পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২২
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৪২: বাংলা পরীক্ষা - ৫ বিষয়: বাংলা টপিক: ধ্বনি, বর্ণ, ভাষা, লিঙ্গ ও বচন, যতিচিহ্ন। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২২ প্রশ্ন

.
ধ্বনির রূপচিত্র কোনটি?
  1. ফলা
  2. বর্ণ
  3. বাক্য
  4. অক্ষর
ব্যাখ্যা
• বর্ণ:
যেসব প্রতীক বা চিহ্ন দিয়ে ধ্বনি নির্দেশ করা হয় তাদের 'বর্ণ' (letter) বলে। ধ্বনিগুলো মুখে উচ্চারিত হয়। তারই লিখিত প্রতীক হলো বর্ণ। বর্ণ তাই ধ্বনির লিখিত রূপ, ধ্বনি-নির্দেশক চিহ্ন বা ধ্বনির প্রতীক বা রূপচিত্র। সুতরাং ধ্বনি আর বর্ণ এক নয়।

ধ্বনি আমরা মুখে উচ্চারণ করি এবং কানে শুনি, কিন্তু চোখে দেখি না। আর বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ- যা আমরা চোখে দেখি এবং নীরবে বা সরবে পড়ি। যেমন: 'অ' ধ্বনির প্রতীক হলো- অ বর্ণ; 'আ' ধ্বনির প্রতীক হলো- আ বর্ণ, 'ই' ধ্বনির প্রতীক হলো- ই বর্ণ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• অক্ষর হচ্ছে বাগ্যন্ত্রের স্বল্পতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
.
বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যে-বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না সেগুলোই হলো স্বরধ্বনি (vowel)। স্বরধ্বনি অন্য ধ্বনির সাহায্য ছাড়া নিজেই সম্পূর্ণরূপে উচ্চারিত হতে পারে। যেমন- অ, আ, ই, উ।

কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। যেমন- আঁ, ই, ঐ, ওঁ ইত্যাদি। 

বাংলা মান্য চলিত ভাষায় স্বরধ্বনি আছে সাতটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, উ, এ, অ্যা, ও। যেহেতু এই স্বরধ্বনিগুলো বাংলায় শব্দের অর্থপার্থক্য ঘটাতে সক্ষম তাই এগুলো বাংলার স্বরধ্বনিমূল বা যর স্বনিম।

বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনির সংখ্যা সাতটি হলেও এর বর্ণমালায় এখন স্বরবর্ণের সংখ্যা এগারোটি। এগুলো হলো: অ, আ, ই, ঈ, উ, উ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকে কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে-
  1. বৈদিক ভাষা
  2. সংস্কৃত ভাষা
  3. বাংলা ভাষা
  4. আর্য ভাষা
ব্যাখ্যা
• ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ:
• বৈদিক ভাষার সংস্কারজাত নতুন ভাষাই হলো সংস্কৃত ভাষা। কিন্তু এ ভাষা তথাকথিত বিদগ্ধ ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল। এই সংস্কৃত ভাষা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নরূপে অগ্রসর হতে লাগল। এসব পরিবর্তিত ভাষাকে বলা হয় আদিম প্রাকৃত ভাষা বা মধ্যভারতীয় আর্য ভাষা।

• 'প্রাকৃত' বা 'প্রাকৃত ভাষা' কথাটির তাৎপর্য হলো প্রকৃতির অর্থাৎ জনগণের কথ্য ও বোধ্য ভাষা। পরবর্তীকালে এই 'প্রাকৃত' ভাষাই ভারতের বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রভাবে, কথ্য ভাষার উচ্চারণের বিভিন্নতা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করল। এই 'প্রাকৃত ভাষা'ই আঞ্চলিক বিভিন্নতা নিয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হলো। যেমন- 'মাগধি প্রাকৃত', 'মহারাষ্ট্রি প্রাকৃত', 'শৌরসেনি প্রাকৃত', 'পৈশাচি প্রাকৃত' ইত্যাদি।

মাগধি প্রাকৃতের অপভ্রংশ (বা অবহট্‌ঠ অর্থাৎ যা খুব বিকৃত হয়ে গেছে) থেকেই কালক্রমে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে উৎপত্তি লাভ করে বাংলা ভাষা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. ড্যাশ
  3. হাইফেন
  4. সেমিকোলন
ব্যাখ্যা
• সেমিকোলন-চিহ্ন (;):
সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ হলো বাক্যের মধ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের বাক্যান্তর্গত চিহ্ন। একাধিক বাক্যের মধ্যে অর্থের নিকট-সম্মন্ধ থাকলে বাক্যগুলোকে একটু বেশি থামার চিহ্ন দিয়ে ভাগ করতে হয়। এর জন্যে সেমিকোলন বসে। সেমিকোলনের বিরামের অনুপাত কমার (,) দ্বিগুণ।

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়-
১. একাধিক স্বাধীন বাক্যকে একটি বাক্যে লিখলে সেগুলোর মাঝখানে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-তিনি শুধু তামাশা দেখিতেছিলেন; কোথাকার জল কোথায় গিয়া পড়ে।

২. বক্তব্য স্পষ্ট করার জন্যে সমজাতীয় বাক্য পাশাপাশি প্রতিস্থাপন করলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-'বৃদ্ধ তাহারাই যাহারা মায়াচ্ছন্ন নব মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘ্ন; শতাব্দীর নব যাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণ-স্তূপ আঁকড়িয়া পড়িয়া আছে।'

৩. দুটি বা তিনটি বাক্য যোজক শব্দের সাহায্যে যুক্ত না হলে সেমিকোলন ব্যবহৃত হয়। যেমন-আগে পাঠ্যবই পড়; পরে গল্প-উপন্যাস।

8. কোনো তালিকায় একাধিক ব্যক্তির নাম ও তাঁদের পদের উল্লেখ থাকলে বোঝবার সুবিধার জন্যে সেমিকোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন- এবারের নবনিচিত কার্যনির্বাহী পরিষদে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা হলেন: আকবরউদ্দিন আহমদ, সভাপতি; আফসার রায়হান, সাধারণ সম্পাদক; চিত্ত বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক; এন্ড্রু গোমেজ, সংস্কৃতি সম্পাদক; ইত্যাদি।

৫. সেজন্যে, তবু, তথাপি, সুতরাং ইত্যাদি যে-সব যোজক বৈপরীত্য বা অনুমান প্রকাশ করে তাদের আগে সেমিকোলন বসে। যেমন-সে ফেল করেছে; সেজন্যে সে মুখ দেখায় না। মনোযোগ দিয়ে পড়; তাহলেই পাশ করবে।

৬. যেসব বাক্যে ভাবসাদৃশ্য আছে তাদের মধ্যে সেমিকোলন বসে। যেমন- দিনটা ভালো নয়; মাঝে মাঝে বৃষ্টি পড়ছে।

৭. ছোটো ছোটো বিতর্কিত অংশ নির্দেশ করার জন্যে সেমিকোলন বসে। যেমন-মেয়েটি, যে প্রথম হয়েছে, একটি পুরস্কার পেয়েছে; এবার আশা করা যায়, সে আরো ভালো করবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোন শব্দ দ্বারা স্ত্রী ও পুরুষ দুটোই বোঝায়?
  1. কর্তা
  2. শিক্ষিত
  3. মহৎ
  4. ধাতা
ব্যাখ্যা
• কতগুলো বাংলা শব্দে পুরুষ ও স্ত্রী দু-ই বোঝায়।
যেমন- জন, পাখি, শিশু, সন্তান, শিক্ষিত, গুরু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------
• মহৎ - মহতী। 

যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
• কর্তা - কর্ত্রী,
• ধাতা - ধাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
.
ভাষা পরিবারের সদস্য নয় কোনটি?
  1. সেমীয়-হেমীয়
  2. দ্রাবিড়ীয়
  3. ইন্দো-তিব্বতীয়
  4. অস্ট্রো-এশীয়
ব্যাখ্যা
• 'ইন্দো-তিব্বতীয়' ভাষা পরিবারের সদস্য নয়। 

• বাংলা ভাষা ও ভাষা পরিবার:

- বাঙালি জনগোষ্ঠী যে ভাষা দিয়ে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করে তার নাম বাংলা ভাষা।
- পৃথিবীর ভাষাগুলোকে ইন্দো-ইউরোপীয়, চীনা-তিব্বতীয়, সেমীয়-হেমীয়, দ্রাবিড়ীয়, অস্ট্রো-এশীয় প্রভৃতি ভাষা-পরিবারে ভাগ করা হয়ে থাকে। ইংরেজি, জার্মান, ফরাসি, রুশ, পর্তুগিজ, ফারসি, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, সিংহলি প্রভৃতি ভাষার মতো বাংলা ভাষায় ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের সদস্য। বাংলা ভাষার নিকটতম আত্মীয় অহমিয়া ও ওড়িয়া।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা-পরিবারের আদি ভাষা বহু বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষায় পরিণত হয়েছে।
- এই বিবর্তনে যেসব গুরুত্বপূর্ণ স্তর বাংলা ভাষাকে অতিক্রম করেতে হয়েছে।

সেগুলো হলো:
ইন্দো-ইউরোপীয় - ইন্দো-ইরানীয় - ভারতীয় আর্য - প্রাকৃত বাংলা।

• আনুমানিক এক হাজার বছর আগে পূর্ব ভারতীয় প্রাকৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১- সংস্করণ)।
.
একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে বলে-
  1. সংবৃত স্বর
  2. অনুনাসিক স্বর
  3. অর্ধ স্বর
  4. যৌগিক স্বর
ব্যাখ্যা
• যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর:
পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়, এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর বা দ্বি-স্বর বা সন্ধিস্বর বা সন্ধ্যক্ষর বলে।
যেমন:
- অ + ই = অই্‌ (বই),
- অ + উ = অউ্‌ (বউ),
- অ + এ = অফ্ (বয়),
- অ + ও = অও্‌ (হও, লও) ইত্যাদি।

অথবা,
'যদি পাশাপাশি অবস্থিত দুটো সমশ্রেণির অথবা অসমশ্রেণির স্বরধ্বনি নিশ্বাসের একই প্রয়াসে উচ্চারিত হয়ে আক্ষরিক ধ্বনি গঠন করে এবং দ্বিতীয় স্বরধ্বনির তুলনায় প্রথমটা দীর্ঘ ও স্পষ্ট হয়, তাহলে এই শ্রেণির আক্ষরিক স্বরধ্বনিকে দ্বি-স্বরধ্বনি বলে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
ভারতীয় আর্যের কোন অংশ থেকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি?
  1. অন্ত্য-মধ্য ভারতীয়
  2. প্রাচীন ভারতীয় আর্য
  3. মধ্য ভারতীয় আর্য
  4. নব্য ভারতীয় আর্য
ব্যাখ্যা
ইন্দো-ইউরোপীয় থেকে বাংলা ভাষার বিবর্তনের কালক্রম নিম্নরূপ:
• ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বে। 
• ইন্দো-ইরানীয় ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি আনুমানিক ১৮০০ খ্রিস্টপূর্ব । 
• প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে আনুমানিক ১৫০০-৬০০ খ্রিস্টপূর্বে। ভাষাগোষ্ঠীর এই অংশ থেকে (বৈদিক, সংস্কৃত প্রভৃতি) ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।

• মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষাগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিকাশ আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ। 
ক. আদি-মধ্য ভারতীয় আর্য ৬০০-২০০ খ্রিস্টপূর্ব (অশোক-প্রাকৃত ও পালি)। 
খ. মধ্য-মধ্য ভারতীয় আর্য ২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ (আদি শিলালিপিসমূহের প্রাকৃত নাটকীয় প্রাকৃত, শৌরসেনি, মহারাষ্ট্রি, মাগধি, জৈন, অর্ধমাগধি)। 
গ. অন্ত্য-মধ্য ভারতীয় আর্য ৬০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ (অপভ্রংশ-পশ্চিমা এবং শৌরসেনি অপভ্রংশ)। 

• নব্য ভারতীয় আর্যের উৎপত্তি ১০০০ খ্রিস্টাব্দে। ভাষাগোষ্ঠীর এই অংশ থেকে (কাশ্মীরি, জিপসি, সিন্ধি, লাহন্দি, পাঞ্জাবি, মালদ্বীপি, সিংহলি, গুজরাটি, হিন্দি-উর্দু, আওধি, ভোজপুরি, মৈথিলি, ওড়িয়া, বাংলা, অসমিয়া, মারাঠি।) ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। 

.
কোনটি অন্তঃস্থ ধ্বনি?
ব্যাখ্যা
• অন্তঃস্থ ধ্বনি:
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র, ল, ব- এই ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বলা হয় আর বর্ণগুলোকে বলা হয় অন্তঃস্থ বর্ণ।

অন্যদিকে, 
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ। 
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১০.
কারবর্ণ নয় কোনটি?
  1. ঋ-কার
  2. ত্ত-কার
  3. ঐ-কার
  4. ঊ -কার
ব্যাখ্যা
• কারবর্ণ নয়- ত্ত।
- ত্ত এটি যুক্তবর্ণ: ত্‌ + ত  = ত্ত। 

• স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ বা কার:

অ-ভিন্ন স্বরবর্ণগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে সংযুক্ত হলে পূর্ণরূপের বদলে সংক্ষিপ্ত রূপ পরিগ্রহ করে। স্বরবর্ণের এ ধরনের সংক্ষিপ্তরূপকে 'কারবর্ণ' বলে।

স্বরবর্ণের 'কার'-চিহ্ন ১০টি। যথা:
• আ-কার (া): মা, বাবা, ঢাকা।
• ঋ-কার (ৃ): কৃষক, তৃণ, পৃথিবী।
• ই-কার (ি) কিনি, চিনি, মিনি।
• এ-কার (ে): চেয়ার, টেবিল, মেয়ে।
• ঈ-কার (ী): শশী, সীমানা, রীতি।
• ঐ-কার (ৈ): তৈরি, বৈরী, হৈচৈ।
• উ-কার(ু): কুকুর, পুকুর, দুপুর।
• ও-কার (াে): খোকা, পোকা, বোকা।
• ঊ -কার (ূ): ভূত, মূল্য, সূচি।
• ঔ-কার (ৗে): নৌকা, মৌসুমি, পৌষ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১১.
নিচের কোন পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে?
  1. ছেলে
  2. বর
  3. বাবা
  4. ভাই
ব্যাখ্যা
• কিছু পুরুষবাচক শব্দের দুটি করে স্ত্রীবাচক শব্দ রয়েছে।
যথা-
• দেবর - ননদ (দেবরের বোন)/জা (দেবরের সত্রী),
• ভাই - বোন এবং ভাবী (ভাইয়ের স্ত্রী ),
• শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী (শিক্ষিকা) (পেশা অর্থে) এবং শিক্ষকপত্নী (শিক্ষকের স্ত্রী),
• বন্ধু - বান্ধবী (মেয়ে বন্ধু) এবং বন্ধুপত্নী (বন্ধুর স্ত্রী),
• দাদা - দিদি (বড় বোন) এবং বৌদি (দাদার স্ত্রী)।

অন্যদিকে,
• অনেক সময় আলাদা আলাদা শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক বোঝায়।
যেমন: বাবা - মা, ভাই - বোন, কর্তা - গিন্নী, ছেলে - মেয়ে, সাহেব - বিবি, জামাই - মেয়ে, বর - কনে, দুলহা - দুলাইন/দুলহিন, বেয়াই - বেয়াইন, তাঐ - মাঐ, বাদশা - বেগম, শুক - সারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১২.
'উদ্ধরণ চিহ্ন' ব্যবহারে বিরতির সময় কত?
  1. এক উচ্চারণে যে সময় লাগে
  2. এক সেকেন্ড
  3. ১ বলার দ্বিগুণ সময়
  4. থামার প্রয়োজন নেই
ব্যাখ্যা
• যতি বা ছেদচিহ্ন:
বাক্যের অর্থ সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য বাক্যের মধ্যে বা বাক্যের সমাপ্তিতে কিংবা বাক্যে আবেগ (হর্ষ, বিষাদ), জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে বাক্য-গঠনে যেভাবে বিরতি দিতে হয় এবং লেখার সময় বাক্যের মধ্যে তা দেখানোর জন্য যেসব সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তা-ই যতি বা ছেদচিহ্ন।

নিচে বিভিন্ন প্রকার যতিচিহ্নের নাম, আকৃতি এবং তাদের বিরতি কালের পরিমাণ নির্দেশিত হলো:
• কমা (,) ১ (এক) বলতে যে সময় প্রয়োজন।
• সেমিকোলন (;) ১ বলার দ্বিগুণ সময়।
• দাঁড়ি (পূর্ণচ্ছেদ) (।) এক সেকেন্ড।
• প্রশ্নবোধক চিহ্ন (?) এক সেকেন্ড।
• বিস্ময় ও সম্বোধন চিহ্ন (!) এক সেকেন্ড।
• কোলন (:) এক সেকেন্ড।
• কোলন ড্যাস (:-) এক সেকেন্ড।
• হাইফেন (-) থামার প্রয়োজন নেই।
• ইলেক বা লোপ চিহ্ন থামার প্রয়োজন নেই।
• উদ্ধরণ চিহ্ন (" ") 'এক' উচ্চারণে যে সময় লাগে।
• ব্র্যাকেট (বন্ধনী-চিহ্ন) '(), [], {}' থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৩.
'ঞ' কোন বর্গীয় ধ্বনি?
  1. ত-বর্গীয়
  2. ক-বর্গীয়
  3. প-বর্গীয়
  4. চ-বর্গীয়
ব্যাখ্যা
• চ-বর্গীয় ধ্বনি:
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

অন্যদিকে, 
---------------
• প-বর্গীয় ধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৪.
'বচন' ব্যাকরণের কোন পদের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা
• 'বচন':
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

• একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে।
যেমন:
- সে এলো।
- মেয়েটি স্কুলে যায়নি।

• বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।
যেমন:
- তারা গেল।
- মেয়েরা এখনও আসেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৫.
জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি কয় শ্রেণিতে বিভক্ত?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• জিভের অগ্রপশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনির শ্রেণিবিভাগ:
স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভের যে অংশ সক্রিয় থাকে, সেই অংশের ভূমিকা অনুযায়ী স্বরধ্বনি বিচার করা হয়। সে-অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলো তিন শ্রেণিতে বিভক্ত। যথা:
১. সম্মুখ (front),
2. মধ্য (central) ও
3. পশ্চাৎ (back) ধ্বনি হিসেবে গণ্য হয়।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: জিভের সামনের অংশটি এগিয়ে আসায় যে স্বরধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়, সেগুলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। বাংলা 'ই, এ, অ্যা' এ-জাতীয় স্বরধ্বনি।

• মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি: জিভ সামনে বা পেছনে না সরে অর্থাৎ.. মধ্যবর্তী বা স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য বা কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি। বাংলা 'আ' ধ্বনি এ শ্রেণির।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিভ পিছিয়ে যায় অর্থাৎ পশ্চাৎ অংশ সক্রিয় হয়। এ জাতীয় স্বরধ্বনিগুলো হলো- অ, ও, উ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, সেসব শব্দের স্ত্রীবাচক বোঝাতে কোন প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়?
  1. আনী
  2. ইনী
  3. ত্রী
  4. বতী
ব্যাখ্যা
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
• নেতা - নেত্রী,
• কর্তা - কর্ত্রী,
• শ্রোতা - শ্রোত্রী,
• ধাতা - ধাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
১৭.
বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে কোন যতিচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়?
  1. বিস্ময়চিহ্ন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• ড্যাশ (_):
প্রথমেই ড্যাশ (_) আর হাইফেন (-) চিহ্নের তফাতটা মনে রাখা জরুরি। হাইফেনের চেয়ে ড্যাশ বেশি লম্বা, দুটি হাইফেন পাশাপাশি জোড়া লাগালে ড্যাশ হয়ে যায়।

ড্যাশ চিহ্ন প্রধানত বাক্যের মধ্যে এবং নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: 
১. কোনো কথার দৃষ্টান্ত বা বিস্তার বোঝাতে: আমার একমাত্র সম্মল_আপনাদের তরুণদের প্রতি আমার অপরিসীম ভালোবাসা, প্রাণের টান। 

২. বাক্য অসম্পূর্ণ থাকলে বাক্যের শেষে:
ক. "বেহাই, আমি তো কিছু বলিতে পারি না। একবার তাহলে বাড়ির মধ্যে_"
খ. বাবা গর্জিয়া উঠিলেন, "বটে রে_"

৩. গল্পে উপন্যাসে প্রসঙ্গের পরিবর্তন বা ব্যাখ্যায়:
ক. শিশির_না, এ নামটা আর ব্যবহার করা চলিল না।
খ. অ্যাঁ_এ হইল কী? কলি কি সত্যই উল্টাইতে বসিল?

৪. নাটক বা গল্প উপন্যাসে সংলাপের আগে: _হ গীত না তর মাথা। _অপরাধ স্বীকার করলে?

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৮.
কোন ব্যঞ্জন বর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে অনুপস্থিত?
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনবর্ণ:
ব্যঞ্জনধ্বনির লিখিত প্রতীক বা চিহ্নকে বলে ব্যঞ্জনবর্ণ। বাংলা বর্ণমালায় ৩৯টি ব্যঞ্জনবর্ণ রয়েছে। বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সঙ্গে ব্যঞ্জনবর্ণের তুলনা করলে দেখা যায় যে, সব ব্যঞ্জন বর্ণের স্বনিম রূপ বাংলা উচ্চারণে নেই।
যেমন- "ঞ, ণ, য়, য,ঃ" ইত্যাদির স্বনিম বা ধ্বনিমূল উচ্চারণে অনুপস্থিত। এগুলো হয় বাংলার অন্যান্য ধ্বনির সঙ্গে মিশে গেছে, না-হয় উচ্চারিত হয় না।

• বাংলা মান্য চলিত ভাষায় ব্যবহৃত ব্যঞ্জনধ্বনিমূল ২৮টি। এই  তালিকায় যে এগারোটি বর্ণ নেই, সেগুলো হলো: ঞ, ণ, ক্ষ, ঢ়, য়, ষ, স, ৎ, ং, ঃ,"। এগুলো কোনো ধ্বনি প্রকাশ করে না।

যেমন-
• ঞ-এর উচ্চারণ হয় কখনো অঁ এর মতো, যেমন-মিঞ (মিয়ো), মিঞা (মিয়া); কখনো দন্তমূলীয় 'ন্' ধ্বনির মতো, যেমন- ব্যঞ্জন (ব্যান্‌জা), লাঞ্ছনা (লাছোনা)।
• ন এবং ণ-এর উচ্চারণে কোনো পার্থক্য নেই। যেমন- বান (বন্যা), বাণ (তীর)।
• ষ এবং স-এর উচ্চারণ শ এর মতো। যেমন-সবিশেষ (শবিশেশ)।
• ত এবং ৎ-এর উচ্চারণও অভিন্ন। যেমন- সৎ, সত। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
একবচন নির্দেশে ব্যবহৃত লগ্নক কোনটি?
  1. রাজি
  2. দিগ
  3. এরা
  4. খানা
ব্যাখ্যা
• 'বচন':
'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য বা সর্বনামের সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশের উপায়কে বলে বচন। বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার: একবচন ও বহুবচন।

• একবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। কেবলমাত্র বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। কোনো কোনো সময় টা, টি, খানা, খানি ইত্যাদি যোগ করে বিশেষ্যের একবচন নির্দেশ করা হয়।

যেমন: গরুটা, বাছুরটা, কলমটা, খাতাখানা, বইখানি ইত্যাদি।

• বহুবচন: যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহু বচন বলে।

বাংলায় বহুবচন প্রকাশের জন্য "রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের" প্রভৃতি বিভক্তি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কুল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়। সমষ্টিবোধক শব্দগুলোর বেশিরভাগই তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২০.
বাংলালিপি জন্মলাভ করেছে কোন লিপি থেকে?
  1. সারদা লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. খরোষ্ঠী লিপি
  4. তাম্র লিপি
ব্যাখ্যা
• ব্রাহ্মী লিপি:
ব্রাহ্মী থেকেই জন্মলাভ করেছে বাংলালিপি। ব্রাহ্মী ভারতবর্ষের প্রাচীনতম ও বহুল প্রচলিত লিপি। কখন উদ্ভব হয়েছিল এ লিপির, তা সঠিক জানা যায়নি। অনেকে সিন্ধু লিপির সঙ্গে এ লিপির যোগসূত্র খোঁজার প্রয়াস পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ ভারতবর্ষের বাইরে থেকে এ লিপি আমদানি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

তবে অনুমান-নির্ভর এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো ঐতিহাসিক সাক্ষ্য-প্রমাণ মেলেনি। বলা যেতে পারে, এ লিপি ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্ভাবন। এ লিপির নাম কেন ব্রাহ্মী হল, তাও সঠিক বলা যায় না। কারও কারও ধারণা, ব্রাহ্মণদের লিপি বলেই এ লিপি ব্রাহ্মী সংজ্ঞা পেয়েছে।

ব্রাহ্মীর প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে নেপালের তরাই অঞ্চলের পিপ্রাবা থেকে। পিপ্রাবা লিপিটি একটি পাত্রের উপর খোদিত। এ পাত্রে বুদ্ধদেবের অস্থি রক্ষিত ছিল। এ থেকেই ধারণা করা হয়, এ লিপিটি বুদ্ধের নির্বাণকাল খ্রি. পৃ. ৪৮৭ এর কিছু পরেই উৎকীর্ণ।

ব্রাহ্মী লিপির পূর্ব-ভারতীয় শাখা দশম শতক নাগাদ কুটিল লিপি নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলা লিপি এই কুটিল লিপির পরিবর্তিত রূপ। অহমিয়া, বোড়ো, মণিপুর প্রভৃতি ভাষাও বাংলা লিপিতে লেখা হয়। সংস্কৃত এবং মৈথিলি ভাষা এক সময়ে এই লিপিতে লেখা হতো।

বাংলা লিপির উদ্ভব হয়েছে ব্রাহ্মী লিপি থেকে। তাই বাংলা বর্ণমালার উৎস ব্রাহ্মী লিপি।

• ব্রাহ্মী লিপির তিনটি রূপ রয়েছে। যথা:
- সারদা,
- নাগর ও
- কুটিল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
পত্নীবাচক অর্থে স্ত্রীবাচক শব্দ নয় কোনটি?
  1. নানী
  2. জা
  3. আম্মা
  4. খুকী
ব্যাখ্যা
• বাংলায় পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. পতি ও পত্নীবাচক অর্থে এবং
২. পুরুষ ও মেয়ে বা স্ত্রীজাতীয় বা অপত্নীবাচক অর্থে। 

• পতি ও পত্নীবাচক অর্থে: স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বোঝালে পত্নীবাচক হয়। যেমন:
আব্বা-আম্মা, চাচা-চাচী, কাকা-কাকী, জেঠা-জেঠী, দাদা-দাদী, নানা-নানী, নন্দাই-ননদ, দেওর-জা, ভাই-ভাবী/বৌদি, বাবা-মা, মামা-মামী ইত্যাদি।

• অপত্নীবাচক অর্থে: অন্যদিকে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক না বোঝালে অপত্নীবাচক হয়। যেমন:
খোকা-খুকী, পাগল-পাগলী, বামন-বামনী, ভেড়া-ভেড়ী, মোরগ-মুরগী, বালক-বালিকা, দেওর-ননদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২২.
প-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. দন্তমূলীয়
  2. কণ্ঠ্য
  3. ওষ্ঠ্য
  4. দন্ত্য
ব্যাখ্যা
• প-বর্গীয় ধ্বনি:
প, ফ, ব, ভ, ম- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

অন্যদিকে, 
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি:
ত, থ, দ, ধ, ন- এই পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।