- আমলাতন্ত্রের জনক হলেন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার। তিনি আমলাতন্ত্রের আদর্শ ধারণা প্রদান করেছেন এবং এটিকে আধুনিক সংগঠনগুলোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর ও যুক্তিযুক্ত পদ্ধতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।তিনি ছিলেন একজন জার্মান সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ এবং দার্শনিক। তিনি আমলাতন্ত্রের এমন একটি আদর্শ মডেল তৈরি করেন, যেখানে সুশৃঙ্খল নিয়মকানুন, শ্রেণিবদ্ধ কাঠামো এবং যোগ্যতা-ভিত্তিক নিয়োগের মতো বৈশিষ্ট্য থাকে। ওয়েবার বিশ্বাস করতেন যে আমলাতন্ত্রের মাধ্যমে কাজ করা যায় এবং এতে দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ও পক্ষপাতহীনতা দূর হয়।
- কার্ল মার্কসের শ্রেণী সংগ্রাম তত্ত্ব অনুযায়ী, ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা সমাজের পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, বুর্জোয়া (পুঁজিবাদের মালিক শ্রেণী) এবং সর্বহারা (শ্রমিক শ্রেণী) একে অপরের শোষক ও শোষিত, এবং তাদের মধ্যেকার সংঘাতই সমাজকে চূড়ান্ত বিপ্লবের দিকে নিয়ে যায়।
- ভিলফ্রেদো প্যারেটোর এলিট তত্ত্বে বলা হয়েছে যে, সমাজে সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম ব্যক্তিরা অভিজাত (এলিট) হিসেবে চিহ্নিত হন এবং তারা ক্ষমতা ও সম্পদ ধারণ করেন। তিনি দুই ধরনের অভিজাতের কথা বলেছেন: শাসক অভিজাত, যারা সরাসরি ক্ষমতায় থাকেন, এবং অশাসক অভিজাত, যারা ক্ষমতার বাইরে থেকেও প্রভাব বিস্তার করেন। এই এলিট শ্রেণি চক্রাকারভাবে পরিবর্তিত হয়, যেখানে অশাসক এলিটরা শাসক অভিজাতদের পরাজিত করে ক্ষমতা লাভ করে।
- জন লককে সরাসরি সংসদীয় গণতন্ত্রের জনক বলা যায় না, তবে তিনি আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনকারী দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম, বিশেষ করে তার রাজনৈতিক উদারতাবাদের ধারণা ও সরকারের ক্ষমতার সীমিতকরণের মাধ্যমে। তার সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব এবং মানুষের অধিকারের ওপর জোর দেওয়া পরবর্তীকালে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম