পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়05 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৭৭: বিষয়: বাংলা টপিক: প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগের সাহিত্যকর্ম উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
'শূন্যপুরাণ' কাব্যটি রচনা করেছেন-
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগের সাহিত্য 'শূন্যপুরাণ' এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত।

• শূন্যপুরাণ: 
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য। 
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে। 
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।  
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- বড়ু চণ্ডীদাস 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য রচনা করেছেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষার স্রষ্টা।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'কবিকণ্ঠহার' উপাধিটি কার?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র
  3. বিদ্যাপতি
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• ‘কবিকন্ঠহার’ উপাধি ছিলো মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির ।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন' ।
- ভারতচন্দ্রের উপাধি ছিল ‘রায়গুণাকর’।
----------------
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তাকে 'অভিনব জয়দেব' নামেও ডকা হয়।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে একটি পঙক্তি না লিখেও স্মরণীয় হয়ে আছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
মঙ্গলকাব্যসমূহের মূল বিষয়বস্তু কী?
  1. লোকসংগীত
  2. ধর্মবিষয়ক আখ্যান
  3. সমাজব্যবস্থার বর্ণনা
  4. পীর পাঁচালী
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মবিষয়ক আখ্যান
ব্যাখ্যা
• মঙ্গলকাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত।
- এগুলো খ্রিষ্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।
- বলা হয়ে থাকে, যে কাব্যে দেবতার আরাধনা, মাহাত্ম্য-কীর্তন করা হয়, যে কাব্য শ্রবণেও মঙ্গল হয় এবং বিপরীতটিতে হয় অমঙ্গল; যে কাব্য মঙ্গলাধার, এমন কি, যে কাব্য যার ঘরে রাখলেও মঙ্গল হয় তাকেই বলা হয় মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্য প্রধানত কাহিনিকেন্দ্রিক। মূল কাহিনির সঙ্গে দেবলীলা, ধর্মতত্ত্ব ও নানা ধরনের বর্ণনায় এসব কাব্য বিপুলায়তন লাভ করেছে। 
- বিভিন্ন দেবদেবীর গুণগান মঙ্গলকাব্যগুলোর উপজীব্য।
- তন্মধ্যে স্ত্রীদেবতাদের প্রাধান্যই বেশি এবং মনসা ও চণ্ডীই এদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম অনুসারে,
- লৌকিক দেবদেবীর কাহিনি অবলম্বনে রচিত মঙ্গলকাব্যগুলোতে.
- বন্দনা,
- গ্রন্থ রচনার কারণবর্ণনা,
- দেবখণ্ড ও
- নরখণ্ড বা মূলকাহিনি বর্ণনা। মোটামুটি এই চারটি অংশ থাকত।

কিন্তু,
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে,
একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।

- 'বারমাসী' ও 'চৌতিশা' জাতীয় কাব্যাংশ মঙ্গলকাব্যে স্থান লাভ করত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'কালকেতু' ও 'ফুল্লরা' কোন মঙ্গলকাব্যের প্রধান চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
 • 'কালকেতু ও ফুল্লরা' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে। 
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি সওদাগর, লহনা ও খুল্লনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: 
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
মৈমনসিংহ গীতিকার ভূমিকা লিখেন কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
  3. কেদারনাথ মজুমদার
  4. সৌরভ মজুমদার
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ড. দীনেশ্চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- পূর্ব-ময়মনসিংহ বর্তমান দুর্গাপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা অঞ্চলের প্রচলিত ও লোক্মুখে প্রচারিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
- দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের পান্ডিত্যপূর্ণ ভূমিকা লিখেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. ময়ূরভট্ট
  3. দ্বিজ মাধব
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 

- এই তিনটি খণ্ডেই দেবী দেবী অন্নদার বন্দনা রয়েছে।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়।
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'গোরক্ষ বিজয়' কাব্যটি কে রচনা করেছেন?
  1. শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শুকুর মুহাম্মদ
  4. গোবিন্দদাস
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• গোরক্ষবিজয়:
- গোরক্ষবিজয় কাব্যের রচনাকাল নিয়ে পন্ডিত মহলে বিতর্ক আছে।  
- শেখ ফয়জুল্লাহ ছাড়া কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাসের নাম ভণিতায় পাওয়া যায়।
- তবে ভণিতায় নামের সংখ্যাধিক্যের হিসেবে শেখ ফয়জুল্লাহকেই গোরক্ষবিজয়ের কবি হিসেবে মনে করা হয়, অন্যরা ছিলেন গায়ক। 
- ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সত্যপীরবিজয় (১৫৭৫), গোরক্ষবিজয় ও গাজীবিজয়।

• নাথসাহিত্য:
- নাথসাহিত্য  নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো গোরক্ষবিজয়। 
- নাথ সাহিত্যের প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- অন্যান্য কবি: শুকুর মুহাম্মদ,কবীন্দ্র, ভীমসেন ও শ্যামদাস প্রমূখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।
.
সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল শ্রীচৈতন্যের শ্রেষ্ঠ জীবনী গ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-মঙ্গল
  3. চৈতন্য-ভাগবত
  4. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম’।
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চৈতন্য-চরিতামৃত
ব্যাখ্যা
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।

• শ্রীচৈতন্য দেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৫৩৩ সালে পুরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র।
- তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা সাহিত্যের ১৫০০-১৭০০ সাল পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলা হয়।

- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- মুরারী দত্ত রচিত শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থ 'শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক প্রনয়োপাখ্যান কোনটি?
  1. লায়লী মজনু
  2. পদ্মাবতী
  3. নুরনামা
  4. ইউসুফ-জোলেখা
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- সগীর বাইবেল পড়েন নি।তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

• 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- দৌলত উজির বাহরাম খান রচিত অনুবাদ কাব্য ‘লায়লী মজনু’।
- ‘পদ্মাবতী’ কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- 'নুরনামা' রচনা করেছেন করেছেন আব্দুল হাকিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০.
রোসাঙ্গ রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন-
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. আলাওল
  3. দৌলত কাজী
  4. সৈয়দ সুলতান
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী:
- আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী।
- তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত।

• আরাকান/রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপোষকতায় আরাকান বা রোসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য 'পদ্মাবতী' ও 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার,
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।