পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৭
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ টপিকসমূহ: ১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ] ২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ] ৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।] ------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৭ প্রশ্ন

.
সংস্কৃত/তৎসম উপসর্গ কয়টি?
  1. ১৯ টি
  2. ২০টি
  3. ২১ টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
• তৎসম উপসর্গ:
- তৎসম উপসর্গ বিশ(২০)টি।
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অপি, অভি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. ইনি
  2. কী
  3. কেউ
  4. সবার
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
- 'কী'  প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
- 'কেউ' অনির্দিষ্ট সর্বনাম।
- 'সবার' সকলবাচক সর্বনাম।

উল্লেখ্য,
সর্বনাম ৯ প্রকার।
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম, 
- আত্মবাচক সর্বনাম, 
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম, 
- নির্দেশক সর্বনাম, 
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম, 
- সকলবাচক সর্বনাম, 
- সাপেক্ষ সর্বনাম, 
- পারস্পরিক সর্বনাম, 
- অন্যবাচক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
ক্রিয়ার রূপ পরিবর্তিত হয়-
  1. বচন ভেদে
  2. কাল ভেদে
  3. পুরুষ ভেদে
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াপদ:
- বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
- যেমন- রাজীব খেলছে।

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- পড়+ ই = পড়ি, পড় +এ =পড়ে,

• পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন-
- পক্ষ (পুরুষ) : আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
'ছাগল' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. সমষ্টি-বিশেষ্য
  2. বস্তু-বিশেষ্য
  3. নাম-বিশেষ্য
  4. জাতি-বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• জাতি-বিশেষ্য:
- জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত।
- এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়।
- যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন-
- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
- স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
- কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।

• বস্তু-বিশেষ্য:
- কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে।
- যেমন- ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
- এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়।
- যেমন- জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
.
'বাক্যের বর্গ' আসলে-
  1. বাক্যের বিন্যাস
  2. ধ্বনিগুচ্ছ
  3. বর্ণের সমষ্টি
  4. শব্দের গুচ্ছ
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বর্গ:
- বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত বাক্যাংশকে বর্গ বলে।
- বর্গ হলো ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত শব্দের গুচ্ছ।
- বর্গকে বলা যায় বাক্যের একক, কেননা মানুষ কথা বলতে গিয়ে শব্দের পরে শব্দ না বসিয়ে প্রায়ই বর্গের পরে বর্গ বসায়।
- যেমন- মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।
- এই বাক্যে 'মালা ও মায়া', 'খুব সকালে', 'বাড়ির সামনে থাকা', 'স্কুল-বাসে', 'উঠে পড়ল' প্রভৃতি শব্দগুচ্ছ এক একটি বর্গ।

• বিভিন্ন ধরনের বর্গ:
- বিশেষ্যবর্গ
- বিশেষণবর্গ
- ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ
- ক্রিয়াবর্গ।

• মালা ও মায়া খুব সকালে বাড়ির সামনে থাকা স্কুল-বাসে উঠে পড়ল।
- উপরের উদাহরণে 'মালা ও মায়া' ও 'স্কুল-বাসে' হলো বিশেষ্যবর্গ;
- 'বাড়ির সামনে থাকা' হলো বিশেষণবর্গ; 
- 'খুব সকালে' ক্রিয়াবিশেষণ-বর্গ এবং
- 'উঠে পড়লো' হলো ক্রিয়াবর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি(২০২৪ সংস্করণ)।
.
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি কোন ধরনের?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
"আমি বহু কষ্ট করেছি, ফলে শিক্ষা লাভ করেছি।" বাক্যটি  যৌগিক বাক্য।

- এই বাক্যের সরলরূপ: আমি বহু কষ্টে শিক্ষা লাভ করেছি।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, ফলে প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।

• গঠন অনুযায়ী বাক্য তিন প্রকার:
(১) সরল বাক্য,
(২) মিশ্র বা জটিল বাক্য,
(৩) যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. পরিমাণবাচক বিশেষণ
  3. পূরণবাচক বিশেষণ
  4. গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'আজ তটিনীর ২৫তম জন্মবার্ষিকী।' বাক্যে '২৫তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

• পূরণবাচক বিশেষণ:

- যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে।
- যেমন- তৃতীয় প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান এখানে 'তৃতীয়' ও '৩৪তম' পূরণবাচক বিশেষণ।

অন্যদিকে,
• নির্দিষ্টতাবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- এই দিনে, সেই সময় এখানে 'এই' ও 'সেই' নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ।

• গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

• পরিমাণবাচক:
- যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন- আধা কেজি চাল, অনেক লোক এখানে 'আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
বাচ্য কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
• বাচ্য:
বাক্যের প্রকাশভঙ্গিকে বাচ্য বলে।
বাচ্য তিন প্রকার:
- কর্তাবাচ্য,
- কর্মবাচ্য ও
- ভাববাচ্য।

১. কর্তাবাচ্য:
- যে বাক্যের ক্রিয়া কর্তাকে অনুসরণ করে, তাকে কর্তাবাচ্য বলে। এক্ষেত্রে ক্রিয়ার রূপটি কর্তার পক্ষ অনুযায়ী হয়।
যেমন-
- ঝরনা ছবি আঁকে।

২. কর্মবাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া কর্মকে অনুসরণ করে, তাকে কর্মবাচ্য বলে।
যেমন-
- পুলিশ কর্তৃক ডাকাত ধৃত হয়েছে।

৩. ভাববাচ্য:
যে বাক্যের ক্রিয়া-বিশেষ্য বাক্যের ক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে ভাববাচ্য বলে।
যেমন-
- আমার যাওয়া হলো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
.
নিচের কোনটি নিত্য সমাস নয়?
  1. দর্শনমাত্র
  2. কালসাপ
  3. গ্রামান্তর
  4. অনুতাপ
ব্যাখ্যা
• অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ প্রাদি সমাসের উদাহরণ।
• প্রাদি সমাস:
- প্র, প্রতি, অনু প্রভৃতি অব্যয়ের সঙ্গে যদি কৃৎ প্রত্যয় সাধিত বিশেষ্যের সমাস হয়, তবে তাকে বলে প্রাদি সমাস।
- যথা: প্র (প্রকৃষ্ট) যে বচন = প্রবচন।
- এরূপ-পরি (চতুর্দিকে) যে ভ্রমণ = পরিভ্রমণ, অনুতে (পশ্চাতে) যে তাপ = অনুতাপ, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) ভাত (আলোকিত) = প্রভাত, প্র (প্রকৃষ্ট রূপে) গতি = প্রগতি ইত্যাদি।

• নিত্যসমাস:

- যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো নিত্য সমাসবদ্ধ থাকে, ব্যাসবাক্যের দরকার হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
- তদর্থবাচক ব্যাখ্যামূলক শব্দ বা বাক্যাংশ যোগে এগুলোর অর্থ বিশদ করতে হয়।
যেমন:
- অন্য গ্রাম = গ্রামান্তর,
- কেবল দর্শন = দর্শনমাত্র,
- অন্য গৃহ = গৃহান্তর,
- (বিষাক্ত) কাল (যম) তুল্য (কাল বর্ণের নয়) সাপ = কালসাপ,
- তুমি আমি ও সে = আমরা,
- দুই এবং নব্বই = বিরানব্বই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১০.
'ভরদুপুর' শব্দে 'ভর' কোন উপসর্গ?
  1. তৎসম উপসর্গ
  2. বাংলা উপসর্গ
  3. বিদেশি উপসর্গ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা উপসর্গ:
- বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি।
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, উন (উনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

এছাড়াও
- ভরপেট, ভরঃসাঁঝ, ভরপুর, ভরসন্ধ্যা ইত্যাদি 'ভর' উপসর্গযোগে গঠিত শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১১.
"তোমরা কখন এলে?" এই বাক্যের ভাববাচ্যে রূপান্তর কী হবে?
  1. কখন আসলে?
  2. তোমরা কখন এসেছো ?
  3. তোমরা কখন আসবে?
  4. তোমাদের কখন আসা হলো?
ব্যাখ্যা
কর্তৃবাচ্য থেকে ভাববাচ্য:
নিয়ম: কর্তৃবাচ্যের বাক্যকে ভাববাচ্যে পরিবর্তিত করতে হলে-
(১) কর্তায় ষষ্ঠী বা দ্বিতীয়া বিভক্তি হয় এবং (২) ক্রিয়া নাম পুরুষের হয়।

যেমন-
কর্তৃবাচ্য:
(ক) আমি যাব না।
(খ) তুমিই ঢাকা যাবে।
(গ) তোমরা কখন এলে?

ভাববাচ্য:
(ক) আমার যাওয়া হবে না।
(খ) তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে।
(গ) তোমাদের কখন আসা হলো?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১২.
"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।" বাক্যে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
. সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

• সমুচ্চয়ী অব্যয় ৪ প্রকারের।

- সংকোচক অব্যয়, 
- বিয়োজক অব্যয়, 
- সংযোজক অব্যয়,
- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়,

• বিয়োজক অব্যয়:

"হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।"
এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে,

• অনন্বয়ী অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
যেমন- মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ।

• অনুসর্গ অব্যয়:
- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
যথা: ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।

• সংকোচক অব্যয়:
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৩.
"শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. কর্মে শূন্য বিভক্তি 
  2. করণে শূন্য বিভক্তি 
  3. করণে সপ্তমী বিভক্তি 
  4. অধিকরণে শূন্য বিভক্তি 
ব্যাখ্যা
• "শুধু বিঘে ছিল মোর ভুঁই" এখানে 'ভুঁই' কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি। 

• কর্ম কারক:
-  যাকে আশ্রয় করে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে কর্ম কারক বলে।
- ক্রিয়াকে কি/কাকে দিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কর্মকারক পাওয়া যায়।
- উদাহরণ: "আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা।" এখানে 'আমারে' কর্মকারকে ৪র্থী বিভক্তি।

উল্লেখ্য,
'ভুঁই' অর্থ - [বিশেষ্য পদ] ভূমি, মেধ, মাটি; স্থান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৪.
"পাভেল তাঁর ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' কোন প্রকার ক্রিয়া?
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. সকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- "পাভেল তার ছোটভাইকে বই দিলেন।" এই বাক্যে 'দিলেন' দ্বিকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('তার ছোটভাইকে')

বাক্যের মধ্যে কর্মের উপস্থিতির ভিত্তিতে ক্রিয়া তিন প্রকার:
১. অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন: সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কর্ম নেই।

২. সকর্মক ক্রিয়া:
বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন- সে বই পড়ছে।
এই বাক্যে 'পড়ছে' হলো সকর্মক ক্রিয়া। 'বই' হলো 'পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।

৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
- যেমন- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
- এই বাক্যে 'দিলেন' একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম ('বই'), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম ('ছাত্রকে')।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
১৫.
"শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ কী হবে?
  1. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও।
  2. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, তোমার দীর্ঘায়ু হোক।
  3. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।
  4. শিক্ষক ছাত্রকে বললেন, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি।
ব্যাখ্যা
- "শিক্ষক ছাত্রের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন" - পরোক্ষ উক্তি।
- শিক্ষক ছাত্রকে বললেন ,"তুমি দীর্ঘজীবী হও"।- প্রত্যক্ষ উক্তি।

• উক্তি পরিবর্তন:
- কোনো কথকের বাক কর্মের নামই উক্তি। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরোক্ষ উক্তি।
- যে বাক্যে বক্তার কথা অবিকল উদ্ধৃত হয়, তাকে প্রত্যক্ষ উক্তি বলে। যথা তিনি বললেন, "বইটা আমার দরকার।"
- যে বাক্যে বক্তার উক্তি অন্যের জবানিতে রূপান্তরিতভাবে প্রকাশিত হয়, তাকে পরোক্ষ উক্তি বলা হয়।

• উক্তি পরিবর্তনের নিয়ম:
- প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার বক্তব্যটুকু উদ্ধরণ চিহ্নের ("") অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- পরোক্ষ উক্তিতে উদ্ধরণ চিহ্ন লোপ পায়।
- প্রথম উদ্ধরণ চিহ্ন স্থানে 'যে' এই সংযোজক অব্যয়টি ব্যবহার করতে হয়।
- বাক্যের সঙ্গতি রক্ষার জন্য উক্তিতে ব্যবহৃত বক্তার পুরুষের পরিবর্তন করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৬.
'গরমিল' কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. দ্বন্দ্ব সমাস
  2. নঞ্‌ কর্মধারয় সমাস
  3. অব্যয়ীভাব সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা
• 'গরমিল' অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ।

• অব্যয়ীভাব সমাস:

-পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
- সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।

• অভাব (নিঃ= নির) অর্থে:
- আমিষের অভাব = নিরামিষ,
- ভাবনার অভাব= নির্ভাবনা,
- জলের অভাব = নির্জল,
- উৎসাহের অভাব =নিরুৎসাহ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
১৭.
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" বাক্যে 'হেতু' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. ব্যাপার
  2. নিমিত্ত
  3. প্রার্থনা
  4. প্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা
"কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।" বাক্যে 'হেতু' অনুসর্গটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করেছে।
- নিমিত্ত শব্দের অর্থ- উপলক্ষ্য; উদ্দেশ্য; প্রয়োজন।

এছাড়াও,
"এ ধন-সম্পদ তোমার জন্যে।" বাক্যে 'জন্যে' অনুসর্গটি নিমিত্ত অর্থ প্রকাশ করেছে।

• অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।