পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

পরীক্ষাপ্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৪
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৬ [মোট নম্বর - ৩০] বাংলা পরীক্ষা - ২ টপিক: উপসর্গ, অনুসর্গ, বাক্য প্রকরণ, বানান ও বাক্য শুদ্ধি, বাক্য রূপান্তর, সমাস, সন্ধি, কারক-বিভক্তি, দ্বিরুক্ত শব্দ, যতিচিহ্ন, শব্দার্থ, এক কথায় প্রকাশ এবং বাগধারা ও প্রবাদ প্রবচন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স]

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি [লং কোর্স] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৪ প্রশ্ন

.
'রজনিকান্ত’ শব্দের সঠিক অর্থ নয় কোনটি?
  1. ক) শশী
  2. খ) শৃঙ্গী
  3. গ) মৃগাঙ্ক
  4. ঘ) সোম
ব্যাখ্যা
• রজনিকান্ত
- সংস্কৃত শব্দ।
-  প্রকৃত প্রত্যয় = [রজনি+কান্ত]
অর্থ: চন্দ্র, চাঁদ।

• চন্দ্র' শব্দের সমার্থক শব্দগুলো হলো: চাঁদ, সুধাংশু, সুধাকর, শশাঙ্ক, শশধর, শশী, হিমাংশু, বিধু, নিশাকর, সোম, শীতাংশ, সুধানিধি, ইন্দু, নিশাপতি, নিশাকান্ত, মৃগাঙ্ক।

অন্যদিকে,
বৃক্ষ শব্দের সমার্থক শব্দ - গাছ, তরু, দ্রুম, শিখরী, পাদপ, মহীরুহ, উদ্ভিদ, শৃঙ্গী, বিটপী, পণী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
নিচের কোন বাক্য সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. খ) মন দিয়ে কাজ কর।
  3. গ) তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
  4. ঘ) কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
ব্যাখ্যা
অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
.
'বশীভূত' অর্থে নিচের কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) হাল ছাড়া
  2. খ) হাত ধরা
  3. গ) হাত ভারি
  4. ঘ) গাড় হাভাতে
ব্যাখ্যা
• 'হাত ধরা'  বাগ্‌ধারার অর্থ - বশীভূত।

আরও কিছু বাগ্‌ধারা হলো:
- 'হাড় হাভাতে'  বাগ্‌ধারার অর্থ - হতভাগ্য,
- 'হাল ছাড়া'  বাগ্‌ধারার অর্থ - হতাশ হওয়া।
- 'হাত পাকান' বাগ্‌ধারার অর্থ - দক্ষতা।
- 'হাত-ভারি'  বাগ্‌ধারার অর্থ - কৃপণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমির অভিধান।
.
'উপাচার্য' শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত?
  1. ক) বিদেশি
  2. খ) তৎসম
  3. গ) খাঁটি বাংলা
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
• ‘উপাচার্য’ শব্দটি সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ‘উপ’ যোগে গঠিত।

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ: বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ: বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• বিদেশি উপসর্গ: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে।
এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে।

• বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. ক) দূর্বা
  2. খ) পরজীবি
  3. গ) দূর্গা
  4. ঘ) উপরোক্ত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান - দূর্বা।

অন্যান্য শব্দের শুদ্ধ বানান:
• পরজীবি = পরজীবী।
• দূর্গা = দুর্গা।
• উপরোক্ত = উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার হয়েছে কোন শব্দে ?
  1. ক) নিদারুন
  2. খ) নিষ্কলুষ
  3. গ) নিদাঘ
  4. ঘ) নিবারণ
ব্যাখ্যা
• 'নি' উপসর্গের ব্যবহার:
- 'নিশ্চয়' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নির্ণয়, নিবারণ।
- 'নিষেধ' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিবৃত্তি।
- 'আতিশয্য' অর্থে 'নি' উপসর্গ - নিদাঘ, নিদারুন।
- 'অভাব' অর্থে 'নি' উপসর্গের ব্যবহার - নিষ্কলুষ, নিষ্কাম।
-----------------
আ, সু, বি, নি- এ চারটি উপসর্গ বাংলা এবং তৎসম উভয় উপসর্গের মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলা ও সংস্কৃত উপসর্গের মধ্যে পার্থক্য এই যে, যে শব্দটির সঙ্গে উপসর্গ যুক্ত হয়, সে শব্দটি বাংলা হলে উপসর্গটি বাংলা, আর সে শব্দটি তৎসম হলে সে উপসর্গটিও তৎসম হয়।
যেমন-
• আকাঠা, সুনজর, বিনামা, নিলাজ বাংলা শব্দ। সুতরাং এই শব্দসমূহের আ, সু, বি, নি হলাে বাংলা উপসর্গ।
• আবার আকণ্ঠ, সুতীক্ষ্ণ, বিপক্ষ ও নিদাঘ তৎসম শব্দ। এখানের আ, সু, বি, নি তৎসম উপসর্গ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
‘পসুরি’ শব্দটির সঠিক ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. ক) পাঁচ সুরের ন্যায়
  2. খ) পাঁচ সেরের সমাহার
  3. গ) পাঁচ সুর যার
  4. ঘ) পাঁচ সের যার
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিগু সমাস:
যে সমাসে সংখ্যাবাচক শব্দ পূর্বে বসে সমাহার বোঝায় এবং পরপদের অর্থই প্রাধান্য পায় তাকে দ্বিগু সমাস বলে। 
যেমন:
- নব রত্নের সমাহার = নবরত্ন।
- সপ্ত অহের সমাহার = সপ্তাহ।

অথবা, সমাহার (সমষ্টি) বা মিলনার্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয় তাকে দ্বিগু সমাস বলে।
যেমন:
- ত্রি (তিন) কালের সমাহার = ত্রিকাল;
- তে (তিন) মাথার সমাহার = তেমাথা;
- পাঁচ সেরের সমাহার = পসুরি;
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
“অহনের অপর নাম” এর এক কথায় প্রকাশ কোনটি?
  1. ক) পূর্বাহ্ণ
  2. খ) কালান্তর
  3. গ) অপরাহ্ণ
  4. ঘ) মধ্যহ্ন
ব্যাখ্যা
• “ অহনের অপর নাম” এক কথায় বলে - অপরাহ্ণ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ এককথায় প্রকাশ হলো:
• ‘অহনের পূর্বাংশ’ এক কথায় বলে - পূর্বাহ্ণ।
• ‘অহনের মধ্য অংশ’ এক কথায় বলে - মধ্যাহ্ণ।
• ‘অন্য কাল’ এক কথায় বলে - কালান্তর।
• ‘অন্য জন্ম’ এক কথায় বলে - জন্মান্তর।
• ‘অন্য যুগ’ এক কথায় বলে - যুগান্তর।
• ‘অন্য লোক’ এক কথায় বলে - লোকান্তর।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক?
  1. ক) কিম + ভূত = কিম্ভূত
  2. খ) সন + ধি = সন্ধি
  3. গ) সং + সার = সংসার
  4. ঘ) সমো + তাপ = সন্তাপ
ব্যাখ্যা
সন্ধি বিচ্ছেদে নাসিক্য বর্ণের পরিবর্তে’ ম ‘ হয়।
এরূপ:
সম্ + ধি = সন্ধি,
সম্ + চয় = সঞ্চয়,
সম্ + তাপ = সন্তাপ,
কিম + ভূত = কিম্ভূত,
সম্ + সার = সংসার,
সম্ + বাদ = সংবাদ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
নিচের কোন বাক্যে যতিচিহ্নের যথাযথ প্রয়োগ ঘটেনি?
  1. ক) মা বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
  2. খ) সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
  3. গ) কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
  4. ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
ব্যাখ্যা
• যতিচিহ্ন:
- মুখের কথা লিখিত রূপ দেওয়ার সময় কম-বেশি থামা বোঝাতে যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- বক্তব্যকে স্পষ্ট করতেও যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
- যতিচিহ্নকে বিরামচিহ্ন বা বিরতি চিহ্নও বলা হয়।

• হাইফেন:
- বাক্যের মধ্যকার একাধিক পদকে সংযুক্ত করতে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
- হাইফেন মূলত পদসংযোজক চিহ্ন।
- সমাসে বিভক্তির বদলেও হাইফেন  ব্যবহৃত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের সমাসবদ্ধ পদ তৈরি করার সময়ে হাইফেন ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- মা-বাবার কাছে সন্তানের গৌরব সবচেয়ে বড় গৌরব।
- স্কুল-পালানো ছেলে।
- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে নিয়েই গড়ে উঠেছে এই ক্লাব।

অন্যদিকে,
• কমা:
- কমা সামান্য বিরতি নির্দেশ করে। কমা পূর্ণযতি নয়, তাই কমা দিয়ে কোনো বাক্য শেষ হয় না।
- শব্দ, বর্গ ও অধীন বাক্যকে আলাদা করতে কমার ব্যবহার হয়।
- সম্বোধন পদের পরে কমা বসে।
যেমন:
- গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত- বাংলাদেশ এই ছয়টি ঋতুর দেশ।
- নিবিড় অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও সময়নিষ্ঠ থাকলে সাফল্য আসবে।
- সুজন, দেখ তো কে এসেছে।
- কাল তুমি যাকে দেখেছ, তিনি আমার বাবা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, "পাপকে ঠেকাবার জন্যে কিছু না করাই তো পাপ"।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১১.
'দিগন্ত' শব্দটি কোন সন্ধিঘটিত নিয়মে গঠিত?
  1. ক) স্বরসন্ধি
  2. খ) ব্যঞ্জনসন্ধি
  3. গ) বিসর্গসন্ধি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয়, তাকে ব্যঞ্জনসন্ধি বলে।
ব্যঞ্জনসন্ধি সাধারণত চার নিয়মে হয়, 
১. স্বর+ব্যঞ্জন,
২. ব্যঞ্জন + স্বর,
৩. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন,
৪. নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি।

যেমন:
- কথা + ছলে = কথাচ্ছলে,
- উৎ + শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল,
- দিক্ + অন্ত = দিগন্ত,
- পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি।
১২.
‘সদৃশ’ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস কোনটি?
  1. ক) নিরামিষ
  2. খ) আনত
  3. গ) উপজেলা
  4. ঘ) আমরণ
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
অব্যয় পদ পূর্বে বসে যে-সমাস হয় এবং যেখানে পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়। উপসর্গ একপ্রকার অব্যয়।  তাই উপসর্গযোগে গঠিত সব শব্দই অব্যয়ীভাব সমাস। এ সমাসের ব্যাসবাক্যে অব্যয়ের নাম বা প্রকৃতির উল্লেখ করা হয় না। কেবল অব্যয়ের অর্থ সহযোগে ব্যাসবাক্য গঠিত হয়

অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ:
- মরণ পর্যন্ত = আমরণ;
- জেলার সদৃশ = উপজেলা;
- ঈষৎ নত = আনত;
- আমিষের অভাব = নিরামিষ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
১৩.
'ভিক্ষুককে টাকা দাও'- বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. ক) যারা ভিক্ষা করে, তাদের ভিক্ষা দাও।
  2. খ) কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।
  3. গ) যে ব্যক্তি ভিক্ষা করে, তাকে টাকা দাও।
  4. ঘ) ভিক্ষা করা, মানুষদের টাকা দাও।
ব্যাখ্যা
⇒ যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

[এবং,  ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
কমা(, ), সেমিকোলন(ঃ), কোলন( ; ), ড্যাশ( -) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।]

যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়। সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
যেমন:
• সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
• যৌগিক বাক্য: তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

• সরল বাক্য: ভিক্ষুকে টাকা দাও।
• যৌগিক বাক্য: কিছু লোক ভিক্ষা করে, ওদের টাকা দাও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
১৪.
সঠিক প্রবাদ প্রবচন কোনটি?
  1. ক) বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।
  2. খ) যার লাঠি তার ঘাঁটি।
  3. গ) উনো বনে মুক্তা ছড়ানো।
  4. ঘ) অতি দর্পে অর্ত লঙ্কা।
ব্যাখ্যা
• সঠিক প্রবাদ প্রবচন - বুনো ওল, বাঘা তেঁতুল।

অন্যান্য প্রবাদের সঠিক রূপ হলো:
- অতি দর্পে হত লঙ্কা।
- যার লাঠি তার মাটি।
- উলু বনে মুক্তা ছড়ানো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।