পরীক্ষা আর্কাইভ

Science Expert

পরীক্ষাScience Expertতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৭ রোগ জীবাণুর জীবন ধারণ (ভাইরাস, ব্যাকটোরিয়া), খাদ্য ও পুষ্টি, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাক্সিনেশন, প্ল্যান্ট টিস্যু, প্লান্ট ডাইভারসিটি, সালোকসংশ্লেষণ, Biological Nomenclature. [ক্লাস ২৪]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Science Expert

Science Expert · তারিখ অনির্ধারিত · ১২ প্রশ্ন

.
ভাইরাস আবিষ্কার করেন কে?
  1. ওয়াল্টার রিড
  2. হারভে জে. অল্টার
  3. দিমিত্রি আইভানোভস্কি
  4. গ্যালো
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ।
- বিজারিঙ্ক প্রথম ভাইরাস নামটি প্রবর্তন করেন।
- ভাইরাসের দেহ বাইরের প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA অথবা RNA) এই দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- ভাইরাস জীবদেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ সৃষ্টি করে থাকে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে।
- ভাইরাস অকোষীয়। 
- ১৮৯২ সালে দিমিত্রি আইভানোভস্কি ভাইরাস আবিষ্কার করেন
- ওয়াল্টার রিড ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম মানুষের দেহে পীত জ্বর সৃষ্টিকারী ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৪ সালে গ্যালো মানুষের মরণব্যাধি এইডস রোগের ভাইরাস HIV আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৯ সালে হারভে জে. অল্টার মানুষের নীরব ঘাতকব্যাধি হেপাটাইটিস-সি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- F. C. Bawden এবং N. W. Pirie ভাইরাসের রাসায়নিক প্রকৃতি বর্ণনা করেন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান। 
.
কোন আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়?
  1. লাল আলোতে
  2. সবুজ আলোতে
  3. কমলা আলোতে
  4. নীল আলোতে
ব্যাখ্যা
• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে উদ্ভিদ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায়, সবুজ উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং ঐ রাসায়নিক শক্তি দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে বিজারিত করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বা ফটোসিনথেসিস বলে।
- সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- সালোকসংশ্লেষণের জন্য চারটি প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে- আলো, ক্লোরোফিল, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড।
- সালোকসংশ্লেষণে সূর্যের আলোর রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করার কর্মদক্ষতা হলো ৩-৬%
- সালোকসংশ্লেষণের জন্য সুবিধাজনক তাপমাত্রা হলো  ২২-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
- সূর্য থেকে আসা আলোর শতকরা ১ থেকে ২ ভাগ মাত্র সালোক সংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
- লাল আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয় এবং সবুজ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে কম কার্যকর হয়।
- উদ্ভিদ কোষের ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণ হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Live MCQ লেকচার শীট।
.
খেজুরে প্রধানত কোনটি পাওয়া যায়?
  1. গ্লুকোজ
  2. ফ্রুকটোজ
  3. সুক্রোজ
  4. সেলুলোজ
ব্যাখ্যা
• শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট:
- কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন নিয়ে শর্করা তৈরি হয়।
- শর্করা বর্ণহীন, গন্ধহীন এবং অল্প মিষ্টি স্বাদযুক্ত।
- শর্করা আমাদের শরীরে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং তাপশক্তি উৎপাদন করে।

• শর্করার উদ্ভিজ উৎস:
- শ্বেতসার বা স্টার্চ: ধান, গম, ভুট্টা, আলু, কচু ইত্যাদি।
- গ্লুকোজ: আঙুর, আপেল, গাজর, খেজুর ইত্যাদি।
- ফ্রুকটোজ: আম, পেঁপে, কলা, কমলালেবু প্রভৃতি মিষ্টি ফলে এবং ফুলের মধুতে ফ্রুকটোজ থাকে।
- সুক্রোজ: আখের রস, চিনি, গুড়, মিছরি এর উৎস।
- সেলুলোজ: বেল, আম, কলা, তরমুজ, বাদাম, শুকনো ফল এবং সব ধরনের শাক-সবজিতে সেলুলোজ থাকে।

• শর্করার প্রাণিজ উৎস:
- ল্যাকটোজ বা দুধ শর্করা: গরু, ছাগল এবং অন্যান্য প্রাণীর দুধে এই শর্করা থাকে।
- গ্লাইকোজেন: পশু ও পাখিজাতীয় (যেমন: মুরগি, কবুতর প্রভৃতি) প্রাণীর যকৃৎ এবং মাংসে গ্লাইকোজেন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
.
ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে কোন জাতীয় ওষুধ দেওয়া নিষেধ?
  1. অ্যাসিটামিনোফেন
  2. স্যালাইন
  3. এসপিরিন
  4. প্যারাসিটামল
ব্যাখ্যা
• ডেঙ্গু জ্বর:
- ডেঙ্গু একটি ভাইরাসঘটিত রোগ।
- এই ভাইরাসের জীবাণুর নাম ফ্ল্যাভি ভাইরাস বা ভেঙ্গী ভাইরাস।
- এটি একটি RNA ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের বাহক হলো Aedes aegypti L. ও Aedes albopictus নামক মশকী (স্ত্রী মশা)।
- এর পোষক দেহ হলো মানুষ।
- প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। 
- ডেঙ্গু জ্বরে ১০৩-১০৫° ফারেনহাইট হয়ে থাকে।
- সাধারণত ডেঙ্গু মশা কামড়ানোর ২-৭ দিন পর জ্বর দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীর তীব্র মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেট ব্যাথা, কপাল ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়।
- মেরুদণ্ডের ব্যথাসহ কোমরে ব্যথা এই রোগের বিশেষ লক্ষণ। একে হাড়ভাঙ্গা জ্বর বলে। 
- প্লেটিলেট পরীক্ষায় রক্তের অনুচক্রিকার সংখ্যা ১৫০০০০/mm এর অনেক নিচে নেমে আসে।
- ডেঙ্গু জ্বরে রোগীকে এসপিরিন জাতীয় ওষুধ দেয়া যাবে না
- ব্যথা ও জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ দিতে হবে।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
মানবদেহে কয় স্তরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে?
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
ব্যাখ্যা
• ইম্যুনাইজেশন:
- মানুষের শরীরের সংক্রামক রোগের প্রতিরোধক তৈরি করার প্রক্রিয়াকে ইম্যুনাইজেশন বলে।
- মানবদেহে রোগজীবাণুর আক্রমণের বিরুদ্ধে  তিন স্তরবিশিষ্ট প্রতিরোধব্যবস্থা বিদ্যমান। যথা-
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রতিরক্ষাব্যবস্থার প্রথম স্তর হলো প্যাথোজেনকে (রোগজীবাণুকে) দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ত্বক, (ii) মিউকাস মেমব্রেন, (iii) শ্বসনতন্ত্রের সিলিয়া, (iv) পাকস্থলীর অ্যাসিড এবং (v) চোখের আবরণ ও অশ্রু।

২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর অতিক্রম করে কোনো রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়।
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) ব্যাথাদায়ক সাড়া, (ii) ফ্যাগোসাইটসমূহ, (iii) কমপ্লিমেন্ট, (iv) ইন্টারফেরন এবং (v) ন্যাচারাল কিলার সেল।

৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- এ ব্যবস্থায় আছে- (i) লিম্ফোসাইট, (ii) MHC অণু এবং (ii) ক্লোনাল সিলেকশন।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
ব্যাকটেরিয়া গঠিত রোগ নয় কোনটি?
  1. যক্ষ্মা
  2. কলেরা
  3. টাইফয়েড
  4. মাম্পস
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া:
- গ্রিক শব্দ Bakterion (little rod) থেকে ব্যাকটেরিয়া শব্দটির উৎপত্তি।
- ব্যাকটেরিয়া (একবচনে ব্যাকটেরিয়াম) এক ধরনের ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব।
- অ্যান্টনি ভ্যান লীউয়েনহুককে ব্যাকটেরিওলজি ও প্রোটোজুওলজির জনক বলা হয়ে থাকে।
- জার্মান বিজ্ঞানী এরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে এসব ক্ষুদ্রজীবদের ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা এবং ব্যাকটেরিইয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্টিত করেন।
- ব্যাকটেরিয়া আদিকোষী জীব, এদের কোষে জড় কোষ প্রাচীর থাকে।

- মানবদেহে ব্যাকটেরিয়া গঠিত কিছু রোগ হলো:
• যক্ষ্মা
• নিউমোনিয়া
• কলেরা
• টাইফয়েড
• কলেরা
• ডিপথেরিয়া
• আমাশয়
• ধনুষ্টংকার
• হুপিংকাশি ইত্যাদি।

- মাম্পস ভাইরাস গঠিত রোগ

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
মস এর মূলকে কি বলা হয়?
  1. অস্থানিক মূল
  2. রাইজয়েড
  3. গুচ্ছমূল
  4. প্রধান মূল
ব্যাখ্যা
• মসবর্গীয় উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- মসবর্গীয় উদ্ভিদে কান্ড ও পাতা থাকলেও মূল থাকে না।
- মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে, অর্থাৎ মসের মূলকে রাইজয়েড বলা হয়।
- ফুল ও ফল হয় না।
- পরিবহণ টিস্যু থাকেনা, তবে ভ্রুণ সৃষ্টি হয়।
- দেওয়াল বা পাথরের নরম আস্তরণ। উদাহরণ - রিকশিয়া। 

উৎস: উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
.
ভিটামিন D এর প্রধান উৎস নয় কোনটি?
  1. মাখন
  2. দুধ
  3. ডিমের কুসুম
  4. ভোজ্য তেল
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন D:
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে সংশ্লেষিত হয়।
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D এর প্রধান উৎস
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
- ভিটামিন D এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হতে পারে।

• ভিটামিন A:

- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃৎ ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে কড মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়।
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি, যেমন- লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে।

• ভিটামিন E:
- সব রকম উদ্ভিদ ভোজ্য তেল বিশেষ করে পাম তেল ভিটামিন E এর প্রধান উৎস।
- প্রায় সব খাবারেই কমবেশি ভিটামিন E আছে। তাছাড়া শস্যদানার তেল (Corn oil), তুলা বীজের তেল, সূর্যমুখী বীজের তেল, লেটুস পাতা ইত্যাদিতে ভিটামিন E পাওয়া যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
.
কোনটি DNA ভাইরাস?
  1. HIV
  2. TIV
  3. Nobel Corona
  4. TMV
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক। 

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১০.
শিশু জন্মের পরপরই বা ১৪ দিনের মধ্যে কোন রোগের টিকা দেয়া হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. নিউমোনিয়া
  3. রুবেলা
  4. হাম
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ফ্যাক্ট-শিট অনুযায়ী শিশু জন্মের পরপরই যক্ষ্মা বা টিবি প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেয়া হয়। 
- শিশু জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি টিকা দিতে হয়। যথা-
• পোলিওর প্রতিষেধক ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন-ওপিভি,
• নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক নিউমোককাল কনজুগেট ভ্যাকসিন-পিসিভি এবং
• পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা।

 - শিশুর জন্মের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার একটি করে ডোজ অর্থাত চার সপ্তাহ বিরতিতে একেকটি টিকার তিন ডোজ সম্পন্ন করা হয়।
- পেন্টাভ্যালেন্ট হল ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), হিমোফিলিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সমবেত একটি টিকা।
- শিশুর বয়স নয় মাস থেকে ১৫ মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক এমআর টিকা দেয়া হয়।
- শিশুর ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হয়।

উৎস: bbc
১১.
এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিনি ঢাললে ক্রমান্বয়ে চিনির দানার অনুগুলো গ্লাসের সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়ে কোন প্রক্রিয়ায়?
  1. সালোকসংশ্লেষণ
  2. ব্যাপন
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিস্রবণ
ব্যাখ্যা
• ব্যাপন:
- একই তাপমাত্রা ও বায়ুমন্ডলীয় চাপে কোনো পদার্থের অধিকতর ঘনস্থান হতে কম ঘন স্থানে বিস্তার লাভ করার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে।
- সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত হয়ে ঘনত্বের পার্থক্যে সমতা না আসা পর্যন্ত ব্যাপন চলতে থাকে এবং তারপর বন্ধ হয়ে যায়।
- এক গ্লাস পানিতে এক চামচ চিনি ঢাললে ক্রমান্বয়ে চিনির দানার অনুগুলো গ্লাসের সমস্ত পানিতে ছড়িয়ে পড়ে এই প্রক্রিয়ায়

• প্রস্বেদন:
- উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ হতে জলীয়বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে বলা হয় প্রস্বেদন।
- উদ্ভিদ তার মূল দিয়ে মাটি হতে পানি শোষণ করে থাকে এবং এ পানিই কান্ড, শাখা-প্রশাখা, পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গে স্থানান্তরিত হয়।

• অভিস্রবণ:
- কম ঘন দ্রবণ থেকে অধিক ঘন দ্রবণের দিকে দ্রাবক অণু প্রবেশ করার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।
- দুটো দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- অভিস্রবন এক প্রকার ব্যাপন।
- অভিস্রবণ কেবলমাত্র তরলের ক্ষেত্রে ঘটে।

• সালোকসংশ্লেষণ:
- যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ কোষে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে, পরিবেশের বায়ুমণ্ডল থেকে গৃহীত কার্বন ডাইঅক্সাইড ও মূল দ্বারা শোষিত জলের বিক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্যের সংশ্লেষ ঘটে এবং গৃহীত কার্বন ডাইঅক্সাইডের সমপরিমাণ অক্সিজেন প্রকৃতিতে নির্গত হয়, তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, Live MCQ লেকচার শীট।
১২.
কোনটি ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. - ৭° থেকে ১০৫° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচতে পারে
  2. আকার ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার
  3. এরা এককোষী
  4. বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়া জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। 
- এরা মাইনাস ১৭° থেকে ৮০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় বাঁচে। 
- ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২-৫.০ মাইক্রোমিটার।
- এরা আণুবীক্ষণিক জীব।
- এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে ।
- এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। 
- এরা পরজীবী ও রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। 
- দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
- এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান।
- ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
- এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
- এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে ।

উৎস: Live MCQ লেকচার শীট।