পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান; ii) সত্তরের নির্বাচন; iii) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি; iv) স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে সমসাময়িক ইতিহাস। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা'র আগরতলা কোথায় অবস্থিত?
  1. ভারতের আসাম রাজ্যে
  2. মিয়ানমারের চিন রাজ্যে
  3. ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে
  4. ভারতের মিজোরাম রাজ্যে
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: 
- ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন জনমানুষের দাবিতে পরিণত হয়।
- এ পটভূমিতে পাকিস্তান সরকার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে এবং একটি মামলা দায়ের করেন।
- মামলাটি দায়ের করা হয় ১৯৬৮ সালের জানুয়ারি মাসে।
- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলাতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক হয়।
- সেখানে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এ জন্য মামলাটির নাম হয় 'আগরতলা মামলা'।
- সরকারি নথিতে মামলার নাম হলো 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্রচারণায় 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে অভিহিত হয়।
- এ মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ৩৫ জন।
- মামলায় শেখ মুজিবকে প্রধান আসামি করা হয়।
- সাথে অভিযুক্ত অন্য ৩৪ জন হলেন লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন, স্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান, এল.এস. সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ, নূর মোহাম্মদ, আহমেদ ফজলুর রহমান সিএসপি, ফ্লাইট সার্জেন্ট মফিজুল্লাহ, এ.বি.এম. আবদুস সামাদ, হাবিলদার দলিল উদ্দিন হাওলাদার, রুহুল কুদ্দুস সিএসপি, ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক, ভূপতি ভূষণ চৌধুরী (মানিক চৌধুরী), বিধান কৃষ্ণ সেন, সুবেদার আবদুর রাজ্জাক, হাবিলদার মুজিবুর রহমান, ফ্লাইট সার্জেন্ট আবদুর রাজ্জাক, সার্জেন্ট জহুরুল হক প্রমুখ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
কোথায় আগরতলা মামলার শুনানি শুরু হয়?
  1. ঢাকা সেন্ট্রাল জেল
  2. কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে
  3. ঢাকা হাইকোর্ট
  4. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য: 
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন বেলা এগারোটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বিচারকাজ চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।
- পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়।
- ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তানের গণবিক্ষোভ ১৯৬৯ সালে এসে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।
- অবশেষে আইয়ুব সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে নতি স্বীকার করে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
- মামলার সকল অভিযুক্ত ২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মুক্তি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন ছিল কোনটি?
  1. ১৯৪৮ সালের নির্বাচন
  2. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  3. ১৯৬২ সালের নির্বাচন
  4. ১৯৭০ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন: 
- পাকিস্তানের ইতিহাসে ১৯৭০ সালের নির্বাচন ছিল প্রথম সাধারণ নির্বাচন
- জেনারেল আইয়ুব খান গণ-আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের আরেকজন সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পাকিস্তানের রাজনীতি থেকে বিদায় নেন।
- জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারি করে জাতির উদ্দেশে প্রথম ভাষণে ঘোষণা দিয়েছিলেন, যত শীঘ্র সম্ভব সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭০ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে সর্বপ্রকার বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে পুনরায় রাজনৈতিক তৎপরতার অনুমতি দেওয়া হয়।
- পাশাপাশি ৫ই অক্টোবর জাতীয় পরিষদ ও ২২শে অক্টোবর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে ৭ই ডিসেম্বর এবং ১৭ই ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
- তবে ১২ই নভেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের উপকূলবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় ঐ সব এলাকায় ১৯৭১ সালের ১৭ই জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সার্জেন্ট জহুরুল হককে কবে হত্যা করা হয়?
  1. ১৯৬৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি
  2. ১৯৬৯ সালের ২০শে জানুয়ারি
  3. ১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৯ সালের ১৮ই জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
গণঅভ্যুত্থান: 
- হরতাল পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- আসাদ হত্যার প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালের ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচি ঘোষিত হয়।
- ২৪ তারিখে সারা দেশে হরতাল চলাকালে সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক ঢল নামে।
- মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন যেন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। 
- এরপর আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়।
- ক্ষিপ্ত জনতা সরকারি পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান ও মর্নিং নিউজ অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়।
- ঢাকা শহর সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
- ২৪শে জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে বহু মানুষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ও আহত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- জহুরুল হকের হত্যার প্রতিবাদে ১৬ই ফেব্রুয়ারি আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
- জনতা আগরতলা মামলার বিচারপতির বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। 
- ১৯৬৯ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
সত্তরের নির্বাচনে কার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়?
  1. বিচারপতি শাহাবুদ্দীন
  2. বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  3. বিচারপতি আবু সায়েম
  4. এম এন হুদা
ব্যাখ্যা
সত্তরের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা: 
- ১৯৬৯ সালের ২রা জুলাই ইয়াহিয়া খানের ঘোষণা অনুযায়ী পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
- এ নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক কাজ ছিল একটি সর্বজনীন ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা।
- এ তালিকার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩,১২,১৪,৯৩৫ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ২,৫২,০৬,২৬৩ জন।
- এ ভোটার তালিকায় ভিন্ন জাতিসত্তার নৃগোষ্ঠী অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
.
মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পূর্ববর্তী ঘটনা কোনটি?
  1. এগারো দফা দাবি
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. সত্তরের নির্বাচন
  4. অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন ১৯৭১:
- শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পরিচালিত আন্দোলন।
- ৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ভাষণের মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- সরকার গঠনে আহবান জানানোর পরিবর্তে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ১ মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন।
- শেখ মুজিবুর রহমান এ সিদ্ধান্তকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দেন এবং এর প্রতিবাদে ২ মার্চ ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন।
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ব পাকিস্তানে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে।
- নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে সামরিক সরকারের গড়িমসি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল পাকিস্তান পিপল্স পার্টির সরাসরি অসহযোগিতার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
- অসহযোগ আন্দোলনের পরিণতিতে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

অন্যদিকে,
- এগারো দফা দাবি ১৯৬৯ সালে ঘোষণা হয়।
- গণঅভ্যুত্থান হয় ১৯৬৯ সালে।
- সত্তরের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিবাহিনীর চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী
  2. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার
  3. কর্নেল আবদুর রব
  4. মেজর খালেদ মোশাররফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম: 
- মুজিবনগর সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
- মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী।
- এছাড়া চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল (অব.) আবদুর রব।
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব- সেক্টরে বিভক্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
.
২ নং সেক্টর এর প্রথম সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর জিয়াউর রহমান
  2. মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. মেজর এ.টি.এম হায়দার
  4. মেজর কে.এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।
- এই সেক্টরের ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। 
- এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।
- শহরাঞ্চলের গেরিলারা ঢাকা শহরে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন কে?
  1. টিক্কা খান
  2. জুলফিকার আলী ভুট্টো
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. রাও ফরমান আলী
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন: 
- ৭ই মার্চের ভাষণের পরদিন থেকে সারা দেশে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়ে যায়।
- দেশের স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যায়।
- বিক্ষুব্ধ জনতা পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ করতে থাকে।
- খাজনা-ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- এমন পরিস্থিতিতে ইয়াহিয়া খান টিক্কা খানকে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিয়োগ করেন।
- ১০ই মার্চ সরকার এক সামরিক আদেশ জারি করে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
- কিন্তু এর পরও পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের জনগণ অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখে।
- ১৩ই মার্চ সরকার পুনরায় সামরিক আইন জারি করে।
- ১৪ই মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো একটি অবাস্তব প্রস্তাবের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার ফর্মুলা দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১০.
১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ কার নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মওলানা ভাসানী
  3. আসাদুজ্জামান আসাদ
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের নভেম্বর মাসের ছাত্র অসন্তোষ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গণআন্দোলনে পরিণত হয়
- ৬ই ডিসেম্বর 'জুলুম প্রতিরোধ দিবস' পালনের জন্য ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশন ও পূর্ব পাকিস্তান কৃষক সমিতি যৌথ কর্মসূচি হিসাবে পল্টন ময়দানে একটি জনসভার আয়োজন করে।
- জনসভার পর একটি বিরাট মিছিল গভর্নর হাউস ঘেরাও করে।
- সেখানে মিছিলকারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হলে মওলানা ভাসানী ঢাকা শহরে হরতাল আহ্বান করেন।
- ৮ই ডিসেম্বর প্রধান বিরোধী দলগুলোর ডাকে গোটা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়।
- ২৯শে ডিসেম্বর ঘেরাও আন্দোলনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- উনসত্তরের উত্তাল সময়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এই ১১ দফা দাবি ছিল খুবই সময়োপযোগী।
- ফলে দ্রুত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১১.
ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় কত তারিখে?
  1. ১ ডিসেম্বর
  2. ৩ ডিসেম্বর
  3. ৬ ডিসেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠন:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশ হিসেবে ভারতের ভূমিকা অপরিসীম এবং অনস্বীকার্য ছিল।
- ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হলে যুদ্ধের মোড় দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।
- পাকিস্তানি বাহিনী ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববাসীর নজর কাড়ার অপচেষ্টা চালায়।
- এদেশীয় মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীকে যৌথ কমান্ডের অধীনে আনা হয়।
- ৬ ডিসেম্বর তারিখে ভারত বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
- যৌথ বাহিনীর সরাসরি আক্রমণে বাংলাদেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিকট থেকে মুক্ত করা হয়।
- এরপর একে একে সাতক্ষীরা, টঙ্গী, জামালপুর, সিলেট জেলা মুক্ত হতে থাকে।
- ময়নামতি সেনানিবাস অধিকারে এনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী শহর ঢাকা অবরোধের চেষ্টা চালানো হয়।
- ভারতের স্বীকৃতির পরই অস্থায়ী সরকারের উপ- রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বেতার কেন্দ্র থেকে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করেন।
- ৯ ডিসেম্বরের মধ্যেই মাগুরা, ঝিনাইদাহ এবং নড়াইল যৌথ বাহিনীর অধিকারে আসে।
- ঢাকা আক্রমণের পূর্ব প্রস্তুতি স্বরূপ ১০ ডিসেম্বর সকল প্রকার বিমান হামলা বন্ধ রেখে বিদেশি নাগরিকদেরকে ঢাকা ত্যাগ করার নির্দেশনা জারি করা হয়।
- ঢাকায় আক্রমণ চালানোর মুল পরিকল্পনা করা হয় ভৈরব দখল করার পর এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, এখান থেকেই ঢাকায় আক্রমণ চালানো হবে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১২.
১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয় কোন সংগঠন?
  1. সর্বদলীয় ছাত্র আন্দোলন পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ
  4. ছাত্র সংগ্রাম কমিটি
ব্যাখ্যা
১১ দফা আন্দোলন: 
- ১৯৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি ডাকসু (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) কার্যালয়ে ডাকসুর তৎকালীন সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করা হয়। 
- 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' ১১ দফা দাবি নিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ডাক দেয়।
- এ কর্মসূচি শুধু ছাত্রদের নয়, আপামর জনগণের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে।
- ১১ দফা দাবির মধ্যে ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে ছিল- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কুখ্যাত অর্ডিন্যান্স বাতিলসহ শিক্ষার সুযোগ- সুবিধা বৃদ্ধি, বাক্ স্বাধীনতা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বৃহৎ শিল্পের জাতীয়করণ, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি প্রদান, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, জরুরি আইন, নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নির্যাতনমূলক আইন প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ, অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের সর্বমোট কতটি আসন ছিল?
  1. ৬২১টি
  2. ৩১৩টি
  3. ৩১০টি
  4. ৩০০টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচনী আসন সর্বমোট ৩১৩ টি।
- যেখানে ১৩ টি মহিলা আসন ছিল।
- পাঁচটি প্রাদেশিক পরিষদে ৬২১ টি আসনের বিপরীতে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ আসন ছিল ৩০০টি।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।