পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বাংলাদেশের ইতিহাস: ব্রিটিশ আমল থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত। সোর্স: যেকোনো গাইড বই, ষষ্ঠ থেকে SSC & HSC বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথমে কারা আগমন করেছিলো?
  1. ক) ইংরেজ
  2. খ) দিনেমার
  3. গ) ফরাসি
  4. ঘ) পর্তুগিজ
ব্যাখ্যা
১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।

এদের মধ্যে পতুর্গিজরা সবার আগে আসে। পর্তুগিজরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্য কুঠি গড়ে তোলে। কিন্তু অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তিসমূহের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে পতুর্গিজরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

পর্তুগিজদের পর ইংরেজ (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০০ সালে), ওলন্দাজ (ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০২ সালে), দিনোমার (ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬২০ সালে), ফরাসি (ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬৬৪ সালে) প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তি ভারতে আগমন করে।
এদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
নিচের কোনজন একজন সশ্বস্ত্র ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী?
  1. ক) জওহরলাল নেহরু
  2. খ) মাস্টার দা সূর্যসেন
  3. গ) সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল
  4. ঘ) চিত্তরঞ্জন দাস
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত অপশনসমূহের মধ্যে মাস্টার দা সূর্যসেন ছিলেন একজন ব্রিটিশবিরোধী সশ্বস্ত্র বিপ্লবী। তিনি ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরোনাম সূর্যকুমার সেন। ডাকনাম ছিলো কালু।

১৯১৬ সালে বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে অধ্যয়নকালে সূর্যসেন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর মাধ্যমে বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন এবং যুগান্তর দলের সাথে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে ফিরে এসে তিনি যুগান্তর দলকে উজ্জীবিত করেন।

তিনি ছিলেন যুগান্তর দলের চট্টগ্রাম শাখার প্রধান। এছাড়া চট্টগ্রাম রিপাবলিকান আর্মি নামে একটি সশ্বস্ত্র সংগঠন গড়ে তোলেন।

তার নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে সরকারি অস্ত্রগার লুন্ঠন সংঘটিত হয় যা সারা ভারতবর্ষে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। মাস্টার দা স্বাধীন চিটাগাং সরকারের ঘোষণা দেন। তবে শেষ পর্যন্ত ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে মাস্টার দা ও তার বিপ্লবীরা পরাজিত হয়।

১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে সূর্যসেনকে ফাসি দেওয়া হয়। তার সহচরদের মধ্যে ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী, লোকনাথবল, নির্মল সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান কোন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
  3. গ) ফরায়েজী আন্দোলন
  4. ঘ) খিলাফত আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতের আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের মূলে ছিলো মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের উন্নয়ন সাধন।

এই লক্ষ্যে সৈয়দ আহমদ খানের প্রচেষ্টায় আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিভিন্ন সময় তিনটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আহমদ খান ১৮৯৮ সালে মারা যান।

অন্যদিকে,

ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হেনরী লুই ভিভিয়ান ডি রোজিও।
ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা হাজী শরীয়ত উল্লাহ এবং খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা মুহম্মদ আলী প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
.
কাকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়?
  1. ক) টিপু সুলতান
  2. খ) বাল গঙ্গাধর তিলক
  3. গ) দাদাভাই নওরোজী
  4. ঘ) আবদুল গাফফার খান
ব্যাখ্যা
টিপু সুলতান ভারতের মহীশূর অঞ্চলের (বর্তমান কর্নাটক) শাসক ছিলেন। তাকে মহীশূরের বাঘ বলা হয়।

তিনি ১৭৮২ সাল থেকে ১৭৯৯ সাল পর্যন্ত মহীশূরের শাসক ছিলেন। ১৭৯৯ সালে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি লর্ড ওয়েলেসলি নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজিত ও নিহত হন।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস ও বিবিসি বাংলা)
.
নিচের কোনটি কৃষক আন্দোলন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) বয়কট আন্দোলন
  3. গ) টঙ্ক আন্দোলন
  4. ঘ) অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো। ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।

কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন। ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায় টংক আন্দোলন সংঘটিত করে।

১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ হলে টঙ্ক প্রথা উচ্ছেদ হয় এবং টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
.
নাথান কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে কী ছিলো?
  1. ক) নীল বিদ্রোহ প্রশমন
  2. খ) ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা
  4. ঘ) ইংরেজি শিক্ষার প্রসার
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠন করে।

নাথান কমিশনের সদস্যরা হলেন:
- আর. নাথানিয়েল (প্রধান)
- ডব্লিউ কুচলু
- অ্যাডভোকেট রাসবিহারী ঘোষ
- নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
- নওয়াব সিরাজুল ইসলাম
- উকিল আনন্দচন্দ্র রায়
- মুহম্মদ আলী
- এইচ.আর জেমস
- ডব্লিউ.এ.টি আর্চবোল্ড
- সতীশচন্দ্র আচার্য
- ললিত মোহন চ্যাটার্জী
- সি.ডব্লিউ পীক ও
- শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওহীদ।

নাথান কমিশনের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ডি.এস ফ্রেজার।
এই কমিশন একই বছরের হেমন্তে তার রিপোর্ট সরকারের নিকট পেশ করে। কমিশন ঢাকায় একটি সরকার নিয়ন্ত্রিত আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব করে। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
.
কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন কে?
  1. ক) রবার্ট ক্লাইভ
  2. খ) আল বুকার্ক
  3. গ) জব চার্নব
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন হকিন্স
ব্যাখ্যা
১৬৯০ সালে জব চার্নব নামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন কর্মচারি ভাগীরথী নদীর তীরের কোলকাতা, গোবিন্দপুর এবং সুতানটি নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভের মাধ্যমে কলকাতা শহরের গোড়াপত্তন করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
কোন কোন অঞ্চল নিয়ে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ গঠিত হয়েছিলো?
  1. ক) ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী
  2. খ) জলপাইগুড়ি, সিলেট, আসাম
  3. গ) মালদহ, পার্বত্য ত্রিপুরা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন বিশাল বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করেন যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, পার্বত্য ত্রিপুরা, জলপাইগুড়ি এবং মালদহ জেলা নিয়ে গঠিদ হয় পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ। ঢাকা ছিলো নবগঠিত প্রদেশের রাজধানী এবং প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন ব্যামফিল্ড ফুলার।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত বাংলা প্রদেশের রাজধানী করা হয় কলকাতাকে।

কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুরা বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতা করে এবং সহিংস আন্দোলন শুরু করে। সূত্রপাত ঘটে স্বদেশী আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর লর্ড হার্ডিঞ্জের সময়ে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে তার অভিষেক অনুষ্ঠানে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।
এতে করে ১৯১২ সালের ১ এপ্রিল পুনরায় দুই বাংলা একত্রিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
.
কোন ঘটনাটি সবার শেষে সংঘটিত হয়েছিলো?
  1. ক) ভারত ভাগ
  2. খ) র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ
  3. গ) ক্যাবিনেট মিশন
  4. ঘ) ক্রিপস মিশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন তৎকালীন বড়লাট মাউন্টব্যাটেন ভারত ভাগ পরিকল্পনা পেশ করেন। এই পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,

- ক্রিপস মিশন ভারতে এসেছিলো ১৯৪২ সালের ২৩শে মার্চ।
- ক্যবিনেট বা মন্ত্রীমিশন ভারতে এসেছিলো ১৯৪৬ সালের ২৩শে মার্চ।
- র‌্যডিক্লিফ কমিশন গঠিত হয় ১৯৪৭ সালের জুন মাসে।

(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১০.
কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কার্পাস বিদ্রোহ সংঘটিত করেছিলো?
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) মুন্ডা
  3. গ) চাকমা
  4. ঘ) হাজং
ব্যাখ্যা
১৭৭৬ সাল থেকে ১৭৮৭ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘটিত চাকমাদের বিদ্রোহ কার্পাস বিদ্রোহ নামে পরিচিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলার চাষ হতো এবং কর হিসেবে তারা মুঘল শাসকদের তুলা প্রদান করতো। কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পার্বত্য চট্টগ্রামের কার্পাস মহল বেনিয়াদের নিকট ইজারা প্রদান করে। এসব মধ্যস্বত্বভোগীরা কর হিসেবে অধিক পরিমাণ তুলা প্রদানে চাকমাদের বাধ্য করতো।

এতে করে চাকমারা রানু খাঁ, শের দৌলত ও জানবক্সের নেতৃত্বের ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। মোট চারবার চাকমা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
১৭৮৭ সালে চাকমা রাজা ও ইংরেজদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি ফলে কার্পাস বিদ্রোহের অবসান হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস : সিরাজুল ইসলাম এবং দৈনিক প্রথম আলো)
১১.
কোন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল হয়?
  1. ক) হান্টার কমিশন
  2. খ) ইন্ডিগো কমিশন
  3. গ) ফ্লাউড কমিশন
  4. ঘ) সায়মন কমিশন
ব্যাখ্যা
ভূমি রাজস্ব সংক্রান্ত সমস্যাবলির সংস্কারের লক্ষ্যে এ কে ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক সরকার ১৯৩৮ সালে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডকে প্রধান করে ফ্লাউড কমিশন গঠন করা হয়।

এই কমিশন ১৯৪০ সালের ২ মার্চ তার রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা তথা জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও ভূমির উপর কৃষকদের অধিকার পুনস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।

আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও ১৯৫০ সালের পূর্বে ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ১৯৫০ সালের পূর্ববঙ্গ জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা বাতিল হয়।

অন্যদিকে,

- নীল বিদ্রোহ প্রশমনে ১৮৬০ সালের ৩১শে মার্চ ডব্লিউ এস সিটনকারের নেতৃত্বে ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠিত হয়।
- হান্টার কমিশন বা ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশন গঠিত হয় ১৮৮২ সালে। এটি ছিলো আধুনিক ভারতের প্রথম শিক্ষা কমিশন। ১৮৫৪ সালের উডের শিক্ষা প্রস্তাবের সময় থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার পর্যালোচনা এবং পরবর্তী অগ্রগতি সাধনের জন্যে করণীয় নির্ধারণ করতে এই কমিশন গঠিত হয়। হান্টার কমিশনের সুপারিশমালায় প্রাথমিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়, যার কারণে উচ্চ শিক্ষা অবহেলিত হয়।
- ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করার উদ্দেশ্যে ১৯২৭ সালে স্যার জন সা্‌ইমনের নেতৃত্বে সাইমন কমিশন বা ইন্ডিয়ান স্ট্যাটুটরি কমিশন গঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১২.
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ কী নামে পরিচিত?
  1. ক) সত্তরের মন্বন্তর
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
  4. ঘ) তেতাল্লিশের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। বাংলা ১৩৫০ সালে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে পঞ্চাশের মন্বন্তর বলা হয়।

এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৩.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯০৬ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমিতির প্রথম সম্পাদক মনোনীত হন।

সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা ও সাহিত্যিক নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৪.
কোন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলা ভাগ হয়?
  1. ক) মেকলে কমিশন
  2. খ) সাইমন কমিশন
  3. গ) র‌্যাডক্লিফ কমিশন
  4. ঘ) মর্লি-মিন্টো কমিশন
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ৩রা জুন মাউন্টব্যাটেন তার ভারত বিভাগ পরিকল্পনা প্রকাশের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্যে ব্রিটিশ সরকার জুন মাসে স্যার সিরিল জন র‌্যাডক্লিফকে চেয়ারম্যান করে র‌্যাডক্লিফ কমিশন গঠন করে।
এই কমিশনের অধীন বেঙ্গল বাউন্ডারি কমিশন ও পাঞ্জাব বাউন্ডারি কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাডক্লিফ রোয়েদাদ প্রকাশ করা হয় যার ভিত্তিতে ভারত ভাগ হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৫.
খিলাফত আন্দোলনের যুগপৎ কোন আন্দোলনটি সংঘটিত হয়?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) ভারত ছাড় আন্দোলন
  4. ঘ) আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তির অধীনে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের খেলাফত অটোমান সাম্রাজ্যকে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলে এর বিরুদ্ধে ভারতীয়রা যে আন্দোলন গড়ে তোলে তা খেলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ খেলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

একই সময়ে (১৯২০ সালের ১ আগস্ট থেকে) চেমসফোর্ড-মন্টেগু সংস্কার আইন, রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড প্রভৃতি ইস্যুতে গান্ধীর ডাকে কংগ্রেসের নেতৃত্বে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয়। এই আন্দোলন ছিলো একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।

এ দুটি আন্দোলন তখন সমগ্র ভারতবর্ষে ব্যাপক সাড়া ফেলে। চৌরিচৌরা বিক্ষোভকারীদের দ্বরা ২৫ জন পুলিশ সদস্যদের পুড়িয়ে মারা হলে মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অসহযোগ আন্দোলন স্থগিত করে দেন। অন্যদিকে, ১৯২৪ সালে কামাল আতাতুর্ক তুরস্কের খেলাফত বিলুপ্ত করলে খেলাফত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৬.
সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) উইন্সটন চার্চিল
  2. খ) রামজে ম্যাকডোনাল্ড
  3. গ) অষ্টম এডওয়ার্ড
  4. ঘ) লর্ড ওয়াভেল
ব্যাখ্যা
ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কার বিষয়ক সাইমন কমিশনের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান এবং লন্ডনের গোলটেবিল আলোচনা (১৯৩১) ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৩২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষণা করেন।

এই সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদে ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্যে পৃথক নির্বাচনের কথা বলা হয়। মুসলিম লীগ এই রোয়েদাদ গ্রহণ করলেও কংগ্রেস এটি গ্রহণ করেনি। মহাত্মা গান্ধীর প্রবল বিরোধিতার কারণে এই রোয়েদাদ প্রত্যাহার করা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৭.
লাহোর প্রস্তাবে কতটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিলো?
  1. ক) একটি
  2. খ) দুইটি
  3. গ) তিনটি
  4. ঘ) একাধিক
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,

ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)