পরীক্ষা আর্কাইভ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

পরীক্ষা২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
ভূগোল ও নৈতিকতা (সম্পূর্ণ সিলেবাস)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived

২০ দিনে ৪৭তম বিসিএস রিভিশন - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
'SPARRSO' কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
  2. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  3. জলবায়ু ও দুর্যোগ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- SPARRSO এর পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organization.
- স্পারসো হলো একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থা যা জ্যোতির্বিদ্যা গবেষণা এবং বাংলাদেশে মহাকাশ প্রযুক্তির প্রয়োগের সাথে জড়িত।
- স্পারসো পরিবেশগত এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত গবেষণায় JAXA, NASA এবং ESA-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।
- স্পারসো হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি সংস্থা।
- এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস দিতে কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- কোম্পানিটি ল্যান্ডস্যাট এবং এনওএ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করে ভূমি জরিপ চালায়।
- বাংলাদেশের স্যাটেলাইট চিত্র স্পারসো-এর তত্ত্বাবধানে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগ কোনটি?
  1. মরুকরণ
  2. বন্যা
  3. নদীভাঙন
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

• মানবসৃষ্ট কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- রাসায়নিক দূষণ, 
- যুদ্ধ, 
- পারমাণবিক বিস্ফোরণ, 
- মরুকরণ, 
- অগ্নিকাণ্ড, 
- জলাবদ্ধতা সৃষ্টি, 
- বন উজারকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
প্রাকৃতিক কারণে সংঘটিত দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে:
- ভূমিকম্প, 
- অগ্ন্যুৎপাত, 
- নদীভাঙন, 
- তুষারপাত, 
- ঘূর্ণিঝড়, 
- খরা, 
- জলোচ্ছ্বাস, 
- বন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়: অষ্টম শ্রেণি।

.
মরা কটাল কখন হয়?
  1. পঞ্চমীতে
  2. অষ্টমীতে
  3. নবমীতে
  4. একাদশীতে
ব্যাখ্যা

• মরা কটাল (Neap Tide):
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে জোয়ার-ভাটার মরা কটাল হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশের এফ. সি. ডি. আই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. নিষ্কাশন
  3. সেচ প্রকল্প
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects):
-  অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।

.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?  
  1. শিবগঞ্জ
  2. মনাকষা
  3. থানচি
  4. শ্যামপুর
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- স্থান : বাংলাবান্দা।
- উপজেলা : তেঁতুলিয়া।
- জেলা : পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণের
- স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্ট মার্টিন্স।
- উপজেলা : টেকনাফ।
- জেলা : কক্সবাজার।

সর্বপশ্চিমের:
- স্থান : মনাকষা।
- উপজেলা : শিবগঞ্জ।
- জেলা : চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্বপূর্বের:
- স্থান : আখাইনঠং।
- উপজেলা : থানচি।
- জেলা : বান্দরবান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ কত?
  1. ১৮০°
  2. ৩৬০°
  3. ৯০°
  4. ০°
ব্যাখ্যা

•  নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরুর কৌণিক দূরত্ব বা উৎপন্ন কোণ ৯০°।

অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude):
- পৃথিবী পৃষ্ঠে একটি নির্দিষ্ট স্থানের সঠিক (Absolute) অবস্থান ও উক্ত স্থানের সঠিক সময় জানবার জন্যে ভূ-বিজ্ঞানীগণ সমগ্র পৃথিবীকে মোট দুই ধরনের রেখা দ্বারা বিভক্ত করেছেন।
- এই রেখাসমূহ অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখা নামে পরিচিত।

পৃথিবীর অক্ষ ও মেরুদ্বয় (Axis & Poles of Earth):
- পৃথিবী সৌরজগতে অভিগত গোলক আকৃতির মাঝারি একটি গ্রহ।
- পৃথিবীর উত্তর বা দক্ষিণ দিক দিয়ে কাল্পনিক একটি শলাকা প্রবেশ করিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু ছেদ করে অপর প্রান্তে ঠিক নীচের দিকে বের করা হয়।
- উক্ত কাল্পনিক শলাকাটি পৃথিবীর অক্ষরেখা (Axis) এবং ঐ শলাকাটির উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্ত যথাক্রমে উত্তর মেরু (North Pole) ও দক্ষিণ মেরু (South Pole) হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরু বিন্দুর কৌণিক দূরত্ব ৯০°।
- উত্তর মেরুর অক্ষাংশের মান হলো ৯০° উত্তর অক্ষাংশ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি ও ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা মোট কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্ৰ:
- বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি।

- সেগুলো হলো:
- রাঙামাটির বেতবুনিয়া (১৯৭৫),
- গাজীপুরের তালিবাবাগ (১৯৮২),
- ঢাকার মহাখালী (১৯৯৫),
- সিলেট (১৯৯৭)।

- ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ জুন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাঙামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহটি কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেছিলেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাসস।

.
UNDRR এর পূর্ণরূপ-
  1. United Nations Office for Disaster Risk Reduction
  2. United Nations Division for Relief and Rehabilitation
  3. United Nations Disaster Risk Reduction Agency
  4. United Nations Department of Relief and Rehabilitation
ব্যাখ্যা

• UNDRR:
- পূর্ণরূপ: United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR).
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।

.
মার্বেল পাথর কোন ধরনের শিলা?
  1. আগ্নেয় শিলা 
  2. রূপান্তরিত শিলা 
  3. পাললিক শিলা 
  4. মিশ্র শিলা 
ব্যাখ্যা

 • রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।

- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।

রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ:
যেমন-
চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট,
- গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে,
- কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১০.
ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে কী বলে?
  1. Isotherm line
  2. Isobar line
  3. Isohyet line
  4. Isohpress line
ব্যাখ্যা

সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

• সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

• সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১.
 'সোনাদিয়া দ্বীপ' কোথায় অবস্থিত?
  1. টেকনাফ
  2. হাতিয়া
  3. মহেশখালি
  4. কুতুবদিয়া
ব্যাখ্যা

• সোনাদিয়া দ্বীপ:
- কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত।
- মহেশখালীর দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের কুল ঘেঁষে সোনাদিয়ার অবস্থান।
- সোনাদিয়া দ্বীপটি মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নে অবস্থিত।
- ঘটিভাঙ্গা নামে একটি খাল মহেশখালী দ্বীপের সাথে একসময় সোনাদিয়াকে বিচ্ছিন্ন রাখলেও খালের ওপর সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে।

উৎস: কক্সবাজার জেলা ওয়েবসাইট।

১২.
তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল- 
  1. সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  2. কৈলাস পর্বত, তিব্বত
  3. মানস সরোবর, তিব্বত
  4. গঙ্গোত্রী হিমবাহ, ভারত
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- তিস্তা নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয় পর্বতের দার্জিলিং-এর মহালদিরাম পাহাড়।
 
এছাড়াও,
বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:
- হোয়াংহো: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ,
- মিসিসিপি: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
- দানিয়ুব: ব্ল‍্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ,
- মারে ডার্লিং: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্রেলিয়া,
- তিস্তা: সিকিমের পর্বত অঞ্চল,
- আমাজান: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

উৎস: i) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
         ii) Britannica.

১৩.
'চিত্রা' নদী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বরিশাল
  2. নড়াইল
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা

• 'চিত্রা' নদী নড়াইল জেলায় অবস্থিত।

এছাড়াও,
- আড়িয়াল খাঁ: মাদারীপুর।
- চেঙি : খাগড়াছড়ি।
- ভৈরব: ঝিনাইদহ।
- কীর্তনখোলা : বরিশাল।
- বুড়িগঙ্গা: ঢাকা।
- গোমতী: কুমিল্লা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৪.
বিশ্বব্যাংক কবে প্রথম ‘সুশাসন’ শব্দটি ব্যবহার করে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮৯ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় ‘সুশাসন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয়।

সুশাসন:
- 'গভর্নেন্স' প্রপঞ্চটির সাথে 'সু' প্রত্যয় যোগ করে 'সুশাসন' শব্দটির প্রকাশ ঘটানো হয়েছে।
- এর ফলে 'গভর্নেন্স'-এর নরমেটিভ উপাদানের প্রকাশ ঘটেছে।
- এর ফলে সুশাসনের অর্থ দাঁড়িয়েছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন।
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- একটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বব্যাংক সর্বপ্রথম উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে 'সুশাসন' ধারণাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

এ চারটি স্তম্ভ হলো-
১. দায়িত্বশীলতা
২. স্বচ্ছতা,
৩. আইনি কাঠামো ও
৫. অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

১৫.
'Greatest Happiness Principle’-এই নীতির প্রবক্তা কে?
  1. ইমানুয়েল কান্ট
  2. রুশোঁ
  3. সক্রেটিস
  4. জেরেমি বেন্থাম
ব্যাখ্যা

• Greatest Happiness Principle:
- জেরেমি বেন্থাম Greatest Happiness Principle নীতির প্রবক্তা।
- পরবর্তীতে John Stuart Mill এই ধারণাকে বিকশিত করেন।
- মূল কথা: মানুষের নৈতিকতা ও আইন এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সর্বাধিক সুখ (Happiness) নিশ্চিত হয়।
- এই নীতিকে Utilitarianism (উপযোগবাদ) নামেও পরিচিত

- জন স্টুয়ার্ট মিল তার পিতা জেমস মিল ও জেরেমি বেন্থামের "greatest-happiness principle" বা পরম সুখবোধের নীতি সংক্রান্ত ধারণাকে তিনি নিজের মতো বর্ণনা করেন। জেরেমি বেন্থামরা সুখ বা আনন্দকে পরিমাপ করার প্রচেষ্টা করতেন। কিন্তুু তিনি এর বিপরীতে বলেন, মুর্খের সুখবোধের চেয়ে তিনি বরং সক্রেটিসের মতো জ্ঞানীর সুখবোধ অপ্রাপ্তির আকাঙ্খা করেন। অর্থাৎ তিনি বৌদ্ধিকতা বা জ্ঞানার্জন ও নৈতিকতাবোধ বা মরালিটির উপর এবং তার মাধ্যমে সমাজের মঙ্গলের সাধনকে গুরুত্ব প্রদান করেছেন। 

• জেরেমি বেন্থাম:
- জেরেমি বেন্থাম ছিলেন একজন দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, আইনবিদ, এবং আইন সংস্কারক এবং আধুনিক উপযোগিতাবাদের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি ছিলেন যুক্তরাজ্যের অধিবাসী।
- জেরেমি বেস্থাম যে সুখবাদ প্রচার করেন তা 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Utilitarianism) নামে পরিচিত।
- বেন্থাম মনস্তাত্ত্বিক সুখবাদ (Psychlogical Hedonism) ও আত্মসুখবাদ (Egoism) সমর্থন করেও ঐ প্রকার সুখবাদ থেকে পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ অনুমান করেন। বিভিন্ন সুখের মধ্যে গুণগত পার্থক্য স্বীকার না করার জন্যই বেস্থামের সুখবাদকে 'অসংযত পরসুখবাদ বা উপযোগবাদ' (Gross Altruism or Ulititarianism) বলা হয়। বেন্থাম বলেন, 'Quantity of pleasures being equal, pushpin is as good as poetry' অর্থাৎ 'পরিমাণের তারতম্য না ঘটলে, খেলার সুখ (দৈহিক সুখ) ও কবিতা পাঠের সুখ (মানসিক সুখ) তুল্যমূল্য'।
- সুখের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বেস্থাম সুখের সাতটি দিকের বা মানের উল্লেখ করেছেন। যথা: তীব্রতা, স্থায়িত্ব, নৈকট্য, নিশ্চয়তা, বিশুদ্ধি, উর্বরতা ও বিস্তৃতি।

উৎস: Britannica ও নীতিবিদ্যা, দর্শন চতুর্থ পর্ব, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬.
রাজনৈতিক ঐকমত্য ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় কোনটি?
  1. দুর্নীতি
  2. স্বজনপ্রীতি
  3. সুশাসন
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক ঐক্যমত ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার অভাবে ব্যাহত হয় সুশাসন।

• সুশাসন:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিককে বেশ কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু সরকারকেই সচেষ্ট হতে হবে তা নয়।
- এজন্য নাগরিকেরও অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
- কেননা কর্তব্যবিমুখ জাতি কখনো উন্নতি লাভ করতে পারেনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

• পশ্চিমা দেশগুলোর মতে সুশাসন:
- পশ্চিমা দেশগুলো সুশাসনের চারটি দিকের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের মতে,
১। সুশাসন হলো জনগণের নিবার্চিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা।
২। সুশাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আইনের মাধ্যম রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ।
৩। সুশাসন হলো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার নিশ্চিতকরণ।
৪। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং গণতান্ত্রিক শাসন কাঠামোর শক্তিশালীকরণ।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী ঘটে?
  1. সামাজিক অবক্ষয় হয়
  2. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়
  3. বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়
  4. দুর্নীতি দূর হয়
ব্যাখ্যা

• অর্থনৈতিক বিনিয়োগ:
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৮.
মূল্যবোধের উপাদান হিসেবে বিবেচ্য নয় কোনটি?
  1. পরশ্রীকাতরতা
  2. নীতি ও ঔচিত্যবোধ
  3. শৃঙ্খলাবোধ
  4. নাগরিক চেতনা
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের উপাদান নয় পরশ্রীকাতরতা।

• মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড।

• মূল্যবোধের উপাদান:
- নীতি ও ঔচিত্যবোধ,
- শৃঙ্খলাবোধ,
- আইনের শাসন,
- সহনশীলতা,
- শ্রমের মর্যাদা,
- সামাজিক ন্যায়বিচার,
- সহমর্মিতা,
- নাগরিক চেতনা ও
- কর্তব্যবোধ ইত্যাদি মূল্যবোধের উপাদান।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।

১৯.
নিচের কোনটি সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়?
  1. শিক্ষা
  2. অর্থনীতি
  3. সংবিধান
  4. আইনের শাসন
ব্যাখ্যা

• আইনের শাসন:
- সভ্য সমাজ বলতে বোঝায় এমন একটি সমাজ যেখানে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, এবং সুশাসন বিদ্যমান।
- সভ্য সমাজের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে 'আইনের শাসন' সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- এটি নিশ্চিত করে যে সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ও সরকার আইনের আওতায় থাকবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
- এটি স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি ও বৈষম্য রোধ করে এবং সমাজে স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
- আইন সঠিকভাবে কার্যকর হলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়, যা সভ্য সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্টী কীসের ভিত্তিতে পরস্পর আবদ্ধ হন?
  1. রাজনৈতিক ভিত্তিতে
  2. সামাজিক ভিত্তিতে
  3. স্বার্থের ভিত্তিতে
  4. অর্থনৈতিক ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছেে এমন এক গোষ্ঠী যারা সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ, স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পর সাথে আবদ্ধ।
- অনেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলেও অভিহিত করেন।

- আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, "চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২১.
সামাজিক মূল্যবোধ একটি ব্যক্তির কোন আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে?
  1. ধর্মীয় মূল্যবোধ
  2. ব্যক্তিগত মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক মূল্যবোধ
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধ
ব্যাখ্যা

• সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
'নিজেকে জানো' এটি কার বিখ্যাত উক্তি?
  1.  এরিস্টটল
  2. ফ্রাঙ্কেল
  3. প্লেটো
  4. সক্রেটিস
ব্যাখ্যা

• গ্রিক দর্শন ও নীতিবিদ্যা:
- সক্রেটিসকে বলা হয় প্রাশ্চাত্য রাজনৈতিক দর্শনের পিতামহ এবং নীতি শাস্ত্রের পুরোধা।
- সক্রেটিসের বিখ্যাত উক্তি হচ্ছে- 'Know Thyself' এর অর্থ হচ্ছে- 'নিজেকে জানো'।
- গ্রিক দার্শনিকদের যুক্তি, ব্যাখ্যা ও দর্শন জগতকে সমৃদ্ধিশালী করে।
- অদ্যাবধি জ্ঞানের জগতে যে সকল গ্রিক কবি দার্শনিক জ্ঞানের আলোক বর্তিকা বিতরণ করেছেন তাদের মধ্যে বিশ্ব বিখ্যাত শিক্ষাগুরু সক্রেটিস।
- এই উক্তিটি মানুষকে নিজের মধ্যে গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার এবং আত্ম-পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিজেকে সঠিকভাবে বুঝতে উৎসাহিত করে।
- এর মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে নিজের প্রকৃত স্বভাব, ইচ্ছা, দুর্বলতা ও শক্তিগুলি সম্পর্কে সচেতন করা এবং আত্ম-উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করা।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩.
'An Introduction to Ethics' গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. উইলিয়াম লিলি
  2. ইমানুয়েল কান্ট
  3. জি. ই. ম্যুর
  4. ম্যাকরনি
ব্যাখ্যা

• নীতিবিদ্যা:
- নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ Ethics.
- মানুষের আচরণের নৈতিক মূল্য ও আদর্শ নির্ধারণ করা নীতিবিদ্যার কাজ।
- নীতিবিদ্যাকে মানুষের আচরণের রীতিনীতি সম্পর্কিত বিজ্ঞান বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- নীতিবিদ্যার বই 'An Introduction to Ethics' এর লেখক হলেন উইলিয়াম লিলি।
- এটি নীতিশাস্ত্রের (Ethics) একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে গণ্য হয়।
- এই গ্রন্থে লিলি নৈতিকতার মৌলিক ধারণা, বিভিন্ন নৈতিক তত্ত্ব এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

- উইলিয়াম লিলি- তাঁর An Introduction to Ethics বইয়ে নীতিবিদ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন,
'নীতিবিদ্যা হলো সমাজে বসাবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পর্কিত বিজ্ঞান যেখানে আচরণের সঠিকতা বা অসঠিকতা, ভালো বা মন্দ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়।'

উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪.
ই-গভর্ন্যান্সকে 'স্মার্ট গভর্নমেন্ট' বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. ইএম হোয়াইট
  2. লরি পেইজ
  3. নিখিলেস যাদব
  4. চন্দ্রবাবু নাইডু
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গভর্নেন্স সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারি সেবা পাবার একটি জানালা উন্মোচন করে দেয়।

উল্লেখ্য:
- ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু E-Governance কে 'SMART Government' বলে অভিহিত করেছেন।
- তাঁর মতে "SMART" শব্দটির পূর্ণরূপ হলো- Simple Moral Accountable Responsive Transparent অর্থাৎ যদি কোনো সরকার ব্যবস্থা সহজ সরল (Simple), নৈতিক আদর্শপূর্ণ (Moral), জবাবদিহিমূলক (Accountable), সংবেদনশীল বা দ্রুত সাড়া প্রদানকারী (Responsive) এবং কাজকর্মে স্বচ্ছ হয় তাকেই চন্দ্রবাবু নাইডু 'SMART Governance' বলতে চেয়েছেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২৫.
নিচের কোনটি নৈতিক অধিকারের বৈশিষ্ট্য?
  1. সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত
  2. রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত
  3. আইনগত ভিত্তি নেই
  4. ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে
ব্যাখ্যা

অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা-
(১) নৈতিক অধিকার ও 
(২) আইনগত অধিকার।

নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত।
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌম কর্তৃত্ব দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।
- সমাজ ও রাষ্ট্রভেদে এ অধিকারের তারতম্য ঘটে না।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি কে করেছেন?
  1. অধ্যাপক ডাইসি
  2. অধ্যাপক স্পেন্সার
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. আর্থার কিং লুথার
ব্যাখ্যা

- 'আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান'-উক্তিটি করেছেন অধ্যাপক ডাইসি।
- আইনের শাসনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, আইনের শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বটি হচ্ছে, ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে আইনের চোখে সবার সমতা।
- এই তত্বে বলা হয়েছে আইনের ওপরে কেউ নেই। রাষ্ট্রের প্রত্যেক ব্যক্তির গতিবিধি, পদমর্যাদা এবং সামাজিক প্রতিপত্তি, রাষ্ট্রের সাধারণ আইন ও সাধারণ আদালতের বিচারাধীন। প্রশাসনিক আধিকারিকরাও সাধারণ নাগরিকের মতই আইন মান্য করবে এবং আইন লঙ্ঘন করলে তাদেরও শাস্তি হবে। এইভাবেই জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সাম্য ও স্বাধীনতার অধিকার।
- রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে লিখিত বিভিন্ন বিখ্যাত গ্রন্থও আইনের উৎস হিসেবে অধ্যাপক ডাইসির "Law of the Constitution" এর উল্লেখ করা যায়।

উল্লেখ্য,
• আইন:
- মানবজাতির বৃহত্তর কল্যাণে মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে সকল বিধি নিষেধ প্রণয়ন করে সাধারণভাবে সেগুলোকেই আইন বলা হয়।
- আইনের শাসনের অর্থ হচ্ছে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা।
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজ থেকে অন্যায়, বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য দূর হয়।
- আইনের শাসন না থাকলে সবল-দুর্বল, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান প্রকট হতে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও Elective Commerce Honours, নেতাজী সুভাষ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।