পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (সাহিত্য)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২ মধ্যযুগের প্রাথমিক ধারণা ও শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য [Live Class - 3 & 4]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (সাহিত্য)

বাংলাবিদ (সাহিত্য) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা নয় কোনটি?
  1. কালিকামঙ্গল
  2. গৌরীমঙ্গল
  3. শীতলামঙ্গল
  4. ষষ্ঠীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

• বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত যায়।
- একটি খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা, অপরটি পুরাণাশ্রয়ী ধারা।
- চণ্ডীমঙ্গল, ধর্মমঙ্গল মনসামঙ্গল, ও কালিকামঙ্গল প্রথম ধারায় অন্তর্ভুক্ত।
- অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে শীতলামঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, রায়মঙ্গল, বাশুলীমঙ্গল প্রভৃতি।
- দ্বিতীয় ধারাটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক; যেমন-দেবীমাহাত্ম্য, চত্তিকাবিজয়, দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী, গৌরীমঙ্গল ও গঙ্গামঙ্গল প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন।
- তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো:
• কৃষ্ণ গুণার্ণব,
• রামসীতা ও
• চণ্ডী।

অন্যদিকে,
• বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা, বড়ু চণ্ডীদাস ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• পদসঙ্গীত ধারার রূপকার, বিদ্যাপতি মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
লোক সাহিত্যধারা সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ধর্ম ও মানবিকতা আছে
  2. ধর্ম আছে, মানবিকতা নেই
  3. ধর্ম নেই, মানবিকতা আছে
  4. ধর্ম নেই, মানবিকতা নেই
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য - ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা - বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি -
  1. কানা হরিদত্ত
  2. কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ
  3. নারায়ণ দেব
  4. বিপ্রদাস পিপিলাই
ব্যাখ্যা
কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ:
- পশ্চিমবঙ্গের কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ সতের শতকের মধ্যভাগে জীবিত ছিলেন বলে অনুমিত হয়।
- কবির নাম ক্ষেমানন্দ, কেতকাদাস তাঁর উপাধি।
- তিনি 'মনসামঙ্গল' কাব্যের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি। 
- তাঁর মতে 'কিআ পাতে জন্ম হৈল কেতকা সুন্দরী।'
- তাই মনসার অপর নাম কেতকা।
- মনসামঙ্গলের অন্যান্য কবির মতে পদ্মপাতায় জন্ম বলে মনসার অপর নাম পদ্মা; কিন্তু ক্ষেমানন্দের মতে কেয়াপাতায় মনসার জন্মের যে বৃত্তান্ত তা অন্যত্র নেই।
- কবি কেতকা বা মনসার দাস হিসেবে নিজেকে মনে করে কেতকাদাস ভণিতা ব্যবহার করেছেন।
- তার কাব্যের নাম কেতকাপুরাণ। 
- ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল সর্বপ্রথম মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করে ১৮৪৪ সালে। 
- এজন্য উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষিত সমাজে কবি সবচয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম কে মুদ্রিত করেন?
  1. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  2. রামকৃষ্ণ রায়
  3. রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
  4. রামেশ্বর ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রথম মুদ্রিত করেন - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
- এটি ১৮১৬ সালে মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'শিবায়ন' বা 'শিবের মঙ্গল' রচনা করেন - রামকৃষ্ণ রায়।
• দুর্গামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
• 'শিবায়ন' বা 'শিব-সংকীর্তন' কাব্য রচনা করেন - রামেশ্বর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
মঙ্গলকাব্যের অধিকাংশ দেব-দেবী কোন গোষ্ঠীভুক্ত?
  1. অস্ট্রিক
  2. ককেশিয়ান
  3. দ্রাবিড়
  4. সেমিটিক-হেমিটিক
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি। যথা:
• মনসামঙ্গল,
• চণ্ডীমঙ্গল,
• অন্নদামঙ্গল।
- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে। যথা:
• বন্দনা,
• আতত্মপরিচয়,
• দেবখণ্ড,
• মর্ত্যখণ্ড,
• শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

মঙ্গলকাব্যের উদ্ভবের প্রেক্ষাপট:
- মঙ্গলকাব্যের অধিকাংশ দেবদেবী অস্ট্রিক গোষ্ঠীভুক্ত আদিম লোকায়ত সমাজের। 
- বাংলার গ্রামীণ পরিবেশে ও সমাজে এঁদের উদ্ভব ও প্রতিষ্ঠা।
- অস্ট্রিকদের দেবী হলেন শিবের মানসকন্যা মনসা, অনার্য ব্যাধ জাতির দেবী চণ্ডী হলেন শিবের গৃহিণী।
- সূর্যদেবতা হলেন কূর্মরূপী ধর্মঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের কোন খণ্ডে শরৎকালের উল্লেখ আছে?
  1. ছত্র খণ্ড
  2. দান খণ্ড
  3. নৌকা খণ্ড
  4. ভার খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

ভার খণ্ড:
- শরৎকালে শুকনো পথঘাটে হেঁটেই মথুরাতে গিয়ে দুধ-দই বিক্রি করা যায়।
- কিন্তু রাধা আর বাড়ির বাইরে আসে না। 
- রাধা অদর্শনে কৃষ্ণ কাতর।
- সে বড়ায়িকে দিয়ে রাধার শাশুড়িকে বোঝায়, ঘরে বসে থেকে কি হবে, রাধা দুধ-দই বেচে কটি পয়সা তো আনতে পারে।
- শাশুড়ির নির্দেশে রাধা বাইরে বের হয়।
- কিন্তু প্রচণ্ড রোদে কোমল শরীরে দুধ-দই বহন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- এ সময় কৃষ্ণ ছদ্মবেশে মজুরি করতে আসে। পরে ভার বহন অর্থাৎ মজুরির বদলে রাধার আলিঙ্গন কামনা করে।
- রাধা এই চতুরতা বুঝতে পারে।
- সেও কাজ আদায়ের লক্ষ্যে মিথ্যে আশ্বাস দেয়।
- কৃষ্ণ আশায় আশায় রাধার পিছু পিছু ভার নিয়ে মথুরা পর্যন্ত চলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. অকিঞ্চন চক্রবর্তী
  2. নিত্যানন্দ চক্রবর্তী
  3. মাণিকরাম গাঙ্গুলী
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
নিত্যানন্দ চক্রবর্তী:
- কবি আঠার শতকের শেষ পাদে বর্তমান ছিলেন।
- তিনি মেদিনীপুরের অন্তর্গত কাশীযোড়ার রাজা রাজনারায়ণের সভাসদ ছিলেন।
- শীতলামঙ্গল কাব্যের আদি কবি নিত্যানন্দ চক্রবর্তী।
- তিনি ১৭৭৭-৮৩ সালের মধ্যে শীতলামঙ্গল রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- কবির ভাষা সুমার্জিত এবং কিছুটা আধুনিকতার পরিচায়ক।
- তাঁর রচনা সরল।

অন্যদিকে,
• চণ্ডীমঙ্গলের সর্বশেষ কবি - অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
• ধর্মমঙ্গল ও শীতলামঙ্গল কাব্য রচনা করেন - মাণিকরাম গাঙ্গুলী।
• ধর্মমঙ্গল ধারার কবি - রূপরাম চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. অমিত্রাক্ষর
  3. পয়ার ও ত্রিপদী
  4. স্বরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- এটি বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এক ধরনের গীতি-আলেখ্য। 
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্ম খন্ড, তাম্বূল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড (রাধাবিরহ)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
বিজয় গুপ্ত কার শাসনামলে কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নাসিরুদ্দিন নুসরত শাহ
  3. শামসুদ্দীন ইউসুফ শাহ
  4. হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা
বিজয় গুপ্ত:
- কবি বরিশাল জেলার বর্তমান গৈলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এ গ্রামের প্রাচীন নাম ফুল্লশ্রী।
- কবি তাঁর কাব্যে নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন:

স্থানগুণে যেই জন্মে সেই গুণময়।
হেন ফুল্লশ্রী গ্রামে নিবসে বিজয়।।

- বাংলা সাহিত্যে সুস্পষ্ট সনতারিখ যুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত।
- কবির কাব্যের উল্লিখিত একটি শ্লোক থেকে অনুমিত হয় তিনি গৌড়ের সুলতান হুসেন শাহের আমলে ১৪৯৪ সালে কাব্য রচনায় প্রবৃত্ত হন।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- বিজয় গুপ্তের মনসামঙ্গল অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যটি কোন রসপ্রধান?
  1. করুণ রস
  2. বীভৎস রস
  3. ভয়ংকর রস
  4. শৃঙ্গাররস
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- এটি বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এক ধরনের গীতি-আলেখ্য। 
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্ম খন্ড, তাম্বূল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড (রাধাবিরহ)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
মঙ্গলকাব্যের মধ্যে কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. কালিকামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
 - 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
 - চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গর ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
- অপরাপর মঙ্গলকাব্যে যেখানে একটি কাহিনি বর্তমান, 'চণ্ডীমঙ্গল' এর ব্যতিক্রম, এতে আছে দুটি কাহিনি।
- কাব্যের কাহিনি দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রথম-আক্ষেটিক খণ্ড এবং দ্বিতীয়- বণিক খণ্ড।
- প্রথম খণ্ডে আক্ষেটিক বা ব্যাধ কালকেতুর কাহিনি এবং দ্বিতীয় খণ্ডে বণিক ধনপতির কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ধর্মমঙ্গল কাব্যেরও দুটি কাহিনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কে বলা হয় -
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তি
  2. শ্রীকৃষ্ণসদ্ভাব
  3. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
  4. শ্রীকৃষ্ণস্তুতি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থের নামকরণ:
- গ্রন্থের প্রথম দিকের পৃষ্ঠা ছিন্ন থাকাতে এর নাম পাওয়া যায় নি।
- তবে সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল রচিত 'চণ্ডীদাস চরিত', ত্রৈলোক্য আচার্যের 'বিদ্যাপতি' ইত্যাদি গ্রন্থ অবলম্বনে এর নাম দেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- একে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।' - কোন কবির রচনা?
  1. দ্বিজ বংশীদাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। 
- পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার পাণ্ডুয়া গ্রামে জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মাতা ভবানী দেবী, পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ। তাঁদের পদবি মুখোপাধ্যায়।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি, পারসি ও আরবি ভাষা জানতেন।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের শ্রেষ্ঠসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - সত্য পীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা -

'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।।'

- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের রচনা। তিনি ঈশ্বরী পাটনী চরিত্রের মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যে কতটি পদ রয়েছে?
  1. ৪১৫
  2. ৪১৮
  3. ৪২৩
  4. ৪২৮
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- এটি বৈষ্ণব কাব্য।
- রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এক ধরনের গীতি-আলেখ্য। 
- রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- খন্ডগুলি: জন্ম খন্ড, তাম্বূল খন্ড, দান খন্ড, নৌকা খন্ড, ভার খন্ড, ছত্র খন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হার খন্ড, বাণ খন্ড, বংশী খন্ড ও বিরহ খন্ড (রাধাবিরহ)।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি: কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)।
- কাব্যের চরিত্র-মধ্যে ঘাত-প্রতিঘাত আছে; বাক-বিতন্ডা, রাগ-দ্বেষ ইত্যাদি আছে। ফলে কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে।
- এতে গীতিরসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররসপ্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।