পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২ টপিক: বানান শুদ্ধীকরণ [লাইভ ক্লাস - ৩ ও ৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) গ্রিস
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) ইতালী
  4. ঘ) হাঙ্গেরি
সঠিক উত্তর:
গ) ইতালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ইতালী
ব্যাখ্যা
যে কোন দেশ, জাতি ও ভাষার নাম লিখতে ই/ঈ কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে ই-কার ব্যবহৃত হবে। যেমন- 
দেশ: গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি ইত্যাদি।
[ব্যতিক্রম- মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা]
জাতি: বাঙালি, জার্মানি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।
ভাষা: হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষাও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।
.
বানানের ক্ষেত্রে নিচের কোন নিয়মটি সঠিক?
  1. ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
  2. খ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম কোনো শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণে ঈ-কার যুক্ত হবে না।
  3. গ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের পর বিসর্গ যুক্ত হবে।
  4. ঘ) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ হবে।
সঠিক উত্তর:
ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রেফ এর পর তৎসম ও অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
ব্যাখ্যা
রেফ এর পর তৎসম, অতৎসম শব্দে ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না।
যেমন:
- কার্য্যালয় হবে না, সঠিক বানান হবে কার্যালয়।
- নির্দ্দিষ্ট হবে না, সঠিক বানান নির্দিষ্ট।
- ধর্ম্মসভা বানানটি ভুল, সঠিক বানান হবে ধর্মসভা।
- তেমনি ভাবে পর্ব্বত হবে না , সঠিক বানান হবে পর্বত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) স্ট্রিট
  2. খ) কিশমিশ
  3. গ) স্টেশন
  4. ঘ) ফটোষ্ট্যাট
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফটোষ্ট্যাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ফটোষ্ট্যাট
ব্যাখ্যা
বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো ‘ষ’ লেখা যাবে না।
যেমন: 
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।

তেমনইভাবে ষ্টেশন, ষ্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে কোন কারবর্ণটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) উ-কার
  2. খ) ঈ-কার
  3. গ) এ-কার
  4. ঘ) ই-কার
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই-কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ই-কার
ব্যাখ্যা
• আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে সোনালী ব্যাংক নামটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধন করা হয়েছে। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. গভর্ণর
  2. অঘ্রাণ
  3. ঝরণা
  4. পরাণ
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অঘ্রাণ
ব্যাখ্যা
• অঘ্রাণ বানানটি শুদ্ধ।

• অতৎসম শব্দের বানানে ক্ষেত্রে ‘ণ’ ব্যবহার করা যাবে না।
যেমন:
- অতৎসম শব্দ ঝরণা, গভর্ণর বানানগুলো ভুল, সঠিক বানান ঝরনা, গভর্নর।

তেমনভাবে অতৎসম শব্দ ইরান, কান, কোরান, গুনতি, গোনা, ধরন, পরান, রানি, সোনা, হর্ন বানানগুলো সঠিক।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
সন্ধির ক্ষেত্রে ‘ক, খ, গ, ঘ’ বর্ণ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ হবে-
  1. ক) ঃ
  2. খ) ঞ
  3. গ) ং
  4. ঘ) ঙ
সঠিক উত্তর:
গ) ং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ং
ব্যাখ্যা
• সন্ধির ক্ষেত্রে ‘ক, খ, গ, ঘ’ বর্ণ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ হবে অনুস্বার (ং) হবে।
যেমন:
• অহম্+কার = অহংকার।

এভাবে ভয়ংকর, অলংকার, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন ইত্যাদি শব্দ গঠিত।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
“আহ্বান” শব্দের বিশেষণ রূপ কোনটি?
  1. ক) অহিত
  2. খ) আহরিত
  3. গ) আন্বিত
  4. ঘ) আহূত
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহূত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আহূত
ব্যাখ্যা
• 'আহ্বান' শব্দের বিশেষণ রূপ = 'আহূত'

• আহ্বান (বিশেষ্য)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = আ+√হ্বে+অন
অর্থ: 
- নিমন্ত্রন, আমন্ত্রন
- সম্বোধন, ডাক 

• আহূত (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
অর্থ: আহ্বান করা হয়েছে এমন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
তা-প্রত্যয়যোগে কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. ক) উৎকর্ষতা
  2. খ) দারিদ্র্যতা
  3. গ) কৃপণতা
  4. ঘ) আলস্যতা
সঠিক উত্তর:
গ) কৃপণতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কৃপণতা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

• শুদ্ধ- কৃপণতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয়- কৃপণ+তা
অর্থ: ব্যয়কুন্ঠতা, অনুদারতা, কঞ্জুসি।

অশুদ্ধ কয়েকটি শব্দের শদ্ধরূপ দেয়া হলো:
অশুদ্ধ - আলস্যতা
• শুদ্ধ -অলসতা 
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - অলস+তা
অর্থ: কুঁড়েমি, জড়তা, শ্রমবিমুখতা।

অশুদ্ধ - দারিদ্র্যতা
• শুদ্ধ - দরিদ্রতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - দরিদ্র+তা
অর্থ: দারিদ্রর‌্য।

অশুদ্ধ - উৎকর্ষতা
• শুদ্ধ - উৎকৃষ্টতা
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় - উৎ+কৃষ্+তা
অর্থ: উওম, শ্রেষ্ঠ, উন্নত ।

উৎস:  ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও  বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বানানের নিয়ম অনুসারে কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. ক) খেয়ালি
  2. খ) হেঁয়ালি
  3. গ) সোনালী
  4. ঘ) মিতালি
সঠিক উত্তর:
গ) সোনালী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনালী
ব্যাখ্যা
• আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই-কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন- সোনালি, মিতালি, বর্ণালি, খেয়ালি, রুপালি, হেঁয়ালি ইত্যাদি।

[ তবে ‘সোনালী ব্যাংক’ এর (সোনালী) বানানটি ব্যাংক কর্তৃক এভাবেই নিবন্ধিত। তাই সোনালী ব্যাংক লিখতে সোনালী শব্দটিই ব্যবহৃত হবে। যদিও বানানের নিয়ম অনুসারে (সোনালী) শব্দের সঠিক বানান সোনালি।]

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) অনূঢ়া
  2. খ) অনূদিত
  3. গ) অনূপ
  4. ঘ) অনূভুতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনূভুতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনূভুতি
ব্যাখ্যা
• অনূঢ়/অনূঢ়া, অনূপ, অনূর্ধ্ব, অনূদিত এই চারটি শব্দ ছাড়া সব অনু বানানে উ-কার হবে।
যেমন- অনুকার, অনুভূতি, অনুকরণ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান,।
১১.
উ-কারের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) নুতন
  2. খ) নুপুর
  3. গ) ন্যুন
  4. ঘ) নুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নুর
ব্যাখ্যা
• নূতন, নূপুর, ন্যূন এই তিনটি বানান ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রে ‘ন’ এর নিচে উ-কার হবে। 
যেমন- নুর, নুড়ি, নুরানি ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১২.
নিচের কোন শব্দের বানানে ‘ঙ’ এবং ‘ং’ দুইটার প্রয়োগই শুদ্ধ?
  1. ক) অংক/অঙ্ক
  2. খ) আতংক/আতঙ্ক
  3. গ) আকাংক্ষা/আকাঙ্ক্ষা
  4. ঘ) টংকা/টঙ্কা
সঠিক উত্তর:
ঘ) টংকা/টঙ্কা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টংকা/টঙ্কা
ব্যাখ্যা
 অভিগম্য অভিধান অনুসারে,
- টঙ্কা/টংকা শব্দের বানানে ‘ঙ’ এবং ‘ং’ দুইটার প্রয়োগই শুদ্ধ।

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংরা অভিধান অনুসারে,
• টঙ্কা শব্দের উচ্চারণ টংকা
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃত-প্রত্যয় = [√টঙ্ক্+অ+আ (টাপ্)]
অর্থ: টাকা, বেতন, মাহিনা।

অন্যদিকে, 
বাংলা লেখার নিয়ম কানুন, ড. হায়াৎ মামুদ ও প্রমীত বানানের নিয়ম অনুসারে,
• কিছু শব্দে কখনোই ং প্রযুক্ত হবে না, কেবল ঙ ব্যবহৃত হবে।
- যেমন: অঙ্ক, আতঙ্ক, আকাঙ্ক্ষা, অঙ্কন, অঙ্গন, ইঙ্গিত ইত্যাদি।
১৩.
বানানের নিয়ম অনুসারে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পরে বসে-
  1. ক) ণ
  2. খ) ঙ
  3. গ) ষ
  4. ঘ) শ
সঠিক উত্তর:
ক) ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ণ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলা শব্দের বানানে দন্ত্য-ন এর পরিবর্তে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হওয়ার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে ‘র, ষ, ক্ষ’ এই তিনটি অক্ষরের পর মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয়। 
• এখারে র অর্থ: র, ঋ, রেফ্, র-ফলা, ঋ-কার। উদাহরণ- কারণ, ঋণ, কর্ণ, তৃণ ইত্যাদি।
• ষ : ষণ্ড, ঘর্ষণ, বিষ্ণু, ভূষণ, দূষণ ইত্যাদি।
• ক্ষ : ক্ষণ, ক্ষীণ, ক্ষুণ্ন, ক্ষৌণী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা লেখার নিয়মকানুন, ড. হায়াৎ মামুদ।