পরীক্ষা আর্কাইভ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

পরীক্ষাবাংলাবিদ (ব্যাকরণ)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes১২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৯: উপসর্গ ও ধাতু [Live Interactive Class - 17 (2 Part)]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ)

বাংলাবিদ (ব্যাকরণ) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
উপসর্গের বিপরীত প্রক্রিয়া কোনটি?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিভক্তি
  3. গ) প্রত্যয়
  4. ঘ) পরসর্গ 
ব্যাখ্যা
উপসর্গ:
১. উপসর্গকে ইংরেজিতে 'Prefix’ বলে।   
২. উপসর্গ কোনো ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে অর্থের পরিবর্তন, সংকোচন, সম্প্রসারণ ও নতুন শব্দ তৈরি করে।
যেমন : ‘মান’ শব্দের পূর্বে যদি অভি, অনু, প্র, পরি, অপ যোগ করা হয তবে যথাক্রমে অভিমান, অনুমান, প্রমাণ, পরিমান, অপমান শব্দ তৈরি হয়েছে।   

প্রত্যয়:
 ১. প্রত্যয়কে ইংরেজিতে ‘Suffix’ বলে।
 ২. প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের পরে বসে শুধু নতুন শব্দ গঠন করে। যেমন : ‘কর্’ ও ’হাত’ শব্দ দুটির পরে যদি ‘আ’ শব্দাংশ যোগ করা হয় তবে যথাক্রমে করা ও হাতা নামে দুটি নতুন শব্দ তৈরি হয়।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
.
উপসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি ঠিক নয়?
  1. ক) উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  2. খ) উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন করে।
  3. গ) উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
  4. ঘ) উপসর্গ অর্থতত্ত্বে আলোচিত হয়।
ব্যাখ্যা
উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্ত অর্থদ্যোতকতা আছে। অথার্ৎ কোনো শব্দ বা পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এরা সংযুক্ত শব্দ বা পদের অর্থের নানারকম পরিবর্তন ঘটায়। নিচে উপসর্গের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো : 

- উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ নেই।
- উপসর্গ নতুন অর্থবোধক শব্দ তৈরি করে।
- উপসর্গ বদ্ধরূপমূল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- উপসর্গ অর্থের সংকোচন, অর্থ পরিবর্তন, অর্থের প্রসার ঘটায়।
- উপসর্গ নামবাচক ও কৃদন্ত শব্দের পূর্বে বসে।
- উপসর্গ রূপতত্ত্বের আলোচিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
.
‘আগাছা’ শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) সংস্কৃত
  3. গ) ফারসি
  4. ঘ) আরবি
ব্যাখ্যা
বাংলা উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে। যেহেতু আ সু বি নি - এই চারটি বাংলা ও সংস্কৃত দুটোতে আছে সেহেতু মূল শব্দের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এখানে ‘গাছা’ মূল শব্দটি বাংলা। তাই উপসর্গও বাংলা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আরও উদাহরণ :
'আ' না অর্থে - আকাড়া, আলুনি, আচালা, আঁছাকা, আঢাকা
'আ' নিকৃষ্ট অর্থে - আকাঠ, আগাছা, আকথা, আকাল, আঘাটা

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
‘উনপাঁজুরে’ শব্দের ‘উন’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) দুর্বল
  2. খ) কম
  3. গ) হীন
  4. ঘ) নীচ
ব্যাখ্যা
এটি বাংলা উপসর্গ। 
'উন' কম অর্থে - উনিশ, উনবর্ষা, উনপাঁজুরে

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
‘রামছাগল’ শব্দের ‘রাম’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) উৎকৃষ্ট
  2. খ) নিকৃষ্ট
  3. গ) বড়ো
  4. ঘ) ইতর
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

রাম বাংলা উপসর্গ। 
রাম বড়/উৎকৃষ্ট অর্থে  ব্যবহৃত হয়। 
উদাহরণ: রামছাগল, রামশিঙ্গা, রামদা, রামবোকা।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 

.
বিফল শব্দটি কোন উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) বাংলা
  2. খ) তৎসম
  3. গ) আরবি
  4. ঘ) ফারসি
ব্যাখ্যা
তৎসম উপসর্গযোগে গঠিত হয়েছে।
যেহেতু আ সু বি নি - এই চারটি বাংলা ও সংস্কৃত দুটোতে আছে সেহেতু মূল শব্দের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এখানে ‘ফল’ মূল শব্দটি তৎসম। তাই উপসর্গও তৎসম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
নিমরাজি শব্দটি নিম কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) না
  2. খ) কম
  3. গ) অর্ধ
  4. ঘ) বিরক্তি
ব্যাখ্যা
এটি ফারসি উপসর্গ। এটি অর্ধ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
'নিম' অর্ধেক অর্থে - নিমরাজি, নিমমোলাস্ন

উৎস : ভাষা—শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম—দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
কোন চারটি উপসর্গ বাংলা ও তৎসমে আছে?
  1. ক) আ, সু, বি, ব
  2. খ) আ, সু, বি, বে
  3. গ) সু, বি, নি, আ
  4. ঘ) সু, বি, নি, অ
ব্যাখ্যা
চারটি উপসর্গ তৎসম ও বাংলা উভয় ক্ষেত্রেই আছে। যেমন : আ, সু, বি, নি 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
.
ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে যে পদ সৃষ্টি করে তাকে কী বলে?
  1. ক) নাম পদ
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষ্য
  3. গ) ক্রিয়া পদ
  4. ঘ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ শব্দ গঠিত হয়।
ধাতুর সঙ্গে ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১০.
ধাতু কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
প্রকৃতি ও উৎপত্তি বিচারে বাংলা ধাতুসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
১। মৌলিক বা সিদ্ধ ধাতু 
২। সাধিত ধাতু 
৩। যৌগিক বা সংযোগমূলক ধাতু

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১১.
বিদেশি ধাতুগুলো প্রধানত কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) হিন্দি
ব্যাখ্যা
প্রধানত হিন্দি, কখনও আরবি ও ফারসি ভাষা থেকে বিদেশি ধাতু বাংলা ভাষায় এসেছে। 
যেমন : ভিক্ষে মেগে খায়। 
এ বাক্যে ‘মাগ্’ ধাতু হিন্দি ‘মাঙ্’ থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১২.
‘বিগড়্’ ধাতু কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নষ্ট হওয়া
  2. খ) ছিন্ন করা
  3. গ) ভিন্ন করা
  4. ঘ) ভীত হওয়া
ব্যাখ্যা
বিদেশি ধাতুগুলো যে অর্থে ব্যবহৃত হয় :
ধাতু     -  যে অর্থে ব্যবহৃত হয়
আঁট্    -      শক্ত করে বাঁধা
ঝুল    -         দোলা
খাট্    -    মেহনত করা
টান    -      আকর্ষণ
লটক্  -      ঝুলানো
চেঁচ   -       চিৎকার
টুট্    -      ছিন্ন হওয়া
ঠেল্  -        ঠ্যালা
ভিজ্  -     সিক্ত হওয়া
জম্   -     ঘনীভূত হওয়া
র্ফি     -        পুনরাগমন
ডাক্  -     আহ্বান  করা
চাহ্     -        প্রার্থনা করা
বিগড়্   -   নষ্ট হওয়া
র্ড         -       ভীত হওয়া

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৩.
হওয়া-এর আদিগণ কোনটি?
  1. ক) লওয়া
  2. খ) কোচকা
  3. গ) ফিরা
  4. ঘ) চাহ্
ব্যাখ্যা
‘হওয়া’ শব্দের ধাতু হ (হ্ +অ)। ‘হ’ একাক্ষর ধাতু এবং প্রথম বর্ণ হ্-এর সঙ্গে স্বরবর্ণ ‘অ’ যুক্ত আছে। 
সুতরাং হ-আদিগণের মধ্যে ল-ধাতু (লওয়া) অন্তুর্ভুক্ত। 

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।