পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২৮
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বিজ্ঞান) টপিক: প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান (জীববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট) গুরুত্বপূর্ণ টপিক: কোষ, মানবদেহ, রোগ-জীবানু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, খাদ্য-পুষ্টি, ভ্যাক্সিনেশন, পরাগায়ন, আধুনিক চাষবিষয়ক বিদ্যা, সালোকসংশ্লেষণ, উদ্ভিদের পুষ্টি, ইত্যাদি। আধুনিক বিজ্ঞান: গুরুত্বপূর্ণ টপিক: বিভিন্ন রশ্মি (এক্সরে, আলফা, বিটা, গামা, ইত্যাদি), স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, ডায়োড-ট্রানজিস্টর, আইসি, ট্রান্সফর্মার, নবায়নযোগ্য শক্তি, আধুনিক জ্যোতির্বিদা। উৎস: বিজ্ঞান বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৮ প্রশ্ন

.
গামা রশ্মির উৎস কোনটি?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াস
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরমাণুর নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা

• গামা রশ্মি উৎপন্ন হয় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের (Atomic Nucleus) ভিতরে।

- যখন কোনো নিউক্লিয়াস তেজস্ক্রিয় (radioactive) হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন এটি তার অতিরিক্ত শক্তি নির্গত করে গামা রশ্মির আকারে।
- এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Gamma Decay বা গামা ক্ষয়।
- গামা রশ্মি হলো তড়িৎচৌম্বক তরঙ্গের (Electromagnetic Wave) একটি অত্যন্ত উচ্চ-শক্তির রূপ, যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুবই ক্ষুদ্র 10-12 মিটার।
- এটি দৃশ্যমান আলোর চেয়ে কোটি গুণ বেশি শক্তিধর।

গামা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- কোনো ভর বা চার্জ নেই।
- তরঙ্গদৈর্ঘ্য অতি ক্ষুদ্র, ফলে অনুপ্রবেশ ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
- বায়ু, কাগজ বা মানুষের ত্বক ভেদ করতে সক্ষম।
- সীসা (lead) বা কংক্রিটের মোটা স্তর দ্বারা শোষিত বা প্রতিরোধ করা যায়।
- এর বেগ আলোর সমান (3 × 108 m/s)।

গামা রশ্মির ব্যবহার:
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে: ক্যানসার কোষ ধ্বংসে (Radiation therapy)।
- শিল্পক্ষেত্রে: ধাতুর ফাটল শনাক্তে।
- বিজ্ঞান গবেষণায়: তেজস্ক্রিয় পদার্থ সনাক্তে।
- জীবাণুনাশে: খাবার বা চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
DNA প্রতিলিপনের সময় কোন এনজাইম কাজ করে? 
  1. হেলিকেজ
  2. লিপেজ
  3. পেপটেজ
  4. অ্যামাইলেজ
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেলিকেজ
ব্যাখ্যা

• DNA প্রতিলিপন (DNA Replication) হলো জীবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি কোষ তার DNA অণুর অনুলিপি তৈরি করে, যাতে নতুন কোষে একই জিনগত তথ্য স্থানান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়া ঘটে কোষ বিভাজনের আগে, বিশেষ করে ইন্টারফেজের S পর্বে।

- প্রথম ধাপে DNA-এর দ্বিসূত্রক গঠন (Double helix) খুলে যায়, যাতে প্রতিটি স্ট্র্যান্ড নতুন DNA তৈরির টেমপ্লেট হিসেবে কাজ করতে পারে।
- এই কাজটি সম্পন্ন করে হেলিকেজ (Helicase) এনজাইম

• DNA প্রতিলিপনের প্রধান ধাপ তিনটি:
- Initiation (সূচনা),
- Elongation (বিস্তার),
- Termination (সমাপ্তি)। 

• হেলিকেজের কাজ:
- হেলিকেজ DNA-এর দুইটি নিউক্লিওটাইড শৃঙ্খলকে আলাদা করে।
- এটি হাইড্রোজেন বন্ড ভেঙে ডাবল হেলিক্স খুলে দেয়।
- ফলে একটি “Replication fork” তৈরি হয়, যেখানে DNA পলিমেরেজ কাজ শুরু করতে পারে।
- এটি মূলত প্রতিলিপনের সূচনাবিন্দু (Origin of replication) থেকে উভয় দিকে DNA খুলতে থাকে।
- এরপর DNA পলিমেরেজ নতুন নিউক্লিওটাইড যুক্ত করে নতুন স্ট্র্যান্ড তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সঠিক জিনগত তথ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
ডায়োডের মূল কাজ কোনটি?
  1. সিগনাল বাড়ানো
  2. বিদ্যুৎ প্রবাহ পরিমাপ
  3. বিদ্যুৎ সংরক্ষণ
  4. একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
সঠিক উত্তর:
একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একমুখী কারেন্ট প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• P-N junction এ Forward Bias দেওয়া হয়, তখন ডায়োড দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ ঘটে।কিন্তু Reverse Bias দিলে কারেন্ট প্রবাহ হয় না। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে ডায়োডকে বলা হয় Unidirectional Device বা অর্থাৎ একমুখী বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রক।

- ডায়োড হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর উপাদান যা কারেন্টকে শুধুমাত্র একদিকে প্রবাহিত হতে দেয়, বিপরীত দিকে বাধা দেয়।
- এটি গঠিত হয় দুটি সেমিকন্ডাক্টর স্তর; P-type ও N-type সংযুক্ত করে। এই সংযোগকে বলা হয় P-N junction।

ডায়োডের প্রধান কাজ:
- কারেন্ট একদিকে প্রবাহিত করা (Rectification) এটিই মূল কাজ।
- Alternating Current (AC) কে Direct Current (DC)-তে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
- বিদ্যুৎ সরবরাহে (Power supply circuits) AC থেকে DC তৈরির জন্য Rectifier Diode ব্যবহৃত হয়।

ডায়োডের অন্যান্য প্রয়োগ:
- Rectifier circuit: AC থেকে DC তৈরিতে।
- Clipping ও Clamping circuit: সিগনালের সীমা নির্ধারণে।
- Voltage protection: অতিরিক্ত ভোল্টেজ থেকে সার্কিট রক্ষা করতে।
- Switching circuit: দ্রুত চালু-বন্ধ ক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
উদ্ভিদে খাদ্য পরিবহন করে ___।
  1. জাইলেম 
  2. ফ্লোয়েম
  3. ক্যাম্বিয়াম
  4. কর্টেক্স
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্লোয়েম
ব্যাখ্যা

• উদ্ভিদের ভেতর দুটি প্রধান পরিবহন টিস্যু আছে:- জাইলেম এবং ফ্লোয়েম। এরা একসাথে উদ্ভিদের পরিবহন তন্ত্র (Vascular system) গঠন করে।

ফ্লোয়েম (Phloem):
- ফ্লোয়েমের কাজ হলো পাতায় উৎপন্ন খাদ্য (মূলত গ্লুকোজ বা সুক্রোজ) উদ্ভিদের অন্যান্য অংশে যেমন মূল, কাণ্ড, ফুল, ফল ইত্যাদিতে পৌঁছে দেওয়া।
- এই প্রক্রিয়াকে বলে ট্রান্সলোকেশন (Translocation)।
- খাদ্য পরিবহন উর্ধ্বমুখী (upward) ও নিম্নমুখী (downward) উভয় দিকেই হতে পারে।

ফ্লোয়েম গঠিত হয় চারটি প্রধান উপাদান-
- সিভ টিউব (Sieve tube), 
- কম্প্যানিয়ন সেল (Companion cell), 
- ফ্লোয়েম ফাইবার (Phloem fiber), 
- ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা (Phloem parenchyma), 

অপরদিকে:
- জাইলেম (Xylem): পানি ও খনিজ পদার্থ মূল থেকে পাতায় পরিবহন করে।
- ক্যাম্বিয়াম (Cambium): নতুন জাইলেম ও ফ্লোয়েম গঠনে সাহায্য করে, অর্থাৎ এটি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- কর্টেক্স (Cortex): মূল ও কাণ্ডের ভেতরে থাকা টিস্যু যা খাদ্য ও পানি সংরক্ষণে সাহায্য করে, কিন্তু পরিবহন করে না।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

.
আলোর গতি নির্ধারণ করেন কে?
  1. নিউটন
  2. আইনস্টাইন
  3. রোমার
  4. ফ্যারাডে
সঠিক উত্তর:
রোমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোমার
ব্যাখ্যা

• ইতিহাসে প্রথমবার আলোর গতি নির্ধারণ করেছিলেন জ্যোতির্বিদ ওলে রোমার (Ole Rømer), ১৬৭৬ সালে।

- গতি হলো প্রকৃতির একটি মৌলিক ধ্রুবক, যা শূন্যস্থানে প্রায় 3 × 108 m/s। 

রোমারের পর্যবেক্ষণ:
- রোমার ড্যানিশ জ্যোতির্বিদ ছিলেন।
- তিনি বৃহস্পতি (Jupiter) ও তার উপগ্রহ আইও (Io)-এর কক্ষপথ পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, আইও-র গ্রহন (eclipse) সময় সবসময় একই থাকে না।
- পৃথিবী যখন সূর্যের অপর পাশে থাকে, তখন গ্রহনের সময় কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
- তিনি এই সময়ের পার্থক্য থেকে অনুমান করেন যে, আলোর পৃথিবী পর্যন্ত আসতে সময় লাগে, অর্থাৎ আলোর গতি সীমিত।

আলোর গতি নির্ণয়:
- রোমার অনুমান করেন, পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে বিপরীত পাশে গেলে (প্রায় ৩০ কোটি কিমি দূরত্ব বাড়ে), আলোর পৌঁছাতে প্রায় ২২ মিনিট বেশি সময় লাগে।
- এই তথ্য থেকে তিনি আলোর গতি আনুমানিক নির্ণয় করেন 2.14 × 108 m/s, যা আধুনিক মানের কাছাকাছি।

পরবর্তীতে:
- ফিজো (Fizeau, 1849) এবং মাইকেলসন (Michelson, 1879) পরীক্ষাগারে আলোর গতি আরও নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন।
- আইনস্টাইন (Einstein) পরে আলোর ধ্রুব গতিকে ভিত্তি করে আপেক্ষিক তত্ত্ব (Theory of Relativity) তৈরি করেন, তবে তিনি প্রথম মাপেননি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কী দিয়ে গঠিত?
  1. সেলুলোজ
  2. কাইটিন
  3. লিপিড
  4. প্রোটিন
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাইটিন
ব্যাখ্যা

• ছত্রাকের কোষপ্রাচীর প্রধানত কাইটিন দিয়ে গঠিত।

- ছত্রাকের কোষপ্রাচীর উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের মতো সেলুলোজ দিয়ে তৈরি নয়।
- এটি একটি শক্তিশালী ও নমনীয় পদার্থ কাইটিন দিয়ে গঠিত।
- কাইটিন হল একটি নাইট্রোজেনযুক্ত পলিস্যাকারাইড, যা ছত্রাককে তার আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- এটি পরিবেশগত চাপ যেমন আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, এবং জীবাণু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
- কাইটিন ছত্রাকের কোষকে স্থায়িত্ব এবং স্থিতিশীলতা প্রদান করে, উদ্ভিদের সেলুলোজের মতো।
- উদাহরণস্বরূপ, মাশরুম, ইয়েস্ট এবং অন্যান্য ফাঙ্গাস প্রজাতির কোষপ্রাচীর কাইটিনযুক্ত হওয়ায় তারা শক্তিশালী এবং আকারে স্থিতিশীল থাকে।

• জীবনচক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
- কোষের ভিতরের অঙ্গাণুগুলোকে রক্ষা করে।
- আকার অনুযায়ী সাপোর্ট প্রদান করে।
- বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য স্থিতিশীল ভিত্তি দেয়। 
- এর মাধ্যমে ছত্রাক শারীরিক আঘাত থেকে রক্ষা পায় এবং পরিবেশের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

.
গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম কিভাবে কাজ করে?
  1. মাইক্রোওয়েভ দ্বারা
  2. স্যাটেলাইট দ্বারা
  3. ফাইবার দ্বারা
  4. লেজার দ্বারা
সঠিক উত্তর:
স্যাটেলাইট দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যাটেলাইট দ্বারা
ব্যাখ্যা

• GPS (Global Positioning System) হলো এমন একটি উপগ্রহভিত্তিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে ব্যবহারকারীর অবস্থান (Location), বেগ (Velocity) ও সময় (Time) নির্ণয় করে।

- এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (U.S. Department of Defense) দ্বারা তৈরি ও নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা।

GPS কীভাবে কাজ করে:
- পৃথিবীর চারপাশে ২৪টি উপগ্রহ (Satellite) নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে।
- প্রতিটি স্যাটেলাইট থেকে নির্দিষ্ট সময় ও অবস্থানের রেডিও সিগন্যাল (Radio Signal) পাঠানো হয়।
- পৃথিবীতে থাকা GPS রিসিভার (যেমন মোবাইল, গাড়ির ন্যাভিগেশন ডিভাইস ইত্যাদি) অন্তত চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল গ্রহণ করে।
- এই সিগন্যালের সময়ের পার্থক্য বিশ্লেষণ করে রিসিভার তার অবস্থান, উচ্চতা ও সময় নির্ণয় করে। এ প্রক্রিয়াকে বলে Trilateration।

GPS-এর মূল উপাদান:
- Space Segment: কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটগুলো (২৪ বা তার বেশি)।
- Control Segment: পৃথিবীতে থাকা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, যা স্যাটেলাইটগুলোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করে।
- User Segment: ব্যবহারকারীর ডিভাইস বা GPS রিসিভার।
 
ব্যবহার:
- মোবাইল ও গাড়ির ন্যাভিগেশন সিস্টেমে অবস্থান নির্ধারণে।
- জাহাজ, বিমান ও সামরিক বাহিনীতে দিকনির্দেশে।
- ভূগোল, কৃষি, সার্ভে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার অভিযানে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

.
মানবদেহে ইনসুলিন নিঃসরণ করে ___। 
  1. থাইরয়েড
  2. যকৃত
  3. কিডনি
  4. অগ্ন্যাশয়
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

• ইনসুলিন হলো মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

- রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করিয়ে শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এটি দেহকে সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।

• অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিনের সম্পর্ক:
- প্যানক্রিয়াস হলো একটি অঙ্গ যা পেটের পিছনের দিকে অবস্থান করে।
- এটি দুটি প্রধান কাজ করে; এটি পাচন শক্তি নিঃসরণ এবং হরমোন নিঃসরণ উভয় কাজ করে।
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে ল্যাংগারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামে বিশেষ কোষ থাকে।
- এই ল্যাংগারহ্যান্স এর মধ্যে বিটা কোষ (Beta cells) ইনসুলিন হরমোন উৎপন্ন করে।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করায় এবং গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (যকৃত ও মাংসপেশিতে) বা চর্বি হিসেবে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

.
চাঁদে প্রথম অবতরণ করে কোন মিশন?
  1. ভোস্টক-১
  2. অ্যাপোলো-১১
  3. লুনা-২
  4. চন্দ্রযান
সঠিক উত্তর:
অ্যাপোলো-১১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যাপোলো-১১
ব্যাখ্যা

• অ্যাপোলো-১১ (Apollo-11) ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা NASA পরিচালিত একটি ঐতিহাসিক মিশন, যার মাধ্যমে মানবজাতি প্রথমবার চাঁদে অবতরণ করে।

সময় ও উদ্দেশ্য:
- প্রেরণ তারিখ: ১৬ জুলাই, ১৯৬৯।
- চাঁদে অবতরণ: ২০ জুলাই, ১৯৬৯। 
- ফেরত আসে: ২৪ জুলাই, ১৯৬৯। 
- উদ্দেশ্য: মানুষকে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করানো এবং নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা।
 
প্রধান নভোচারী:
- নিল আর্মস্ট্রং (Neil Armstrong)- প্রথম ব্যক্তি যিনি চাঁদে পদার্পণ করেন।
- বাজ অলড্রিন (Buzz Aldrin)- দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি চাঁদের মাটিতে হাঁটেন।
- মাইকেল কলিন্স (Michael Collins)- চাঁদের কক্ষপথে কমান্ড মডিউল পরিচালনা করেন।

ঐতিহাসিক উক্তি:
- চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রেখে নিল আর্মস্ট্রং বলেন “That's one small step for man, one giant leap for mankind.”
- (বাংলা অনুবাদ: “মানুষের জন্য এটি এক ক্ষুদ্র পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য এক বিশাল অগ্রগতি।”)
 
মিশনের মূল সাফল্য:
- প্রথমবার চাঁদের মাটিতে মানুষের পদচিহ্ন।
- প্রায় ২১ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট চাঁদের পৃষ্ঠে অবস্থান।
- প্রায় ২১.৫ কেজি চাঁদের শিলা ও ধুলা সংগ্রহ।
- পৃথিবীতে ফিরে এসে নিরাপদ অবতরণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]
- নাসা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

১০.
ভাইরাসকে জীব এবং অজীবের মাঝামাঝি বলা হয় কারণ এতে-
  1. RNA ও কোষ উভয়ই আছে
  2. প্রোটিন নেই
  3. শুধুমাত্র এককোষী
  4. কোষ নেই কিন্তু DNA আছে
সঠিক উত্তর:
কোষ নেই কিন্তু DNA আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোষ নেই কিন্তু DNA আছে
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস হলো এক ধরনের অণুজীব (Microorganism) যা জীবন ও অজীব উভয়ের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসকে জীব ও অজীবের মধ্যবর্তী সত্তা (borderline entity) হিসেবে বিবেচনা করেন।

ভাইরাসের জীব বৈশিষ্ট্য:

১। জিনগত উপাদান:
- ভাইরাসের মধ্যে DNA বা RNA থাকে, যা তার জিনগত তথ্য বহন করে।
- এই জিনগত উপাদান নতুন ভাইরাস উৎপাদনে মূল ভূমিকা রাখে।

২। প্রজনন ক্ষমতা:
- ভাইরাস নিজে থেকে প্রজনন করতে পারে না।
- এটি হোস্ট কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি করে।

৩। সংক্রমণ ও বৃদ্ধি:
- ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে তার প্রজাতি বৃদ্ধি করতে পারে।
- এটি হোস্ট কোষের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে সক্রিয় জীবন ধারণ করতে পারে না।

ভাইরাসের অজীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসের নিজস্ব কোষ নেই, তাই এটি স্বনির্ভরভাবে শক্তি উৎপাদন বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।
- এককভাবে ভাইরাসকে জীবিত বলা যায় না; হোস্ট কোষ ছাড়া এটি কোন শারীরিক কাজ করতে সক্ষম নয়।
- ভাইরাসের প্রোটিন কোট (Capsid) থাকলেও কোষের মতো অঙ্গাণু বা যন্ত্রাংশ নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১১.
এক্স-রে মূলত কী ধরনের রশ্মি?
  1. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
  2. নিউক্লিয়ার
  3. যান্ত্রিক
  4. কণিকাধর্মী
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক
ব্যাখ্যা

• এক্স-রে হলো একটি উচ্চ-শক্তির Electromagnetic Radiation, যা দৃশ্যমান আলোর চেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্য (প্রায় 0.01-10 ন্যানোমিটার) এবং উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি সম্পন্ন।

আবিষ্কার:
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্স-রের উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন, যখন ক্যাটোড রে টিউবে উচ্চ ভোল্টেজ প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি অদৃশ্য রশ্মি তৈরি হয় যা ফ্লুরোসেন্ট পর্দা উজ্জ্বল করে।
- তিনি এই রশ্মি সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা চালান এবং দেখান যে এটি দেহের ভিতরের দৃশ্যমান ছবি তৈরি করতে পারে।

বৈশিষ্ট্য:
- Electromagnetic nature: কোন ভর বা চার্জ নেই।
- Penetrating power: হালকা পদার্থ যেমন ত্বক পার হয়, কিন্তু হাড় বা ধাতু অনেকাংশে আটকে রাখে।
- চিত্রায়ন: রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত।
- তাপ উৎপাদন: অত্যধিক এক্স-রে ত্বক বা কোষ ক্ষতি করতে পারে।

উদাহরণ ও ব্যবহার:
- চিকিৎসা: হাড় ভাঙা, দাঁতের সমস্যা, ফুসফুসের রেন্টজেন।
- শিল্প: ধাতুর ফাটল বা ভেতরের কাঠামো পরীক্ষা।
- বিজ্ঞান: অণু ও ক্রিস্টাল গঠন বিশ্লেষণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১২.
পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট কোথায় যায়? 
  1. ফল
  2. বীজ
  3. ডিম্বক
  4. ফুলের বৃন্ত
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডিম্বক
ব্যাখ্যা

• পরাগায়ন হলো ফুলের পুরুষ অংশের পরাগকণিকা কে স্ত্রী অংশের ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া।

- পরাগায়নের সময় পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক এ পৌঁছে যায়, যেখানে এটি ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।

পুরুষ গ্যামেট:
- এটি পরাগকণিকা আকারে থাকে।
- প্রতিটি পরাগকণিকা দুটি পুরুষ গ্যামেট বহন করে।

স্ত্রী গ্যামেট:
- এটি হলো ডিম্বক এর মধ্যে অবস্থিত ডিম্বাণু।
- ডিম্বাণু এবং পুরুষ গ্যামেট মিলিত হলে ফলন বা বীজ গঠিত হয়।

পরাগায়নের প্রক্রিয়া:
- পরাগকণিকা ফুলের স্ত্রী গ্রীব আসে।
- এরপর এটি পলিন টিউব গঠন করে ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে।
- পলিন টিউবের মাধ্যমে পুরুষ গ্যামেট ডিম্বক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হয়।
- এই মিলনের ফলেই বীজ ও ফলের বিকাশ হয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১৩.
রেডিয়েশন ডোজের একক কোনটি?
  1. বেকেরেল
  2. ওয়াট
  3. জুল
  4. সিভার্ট
সঠিক উত্তর:
সিভার্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিভার্ট
ব্যাখ্যা

• SI একক সিস্টেমে রেডিয়েশন ডোজের একক হলো সিভার্ট (Sv)।

- রেডিয়েশন ডোজ হলো দেহে বিকিরণ দ্বারা শোষিত শক্তির পরিমাণ, যা মানুষের শরীরের কোষ বা টিস্যুতে প্রভাব ফেলে।
- এটি রেডিওঅ্যাকটিভ বিকিরণের ঝুঁকি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।
- ১ সিভার্ট = শরীরের টিস্যু প্রতি কিলোগ্রামে ১ জুল শক্তি শোষণ + রেডিয়েশন টাইপ অনুযায়ী ক্ষতি মান্য।
- সাধারণভাবে ব্যবহার হয় মিলিসিভার্ট (mSv) বা মাইক্রোসিভার্ট (μSv) হিসেবে, কারণ পূর্ণ Sv অনেক বেশি শক্তিশালী।

রেডিয়েশন ডোজের ধরন:
- Absorbed Dose (Gy, Gray): শোষিত শক্তির পরিমাণ।
- Equivalent Dose (Sv): রেডিয়েশন টাইপ অনুযায়ী মানবদেহের ক্ষতির মান।
- Effective Dose (Sv): বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি গণনায় ব্যবহৃত।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৪.
খাদ্যে প্রোটিনের অভাবে কোন রোগ হয়? 
  1. স্কার্ভি
  2. বেরিবেরি
  3. রিকেটস
  4. কোয়াশিওরকর
সঠিক উত্তর:
কোয়াশিওরকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোয়াশিওরকর
ব্যাখ্যা

• কোয়াশিওরক হলো একটি প্রোটিন-অভাবজনিত রোগ, যা মূলত শিশুদের মধ্যে দেখা যায় যারা পর্যাপ্ত প্রোটিনযুক্ত খাদ্য খায় না।  

- প্রোটিন হলো মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
- এটি কোষ গঠন, অঙ্গপ্রতঙ্গ বৃদ্ধি, অ্যান্টিবডি ও হরমোন উৎপাদন, এনজাইম কার্যক্রম, এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য।
- প্রোটিনের অভাব হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং কোষ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, এবং এর ফলে কিছু বিশেষ রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিওরকের প্রধান কারণ:
- খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের ঘাটতি।
- শিশুদের বৃদ্ধি পর্যায়ে পর্যাপ্ত দুধ বা প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য না পাওয়া।

কোয়াশিওরকের লক্ষণসমূহ:
- পেশী কমজোরি হয়ে যায়।
- শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি ও ওজন ঠিকমতো হয় না।
- এডিমা বা শরীরে পানি জমে পেট ফোলা দেখা দেয়।
- চুল সহজে ছিঁড়ে যায়, ত্বক শুষ্ক ও ক্ষীণ হয়ে যায়।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।  

১৫.
আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ___। 
  1. মাইক্রোবায়োলজি
  2. ন্যানোটেকনোলজি
  3. থার্মোডাইনামিক্স
  4. বায়োটেকনোলজি
সঠিক উত্তর:
ন্যানোটেকনোলজি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যানোটেকনোলজি
ব্যাখ্যা

• আধুনিক কম্পিউটারের প্রসেসরে ব্যবহৃত প্রযুক্তি হলো ন্যানোটেকনোলজি, যা চিপের দ্রুততা, ক্ষমতা এবং শক্তি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

- প্রসেসর বা CPU (Central Processing Unit) হলো কম্পিউটারের মস্তিষ্ক, যা ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে। আধুনিক প্রসেসরের কার্যকারিতা মাইক্রোচিপের আকার ও প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে।

ন্যানোটেকনোলজি (Nanotechnology):
- ন্যানোটেকনোলজি হলো অণু ও পরমাণুর মাত্রার প্রযুক্তি (1-100 ন্যানোমিটার)।
- এর মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট, দ্রুত ও কম শক্তির চিপ তৈরি করা যায়।
- আধুনিক প্রসেসর, মেমোরি চিপ, সেন্সর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে এটি ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- মাইক্রোচিপে ক্ষুদ্র ট্রানজিস্টর তৈরি করা।
- কম শক্তি খরচে বেশি গতি।
- কম স্থান দখল, তাই স্মার্টফোন ও ল্যাপটপকে ছোট ও দ্রুত করা যায়।
- উন্নত কোডিং, ডেটা প্রসেসিং ও AI অ্যাপ্লিকেশনে সহায়তা।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৬.
DNA এর পূর্ণরূপ ____। 
  1. Deoxyribonucleic Acid
  2. Dinucleotide Acid
  3. Deoxygenated Nucleic Acid
  4. Dual Nucleic Acid
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Deoxyribonucleic Acid
ব্যাখ্যা

• পূর্ণরূপ: DNA = Deoxyribonucleic Acid

- DNA হলো জিনগত তথ্য সংরক্ষণকারী অণু, যা জীবদেহের সমস্ত ধরণের বৈশিষ্ট্য এবং জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

DNA এর বৈশিষ্ট্য:
- “Deoxyribo” মানে হলো ডিএক্সিও রাইবোজ (Deoxyribose) চিনি, যা DNA এর শৃঙ্খলের একটি অংশ।
- “Nucleic” নির্দেশ করে যে এটি নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায়।
- “Acid” নির্দেশ করে এর রাসায়নিক প্রকৃতি, যা অ্যাসিডিক।

গঠন:
- DNA হলো ডাবল হেলিক্স (Double helix)।
- এটি নিউক্লিয়োটাইডের শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত, যেখানে প্রতিটি নিউক্লিয়োটাইডে ফসফেট, ডিএক্সিওরাইবোজ চিনি, এবং নাইট্রোজেন ভিত্তি থাকে।

কার্য:
- জিনগত তথ্য সংরক্ষণ।
- প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজনে সহায়ক।
- উত্তরাধিকার সূত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রজন্মান্তরে স্থানান্তর।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

১৭.
সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ তৈরি হয় কোন প্রভাবে?
  1. ফটোভোলটাইক
  2. ইলেক্ট্রোলাইটিক
  3. নিউক্লিয়ার
  4. মেকানিক্যাল
সঠিক উত্তর:
ফটোভোলটাইক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফটোভোলটাইক
ব্যাখ্যা

• সোলার প্যানেলে সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে ফটোভোলটাইক প্রভাব বলা হয়।

- সোলার প্যানেল হলো একটি ডিভাইস যা সূর্যের আলোকে সরাসরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। এটি সোলার সেল বা photovoltaic cell দ্বারা গঠিত।

ফটোভোলটাইক (Photovoltaic):
- Photovoltaic effect হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কিছু উপাদান (যেমন সেমিকন্ডাক্টর) আলো শোষণ করলে ইলেকট্রন মুক্ত হয় এবং বৈদ্যুতিক কারেন্ট তৈরি হয়।
- সাধারণত সোলার সেলে সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়।
- সূর্যের আলো পড়লে সিলিকনের ইলেকট্রন উত্তেজিত হয়ে চলাচল শুরু করে, যা DC কারেন্ট উৎপন্ন করে।

ব্যবহার ও সুবিধা:
- বাড়ি ও অফিসে বৈদ্যুতিক শক্তি সরবরাহ।
- দূরবর্তী এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ।
- পরিবেশবান্ধব ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি।

তথ্যসূত্র: 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

১৮.
মানবদেহে রক্তচাপ মাপা হয় কোন যন্ত্রে? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. স্পিগমোম্যানোমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
সঠিক উত্তর:
স্পিগমোম্যানোমিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্পিগমোম্যানোমিটার
ব্যাখ্যা

• স্পিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা মানবদেহের রক্তচাপ পরিমাপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

- রক্তচাপ হলো রক্তের চাপ যা ধমনী প্রাচীরের উপর প্রয়োগ করে, এবং এটি মানবদেহের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

এটি সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত:
- কফ (Cuff): বাতাস ভর্তি ব্যান্ড যা বাহুর চারপাশে বাঁধা হয়।
- মনিটর বা ম্যানোমিটার: যা চাপের মান দেখায়, যা ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল হতে পারে।

রক্তচাপ পরিমাপের প্রক্রিয়া:
- ব্যান্ডকে বাহুর উপরে বাঁধা হয় এবং কফে বাতাস ভর্তি করা হয়, যাতে রক্ত প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
- স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে ধমনীতে রক্ত প্রবাহের শব্দ শুনে সিস্টোলিক (উচ্চচাপ) এবং ডায়াস্টোলিক (নিম্নচাপ) মান নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণ ব্যবহার:
- হাসপাতালে ও ক্লিনিকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা।
- বাড়িতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ডিজিটাল স্পিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার।
- হৃদরোগ ও রক্তচাপ জনিত রোগ নিরীক্ষণ।
 
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১৯.
হিগস বোসন কণার অপর নাম কী?
  1. আলফা কণা
  2. ফোটন
  3. ঈশ্বর কণা
  4. নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বর কণা
ব্যাখ্যা

• হিগস বোসন কণা হলো মৌলিক পদার্থ যা ভরের উৎস, এবং সাধারণভাবে এটিকে “ঈশ্বর কণা (God Particle)” বলা হয়।

- ১৯৯৩ সালে লিওনার্ড গডেলম্যান (Leon Lederman) এই কণার জন্য বই লিখে এটিকে প্রখ্যাত করেন “God Particle” নামে।
- নামটি এসেছে কণাটি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে পুরো পদার্থবিজ্ঞান এবং ব্রহ্মাণ্ডের গঠন বোঝার জন্য অপরিহার্য, কিন্তু খুব ধীরে ধীরে এবং কঠিনভাবে আবিষ্কার করা যায়।

হিগস বোসন কী?
- হিগস বোসন হলো একটি মৌলিক কণা যা হিগস ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- হিগস ক্ষেত্র হলো সেই ক্ষেত্র যা অন্য কণাগুলিকে ভর (Mass) প্রদান করে।
- এটি প্রথমভাবে প্রস্তাব করেন পিটার হিগস (Peter Higgs) ১৯৬৪ সালে।

আবিষ্কার ও পরীক্ষা:
- CERN-এর Large Hadron Collider (LHC)-এ ২০১২ সালে হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়।
- এটি Standard Model of Particle Physics-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
 
বৈশিষ্ট্য:
- ভরযুক্ত কণার উৎপত্তি বোঝায়।
- স্থিতিশীল নয়; খুব দ্রুত অন্য কণায় রূপান্তরিত হয়।
- পদার্থবিজ্ঞান ও মহাবিশ্বের গঠন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২০.
টিবি রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন কে? 
  1. লুই পাস্তুর
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. রবার্ট কোচ
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
সঠিক উত্তর:
রবার্ট কোচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রবার্ট কোচ
ব্যাখ্যা

• রবার্ট কোচ (Robert Koch) হলেন একজন জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট। ১৮৮২ সালে তিনি প্রথমবার Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়াকে আলাদা ও পরিচিত করেন।

- টিউবারকুলোসিস (Tuberculosis বা TB) হলো একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। 
- এটি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে যেখানে জনসংখ্যা ঘন ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত। 
- TB রোগের জীবাণু হলো Mycobacterium tuberculosis, যা ধীরে ধীরে শরীরের টিস্যুতে ক্ষতি করে।

আবিষ্কার ও রবার্ট কোচের অবদান:
- তার গবেষণা দেখায় যে, TB একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমিত হয়।
- এটি সংক্রামক রোগের কারণ নির্ধারণে বিপ্লব ঘটায় এবং রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
- কোচের এই আবিষ্কারের জন্য তাকে ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, যা তার বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতি।

TB ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়াটি দীর্ঘ, স্লিম, অল্প সরু রূপের।
- এটি অ্যাকিড-ফাস্ট ব্যাকটেরিয়া, অর্থাৎ বিশেষ রং ধরে রাখতে সক্ষম।
- সংক্রমণ সাধারণত শ্বাসনালী ও ফুসফুসের মাধ্যমে ছড়ায়।
- TB রোগ ধীরে ধীরে ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট করে এবং শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ও ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণ সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২১.
আলফা কণায় থাকে ___। 
  1. ১ প্রোটন + ১ নিউট্রন 
  2. ২ ইলেকট্রন
  3. ১ প্রোটন + ২ নিউট্রন 
  4. ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন
সঠিক উত্তর:
২ প্রোটন + ২ নিউট্রন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রোটন + ২ নিউট্রন
ব্যাখ্যা

• আলফা কণার সঠিক গঠন হলো ২ প্রোটন + ২ নিউট্রন।

আলফা কণা:
- আলফা কণা হলো একটি পারমাণবিক বিকিরণ (radioactive decay) কণার ধরণ।
- এটি মূলত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (Helium nucleus)।

গঠন:
- প্রতিটি আলফা কণায় থাকে: ২টি প্রোটন (Proton), ২টি নিউট্রন (Neutron)
- এতে কোনো ইলেকট্রন নেই।

বৈশিষ্ট্য:
- ধনাত্মক চার্জযুক্ত (+2e)।
- ভারী এবং ধীরে চলমান, তাই কাগজ বা মানুষের ত্বক সহজেই আটকাতে পারে।
- পারমাণবিক বিকিরণ ও নিউক্লিয়ার প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]

২২.
আধুনিক চাষে “হাইড্রোপনিক্স” বলতে কী বোঝায়?
  1. পানির নিচে চাষ
  2. মাটি ছাড়া চাষ
  3. সূর্যালোক ছাড়া চাষ
  4. রোবট দ্বারা চাষ
সঠিক উত্তর:
মাটি ছাড়া চাষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাটি ছাড়া চাষ
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) হলো একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে মাটি ব্যবহার না করে উদ্ভিদকে পুষ্টিকর তরল দ্রবণে জন্মানো হয়। 

- এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ সরাসরি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও পুষ্টি গ্রহণ করে, ফলে বৃদ্ধি হয় দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে।
 
মূল ধারণা:
- হাইড্রোপনিক্স শব্দটি এসেছে “Hydro” (পানি) এবং “Ponos” (পরিশ্রম) শব্দ থেকে।
- এটি এমন এক চাষপদ্ধতি যেখানে পানি ও পুষ্টি মিশ্রণই উদ্ভিদের প্রধান মাধ্যম।

চাষ পদ্ধতি:
- উদ্ভিদ মাটির পরিবর্তে পানি, বালু, কঙ্কর, পারলাইট, বা কোকোপিট ইত্যাদির ওপর জন্মায়।
- এই মাধ্যমে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, জিংক, বোরন ইত্যাদি খনিজ দ্রবীভূত করে দেওয়া হয়।

অবশ্যক শর্ত:
সূর্যালোক, পানি, পুষ্টি দ্রবণ, অক্সিজেন ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা।

সুবিধা:
- মাটির রোগ ও কীটনাশকের সমস্যা থাকে না।
- পানি খরচ কম (প্রায় ৮০–৯০% পর্যন্ত সাশ্রয়)।
- শহুরে ছাদ বা নিয়ন্ত্রিত গ্রীনহাউসে সহজে চাষ সম্ভব।
- উৎপাদন বেশি ও সময় কম লাগে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২৩.
আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে ব্যবহৃত পদার্থ কোনটি?
  1. সিলিকন
  2. তামা
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. কার্বন
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন
ব্যাখ্যা

• আধুনিক ট্রানজিস্টর তৈরিতে প্রধানত সিলিকন (Silicon) ব্যবহার করা হয়। এটি একটি অর্ধপরিবাহী (semiconductor) পদার্থ, যা নির্দিষ্ট অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করতে সক্ষম।

সিলিকনের বৈশিষ্ট্য:
- এটি সহজলভ্য এবং সস্তা।
- এর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করা যায় ডোপিং (doping) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- উচ্চ তাপমাত্রায় স্থিতিশীল থাকে, যা ইলেকট্রনিক সার্কিটে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

অন্য বিকল্পগুলোর কারণ:
- তামা (Copper) বিদ্যুৎ পরিবাহী, কিন্তু অর্ধপরিবাহী নয়।
- অ্যালুমিনিয়াম (Aluminium) পরিবাহী ধাতু, ট্রানজিস্টরের সংযোগে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু মূল পদার্থ নয়।
- কার্বন (Carbon) ট্রানজিস্টরে সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, যদিও কার্বন ন্যানোটিউব নিয়ে গবেষণা চলছে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 

২৪.
লোহিত রক্তকণিকার উৎপত্তি হয় কোথায়? 
  1. ফুসফুস
  2. বৃক্কে
  3. অস্থিমজ্জায়
  4. মেডুলায়
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্থিমজ্জায়
ব্যাখ্যা

• অস্থিমজ্জা (Bone Marrow) হলো RBC উৎপাদনের মূল কেন্দ্র।

- লোহিত রক্তকণিকা বা RBC (Red Blood Cell) হলো রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা অক্সিজেন বহন করে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড ফিরিয়ে আনে।

উৎপত্তিস্থল
- বিশেষ করে লাল অস্থিমজ্জা (Red Bone Marrow) তে রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পাঁজর, করোটি, শ্রোণি, ও দীর্ঘ অস্থির প্রান্তে এটি সক্রিয় থাকে।

উৎপাদন প্রক্রিয়া:
- এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেল থেকে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হয়।
- এরিথ্রোপয়েটিন (Erythropoietin) নামক হরমোন, যা বৃক্ক (Kidney) থেকে নিঃসৃত হয়, RBC উৎপাদনে উদ্দীপনা জোগায়।

RBC এর আয়ু:
- গড়ে ১২০ দিন।
- পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত RBC লিভার ও প্লীহায় (Spleen) ভেঙে যায়।

গঠন ও কার্য:
- নিউক্লিয়াসবিহীন (nucleus নেই)।
- হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) নামক লৌহযুক্ত প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন বহন করে।
- দেহের প্রতিটি টিস্যুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ফেরত নেয়।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২৫.
MRI তে ব্যবহৃত হয় ____। 
  1. এক্স-রে
  2. ম্যাগনেটিক ফিল্ড
  3. গামা রশ্মি
  4. আলফা কণা
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটিক ফিল্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাগনেটিক ফিল্ড
ব্যাখ্যা

• MRI প্রযুক্তিতে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন দেখা হয়, কোনো বিকিরণ নয়।

MRI কী?
- MRI (Magnetic Resonance Imaging) হলো একটি আধুনিক চিকিৎসা ইমেজিং পদ্ধতি, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও টিস্যুর বিস্তারিত ছবি তৈরি করে।
- এটি আয়নাইজিং বিকিরণ (যেমন এক্স-রে বা গামা রশ্মি) ব্যবহার করে না, তাই নিরাপদ।
 
কাজের মূলনীতি:
- MRI কাজ করে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) এবং রেডিও তরঙ্গ (Radio Waves) এর সাহায্যে।
- মানবদেহের হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন) এই চৌম্বক ক্ষেত্রে সারিবদ্ধ হয়।
- রেডিও তরঙ্গ প্রয়োগ করলে এই প্রোটনগুলো শক্তি শোষণ করে এবং ফিরে আসার সময় সংকেত দেয়।
- কম্পিউটার এই সংকেত বিশ্লেষণ করে ছবিতে রূপান্তরিত করে।

ব্যবহার:
- মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশী, ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গের নির্ভুল ইমেজ তৈরি করতে।
- টিউমার, স্নায়ু সমস্যা ও ইনজুরি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২৬.
কোন গ্রন্থি “মাস্টার গ্রন্থি” নামে পরিচিত? 
  1. থাইরয়েড
  2. পিটুইটারি
  3. অ্যাড্রিনাল
  4. পাইনিয়াল
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিটুইটারি
ব্যাখ্যা

• মানবদেহে বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হরমোন নিঃসরণ করে শরীরের বৃদ্ধি, বিপাক, প্রজনন ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

- এই সব গ্রন্থির মধ্যে পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অন্য সব অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। তাই একে বলা হয় “Master Gland” বা “মাস্টার গ্রন্থি।”

অবস্থান:
পিটুইটারি গ্রন্থি অবস্থিত মস্তিষ্কের Hypothalamus-এর নিচে, Sella turcica নামক হাড়ের খাপে।
এটি আকারে ছোট, মটরদানার মতো।
 
পিটুইটারি গ্রন্থি দুটি অংশে বিভক্ত:
- অ্যান্টেরিয়র লোব (Anterior lobe)। 
- পোস্টেরিয়র লোব (Posterior lobe)। 
এই দুটি অংশ থেকে বিভিন্ন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা অন্য গ্রন্থিগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।

প্রধান হরমোন ও কাজ:
- গ্রোথ হরমোন (GH): শরীরের বৃদ্ধি ও হাড়ের বিকাশে সাহায্য করে।
- থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH): থাইরয়েড গ্রন্থিকে সক্রিয় করে।
- অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন (ACTH): অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি নিয়ন্ত্রণ করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২৭.
আইসি (Integrated Circuit) এর উদ্ভাবক কে?
  1. জ্যাক কিলবি
  2. উইলিয়াম শকলে
  3. এডিসন
  4. টেসলা
সঠিক উত্তর:
জ্যাক কিলবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্যাক কিলবি
ব্যাখ্যা

• আইসি বা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট উদ্ভাবনের কৃতিত্ব জ্যাক কিলবির, যিনি আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুগের সূচনা করেন।

আইসি (Integrated Circuit):
- Integrated Circuit বা IC হলো একটি ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সার্কিট যা ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ডায়োড ও অন্যান্য উপাদানকে একটি একক সিলিকন চিপে সংযুক্ত করে।
- এটি আধুনিক কম্পিউটার, মোবাইল, মাইক্রোচিপ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মূল ভিত্তি।

উদ্ভাবক:
- জ্যাক কিলবি (Jack Kilby) ১৯৫৮ সালে Texas Instruments-এ কাজ করার সময় প্রথম Integrated Circuit উদ্ভাবন করেন।
- পরবর্তীতে একই ধারণা Robert Noyce-ও স্বাধীনভাবে বিকাশ করেন।
- জ্যাক কিলবি ২০০০ সালে নোবেল পুরস্কার (Physics) পান এই আবিষ্কারের জন্য।
 
আইসির গুরুত্ব:
- এটি ইলেকট্রনিক যন্ত্রকে ক্ষুদ্র, শক্তিশালী ও দ্রুত করেছে।
- কম শক্তিতে কাজ করে, নির্ভরযোগ্যতা বেশি।
- আধুনিক কম্পিউটার ও মাইক্রোপ্রসেসরের মূল ভিত্তি।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

২৮.
কোষঝিল্লির গঠন কোন মডেল দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়?
  1. Fluid Mosaic Model
  2. Double Helix Model
  3. Cell Theory
  4. Osmotic Model
সঠিক উত্তর:
Fluid Mosaic Model
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Fluid Mosaic Model
ব্যাখ্যা

• কোষঝিল্লি হলো একটি দ্বিস্তরীয় লিপিড যার মধ্যে প্রোটিন অণুগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। S. J. Singer ও G. L. Nicolson ১৯৭২ সালে প্রস্তাব করেন যা ফ্লুয়িড মোজাইক মডেল হিসেবে পরিচিত।

- কোষঝিল্লি হলো কোষের বহিঃস্তর যা কোষের ভেতরের উপাদানকে বাইরের পরিবেশ থেকে আলাদা করে রাখে।
- এটি আর্ধভেদ্য, অর্থাৎ কিছু পদার্থকে প্রবেশ করতে দেয় এবং কিছু পদার্থকে বাধা দেয়।
- কোষের ভিতরে বাইরে পানি, আয়ন ও পুষ্টির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষঝিল্লি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর মূল ধারণা:
- তরল: বোঝায় যে ঝিল্লির গঠনটি স্থির নয়, বরং চলমান ও নমনীয়।
- মোজাইক: বোঝায় প্রোটিন ও লিপিড অণুর ছকছক বিন্যাস, যা একে মোজাইক চিত্রের মতো দেখায়।

ফ্লুয়িড মোজাইক মডেলর বৈশিষ্ট্য:
- ঝিল্লি নমনীয় ও গতিশীল।
- প্রোটিনগুলো লিপিড স্তরের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- কোষঝিল্লি selective permeability প্রদর্শন করে।
- এটি communication, transport ও recognition প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
 
 তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই।