পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২৮ বাংলা ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ (সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ) ২. পদ-প্রকরণ (পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ) ৩. বাক্য প্রকরণ (বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন, কারক ও বিভক্তি) উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৪ প্রশ্ন

.
কোন শব্দটি দ্বিগু সমাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তেপান্তর
  2. গ্রামান্তর
  3. ভাষান্তর
  4. দেশান্তর
সঠিক উত্তর:
তেপান্তর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেপান্তর
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন: 
- তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার,
- ত্রিপদী = তিন পদের সমাহার,
- ত্রিকাল = তিন কালের সমাহার
- ত্রিলোক = তিন লোকের সমাহার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নিত্য সমাস - অন্য দেশারা = দেশান্তর, অন্য ভাষা = ভাষান্তর, অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০১৯)।
.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ দিয়ে গঠিত শব্দ কোনটি?
  1. অপকার
  2. অকেজো
  3. অপমান
  4. পরাক্রান্ত
সঠিক উত্তর:
অকেজো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকেজো
ব্যাখ্যা
খাঁটি বাংলা উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
= অচেনা, অকেজো
আন = আনকোরা।
ইতি = ইতিকথা, ইতিহাস।

অন্যদিকে,
তৎসম উপসর্গ সাধিত শব্দের উদাহরণ:
পরা = পরাক্রান্ত
অপ = অপমান, অপকার

খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
‘সে আসতে চায়, তথাপি আসে না।' - এটা কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

যেমন
- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- বস্ত্র মলিন কেন, কেহ জিজ্ঞাসা করিলে সে ধোপাকে গালি পাড়ে, অথচ ধৌত বস্ত্রে তাহার গৃহ পরিপূর্ণ।
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- সে আসতে চায়, তথাপি আসে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
দ্বিগু সমাসে কোন পদের প্রাধান্য থাকে?
  1. অব্যয়
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
দ্বিগু সমাস:
- সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।

যেমন:
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর।' - কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্তায় শূন্য
  2. করণে দ্বিতীয়া
  3. কর্মে শূন্য
  4. করণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
করণে শূন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করণে শূন্য
ব্যাখ্যা

করণ কারক:
- 'করণ' শব্দটির অর্থ যন্ত্র, সহায়ক বা উপায়। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে। বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তরটি পাওয়া যায়, তা- ই করণ কারক।

যেমন:
- জগতে কীর্তিমান হও সাধনায়
- এ সাবানে কাপড় কাচা চলবে না।
- বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ কর। (করণে শূন্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।

.
'যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. সরল
  3. যৌগিক
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
জটিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল/মিশ্র বাক্য তৈরি হয়।
- যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে । 

যেমন:
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যদি সে কাল আসে তাহলে আমি যাব।
- যে-ই তার দর্শন পেলাম, সে-ই আমরা প্রস্থান করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ৯২০১৯- সংস্করণ)।
.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পরে
  3. শব্দের মধ্যে
  4. শব্দের পূর্বে
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
যে পদ দ্বারা কোনো এক জাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বুঝায়, তাকে বলে -
  1. ভাববাচক বিশেষ্য
  2. গুণবাচক বিশেষ্য
  3. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
  4. জাতিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদ দ্বারা কোনো একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বোঝায় তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন-
- মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
.
সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশকে কী বলা হয়?
  1. দক্ষিণ পদ
  2. পরপদ
  3. উত্তরপদ
  4. পূর্বপদ
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূর্বপদ
ব্যাখ্যা
সমাস:
- সমাস মানে সংক্ষেপ, মিলন, একাধিক পদের একপদীকরণ।
- অর্থসম্বন্ধ আছে এমন একাধিক শব্দের এক সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।
যেমন -
দেশের সেবা = দেশসেবা, বই ও পুস্তক = বইপুস্তক, নেই পরোয়া যার = বেপরোয়া।
- সমাসের রীতি সংস্কৃত থেকে বাংলায় এসেছে। তবে খাঁটি বাংলা সমাসের দৃষ্টান্তও প্রচুর পাওয়া যায়। সেগুলোতে সংস্কৃতের নিয়ম খাটে না।
- সমাসের প্রক্রিয়ায় সমাসবদ্ধ বা সমাসনিষ্পন্ন পদটির নাম সমস্ত পদ।
- সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদটির অন্তর্গত পদগুলোকে সমস্যমান পদ বলে ।
- সমাসযুক্ত পদের প্রথম অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় পূর্বপদ এবং পরবর্তী অংশ (শব্দ)-কে বলা হয় উত্তরপদ বা পরপদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
’বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাসূচক
  2. বর্ণনাত্নক
  3. আবেগসূচক
  4. প্রার্থনাসূচক
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনাসূচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রার্থনাসূচক
ব্যাখ্যা
ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।

যেমন:
- মমহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।
- বাংলাদেশ যেন জয়লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
১১.
কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গের উপস্থিতি আছে?
  1. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  2. তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
সঠিক উত্তর:
তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। 
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
'চিকিৎসাশাস্ত্র' শব্দটি কোন সমাস?
  1. তৎপুরুষ
  2. অব্যয়ীভাব
  3. বহুব্রীহি
  4. কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস: 
- যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মধ্যপদ লোপ পায়, তাকে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন-
- সিংহ চিহ্নিত আসন= সিংহাসন,
 - চিকিৎসা বিষয়ক যে শাস্ত্র = চিকিৎসাশাস্ত্র

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ব্যাকরণ ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
"আমি এ সাক্ষী চাই না।" - এর জটিল রূপ কোনটি?
  1. যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।
  2. যে সাক্ষী মিথ্যা বলে, আমি তাকে চাই না।
  3. আমি এ সাক্ষীকে না চাই।
  4. আমি কোনো সাক্ষীকেই চাই না।
সঠিক উত্তর:
যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য:
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন- তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

যেমন:
সরল বাক্য: আমি এ সাক্ষী চাই না।
জটিল বাক্য: যে সাক্ষী এরকম, তাকে আমি চাই না।

সরল বাক্য: সুসংবাদটা পেয়ে সে আনন্দিত হলো।
জটিল বাক্য: যখন সে সুসংবাদটা পেল, তখন সে আনন্দিত হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
নিচের কোনটি ফারসি উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ?
  1. খাসমহল
  2. কমজোর
  3. গরমিল
  4. হররোজ
সঠিক উত্তর:
কমজোর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমজোর
ব্যাখ্যা
• 'কমজোর' শব্দটি 'ফারসি' উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ।

অন্যদিকে,
- হররোজ, গরমিল এবং খাসমহল - শব্দগুলো 'আরবি' উপসর্গ সহযোগে গঠিত শব্দ।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কোন কারক?
  1. কর্তাকারক
  2. সম্প্রদান কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্মকারক
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মকারক
ব্যাখ্যা
• কর্মকারক:
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- কর্ম দুই প্রকার: মুখ্য কর্ম, গৌণ কর্ম।
যেমন-
• বাবা আমাকে (গৌণ কর্ম) একটি কলম (মুখ্য কর্ম) কিনে দিয়েছেন।
- সাধারণত মুখ্য কর্ম বস্তুবাচক ও গৌণ কর্ম প্রাণিবাচক হয়ে থাকে।
- এছাড়াও সাধারণত কর্ম কারকের গৌণ কর্মে বিভক্তি যুক্ত হয়, মুখ্য কর্মে হয় না।

অর্থ্যাৎ,
'বাবা আমাকে একটি কলম কিনে দিয়েছেন।' - নিম্নরেখ শব্দটি কর্মকারক এর উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'নিশ্চয়ই পারব।' - বাক্যে 'নিশ্চয়ই' কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুসর্গ অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।

কয়েকটি অনন্বয়ী অব্যয়ের উদাহরণ:
- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ- উচ্ছ্বাস প্রকাশে।
- নিশ্চয়ই পারব।
- আমি আজ আলবত যাব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
১৭.
কোনটি উপমিত কর্মধারয় সমাস?
  1. কাজলকালো
  2. করপল্লব
  3. বকধার্মিক
  4. তুষারশুভ্র
সঠিক উত্তর:
করপল্লব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করপল্লব
ব্যাখ্যা
উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। কিন্তু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।

যেমন:
- কর পল্লবের ন্যায় = করপল্লব,
- পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ,
- মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
- এই সমাসে উভয় পদই বিশেষ্য হয়।

অন্যদিকে,
• উপমান কর্মধারয় - তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র, বকের ন্যায় ধার্মিক = বকধার্মিক, কাজলের মতো কালো = কাজলকালো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৮.
'কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা।' - এই বাক্যে কর্মকারক কোনটি?
  1. কবির
  2. সৃষ্টি করা
  3. কাব্য
  4. সৃষ্টি
সঠিক উত্তর:
কাব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা' - এই বাক্যে 'কাব্য' কর্মকারক

কর্মকারক: 
- যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পন্ন করে, তাকে কর্মকারক বলে। ক্রিয়ার সঙ্গে 'কী' বা 'কাকে' যোগ করে প্রশ্ন করলে কর্মকারক পাওয়া যায়।

কর্মকারকে বিভিন্ন বিভক্তির প্রয়োগ:
প্রথমা বিভক্তি: আমার ভাত খাওয়া হলো না। কবির কাজ হচ্ছে কাব্য সৃষ্টি করা।
দ্বিতীয়া বিভক্তি: আমি তাকে চিনি।
ষষ্ঠী বিভক্তি: ছেলেটি বলের সঙ্গে যুদ্ধ করে।
সপ্তমী বিভক্তি: জিজ্ঞাসিব জনে জনে

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, সপ্তম শ্রেণি।
১৯.
"আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।" - বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. তুমি আমার মঙ্গল বিশ্বাস কর।
  2. আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
  3. তুমি আমার কথা বিশ্বাস করবে এবং মঙ্গল লাভ করবে।
  4. তুমি যদি আমার কথা বিশ্বাস কর, তবে তোমার মঙ্গল হবে
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া। তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।

যেমন:
যৌগিক বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস কর, তোমার মঙ্গল হবে।
সরল বাক্য: আমার কথা বিশ্বাস করলে তোমার মঙ্গল হবে।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০.
'উৎক্ষিপ্ত' শব্দে 'উৎ' উপসর্গ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিশ্চয়তা
  2. প্রস্তুতি
  3. ক্ষিপ্রতা
  4. উর্ধ্বমুখিতা
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্বমুখিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উর্ধ্বমুখিতা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত উপসর্গ 'উৎ' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'উর্ধ্বমুখিতা' অর্থে = উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে।
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
- যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২১.
'রোগী পথ্য সেবন করে।' - এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. কর্মবাচ্য
  2. কর্তৃবাচ্য
  3. ভাববাচ্য
  4. কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্তার অর্থ-প্রধান্য রক্ষিত হয় এবং ক্রিয়াপদ কর্তার অনুসারী হয়, তাকে কর্তৃবাচ্য বলে। কর্তৃবাচ্যে ক্রিয়াপদ সর্বদাই কর্তার অনুসারী হয়। কর্তৃবাচ্যে কর্তায় প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং কর্মে দ্বিতীয়া, ষষ্ঠী বা শূন্য বিভক্তি হয়।

যেমন:
- ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
- শিক্ষক ছাত্রদের পড়ান।
- রোগী পথ্য সেবন করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
'ধামা ধরে যে = ধামাধরা' কোন তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ?
  1. তৃতীয়া
  2. উপপদ
  3. অলুক
  4. দ্বিতীয়া
সঠিক উত্তর:
উপপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ
ব্যাখ্যা
উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
- কৃদন্ত পদের সাথে উপপদের যে সমাস হয় তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে।

যেমন:
- নীল চাষ/ উৎপাদন করে যে = নীলকর;
- জাদু করে যে = জাদুকর;
- ধামা ধরে যে = ধামাধরা;
- পকেট মারে যে = পকেটমার;
- দ্রুত গমন করে যে = দ্রুতগামী ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৩.
'এই নদীর মাছ বড়।' - বাক্যে 'নদীর' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. অপাদানে শূন্য
  2. অপাদানে ৬ষ্ঠী
  3. অধিকরণে ৬ষ্ঠী
  4. অধিকরণে শূন্য
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৬ষ্ঠী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধিকরণে ৬ষ্ঠী
ব্যাখ্যা
অধিকরণ কারক:
- যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়।

যেমন:
- রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
- কাননে কুসুমকলি সকলি ফুটিল।
- এ দেহে প্রাণ নেই।
- এই নদীর মাছ বড়। অধিকরণে ৬ষ্ঠী

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৪.
'কানে-কলম' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. অলুক বহুব্রীহি
  2. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি
  3. অলুক দ্বন্দ্ব
  4. উপপদ তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলে। অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্তপদটি বিশেষণ হয়।

যথা:
- মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
- গলায় গামছা যার = গলায়গামছা,

এরূপ- হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, গায়ে-পড়া, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
২৫.
'তপোবন' শব্দটি কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. তৎপুরুষ সমাস
  3. প্রাদি সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের বিভক্তির লোপে যে সমাস হয় এবং যে সমাসে পরপদের অর্থ প্রধানভাবে বোঝায় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে। তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে দ্বিতীয়া থেকে সপ্তমী পর্যন্ত যে কোনো বিভক্তি থাকতে পারে; আর পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে এদের নামকরণ হয়।
 
যেমন:
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন,
- বজ্রের সম = বজ্রসম,
- তপের নিমিত্তে বন = তপোবন

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৬.
কোনটি কর্মকর্তৃবাচ্যের উদাহরণ?
  1. কাজটা ভালো দেখায় না।
  2. ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
  3. চোরটা ধরা পড়েছে।
  4. আমাকে এখন যেতে হবে।
সঠিক উত্তর:
কাজটা ভালো দেখায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজটা ভালো দেখায় না।
ব্যাখ্যা
কর্মকর্তৃবাচ্য:
- যে বাক্যে কর্মপদই কর্তৃস্থানীয় হয়ে বাক্য গঠন করে, তাকে কর্মকর্তৃবাচ্যের বাক্য বলে।

যেমন:
- কাজটা ভালো দেখায় না।
- বাঁশি বাজে ঐ মধুর লগনে।
- সুতি কাপড় অনেক দিন টেকে।

অন্যদিকে,
ভাববাচ্য - আমাকে এখন যেতে হবে।
কর্তৃবাচ্য - ছাত্ররা অঙ্ক করছে।
কর্মবাচ্য- চোরটা ধরা পড়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
‘না’ কোন জাতীয় শব্দ ?
  1. বিশেষণ
  2. অব্যয়
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদ:
ন ব্যয় = অব্যয়। যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।

যেমন-
- হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, অদ্যাপি, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
কোনটি বাংলা উপসর্গ?
  1. ভর
  2. দুর
  3. অভি
  4. উপ
সঠিক উত্তর:
ভর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভর
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ - ভর

বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
- অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

অন্যদিকে,
তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
- প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯.
বাক্যের কোন দুটি অংশ থাকে?
  1. সাধু, চলিত
  2. উদ্দেশ্য, বিধেয়
  3. উপমা, অলংকার
  4. প্রসাদগুণ, মাধুর্যগুণ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্য, বিধেয়
ব্যাখ্যা
• একটি বাক্যের প্রধান দুটি অংশ থাকে। 
যথা:
১. উদ্দেশ্য,
২. বিধেয়।

উদ্দেশ্য:
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয় সেই অংশকে বাক্যের উদ্দেশ্য বলে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এই বাক্যে মামুনকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
অতএব 'মামুন' বাক্যটির উদ্দেশ্য।

বিধেয়:
কর্তা বা উদ্দেশ্য সম্বন্ধে বাক্যে যা কিছু বলা হয় তাকে বিধেয় বলে। বিধেয় অংশে সাধারণত ক্রিয়া থাকে।

যেমন:
- মামুন বল খেলে।
এখানে 'বল খেলে' অংশটি বাক্যের বিধেয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০.
‘মাঠে ধান ফলেছে।’ - বাক্যে ‘মাঠে’ কোন কারক?
  1. ভাবাধিকরণ
  2. স্থানাধিকরণ
  3. বিষয়াধিকরণ
  4. কালাধিকরণ
সঠিক উত্তর:
স্থানাধিকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানাধিকরণ
ব্যাখ্যা
আধারাধিকরণ:
- আধারাধিকরণ বা স্থানাধিকরণ কোন কোন স্থানকে বুঝায়।

যেমন:
- তিলে তৈল আছে।
- নদীতে পানি আছে।
- মাঠে ধান ফলেছে।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।
৩১.
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।' - বাক্যে 'রাজার' কোন কারক?
  1. সম্বন্ধ কারক
  2. কর্তা কারক
  3. করণ কারক
  4. কর্ম কারক
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
সম্বন্ধ কারক:
- যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পরোক্ষ। এই কারকে শব্দের সঙ্গে ‘-র’, '-এর’, '-য়ের’, ‘-কার’, ‘-কের' ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়।

যেমন:
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
আমার জামার বােতামগুলাে একটু অন্য রকম।
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩২.
'মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।' কর্মবাচ্যে রূপান্তর করুন -
  1. পুস্তক পাঠ করা হচ্ছে মুবারক দ্বারা।
  2. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হচ্ছে।
  3. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
  4. মুবারক কর্তৃক পুস্তক পাঠ হয়েছে।
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে কর্মবাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে কর্মবাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে:
(১) কর্তায় তৃতীয়া (২) কর্মে প্রথমা বা শূন্য বিভক্তি এবং (৩) ক্রিয়া কর্মের অনুসারী হয়।
জ্ঞাতব্য: কর্তৃবাচ্যের ক্রিয়া অকর্মক হলে সেই বাক্যের কর্মবাচ্য হয় না।

কর্তৃবাচ্য:
(ক) বিদ্বানকে সকলেই আদর করে।
(খ) খোদাতায়ালা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি করেছেন।
(গ) মুবারক পুস্তক পাঠ করছে।

কর্মবাচ্য:
(ক) বিদ্বান সকলের দ্বারা আদৃত হন।
(খ) বিশ্বজগৎ খোদাতায়ালা কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে।
(গ) মুবারক কর্তৃক পুস্তক পঠিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩.
'অবরোধ' শব্দের 'অব' উপসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অল্পতা
  2. নিম্নে
  3. হীনতা
  4. সম্যক
সঠিক উত্তর:
সম্যক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্যক
ব্যাখ্যা
তৎসম 'অব' উপসর্গের ব্যবহার: 
'হীনতা' অর্থে - অবমাননা, অবজ্ঞা।
'সম্যক' অর্থে - অবরোধ, অবগাহন।
'অল্পতা' অর্থে - অবশেষ, অবসান।
'নিম্নে' অর্থে - অবতরন, অবরোহণ।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৪.
'জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল
  2. যৌগিক
  3. সরল
  4. খণ্ড
সঠিক উত্তর:
সরল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরল
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

যথা:
- জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র। এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

এইরূপ
- জ্ঞানী লোক সকলের সম্মান পান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।