পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়08 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৮: টপিক: সন্ধি - স্বর, ব্যঞ্জন ও বিসর্গ সন্ধি। [লাইভ ক্লাস - ১৫, ১৬ ও ১৭]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
সন্ধি বলতে বুঝায়-
  1. ক) বাক্যের মিলন
  2. খ) ধ্বনির মিলন
  3. গ) বর্গের মিলন
  4. ঘ) শব্দের মিলন
ব্যাখ্যা
সন্নিহিত দুটি ধ্বনির মিলনকে সন্ধি বলে।
- সন্ধির প্রধান উদ্দেশ্য স্বাভাবিক উচ্চারণের সহজপ্রবণতা এবং ধ্বনিগত মাধুর্য সম্পাদন৷
- সন্ধি শব্দ গঠনেরও একটি উপায়।
- তবে সন্ধির প্রধান সুবিধা হলো উচ্চারণের সুবিধা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
সন্ধির ক্ষেত্রে কোনটি ভুল?
  1. ক) ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে
  2. খ) নতুন শব্দ গঠনে
  3. গ) শব্দের আকার ছোটো করতে
  4. ঘ) উচ্চারণ সহজ প্রবণতা
ব্যাখ্যা
সন্ধির প্রয়োজন বহুবিধ। যেমন:
১। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সন্ধি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
২। শব্দের আকার ছোটো করতেও সন্ধির প্রয়োজন পড়ে।
৩। সন্ধির ফলে ভাষা সুন্দর ও সাবলীল হয়।
৪। উচ্চারণ সহজ করার জন্যে সন্ধির প্রয়োজন রয়েছে।
৫। উচ্চারণের সৌকর্য ও শ্রুতিমাধুর্য বৃদ্ধি, ভাষার প্রাঞ্জলতা সৃষ্টি ও ভাষাকে সংক্ষিপ্ত করতে সন্ধির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

 বাংলা শব্দের গঠন বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, মূলত তিনভাবে বাংলা শব্দ গঠিত হতে পারে।
এগুলাে হলাে :
- উপসর্গ যােগে,
- প্রত্যয় যােগে এবং
- যৌগিকীকরণ তথা সমাসের মাধ্যমে।

• মনে রাখা প্রয়ােজন যে, সন্ধির সাহায্যে শব্দ গঠনের প্রচলিত ধারণা যথাযথ নয়।
- সন্ধি মূলত একটি ধ্বনিতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া যা শব্দস্তরে প্রযুক্ত হয়।

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ; উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
.
কোন প্রকার শব্দে বিসর্গ সন্ধি ঘটে?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) বাংলা
  3. গ) তৎসম
  4. ঘ) তদ্ভব
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা শব্দে সন্ধি দুই রকমের
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি।

তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার।
- স্বরসন্ধি
- ব্যঞ্জন সন্ধি
- বিসর্গ সন্ধি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি ধ্বনি পরিবর্তনের কোন নিয়ম অনুসরণ করে?
  1. ক) সমীভবন
  2. খ) বিষমীভবন
  3. গ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. ঘ) ব্যঞ্জনচ্যুতি
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবন(Assimilation) -এর নিয়ম এই হয়ে থাকে, আর তা-ও মূলত কথ্যরীতিতে সীমাবদ্ধ। 
যেমন:
- এক+এক = একেক
- বদ্‌+জাত  বজ্জাত 

সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

প্রগত সমীভবন: পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: চক্র > চক্ক, পক্ব > পক্ক।
পরাগত সমীভবন: পরবর্তী ধ্বনির প্রভাবে পূর্ববর্তী ধ্বনির পরিবর্তন।
যেমন: তৎ + জন্য > তজ্জন্য, তৎ + হিত > তদ্ধিত।
অন্যোন্য সমীভবন: যখন পরস্পরের প্রভাবে দুটি ধ্বনিই পরিবর্তিত হয়।
যেমন: সত্য > সচ্চ, চিকিৎসা > চিকিচ্ছা, উৎশ্বাস > উচ্ছ্বাস।

উৎস: বাংলাবিদ লেকচার এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
তৎসম শব্দের স্বরসন্ধি কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
স্বরসন্ধি আবার দুই প্রকারের হয়ে থাকে।
যথা : ১. বহিঃসন্ধি ও ২. অন্তঃসন্ধি

উৎস : নবম—দশম শ্রেণির নতুন ব্যাকরণ বই, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ ও হায়াৎ মামুদের ভাষা—শিক্ষা।
.
'দেবর্ষি' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ক) দে + ঋষি
  2. খ) দেব + আর্ষি
  3. গ) দেব + ঋষি
  4. ঘ) দে + আর্ষি
ব্যাখ্যা
অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে 'অর' হয় এবং তা রেফ রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়।
যেমন-
দেব + ঋষি = দেবর্ষি,
রাজা + ঋষি = রাজর্ষি,
মহা + ঋষি = মহর্ষি,
উত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ,
অধম + ঋণ = অধমর্ণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিম্নের কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) অনু + এষণ = অন্বেষণ,
  2. খ) তনু + ঈ = তন্বী,
  3. গ) অনু + ইত = অন্বিত
  4. ঘ) স্ব+ অল্প = স্বল্প 
ব্যাখ্যা
উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ-কার ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং লেখার সময় ব-ফলা পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-
অনু + এষণ = অন্বেষণ,
তনু + ঈ = তন্বী,
অনু + ইত = অন্বিত,
সু + অল্প = স্বল্প 
অনু + এষণ = অন্বেষণ 
সু + আগত = স্বাগত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'বিদ্যালয়' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোন সূত্রানুসারে হয়?
  1. ক) অ + অ = আ
  2. খ) অ + আ = আ
  3. গ) আ + অ = আ
  4. ঘ) আ + আ = আ
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির সাথে স্বরসন্ধির মিলনের নাম স্বরসন্ধি।
- অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয় মিলে আ-কার হয়, আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সঙ্গে যুক্ত হয়।  
যেমন:
আ + আ = আ  বিদ্যা+আলায় = বিদ্যালয়।
অ + আ = আ  হিম+আলয় = হিমালয়।
আ + অ = আ  যথা+অর্থ = যথার্থ।
অ + অ = আ  নর+অধম = নরাধম।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি গঠিত হয়?
  1. ক) স্বর + ব্যঞ্জন
  2. খ) বিসর্গ + ব্যঞ্জন
  3. গ) ব্যঞ্জন + বিসর্গ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি
- স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।

সাধারণত, ব্যঞ্জনসন্ধি  তিন নিয়মে হয়: 
১. স্বর + ব্যঞ্জন
২. ব্যঞ্জন + স্বর
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১০.
নিম্নের কোন শব্দটি ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) অতীত
  2. খ) পরমেশ
  3. গ) মতৈক্য
  4. ঘ) উল্লাস
ব্যাখ্যা
• ‘উল্লাস‘- এর সন্ধি বিচ্ছেদ- উৎ+ লাস

মতৈক্য শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ মত + ঐক্য; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
পরমেশ শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ পরম + ঈশ; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।
আশাতীত শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ আশা + অতীত; এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ।

• ব্যঞ্জনসন্ধিতে একটি ধ্বনির প্রভাবে পার্শ্ববর্তী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যায়।
যেমন-
- চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র ( এখানে চ-এর প্রভাবে ত হয়েছে চ )
- বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক ( এখানে জ-এর প্রভাবে দ হয়েছে জ )
- উৎ+লাস = উল্লাস ( এখানে ল-এর প্রভাবে ত হয়েছে ল )

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বিচ্ছেদ ঘটে কোন শব্দে?
  1. ক) আশ্চর্য
  2. খ) তস্কর
  3. গ) পতঞ্জলি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কিছু ব্যঞ্জনসন্ধি নিয়ম ছাড়া হয়, সেগুলােকে নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
যেমন – 
ষট্‌+দশ = ষোড়শ 
গাে+পদ = গােষ্পদ,
এক+দশ = একাদশ,
বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি
পতৎ+অঞ্জলি = পতঞ্জলি 
বন্‌+পতি = বনস্পতি 
পর্‌+পর = পরষ্পর
আ+চর্য = আশ্চর্য
তৎ+কর = তস্কর ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
নিম্নের কোনটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ?
  1. ক) শঙ্কা
  2. খ) বৃষ্টি
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) ভাস্কর
ব্যাখ্যা
কয়েকটি বিশেষ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ-
ভাঃ + কর = ভাস্কর, 
বাচঃ + পতি = বাচস্পতি,
অহঃ + নিশ = অহর্নিশ,
অহঃ + অহ = অহরহ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩.
নিম্নের কোন শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদে বিসর্গ, 'র' হয়ে যায়
  1. ক) পুনর্মিলন
  2. খ) নীরস
  3. গ) পুরস্কার
  4. ঘ) দুস্কর
ব্যাখ্যা
বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ 'ও' হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ 'র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।