পরীক্ষা আর্কাইভ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

পরীক্ষাব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১ বাংলা টপিক: ধ্বনি, শব্দ, ধ্বনি পরিবর্তন, শব্দের উচ্চারণ, লিঙ্গ, দ্বিরুক্ত শব্দ, যুক্তবর্ণ, শব্দ ও পদের গঠন, শব্দের উৎস, শব্দের শ্রেণি বিভাগ।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

ব্যাংক নিয়োগ বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
কোনটি অঘোষ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ধ্বনি: 
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয় না, তাকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• ঘোষ ধ্বনি:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় স্বরতন্ত্রী অনুরণিত হয়, তাকে ঘোষ ধ্বনি বলে।
যেমন- গ, জ, , ঘ, ঝ, ধ ইত্যাদি ঘোষ ধ্বনি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি ২০২২ সংস্করণ।
.
পদের অংশ-
  1. বিভক্তি
  2. নির্দেশক
  3. ক+খ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ক+খ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক+খ
ব্যাখ্যা
• পদ:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের মধ্যে পদগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

• পদের অংশ:
- বিভক্তি,
- নির্দেশক,
- বচন,
- বলক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১।
.
'দালাল' কোন ভাষার শব্দ?
  1. দেশি
  2. ফারসি
  3. আরবি
  4. তৎসম
সঠিক উত্তর:
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরবি
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- ‘দালাল’ — আরবি ভাষার শব্দ।

• ‘দালাল’ শব্দের অর্থ:
- পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ব্যাবসাবাণিজ্য বা ক্রয়বিক্রয়ে মধ্যস্থতা করা যার পেশা। 

• আরো কিছু আরবি শব্দ:
- খেতাব,
- খেলাপ,
- দালাল,
- দিরহাম,
- নগদ,
- তবলা,
- আসামি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'ষােলাে' শব্দের সঠিক উচ্চারণ -
  1. সোলো
  2. শােলাে
  3. শোল
  4. ষােলাে
সঠিক উত্তর:
শােলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শােলাে
ব্যাখ্যা
- 'ষােলাে' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - শােলাে।

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
.
‘ধামা ধামা ধান।' বাক্যে ‘ধামা ধামা’ কী অর্থে দ্বিরুক্তি হয়েছে?
  1. ইষৎ
  2. আধিক্য
  3. সামান্য
  4. অনুরূপ
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
.
"কিশোরী" শব্দটি কোন লিঙ্গের অন্তর্গত?
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয় লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ত্রীলিঙ্গ
ব্যাখ্যা

• লিঙ্গ:
- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। 
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক) পুংলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। 
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি। 

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। 
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি। 

গ) ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। 
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি। 

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। 
যেমন- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. দ্ধ
  2. ন্ধ
  3. ষ্ট
  4. ব্ধ
সঠিক উত্তর:
ষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ - ষ্ট।

• যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

• স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- জ, ব্দ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- দ্ধ (দ+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'বক্তৃতা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. বক্‌তৃতা
  2. বোক্‌তিতা
  3. বোক্‌তৃতা
  4. বক্‌তিতা
সঠিক উত্তর:
বোক্‌তৃতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোক্‌তৃতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'বক্তৃতা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ- 'বোক্‌তৃতা'।

• 'বক্তৃতা' এর অর্থ:
- জনসমক্ষে ভাষণ প্রদান।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
নিচের কোনটি অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোনটি অব্যয়বাচক দ্বিরুক্তি?
  1. ডেকে ডেকে
  2. ছম ছম
  3. দিন দিন
  4. গরম গরম
সঠিক উত্তর:
ছম ছম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছম ছম
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: হায় হায় করে লাভ কী?
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ধ্বনি ব্যঞ্জনা বোঝাতে: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: বাতি জ্বলে মিটির মিটির।

অন্যদিকে,
• ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি - পৌণপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি - পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
• বিশেষণ পদের দ্বিরুক্তি - গরম গরম জিলাপি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও  মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
'ষ্ণু' - এখানে কী কী বর্ণ আছে?
  1. ষ + ন + উ
  2. ষ + ঞ + উ
  3. ষ + ণ + উ
  4. ষ + গ + উ
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ + উ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ + উ
ব্যাখ্যা
• 'ষ্ণু' - এখানে "ষ + ণ + উ" বর্ণ আছে।

যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:
- হ্ + উ = হু,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ণ্ + ড = ণ্ড,
- ত + র = ত্র,
- শ্‌ + ঊ = শু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১২.
শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় -
  1. রূপ
  2. বর্ণ
  3. পদ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপ
ব্যাখ্যা
• শব্দের ক্ষুদ্রাংশকে বলা হয় - রূপ।
- এক বা একাধিক ধ্বনির অর্থবোধক সম্মিলনে শব্দ তৈরি হয়।
- রূপ গঠন করে শব্দ।
- সেই জন্য শব্দতত্ত্বকে রূপ্ততত্ত্ব (Morphology) বলা হয়। 

শব্দমূল: 
- এক বা একাধিক শব্দ নিয়ে তৈরি হয় শব্দমূল।
- শব্দমূলের এক নাম প্রকৃতি। 
- নামপ্রকৃতি ও ধাতুর সাথে উপসর্গ ও প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি করে। এদের বলা হয় সাধিত শব্দ।
- অন্যদিকে শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে অবস্থান করে তখন তাকে বলে হয় পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৩.
'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ-
  1. মোস্‌সৃন্
  2. মস্‌সৃন
  3. মোস্‌সৃণ
  4. মস্‌স্রিণ
সঠিক উত্তর:
মোস্‌সৃন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোস্‌সৃন্
ব্যাখ্যা
• 'মসৃণ' এর সঠিক উচ্চারণ- 'মোস্‌সৃন্'।

• আরো কিছু সঠিক উচ্চারণ:
- 'সৌজন্য' এর সঠিক উচ্চারণ- 'শোউজোন্‌নো'।
- 'কাকলি' এর সঠিক উচ্চারণ- (কাকোলি),
- 'প্রণতি' এর সঠিক উচ্চারণ-(প্রোনোতি),
- 'অবগতি' এর সঠিক উচ্চারণ- (অবোগোতি) ইত্যাদি।   
 
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৪.
‘শাকসবজি’ শব্দটি কোন দুটি ভাষার মিশ্রণে গঠিত?
  1. আরবি ও তৎসম
  2. বাংলা ও তৎসম
  3. ফারসি ও আরবি
  4. তৎসম + ফারসি
সঠিক উত্তর:
তৎসম + ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম + ফারসি
ব্যাখ্যা
• মিশ্র শব্দ:
- কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
- ‘শাকসবজি’ একটি মিশ্র শব্দ।

• বাংলা ভাষায় শাক শব্দটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ থেকে এসেছে এবং সবজি শব্দটি ফারসি শব্দ থেকে এসেছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
১৫.
"ক থেকে ঙ" পর্যন্ত ধ্বনিগুলোকে কী বলা হয়?
  1. তালব্য ধ্বনি
  2. কণ্ঠ্য ধ্বনি
  3. ওষ্ঠ্য ধ্বনি
  4. দন্ত্য ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য ধ্বনি
ব্যাখ্যা
• স্পর্শ ধ্বনি: 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়। 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি। 
যেমন - 
- ক খ গ ঘ ঙ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয় বর্ণ। 
- চ ছ জ ঝ ঞ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয় বর্ণ। 
- ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয় বর্ণ। 
- ত থ দ ধ ন ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয় বর্ণ। 
- প ফ ব ভ ম ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয় বর্ণ। 
- প বর্গীয় বর্ণ : প, ফ, ব, ভ, ম৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
'রত্ন > রতন' কোন ধরনের ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. অপনিহিতি
  2. আদি স্বরাগম
  3. মধ্যস্বরাগম
  4. অন্ত্যস্বরাগম
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মধ্যস্বরাগম
ব্যাখ্যা
• 'রত্ন > রতন'- মধ্যস্বরাগম বা 'বিপ্রকর্ষ' এর উদাহরণ।

মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ: 
- সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ।
যেমন : গ্রাম > গেরাম।
আরো কয়েকটি উদাহরণ
- রত্ন > রতন,
- প্রীতি > পিরীতি,
- ধর্ম > ধরম,
- স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
-------------------- 
আদি স্বরাগম:
শব্দের শুরুতে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন।

অন্ত্যস্বরাগম:
শব্দের শেষে নতুন স্বরধ্বনির আগমন।
যেমন: দিশ্ > দিশা, সত্য > সত্যি।

অপিনিহিতি: 
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন-
- মারি > মাইর, 
- আজি > আইজ, 
- সাধু > সাউধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
১৭.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. বল
  2. কলম
  3. হিমালয়
  4. নবম
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিমালয়
ব্যাখ্যা
• সাধিত শব্দ - হিমালয়।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন - গাছ, পাখি, ফুল, হাত, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন -
পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, হিমালয়,  নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

• 'হিমালয়' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় : হিম  + আলয়; যেখানে দুটি শব্দ ই আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। 

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৮.
নিচের কোন শব্দটি উভলিঙ্গ প্রকাশক?
  1. বালক
  2. প্রবীণ
  3. ফল
  4. ডাক্তার
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তার
ব্যাখ্যা
• 'ডাক্তার' - শব্দটি উভয়লিঙ্গ।
---------------- 
• লিঙ্গ:

- ‘লিঙ্গ’ শব্দের অর্থ চিহ্ন। 
- এটি সংস্কৃত শব্দ এবং এর ব্যুৎপত্তি হলো লিঙ্গ+অ = লিঙ্গ। 
- লিঙ্গ শব্দের ভিন্ন অর্থ থাকলেও ব্যাকরণে এটি শব্দের শ্রেণীবিশেষ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 
- যে সকল শব্দ দ্বারা বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের মধ্যে পুরুষ, স্ত্রী বা ভিন্ন জাতি বোঝায়, তাকে লিঙ্গ বলে। 
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা- 

ক) পুংলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ। 
যেমন- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি। 

খ) স্ত্রীলিঙ্গ: 
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে। 
যেমন- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি। 

গ) ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ। 
যেমন- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি। 

ঘ) উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ। 
যেমন-
শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১৯.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ -
  1. ঘর-টর
  2. কুট কুট
  3. খক খক
  4. ফটাফট
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
ব্যাখ্যা
• 'ঘর-টর' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
কুট কুট, খক খক, ফটাফট - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২০.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. হু = হ্‌ + উ
  2. ক্ম = ক্‌+ ন
  3. ক্ষ = ক্‌ + ষ
  4. ক্স = ক্‌ + স
সঠিক উত্তর:
ক্ম = ক্‌+ ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ম = ক্‌+ ন
ব্যাখ্যা
• "ক্ম = ক্‌+ ন" - যুক্তবর্ণ বিশ্লেষণটি সঠিক নয়।
শুদ্ধ বিশ্লেষণ হবে- ক্ম ( ক্‌ + ম)। 

-------------------- 
• কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণ:

- হু (হ্‌ + উ),
- ক্ম ( ক্‌ + ম), 
- ক্ত (ক্‌ + ত),
- ক্স (ক্‌+স),
- ক্র (ক্‌+র),
- ক্ষ (ক+ষ),
- ক্ষ্ম (ক্‌+ষ্‌+ম) ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২১.
নতুন শব্দ গঠিত হতে পারে -
  1. উপসর্গযােগে
  2. প্রত্যয়যোগে
  3. শব্দের দ্বৈত ব্যবহারে
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো
ব্যাখ্যা
নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠিত হতে পারে।
যথা- 
- সন্ধির মাধ্যমে, 
- সমাসের সাহায্যে, 
- উপসর্গযোগে, 
- প্রত্যয়যোগে, 
- অনুসর্গযোগে, 
- বিভক্তিযোগে, 
- পদ পরিবর্তন দ্বারা, 
- শব্দের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে, 
- পদাশ্রিত নির্দেশক যোগ করে।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২২.
প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করলে তাকে কী বলে?
  1. যোগরূঢ় শব্দ
  2. রূঢ়ি শব্দ
  3. যৌগিক শব্দ
  4. সংখ্যাবাচক শব্দ
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
• রূঢ়ি শব্দ: 
- যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।

অন্যদিকে, 
যৌগিক শব্দ:
- যেসকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই তাকে যৌগিক শব্দ বলে। 
যেমন:
- গায়ক, দৌহিত্র, কর্তব্য, বাবুয়ানা, চিকামারা, মধুর, শয়ন, গুণবান।
এখানে, 
'মিষ্টান্ন' শব্দের ব্যুৎপত্তি = মিষ্ট + অন্ন;
'মিষ্টান্ন' শব্দটি একটি যৌগিক শব্দ। এটি 'মিষ্ট' (যার অর্থ মিষ্টি) এবং 'অন্ন' (যার অর্থ খাদ্য) এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। মিষ্টান্ন বলতে মিষ্টি জাতীয় খাদ্যদেব্যকেই বোঝায়।

যোগরূঢ় শব্দ:
- সমাস নিষ্পন্ন যেসকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে বিশিষ্ট কোন অর্থ গ্রহণ করে তাকে যোগরূঢ় বলে।
যেমন:
- পঙ্কজ, রাজপুত, মহাযাত্রা, জলধি, আদিত্য।
 
• সংখ্যাবাচক শব্দ:
সংখ্যা বলতে গণনার ধারণা বোঝায়। যে সব শব্দ কোন বিশেষ্য পদ, অর্থাৎ কোন ব্যাক্তি বা বস্তু বা কোন কিছুর সংখ্যার ধারণা প্রকাশ করে, তাকে সংখ্যাবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
- এক টাকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।