা আবার দেহের একমাত্র শিরা যা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বহন করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Gray's Anatomy – The Anatomical Basis of Clinical Practice.
১৫.
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘থ্রি আর’ (3R) কী বোঝায়?
  1. Reduce, Reuse, Recycle
  2. Restore, Remove, Rotate
  3. Raise, Return, Replant
  4. Repair, Renew, Reconnect
সঠিক উত্তর:
Reduce, Reuse, Recycle
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Reduce, Reuse, Recycle
ব্যাখ্যা
থ্রি আর (3R) বলতে বোঝায় —
-  Reduce (হ্রাস করো)
-  Reuse (পুনঃব্যবহার করো)
- Recycle (পুনঃচক্রায়ন করো)

• এগুলো পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সর্বাধিক ব্যবহৃত একটি টেকসই পরিবেশনীতি বা sustainable environmental strategy, যা মানুষের উৎপাদন ও ব্যবহার-সংক্রান্ত অভ্যাসকে সচেতন ও পরিবেশবান্ধব করতে সাহায্য করে।

3R এর উদ্দেশ্য- 
- Reduce
→ অপচয় হ্রাস করো।
→ অপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবহার কমাও।
 উদাহরণ: প্লাস্টিক ব্যাগের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার।

- Reuse
→ কোনো বস্তু বারবার ব্যবহার করো।
 উদাহরণ: কাচের বোতল বা কৌটা আবার ব্যবহার করা।

- Recycle
→ পুরাতন বস্তু পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নতুনভাবে ব্যবহার করো।
 উদাহরণ: পুরাতন কাগজ দিয়ে নতুন কাগজ তৈরি। 

তথ্যসূত্র:
- United Nations Environment Programme (UNEP).
১৬.
কোনটি একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান?
  1. আগ্নেয়গিরির ছাই
  2. গাড়ির ধোঁয়া
  3. কলকারখানার বর্জ্য
  4. কৃষিজ রাসায়নিক
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির ছাই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্নেয়গিরির ছাই
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির ছাই একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান, যেটি কোনও মানব ক্রিয়ার ফল নয়।

-  আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, গ্যাস এবং লাভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়ুমণ্ডলে ও পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক দূষণ সৃষ্টি করে।
-  তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের অংশ।

অপরদিকে, 
গাড়ির ধোঁয়া: 
- এটি একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উপাদান।
- বিভিন্ন যানবাহন পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) নির্গত হয়।
- এসব উপাদান বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

• কলকারখানার বর্জ্য: 
- এটিও একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উৎস।
- শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন– রাসায়নিক, তেল, ভারী ধাতু (lead, mercury), এবং বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।
- এগুলো জলদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কৃষিজ রাসায়নিক:
- এটি মানুষ কর্তৃক চাষের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান যেমন– সার (fertilizer), কীটনাশক (pesticide), আগাছানাশক (herbicide)।
- এইসব রাসায়নিক উপাদান মাটির গুণমান নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে, এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থ যোগ করে।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
১৭.
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. অধিক শিকার
  2. অধিক বৃক্ষনিধন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে বোঝায়—প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে এমনভাবে রক্ষা করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা ব্যবহার করতে পারে।
- এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় টেকসই উন্নয়ন,
যার মূলনীতি হলো:
“বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।”  

টেকসই উন্নয়নের মূল দিকগুলো:
- পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- সামাজিক ন্যায্যতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। 

এই তিনটি দিক একসঙ্গে সমন্বয় করেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব।

অন্যদিকে, 
অধিক শিকার:
এটি বন্যপ্রাণীর সংখ্যা হ্রাস করে এবং জৈব বৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। পরিবেশ সংরক্ষণের পরিপন্থী।

অধিক বৃক্ষনিধন:
বৃক্ষ কেটে ফেলার ফলে বায়ু দূষণ বাড়ে, জলবায়ু পরিবর্তন হয় এবং মাটির ক্ষয় ঘটে। এটি পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি:
কীটনাশক ও সার অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও খাদ্যদূষণ ঘটে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি, NCTB ।
১৮.
যক্ষ্মার (Tuberculosis) প্রতিষেধক BCG টিকা কোন ধরণের অনাক্রম্যতা (immunity) প্রদান করে?
  1. কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  2. প্রাকৃতিক সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  3. কৃত্রিম নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
  4. প্রাকৃতিক নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা
ব্যাখ্যা
• অনাক্রম্যতা হল একটি  প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশেষ কোন  একটি প্যাথোজেন বা সংক্রামক রোগের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। 
- অনাক্রম্যতা প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে পারে বা পূর্বে কোন রোগের মাধ্যমে ইমিউনাইজেশন দ্বারা তৈরি হতে পারে।

• BCG টিকা (Bacillus Calmette–Guérin) একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রতিষেধক, যা টিউবারকুলোসিস বা যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- এটি মানবদেহে কৃত্রিমভাবে জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত জীবাণু প্রবেশ করিয়ে শরীরকে ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- এই প্রক্রিয়ায় দেহ নিজে থেকে প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি করে, 
- ফলে দেহে তৈরি হয় কৃত্রিম ও সক্রিয় অনাক্রম্যতা। 

• সক্রিয়তার দিক থেকে  অনাক্রম্যতা দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 

⇒ সক্রিয় অনাক্রম্যতা – দেহ নিজে প্রতিরক্ষা তৈরি করে। এটি আবার দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 
 - প্রাকৃতিক: সংক্রমণের পর (রোগ হয়ে যাওয়ার পর)। 
-  কৃত্রিম: টিকার মাধ্যমে (যেমন BCG, Polio)। 

নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা: প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরাসরি দেহে প্রবেশ করানো হয়। এটি দুই প্রকার। 
- প্রাকৃতিক: মাতৃদুগ্ধ বা গর্ভকালীন সংক্রমণ প্রতিরোধ।
- কৃত্রিম: সেরাম বা অ্যান্টিবডি ইনজেকশন । 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- World Health Organization (WHO).
১৯.
পোলিও রোগে শরীরের কোন অংশ প্রধানত আক্রান্ত হয়?
  1. হৃৎপিণ্ড
  2. ফুসফুস
  3. স্নায়ুতন্ত্র
  4. ত্বক
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্নায়ুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• পোলিও একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা Poliovirus দ্বারা হয়ে থাকে।

- এই ভাইরাস প্রধানত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে। 
- এটি মস্তিষ্কের এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ু কোষগুলোর ওপর আক্রমণ করে, ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে বা সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। এই কারণে পোলিওকে নিউরো-ভাইরাসজনিত রোগ বলা হয়। 
- এটি সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, তাই একে "শিশুদের পক্ষাঘাত রোগ" নামেও অভিহিত করা হয়।

প্রধান লক্ষণ: 
- পেশির দুর্বলতা। 
- হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া। 
- পক্ষাঘাত
-  জ্বর
-  মাথাব্যথা

প্রতিরোধ
- পোলিও প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো পোলিও টিকা গ্রহণ।
- বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়মিতভাবে পোলিও টিকা প্রদান করা হয়।

পোলিও নির্মূলে গৃহীত পদক্ষেপ
 - ১৯৮৮ সালে WHO, UNICEF এবং অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী Polio Eradication Initiative শুরু হয়।
- বাংলাদেশ এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং পোলিও নির্মূলের দিক থেকে অনেকটাই অগ্রগতি সাধন করেছে।

তথ্যসূত্র: 
- সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।
২০.
‘ORS’ ব্যবহৃত হয় —
  1. গ্যাস দূর করতে
  2. পানিশূন্যতা রোধে
  3. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
  4. হজম বাড়াতে
সঠিক উত্তর:
পানিশূন্যতা রোধে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিশূন্যতা রোধে
ব্যাখ্যা
• পানিশূন্যতা হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যখন দেহে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ও লবণের ঘাটতি ঘটে। 

এর কারন
- ডায়রিয়া (পাতলা পায়খানা)
- বমি
- অতিরিক্ত ঘাম
- জ্বর
- অল্প পানি পান করা

ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য। 
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।

ORS-এ থাকা উপাদান
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড)
- গ্লুকোজ
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড
-সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

এই উপাদানগুলো শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে এবং দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF)।