গুণ ও বৃদ্ধি: - কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃৎ- প্রত্যয় যোগ করলে কৃৎ- প্রকৃতির আদিস্বর পরিবর্তিত হয়। এ পরিবর্তনকে বলা হয় গুণ ও বৃদ্ধি। - কৃৎ প্রত্যয় ব্যবহৃত হওয়ার সময় পরিবর্তন হওয়ার নিয়ম ২টি- গুণ ও বৃদ্ধি।
অন্যদিকে, ই/ঈ-প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ: বৃত্তি বা ব্যবসায় অর্থে: ডাক্তার-ডাক্তারি, মােক্তার-মােক্তারি, পােদ্দার-পােদ্দারি, ব্যাপার- ব্যাপারি, চাষ-চাষি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১৩.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
মালদ্বিপ
খ
পর্তুগিজ
গ
বাঙালি
ঘ
গ্রিস
ব্যাখ্যা
• যে কোন দেশ, ভাষা ও জাতির নাম লিখতে ই/ঈ কার দেয়ার প্রশ্ন এলে তাতে নিশ্চিন্তে ই-কার (ি)) দেওয়া যাবে। যেমন- দেশ: - গ্রিস, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি ইত্যাদি। - ব্যতিক্রম- মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা।
জাতি: - বাঙালি, পর্তুগিজ, তুর্কি ইত্যাদি।
ভাষা: - হিন্দি, আরবি, ফারসি ইত্যাদি।
উৎস: ১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার। ২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। ৩) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
'যুক্ত' অর্থে কোন প্রত্যয়জাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
ক
ডিঙা
খ
বাঘা
গ
বেতো
ঘ
টেকো
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়: - বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা। - সদৃশ অর্থে: বাঘ→ বাঘা। - রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো। - যুক্ত অর্থে: টাক → টেকো।
তদ্ধিত প্রত্যয়: শব্দের সঙ্গে বা শেষে যেসব প্রত্যয় যোগ হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয় সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে। - যেমন: চোর+আ = চোরা, কেষ্ট+আ = কেষ্টা, ডিঙি+আ = ডিঙা, বাঘ্+আ = বাঘা, হাত্+আ = হাতা
বাংলা ভাষায় তদ্ধিত প্রত্যয় তিন প্রকার। যথা: • বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয় • সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয় • বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১।
১৫.
সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে 'কী' শব্দটি ______ দিয়ে লেখা হবে।
ক
উ-কার
খ
ঊ-কার
গ
ই-কার
ঘ
ঈ-কার
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ও যোজক পদরূপে কী শব্দটি ঈ-কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন: - এটা কী বই? - কী আনন্দ! - কী আর বলব? - কী করছ? - কী করে যাব? - কী খেলে? - কী জানি?
কৃৎ প্রত্যয়: - ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত সেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টিকে কৃৎ প্রত্যয় বলে। যেমন- √চল + অন্ত = চলন্ত। √পড়ু + আ = পড়ুয়া। √কৃ + তব্য = কর্তব্য।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী কোনটি?
ক
ভলগা
খ
দানিয়ুব
গ
ইউরাল
ঘ
নিপার
ব্যাখ্যা
দানিয়ুব নদী:
• ইউরোপের প্রধান নদীসমূহ: - ভলগা (ইউরোপের দীর্ঘতম নদী), - দানিয়ুব, - ইউরাল, - নিপার, - ডন।
• দানিয়ুব ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। • এর উৎপত্তি জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট এবং পতনস্থল কৃষ্ণসাগর । • এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৮৫৭ কিলোমিটার। • এটি ইউরোপের ১০টি দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। • এই নদীর তীরে বুদাপেস্ট, বেলগ্রেড, ভিয়েনা, ব্রাটিস্লাভা সহ অনেক বিখ্যাত শহর অবস্থিত। • এজন্যে এটি আন্তর্জাতিক নদী নামে পরিচিত। • এটি ইউরোপের অন্যতম প্রধান পরিবহন পথ।
উৎস: ব্রিটানিকা এবং World Atlas.
১৮.
এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ কোনটি?
ক
গ্রিনল্যান্ড
খ
মাদাগাস্কার
গ
বোর্নিও
ঘ
সিসিলি
ব্যাখ্যা
এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ:
• 'বোর্নিও' এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ। • বোর্নিও পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। • কেবল নিউগিনি এবং গ্রিনল্যান্ড এর চেয়ে বড়।
Image Source: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
অপরদিকে, • পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ হলো গ্রিনল্যান্ড। • এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। • গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীন। • গ্রিনল্যান্ডের মোট আয়তন প্রায় ২১ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। • গ্রিনল্যান্ডের অধিকাংশ বরফাচ্ছাদিত। • মাদাগাস্কার আফ্রিকার বৃহত্তম দ্বীপ। • ইতালির সিসিলি দ্বীপটি ভুমধ্যসাগরে অবস্থিত।
উৎস: ব্রিটানিকা।
১৯.
নিচের কোনটি এশিয়ার স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র নয়?
ক
তাজিকিস্তান
খ
থাইল্যান্ড
গ
মঙ্গোলিয়া
ঘ
উজবেকিস্তান
ব্যাখ্যা
♦ স্থলবেষ্টিত দেশ:
- স্থলবেষ্টিত দেশ হচ্ছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র যার কোনো মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকার নেই। - বর্তমানে ৪৪টি ল্যান্ডলকড দেশ রয়েছে।
এছাড়াও, - উজবেকিস্তানকে দ্বিগুণ স্থলবেষ্টিত দেশ বলা হয় কারণ এর প্রতিবেশী দেশগুলোও স্থলবেষ্টিত দেশ।
উৎস: ব্রিটানিকা এবং World Atlas.
২০.
নিচের কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রটি অন্য আরেকটি রাষ্ট্র দ্বারা বেষ্টিত নয়?
ক
স্যানমেরিনাে
খ
লেসােথাে
গ
ভ্যাটিকান সিটি
ঘ
আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র:
- যে দেশের অভ্যন্তরে এক বা একাধিক স্বাধীন দেশ অবস্থিত,তাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলে। - পৃথিবীতে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র ২টি। যথা- ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা। - স্যানমেরিনাে এবং ভ্যাটিকান সিটি নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ইতালির অধিভুক্ত, অর্থাৎ এই দুটি রাষ্ট্র ইতালি দ্বারা বেষ্টিত। - অপরদিকে, লেসােথাে সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- সারা বিশ্বে মাত্র তিনটি দেশ আছে, যারা অপর একটি দেশ দ্বারা সম্পূর্ণরূপে পরিবেষ্টিত। - এগুলাে হলাে লেসােথাে, স্যানমেরিনাে এবং ভ্যাটিকান সিটি। - ভ্যাটিকান সিটি, ভ্যাটিকান সিটির সম্পূর্ণ রাজ্যে, ইতালীয় ধর্মীয় রাজ্য, রোমান ক্যাথলিক চার্চের আসন এবং টাইবার নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত রোমের একটি ছিটমহল। - ভ্যাটিকান সিটি আয়তন ও জনসংখ্যায় পৃথিবীর একটি ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র।
- সেন্ট হেলেনা দ্বীপ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত। - এর আয়তন ১২২ বর্গ কিমি। - সেন্ট হেলেনার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য (দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তরপূর্ব) 10.5 মাইল (17 কিমি) এবং সর্বাধিক প্রস্থ 6.5 মাইল (10 কিমি)। - সেন্ট হেলেনা এর জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ , - সেন্ট হেলেনা দ্বীপ রাজধানী ও বন্দর জেমসটাউন। - এটি সতেরো শতকে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল। - দ্বীপটির জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ। - উল্লেখ্য, ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নকে ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। তিনি ১৮২১ খ্রিস্টাব্দে রোগাক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
অপরদিকে, আটলান্টিক মহাসাগরে অন্তর্গত অন্যান্য দ্বীপসমূহ হলো: - সেন্ট হেলেনা, যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রিনল্যান্ড, কিউবা ইত্যাদি।
Image Source: ব্রিটানিকা
উৎস: ব্রিটানিকা।
২৩.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
ক
ডিপথেরিয়া
খ
নিউমোনিয়া
গ
ব্রঙ্কাইটিস
ঘ
যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:
• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ । • শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল। • ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।
⮚ লক্ষণ: • কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়। • কাশির সাথে কফ থাকে। • জ্বর হয়। • শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।
⮚ প্রতিকার: • ধূমপান বন্ধ করতে হবে। • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।
Image: Human Lung (Britannica)
উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
নিচের কোনটি পরিবেশের ১ম স্তরের খাদক?
ক
হরিণ
খ
সাপ
গ
শিয়াল
ঘ
বাঘ
ব্যাখ্যা
♦ খাদক (Consumer):
- কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। - তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। - তাই এদের বলা হয় পরভোজী জীব।
প্রথম শ্রেণির খাদক: • যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। এদের অপর নাম প্রথম শ্রেণির খাদক। • যেমন- ঘাস ফড়িং, মুরগি, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি প্রথম শ্রেণির খাদক।
Image Source: পঞ্চম শ্রেণি বিজ্ঞান বই
দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক: • যেসব প্রাণী তৃণভোজী প্রাণীদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তাদের বলা হয় গৌণ খাদক বা দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক। • এরা এক ধরনের মাংসাশী প্রাণী। • যেমন- শিয়াল, বাঘ ইত্যাদি দ্বিতীয় শ্রেণির খাদক।
তৃতীয় শ্রেণির খাদক: • যেসব প্রাণী পৌণ খাদকদের খেয়ে বাঁচে তারা ও মাংসাশী প্রাণি (carnivorous)। • এদের বলা যায় তৃতীয় শ্রেণির বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খাদক। • যেমন- সাপ, ময়ূর, বাঘ ইত্যাদি তৃতীয় শ্রেণির খাদক।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
মানুষের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম-
ক
সেরেবেলাম
খ
হাইপোথ্যালামাস
গ
থ্যালামাস
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানুষের মস্তিষ্ক:
• স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক। • প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। • মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস। • একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে। • মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।
উল্লেখ্য, • মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশের নাম সেরেব্রাম। • এটি মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে। • দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত। • খণ্ডদুটি ভেতরের দিকে কর্পাস ক্যালোসাম নামে চওড়া স্নাযুগুচ্ছ দিয়ে যুক্ত। • প্রতিটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার ৫টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা- ফ্রন্টাল লোব, প্যারাইটাল লোব, অক্সিপিটাল লোব, টেম্পোরাল লোব ও লিম্বিক লোব।
উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬.
‘ইকোলজি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন -
ক
আর্নেস্ট হেকেল
খ
লেস্টার ব্রাউন
গ
নরম্যান বোরল্যাগ
ঘ
আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা (Ecology):
- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে। - প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান নিয়ামক : পানি, গাছপালা ইত্যাদি। - পরিবেশবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Ecology ইকোলজি। - গ্রিক ওইকোস অর্থাৎ "বাসস্থান" এবং লোগোস অর্থাৎ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে। - ইকোলজি শব্দটি জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল ১৮৬৯ সালে সর্বপ্রথম প্রণয়ন করেন। - ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা। - সুইডিশ বিজ্ঞানী সুভনটে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিনহাউজ’ শব্দটি ব্যবহার করেন। - লেস্টার ব্রাউন প্রথম ‘জলবায়ু শরনার্থী’ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। - নরম্যান বোরলগ সবুজ বিপ্লবের জনক হিসেবে অভিহিত।
উৎস: ব্রিটানিকা এবং অ্যাকাডেমিয়া।
২৭.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থকে কী বলে?
ক
প্রাণরস
খ
এনজাইম
গ
হরমোন
ঘ
ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ 'গ্রন্থি': যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে । - মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি। ১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় , টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা। ২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি – ঘর্মগ্রন্থি , ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি , মেবোমিয়ান গ্রন্থি , যকৃত এবং মিউকাস ।
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি : প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে। • এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। • উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:
• কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়। • ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত। • এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২৮.
পানিবাহিত রোগ নয় কোনটি?
ক
ডায়রিয়া
খ
টাইফয়েড
গ
ম্যালেরিয়া
ঘ
আমাশয়
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ:
• যে সব রোগ দূষিত পানির মাধ্যমে সংক্রমিত হয় বা ছড়ায় তাদেরকে পানিবাহিত রোগ বলে। • পানিবাহিত অনুজীবসমূহ মূলত দেহের পাকস্থলিতে আশ্রয় গ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে অভীষ্ট অঙ্গে বা অন্ত্রে স্থানান্তরিত হয়। • পানিবাহিত রোগসমূহের মধ্যে - ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, কলেরা, পোলিও, হেপাটাইটিস বি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, - যে সকল রোগ হাঁচি-কাশি বা কথাবার্তা বলার সময় বায়ুতে জীবাণু ছড়ানোর মাধ্যমে হয় সেগুলোকে বায়ুবাহিত রোগ বলে। - যেমন: সোয়াইন ফ্লু, হাম, গুটিবসন্ত, যক্ষা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি।