ব্যাখ্যা
- অমর বা অমরসিংহ প্রণীত প্রসিদ্ধ সংস্কৃত অভিধান।
- অমরকোষ সংস্কৃত ভাষার প্রাচীন এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শব্দকোষ।
- এ কোষগ্রন্থের প্রকৃত নাম ‘নামলিঙ্গানুশাসন’ হলেও এটি অমরকোষ নামেই বিখ্যাত।
- লিঙ্গ ভট্ট (দশটীকা), সুভূতিচন্দ্র (কামধেনু টীকা), সর্বানন্দ (টীকাসর্বস্ব, ১১৫৯-৬০), ক্ষীরস্বামী প্রমুখ পন্ডিত অমরকোষ-এর টীকা লিখেছেন।
- হেনরি টমাস কোলব্রুক (Henry Thamas Colebrooke, 1775-1837) কলকাতা থেকে ১৮০৮ ও ১৮২৫ সালে অমরকোষ-এর একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন।
- বোম্বাই থেকে চিন্তামণি শাস্ত্রী থাট্টে ও কিয়েন হর্ন ১৮৭৭ সালে মহেশ্বর-ভাষ্যসহ অপর একটি সংস্করণ প্রকাশ করেন।
- এ অভিধান ‘ত্রিকান্ড’ বা ‘ত্রিকান্ডী’ নামেও অভিহিত। কারণ এটি তিন কান্ডে বা খন্ডে বিভক্ত।
- উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সংস্কৃত ভাষার সব অভিধান অমরকোষ-এর অনুসরণে রচিত হয়।
- প্রসন্নকুমার শাস্ত্রী অমরকোষ-এর বাংলা অনুবাদ করার পর, জীবানন্দ বিদ্যাসাগর, ত্রৈলোক্যনাথ দত্ত, ভুবনচন্দ্র বসাক, হরগোবিন্দ রক্ষিত প্রমুখ এর নানা সংস্করণ প্রকাশ করেন।
- অমরকোষ ইংরেজি, ফার্সি, জার্মান প্রভৃতি ইউরোপীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
• 'অমরসিংহ' সম্পর্কে কিছু তথ্য:
- পন্ডিতদের মতে, অমরসিংহের জন্ম হয় ছয় শতকের মধ্যপর্বে।
- তিনি উজ্জয়িনীর মহারাজা বিক্রমাদিত্যের রাজসভার নবরত্নের অন্যতম ছিলেন। কারও মতে, তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন, কারও মতে জৈন।
- অমরসিংহের কোষগ্রন্থটি তখনকার একটা বড় অভাব মিটিয়েছিল। সেজন্য তিনি ‘নবরত্নমালা’র অন্যতম রত্ন হিসেবে বিক্রমাদিত্যের ‘কীর্তিগাথা’য় যুক্ত হয়ে আছেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।