উত্তর
ব্যাখ্যা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ডিপিএড (DPED) এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
৪৯তম বিসিএস ⎯ শিক্ষা [২২১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ডিপিএড (DPED) এবং অন্যান্য প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
মৌলিক শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত আমাদের দেশে ।
(বি এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর 2টি -
প্রাক-প্রাথমিক: প্রথম শ্রেণির আগে শিশুদের জন্য এটি একটি প্রারম্ভিক পর্যায় ।
প্রাথমিক: প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পরে শুরু হয়ে সাধারণত প্রথম থেকে চতুর্থ বা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রচলিত সি-ইন-এড কোর্সটিকে পরিবর্তন করে ২০১১ সালে ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) কোর্স চালু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
(প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষা, ডিপিএড, পেশাগত শিক্ষা, তথ্যপুস্তক)
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় উচ্চ ভর্তির হার অর্জন সত্ত্বেও, মানসম্পন্ন শিখনঅর্জন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে – এই অবস্থার জন্য কোনটি দায়ী - শ্রেণিকক্ষে মুখস্থ নির্ভর শিখন. শ্রেণীকক্ষে মুখস্থ নির্ভর শিখন বলতে এমন একটি শিক্ষাদান পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে শিক্ষার্থীরা তথ্য মনে রাখার জন্য মুখস্থ বিদ্যার ওপর বেশি নির্ভর করে, যা জ্ঞানকে শুধু ধারণ করে, কিন্তু গভীরভাবে অনুধাবন বা প্রয়োগ করতে শেখায় না। এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ কমায় এবং চাপ তৈরি করে, তাই আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থ নির্ভরতার চেয়ে অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক এবং অনুসন্ধিৎসু শিখনকে উৎসাহিত করা হয়।
(শিক্ষক বাতায়ন)
সাধারণত ১৫-২০টি বিদ্যালয় নিয়ে একটি ক্লাস্টার গঠন করা হয়। প্রতিটি ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকেন একজন করে এইউইও।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)
NAPE এর প্রধান হলেন Director General (মহাপরিচালক)
(বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
২০০৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে একাডেমী স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
(nape.gov.bd)
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 29টি.
(জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০)
বৌদ্ধ ধর্মের আবির্ভাব শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। বৌদ্ধ মতবাদের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল বৌদ্ধ শিক্ষা ব্যবস্থা। বৌদ্ধ শিক্ষার কেন্দ্র ছিল সঙ্ঘারাম। সঙ্ঘারামগুলো বে․দ্ধবিহার হিসেবেও খ্যাত ছিল। এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ক্সবশ্য, শূদ্র সকলের জন্য শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত ছিল। এর ফলে সঙ্ঘারামগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায় এবং এগুলো বৃহৎ আকারের শিক্ষায়তনে পরিণত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনা উল্লিখিত সঙ্ঘারামজাতীয় বৃহদাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষা কাঠামো তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত যেমন (১) প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (২) মাধ্যমিক যার মধ্যে রয়েছে (ক) নিম্ন মাধ্যমিক (খ) মাধ্যমিক ও (গ) উচ্চ মাধ্যমিক এবং (৩) উচ্চ শিক্ষা যার মধ্যে রয়েছে (ক) স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) (খ) মাষ্টার, (গ) এমফিল ও পিএইচডি। উচ্চশিক্ষায় স্নাতক হচ্ছে সর্বনিম্ন স্তর।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা - আব্দুল মালেক, মরিয়ম বেগম, ফখরুল ইসলাম ও শেখ শাহবাজ রিয়াদ)
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সফলভাবে সমাপ্ত করার পর মেধা, আগ্রহ ও প্রবণতার ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে সকল শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষা বলা হয়ে থাকে। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হবে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
(প্রারম্ভিক শিক্ষাবিজ্ঞান, মোঃ মুজিবুর রহমান)
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এবং কৌশল নিচে দেয়া হলো-
- কার্যকরভাবে বিশ্বমানের শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা জাগানো এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা দান।
- অবাধ বুদ্ধিচর্চা, মননশীলতা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে সহায়তা দান করা।
- পাঠদান পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতাকে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, রাষ্ট্র ও সমাজের সমস্যা শনাক্ত করা ও সমাধান বের করা।
- নিরলস জ্ঞানচর্চা ও নিত্যনতুন বহুমুখী মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার ভেতর দিয়ে জ্ঞানের দিগন্তের ক্রমসম্প্রসারণ।
- আধুনিক ও দ্রুত অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে কার্যকর পরিচিতি ঘটানো।
- জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী বিজ্ঞানমনষ্ক, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী, প্রগতিশীল ও দূরদর্শী নাগরিক সৃষ্টি।
- জ্ঞান চর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী হতে জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি।
- মেধার বিকাশ এবং সৃজনশীল নতুন নতুন পথ ও পদ্ধতির উদ্ধাবন।
- জ্ঞান সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক সৃষ্টি।
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি।)
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন পাশ হয় ১৯৯০ সালে। এই আইনটি 'প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলক করণ) আইন, ১৯৯০' নামে পরিচিত এবং ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। পরে, এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি ৬৮টি উপজেলায় বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় এবং ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটি দেশব্যাপী চালু করা হয়।
(বাংলার প্রাথমিক শিক্ষার ৪০০ বছর – রহমান চৌধুরী)
১৯৯০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলক) আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ (পিএমইডি) নামে একটি আলাদা বিভাগও প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৩ সালে সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়।
(বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার অধিকারসমূহ, অ্যাকশন এইড)
অনুচ্ছেদ ২৮ (৩): ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না.
(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ)
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 10টি.
(জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০)
বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গবেষণা ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, নতুন জ্ঞান তৈরি করে যা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবনের দিকে পরিচালিত করে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইনকিউবেটর, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পের সাথে সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্যোক্তাকে সমর্থন করে যাতে বাজারে নতুন ধারণা আনা যায়।
(শিক্ষা এবং উন্নয়ন, প্রফেসর সুফিয়া বেগম)
১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর মঞ্জুরী কমিশনের কর্তৃত্ব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সনদপত্র অর্জনের শর্তাবলি পূরণ করার সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রদান করলেই সেইক্ষেত্রে সংশি ষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার সনদ বা অনুমতি সরকার থেকে লাভ করে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক দ্বারা তদন্তের ভিত্তিতে চ্যান্সেলার প্রয়োজনবোধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাতিল করতে পারেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ পরিদর্শন ও এগুলোর কাজ পরিবীক্ষণ করার ক্ষমতা মঞ্জুরী কমিশনের রয়েছে।
(উচ্চশিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় )
শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ধরায় গমন করবে নয়তো অর্জিত বৃত্তিমূলক শিক্ষার মাধ্যমে জীবিকার্জনের পথে যাবে।
(শিক্ষা শিখন শিক্ষণ প্রশিক্ষণ - আবু হামিদ লতিফ)
(জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০)
Explanation: The current policy mandates:
- English writing and speaking instruction from primary level
- English as compulsory across all educational streams at secondary level
- Option for English medium instruction from secondary level onwards
- English alongside Bengali as medium of instruction at tertiary level
(B. Ed. School of Education, Bangladesh Open University)
এক নজরে নেপ এর কার্যাবলি :
o প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে বার্ষিক প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
o প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য গবেষণা পরিচালনা।
o প্রাথমিক শিক্ষার নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশেন / বুনিয়াদি/ ইনডাকশন প্রশিক্ষণসহ পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নমূলক স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন (ফেস টু ফেস / অনলাইন) প্রশিক্ষণ আয়োজন করা।
o প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলাম প্রণয়ন এবং সে লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ সামগ্রীর উন্নয়ন ও বিস্তরণ ঘটানো এবং পিটিআই পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পরিমার্জিত ডিপিএড (প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য মৌলিক প্রশিক্ষণ-বিটিপিটি) মূল্যায়নপূর্বক সনদ প্রদান করা।
o প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের শিক্ষাক্রম এর উন্নয়ন/পরিমার্জনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান।
o প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার, সভা, ওয়ার্কশপ, সম্মেলন এর আয়োজন ও অংশগ্রহণ করা।
o প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ ইউনিট, এনসিটিবি, পিটিআই ও ইউআরসি এর বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা।
(nape.gov.bd)
শিশুর সুষ্ঠু বিকাশের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচীর প্রণয়ন কমিটি নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো প্রাথমিক শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত করেছেনاد মাতৃভাষা ২। গণিত ৩। পরিবেশ পরিচিতি 8 ধর্ম-শিক্ষা ৫। শারীরিক শিক্ষা ৬।চারু ও কারুকলা, ৭। সংগীত ৮।ইংরেজী ৯। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
(B. Ed. School of Education, Bangladesh Open University)
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নানা সংকটের মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, মানসম্মত গবেষণার অভাব, প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষক নিয়োগ, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, মেধা পাচার, মানহীন বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাখাতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা।
(শিক্ষক বাতায়ন)
উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরূপ: (শিক্ষানীতি-২০১০)
- কার্যকরভাবে বিশ্বমানের শিক্ষাদান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা জাগানো এবং মানবিক গুণাবলি অর্জনে
সহায়তা দান।
- অবাধ বুদ্ধিচর্চা, মননশীলতা ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে সহায়তাদান করা।
- পাঠদান পদ্ধতিতে সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে দেশের বাস্তবতাকে উচ্চশিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা, রাষ্ট্র ও সমাজের
সমস্যা সনাক্ত করা ও সমাধান বের করা।
- নিরলস জ্ঞানচর্চা ও নিত্য নতুন বহুমুখী মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার ভেতর দিয়ে জ্ঞানের দিগন্তের
ক্রমসম্প্রসারণ।
- আধুনিক ও দ্রুত অগ্রসরমান বিশ্বেও মধ্যে কার্যকর পরিচিতি ঘটানো।
- জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্বদানের উপযোগী বিজ্ঞানমনষ্ক, অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, মানবমুখী,
প্রগতিশীল ও দূরদর্শী নাগরিক সৃষ্টি।
- জ্ঞান চর্চা, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী হতে জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি।
- মেধার বিকাশ এবং সৃজনশীল নতুন নতুন পথ ও পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- জ্ঞান সৃজনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক সৃষ্টি করা।
(শিক্ষানীতি-২০১০)
নব্য স্বাধীন দেশের সরকার বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পূনর্গঠনের জন্য ১৯৭২ সালে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই-খুদার নেতৃত্বে দেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন নিয়োগ করেন। কমিশন প্রস্তাব করেন যে, দেশের জনগণকে জাতীয় কর্মে ও উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার যোগ্য করে তোলার জন্য একটি সার্বজনীন শিক্ষা পদ্ধতি গড়ে তুলতে হবে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একটি জাতীয় শিক্ষানীতি রয়েছে, যা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ নামে পরিচিত। এই শিক্ষানীতি ২০১০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং এটি দেশে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছিল।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য
· লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: এই নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো এমন নাগরিক তৈরি করা যারা মননশীল, যুক্তিবাদী, নীতিবান, দেশপ্রেমিক এবং কুসংস্কারমুক্ত হবে।
· প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ: এই শিক্ষানীতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছিল, যদিও এটি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
· গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র: শিক্ষায় প্রবেশাধিকার এবং সমতা বৃদ্ধি করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
অতীতে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন গঠিত হলেও, ২০০৯ সালের «কবির চৌধুরী শিক্ষা কমিশন» একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ছিল যা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নে সহায়তা করেছিল।
(এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশের বর্তমান প্রচলিত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মূল প্রোগ্রামসমূহ প্রাথমিকভাবে চারটি পর্যায়ে বিভক্ত।
যথা:
১. মাধ্যমিক পর্যায়
ক. জাতীয় আদর্শ মানের দক্ষতা;
খ. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সনদ পর্যায়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা।
২. উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়
(ক) একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি:
- এইচএসসি ভোকেশনাল;
- এইচএসসি ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা।
(খ) ডিপ্লোমা ইন কমার্স
এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক সমপর্যায়ে দু’বছর মেয়াদি আরো দুটি কোর্স রয়েছে। যথা:
- সার্টিফিকেট ইন ভোকেশনাল এডুকেশন
- ডিপ্লোমা ইন ভোকেশনাল এডুকেশন
৩. (ক) ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পর্যায়:
- আমিনশীপ
- জরিপ চূড়ান্ত
- ডিপ্লোমা জরিপ
(খ) ডিপ্লোমা:
১. কৃষি
২. সিরামিকস
৩. গ্লাস
৪. টেক্সটাইল
৫. প্রিন্টিং
৪. (ক) উচ্চ শিক্ষা: ১. ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্স চার বছর মেয়াদি:
- প্রকৌশল
- কৃষি
- লেদার
- টেক্সটাইল
২. মাস্টার ডিগ্রি কোর্সের মেয়াদ আরও এক বছর
(খ) উচ্চ শিক্ষা: ১. ডিপ্লোমা প্রকৌশল সনদধারীদের জন্য চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি কোর্স;
২. ডিপ্লোমা প্রকৌশল সনদধারীদের জন্য আরও রয়েছে শিক্ষা বিষয়ক কোর্স।
- ডিপ্লোমা কারিগরি শিক্ষা কোর্স আরও এক বছর;
- ডিপ্লোমা প্রকৌশলের বিএসসি কারিগরি শিক্ষা বিষয় আরো দুই বছর।
- বিএসসি কারিগরি শিক্ষা ডিগ্রিধারীর জন্য ¯ তকোত্তর কারিগরি শিক্ষা বিষয় আরও এক বছর।
(শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, অধ্যক্ষ ফাতেমা খাতুন)
বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় আওতাভুক্ত কলেজ শিক্ষাকেই নির্দেশ করে। মোটামুটিভাবে উচ্চ শিক্ষা বলতে যা বোঝায় তা হচ্ছে- ১। সাধারণ শিক্ষা- (আর্টস, সায়েন্স ও কমার্স) ২। টেকনিক্যাল এডুকেশন- (এগ্রিকালচার, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিসিন ও হাইয়ার টেকনোলজি) ৩। প্রফেশনাল এডুকেশন- (টিচার এডুকেশন, মিউজিক, ফাইন আর্টস ও ল) ৪। মাদ্রাসা এডুকেশন ও ৫। স্পেশাল এডুকেশন।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষায় আর্থিক ব্যবস্থাপনার রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদনের পর নির্বাহী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।বর্তমান শিক্ষার ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার অর্থ ও সম্পদ মূলত দুটিই প্রদান করে থাকে।
(বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, হোসনে আরা শাহেদ সম্পাদিত)
শুরুতে এ উপমহাদেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ বলতে শিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষাদান না বুঝিয়ে বরং সাধারণ বিষয় যেমন বীজগণিত, জ্যামিত, জ্যোতিবিদ্যঅ ও ইতিহাস জ্ঞান লাভ বুঝাত। কিন্তু ১৮৫৪ সালের উডের ডেসপ্যাচেই সর্ব প্রথম শিক্ষক প্রশিক্ষণের উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, এতে বলা হয় শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রত্যেক প্রেসিডিনসীতে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা নর্মাল বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের সুপারিশ করা হয়, এবং আরও বলা হয় যে চাকুরীরত শিক্ষকগণ যাতে উপবৃত্তি নিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতনদানেরও সুপারিশ করা হয়। (এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৯৫০ সাল পর্যন্ত (পূর্ব পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশ) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৈরির জন্য দু'প্রকারের শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ছিল যথা- প্রাইমারী ট্রেনিং স্কুল ও প্রাইমারী ট্রেনিং সেন্টার। এদের আগে বলা হতো গুরু ট্রেনিং স্কুল এবং মোয়াল্লেম ট্রেনিং স্কুল। এ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল নিম্নমানের/ভর্তির যোগ্যতা ছিল মধ্য-বাংলা পাস।
(এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
পি.টি.আই গুলোর প্রতিষ্ঠা লগ্নে এর দ্বিমুখী উদ্দেশ্য ছিল- (১) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নত মানের শিক্ষক তৈরি করা (২) প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকেরা যেন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে স্বাধীন দেশের জন্য উপযুক্ত ছাত্র তৈরি করতে পারেন সেদিকে লক্ষ্য করা।
(এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
বাংলাদেশে মোট সরকারি পিটিআই বা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর সংখ্যা ৬৭ টি, যা ১৯৫১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে স্থাপিত হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পিটিআই (PTI) বলতে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বোঝানো হয় এবং এগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য হলো:
· প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য: এই ইনস্টিটিউটগুলো মূলত প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য স্থাপন করা হয়েছে।
· প্রশিক্ষণ কার্যক্রম: বর্তমানে এখানে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) নামক একটি দেড় বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স চালু আছে।
· গুরুত্ব: প্রাথমিক শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার মান উন্নত করতে পিটিআই একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান.
(শিক্ষক বাতায়ন)
কর্মসহায়ক গবেষণার আরো কিছু ক্সবশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। যেমনÑ
- কর্মসহায়ক গবেষণা এক ধরনের আত্মপ্রতিফলনমূলক অনুসন্ধান।
- এটি ব্যবহারকারী বা অংশগ্রহণকারী সুবিধাভোগীদের দ্বারা গৃহীত হয়।
- এ গবেষণা সাধারণত স্বীয় পেশাগত, শিক্ষাগত, সামাজিক কার্য বা চর্চার উন্নয়ন অথবা স্বীয় দুর্বলতা উন্নয়নে
পরিচালিত হয়।
- এটি এক ধরনের সহযোগিতাপূর্ণ গবেষণা তাই নতুন গবেষকবৃন্দ স্বীয় সমস্যা সমাধানে বিশেষজ্ঞ গবেষকদের কাছ কাছ থেকে সহযোগিতা লাভ করতে পারেন।
- কর্মসহায়ক গবেষণার জন্য কোনো স্বত:সিদ্ধ একক সাধারণ পদ্ধতি নেই। তাই এখানে বিভিন্ন প্রকার পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় এবং তথ্য সংগ্রহের অংশ উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।পদ্ধতিগতভাবে কর্মসহায়ক গবেষণায় একই সাথে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয় ও অনুসরণ করা সম্ভব। গবেষক এ বিষয়ে স¤পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন।
- এটি যুক্তি নির্ভর এবং গণতান্ত্রিক পš
া অবলম্বনে পরিচালিত হয়।
- এটি গবেষকদের প্রতিদিন যে সমন্ত পেশাগত কার্যক্রম সমাধা করেন, তার নিয়মতান্ত্রিক কার্যকারিতা যাচাই বা পরীক্ষা নিরীক্ষাকরণে সহায়তা করে।
- শিক্ষায় কর্মসহায়ক গবেষণার মূল আলোকপাত করা হয় শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের উপর। এর মূল লক্ষ হচ্ছে স¤পৃক্তকরণ এবং শিক্ষাগত ভিত্তি হচ্ছে গুণগত মানোন্নয়ন।
(Robson, C. (1993). Resal World Research, Oxford, Blackwell.)
শিক্ষা গবেষণা সাধারণত কোনো সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে করা হয়। এক্ষেত্রে প্রাথমিক উৎস
থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বা প্রচলিত তথ্যকে নতুনভাবে যাচাই করা হয়। পর্যবেক্ষণযোগ্য ঘটনা বা বাস্তবসম্মত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা হয়। গবেষণা সুসম্পন্ন করার জন্য সঠিক পর্যবেক্ষণ ও বর্ণনা প্রয়োজন। শিক্ষা গবেষণায় সতর্কভাবে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়ে গবেষণা পদ্ধতি নির্ণয় ও তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফল সাধারণীকরণ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় যেন পরবর্তীতে তা অনুমান বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
(Bryman, A. (2004). Social Research Method (2ndEds), Oxford, University Press.)
সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাবিদ ও মনোবিজ্ঞানীগণ আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। এভাবেই সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যেকোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া ও নতুন জ্ঞানের সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা গবেষণা বিশ্বস্তরূপে আবির্ভুত হয়েছে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা করার উদ্দেশ্য হলো শিখন-শেখানো কার্যক্রমের জন্য নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি ও এর মাধ্যমে শিক্ষা অনুশীলনের মানোন্নয়ন করা।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, ইউজিসি)
the duration of a DPED (Diploma in Primary Education) program in Bangladesh was 18 months. This program was divided into four terms.
Program structure in Bangladesh:
· Terms 1–3: Involves 36 weeks of training at a Primary Training Institute (PTI). This includes both theoretical coursework and 16 weeks of practical experience in a training school.
· Term 4: The final term is conducted at the trainee's own school after they complete the exams for the first three terms.
(The Daily News)
বিটিপিটি (BTPT)আসলে কী:
[Basic Training For Primary Teacher ]
- স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের জন্য ১ বছর মেয়াদী ট্রেনিং চালু ছিল " সি-ইন-এড " নামে।যার পূর্ণ রুপ সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন।
- অবশ্য প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক না হয়েও তখন সিইনএড ট্রেনিং গ্রহণ করা যেত।
- প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকদের জন্য সিইনএড ট্রেনিং এর পরিবর্তে ২০১০ সালে ডিপিএড নামে আঠারো মাসের কোর্স চালু হয়।একই সাথে এর সমমান ১৮ মাসের সি.এড কোর্স উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ও চালু হয়। যার ১২ মাস PTI তে পড়ানো হতো শিখন বিজ্ঞান আর ৬ মাস নিজ বিদ্যালয়ে চলত প্রাকটিস টিচিং।
- ২০২৩ সালে বাংলাদেশের ১৫টি PTIতে পাইলটিং হিসেবে চালু হয়েছে ১০ মাসের পরিমার্জিত ডিপিএড প্রশিক্ষণ (বিটিপিটি)
(শিক্ষক বাতায়ন)
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ভাইস চ্যান্সেলরের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ও অধিভুক্ত কলেজের সার্বিক কাজ তত্ত্বাবধান করার দায়িত্ব ভাইস চ্যান্সেলরের রয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সরকারের যোগসূত্র হিসাবে কাজ করেন। তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রমের সাথে পরিচিত এবং সব কাজের সাম্প্রতিক খবর রাখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের সাথে সংশি ষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সংস্থার কাজের সমন্বয় সাধন করেন। সার্বিকভাবে বলা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে তিনি সর্বোত্তম ক্ষমতার অধিকারী সমাজের দৃষ্টিতেও ভাইস চ্যান্সেলর একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসাবে পরিচিত। তিনি বৃহত্তর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও ভাবমূর্তি তুলে ধরেন।
(Educational Administratiopn and Management in Bangladesh, M.Ed Program, Bangladesh Open University)
উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য হবে জ্ঞান সঞ্চারণ ও নতুন জ্ঞানের উদ্ভাবন এবং সেই সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোর জন্য স্বশাসন ব্যবস্থা অপরিহার্য। তবে তা যথানিয়মে নির্ধারিত নীতিমালার আওতায় বাস্তবায়িত হবে এবং সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ প্রস্তাবিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে সরকারি তদারকির ব্যবস্থা থাকবে। বর্তমানে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান সাধনায় নিযুক্ত বিশেষজ্ঞগণ আপন বিষয়ে গভীরতা অর্জনের প্রয়োজনে তাঁদের সাধনার ক্ষেত্রকে ক্রমাগত সঙ্কুচিত করছেন, ফলে জ্ঞানের জগতে বিভাজন ঘটছে। অন্যদিকে একটি বিপরীত প্রক্রিয়াও চলছে অর্থাৎ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার পারস্পরিক নির্ভরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজ বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্প, অর্থনীতি ও অন্যান্য বিষয় পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
(শিক্ষা ও উন্নয়নঃ উন্নয়নশীল দেশের প্রতিশ্রুতি, মোঃ দেলোয়ার হোসেন শেখ)
১৯৭৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির ১০ নম্বর আদেশ দ্বারা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।
(৪৭তম বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২০, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন)
বাংলাদেশে মূলত দুই ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কার্যক্রমভিত্তিক উচ্চশিক্ষা দেওয়া হয়। এগুলো হচ্ছে -(ক) বিশ্ববিদ্যালয় (খ) কলেজ।
(শিক্ষাবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে শিক্ষা, ডঃ আব্দুল মালেক ও অন্যান্য)
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় তিনভাগে বিভক্ত
১. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়;
২. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়;
৩. আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়।
(শিক্ষা প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, অধ্যক্ষ ফাতেমা খাতুন)
বর্তমানে বাংলাদেশে গবেষণামূলক উচ্চশিক্ষার স্তর হচ্ছে এমফিল ও পিএইচডি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেড় বছর মেয়াদি এমএএস ডিগ্রি চালু আছে, যা সম্পূর্ণ করলে এমফিল না করেই পিএইচডিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে ২ বছর মেয়াদি (সর্বোচ্চ ৩ বছর) এমফিল ডিগ্রি এবং ৩ বছর মেয়াদি (সর্বোচ্চ ৫ বছর) মেয়াদি পিএইচডি কোর্স চালু আছে। এসব ডিগ্রি দেশ ও দেশের বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও অর্জন করা যেতে পারে।
(শিক্ষক বাতায়ন)
পিএইচডি প্রোগ্রাম ভর্তির শিক্ষাগত ও অন্যান্য যোগ্যতা
ক) এমফিল পাস অথবা
খ) ৪ (চার) বছর মেয়াদি স্নাতক/স্নাতক সম্মান ডিগ্রি এবং ১ (এক) বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি।
(শিক্ষক বাতায়ন)
শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণা হলো কার্যকরী শিক্ষণ-শিখনের জন্য নতুন জ্ঞান সৃষ্টির হাতিয়ার। বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সম্যক ধারণালাভ ও তার সমাধানের উপায়। গবেষণার মাধ্যমে মিথ্যাকে মিথ্যা ও সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। শিক্ষা অনুশীলনের উন্নয়নে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। নতুন জ্ঞানের সাথে পুরাতন জ্ঞানের অসামঞ্জস্যতা নির্ণয়, জ্ঞানের সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধি করার মাধ্যম হলো শিক্ষা গবেষণা।
(শিক্কাগ গবেষণা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:
শিক্ষার্থীর শিখন: কোন পদ্ধতি বা কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারে সে ব্যাপারে দিক নির্দেশনা পাওয়া যায়।
শিক্ষকের শিক্ষণ পদ্ধতি নির্বাচন: শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের পথ সুগম করার জন্য কোন শিক্ষণ পদ্ধতি সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে তার বিশদ ধারণা লাভ করা যায়।
প্রেষণা: কিভাবে শিক্ষার্থীদের নতুন জ্ঞানের প্রতি আগ্রহী করা যায় ও প্রেষণা দেয়া সম্ভব যা শিক্ষার্থীকে একজন পরিপূর্ণ মানুষরূপে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।
শিক্ষার্থীর বিকাশ: শিক্ষার্থীর পরিণমন ও তার জ্ঞানগত, সামাজিক ও আবেগিক দক্ষতার বিকাশ কিভাবে শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের সাথে সম্পর্কিত এবং শিক্ষার্থীর বিকাশে ভূমিকা পালন করে তা জানা যায়।
শ্রেণীকক্ষ ব্যবস্থাপনা: কি কি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ফলপ্রসূ শ্রেণী ব্যবস্থাপনা সম্ভব সে ব্যাপারে জ্ঞানলাভ করা যায়।
এক কথায় বলা যায়, শিক্ষা গবেষণা হলো শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত সুপরিকল্পিত উপায়ে
সংগৃহিত তথ্য ও এর যথাযথ বিশ্লেষণ।
(স্কুল অব এডুকেশন, এম এড, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
শিক্ষা গবেষণা কাজ পরিচালনা করার জন্য যে সমস্ত পদক্ষেপ নিতে হবে তা হল-
- সমস্যা চিহ্নিত করা। [উদাহরণ: ২০১৭ সালে নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের জন্য যে পদার্থ বিজ্ঞান বইটি রচিত হয়েছে তা শ্রেণিকক্ষে পড়াতে গ্রামাঞ্চলের বিজ্ঞান শিক্ষকদের অসুবিধা হচ্ছে।]
-এই সমস্যাটিকে সংজ্ঞায়িত করতে হবে গবেষককে। [উদাহরণ: গ্রামাঞ্চলের বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষকগণ নবম-দশম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান বইটি শ্রেণিকক্ষে পড়াতে অসুবিধাবোধ করছেন।]
-গবেষণা সংশ্লিষ্ট সাহিত্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে গবেষকের এরপরের পদক্ষেপ হল তিনি একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। [উদাহরণ: গ্রামাঞ্চলের বিজ্ঞান শিক্ষকদের পদার্থ বিজ্ঞানের স্নাতক ডিগ্রি না থাকার কারণে তারা বইটি পড়াতে পারছেন না।]
- এই সিদ্ধান্তটি গবেষককে উপযুক্ত পরীক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। সুতরাং তাকে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্তহাতিয়ার শনাক্ত করতে হবে। উপরের সমস্যাটি অনুমিত সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে কোন স্থির ব্যাখ্যা পেতে হলে গবেষক হিসেবে আমরা সরাসরি সাক্ষাৎকার, প্রশ্নমালা, ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারি।
- এরপর তথ্য বিশ্লেষণ করে যে সংক্ষিপ্ত রূপ পওয়া যাবে তার সাহায্যে অনুমিত সিদ্ধান্তটি আমাদের যাচাই করে দেখতে হবে। উপরোক্ত সমস্যাটির ক্ষেত্রে দেখতে হবে ফলাফল যা পেলাম তা কি সমর্থন করে যে গ্রামীণ বিজ্ঞান শিক্ষকদের পদার্থ বিজ্ঞান বইটি পড়াতে সত্যিকার অর্থে অসুবিধা হচ্ছে? যদি স্বচ্ছভাবে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হয় তাহলে আমাদেও অনুমিত সিদ্ধান্ত পরিমার্জন করতে হবে বা পাল্টাতে হবে এবং পরিমার্জিত hypothesis এর আলোকে নতুন করে আবার তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে হবে।
Saunders, M. N.K., Lewis, P. and Thornhill, A. (2000), Research Methods for Business Students, Prentice Hall, England
আধুনিক শিক্ষা গবেষণায় ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে কর্মসহায়ক গবেষণা। শিক্ষা গবেষণা কার্যক্রমে কর্মসহায়ক গবেষণা একটি নতুন ক্সবজ্ঞানিক ও প্রয়োগিক পদ্ধতি। এই পদ্ধতির গবেষণা শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন ধারা সংযোজন করেছে। প্রথম থেকেই এই গবেষণা পদ্ধতি বাস্তব জগতের প্রয়োজন ও সমস্যা নিয়ে গবেষণা করেছে এবং ঐ সব সমস্যা সমাধানের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় অতিদ্রুত তা জনপ্রিয় হয়ে উঠে।কর্মসহায়ক গবেষণার দুটি উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্যার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে সহায়তা করা। আর তাই সমাজের পরিবর্তনের জন্য নতুন পথের সন্ধান কর্মসহায়ক গবেষণা দিয়ে থাকে।
(Robson, C. (1993). Resal World Research, Oxford, Blackwell.)