পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
Exam - 25 Evidence Act: Subject Final Topic ➝ Evidence Act-Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
'Conclusive Proof' এর সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ৪ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।

.
ধারা ১২ অনুযায়ী কোন তথ্য প্রাসঙ্গিক?
  1. অধিকার বা প্রথা প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক তথ্য
  2. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়ক তথ্য
  3. ঘটনা দৈবিক না ইচ্ছাকৃত নির্ধারণে সহায়ক তথ্য
  4. দেহের অবস্থা বা শারীরিক অনুভূতি প্রদর্শনকারী তথ্য
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২, ধারা-১২: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক তথ্য:
যে সকল দেওয়ানি মোকদ্দমায় ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়, সেক্ষেত্রে যে কোন তথ্য যা আদালতকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে সহায়তা করবে, তা প্রাসঙ্গিক।

অর্থাৎ, সাক্ষ্য আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী,
যে কোনো ঘটনা যা আদালতকে মামলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে সহায়তা করে, সেগুলোকে প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য করা হবে।

Section-12. In suits for damages, facts tending to enable Court to determine amount are relevant:
In suits in which damages are claimed, any fact which will enable the Court to determine the amount of damages which ought to be awarded, is relevant.

.
কোনটি subsequent conduct–এর উদাহরণ?
  1. অপরাধীর পরিকল্পনা করা
  2. ঋণগ্রস্ত থাকার কারণে হত্যা
  3. অপরাধ সংঘটনের পূর্বে অস্ত্র সংগ্রহ
  4. হত্যার পর অপরাধীর পালিয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• The Evidence Act, 1872 এর ৮ ধারায় বিচার্য বা প্রাসঙ্গিক বিষয়ের অভিপ্রায় (Motive), প্রস্তুতি (Preparation) এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কার্য (Previous or Subsequent Conduct) কে প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:

পরবর্তী কার্য (Subsequent Conduct):
অপরাধের পর অপরাধীর আচরণ যেমন পলাতক অবস্থা, সন্দেহজনক কাজ, মিথ্যা বক্তব্য প্রদান ইত্যাদি।
উদাহরণ:
ক) হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধী পালিয়ে গিয়েছিল এবং জামাকাপড় পরিবর্তন করেছিল।
খ) অপরাধের পর অপরাধী তার ছদ্মনাম ব্যবহার করে অন্যত্র পালিয়ে গিয়েছিল।

উল্লেখ্য,
অভিপ্রায় (Motive):
একজন ব্যক্তির হত্যার অভিপ্রায় দেখানো যেতে পারে যে, তিনি অপরাধীর মানসিক অবস্থা কি ছিল। যেমন- অত্যাধিক ঋণগ্রস্ততা বা প্রতিহিংসার অভিপ্রায়।

প্রস্তুতি (Preparation):
অপরাধ সংঘটনের পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার প্রমাণ যেমন অস্ত্র সংগ্রহ করা, লুকানো পরিকল্পনা করা ইত্যাদি।যেমন- ডাকাতি করার জন্য অপরাধী পূর্বে অস্ত্র ও মাস্ক সংগ্রহ করেছিল।

পূর্ববর্তী কার্য (Previous Conduct):
অপরাধীর পূর্ববর্তী কাজকর্ম যা তার আচরণের ধারা প্রদর্শন করে। যেমন- বহুবার স্ত্রীকে নির্যাতন ও মারধর করার পর এক দিন স্বামী তাকে হত্যা করেছে।

.
কোনটি ডিজিটাল রেকর্ডের উদাহরণ নয়?
  1. ড্রোন ভিডিও
  2. সেল ফোনে ধারণকৃত ছবি
  3. ডিএনএ
  4. মাইক্রোফিল্মে সংরক্ষিত ডাটা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ডিএনএ (DNA)।
- ডিএনএ (DNA) ডিজিটাল রেকর্ড নয়; এটি শারীরিক/ফরেনসিক প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।

• ধারা ৩: The Evidence(Amendment) Act, 2022 এর সংশোধন অনুসারে ডিজিটাল রেকর্ড বা ইলেকট্রিক রেকর্ড বলতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো যুক্ত হবে-
⇒ ম্যাগনেটিক বা ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক, অপটিক্যাল, কম্পিউটার মেমরি, মাইক্রোফিল্ম;
⇒ অডিও, ভিডিও, ডিজিটাল বহুমুখী ডিস্ক বা ডিজিটাল ভিডিও ডিস্ক (ডিভিডি), কম্পিউটার উৎপাদিত মাইক্রোফিচ ইত্যাদিতে প্রস্তুতকৃত, প্রেরিত, গৃহীত বা ধারণকৃত কোন রেকর্ড, ডাটা বা তথ্য;
⇒ ড্রোন ডেটা বা ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশনের রেকর্ড (সিসিটিভি), সেল ফোন, হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার; বা
⇒ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ তে সংজ্ঞায়িত অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইসের কোন রেকর্ডস।ঃ

শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য (Physical or Forensic Evidence):
যে সকল বস্তু বা উপাদান যেগুলো অপরাধের প্রমাণ বা সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে, তাদের শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য বলা হয়। এগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
- রক্ত, বীর্য, চুল বা অন্যান্য শারীরিক পদার্থ;
- অঙ্গ বা অঙ্গের কোনো অংশ;
- ডিএনএ (DNA);
- আঙ্গুলের ছাপ (Finger impression), হাতের তালুর ছাপ (Palm impression), চোখের কনীর ছাপ (Iris impression), পায়ের ছাপ (Footprint) অন্য যে কোন সদৃশ বস্তু বা উপাদান, যা:
প্রমাণ করতে পারে যে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, অথবা অপরাধ ও তার শিকার বা অপরাধ ও অপরাধীর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে বা কোনো ঘটনা সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করতে সাহায্য করতে পারে।

.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ধারা ৭ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. ঘটনার স্থান সম্পর্কিত পরিবেশ
  2. ঘটনার সুযোগ সৃষ্টি করে এমন অবস্থা
  3. ঘটনার আগে বা পরে ঘটিত কারণ বা ফলাফল
  4. ঘটনার পূর্ববর্তী বিবৃতি সম্পর্কিত তথ্য
ব্যাখ্যা

ধারা ৭- যে সমস্ত ঘটনা মূল ঘটনা বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার কারণ, উপলক্ষ, বা ফলাফল, সেগুলি প্রাসঙ্গিক:
যে সমস্ত ঘটনা মূলত বিতর্কিত ঘটনা (facts in issue) বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার উপলক্ষ, কারণ বা ফলাফল, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, অথবা যে সমস্ত ঘটনা সেই অবস্থার অংশ যেখানে মূল ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, বা যা সেই ঘটনার সংঘটনের সুযোগ বা পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, সেগুলো প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

⇒ কিন্তু “ঘটনার পূর্ববর্তী বিবৃতি সম্পর্কিত তথ্য” ধারা ৭-এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি সাধারণত ধারা ৬ (res gestae) বা ধারা ৮ (conduct, motive, preparation)–এর অধীনে আসতে পারে, তবে ধারা ৭ নয়।

উদাহরণসমূহ:
(ক) প্রশ্ন হলো -“A কি B-কে ডাকাতি করেছে?”
এক্ষেত্রে, এই বিষয়গুলি প্রাসঙ্গিক -
ডাকাতির কিছুক্ষণ আগে B যে টাকাপয়সা নিয়ে মেলায় গিয়েছিল, এবং সে যে বিষয়টি অন্য লোকদের সামনে বলেছিল বা দেখিয়েছিল- এই তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক।

(খ) প্রশ্ন হলো- “A কি B-কে হত্যা করেছে?”
ঘটনাস্থল বা তার কাছাকাছি জায়গায় মাটিতে যে দাগ বা চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা কোনো রকম লড়াই বা সংঘর্ষের ইঙ্গিত দেয়- তা প্রাসঙ্গিক তথ্য।

(গ) প্রশ্ন হলো- “A কি B-কে বিষ দিয়েছে?”
B-এর স্বাস্থ্য, বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগের সময়ের স্বাস্থ্যাবস্থা, এবং B-এর যে অভ্যাসগুলো A জানত- যা A-কে বিষ প্রয়োগের সুযোগ দিয়েছে- সেগুলোও প্রাসঙ্গিক তথ্য।

.
ফৌজদারি মামলা প্রমাণের জন্য সর্বনিম্ন কতজন সাক্ষীর প্রয়োজন?
  1. ১ জন
  2. ২ জন
  3. ৩ জন
  4. কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই
ব্যাখ্যা

ল্যাটিন নীতি: "Testes ponderantur, non numerantur"
অর্থ: "সাক্ষীদের গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়, সংখ্যা নয়।"
মানে: সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সাক্ষীর সংখ্যা নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা, সত্যবাদিতা ও সাক্ষ্যের যথার্থতা বিবেচনা করা হবে।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৩৪ অনুসারে,
কোনো মামলার প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র একজন সাক্ষী থেকেও কোনো ঘটনা প্রমাণ করা যায়, যদি তার সাক্ষ্য বিশ্বাসযোগ্য হয়।

.
ধারা ৬৪-এর মূল নীতি কোনটি?
  1. দলিলের সত্যতা যাচাই শুধুমাত্র সাক্ষীর উপর নির্ভর করে
  2. দলিল প্রমাণের ক্ষেত্রে মূল দলিল প্রদর্শন করা আবশ্যক
  3. নকল দলিল যথেষ্ট প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য
  4. দলিল প্রমাণ করতে শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ৬৪ ধারা- প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা দলিল প্রমাণ: 
এই আইনে অতঃপর যে সকল ব্যতিক্রমের উল্লেখ করা হইয়াছে উহা ভিন্ন অন্য সকল ক্ষেত্রে দলিলসমূহ অবশ্যই প্রাথমিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে হইবে।

ধারা ৬৪-এর মূল নীতি হলো যে,
কোনো দলিল প্রমাণ করার জন্য মূল দলিল (Primary Evidence / Original Document) প্রদর্শন করা আবশ্যক, ব্যতিক্রম ছাড়া।
এটি আদালতকে দলিলের সত্যতা যাচাইতে সরাসরি সহায়তা করে এবং নকল বা কপি দলিলকে প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে না।

.
ধারা ৪৫ক (১) অনুসারে, বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর প্রতিবেদন কাকে প্রদান করতে হয়?
  1. কেবল আদালতকে
  2. কেবল মামলার বাদীকে
  3. কেবল আসামিকে
  4. সকল পক্ষকে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৫ক: বিশেষজ্ঞের মতামত শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে:
(১) আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না তার প্রতিবেদনটি (উপ-ধারা ২ অনুযায়ী) সমস্ত পক্ষকে প্রদান করা হয়।

(২) বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদনটি আদালতের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হবে এবং কোনো পক্ষের পক্ষে নয়, এবং বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হচ্ছে আদালতকে সাহায্য করা।

.
ধারা ৬৭ক কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. দলিলের অনুবাদ
  2. শারীরিক প্রমাণ
  3. ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রমাণ
  4. প্রাথমিক সাক্ষ্যের প্রমাণ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৬৭ক - ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রমাণ সম্পর্কিত বিধান:
সুরক্ষিত ডিজিটাল স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ব্যতীত, যদি কোনো ডিজিটাল রেকর্ডে কোনো গ্রাহকের ডিজিটাল স্বাক্ষর সংযুক্ত বলে অভিযোগ করা হয়, তবে এটি প্রমাণ করতে হবে যে উক্ত ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রকৃতপক্ষে সেই গ্রাহকের স্বাক্ষর।

১০.
ধারা ৩৩ অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সাক্ষ্য কখন প্রাসঙ্গিক হয়?
  1. সাক্ষী মৃত হলে
  2. সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে অক্ষম হলে
  3. সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া না গেলে
  4. উল্লিখিত সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৩- পরবর্তী বিচারকার্যে পূর্বে প্রদত্ত সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা:
যে কোনো সাক্ষী পূর্বে কোনো বিচারকার্যে বা আইনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তার সেই সাক্ষ্য পরবর্তী বিচারকার্যে (subsequent proceeding) বা একই বিচারকার্যের পরবর্তী ধাপে (later stage) প্রাসঙ্গিক (relevant) বলে গণ্য হবে, যখন সেই সাক্ষী:
- মৃত (dead), অথবা
- খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না (cannot be found), অথবা
- সাক্ষ্য দিতে অক্ষম (incapable of giving evidence), অথবা
- বিরোধী পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে উপস্থিত হতে বাধা দিয়েছে (kept out of the way by the adverse party), অথবা
- তাকে হাজির করতে এত বেশি বিলম্ব বা ব্যয় হবে, যা আদালত অযৌক্তিক বলে মনে করে (presence cannot be obtained without unreasonable delay or expense).

তবে নিম্নোক্ত শর্তগুলো থাকতে হবে (Proviso):
- দুই বিচারকার্য একই পক্ষ বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে। অর্থাৎ, প্রথম মামলার পক্ষ ও দ্বিতীয় মামলার পক্ষ একই হতে হবে বা একই স্বার্থে থাকতে হবে।
- প্রথম বিচারকার্যে বিরোধী পক্ষের জেরা করার অধিকার ও সুযোগ থাকতে হবে।
- প্রথম ও দ্বিতীয় বিচারকার্যে বিতর্কিত প্রশ্ন (questions in issue) মূলত একই হতে হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation): কোনো ফৌজদারি বিচার (criminal trial) বা তদন্ত (inquiry) কে ধারা ৩৩ অনুযায়ী “proceeding between the prosecutor and the accused” বলে গণ্য করা হবে।

১১.
সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রমের সঠিক ধাপ কোনটি?
  1. Cross-examination → Examination-in-chief → Re-examination
  2. Examination-in-chief → Re-examination → Cross-examination
  3. Examination-in-chief → Cross-examination → Re-examination
  4. Re-examination → Cross-examination → Examination-in-chief
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ. Examination-in-chief → Cross-examination → Re-examination

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারার বিধান: সাক্ষ্য গ্রহণের ক্রম [Order of Examination]:
সাক্ষ্য আইনের ১৩৮ ধারায় সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, জেরা এবং পুনঃজবানবন্দি গ্রহণ করা যায়। ১৩৮ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণের ৩টি ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ক্রম হলো সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ, দ্বিতীয় ক্রম হলো সাক্ষীর আহ্বানকারী পক্ষের বিরোধী পক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা (ইচ্ছা করলে করতে পারে) এবং তারপর সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ কর্তৃক পুনঃজবানবন্দি (যদি পক্ষদ্বয় ইচ্ছা করে) করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ ও জেরা প্রাসঙ্গিক তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে, তবে জেরা কেবল মূল সাক্ষ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

১২.
যদি মূল দলিল আদালতের বাইরে থাকে এবং আইনত উপস্থাপন করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয় কিন্তু দেওয়া হয়নি, তখন-
  1. দলিল অকার্যকর হবে
  2. সাক্ষ্য হিসেবে কেবল মূল দলিল গ্রহণযোগ্য হবে
  3. মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে
  4. আদালতের অনুমতি ছাড়া তা গ্রহণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ৬৫ ধারায় ৭টি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে মাধ্যমিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য।

⇒ ক্ষেত্রসমূহ নিম্নরূপঃ
১) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে, মূল দলিলটি যদি তার দখলে বা কর্তৃত্বাধীনে থাকে।
২) মূল দলিলটি যদি আদালতের সমনের আওতার বাহিরে বা এখতিয়ারের বাহিরে কোন লোকের দখলে থাকে কিংবা এমন কোন লোকের দখলে আছে যে লোক উক্ত দলিলটি উপস্থাপন করতে আইনত বাধ্য কিন্তু ৬৬ ধারার অধীন নোটিশ প্রদানের পরও সে তা উপস্থাপন করেনি।
৩) সংশ্লিষ্ট দলিলটি যার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে হবে সে লোক বা তার কোন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মূল দলিলের অস্তিত্ব, অবস্থা বা বিষয়বস্তু লিখিতভাবে যদি স্বীকার করে নেয়।
৪) যেক্ষেত্রে মূল দলিলটি বিনষ্ট হয়েছে বা হারিয়ে গেছে কিংবা যৌক্তিক কোন কারণে মূল দলিলটি আদালতে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।
৫) মূল দলিলটি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, সহজে তা স্থানান্তর করা যায় না।
৬) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে ৭৪ ধারার বিধান অনুসারে সরকারি দলিল হয়।
৭) মূল দলিলটি যেক্ষেত্রে এমন যে, উক্ত দলিলের জাবেদা নকল সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের আইনত বিধান আছে।

১৩.
ধারা ৫৪ প্রযোজ্য হবে না কোন ক্ষেত্রে?
  1. ভালো চরিত্র বিচার্য বিষয় হলে
  2. খারাপ চরিত্র বিচার্য বিষয় হলে
  3. সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হলে
  4. ভালো বা খারাপ যেকোনো চরিত্র বিচার্য বিষয় হলে
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৪:
ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক, যদি না তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে প্রমাণ দেওয়া হয়, যার ফলে তার খারাপ চরিত্র প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

ব্যাখ্যা ১- যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্রই বিচার্য বিষয়, সেখানে এই ধারা প্রযোজ্য নয়।
ব্যাখ্যা ২- পূর্বের দোষী সাব্যস্ত খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক।

১৪.
A, B-এর জন্য ভাড়া সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়। A, C থেকে B-এর প্রাপ্য ভাড়া সংগ্রহ করেনি বলে B, A-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। A দাবি করে যে, "C-এর কাছে B-এর কোনো ভাড়া পাওনা ছিল না।" এক্ষেত্রে C-এর বিবৃতি A-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে কত ধারায়?
  1. ১৭ ধারায়
  2. ১৮ ধারায়
  3. ১৯ ধারায়
  4. ২০ ধারায়
ব্যাখ্যা

ধারা ১৯- সেই ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি, যাদের অবস্থান বা দায় প্রমাণ করা প্রয়োজন:
যে ব্যক্তিদের অবস্থান (position) বা দায় (liability) কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে প্রমাণ করা প্রয়োজন হয়, তাদের দ্বারা প্রদত্ত বিবৃতি (statement) স্বীকারোক্তি (admission) হিসেবে গণ্য হবে — যদি সেই বিবৃতিগুলো ঐ ব্যক্তিদের নিজের অবস্থান বা দায় সম্পর্কে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় প্রাসঙ্গিক হতো, এবং যদি তা তারা সেই অবস্থানে থাকাকালীন বা দায়ে আবদ্ধ থাকাকালীন প্রদান করে থাকে।

উদাহরণ (Illustration):
A, B-এর জন্য ভাড়া সংগ্রহের দায়িত্ব নেয়। B, A-এর বিরুদ্ধে মামলা করে- কারণ A, C থেকে B-এর প্রাপ্য ভাড়া সংগ্রহ করেনি।
A দাবি করে যে, “C-এর কাছে B-এর কোনো ভাড়া পাওনা ছিল না।"
এই পরিস্থিতিতে, যদি C বলে থাকে যে, সে B-এর কাছে ভাড়া পাওনাদার ছিল, তাহলে C-এর এই বিবৃতি একটি Admission (স্বীকারোক্তি), এবং এটি A-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে, কারণ A অস্বীকার করছে যে C-এর কোনো দায় ছিল।

১৫.
ধারা ৭০ অনুযায়ী দলিলের সম্পাদনের জন্য কোন প্রমাণ যথেষ্ট?
  1. মূল দলিলের উপস্থাপন
  2. শুধুমাত্র সাক্ষীর উপস্থিতি
  3. স্বাক্ষরকর্তার স্বীকারোক্তি
  4. দলিলের তারিখ
ব্যাখ্যা

ধারা ৭০: স্বাক্ষরিত দলিলের সম্পাদন স্বীকারোক্তি:
"যে ব্যক্তি কোন সাক্ষীকৃত দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে নিজে দলিলটি সম্পাদন করেছেন তা যদি স্বীকার করেন, তবে এটি তার বিরুদ্ধে দলিলটির সম্পাদনের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে—যদিও আইন অনুযায়ী দলিলটিতে সাক্ষী থাকা আবশ্যক।"

১৬.
আদালত কোন ক্ষেত্রে ধারা ৪৭ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মতামত গ্রহণ করতে পারে?
  1. যখন সাক্ষ্য মৌখিক হয়
  2. যখন দলিল জাল বলে দাবি করা হয়
  3. যখন সাক্ষীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
  4. যখন হস্তলিপি বা স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ৪৭ ধারা- হস্তলিপি সম্বন্ধে অভিমত যেক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক:
একটি দলিল কোন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে সে সম্বন্ধে আদালতকে যখন কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, তখন যে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত অথবা স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সে ব্যক্তির দ্বারা এটা লিখিত বা স্বাক্ষরিত হচ্ছে বা হয়নি এ মর্মে উক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত কোন ব্যক্তির অভিমত প্রাসঙ্গিক পরিগণিত।

ব্যাখ্যা- এক ব্যক্তি যেক্ষেত্রে অন্য এক ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে অথবা যেক্ষেত্রে সে ব্যক্তির নিকট প্রেরিত নিজের লেখার বা নিজ কর্তৃত্বে লিখিত কোন নথির উত্তরে তার নিকট হতে তার দ্বারা লিখিত বলে প্রতীয়মান নথি পেয়েছে প্রতীয়মান কাগজপত্র বরাবর তার নিকট দাখিল হয়ে আসছে, সেক্ষেত্রে প্রথমোক্ত ব্যক্তির শেষোক্ত ব্যক্তির হস্তলিপির সঙ্গে পরিচিত বলে ধরা হয়।

⇒ উক্ত ধারামতে, একজন ব্যক্তির অভিমত অন্য ব্যক্তির হস্তলিপি বা হাতের লেখা প্রমাণের ক্ষেত্রে তখন প্রাসঙ্গিক হবে, যখন কোন ব্যক্তি-
- অপর ব্যক্তিকে লিখতে দেখেছে;
- অপর ব্যক্তির লিখিত কোন দলিল পেয়েছে;
- স্বাভাবিক কাজকর্ম হিসেবে যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির হাতের লেখার সাথে পরিচিত হয়েছে।

১৭.
'প্রলোভন, ভীতি ও প্রতিশ্রুতিজনিত ধারণা অপসারণের পর প্রদত্ত স্বীকারোক্তি প্রাসঙ্গিক'- এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ২৪ ধারা
  2. ২৬ ধারা
  3. ২৭ ধারা
  4. ২৮ ধারা
ব্যাখ্যা

The Evidence Act, 1872 এর ২৮ ধারা অনুযায়ী,
"যদি ২৪ ধারায় উল্লিখিত এমন কোনো স্বীকারোক্তি, যেকোনো প্রলোভন, ভয় প্রদর্শন বা প্রতিশ্রুতির ফলে সৃষ্ট প্রভাব, আদালতের মতে, সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হওয়ার পর করা হয়, তবে তা প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য হবে।"

⇒ যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রথমে প্রলোভন, ভয় প্রদর্শন বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে কোনো ধারণা দেওয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারণা আদালতের মতে পূর্ণরূপে অপসারিত হয়ে গেলে এবং তার পরে অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় কোনো স্বীকারোক্তি করেন, তাহলে সেই স্বীকারোক্তিটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।

Section 28- Confession made after removal of impression caused by inducement, threat or promise, relevant:
If such a confession as is referred to in section 24 is made after the impression caused by any such inducement, threat or promise has, in the opinion of the Court, been fully removed, it is relevant.

১৮.
ধারা ৬৮ অনুযায়ী সত্যায়িত দলিল প্রমাণ করার জন্য কী প্রয়োজন?
  1. আদালতের অনুমতি
  2. অন্তত একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী
  3. অন্তত দুইজন সত্যায়নকারী সাক্ষী
  4. শুধুমাত্র দলিলের মূল কপি
ব্যাখ্যা

উত্তর: অন্তত একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী।

• সাক্ষ্য আইনের ৬৮ ধারার বিধান- যে দলিল সত্যায়িত করা আইনত প্রয়োজন, তা সম্পাদনের প্রমাণ:
যে দলিল আইনে সত্যায়ন করার জন্য নির্দেশিত সেই দলিল প্রমাণ করার জন্য অন্ততপক্ষে একজন সত্যায়নকারী সাক্ষী তলব না করা পর্যন্ত দলিলটি সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে শর্ত থাকে যে উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি- রেজিস্ট্রি করা হয়ে থাকে এবং সম্পাদনকারী যদি সম্পাদনের কথা নির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করা না হয়, তা হলে প্রত্যয়নকারী সাক্ষীকে তলব করা প্রয়োজন হবে না।

১৯.
“He who asserts must prove-  এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ৯৯
  2. ধারা ১০০
  3. ধারা ১০১
  4. ধারা ১১৪
ব্যাখ্যা

“He who asserts must prove” অর্থাৎ যে দাবি করে, সেই প্রমাণ করবে — এই নীতিটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১০১ (Section 101: Burden of Proof) এর মূল ভিত্তি।

এই ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আদালতের নিকট কোনো আইনি অধিকার বা দায়বদ্ধতার বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করে, তাকে সেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করতে হবে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২- ধারা ১০১: প্রমাণের দায়ভার (Burden of Proof):
যে ব্যক্তি আদালতের নিকট এমন কোনো আইনি অধিকার (legal right) বা দায়বদ্ধতা (liability)-এর বিষয়ে রায় প্রত্যাশা করে, যার ভিত্তি কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার (facts) অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল,
তাকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে সেই ঘটনাগুলি সত্য।

যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ঘটনার অস্তিত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য, তখন বলা হয় যে প্রমাণের দায়ভার (burden of proof) তার উপর বর্তায়।

উদাহরণ (Illustrations):
(a) ‘A’ আদালতের নিকট রায় চায় যে ‘B’ অপরাধ করেছে এবং তাকে শাস্তি দেওয়া হোক। এখানে ‘A’-এর ওপর দায়ভার যে সে প্রমাণ করবে ‘B’ অপরাধ করেছে।

(b) ‘A’ আদালতের নিকট দাবি করে যে সে একটি জমির মালিক, যা বর্তমানে ‘B’-এর দখলে আছে, এবং সেই জমির ওপর তার অধিকারের পক্ষে কিছু ঘটনা সত্য বলে দাবি করে, যা ‘B’ অস্বীকার করে।  এখানে ‘A’-এর ওপর দায়ভার যে সে তার দাবিকৃত ঘটনাগুলি সত্য প্রমাণ করবে।

২০.
সাক্ষ্য আইনের ৩৫ ধারায় সরকারি দায়িত্বে প্রস্তুতকৃত রেকর্ড কী হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. চূড়ান্ত সত্য
  2. প্রাসঙ্গিক তথ্য
  3. অনুমানমূলক তথ্য
  4. অবিশ্বাস্য প্রমাণ
ব্যাখ্যা

ধারা ৩৫- সরকারি বা সরকারি দায়িত্বে প্রস্তুতকৃত রেকর্ডের প্রাসঙ্গিকতা:
যে কোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার বা রেকর্ড (বা ডিজিটাল রেকর্ড)–এ  যদি কোনো বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনা (fact in issue or relevant fact) সম্পর্কিত তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে, এবং তা- কোনো সরকারি কর্মচারী (public servant) তার সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়, অথবা আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি, দ্বারা তৈরি বা রেকর্ড করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই রেকর্ড নিজেই প্রাসঙ্গিক তথ্য (relevant fact) হিসেবে গণ্য হবে।

২১.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুসারে আদালত ৫ বছরের বেশি পুরোনো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষিত ডিজিটাল রেকর্ডকে সঠিক বলে অনুমান করতে পারে?
  1. ধারা ৭৩ক
  2. ধারা ৮৫ক
  3. ধারা ৯০ক
  4. ধারা ৯২ক
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৯০ক অনুযায়ী,
যে কোনো ডিজিটাল রেকর্ড যদি পাঁচ বছর পুরোনো হয় এবং আদালত মনে করে যে এটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে, তবে আদালত এটি সঠিক বলে ধরে নিতে পারে এবং অনুমান করতে পারে যে ডিজিটাল স্বাক্ষরটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার অনুমোদিত কোনো ব্যক্তির দ্বারা সংযুক্ত হয়েছে।

Section- 90A. Presumption as to digital records five years old:
Where any digital record, purporting or proved to be five years old, is produced from any custody which the Court in the particular case considers proper, the Court may presume that the digital signature which purports to be the digital signature of any particular person was so affixed by him or any person authorized by him in this behalf.

২২.
‘A’ রেলপথে টিকিট ছাড়া ভ্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত। কার ওপর প্রমাণের দায়িত্ব থাকবে যে, তার কাছে টিকিট ছিল?
  1. পুলিশ
  2. আদালত
  3. রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের
  4. অভিযুক্ত ‘A’-এর
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৬ ধারা অনুযায়ী,
কোনো বিষয় যখন বিশেষ ভাবে কোনো ব্যক্তির অবগতির মধ্যে থাকে, তখন সেই বিষয় প্রমাণ করার দায়িত্ব তার উপরই ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ, কোনো একটি ঘটনা বা বিষয় যখন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জানার কথা বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্যরা জানার কথা নয়, তখন ঐ ব্যক্তির উপরই প্রমাণ করার দায়িত্ব বর্তাবে।

⇒ এই ধারা অনুসারে, 'A'-কেই প্রমাণ দিতে হবে যে, তার কাছে টিকেট ছিল।

২৩.
সাধারণভাবে নিচে বর্ণিত কোন পরিস্থিতিতে দোষ স্বীকার গ্রহণযোগ্য নয়?
  1. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি
  2. দায়রা জজের কাছে দেওয়া দোষ স্বীকারোক্তি
  3. পুলিশ অফিসারের নিকট দেওয়া দোষ স্বীকারোক্তি 
  4. পুলিশের কাছে দেওয়া দোষ স্বীকার অনুযায়ী আলামত উদ্ধার করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: পুলিশ অফিসারের নিকট দেওয়া দোষ স্বীকারোক্তি।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২৫ অনুযায়ী-
“কোনো ব্যক্তির দ্বারা পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি (confession) আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।”

অর্থাৎ, যদি কোনো আসামি পুলিশ অফিসারের কাছে দোষ স্বীকার করে, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য (inadmissible) হবে — আদালতে প্রমাণ হিসেবে তা ব্যবহার করা যায় না।

তবে ব্যতিক্রম (Exception):
ধারা ২৭ (Discovery under police confession):
যদি পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তির ফলে কোনো আলামত (evidence or object) উদ্ধার হয়, তাহলে শুধু সেই উদ্ধার সম্পর্কিত অংশটুকু আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে। (যেমন: অভিযুক্ত বলল “আমি ছুরিটা গাছের নিচে লুকিয়েছি,” এবং ছুরি উদ্ধার হলো - তবে শুধু সেই অংশই প্রাসঙ্গিক।)

২৪.
সাক্ষ্য আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের পর সর্বোচ্চ কত দিনের মধ্যে জন্মানো সন্তানকে বৈধ ধরা যেতে পারে?
  1. ১৮০ দিন
  2. ২৮০ দিন
  3. ৩৮০ দিন
  4. ৪৮০ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১২- বিবাহকালে জন্ম শিশুর বৈধতার চূড়ান্ত প্রমাণ:
যে কোনো ব্যক্তি তার মাতার বৈধ বিবাহ চলাকালীন জন্মগ্রহণ করেছে, অথবা বিবাহবিচ্ছেদের ২৮০ দিনের (প্রায় দুইশত আশি দিন) মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে, এবং মাতা এই সময়ের মধ্যে বিবাহিত ছিলেন না, সেই ব্যক্তিকে সেই বিবাহিত পিতার বৈধ সন্তান হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ধরা হবে, যদি কেউ প্রমাণ করতে না পারে যে, সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় পিতামাতার মধ্যে কোনো মিলনের সুযোগ ছিল না, অর্থাৎ সন্তানটি জন্মগ্রহণের সময় মাতার পিতার সাথে কোনো শারীরিক সংস্পর্শ সম্ভব হয়নি।

সহজভাবে বলতে গেলে:
বৈধ বিবাহ চলাকালীন জন্ম → সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ।
বিবাহবিচ্ছেদের পর ২৮০ দিনের মধ্যে জন্ম → সন্তানও বৈধ, যদি মাতা নতুন কোনো বিবাহ না করেছে।

২৫.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৩২ অনুযায়ী, কয়টি ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির বিবৃতি প্রাসঙ্গিক?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী,
কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vi) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).

২৬.
A জমির দখল পাওয়ার জন্য B-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি পায়। C (B-এর ছেলে) রাগ করে A-কে হত্যা করে। সাক্ষ্য আইনের ৪৩ ধারা অনুযায়ী, এখানে ডিক্রির অস্তিত্ব-
  1. প্রাসঙ্গিক
  2. অপ্রাসঙ্গিক
  3. চূড়ান্ত প্রমাণ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধারা ৪৩- ৪০ থেকে ৪২ ধারায় উল্লিখিত নয় এমন রায়, আদেশ বা ডিক্রির প্রাসঙ্গিকতা:
যে রায় (judgment), আদেশ (order) বা ডিক্রি (decree) ধারা ৪০, ৪১ ও ৪২–এ বর্ণিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলো সাধারণভাবে অপ্রাসঙ্গিক (irrelevant)- যদি না সেই রায়, আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব (existence) নিজেই কোনো মূল বিষয় (fact in issue) হয়, অথবা এই আইন (সাক্ষ্য আইন)-এর অন্য কোনো ধারায় প্রাসঙ্গিক হিসেবে ঘোষিত হয়।

উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(a) A ও B আলাদাভাবে C-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে। A মামলায় জয়ী হয়, কিন্তু সেটি B-এর মামলায় অপ্রাসঙ্গিক,
কারণ দুটি মামলা আলাদা পক্ষের মধ্যে। রায় প্রাসঙ্গিক নয়, কারণ এটি অন্য মামলার জন্য binding নয়।

(b) A, B-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যে সে C-এর (A-এর স্ত্রী) সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। B-কে ব্যভিচারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে C-কে বিগ্যামির অভিযোগে বিচার করা হলে, সে বলে — “আমি কখনও A-এর স্ত্রী ছিলাম না।” B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি এখানে C-এর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক নয়। পূর্বের রায় অন্য অভিযুক্তের জন্য binding নয়।

(c) A, B-এর বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ আনে। B দোষী সাব্যস্ত হয়। পরে A, C-এর বিরুদ্ধে গরু উদ্ধারের মামলা করে (C সেই গরু B-এর কাছ থেকে কিনেছিল)। এক্ষেত্রে B-এর দণ্ডপ্রাপ্তি A ও C-এর মধ্যে মামলায় অপ্রাসঙ্গিক।

(d) A জমির দখল পাওয়ার জন্য B-এর বিরুদ্ধে ডিক্রি পায়। C (B-এর ছেলে) রাগ করে A-কে হত্যা করে। এখানে ডিক্রির অস্তিত্ব প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) দেখায়।

(e) A চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং বলা হয়েছে যে সে পূর্বে চুরির দণ্ড পেয়েছে। তাহলে পূর্বের দণ্ডাদেশ এখন fact in issue, তাই প্রাসঙ্গিক।

(f) A, B-কে হত্যা করেছে। আগে B, A-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল এবং তাতে A দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল। এ তথ্য ধারা ৮ অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি হত্যার উদ্দেশ্য (motive) ব্যাখ্যা করে।

২৭.
ধারা ৯৫ অনুসারে, দলিলের ভাষা যদি বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলে না যায়, তখন-
  1. দলিল বাতিল হবে
  2. নতুন দলিল করতে হবে
  3. প্রমাণ দেওয়া যাবে যে ভাষাটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছিল
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ধারা ৯৫ – বিদ্যমান বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে দলিলের ভাষা অর্থহীন হলে প্রমাণ:
যখন কোনো দলিলে ব্যবহৃত ভাষা আপাতদৃষ্টিতে পরিষ্কার ও নির্ভুল হলেও বিদ্যমান বাস্তবতার সাথে তা অর্থবোধক না হয়, তখন এটি প্রমাণের জন্য সাক্ষ্য প্রদান করা যেতে পারে যে ভাষাটি বিশেষ কোনো অর্থে ব্যবহার করা হয়েছিল।

উদাহরণ:
- ক ‘খ’-কে একটি দলিলের মাধ্যমে বলে “আমার ঢাকা শহরের বাড়ি খ’-কে বিক্রি করলাম”।
- কিন্তু ক-এর ঢাকায় কোনো বাড়ি নেই, তবে দেখা যায় যে তার নারায়ণগঞ্জে একটি বাড়ি ছিল, এবং খ দলিল সম্পাদনের পর থেকে সেই বাড়ির দখলে ছিল।
- এসব বিষয় প্রমাণ করা যেতে পারে, যেন বোঝা যায় দলিলটি মূলত নারায়ণগঞ্জের বাড়ির জন্য প্রযোজ্য।

২৮.
‘চরিত্র’ শব্দটির ব্যাখ্যা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় দেওয়া আছে?
  1. ৫২ ধারায়
  2. ৫৩ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৫: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা:
দেওয়ানি মামলায়, কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হতে পারে যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা: ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়। তবে, ৫৪ ধারায় নির্দিষ্ট যে ব্যতিক্রম রয়েছে তা ছাড়া, শুধুমাত্র সাধারণ খ্যাতি ও সাধারণ স্বভাব সম্পর্কিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে, বিশেষ কোনো কার্য বা আচরণের মাধ্যমে প্রমাণিত খ্যাতি বা স্বভাবের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।

⇒ The Evidence Act,1872, Section 55. Character as affecting damages:
In civil cases the fact that the character of any person is such as to affect the amount of damages which he ought to receive, is relevant.

Explanation.–
 In sections 52, 53, 54 and 55, the word "character" includes both reputation and disposition; but, except as provided in section 54, evidence may be given only of general reputation and general disposition, and not of particular acts by which reputation or disposition were shown.

২৯.
সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারায় মামলায় প্রমাণের দায় কার উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. যে পক্ষ প্রমাণ না দিলে মামলায় জিতবে
  2. যে পক্ষ প্রমাণ না দিলে মামলায় হারবে
  3. উভয় পক্ষের উপর সমানভাবে
  4. আদালতের উপর
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১০২ ধারার বিধান: প্রমাণের দায়িত্ব যাহার উপর ন্যস্ত থাকে:
মামলায় বা কার্যবিবরণীতে যদি কোনো পক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন না করা হয়, তাহলে যে পক্ষ মামলায় হারবে, মামলার বিষয়বস্তু প্রমাণ করার দায়িত্ব (Burden of Proof) সেই পক্ষের উপর ন্যস্ত থাকবে।
 
⇒ উদাহরণঃ
(ক) ক একটি জমির জন্য খ-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা দায়ের করে। জমিটি খ-এর দখলে আছে। ক দাবি করে যে খ-এর পিতা গ উইল করিয়া ঐ জমি ক-কে দিয়া গিয়াছে। এই মামলায় কোন পক্ষ্য সাক্ষ্য না দিলে খ জমির দখল বজায় রাখিবার অধিকারী হইবে। সুতরাং এইক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব ক-এর উপর ন্যস্ত আছে।

৩০.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৯ অনুযায়ী কোন বিষয় মৌখিক সাক্ষ্যে প্রমাণ করা যায় না?
  1. দৃশ্যমান ঘটনা
  2. শ্রবণযোগ্য ঘটনা
  3. দলিলের বিষয়বস্তু
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৯ ধারার বিধান- মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা ঘটনা প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু ব্যতীত সকল ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।


⇒ দলিলের বিষয়বস্তু দলিল দ্বারাই প্রমাণ করতে হবে, মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা নয়। দলিলের বিষয়বস্তু ব্যতীত সমস্ত বিষয় বা ঘটনা মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করা যেতে পারে।

Section 59- Proof of facts by oral evidence: 
All facts, except the contents of documents, may be proved by oral evidence.

৩১.
সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারায়, নথি গ্রহণযোগ্যতা বা উপস্থাপনের আপত্তি নির্ধারণ করবে-
  1. সাক্ষী নিজে
  2. আদালত
  3. আইনজীবী
  4. পুলিশ কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৬২ ধারার বিধান: নথি উপস্থাপন:
যদি কোনো সাক্ষীকে কোনো নথি আদালতে উপস্থাপনের জন্য ডাকা হয়, তবে সেই নথিটি তার অধিকারে বা হেফাজতে থাকলে, তিনি তা আদালতে আনতে বাধ্য থাকবেন, যদিও সেই নথি উপস্থাপন করা বা তা গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলেও। আপত্তির বৈধতা আদালতই নির্ধারণ করবে।
আদালত যদি মনে করে, তবে নথিটি পর্যালোচনা করতে পারে, যদি না সেটি রাষ্ট্র সম্পর্কিত কোনো বিষয়বস্তু হয়। এছাড়াও, নথির গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের জন্য আদালত অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

৩২.
“Witnesses to character may be cross-examined and re-examined”- এই বিধান কোন ধারায় আছে?
  1. ধারা ১৩৯
  2. ধারা ১৪০
  3. ধারা ১৪১
  4. ধারা ১৪২
ব্যাখ্যা

Section 140- Witnesses to character:
Witnesses to character may be cross-examined and re-examined.

ধারা ১৪০: চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষী:
চরিত্র সম্পর্কে সাক্ষীদের জেরা (cross-examination) এবং পুনরায় জেরা (re-examination) করা যেতে পারে।

৩৩.
ধারা ১২৪ অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা কখন তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হবেন না?
  1. সবসময়
  2. তথ্য সাধারণ জনগণের জন্য জরুরি হলে
  3. আদালতের নির্দেশে
  4. তথ্য প্রকাশের ফলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে
ব্যাখ্যা

The Evidence Act, 1872- ধারা ১২৪: সরকারি যোগাযোগ:
কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে তাঁর কাছে সরকারি গোপনীয়তায় করা যোগাযোগ প্রকাশ করতে বাধ্য করা যাবে না, যখন তিনি মনে করেন যে এই প্রকাশের ফলে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

[No public officer shall be compelled to disclose communications made to him in official confidence, when he considers that the public interests would suffer by the disclosure.]

৩৪.
সাক্ষ্য আইনের ৫০ ধারায় কোন বিষয়ে অভিমত প্রাসঙ্গিক?
  1. হাতের লেখা
  2. আত্মীয়তার সম্পর্ক
  3. প্রথা বা রীতিনীতি
  4. ডিজিটাল স্বাক্ষর
ব্যাখ্যা

ধারা ৫০- সম্পর্ক বিষয়ক মতামত কখন প্রাসঙ্গিক:
যখন আদালতকে একজন ব্যক্তির সঙ্গে অন্যজনের সম্পর্ক (যেমন— স্বামী–স্ত্রী, পিতা–পুত্র, ভাই–বোন ইত্যাদি) সম্পর্কে মতামত গঠন করতে হয়, তখন এমন ব্যক্তির আচরণ দ্বারা প্রকাশিত মতামত (opinion expressed by conduct) প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে,
যিনি পরিবারের সদস্য বা অন্যভাবে ঐ সম্পর্ক বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী।

তবে এই মতামত, Divorce Act-এর অধীনে বিবাহ সংক্রান্ত মামলা, অথবা দণ্ডবিধির ধারা ৪৯৪, ৪৯৫, ৪৯৭, বা ৪৯৮ (প্রতারণামূলক বিবাহ, ব্যভিচার ইত্যাদি অপরাধ)–এর মামলায় বিবাহ প্রমাণের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

উদাহরণ (Illustrations):
(ক) প্রশ্ন হলো- “A ও B কি বিবাহিত?”
যদি দেখা যায় যে A ও B-কে সমাজে সবাই স্বামী–স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ ও আচরণ করেছে, তাহলে এই তথ্য প্রাসঙ্গিক (relevant)।

(খ) প্রশ্ন হলো- “A কি B-এর বৈধ পুত্র?”
যদি দেখা যায় যে পরিবারের সদস্যরা সর্বদা A-কে B-এর বৈধ সন্তান হিসেবে আচরণ করেছে, তাহলে সেটিও প্রাসঙ্গিক তথ্য।

৩৫.
“বাংলাদেশে সরকারিভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ”- কোন ধারার অধীনে সরকারি দলিল হিসেবে গণ্য হয়?
  1. ধারা ৭২
  2. ধারা ৭৩
  3. ধারা ৭৪
  4. ধারা ৭৫
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইন ধারা ৭৪- সরকারি দলিল: নিম্নলিখিত দলিলগুলি সরকারি দলিল:
(১) যে সকল দলিল-
(ক) কোন সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের,
(খ) সরকারি প্রতিষ্ঠান বা ট্রাইব্যুনালের এবং
(গ) বাংলাদেশের বা কমনওয়েলথের কোন অংশের বা বিদেশের আইন প্রণয়নকারী, বিচার বিভাগীয় বা শাসন বিভাগীয় কোন অফিসারের কার্য অথবা কার্যের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

(২) বাংলাদেশে সরকারিভাবে রক্ষিত ব্যক্তিগত দলিলের লিপিবদ্ধ বিবরণ।

Section 74: Public documents:
The following documents are public documents:– 
(1) documents forming the acts or records of the acts- 
(i) of the sovereign authority, 
(ii) of official bodies and tribunals, and 
(iii) of public officers, legislative, judicial and executive of any part of Bangladesh or of the Commonwealth, or of a foreign country; 

(2) public records kept in Bangladesh of private documents.

৩৬.
আইন অনুসারে বাধ্য না হয়ে কোনো ব্যক্তি প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করলে, আদালত কী অনুমান করতে পারে?
  1. উত্তর তার পক্ষে ছিল
  2. উত্তর তার পক্ষে অনুকূল ছিল না
  3. আদালত কোনো অনুমান করতে পারবে না
  4. উত্তর প্রমাণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা

⇒ আইনসম্মত বাধ্যবাধকতা না থাকলে কোনো প্রশ্নের উত্তর অস্বীকার করলে → অনুমান করা যায় উত্তরটি তার পক্ষে হতো না।

সাক্ষ্য আইনের ১১৪ ধারার বিধান: আদালত কিছু তথ্যের অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে-
আদালত প্রকৃতি এবং মানবিক আচরণের সাধারণ গতিপ্রকৃতি, সরকারি ও বেসরকারি কার্যাবলীর সাপেক্ষে বিশেষ মামলার তথ্যগুলি বিবেচনা করে, যে কোনো তথ্য বা ঘটনার অস্তিত্ব অনুমান করতে পারে যা আদালতের মতে সম্ভবত ঘটেছে। আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুমান করতে পারে -
(ক) যে ব্যক্তি চুরির কিছুক্ষণ পরেই চুরি মালামাল দখলে রাখে, সে নিজেই চোর অথবা জেনেশুনে চুরি মাল গ্রহণ করেছে, যদি না সে তার দখলের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে;
(খ) যে ব্যক্তি অপরাধের সহযোগী, সে অবিশ্বাসযোগ্য, যদি না তার সাক্ষ্যের মূল বিষয়গুলি অন্য কোনো প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়;
(গ) একটি হুন্ডি স্বীকৃত বা অনুমোদিত হয়েছে প্রাপ্য মূল্যের বিনিময়ে;

(ঘ) যেকোনো বস্তু বা অবস্থা যা এমন সময়সীমার মধ্যে দেখা গেছে যে সময়সীমার মধ্যে এরকম বস্তু বা অবস্থা সাধারণত লুপ্ত হয়ে যায় না, তা এখনও বিদ্যমান রয়েছে;
(ঙ) বিচারিক এবং সরকারি কার্যাবলী নিয়মানুসারে সম্পাদিত হয়েছে;
(চ) বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক নিয়মানুসারে কার্যক্রম পালিত হয়েছে;

(ছ) যে প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল কিন্তু করা হয়নি, তা উপস্থাপিত হলে যে ব্যক্তি তা প্রমাণ করতে অস্বীকার করেছেন তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(জ) কোনো ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে বাধ্য না হয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করে, তাহলে মনে করা হবে উত্তরটি তার পক্ষে অনুকূল হতো না;
(ঝ) কোনো দায়বদ্ধকারী দলিল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, মনে করা হবে দায়িত্বটি পরিশোধিত হয়েছে।
তবে বিশেষ মামলার ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলি প্রযোজ্য কিনা তা বিবেচনা করার সময় আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিও বিবেচনা করবে।

৩৭.
ধারা ১২৫ অনুযায়ী অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন কে?
  1. ম্যাজিস্ট্রেট
  2. পুলিশ কর্মকর্তা
  3. অপরাধের সহযোগী
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৫ ধারার বিধান: অপরাধ সংঘটন সংক্রান্ত তথ্য:
কোনও ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধ সংঘটনের বিষয়ে তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, তা প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না। তেমনি, কোনও রাজস্ব কর্মকর্তা জনস্বার্থে রাজস্ব সম্পর্কিত কোনও অপরাধের বিষয়ে তথ্য কোথা থেকে পেয়েছেন, তা প্রকাশ করতে বাধ্য থাকবেন না।

ব্যাখ্যা: এই ধারায় "রাজস্ব কর্মকর্তা" বলতে জনস্বার্থে রাজস্ব সম্পর্কিত কোনো শাখায় নিযুক্ত বা কাজরত কর্মকর্তাকে বোঝায়।

৩৮.
'ক', 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে, 'খ'-এর মৃত্যু কে প্রমাণ করবে?
  1. 'ক'
  2. আদালত
  3. 'খ'-এর সাক্ষী
  4. মৃত্যুকালীন ঘোষণা যাকে প্রদান করেছে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৪ ধারার বিধান- যে ঘটনা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য করার জন্য প্রমাণ করতে হবে তা প্রমাণের দায়িত্ব:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি অন্য কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে পারে, তজ্জন্য বিষয় প্রমাণ করা আবশ্যক, সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তার উপর উপরে বর্ণিত বিষয় প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

উদাহরণ:
(ক) 'ক', 'খ'-এর মৃত্যুকালীন ঘোষণা প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। এক্ষেত্রে অবশ্যই 'খ'-এর মৃত্যু 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।
(খ) একটি হারিয়ে যাওয়া দলিলের প্রসঙ্গের মাধ্যমিক সাক্ষ্য দ্বারা 'ক' প্রমাণ করতে ইচ্ছুক। দলিলাটি যে হারিয়ে গিয়েছে, অবশ্যই তা 'ক'-এর প্রমাণ করতে হবে।

৩৯.
সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান অনুসারে, দুষ্কর্মের সহযোগীর সাক্ষ্য যদি অসমর্থিত (un-corroborated) হয়, তবে-
  1. তার সাক্ষ্য বাতিল
  2. তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেয়া বেআইনি হবে
  3. তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিকে সাজা দেয়া বেআইনি হবে না
  4. তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৩৩ ধারার বিধান- দুষ্কর্মের সহযোগী:
আসামীর বিরুদ্ধে দুষ্কর্মের সহযোগী সাক্ষ্য দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি বলে পরিগণিত হবেন। আসামীকে দুষ্কর্মের সহযোগীর অসমর্থিত সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাজা দেয়া হলে, শুধুমাত্র সে কারণে ঐ সাজা বেআইনী হবে না।

Section-133- Accomplice: 

An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.
৪০.
ধারা ১২৬ অনুযায়ী, নিম্নের কোন তথ্য ব্যারিস্টার/অ্যাটর্নি/উকিল প্রকাশ করতে পারবে?
  1. মক্কেলের সাধারণ তথ্য
  2. বেআইনি উদ্দেশ্যে প্রেরিত বার্তা
  3. মক্কেলের ব্যক্তিগত অভিমত
  4. মক্কেলের দলিলের বিষয়বস্তু
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১২৬ ধারার বিধান- পেশা সম্পর্কিত বার্তা:
ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মক্কেলের ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল হিসাবে কাজ করিবার সময় এবং উদ্দেশ্যে উক্ত মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে তাহার নিকট প্রদত্ত কোন বার্তার বিষয় মক্কেলের অনুমতি ব্যতীত প্রকাশ করিতে অনুমতি পাইবেন না। অথবা বৃত্তিগত কার্য সম্পাদনকালে এবং প্রসঙ্গে মক্কেলের যেই সকল দলিলের সহিত তিনি পরিচিত হইয়াছিলেন, সেইগুলির বিষয়বস্তু বা অবস্থার কোন বিবৃতি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার কার্যকালে ও উদ্দেশ্যে মক্কেলকে তিনি যে পরামর্শ দিয়াছেন, তাহা প্রকাশ করিতে পারিবেন না।

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলি প্রকাশ হইতে এই ধারার কিছু অব্যাহতি দিবেন না-
(১) বেআইনি উদ্দেশ্যে সাধনকল্পে যে সংবাদ আদান- প্রদান করা হইয়াছে,
(২) ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল পেশাগত কার্যে নিযুক্ত থাকবার সময় তৎকর্তৃক লক্ষিত বিষয় যদ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, তাহার নিযুক্তির পরে কোন অপরাধ বা প্রতারণা সংঘটিত হইয়াছে অনুরূপ ঘটনার প্রতি উক্ত ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি বা উকিল মনোযোগ তাহার মক্কেল কর্তৃক বা মক্কেলের পক্ষ হইতে আকৃষ্ট করা হইয়াছিল কিনা তাহা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ব্যাখ্যা: এই ধারার বর্ণিত বাধ্যবাধকতা নিযুক্তির অবসান ঘটিবার পরও অব্যাহত থাকে।

৪১.
সাক্ষী আদালতে স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নোট ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষ চাইলে-
  1. শুধু নোট দেখতে পারে
  2. নোট দেখতে ও সাক্ষীকে জেরা করতে পারবে
  3. সাক্ষীর তথ্য বাতিল করতে পারবে
  4. শুধু সাক্ষীকে জেরা করতে পারে
ব্যাখ্যা

ধারা ১৬১: স্মৃতি পুনরুজ্জীবিতের জন্য ব্যবহৃত লেখার বিষয়ে প্রতিপক্ষের অধিকার-
যে লেখাগুলোর উল্লেখ পূর্ববর্তী দুই ধারার অধীনে করা হয়েছে (অর্থাৎ ধারা ১৫৯ ও ১৬০), তা যদি কোনো সাক্ষী স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যবহার করেন, তাহলে প্রতিপক্ষ পক্ষ (adverse party) চাইলে সেই লেখা উত্থাপন ও প্রদর্শন করতে হবে। প্রতিপক্ষ চাইলে উক্ত লেখার বিষয়ে সাক্ষীকে জেরা (cross-examine) করতে পারবে।

৪২.
কখন আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করা যাবে না?
  1. জেরা-এর সময়
  2. জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দীর সময়
  3. লিখিত সাক্ষ্যগ্রহণের সময়
  4. উল্লিখিত যেকোনো ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা- ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) :
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না। যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।

৪৩.
ধারা ৭৩খ(২) অনুযায়ী, আদালত কাকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিতে পারে?
  1. তদন্তকারী কর্মকর্তাকে
  2. বিশেষজ্ঞ সাক্ষীকে
  3. যে ব্যক্তি নমুনা সংগ্রহ করেছে
  4. যে ব্যক্তির কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে
ব্যাখ্যা

উত্তর: ঘ. যে ব্যক্তির কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

• সাক্ষ্য আইনের ধারা-৭৩খ: অন্যদের সাথে শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য তুলনা, স্বীকৃত বা প্রমাণিত:
(১) রক্ত, বীর্য, চুলের নমুনা, ডিএনএ নমুনা, অন্য কোন জৈবিক পদার্থ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা অঙ্গের কোন অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ বা চোখের কনীনিকার ছাপ বা পায়ের ছাপ যেই ব্যক্তির কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয় সেই ব্যক্তির কি না তা নিশ্চিত করার জন্য আদালত আদেশ দিতে পারেন যে, এটিকে যেকোন নমুনার সাথে তুলনা করা হবে যা আদালতের সন্তুষ্টির জন্য স্বীকার করা হয়েছে বা প্রমাণিত হয়েছে যে ব্যক্তিটি থেকে এসেছে বা তৈরি করেছে, যদিও সেই রক্ত, বীর্যের নমুনা, চুল, ডিএনএ নমুনা, জৈবিক পদার্থ, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা অঙ্গের কোনো অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ, পায়ের ছাপ বা অন্য কোনো বন্ধু অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তৈরি বা প্রমাণিত হয়নি।

(২) যদি এমন কোন দাবি থাকে যে রক্ত, বীর্য, চুল, ডিএনএ নমুনা, অন্য কোন জৈবিক পদার্থ, অঙ্গ বা অঙ্গের কোন অংশ, আঙ্গুলের ছাপ, তালুর ছাপ, চোখের কনীনিকার ছাপ, পায়ের ছাপ যার অন্তর্গত বা তা তৈরি করা হয়েছে যে কোনো ব্যক্তি দ্বারা আদালত সেই ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিতে পারে, যাতে আদালত তুলনা করতে সক্ষম হয়।

(৩) শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য প্রমাণের সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে, এই আইনের ধারা ৬০ এবং ১৬৫-এর কোন কিছুই আদালতকে তার সনাক্তকরণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সহ একটি প্রদর্শনী হিসাবে আদালতে উপস্থাপন করতে বাধা দেবে না।

৪৪.
ধারা ১১৬ অনুযায়ী, ভাড়াটিয়া এবং মালিকের মধ্যে Estoppel কীভাবে প্রযোজ্য?
  1. ভাড়াটিয়া চুক্তি অস্বীকার করতে পারবে
  2. মালিক চুক্তি বাতিল করতে পারবে না
  3. ভাড়াটিয়া পূর্বে স্বীকারকৃত চুক্তি অস্বীকার করতে পারবে না
  4. ভাড়াটিয়া নতুন কোনো চুক্তি করতে পারবে না
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ১১৬ ধারায়, দুইটি ক্ষেত্রে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষেত্র ২ টি নিম্নরূপ:

১। ভাড়াটিয়া এবং মালিকের মধ্যে Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধা:
একজন বাড়িওয়ালা (landlord) ভাড়ার বিনিময়ে একজন ভাড়াটিয়া (tenant)’কে তার দোকানে ভাড়া প্রদান করলে, ভাড়াটিয়া পরবর্তীতে উক্ত সম্পর্ক অস্বীকার করতে পারবে না।

২। অনুমতি প্রাপক (licensee) এবং অনুমতি দাতা (licensor)’র মধ্যে Estoppel (এস্টপেল) বা স্বকার্যজনিত বাধা:
অনুমতি নিয়ে কেউ দখল ফেলে পরবর্তীতে সেই অনুমতির বিষয়টি অস্বীকার করতে পারবে না। যদি কেউ অনুমতি নিয়ে কোন রাস্তাও ব্যবহার করে, পরবর্তীতে সেটিকে সরকারী বা অধিকার বলে দাবী করতে পারবে না, কেননা অনুমতি নিয়ে পরে সেটি অস্বীকার করলে সাক্ষ্য আইনে ১১৬ ধারার Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার নীতিতে বাধা প্রাপ্ত হবে।

এই ধারার অধীন Estoppel বা স্বকার্যজনিত বাধার নীতি শুধুমাত্র স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন- বাড়ি, জমি ইত্যাদির ভাড়াটিয়াকে মালিকের মালিকানা স্বত্ব অস্বীকার করা হতে বাধা প্রদান করা হয়েছে। কেননা, বাড়ির মালিকের সাথে ভাড়াটিয়ার মধ্যে একটি চুক্তি থাকে এবং অনুমতি প্রদানকারীর সাথেও অনুমতি দাতার একটি চুক্তি থাকে।

৪৫.
ধারা ১২২-এর ব্যতিক্রম কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. যেকোনো পারিবারিক ঘটনার ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র স্বামী সম্মত হলে
  3. শুধুমাত্র স্ত্রী সম্মত হলে
  4. দম্পতির মধ্যে দেওয়ানী মামলা থাকলে
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ১২২ ধারা: বিবাহ বজায় থাকাকালীন বার্তা:
কোনো ব্যক্তি যিনি বিবাহিত বা যাহার সহিত বিবাহ হইয়াছে, বিবাহ বজায় থাকাকালে সেই ব্যক্তির সহিত তাহার স্ত্রী বা স্বামীর বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিতে সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করা যাইবে না; বার্তা প্রদানকারীর বা তাহার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির সম্মতি ব্যতীত বার্তার বিষয়বস্তু প্রকাশ করিবার অনুমতিও তাহাকে দেওয়া যাইবে না,
তবে বিবাহিত ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে কোন দেওয়ানী মামলায় অথবা তাহাদের একজনের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ করিবার দায়ে অপরজন ফৌজদারীতে সোর্পদ থাকিলে সেইক্ষেত্রে বার্তার বিষয় প্রকাশ করিতে দেওয়া যাইবে।

৪৬.
বোবা সাক্ষীর সাক্ষ্যের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা কী?
  1. মৌখিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  2. দালিলিক সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  3. কেবল দেওয়ানি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
  4. কেবল গৌণ সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হবে
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১১৯ ধারা- বোবা সাক্ষী:
যে সাক্ষী কথা বলিতে অক্ষম, তিনি তাহার বক্তব্য অন্য কোনোভাবে অর্থাৎ লিখিয়া বা ইশারা করিয়া বুঝাইতে পারেন এবং সেইভাবে সাক্ষ্য দিতে পারেন, তবে সেই লেখা বা ইশারা প্রকাশ্য আদালতে লিখিতে বা করিতে হইবে। এইরূপভাবে যে সাক্ষ্য দেওয়া হইবে তাহা মৌখিক সাক্ষ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

⇒ The Evidence Act, 1872, Section 119- Dumb witnesses:
A witness who is unable to speak may give his evidence in any other manner in which he can make it intelligible, as by writing or by signs; but such writing must be written and the signs made in open Court. Evidence so given shall be deemed to be oral evidence.

৪৭.
যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রশ্ন করলে আদালত ধারা ১৫০ অনুযায়ী কী করতে পারে?
  1. সাক্ষীর জবানবন্দি বাতিল করবে
  2. হাইকোর্ট বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করবে
  3. আইনজীবীকে লিখিত নোটিশ দিবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধারা ১৫০ - যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আদালতের পদ্ধতি:
যদি আদালত মনে করে যে, কোন প্রশ্ন যথাযথ কারণ ছাড়া করা হয়েছে, তবে সে প্রশ্ন যদি কোনো অ্যাডভোকেট দ্বারা করা হয়, তাহলে আদালত ঐ প্রশ্নের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তা উক্ত অ্যাডভোকেটের পেশাগত দায়িত্বের অধীন হাইকোর্ট বিভাগ বা অন্য যে কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করতে পারে।

৪৮.
ধারা ১৫৫-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো সাক্ষী যদি অন্য সাক্ষীকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে, তবে-
  1. তার মতামত অগ্রহণযোগ্য
  2. সে জবানবন্দীতে কারণ জানাতে বাধ্য
  3. জেরাতে তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে
  4. তাকে কারণ আদালতে লিখিতভাবে জানাতে হবে
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ১৫৫- সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা খণ্ডন (Impeaching the credit of a witness):
কোনো সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা (বিশ্বাসের যোগ্যতা) প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে, অথবা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে, যিনি সাক্ষীকে উপস্থাপন করেছেন, তিনিও নিম্নলিখিত উপায়ে খণ্ডন (চ্যালেঞ্জ) করতে পারেন—

(১) এমন ব্যক্তির সাক্ষ্যের দ্বারা, যারা সাক্ষীকে চেনে এবং নিজেদের জ্ঞানের ভিত্তিতে মনে করে যে সাক্ষী বিশ্বাসযোগ্য নয় বা অবিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি।

(২) প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো যেতে পারে যে, সাক্ষী ঘুষ নিয়েছে, অথবা ঘুষের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, অথবা অন্য কোনো দুর্নীতিপূর্ণ প্রণোদনা (corrupt inducement) গ্রহণ করেছে তার সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য।

(৩) প্রমাণের মাধ্যমে দেখানো যেতে পারে যে, সাক্ষী পূর্বে এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছে যা তার বর্তমান সাক্ষ্যের সাথে অসঙ্গত বা পরস্পরবিরোধী।

ব্যাখ্যা (Explanation):
যখন কোনো সাক্ষী আরেকজন সাক্ষীকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে ঘোষণা করে, তখন তার জবানবন্দীতে (examination-in-chief) পর্যায়ে সে কেন এমন মনে করে, তার কারণ জানাতে বাধ্য নয়। কিন্তু জেরা (cross-examination)-এর সময় তাকে তার বিশ্বাসের কারণ জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে। যে উত্তর সে দেবে, তা প্রমাণ দ্বারা খণ্ডন করা যাবে না, তবে যদি সেই উত্তর মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে সে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অপরাধে (false evidence) অভিযুক্ত হতে পারে।