পরীক্ষা আর্কাইভ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

পরীক্ষাবিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]তারিখ১ জানুয়ারি, ২০২৩সময়01 hr 30 mins১৯৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০০
সিলেবাস
৪৯তম স্পেশাল বিসিএস [রাষ্ট্রবিজ্ঞান (৩৪১)] মূল প্রশ্নপত্রের উপর Live পরীক্ষা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস] · ১ জানুয়ারি, ২০২৩ · ২০০ প্রশ্ন

.
'ন্যায়বিচার হচ্ছে শক্তিমানদের স্বার্থরক্ষা' এটি কার ধারনা? 
  1. সিফালাস
  2. পলিমারকাস
  3. ক্লিটোফন
  4. থ্রাসিমেকাস
সঠিক উত্তর:
থ্রাসিমেকাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থ্রাসিমেকাস
ব্যাখ্যা

- উক্তিটি প্লেটোর The Republic গ্রন্থের প্রথম অংশে (Book I) উঠেছে।
থ্রাসিমেকাস (Thrasymachus)  যিনি একজন সোফিস্ট  তাঁর মতবাদে বলেন যে,  “ন্যায়বিচার” আসলে শক্তিশালীদের স্বার্থরক্ষা। তিনি ধরে নেন যে ন্যায় হল আইন পালন করা। কিন্তু যে কেউ শাসন করে আর সেই শাসকেরাই আইন তৈরী করে তারা সাধারণত (আপাতত) নিজেদের স্বার্থে আইন বানায়। ফলে আইন অনুযায়ী চললে প্রকৃত অর্থে শাসকের (অর্থাৎ শক্তিশালীর) স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। তাই, ন্যায়বিচার বলতে বাস্তবে বোঝায় শক্তিমানদের স্বার্থ রক্ষা -“justice is the protection of  interest of the stronger.” থ্রাসিমেকাস বলেন, বড়মাত্রায় অন্যায় করলে তা অধিক লাভজনক হতে পারে অর্থাৎ অনৈতিক পরাক্রম শক্তিশালীকে সুবিধা দেয়।
- সক্রেটিস এই অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেন  যে শাসকও ভুল করতে পারে (তাহলে আইন তার স্বার্থের সাথে মিলবে না), এবং ন্যায় একটি আচার-গুণ (virtue) যা মানুষের প্রভুতার চেয়ে আত্মার কল্যাণে সম্পর্কিত। সক্রেটিসের মাধ্যমে প্লেটো ন্যায়কে কেবল শক্তির স্বার্থ হিসেবে গ্রহণ করে না, বরং ন্যায়কে ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে জরুরি একটি গুণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন।
- সিফালাস (Cephalus) - আলোচনার শুরুতে উপস্থিত; তিনি ন্যায়কে সত্য বলা ও দেনা-ফেরত করা হিসেবে দেখান।
- পলিমারকাস (Polemarchus) -সাইমনিডিসের ধারণা উদ্ধৃত করে বলে ন্যায় হল বন্ধুদের সহায়তা করা আর শত্রুদের ক্ষতি করা।
- ক্লিটোফন (Clitophon)- প্লেটোর অন্যান্য সংলাপে প্রাসঙ্গিক একজন চরিত্র; এই নির্দিষ্ট বক্তব্যের উত্স নয়।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা- রাখী বর্মণ 

.
ফ্যাসিবাদের প্রথম উদ্ভব হয় কোন রাষ্ট্রে?
  1. জার্মানি
  2. রাশিয়া
  3. ইতালি
  4. ইসরাইল
সঠিক উত্তর:
ইতালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতালি
ব্যাখ্যা

- ফ্যাসিবাদের (Fascism) প্রথম উদ্ভব ঘটে ইতালিতে (Italy) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে। এর জনক বা প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেনিতো মুসোলিনি (Benito Mussolini)।
- ১৯১৯–১৯২২ সালের মধ্যে ফ্যাসিবাদ ইতালিতে একটি রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে গড়ে ওঠে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বেকারত্ব, অরাজকতা ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায়। সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্থানে মধ্যবিত্ত ও শিল্পপতিরা আতঙ্কিত হয়। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুসোলিনি জনগণের সমর্থন লাভ করেন।
- ১৯১৯ সালে মুসোলিনি প্রতিষ্ঠা করেন Fasci di Combattimento নামের সংগঠন (যার নাম থেকেই “Fascism” শব্দটি এসেছে; Fasces মানে রোমান যুগের একতা ও কর্তৃত্বের প্রতীক)। ১৯২২ সালে তিনি “March on Rome” নামের অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।এরপর তিনি ইতালিতে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেন।
- জার্মানি: নাৎসিবাদ (Nazism) জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের নেতৃত্বে উদ্ভূত হয়, যা ফ্যাসিবাদ দ্বারা প্রভাবিত হলেও আলাদা একটি রূপ।
- রাশিয়া: এখানে সমাজতান্ত্রিক (কমিউনিস্ট) বিপ্লব সংঘটিত হয়, ফ্যাসিবাদ নয়।
- ইসরাইল: ফ্যাসিবাদের সাথে সম্পর্কিত নয়; এটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র।
সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন 

.
"The ruler's relationship to his people is much like that of a father to his son" - এটি কার মতামত?
  1. কৌটিল্য
  2. ম্যাকিয়াভেলি
  3. কনফুসিয়াস
  4. ইবনে রুশদ
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কনফুসিয়াস
ব্যাখ্যা

-  “The ruler's relationship to his people is much like that of a father to his son.”( “শাসকের সঙ্গে তার প্রজাদের সম্পর্ক পিতার সঙ্গে পুত্রের সম্পর্কের মতো”) - এই চিন্তাটি চীনা দার্শনিক কনফুসিয়াসের (Confucius) রাজনৈতিক ও নৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি।

- কনফুসিয়াস (৫৫১–৪৭৯ খ্রিস্টপূর্ব) ছিলেন প্রাচীন চীনের মহান নীতিবিদ, দার্শনিক ও শিক্ষক। তাঁর মতে, রাষ্ট্র একটি বৃহৎ পরিবার (Great Family) এবং শাসক সেই পরিবারের “পিতা” (father figure)। যেমন পিতা সন্তানের কল্যাণ চান, তেমনি শাসকের কর্তব্য জনগণের কল্যাণ ও নৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- কনফুসিয়াস বলেছিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা উচিত নৈতিকতা ও মানবিকতার (Ren) ভিত্তিতে, ভয় বা বলপ্রয়োগে নয়। শাসককে জনগণের প্রতি পিতার মতো যত্নবান ও দায়িত্বশীল হতে হবে। জনগণ শাসকের প্রতি শ্রদ্ধা, আনুগত্য ও ন্যায্য আচরণ করবে - যেমন সন্তান তার পিতার প্রতি করে।সমাজে শৃঙ্খলা ও স্থিতি বজায় থাকে যখন প্রত্যেকে নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করে যেমন পিতা-পুত্র, রাজা-প্রজা, স্বামী-স্ত্রী, বড়-ছোট ইত্যাদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
- কৌটিল্য: ‘অর্থশাস্ত্র’-এ শাসককে কঠোর, বাস্তববাদী ও কৌশলগত হতে বলা হয়েছে, তবে “পিতা-পুত্র সম্পর্ক”-এর মতো মানবিক সম্পর্কের ধারণা তাঁর নয়।
- ম্যাকিয়াভেলি: তিনি বাস্তববাদী ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক; তাঁর মতে রাজাকে প্রয়োজনে প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ করতে হতে পারে (“better to be feared than loved”)।
- ইবনে রুশদ  ছিলেন দার্শনিক ও ইসলামী ব্যাখ্যাকার, তবে তাঁর চিন্তায় এই পিতৃসুলভ রাজনৈতিক ধারণা নেই।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা- অধ্যাপক একেএম শহীদুল্লাহ

.
চীনের রাজনৈতিক কাঠামোতে স্থানীয় পর্যায়ের সরকারকে বলা হয়-
  1. লোকাল গভর্নমেন্ট
  2. পিপলস গভর্নমেন্ট
  3. ন্যাশনাল কাউন্সিল
  4. স্টেট কাউন্সিল
সঠিক উত্তর:
পিপলস গভর্নমেন্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পিপলস গভর্নমেন্ট
ব্যাখ্যা

- চীনের রাজনৈতিক কাঠামো (Political Structure of China) অনুযায়ী,
দেশটির শাসনব্যবস্থা হলো একদলীয় সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র (Single-party Socialist Republic) যা পরিচালিত হয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (Communist Party of China - CPC)-এর নেতৃত্বে। 
চীনের রাষ্ট্র কাঠামোতে কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তর নির্ধারিত আছে।
- চীনের রাজনৈতিক কাঠামোর স্তরসমূহ:
কেন্দ্রীয় পর্যায় (Central Level): 
National People’s Congress (NPC)- সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা
State Council- কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংস্থা (সরকার)
Supreme People’s Court ও Supreme People’s Procuratorate- বিচার ও আইন প্রয়োগ
স্থানীয় পর্যায় (Local Level): 
প্রাদেশিক (Provincial)
শহর (Municipal/Prefectural)
জেলা (County)
উপজেলা/টাউনশিপ (Township) পর্যায়
এই প্রতিটি স্থানীয় স্তরে সরকারের নাম “People’s Government” (জনগণের সরকার বা পিপলস গভর্নমেন্ট)।
 উদাহরণ:
Beijing Municipal People’s Government
Guangdong Provincial People’s Government
Shanghai City People’s Government
প্রতিটি স্তরের People’s Government স্থানীয় People’s Congress দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং তাদের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।
- লোকাল গভর্নমেন্ট: সাধারণ অর্থে সঠিক হলেও চীনের সরকারি কাঠামোর আনুষ্ঠানিক নাম নয়।
- ন্যাশনাল কাউন্সিল: চীনে “National Council” নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই।
- স্টেট কাউন্সিল (State Council): এটি কেন্দ্রীয় সরকার বা জাতীয় নির্বাহী সংস্থা, স্থানীয় নয়।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া- প্রফেসর ইয়াসমিন বেগম 

.
বাংলাদেশ ASEAN জোটে কোন্ ধরনের মর্যাদা ভোগ করছে? 
  1. প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্র
  2. পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র
  3. পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র
  4. আলোচনাসঙ্গী রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
আলোচনাসঙ্গী রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোচনাসঙ্গী রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

আসিয়ান (ASEAN)ঃ  Association of Southeast Asian Nations  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা, যা ৮ আগস্ট ১৯৬৭ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- আসিয়ানের লক্ষ্য: আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি;অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ;সংস্কৃতি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উন্নয়ন। 
- আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য-থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুর  এই ৫টি দেশ ।
- আসিয়ানের পূর্ণ সদস্য-থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ,ব্রুনেই দারুসসালাম ,ভিয়েতনাম,লাওস,মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া এই ১০টি দেশ ।
- পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রঃ পাপুয়া নিউ গিনি, পূর্ব তিমুর।
- আলোচনা সঙ্গী রাষ্ট্র ঃ মূলত উন্নত অর্থনীতি ও শক্তিধর দেশসমূহ আলোচনা সঙ্গী রাষ্ট্র।যেমন-  ভারত ,চীন ,কানাডা, জাপান ,দক্ষিণ কোরিয়া ,অস্ট্রেলিয়া ,নিউজিল্যান্ড ,যুক্তরাষ্ট্র ,যুক্তরাজ্য ,রাশিয়া,ইউরোপীয় ইউনিয়ন।  এই দেশগুলো ASEAN Dialogue Partners হিসেবে বার্ষিক ASEAN Regional Forum (ARF) এবং East Asia Summit–এ অংশ নেয়। মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
খাতভিত্তিক আলোচনা সঙ্গী রাষ্ট্রঃ বাংলাদেশ ১৯৯২ সালে আসিয়ানের Sectoral Dialogue Partner মর্যাদা পায়। “Sectoral Dialogue Partner” মানে হলো বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক (যেমন: বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) সহযোগিতা ও আলোচনা করতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না।
সূত্রঃ বিশ্বায়ন,আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-ড হাসিবুর রহমান  

.
দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশ সমূহের সাথে অর্থনৈতিক কূটনীতি সফল হলে- i) বাংলাদেশের রফতানি বাজার সম্প্রসারন হবে; ii) আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সংযোগ স্থাপিত হবে; iii) বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে; কোনটি সঠিক?
  1. i
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii, ও III
সঠিক উত্তর:
i, ii, ও III
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii, ও III
ব্যাখ্যা

- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি (Economic Diplomacy) সফল হলে এর প্রভাব অনেক দিক থেকে দেখা যায়।
- রফতানি বাজার সম্প্রসারণ - দেশগুলোতে বাণিজ্যিক চুক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের পণ্য (যেমন ready-made garments, কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য) নতুন বাজারে প্রবেশ করতে পারে।
- আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন - যোগাযোগ, পরিবহন ও বাণিজ্যিক চ্যানেল উন্নয়নের ফলে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী হয়।
যেমন: রেলপথ, সড়ক, সমুদ্রপথ ও কন্টেইনার রুটগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য সহজ হয়।
- বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি - স্থিতিশীল আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা দেয়।
ফলস্বরূপ, FDI (Foreign Direct Investment) বৃদ্ধি পায়।
সূত্রঃ বিশ্বায়ন,আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-ড. হাসিবুর রহমান  

.
শত্রুকে পরাস্থ করার জন্য কোন্ দার্শনিক 'গোপন গোয়েন্দাগিরি ও কূটনীতির' কথা বলেছেন?
  1. প্লেটো
  2. কৌতিল্য
  3. এরিস্টটল
  4. সক্রেটিস
সঠিক উত্তর:
কৌতিল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৌতিল্য
ব্যাখ্যা

কৌতিল্য বা চাণক্য:
- কৌতিল্য বা চাণক্য ছিলেন প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত রাজনীতি-দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ। তিনি মূলত মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে রাজনীতিতে পরামর্শ দিয়েছেন।
- তাঁর প্রধান রচনা হলো আর্থশাস্ত্র (Arthashastra), যা রাজনীতি, অর্থনীতি, কূটনীতি এবং সামরিক কৌশল নিয়ে লেখা।
- কৌতিল্য মনে করতেন, শত্রুকে পরাস্ত করতে রাজ্যকে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক (spy network) বজায় রাখতে হবে। তিনি বিভিন্ন ধরনের গুপ্তচর নিয়োগ ও তাদের কার্যপ্রণালী বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।
কূটনৈতিক কৌশল (Diplomatic Strategy): শত্রুর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা (bheda), মিথ্যা খবর ছড়ানো (prachar), এবং বন্ধুত্বের আড়ালে শত্রুকে দুর্বল করা (sama)  এগুলো তাঁর নীতিতে গুরুত্বপূর্ন। প্রয়োজনে নেতৃত্বের অগ্রাধিকার ও প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে দুর্বল করা কৌশলও বর্ণিত আছে।
শত্রু পরাস্ত করার নীতিমালা:
Sama (persuasion): বন্ধুত্ব ও সমঝোতা
Dana (gift/bribery): প্রলোভন প্রদানের মাধ্যমে প্রভাবিত করা
Bheda (division): শত্রুকে বিভক্ত করা
Danda (force/punishment): প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ

অর্থাৎ, কৌতিল্যের মতে, রাজনীতি ও যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক শক্তির উপর নির্ভর করে না, বরং গোপন গোয়েন্দাগিরি ও কূটনীতির সমন্বয়ে শত্রুকে পরাস্ত করা যায়।

- প্লেটো: ন্যায় ও আদর্শ রাষ্ট্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, গুপ্তচর বা কূটনীতির উপর জোর নেই।
- এরিস্টটল: রাজনীতি ও নৈতিকতা নিয়ে ব্যাখ্যা, গুপ্তচরিতার নির্দেশ নেই।
- সক্রেটিস: নৈতিক ও দর্শনীয় প্রশ্ন-উত্তর পদ্ধতির উপর মনোযোগ, কূটনীতি বা গুপ্তচর ব্যবস্থার নয়।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা- অধ্যাপক একেএম শহীদুল্লাহ

.
' যেখানে আইন প্রনয়ন ও প্রয়োগ করার ক্ষমতা একই ব্যক্তির উপর থকে, সেখানে জনসাধারনের অধিকার থাকতে পারেনা' পর্যবেক্ষণটি কার?
  1. এরিস্টটল
  2. মন্টেস্কু
  3. জন লক
  4. ব্ল‍্যাকস্টোন
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্টেস্কু
ব্যাখ্যা

 মন্টেস্কু তাঁর বিখ্যাত রচনা The Spirit of Laws (1748)-এ বলেছেন, “যেখানে আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োগের ক্ষমতা একই ব্যক্তির হাতে থাকে, সেখানে জনগণের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে।” অর্থাৎ, শাসক যদি নিজের জন্য আইন বানায় এবং নিজেই সেই আইন প্রয়োগ করে, তাহলে অন্যায় ও স্বৈরাচারী শাসনের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি:
আইন বিভাগ (Legislature): আইন প্রণয়ন
নির্বাহী বিভাগ (Executive): আইন প্রয়োগ
বিচার বিভাগ (Judiciary): আইন ব্যাখ্যা ও বিচার
এই তিনটি বিভাগ পৃথক এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীল, যাতে ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হয়। ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ থাকলে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব। শক্তি একক কেন্দ্রীভূত হলে স্বৈরাচারী শাসন ও নির্যাতনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
- এরিস্টটলঃ রাজনীতি ও রাষ্ট্রশাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে আধুনিক “separation of powers” নীতি তাঁর নয়।
- জন লকঃ সরকার ও প্রাকৃতিক অধিকার নিয়ে লিখেছেন, তবে শক্তি বিভাজনের বিস্তারিত তত্ত্ব মন্টেস্কুর মতো নয়।
- ব্ল্যাকস্টোনঃ ইংরেজ আইনবিদ; common law ব্যাখ্যা করেছেন, শক্তি বিভাজন নীতি তাঁর নয়।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের কোন্ দেশ সমুদ্রে ডুবে গেছে?
  1. টোংগা
  2. ভানুয়াটু
  3. কিরিবাতি
  4. সোলোমন আইল্যান্ড
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সম্পূর্ণভাবে সমুদ্রে ডুবে যায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু ছোট দ্বীপ হারিয়ে গেছে, কিন্তু কোনো পুরো দেশ নয়। ভবিষ্যতে (২০৫০-২১০০ সালের মধ্যে) কিরিবাতি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ফিজি এবং ভানুয়াতু, মালদ্বীপ ইত্যাদি দেশগুলো পুরোপুরি ডুবে যাওয়ার বড় ঝুঁকিতে রয়েছে।

উৎস: The Week, DW.

১০.
ইবনে খালদুনের মতে রাষ্ট্রের উত্থান-পতনে কয়টি পর্যায় পরিলক্ষিত হয়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
সঠিক উত্তর:
৫টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫টি
ব্যাখ্যা

ইবনে খালদুন (Ibn Khaldun) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Muqaddimah-এ রাষ্ট্রের জীবনচক্র বিশ্লেষণ করেছেন। রাষ্ট্র পরিবর্তনের পাঁচটি পর্ব অতিক্রমনের মাধ্যমে তিন যামানা শেষে বিলীন হয়ে যাবে।
 তার মতে রাষ্ট্রের উত্থান ও পতনের প্রক্রিয়ার ৫টি ধাপগুলো হলো:
প্রথম পর্ব, শাসকদের মধ্যে গোষ্ঠী সংহতি এতটাই প্রবল থাকে যে তারা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে শত্রুকে পরাজিত করে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সেই সাথে গোষ্ঠীর চাহিদা অনুযায়ী শাসকগণ নাগরিকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করে। জনগণ রাষ্ট্রকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয় পর্ব, এ পর্বে সার্বভৌম ক্ষমতা অর্জন করে কোন প্রকার সহযোগিতা ছাড়াই একা শাসন ক্ষমতা পরিচালনা করে। এক্ষেত্রে নাগরিকের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং ক্ষমতা শাসক পরিবারের মধ্যে কুক্ষিগত হয়। নগর সভ্যতার ফলে গোষ্ঠী সংহতি শিথিল হয়ে পড়ে।
তৃতীয় পর্ব, এটা ভোগ-বিলাসের পর্ব। আরাম-আয়েশের বশে শাসক নিজেই শাসন কর্তৃত্ব ভোগ করতে চায়। সে স্মৃতিস্তম্ভ ও কীর্তি স্থাপনে অধিক মনোনিবেশ করে। এ সময় শাসকের শক্তি হ্রাস পায় ফলে অন্য কোন সুযোগ সন্ধানী সম্প্রদায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব অর্জন করে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
চতুর্থ পর্ব, পূর্বপুরুষদের পথ অনুসরণ করে শত্রু-মিত্র সকলের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে চায় এবং অভিজাত্য ও দম্ভ প্রকাশে ব্যস্ত থাকে।
পঞ্চম পর্ব, রাষ্ট্রের অবক্ষয়ের সূচনা পর্ব। শাসকগণ বিলাসিতা ও অপচয়ের কারণে সাহসিকতা হারিয়ে শত্রুদের মোকাবেলা করতে ভয় পায়। তারা দুশ্চরিত্রবান, অমিতব্যয়ী ও লম্পটে পরিণত হয়। ভোজ সভায় অর্থব্যয়, সুহৃদদের প্রতি বদান্যতা প্রদর্শনের কারণে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়ে। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্যদের নিযুক্তির ফলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সৈন্যবাহিনীর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে তারা বিদ্রোহ করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নেয়।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা- অধ্যাপক একেএম শহীদুল্লাহ 

১১.
বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
উল্লেখ্য, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার তাঁদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে, গণপরিষদে স্বীকৃতি প্রদান করে। তবে এটি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বীকৃতি ছিল না। 

♦ ভাষা আন্দোলন:
→ ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
→ ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
→ ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
→ ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
→ ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঘোষণা করেন 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু'; এই ঘোষণার পরেই ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
→ ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
→ ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্ররা মিছিল করে।
→ এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।
→ এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সংবিধান উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

♦ ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
→ প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
→ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
→ ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
→ ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
→ পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের সাথে কোন্ রাজনৈতিক দল সম্পৃক্ত ছিল?
  1. ভাসানী ন্যাপ
  2. সিপিবি কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ
  3. জাসদ
  4. বাংলাদেশের মার্ক্সিস কমিউনিস্ট পার্টি
সঠিক উত্তর:
জাসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাসদ
ব্যাখ্যা

- ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে বাংলাদেশে ঘটে সিপাহী বিপ্লব (Soldiers’ Uprising / Sipahi Revolution)।
এটি মূলত একটি সামরিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন যা শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল।
- জাসদ তখন যুব সমাজ ও মিলিটারি কিছু অংশের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছিল। 
- তাদের অংশগ্রহণ এবং উদ্দীপনা সিপাহী বিপ্লবের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। 
- বিপ্লবের মাধ্যমে তারা কৌশলগতভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের চেষ্টা করে।
- খালেদা-সেলিম/মধ্যপদস্থ সেনারা ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন করে। রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং নতুন সামরিক নেতা উঠে আসে।
- ভাসানী ন্যাপ মূলত ১৯৬৯–৭০-এর আন্দোলনে সক্রিয়, ১৯৭৫ সালের সিপাহী বিপ্লবে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।
- সিপিবি (Communist Party of Bangladesh) কমিউনিস্ট দল, কিন্তু বিপ্লবের সরাসরি নেতৃত্বে নয়।
- বাংলাদেশের মার্কসিস্ট কমিউনিস্ট পার্টি মূলত তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সীমাবদ্ধ, সামরিক উত্থানে অংশ নেয়নি।
সূত্রঃ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উন্নয়ন ১৯৭১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত– সৈয়দ নুরুল হক   

১৩.
বাংলাদেশের গুমকমিশনের কাছে এখন পর্যন্ত কত সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে?
  1. ৬৫০
  2. ৮৫০
  3. ১৭০০
  4. ২০০০
সঠিক উত্তর:
২০০০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২০০০
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনঃ 
- ৩৬ জেলায় গুমের ঘটনার তথ্য পেয়েছে কমিশন
- কমিশনে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৮৩৭টি গুমের অভিযোগ।
- ১ হাজার ৭৭২টি অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছে কমিশন।
- ১ হাজার ৪২৭ জন (৮১ শতাংশ) পরে জীবিত ফিরেছেন।
- ৩৪৫ জন (১৯ শতাংশ) এখনো নিখোঁজ।
বর্তমান ধরলে ২০০০ এর বেশি হবে তাই ২০০০ উত্তর। 
সুত্রঃ প্রথম আলো ৫ জুন,২০২৫।

১৪.
এরিস্টটল বিকৃত প্রকৃতির সরকার বলেছেন কোনটিকে?
  1. রাজতন্ত্রকে
  2. অভিজাত তন্ত্রকে
  3. মধ্যতন্ত্রকে
  4. গণতন্ত্রকে
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণতন্ত্রকে
ব্যাখ্যা

এরিস্টটল অনুযায়ী, সরকারকে তিনি স্বাভাবিক (Correct) এবং বিকৃত (Deviant/Corrupt) হিসেবে ভাগ করেছেন।
স্বাভাবিক রূপ (Correct forms):
রাজতন্ত্র (Monarchy): এক ব্যক্তির শাসন, যারা জনগণের কল্যাণে শাসন করে।
অভিজাততন্ত্র (Aristocracy): গুণী ব্যক্তিদের শাসন, জনগণের কল্যাণে।
মধ্যতন্ত্র (Polity/Constitutional Government): জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার, সামগ্রিক কল্যাণের লক্ষ্য।
বিকৃত/দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার (Deviant forms):
রাজতন্ত্র → স্বৈরাচার (Tyranny): শাসক একক স্বার্থের জন্য শাসন করে।
অভিজাততন্ত্র → ধনিকতন্ত্র  (Oligarchy): ধনীদের স্বার্থে শাসন।
মধ্যতন্ত্র → গণতন্ত্র (Democracy) (এরিস্টটলের সংজ্ঞায়: অনিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র): ধনী ও গরীবের মধ্যকার বিরোধের কারণে জনগণের স্বার্থে নয়, দলগত স্বার্থে পরিচালিত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

১৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী কবে হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনী (১৯৭৩) মূলত রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে সংবিধান গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রথম সংশোধনের প্রয়োজন দেখা দেয়।
সংবিধানের সংশোধনের উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু: 
- সংবিধানের আর্টিকেল ৭-এর মাধ্যমে বিধায়ক ও নির্বাহী শক্তির ওপর সংবিধানানুগ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা।
- বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ সীমিত করতে আইনি ব্যবস্থা।
- সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদের কারণে, সংবিধানে কিছু সীমাবদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রবর্তন।
- সংবিধানিক কাঠামোতে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও রাষ্ট্রের কার্যকর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

১৬.
নাগরিক চেতনা লাভের ফলে মানুষ - i) সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠে; i) নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়; iii) প্রতিক্রিয়াশীল চক্র চিহ্নিত করতে পারে;- উপরের কোনটি সঠিক?
  1. i)
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii, ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii, ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii, ও iii
ব্যাখ্যা

- নাগরিক চেতনা (Civic Consciousness / Civic Awareness) হলো একটি মানুষ বা নাগরিকের মধ্যে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা।
- যখন নাগরিক চেতনা বাড়ে, মানুষ সুনাগরিক (Good Citizen) হিসেবে গড়ে ওঠে। 
- নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়াঃ নাগরিক চেতনা মানুষকে শেখায় যে সরাসরি আইন ও সংবিধান অনুসরণ করে অধিকার আদায় করা উচিত, যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগ, সরকারের কাছে দাবি দাখিল করা। এটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ নাগরিক প্রতিরোধ নিশ্চিত করে।
- প্রতিক্রিয়াশীল চক্র চিহ্নিত করতে পারাঃ সচেতন নাগরিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অব্যবস্থার কারণ ও প্রভাব চিহ্নিত করতে পারে।
যেমন, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাবের ফলে সৃষ্ট সমস্যার চিহ্নিতকরণ। ফলে সমস্যার মূল চক্র বা ক্রম চিহ্নিত করে সমাধান নির্দেশ করতে সক্ষম হয়।
- সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠাঃ নিয়মিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সমবায় মনোভাব এর ফলস্বরূপ মানুষ সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। এটি ব্যক্তিগত অধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক

১৭.
প্লেটোর মতে প্রাথমিক শিক্ষার বয়স কত?
  1. শৈশব থেকে ১৬ বৎসর
  2. শৈশব থেকে ১৮ বৎসর
  3. শৈশব থেকে ২০ বৎসর
  4. কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
শৈশব থেকে ২০ বৎসর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শৈশব থেকে ২০ বৎসর
ব্যাখ্যা

প্লেটো তাঁর শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রধানত দু'টি স্তরে বিভক্ত করেছেন।
যথাঃ (ক) প্রাথমিক শিক্ষা এবং (খ) উচ্চতর শিক্ষা।
প্লেটোর মতে, "প্রথমটি হচ্ছে প্রবল অনুভূতির মাধ্যমে চরিত্র গঠনের শিক্ষা, আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে বিজ্ঞান ও দর্শনের মাধ্যমে বোধগম্য হবার শিক্ষা।
এ বিভাগ মূলত বয়সের ভিত্তিতে গঠিত হত এবং বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন শিক্ষা দান করা হত।"
 প্লেটোর প্রাথমিক শিক্ষার বয়ঃসীমা হচ্ছে ৬-২০ বছর পর্যন্ত।

- তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা মূলত দু'টি স্তরে বিভক্ত। যেমন:
১। প্রথম স্তর (৬-১৮ বছর): প্রথম স্তরে ৬ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত অপরিণত বয়স্ক বালক-বালিকাদের জ্ঞান দানের পরিবর্তে তাদের মানসিক বৃত্তিসমূহের সুষ্ঠু বিকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে। এ সময়ে তাদের ধর্মীয় সত্য, নৈতিকতা, উত্তম আচার-আচরণের পাঠ দেয়া হবে। তখন থেকেই তারা কোন কিছুকে ভালবাসতে বা ঘৃণা করতে শিখবে। মূলত এ সময়েই তারা নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করবে। এ স্তরে প্লেটো শিশুদের মানসিক উন্নতির জন্য শুধুমাত্র সঙ্গীত (Music), সাহিত্য (Literature) এবং প্রাথমিক গণিত (Primary Mathematics) শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেন।

২। দ্বিতীয় স্তর (১৮-২০ বছর): প্লেটোর প্রাথমিক শিক্ষার দ্বিতীয় স্তর ১৮-২০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এ দুই বছর সংরক্ষিত থাকবে মূলত শরীর চর্চ্চা বা ব্যায়াম (Gymnastics) ও সামরিক কৌশল (Military skill) শিক্ষার জন্য। এ দুই বছর অপর কোন বিষয় অধ্যয়নের বিশেষ কোন অবকাশ থাকবে না। প্লেটো মনে করেন, শিক্ষার্থীরা শরীর চর্চা ও সামরিক বিদ্যার মাধ্যমে আত্মসংযম, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তী ও পরিশ্রমী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। অন্তবর্তীকালীন এ দুই বছরের শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা তৈরি হবে সুদক্ষ সৈনিকরূপে।
প্রাথমিক শিক্ষায় যারা সত্যিকার প্রতিভার পরিচয় দিতে পারবে তাদেরকে উচ্চ শিক্ষার জন্য মনোনীত করা হবে। এই মনোনয়ন একটি গণপরীক্ষার (Public Examination) মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এভাবে উচ্চ শিক্ষার জন্য যারা মনোনীত হবে তাদেরকে উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য উপযুক্ত বলে স্থির করা হবে।

সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

১৮.
'সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য' কার মতবাদ?
  1. বোদ্যা
  2. হবস
  3. মার্কস
  4. অস্টিন
সঠিক উত্তর:
বোদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বোদ্যা
ব্যাখ্যা

জঁ বোদ্যা (Jean Bodin, ১৬ শতকের) প্রখ্যাত ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ। তাঁর মূল তত্ত্ব সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) । তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ, অবিভাজ্য ও চিরস্থায়ী। কোনো অন্যান্য ক্ষমতা বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা বিভক্ত করা যায় না। সুতরাং “সার্বভৌমত্ব অবিভাজ্য” মূলত বোদ্যার মতবাদ।
-  থমাস হবস (Thomas Hobbes): সার্বভৌমত্ব শক্তির ধারণা দিয়েছেন। তবে তিনি মূলত রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত বলেছেন, “লেভিয়াথান” গ্রন্থে। “অবিভাজ্য” শব্দটি বোদ্যার মতো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
- কার্ল মার্কস রাষ্ট্রকে শ্রেণী সংগ্রামের একটি মাধ্যম হিসেবে দেখেছেন। সার্বভৌমত্ব বা অবিভাজ্যতার তত্ত্ব তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- জন অস্টিন সার্বভৌমত্বের  আইনের দর্শন  এবং কর্তৃত্বের উপর জোর দিয়েছেন। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

১৯.
প্লেটো শিক্ষা ব্যবস্থার উচ্চতর স্তরে পর্যায়- 




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্লেটো উচ্চতর শিক্ষার তিনটি স্তর নির্ধারণ করেন। স্তরগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
১। প্রথম স্তর (২০-৩০ বছর): উচ্চতর শিক্ষার প্রথম স্তর হবে ২০-৩০ বছর পর্যন্ত। এ স্তরে মনোনীত শিক্ষার্থীরা অধিকতর জটিল বিষয়াদি অধ্যয়ন করবে। তাই অধ্যয়নের বিষয়গুলো অত্যন্ত গভীরভাবে অনুশীলন করানো হয়। এ স্তরে শিক্ষার বিষয় হবে গণিত, জ্যোতিষশাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র, জ্যামিতি ইত্যাদি। অতঃপর ৩০ বছর সময়ে নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অকৃতকার্যরা সরকারের অধঃস্তন পদে নিযুক্ত হবে এবং কৃতকার্যরা পরবর্তী স্তরে শিক্ষালাভের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। 
২। দ্বিতীয় স্তর (৩০-৩৫ বছর): উচ্চতর শিক্ষার দ্বিতীয় স্তর হলো ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত। এ স্তরে শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চতর দর্শন (Higher Philosophy) এবং অধিবিদ্যা (Metaphysics) শিক্ষা দেয়া হবে। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ ও উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণে বিশেষ পারদর্শী হবে। 
৩। তৃতীয় স্তর (৩৫-৫০ বছর)ঃ ৩৫ বছর সমাপ্ত হলেই শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে না। এরপরও আরো ১৫ বছর (৩৫-৫০ বছর)-এর জন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করবেন। তবে এ স্তর মূলত বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। 
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

২০.
অধ্যাদেশ দ্বারা রাষ্ট্রপতি কোন্ বিধান করতে পারেন না?
  1. বিচার সংক্রান্ত
  2. আইন মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত
  3. সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্ত
  4. পরিবেশ সংক্রান্ত
সঠিক উত্তর:
সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবিধান পরিবর্তন সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা

- সংবিধান অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতিতে লেজিসলেটিভ পাওয়ার ব্যবহার করে রাষ্ট্রপতি যে আইন প্রণয়ন করেন তাকে অধ্যাদেশ বলে।
- এটি সংসদের অনুপস্থিতিতে বা জরুরি অবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন, কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন করতে পারেন না।
অধ্যাদেশ দ্বারা কোনো ধারা পরিবর্তন বা সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। এটি শুধুমাত্র সংসদে প্রস্তাব ও অনুমোদনের মাধ্যমে করা যায়।
- বিচার সংক্রান্ত, আইন মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত বা পরিবেশ সংক্রান্ত আইন অধ্যাদেশের মাধ্যমে করা সম্ভব।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক

২১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রের শিরোনাম কি ছিল?
  1. The Proclamation of Bangladesh
  2. The Declaration of Independence
  3. The Proclamation of Independence
  4. The Independence of Bangladesh
সঠিক উত্তর:
The Proclamation of Independence
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The Proclamation of Independence
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশের সরকার স্থাপন ও কার্যক্রম শুরু করে।
ঘোষণাপত্র (Proclamation)ঃ ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধরত নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে প্রণীত। এটি বাংলাদেশের স্বীকৃত সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করে।
অফিসিয়াল শিরোনাম: “The Proclamation of Independence” । এটি বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানিক ভিত্তি ও বৈধতার ঘোষণা। পরে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ে স্বাধীন বাংলাদেশ স্বীকৃত হয়।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক

২২.
অনুন্নত রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার কারন-
  1. শিল্পায়নের অভাব
  2. সচেতনতার অভাব
  3. অনুন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র (Bureaucracy) হচ্ছে সরকারি কাজকর্মের স্বয়ংক্রিয় ও নিয়মিত প্রক্রিয়া।
- অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে: প্রশাসনিক দক্ষতা ও সংস্থা স্বচ্ছতা সীমিত;রাজনীতিক, আইনগত, সামাজিক প্রেক্ষাপট খুবই জটিল। এই কারণে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, কারণ এটি নীতি ও আইন কার্যকর করতে সাহায্য করে;সরকারি কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে;রাজনৈতিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক। 
- রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে আমলাতন্ত্রের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় সরকারি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের জন্য। 
- শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রভাবিত করতে পারে, তবে মূল কারণ নয়।
- সচেতনতার অভাব থাকলেও এটি মূল কারণ নয়।
-  শিল্পায়নের অভাবে প্রশাসনের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।
 সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম

২৩.
'প্রজাতন্ত্র' শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্লেটো
ব্যাখ্যা

- সক্রেটিস (Socrates)  ছিলেন প্রধানত দার্শনিক, রাজনীতি বা রাষ্ট্রের তত্ত্বে লিখেছেন না। “প্রজাতন্ত্র” শব্দটির প্রবর্তন তার সাথে যুক্ত নয়।
- প্লেটো (Plato) তার গ্রন্থ “The Republic” (Politeia)-এ প্রথমবার রাষ্ট্র এবং ন্যায়পরায়ণ সমাজ নিয়ে আলোচনা করেছেন। “Republic” শব্দটি প্রজাতন্ত্রের প্রাথমিক ধারণা হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
- এরিস্টটল (Aristotle) “Politics” গ্রন্থে রাষ্ট্র ও সরকারের ধরণ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তবে “প্রজাতন্ত্র” শব্দটির প্রথম ব্যবহার করেননি।
- জন লক (John Locke) আধুনিক যুগে লিবারেল প্রজাতন্ত্র ও সামাজিক চুক্তি নিয়ে লিখেছেন, তবে প্রথম ব্যবহারকারী নন।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

২৪.
'গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও' নীতিটি প্রবর্তন করেন কে?
  1. কার্ল মার্কস
  2. ভি আই লেনিন
  3. জোসেফ স্ট্যালিন
  4. মাও সেতুং
সঠিক উত্তর:
মাও সেতুং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাও সেতুং
ব্যাখ্যা

- “গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও” (Encircle the cities from the villages) নীতি হলো চীনা কমিউনিস্ট বিপ্লবের সামরিক কৌশল।উদ্দেশ্যগ্রামাঞ্চল থেকে শহর দখল করা, কৃষক ও গ্রাম্য জনসমাজের সমর্থন নিয়ে শহরের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করা। এটি শহর-নাগরিক কেন্দ্রের উপর সরাসরি আক্রমণ না করে, ধীরে ধীরে শহর নিয়ন্ত্রণের কৌশল। মাও সেতুং চীনা কমিউনিস্ট নেতা গ্রাম ভিত্তিক বিপ্লবের পিতা। “গ্রাম দিয়ে শহর ঘেরাও” তাঁর নীতি।
- কার্ল মার্কস (Karl Marx) মূলত শ্রমিক ও শিল্পকর্মী শ্রেণীর বিপ্লববাদী তত্ত্ব প্রণয়ন করেছেন। চীনের গ্রাম ভিত্তিক বিপ্লব নীতি তাঁর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
- ভি আই লেনিন (V. I. Lenin) শহর-শ্রমিক বিপ্লব নিয়ে কাজ করেছেন। গ্রাম ভিত্তিক কৌশল চীনে নয়, তাই এই নীতি তাঁর নয়।
- জোসেফ স্ট্যালিন (Joseph Stalin) সোভিয়েত যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতা ও শিল্পায়নের উপর জোর দিয়েছেন, তবে গ্রাম-নির্ভর বিপ্লব কৌশল তাঁর নয়।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান,দক্ষিণ কোরিয়া- প্রফেসর ইয়াসমিন বেগম 

২৫.
সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রবক্তা হচ্ছেন-
  1. রুশো, লক, হবস
  2. রুশো, প্লেটো, মার্কস
  3. হবস, লক, মার্কস
  4. মার্কস, হবস, লক
সঠিক উত্তর:
রুশো, লক, হবস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো, লক, হবস
ব্যাখ্যা

সামাজিক চুক্তিঃ রাষ্ট্রদার্শনিকদের মতে, সামাজিক চুক্তি হলো রাষ্ট্রের উৎপত্তির কাল্পনিক মতবাদ। সামাজিক মতবাদ অনুসারে রাষ্ট্র বিধাতার সৃষ্টি নয়; বরং সমাজের জনগণের মাঝে চুক্তি সম্পাদনের ফলে রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়েছে। আদিম সমাজ কোনোসামাজিক চুক্তিরাষ্ট্রের অধীন ছিল না। এ আদিম অবস্থাকে সামাজিক চুক্তি মতবাদীরা প্রকৃতির রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। কালের বিবর্তনে প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠনে উদ্যোগী হয়।
হবসের সামাজিক চুক্তিঃ হবস প্রকৃতির রাজ্য সম্পর্কে বলেন যে, "প্রকৃতিগতভাবেই মানুষ সঙ্গীহীন, অসহায়, হবসের সামাজিক চুক্তি নোংরা, পশুবৎ, স্বার্থবাদী ও ক্ষণস্থায়ী।" হবসের মতে, এ অবস্থাথেকে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য মানুষ চুক্তিবদ্ধ হয়ে একটি সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা ভাবল। হবস একপাক্ষিক চুক্তির কথা বলেন। হবসের চুক্তির একটি বৈশিষ্ট্য হলো মানুষ চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে চুক্তিভঙ্গ করার অধিকার হারাল।
জন লকের সামাজিক চুক্তিঃ জন লক মনে করেন, প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ ছিল স্বাধীন, মুক্ত। তারা নিজের মতো থাকত। তাদের স্বাধীনতা ছিল বন্ধনহীন। প্রকৃতির রাজ্যে শান্তি, সদিচ্ছা, পারস্পরিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসুবিধারজন লকেরসামাজিক চুক্তিকারণে এর স্বাচ্ছন্দ্য গতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে লক সামাজিক চুক্তির কথা বলেন। লকের মতে, সামাজিক চুক্তি দুই প্রকার। যথা: ১. সামাজিক চুক্তি ও ২. সরকারি চুক্তি।
রুশোর সামাজিক চুক্তিঃ রুশো বলেন যে, প্রকৃতির রাজ্যের মানুষ স্বার্থপর, কলহপ্রিয় ও আত্মকেন্দ্রিক ছিল না। প্রকৃতির রাজ্যে কোনো স্থায়ী পরিবার ছিল না বলে তাদের মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা,মায়ামমতা ছিল না। রুশোর মতে, প্রকৃতির রাজ্যের মানুষের বুশোর সামাজিক চুক্তি উদ্দেশ্য ছিল দুটি। যথা: ১. প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে রক্ষা ও ২. নিজেকে ভালোবাসা। রুশোর মতে, "যেহেতু মানুষ বিদ্যমান শক্তিকে একত্রিত করা ছাড়া নতুন কোনো শক্তিকে জন্ম দিতে পারে না। তাই নিজেদের রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া ব্যতীত কোনো গত্যন্তর ছিল না।  
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

২৬.
জুলাই ২০২৪ হতে জুন ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশী অভিবাসীরা দেশে কত বৈদেশিক মুদ্রা রেমিটেন্স হিসাবে পাঠিয়েছে?
  1. ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  2. ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  3. ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  4. ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
সঠিক উত্তর:
২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- ২০২৪–২৫ অর্থবছরের মট প্রবাসী আয় ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার।
- কাছাকাছি হিসাবে ২৯ বিলিয়ন উত্তর নেওয়া হলো 
-  গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ২ হাজার ৩২৯ কোটি ডলারের। তার মানে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক ৭ শতাংশ।

সূত্রঃ প্রথম আলো ,২২ জুন,২০২৫

২৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কততম অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে?
  1. ২য় অধ্যায়
  2. ৩য় অধ্যায় 
  3. ৫ম অধ্যায়
  4. ৭ম অধ্যায়
সঠিক উত্তর:
৩য় অধ্যায় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩য় অধ্যায় 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য়  অধ্যায়ে মৌলিক অধিকার বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫ম  অধ্যায়ে আইনসভা বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ম  অধ্যায়ে ্নির্বাচন বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ২য়  অধ্যায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি  বিষয়ে বর্ননা করা হয়েছে। 
সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান 

২৮.
১৯৬৯ সালের গণ অভুত্থানের কারণ- i) পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য; ii) ছয় দফা আন্দোলনের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের ঐক্যবদ্ধতা; iii) ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন;
  1. i)
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

- ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে সংঘটিত হয়। এটি মূলত পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ, ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতা সক্রিয় হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টা ছিল।
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্যঃ পশ্চিম পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রাধান্য রাখে। পূর্ব পাকিস্তান উন্নয়ন ও সুযোগে বঞ্চিত ছিল।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের ঐক্যবদ্ধতাঃ শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা দাবি (১৯৬৬) পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে একত্রিত করেছিল। রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং গণ অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়।
- ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলনঃ ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন (১৯৬৯) শিক্ষার পরিবেশ, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বাধিকার অর্জনে প্রভাব ফেলেছিল। এটি জনগণের আন্দোলনের সাথে একত্রিত হয়ে গণ অভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করে।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

২৯.
বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে কতজন গভর্নর নিয়োগ করা হয়েছিল?
  1. ২৩ জন
  2.  ৪৪ জন
  3. ৫০ জন
  4. ৬০ জন
সঠিক উত্তর:
৬০ জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০ জন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ৬১ জন। অপশনে ৬১ না থাকায় কাছাকাছি সংখ্যা হিসেবে ৬০ জন উত্তর রাখা হয়েছে। 

- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ চালু করা হয়। 
- দেশকে পুনর্গঠনের জন্য ৬১ জেলায় ভাগ করা হয়েছিল। 
- প্রত্যেকটি জেলার প্রধান ছিলেন একজন করে গভর্নর। 
- ১৯৭৫ সালের ১৬ জুলাই তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। 
- ৬১ জন গভর্নরের মধ্যে ৩৩ জন ছিলেন সংসদ সদস্য, ১৩ জন ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, একজন সামরিক কর্মকর্তা এবং বাকি ১৪ জন বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক,২১ ডিসেম্বর,২০২১। 

৩০.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়টি বিকল্প রাখা হয়েছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
সঠিক উত্তর:
৬টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬টি
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৬টি বিকল্পঃ  
 (১) সর্বশেষ রিটায়ার্ড প্রধান বিচারপতি।
(২) ২য় সর্বশেষ রিটায়ার্ড প্রধান বিচারপতি।
(৩) আপিল বিভাগের সর্বশেষ রিটায়ার্ড বিচারপতি।
(৪) আপিল বিভাগের ২য় সর্বশেষ রিটায়ার্ড বিচারপতি।
(৫) যোগ্যতা সম্পন্ন বাংলাদেশের যে-কোন নাগরিক।
(৬) রাষ্ট্রপতি নিজেই।
সূত্রঃ সংবিধানের পূর্বের বিলুপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত  ৫৮(খ) অনুচ্ছেদ।

৩১.
যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের দুই কক্ষের নাম হলো- 
  1.  হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডস
  2. হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব সিনেট
  3. হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব সিনেট
  4. হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কংগ্রেস
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: সিনেট ও হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভস। 
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ (Congress) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট (bicameral):  
১. Senate (সিনেট) প্রতিটি রাজ্য থেকে ২ জন করে নির্বাচিত মোট ১০০ জন
২. House of Representatives (প্রতিনিধি পরিষদ / হাউস অব রেপ্রেজেন্টেটিভস) জনসংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলোতে আসন বণ্টন। মোট ৪৩৫ জন।

-হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব লর্ডস  ব্রিটিশ সংসদের কক্ষ, যুক্তরাষ্ট্র নয়।
- হাউস অব কমন্স এবং হাউস অব সিনেট -হাউস অব কমন্স ব্রিটেনে, যুক্তরাষ্ট্রে নয়।
- হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব সিনেট -হাউস অব লর্ডস ব্রিটেনে।
- হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কংগ্রেস 
-  প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সংসদের সঠিক নাম নেই।

সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম।

৩২.
দাসদের এরিস্টটল কি বলে অবহিত করেছেন?
  1. প্রানীবাচক সম্পত্তি
  2. সহায়ক সদস্য
  3. প্রয়োজনীয় সদস্য
  4. নিকৃষ্ট প্রাণী
সঠিক উত্তর:
প্রানীবাচক সম্পত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রানীবাচক সম্পত্তি
ব্যাখ্যা

- এরিস্টটল তাঁর “The Politics” গ্রন্থে তিনি দাসত্বের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি পরিবার থেকে রাষ্ট্রের উৎপত্তির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে গার্হস্থ্য অর্থনীতির (Household Economy) প্রয়োজন অনুভব করেন এবং এর উপর অত্যধিক গুরুত্বও আরোপ করেন। 
- এরিস্টটলের মতে, পরিবার তথা গার্হস্থ্য অর্থনীতির বেশ কিছু উপকরণের প্রয়োজন। প্রতিটি শিল্পকলার জন্য যেমন উপযুক্ত উপকরণের প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনি গার্হস্থ্য অর্থনীতির জন্যও কিছু সংখ্যক উপকরণের প্রয়োজন রয়েছে এ সকল উপকরণ যন্ত্র সদৃশ।
- গার্হস্থ্য অর্থনীতির জন্য তিনি দু'ধরনের যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন- অজৈব যন্ত্রপাতি (Inanimate tools), যেমনঃ খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছদ, সম্পদ ইত্যাদি এবং জৈব যন্ত্রপাতি (Animate tools), যেমন: গৃহপালিত পশু, দাস ইত্যাদি।
-  এ ধারণার বশবর্তী হয়ে তিনি দাসকে তাঁর প্রভুর জীবন্ত সম্পদ এবং কর্ম সম্পাদনের হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, "A slave is a living possession of his master and an insturment of action"। 
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মন 

৩৩.
'Everything for the state, nothing against the state and nothing outside the state' কোন ধরনের শাসন ব্যবস্থার মূলমন্ত্র?
  1. কর্তৃত্ববাদী
  2. ফ্যাসিবাদী 
  3. সমাজতান্ত্রিক 
  4. গণতান্ত্রিক
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্তৃত্ববাদী
ব্যাখ্যা

- 'Everything for the state, nothing against the state and nothing outside the state'-কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার মূলমন্ত্র। উক্তিটি মূলত মুসোলিনীর। তিনি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্রের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো মত বা কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের বাইরে থাকতে পারবে না।কর্তৃত্ববাদের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। 
- সমাজতান্ত্রিক (Socialist) সমাজতন্ত্রে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতার উপর গুরুত্ব, রাষ্ট্রের চরম সমর্পণ নয়।
- গণতান্ত্রিক (Democratic)  গণতন্ত্রে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে। উক্তিটি গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
 সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন 

৩৪.
মুক্তিযুদ্ধে কোন্ সেক্টর নৌ-কমান্ডোদের দ্বারা গঠিত হয়েছিল?
  1. ৭ নম্বর সেক্টর
  2. ৯ নম্বর সেক্টর
  3. ১০ নম্বর সেক্টর
  4. ১১ নম্বর সেক্টর
সঠিক উত্তর:
১০ নম্বর সেক্টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ নম্বর সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডোদের দ্বারা গঠিত সেক্টরটি ছিল ১০ নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল না, বরং দেশের অভ্যন্তরের সমস্ত নৌ চলাচল, বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণে ছিল।  
১০ নম্বর সেক্টর:  নৌ-কমান্ডো বাহিনী এই সেক্টরের অধীনে ছিল। এই সেক্টরটি সরাসরি প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এর কোনো নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিল না। সেক্টর কমান্ডার যখন সেক্টরে অপারেশন চলত, তখন সেক্টরের কমান্ডারদের সহযোগিতায় নৌ-গেরিলারা কাজ করত।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৩৫.
কোন্ দেশের সংবিধান সবচেয়ে সহজে পরিবর্তন করা যায়?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র 
  3. বাংলাদেশ
  4. নেপাল
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

সংবিধান সাধারণত দুই ধরনের হয়:
কঠোর (Rigid) সংবিধান – পরিবর্তন কঠিন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়া প্রয়োজন। উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্র
নমনীয় (Flexible) সংবিধান – সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো সহজেই পরিবর্তন সম্ভব। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের সংবিধান লিখিত এবং অলিখিত উৎসের সংমিশ্রণ, মূলত নমনীয়। সংবিধান পরিবর্তন করতে সাধারণ আইন প্রণয়নের মতো সাধারণ সংসদীয় ভোট যথেষ্ট। তাই সহজেই পরিবর্তন সম্ভব।
- যুক্তরাষ্ট্র সংবিধান অত্যন্ত কঠোর। সংশোধনের জন্য কংগ্রেস ও রাজ্যগুলোর বিশেষ অনুমোদন দরকার।
বাংলাদেশ সংবিধান আংশিকভাবে কঠোর, সংশোধনের জন্য সংসদের তিন-চতুর্থাংশ সমর্থন প্রয়োজন।
- নেপাল নেপালের সংবিধান লিখিত এবং কিছুটা কঠোর, সহজভাবে পরিবর্তন করা যায় না।
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম       

৩৬.
জাতিগত বৈচিত্রের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মানুষকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ৬ ভাগে
  2. ৫ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৩ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বিভিন্ন জাতি ও উপজাতি বাস করে। জাতিগত বৈচিত্র্য অনুযায়ী মানুষকে কয়টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায় তা সমাজবিজ্ঞান এবং নৃতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়। 

প্রধান বিভাগসমূহ:
১. বাঙালি – মোট জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ (~৯৮%)
২. পাহাড়ী জনগণ (উপজাতি) – যেমন চট্টগ্রামের ট্রাইবাল গ্রুপ (চাকমা, মারমা, মারদি, আদি-বাসী ইত্যাদি)
৩. পাড়ী/আদিবাসী জনগোষ্ঠী – সিলেট, রাজশাহী, খাগড়াছড়ি অঞ্চলের কিছু জনগোষ্ঠী

সূত্রঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস-সৈয়দ নুরুল হক।

৩৭.
সুশাসনের প্রধান সমস্যা হলো-
  1. সুশিক্ষার অভাব
  2. সচেতনতার অভাব
  3. কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা চর্চা
  4. এককেন্দ্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা চর্চা
ব্যাখ্যা

- সুশাসন মানে ন্যায়পরায়ণ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন যা জনগণের চাহিদা অনুযায়ী নীতি ও পরিসেবা বাস্তবায়ন করে। 
- সুশাসনের জন্য প্রধান শর্ত: ক্ষমতার বণ্টন ও ভারসাম্য,জনগণের অধিকার ও অংশগ্রহণ,স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। 
- সুশাসনের প্রধান সমস্যা হলো ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত চর্চা। অর্থাৎ, ক্ষমতা এক কেন্দ্রে স্ফীত হলে প্রশাসন জনকল্যাণ ও জবাবদিহিমূলক হয় না। ফলে নীতি কার্যকর হয় না,দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়, জনগণের অংশগ্রহণ সীমিত হয়।
- সুশিক্ষার অভাব সমস্যা হতে পারে, কিন্তু প্রধান সমস্যা নয়।
- সচেতনতার অভাব এটি প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু মূল কারণ ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত ব্যবহার।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৩৮.
ইমাম গাযযালীর রাষ্ট্রদর্শনের মূল ভিত্তি কী?
  1. সামরিক শক্তি
  2. ধর্ম ও নৈতিকতা
  3. অর্থনৈতিক শক্তি
  4. সামাজিক ঐক্য
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ও নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্ম ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

- ইমাম গাযযালী (Al-Ghazali, 1058–1111) ইসলামি দার্শনিক, তাত্ত্বিক ও সুফি। তাঁর রাষ্ট্রদর্শন মূলত ইসলামিক নীতি ও নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে। রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নৈতিক ও ধর্মীয় আদর্শ রক্ষা ও বাস্তবায়ন। শাসক ও নাগরিক উভয়ই ধর্ম ও নৈতিকতার দিকে অঙ্গীভূত থাকবেন। রাষ্ট্রের শক্তি ধর্ম ও নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
- সামরিক শক্তি গাযযালী সামরিক শক্তিকে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি বলে মনে করেননি।
- অর্থনৈতিক শক্তি রাষ্ট্র পরিচালনার একটি উপায়, কিন্তু মূল ভিত্তি নয়।
- সামাজিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এটি ধর্ম ও নৈতিকতার ফলাফল হিসেবে আসে।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা-অধ্যাপক একেএম শহীদুল্লাহ

৩৯.
আমলাতন্ত্রের প্রধান কাজ কোনটি?
  1. বিধি প্রণয়ন করা
  2. রেগুলেশন প্রণয়ন করা
  3. প্রবিধান প্রণয়ন করা
  4. সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করা।
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন বাস্তবায়ন করা।
ব্যাখ্যা

- আমলাতন্ত্র হলো রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যা আইন ও নীতিমালা কার্যকর করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। মূল উদ্দেশ্য সরকারের নীতি বাস্তবায়ন,প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা,জনগণের সেবা নিশ্চিত করা। 
- আইন প্রণয়নের দায়িত্ব সংসদ বা আইন প্রণেতাদের, আমলাতন্ত্রের নয়।
- কিছু প্রশাসনিক নিয়ম প্রণয়ন করতে পারে, তবে প্রধান কাজ নয়।
- প্রবিধান প্রণয়ন করা  আইনপ্রণয়ন বা নীতি নির্ধারণের সাথে সম্পর্কিত, প্রধান কাজ নয়।
- আমলাতন্ত্রের প্রধান কাজ হলো সরকার কর্তৃক প্রণীত আইন সুষ্ঠু ও নিয়মিত বাস্তবায়ন করা ।এটি রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি-এম রফিকুল ইসলাম 

৪০.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে- i) জনগনের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ত রক্ষা; ii) বিশ্ব শান্তি রক্ষায় অংশগ্রহন করা; iii) সামরিক জোটে অংশগ্রহণ করা;
  1. i
  2. i ও ii 
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i ও ii 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i ও ii 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল লক্ষ্যঃ 
- জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা
- জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন
- সাম্প্রদায়িক ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা
- সাংবাদিক ও কূটনৈতিক নীতিতে নিরপেক্ষ অবস্থান
- বাংলাদেশ সাধারণত সামরিক জোট বা শক্তিশালী রাজনৈতিক জোটে অংশগ্রহণ করে না যা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। 
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক-ড. মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম 

৪১.
কল্যাণ রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো-i) ব্যক্তি স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; ii) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; iii) সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; উপরের কোনটি সঠিক?
  1. i
  2. i ও ii 
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

- কল্যাণ রাষ্ট্র (Welfare State): রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
- কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য: ব্যক্তি স্বাধীনতা,অর্থনৈতিক সুযোগ ও স্বাধীনতা,সামাজিক নিরাপত্তা (যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পেনশন) নিশ্চিত করা। 
- নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষা করা।
- সবাইকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অধিকার দেওয়া।
- স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি-এম রফিকুল ইসলাম 

৪২.
কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- i) শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ক্ষমতার উপস্থিতি; ii) নাগরিক স্বাধীনতার অভাব; iii) আইনের শাসন যথাযথ প্রয়োগের অভাব। কোনটি সঠিক? 
  1. i
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

কর্তৃত্ববাদী শাসন হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং নাগরিকদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত থাকে।
শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ক্ষমতা → শাসক বা সরকার অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা ব্যবহার করে।
নাগরিক স্বাধীনতার অভাব → মতপ্রকাশ, সমবেত কার্যক্রম, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সীমিত।
আইনের শাসন যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় না → আইন প্রায়শই শাসকের সুবিধা অনুযায়ী প্রয়োগ হয়।
 সূত্রঃ আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা- মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন

৪৩.
মানুষের স্বাধীনতা রুশোর মতে কিভাবে সীমাবদ্ধ হয়েছিল?
  1. রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে
  2. ধর্মীয় আইনের মাধ্যমে
  3. পারিবারিক আইনের মাধ্যমে
  4. সামাজিক আইনের মাধ্যমে
সঠিক উত্তর:
সামাজিক আইনের মাধ্যমে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক আইনের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

রুশো (1712–1778) ফরাসি দার্শনিক, সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবর্তক। তাঁর “The Social Contract” গ্রন্থে তিনি বলেন: মানুষ প্রাকৃতিকভাবে স্বাধীন এবং সমান। তবে সমাজে প্রবেশের সাথে সাথে মানুষের স্বাধীনতা সামাজিক শর্ত ও আইন দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়।মানব স্বাধীনতা রাষ্ট্রের আইন বা সামাজিক শর্তের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাতে সামাজিক সুসমন্বয় এবং সাধারণ কল্যাণ বজায় থাকে।
 - রুশো মনে করতেন, মানুষের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয় সমাজের নিয়ম ও আইন দ্বারা।
রুশোর তত্ত্বে রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেননি , ধর্ম প্রধান সীমাবদ্ধতা নয়, পারিবারিক আইন মানুষের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার প্রধান কারণ নয়।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি-এম রফিকুল ইসলাম 

৪৪.
স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার কোন তারিখে শপথ গ্রহন করে?
  1. ২৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ২৭ এপ্রিল ১৯৭১
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার  শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার (বর্তমানে মুজিবনগর) এক আমবাগানে অনুষ্ঠিত হয়।
- এই অনুষ্ঠানে অধ্যাপক এম. ইউসুফ আলী শপথ বাক্য পাঠ করান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। 
- এই শপথ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের প্রথম সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। 
- অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি ১২৭ জন সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। 
- এই শপথ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার গঠিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ভিত্তি স্থাপিত হয়।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক    

৪৫.
কোন ঐতিহাসিক বাংলাকে 'বুলগাকপুল বা বিদ্রোহের নগরী' হিসেবে উল্লেখ করেন? 
  1. মিনহাজ-ই-সিরাজ
  2. জিয়াউদ্দিন বারানী
  3. শামস-ই-শিরাজ
  4. ইবনে বতুতা।
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিয়াউদ্দিন বারানী
ব্যাখ্যা

- ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে "বুলগাকপুর" বা বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
- তিনি দেখিয়েছিলেন যে, ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা ছিল বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ, কারণ বাংলার শাসকরা দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীন হতে চাইতেন। 
- মধ্যযুগে বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে একটি বিশৃঙ্খল ও গোলযোগপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করত। 
- এই সময়ে বাংলার শাসকরা কেন্দ্রীয় দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনতা অর্জনের চেষ্টা করতেন, যা তাদের ব্যর্থতা ও দিল্লির আক্রমণের মুখে আরও বেশি গোলযোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করত। 
- এই বিদ্রোহ এবং দিল্লির প্রতি বিরোধিতা থেকেই জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বা বিদ্রোহের নগরী হিসেবে অভিহিত করেন। 
সূত্রঃ বাংলার ইতিহাস-মাহবুবুর রহমান 

৪৬.
বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোটঃ প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।
- দ্বিতীয় গণভোটঃ প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে ।
হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।
- তৃতীয় গণভোটঃ সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৪৭.
'The Republic of Plato is a dramatized philosophy of life' 
  1. নেটেলশীপ
  2. মেবাইন
  3. ম্যাকপারসন
  4. রুশো
সঠিক উত্তর:
ম্যাকপারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ম্যাকপারসন
ব্যাখ্যা

- সি. বি. ম্যাকফারসন (C.B. Macpherson) তার 'The Political Thought' নামক বইয়ে বলেছেন যে, প্লেটোর 'রিপাবলিক' একটি নাটকীয় মানব দর্শন, যা মূলত একটি আদর্শ রাষ্ট্রের কাঠামো এবং মানব চরিত্রের বিবর্তনকে তুলে ধরে। ম্যাকফারসন মনে করেন যে, প্লেটো তার 'রিপাবলিক' গ্রন্থে একটি আদর্শ রাষ্ট্রের চিত্র এঁকেছেন যেখানে মানব চরিত্র এবং সমাজের বিবর্তনকে একটি নাটকের মতো করে উপস্থাপন করা হয়েছে।  
- "প্লেটোর রিপাবলিক একটি নাটকীয় মানব দর্শন।"'The Republic of Plato is a dramatized philosophy of life' ঃ এর মানে হলো, প্লেটো তার 'রিপাবলিক' গ্রন্থটিকে শুধু একটি দার্শনিক আলোচনা হিসেবে না রেখে, এটিকে একটি গল্পের মাধ্যমে বা একটি নাটকের মতো করে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণা এবং মানুষের নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও সমাজের কাঠামো সম্পর্কে তার চিন্তাগুলোকে তুলে ধরেছেন।
- "নাটকীয়":  এই শব্দটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে, এখানে শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বিভিন্ন চরিত্রের কথোপকথন, সংঘাত এবং পরিণতির মাধ্যমে একটি আদর্শ সমাজ ও ব্যক্তিচরিত্রের বিবর্তনকে দেখানো হয়েছে।
সূত্রঃ The Political Thought-C.B. Macpherson

৪৮.
'Division of Work' মূলত কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. বিশেষীকরণ
  2. সমন্নয়
  3. বিকেন্দ্রীকরণ
  4. নেতৃত্ব
সঠিক উত্তর:
বিশেষীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষীকরণ
ব্যাখ্যা

- Division of Work বা শ্রম বিভাজন হলো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা। প্রতিটি অংশের জন্য একজন বা একাধিক ব্যক্তি দায়িত্ব পালন করে।
শ্রম বিভাজনের উদ্দেশ্য কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমের বিশেষীকরণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি। অর্থাৎ, শ্রমকে বিভাজন করার মূল লক্ষ্য হলো বিশেষীকরণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
- বিশেষীকরণের মাধ্যমে কর্মীরা নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী হয়ে ওঠে, যা উৎপাদন ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
- সমন্বয়  হলো বিভাজিত কাজগুলোকে সঠিকভাবে একত্রিত করা, মূল উদ্দেশ্য নয়।
- বিকেন্দ্রীকরণ ক্ষমতার বিতরণ সম্পর্কিত, কাজের বিভাজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই।
নেতৃত্ব কাজের বিভাজনের মৌলিক উদ্দেশ্য নয়।
 সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি-প্রফেসর এস এস মোঃ নূরনবী 

৪৯.
ভাষা আন্দোলনের সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস' কখন গঠিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালের ২৫ আগস্ট
  2. ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  3. ১৯৪৭ সালের ২০ মে
  4. ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিশ পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- ১৯৪৭ সালে শুধু ধর্মের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়।
- নতুন রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে বাংলা ভাষার পরিবর্তে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা উর্দু করার চিন্তা- ভাবনা শুরু করেন।
- তখন এর প্রতিবাদে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) একটি ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠন করা হয়।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তমদ্দুন মজলিস প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে দাবি তুলে বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূচনা করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৫০.
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে 'নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার' গঠিত হয় সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. একাদশ সংশোধনী
  2. দ্বাদশ সংশোধনী
  3. ত্রয়োদশ সংশোধনী
  4. চতুর্দশ সংশোধনী
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রয়োদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা

একাদশ সংশোধনী (আগস্ট, ১৯৯১)- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের কার্যক্রম বৈধ করা হয়। তাকে প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাওয়ার বিধান করা হয়।  
দ্বাদশ সংশোধনী (সেপ্টেম্বর, ১৯৯১)-সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়, উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়.  
ত্রয়োদশ সংশোধনী (মার্চ, ১৯৯৬)-সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়।  
চতুর্দশ সংশোধনী (২০০৪) এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পদের কার্যকাল সংক্রান্ত বিধানের পরিবর্তন আনা হয়। নারী সংরক্ষিত আসন বাড়ানো হয়। 
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৫১.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন্ অনুচ্ছেদে পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি উল্লেখ রয়েছে
  1. ২৪ অনুচ্ছেদে
  2. ২৫ অনুচ্ছেদে
  3. ২৬ অনুচ্ছেদে
  4. ২৭ অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর:
২৫ অনুচ্ছেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৫ অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ২৪:  জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন, স্থান এবং বস্তু সংরক্ষণ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হবে।
অনুচ্ছেদ ২৫:  আন্তর্জাতিক শান্তি, সহযোগিতা ও সংহতি বৃদ্ধি এবং বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে।
অনুচ্ছেদ ২৬:  এই সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সকল আইন বাতিল হবে। তবে, এই অনুচ্ছেদের বিধানের প্রতি দৃষ্টি রাখা হবে যে, এই সংবিধানের কোনো বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্য কোনো আইনের কোনো বিধানও বাতিল বলে গণ্য হবে না।
অনুচ্ছেদ ২৭:  সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান সুরক্ষা লাভের অধিকারী।
সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান 

৫২.
লালফিতার দৌড়াত্তের ফল হলো- i) মানুষের হয়রানি  ii) সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিলম্ব iii) রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা;
  1. i ও ii
  2. i ও iii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i ও ii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i ও ii
ব্যাখ্যা

- লালফিতার দৌড়াত্ত (Red Tape) অর্থ হলো সরকারি বা প্রশাসনিক পদ্ধতির অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন, জটিল প্রক্রিয়া ও নিষ্ক্রিয়তা। এর কারণে কার্যক্রম ধীরগতিতে ঘটে এবং নাগরিকরা হয়রানির শিকার হয়।
 - লালফিতার দৌড়াতের প্রভাবে মানুষের হয়রানি হয়। অতিরিক্ত ফর্মালিটি ও দফতরী জটিলতার কারণে নাগরিকদের সময় ও শ্রম নষ্ট হয়।
- সিদ্ধান্ত গ্রহনে বিলম্ব হলে প্রশাসনিক কাজ ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।
- রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সাথে লাল ফিতার দৌড়াত্তের সম্পর্ক নেই। 
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি-  এস মোঃ নূর নবী 

৫৩.
রাষ্ট্র হলো রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত একটি জাতি-উক্তিটি করেছেন-
  1. গেটেল
  2. গার্নার
  3. রুশো
  4. জন লক
সঠিক উত্তর:
গার্নার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গার্নার
ব্যাখ্যা

Garner defined the state as “a politically organized nation or people within a definite territory with an established government.”“একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী, যারা একটি সংগঠিত সরকার ব্যবস্থার অধীনে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকে।”
গার্নারের মতে, রাষ্ট্রের প্রধান উপাদানগুলো: 
জনসংখ্যা বা জনগণ (Nation or People)
নির্দিষ্ট ভূখণ্ড (Definite Territory)
সরকার (Government)
সার্বভৌমত্ব (Sovereignty)
- গার্নার জোর দিয়েছেন যে রাষ্ট্র শুধু জনগণ বা ভূখণ্ড নয়; এটি একটি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জাতি।

সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব- এম রফিকুল ইসলাম।

৫৪.
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য হলো-i) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার; ii) ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা; iii) এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা; উপরের কোনটি সঠিক? 
  1. i
  2. i ও ii
  3. i ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i ও ii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i ও ii
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু আছে।   রাষ্ট্রপতি = রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির ভিত্তিতে আইনসভা ,নির্বাহীবিভাগ ও বিচার বিভাগ স্বাধীন। নির্বাচিত সরকার আইনসভা থেকে স্বাধীনভাবে কার্যকর হয়। 
- আইনসভা হলো দ্বিকক্ষবিশিষ্ট  :হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (House of Representatives) ও সিনেট (Senate)।  যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা এককক্ষ নয়, দ্বিকক্ষ।
 সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম

৫৫.
সংবিধান পরিবর্তনশীল হতে হবে, অন্যথায় এটি মৃতপ্রায় দলিল- কে বলেছেন?
  1. J.S. Mills
  2. এরিস্টটল
  3. ইবনে খালদুন
  4. থমাস জেফারসন
সঠিক উত্তর:
থমাস জেফারসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থমাস জেফারসন
ব্যাখ্যা

- থমাস জেফারসন এই কথাটি বলেননি যে, "সংবিধানকে অবশ্যই নমনীয় হতে হবে; অন্যথায় এটি একটি মৃত অক্ষরে পরিণত হবে"। তবে, তিনি এর সাথে সম্পর্কিত এবং আরও বিপ্লবী একটি ধারণা প্রকাশ করেছিলেন ১৭৮৯ সালে জেমস ম্যাডিসনকে লেখা একটি চিঠিতে। সেখানে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব সংবিধান তৈরি করার অধিকার থাকা উচিত, কারণ আইন এবং সংবিধান জীবিতদের জন্য তৈরি, মৃতদের জন্য নয়।  
 - জেফারসনের মূল যুক্তিঃ  ম্যাডিসনকে লেখা চিঠিতে জেফারসন লিখেছিলেন:  "পৃথিবী সর্বদা জীবিত প্রজন্মের।" তিনি মনে করতেন যে এক প্রজন্মের কোনো অধিকার নেই পরবর্তী প্রজন্মকে তার ঋণ বা আইন দিয়ে আবদ্ধ করার। সংবিধানের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া। এই যুক্তি অনুসারে, জেফারসন হিসাব করে বলেছিলেন যে প্রতিটি সংবিধান এবং আইনের মেয়াদ ১৯ বছর পর, অর্থাৎ একটি প্রজন্মের গড় আয়ুষ্কালের পর, স্বাভাবিকভাবেই শেষ হয়ে যাওয়া উচিত। বিকল্পটি "জোরপূর্বক কাজ।" তিনি বলেছিলেন যে যদি কোনো আইন এর চেয়ে বেশি সময় ধরে বলবৎ থাকে, তবে "এটি জোরপূর্বক কাজ, অধিকারের ভিত্তিতে নয়।"
 - "মৃত অক্ষর" ধারণা "মৃত অক্ষর" ([dead letter]) শব্দটি জেফারসন এই প্রসঙ্গে ব্যবহার করেননি, তবে এটি একটি অনুরূপ ধারণা প্রকাশ করে। একটি "মৃত অক্ষর" হলো এমন একটি আইন বা সাংবিধানিক বিধান যা নথিতে বিদ্যমান থাকলেও আর বলবৎ করা হয় না বা প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। 
- যদিও জেফারসনের ১৯ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ধারণাটি একটি দার্শনিক অনুশীলন ছিল, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব নয়, তবে সাংবিধানিক নমনীয়তার ধারণাটি আমেরিকান প্রশাসনে একটি দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক, যা প্রায়শই "জীবন্ত সংবিধান" এবং "মূলবাদ" এর মধ্যে পার্থক্য হিসাবে উপস্থাপিত হয়।
 আবার, জে এস মিল ও একই কথা বলেছিলেন।  J.S. Mills বলেছেন: “The Constitution must be flexible; otherwise it becomes a dead letter.” অর্থাৎ, সংবিধান পরিবর্তনযোগ্য হতে হবে, না হলে এটি কার্যকর থাকবে না। 
 সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম

৫৬.
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে কোন্ কোন্ রাষ্ট্রের সাথে বিরোধ ছিল?
  1. ভারত ও শ্রীলঙ্কা
  2. মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা
  3. ভারত ও মিয়ানমার
  4. ভারত ও থাইল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ভারত ও মিয়ানমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারত ও মিয়ানমার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথেই বিরোধ ছিল। এই বিরোধগুলি বর্তমানে সমাধান করা হয়েছে। 
ভারত ও মিয়ানমার:  ১৯৭৪ সালে বেজলাইন থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ) দাবি করার পর থেকে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্র বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।  
মিয়ানমারের সাথে বিরোধ:  ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ এই বিরোধটি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে নিয়ে যায় এবং ২০১২ সালের ১৪ মার্চ একটি রায় হয়।  
ভারতের সাথে বিরোধ:  মিয়ানমারের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তির পর, বাংলাদেশ ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থায়ী সালিশি আদালতে মামলা করে, যার রায় ২০১৪ সালের ৭ জুলাই প্রদান করা হয়। 
সূত্রঃ বাংলাদেশের ভূগোল ও পরিবেশ– প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রব 

৫৭.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে যেটি এখনও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি?
  1. প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জবাবদিহিতা
  2. রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জবাবদিহিতা
  3. অডিটর জেনারেলের মাধ্যমে জবাবদিহিতা
  4. ন্যায়পালের মাধ্যমে জবাবদিহিতা
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পালের মাধ্যমে জবাবদিহিতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায়পালের মাধ্যমে জবাবদিহিতা
ব্যাখ্যা

প্রশাসনকে জনগণ ও সরকার উভয়ের প্রতি দায়বদ্ধ করা জরুরি।বাংলাদেশে জবাবদিহিতার কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে:
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে – বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্ট দেয়।
রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতা – সরকার ও মন্ত্রীদের প্রতি সংসদ ও জনসাধারণের দায়বদ্ধতা।
অডিটর জেনারেলের মাধ্যমে – আর্থিক খাতের তদারকি।
ন্যায়পালের মাধ্যমে – আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষী কর্মকর্তাদের শাস্তি।
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, অডিটর জেনারেল ও রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জবাবদিহিতা তুলনামূলকভাবে কার্যকর।
ন্যায়পালের  মাধ্যমে জবাবদিহিতা এখনও সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি।বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ নং অনুচ্ছেদে এর বিধান আছে কিন্তু বাস্তবে প্রয়োগ নেই। 
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি-  এস মোঃ নূর নবী 

৫৮.
' যেখানে আইনের শাসন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা'- কার মূল্যায়ন?
  1. জেন লক
  2. হ্যারল্ড জে লাস্কি
  3. এ ভি ডাইসি
  4. কার্ল মার্ক্স
সঠিক উত্তর:
জেন লক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জেন লক
ব্যাখ্যা

- "যেখানে আইন নেই সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারেনা" (In the absence of law, there is no freedom) – এই উক্তিটি বিখ্যাত দার্শনিক জন লকের। তার মতে, আইন ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন এবং আইনই স্বাধীনতার সুরক্ষা ও সম্প্রসারণ করে।  
-  জন লক তার "Two Treaties on Civil Government” গ্রন্থে এই ধারণাটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন যে আইন কেবল স্বাধীনতাকে দমন বা বিলুপ্ত করার জন্য নয়, বরং তা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়।  
- লকের মতে, স্বাধীনতা এমন একটি জিনিস যা আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। যেখানে কোনো আইন নেই, সেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবে না এবং নিজের অধিকার রক্ষা করতে পারবে না, কারণ যে কেউ তাকে বাধা দিতে পারে এবং কোনো প্রতিকার থাকবে না। 
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৫৯.
'K.al.iqtisad Fi-L-itiqad' গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. আল ফারাবী
  2. ইবনে খালদুন
  3. আল গাজজলী
  4. ইবনে সিনা
সঠিক উত্তর:
আল গাজজলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল গাজজলী
ব্যাখ্যা

‘Al-Iqtisad Fi-L-Itiqad’ (বা Kitab al-Iqtisad fi al-I'tiqad) হলো ইমাম আল-গায্জালী (1058–1111) রচিত ইসলামী তত্ত্ব ও ধর্মশাস্ত্র সম্পর্কিত একটি গ্রন্থ। গ্রন্থটি ইসলামী তত্ত্ব ও ফিকহের মধ্যে সমন্বয় ও সমঝোতার ভূমিকা রাখে। মূল লক্ষ্য মধ্যপন্থী দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামি বিশ্বাস ব্যাখ্যা করা। 
- আল ফারাবী দার্শনিক, কিন্তু এই গ্রন্থটি লিখেননি।
- ইবনে খালদুন সমাজতত্ত্ব ও ইতিহাসবিদ, ধর্মীয় তত্ত্বের জন্য নয়।
- ইবনে সিনা মূলত দার্শনিক ও চিকিৎসাবিদ, ধর্মীয় গ্রন্থের জন্য নয়।
সূত্রঃ প্রাচ্যের রাষ্ট্রচিন্তা- এম রফিকুল ইসলাম 

৬০.
BIMSTEC-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. দিল্লী
  3. কাঠমুণ্ডু
  4. ব্যাংকক
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা

- BIMSTEC (বিমসটেক)  হলো একটি আঞ্চলিক জোট, যার পূর্ণরূপ হলো বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (Bay of Bengal Initiative for Multi-Sectoral Technical and Economic Cooperation)।
এটি বঙ্গোপসাগরের চারপাশে অবস্থিত সাতটি দেশ-বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড-এর মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করে।
- এর সদর দপ্তর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।  
- ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।  
- উদ্দেশ্য  বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য, সংযোগ (connectivity), প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।  
সূত্রঃ বিশ্বায়ন,আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-ড হাসিবুর রহমান

৬১.
বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কবে যোগদান করে?
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৮৮ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ২০০৮ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ প্রথমবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে (UN Peacekeeping Mission) যোগদান করে ১৯৮৮ সালে।
- বাংলাদেশ United Nations–এর শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যোগ দেয় ১৯৮৮ সালে ইরান–ইরাক যুদ্ধবিরতির পর গঠিত United Nations Iran–Iraq Military Observer Group (UNIIMOG)–এ সামরিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর মাধ্যমে।এরপর থেকে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম সবচেয়ে বড় শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি।
অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য:
- আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা
- বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার
- বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা
- অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন 
সুত্রঃ সূত্রঃ বিশ্বায়ন,আঞ্চলিকতাবাদ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান-ড হাসিবুর রহমান  

৬২.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি বলতে আমরা বুঝি-
  1. বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগীতা
  2. বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সামরিক সহযোগীতা
  3. বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও সামরিক সহযোগীতা
  4. বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও সামাজিক সহযোগীতা
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগীতা
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক কূটনীতি  হলো কোনো দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং উন্নয়নমূলক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কূটনৈতিক পদক্ষেপ।
বাণিজ্য (Trade) – রফতানি ও আমদানি সম্পর্ক বৃদ্ধি
বিনিয়োগ (Investment) – বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ
উন্নয়ন সহযোগিতা (Development Cooperation) – আন্তর্জাতিক সাহায্য ও প্রকল্প সহযোগিতা
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কূটনীতি দ্বারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা পরিচালনা করে।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক কূটনীতি ব্যবহার করে অর্থনৈতিক স্বার্থ বৃদ্ধি ও দেশীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করা।
- সামরিক সহযোগীতা,সামাজিক সহযোগীতা অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ নয়।
সূত্রঃ বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক-ড. মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম

৬৩.
১৯৬২ সালে আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলনে 'ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠিত হয় কার নেতৃত্বে?
  1. নুরুল আমিন
  2. হামিদুল হক চৌধুরী
  3. আতাউর রহমান খান
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

৪ অক্টোবর ১৯৬২ সালে, রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট নামে পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধী নেতাদের সাথে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করেন। ফ্রন্ট বলেছে, সংবিধানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করায় দেশে গণতন্ত্র আনাই তাদের লক্ষ্য।
- ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (National Democratic Front - NDF) ছিল আয়ুব খান–এর শাসনবিরোধী একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক জোট।
- ১৯৬২ সালের সংবিধানের মাধ্যমে আরোপিত স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার।
- সামরিক শাসনের অবসান ও জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠন।
- ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পটভূমি তৈরি করে।
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৬৪.
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কোন্ খাতে সবচেয়ে বেশী বিনিয়োগ করছে?
  1. কৃষি
  2. প্রতিরক্ষা
  3. জ্বালানী ও গ্যাস
  4. শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
জ্বালানী ও গ্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্বালানী ও গ্যাস
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বাংলাদেশের শক্তি ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে।
 শক্তি ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগঃ
- যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলি বর্তমানে বাংলাদেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় 55% সরবরাহ করে এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিতে অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। 
- বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির 80% ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদিত টারবাইন দ্বারা পরিচালিত হয়। 
- ২০২৫ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্ট এলএনজি কোম্পানি বাংলাদেশ সরকারের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি বছর ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহ করবে। 
- যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID) বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ করে, তবে এটি শক্তি ও জ্বালানি খাতের তুলনায় কম।
- USAID বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিনিয়োগ করে, যেমন জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি উন্নয়ন, তবে এটি শক্তি খাতের তুলনায় কম। 
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতে কিছু সহযোগিতা প্রদান করে, তবে এটি শক্তি খাতের তুলনায় সীমিত।
সূত্রসমূহ: Trade.gov, Reuters

৬৫.
কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাজনৈতিক দলকে 'জয়েন্ট স্টক' কোম্পানীর সাথে তুলনা করেছেন?
  1. গেটল
  2. ল্যাসওয়েল
  3. ম্যাকাইভার
  4. লি কক (Leo Cock)
সঠিক উত্তর:
লি কক (Leo Cock)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লি কক (Leo Cock)
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলকে “joint-stock company”–এর সঙ্গে তুলনা করেছেন স্টিফেন লিকক (Stephen Leacock)—হারল্ড ল্যাসওয়েল নন।

লিককের Elements of Political Science-এ রাজনৈতিক দল সম্পর্কে তিনি লেখেন:

“They constitute something like a joint stock company to which each member contributes his share of political power.”




Source: Elements of Political Science. Page: 326.

৬৬.
আমলাতন্ত্রকে দুষ্টচক্র বলেছেন কে?
  1. ম্যাক্সওয়েবার
  2. মাইকেল ক্রোজিয়ার
  3. ফাইনার
  4. ফিফনার
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ক্রোজিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাইকেল ক্রোজিয়ার
ব্যাখ্যা

- ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber) আমলাতন্ত্রকে সংগঠিত ও নিয়মমাফিক প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে দেখেছেন, তবে দুষ্টচক্রের জন্য মূল বিশ্লেষক নয়।
- মাইকেল ক্রোজিয়ার (Michel Crozier)  আমলাতন্ত্রকে দুষ্টচক্র (Vicious Circle) হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন।  আমলাতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে পরিবর্তনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একটি দুষ্টচক্র সৃষ্টি হয়, যা প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে অফুরন্ত সমস্যা তৈরি করে।কর্মকর্তারা নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তথ্য সীমিত করে, পরিবর্তন বাধা দেয়, জনগণ হতাশ হয়।
- ফাইনার / ফিফনার  প্রশাসন ও রাষ্ট্র সম্পর্কিত কাজ করেছেন, কিন্তু দুষ্টচক্র সম্পর্কিত মূল বিশ্লেষক নয়। |
উদাহরণ: সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে তথ্য বা সিদ্ধান্ত সীমিত করে। জনগণ হতাশ হয়ে প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারায়।পরিবর্তনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় → vicious circle।
সূত্রঃ লোক প্রশাসন পরিচিতি এম রফিকুল ইসলাম

৬৭.
স্বর্ণময় মধ্যপন্থার (Golden Mean) সাথে কোন্ রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর নাম জড়িত?
  1. এরিস্টটল
  2. প্লেটো
  3. হবস
  4. লক
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

এরিস্টটল তাঁর নৈতিক দর্শনে “Golden Mean” বা স্বর্ণময় মধ্যপন্থা-এর ধারণা উপস্থাপন করেছেন। এটি ব্যক্তির নৈতিক ও রাজনৈতিক জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেয়।
মধ্যপন্থা:নৈতিকতার মধ্যে অতিরিক্ততা ও অভাবের মধ্যে একটি সঠিক সমতা বা মধ্যম পথ। কোনো গুণের অতিরিক্ত বা অভাব দুই-ই অশুভ।
উদাহরণ:
সাহস (Courage): অতিরিক্ত সাহস = উদ্ধততা বা অসাধারণ ঝুঁকি নেওয়া
অপ্রচুর সাহস = ভীতু বা দম্পতিহীন
মধ্যপন্থা = বাস্তবসম্মত ও নৈতিক সাহস
উদারতা (Generosity): অতিরিক্ত = ব্যয়বহুল বা অপচয়ী
কম = কৃপণতা
মধ্যপন্থা = ন্যায্য ও পরিমিত দান
প্রয়োগ: ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের নৈতিক জীবন উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নীতি ও চরিত্র বিকাশে সুষম ও পরিমিত আচরণ-এর প্রতি উৎসাহিত করে।
 এরিস্টটলের মধ্যপন্থা নৈতিক গুণাবলীর সঠিক পরিমিতি খুঁজে বের করার তত্ত্ব।
প্লেটো (Plato) আদর্শ রাষ্ট্র ও দর্শনের উপর বেশি জোর দেন।
 হবস (Hobbes) মানব প্রকৃতি ও সামাজিক চুক্তি বিষয়ে কাজ করেছেন।
 লক (Locke) প্রাকৃতিক অধিকার ও সরকার প্রতিষ্ঠার তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছেন।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা - ইয়াসমিন বেগম 

৬৮.
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থার নাম কোনটি?
  1. Proportional Representation
  2. First past the post
  3. Run-off System
  4. Preferential Voting
সঠিক উত্তর:
First past the post
উত্তর
সঠিক উত্তর:
First past the post
ব্যাখ্যা

- যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানত রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেস নির্বাচন জন্য ব্যবহৃত হয় First-Past-The-Post (FPTP) পদ্ধতি। প্রতিটি নির্বাচনী অঞ্চল থেকে যে প্রার্থী সর্বোচ্চ ভোট পায়, সে জিতবে। ভোট গণনায় জটিলতা নেই, সরল ও দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। সাধারণত দ্বিকক্ষীয় পার্টি ব্যবস্থা সমর্থন করে।
- Proportional Representation  ব্যবহার হয় বিভিন্ন দলের ভোটের শতকরা ভাগ অনুযায়ী আসন বরাদ্দের জন্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযোজ্য নয়।
- Run-off System ব্যবহৃত হয় কিছু রাষ্ট্রে যদি কোনো প্রার্থী প্রথম রাউন্ডে নির্দিষ্ট ভোট না পায়, দ্বিতীয় রাউন্ডে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে ব্যবহৃত হয় না।
-  Preferential Voting ভোটারদের পছন্দের ক্রম অনুযায়ী ভোট দেওয়ার পদ্ধতি, যুক্তরাষ্ট্রে নেই।
 সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম   

৬৯.
কোন্ জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয়েছে?
  1. পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  3. সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  4. অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
সঠিক উত্তর:
সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) ছিল বাংলাদেশে সংবিধানের একটি প্রবর্তিত ব্যবস্থা। লক্ষ্য ছিল নির্দলীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা। এটি কার্যকর ছিল মূলত ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত।
- পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন,১৯৯১- সাধারণ সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়
- ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,১৯৯৬ (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে অংশ সীমিত ও বিতর্কিত, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কার্যকর ছিল না
- সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন,১৯৯৬ (জুন) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন; বিএনপি সরকারের পরিবর্তে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ তম সংশোধনীর পরে প্রথম নির্বাচন। 
- অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন,২০০১-  তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন কিন্তু এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কারচুপির অভিযোগ জানিয়েছিল।  সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক   

৭০.
প্লেটোর 'সদগুণ' বলতে বুঝিয়েছেন-
  1. আত্ম প্রত্যয়, প্রেষণা, নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
  2. প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
  3. প্রজ্ঞা, প্রেষণা, প্রত্যয় ও ন্যায়
  4. নিয়ন্ত্রণ, প্রেষণা, সাহস, ও ন্যায়
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়
ব্যাখ্যা

প্লেটোর মতে, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির আদর্শ গঠন “সদগুণ” দ্বারা সংজ্ঞায়িত হয়। তিনি চারটি মূল সদগুণ উল্লেখ করেছেন, যা রাষ্ট্র ও ব্যক্তির সমন্বয় ও নৈতিকতার ভিত্তি: সদগুণ অর্থ প্রজ্ঞা , সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ,ন্যায়। 
প্রজ্ঞা-যারা শাসন করে, তাদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকা উচিত
সাহস -যারা রক্ষা করে, তাদের সাহস থাকা উচিত
আত্মনিয়ন্ত্রণ -সমাজের সব অংশে নিয়ন্ত্রণ ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা
ন্যায় -প্রত্যেককে তার স্বকীয় ভূমিকা পালন করতে দেওয়া এবং অন্যের অধিকার ক্ষুন্ন না করা
ক) আত্ম প্রত্যয়, প্রেষণা, নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায় - প্রজ্ঞা ও সাহস বাদ পড়েছে, তাই ভুল।
খ) প্রজ্ঞা, সাহস, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ন্যায় -এটি প্লেটোর মূল চারটি সদগুণের সাথে সম্পূর্ণ মিলেছে।
গ) প্রজ্ঞা, প্রেষণা, প্রত্যয় ও ন্যায় - সাহস ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বাদ, ভুল।
ঘ) নিয়ন্ত্রণ, প্রেষণা, সাহস, ও ন্যায় - প্রজ্ঞা বাদ, ভুল।
 সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা-রাখী বর্মণ 

৭১.
চীনের সর্বোচ্চ বিচার বিভাগীয় সংস্থা কোনটি?
  1. সুপ্রিম পিপলস কোর্ট
  2. সুপ্রিম কোর্ট
  3. পলিটব্যুরো
  4. স্টেট কাউন্সিল
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম পিপলস কোর্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুপ্রিম পিপলস কোর্ট
ব্যাখ্যা

চীনের বিচার ব্যবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত।
প্রধান স্তরসমূহ:
পিপলস কোর্ট – স্থানীয় ও প্রাদেশিক পর্যায়ের বিচার।
সুপ্রিম পিপলস কোর্ট – চীনের সর্বোচ্চ বিচার সংস্থা, সকল বিচার কার্যক্রমের তদারকি ও সর্বশেষ আপিল।
পলিটব্যুরো – চীনের পলিটিকাল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা, বিচার নয়।
স্টেট কাউন্সিল – প্রশাসনিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্থা।
 - সুপ্রিম পিপলস কোর্ট - চীনের সর্বোচ্চ বিচার সংস্থা, যেখানে সকল ন্যায়বিচার শেষ পর্যায়ে হয়।স্থানীয় ও প্রাদেশিক আদালতগুলোর সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত আপিল ও তদারকি করে। বিচার কার্যক্রম চীনা সংবিধান ও আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট  নাম ভুল; চীনের সংজ্ঞায় Supreme People's Court।
- পলিটব্যুরো  - রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিচার সংস্থা নয়।
- স্টেট কাউন্সিল - প্রশাসনিক ও নির্বাহী সংস্থা, বিচার নয়।
 সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া- রাখী বর্মণ 

৭২.
'সংগঠিত রাষ্ট্রের প্রেক্ষিতে মানজীবনের আলোচনাই হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান' উক্তিটি কে করেছেন?
  1. গেটেল
  2. সিলি
  3. লাস্কি
  4. গার্নার
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাস্কি
ব্যাখ্যা

- অধ্যাপক লাস্কির মতে, "সংগঠিত রাষ্ট্রের প্রেক্ষিতে মানজীবনের আলোচনাই হচ্ছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান"। এর অর্থ হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান এমন একটি বিষয় যা একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে মানুষের জীবন, সমাজ এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করে। 
- এই সংজ্ঞাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পরিধিকে শুধু রাষ্ট্রের গঠন বা নীতিতেই সীমাবদ্ধ না রেখে, রাষ্ট্র কীভাবে মানবজীবনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে, সেই বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি বিজ্ঞান যা রাষ্ট্র সম্পর্কিত আলোচনা করে। 
- সংগঠিত রাষ্ট্রএমন একটি রাষ্ট্র যেখানে সুনির্দিষ্ট কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান। 
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মূল বিষয় হলো একটি রাষ্ট্রের মধ্যে মানুষের জীবনযাত্রা, তাদের অধিকার, কর্তব্য এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করা। 
- লাস্কি এই সংজ্ঞাটির মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞানকে মানবজীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যেখানে রাষ্ট্র এবং মানুষ একে অপরের উপর নির্ভরশীল। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি- এম রফিকুল ইসলাম 

৭৩.
'আইন হলো যুক্তির প্রকাশ'- এটি কার উক্তি?
  1. সক্রেটিস
  2. প্লেটো
  3. এরিস্টটল
  4. ম্যাকিয়াভেলি
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- আইন হলো যুক্তির প্রকাশ-এই উক্তি হলো আইনের দর্শন ও ন্যায়বিচারের ধারণা। এখানে বলা হয়েছে: আইন কেবল নিয়ম নয়, বরং মানুষের যুক্তি ও ন্যায়ের প্রকাশ, যা সমাজকে সুশৃঙ্খল ও ন্যায়নিষ্ঠ রাখে।
সক্রেটিস (Socrates) - নৈতিকতা ও দর্শনের জন্য পরিচিত, তবে এই উক্তি তার নয়।
প্লেটো (Plato)- রাষ্ট্র ও নৈতিক দর্শনের জন্য পরিচিত, “আইন = যুক্তি” এই সংজ্ঞা তার নয়।
- এরিস্টটল আইনকে যুক্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হিসেবে দেখেছেন। তিনি মনে করেন: আইন সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় নৈতিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম। 
- ম্যাকিয়াভেলি (Machiavelli) রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন, আইনকে যুক্তির প্রকাশ বলে দেখেননি। |
 - আইন হলো যুক্তির প্রকাশ, যা সমাজে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও সুশাসন নিশ্চিত করে। আইন কেবল বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়, বরং যুক্তির নৈতিক ও সামাজিক মাপকাঠি।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৭৪.
'সিদ্ধান্ত গ্রহণই Heart of the Administration' এই উক্তিটি কার?
  1. হার্বার্ট সাইমন
  2. হিকস ও গুলেট
  3. ল্যাসওয়েল
  4. সি. আই, বার্নার্ড
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট সাইমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হার্বার্ট সাইমন
ব্যাখ্যা

প্রশাসনের মূল কার্যক্রম হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। আধুনিক প্রশাসন তত্ত্বে বলা হয়, administration ≈ decision-making process। 
হার্বার্ট সাইমন (Herbert Simon) -  আধুনিক প্রশাসন ও সিদ্ধান্ত তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা। তার মতে, “Decision-making is the heart of administration”, অর্থাৎ প্রশাসনের মূল কেন্দ্র হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ। |প্রশাসনের মূল কাজ হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। প্রতিটি প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।
 হিকস ও গুলেট (Hicks & Gullet) - শ্রম ও ব্যবস্থাপনা অর্থনীতি নিয়ে কাজ করেছেন, প্রশাসনের মূল ভাবনা নয়। |
ল্যাসওয়েল (Lasswell) - রাজনৈতিক আচরণ ও ক্ষমতা বিশ্লেষক, সিদ্ধান্ত গ্রহণকে Heart of Administration বলেননি। |
সি. আই, বার্নার্ড (C. I. Barnard) - তিনি প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্বের তত্ত্বে কাজ করেছেন, কিন্তু এই নির্দিষ্ট উক্তি তার নয়। |
 সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূরনবী 

৭৫.
শ্যাডো (Shadow) ক্যাবিনেট কোন রাষ্ট্রে বিদ্যমান?
  1. যুক্তরাজ্য
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. ফ্রান্স
  4. ভারত
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা

- শ্যাডো ক্যাবিনেট হলো প্রধান বিরোধী দলের দ্বারা গঠিত একটি ‘ছায়া’ মন্ত্রিসভা, যা সরকারের নীতিমালা পর্যবেক্ষণ করে,সরকারী সিদ্ধান্তের বিকল্প প্রস্তাবনা দেয়,নির্বাচনের সময় সরকারি দলের সাথে প্রতিযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকে। এটি মূলত সংসদীয় ব্যবস্থায় বিদ্যমান।
 - শ্যাডো ক্যাবিনেটের ধারণা যুক্তরাজ্যে বিরোধী দলের জন্য ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থা। প্রধান বিরোধী দল সরকারের নীতিমালা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিযোগিতার জন্য মন্ত্রিসভার অনুরূপ ছায়া দল তৈরি করে। 
- যুক্তরাষ্ট্র - প্রেসিডেন্টের সরকার ব্যবস্থায়, শ্যাডো ক্যাবিনেট নেই।বিরোধী দল সাধারণত কংগ্রেসে বিরোধী ভূমিকা পালন করে। 
- ফ্রান্স - প্রেসিডেন্টিয়াল সিস্টেম, শ্যাডো ক্যাবিনেট নেই।
- ভারত - পার্লামেন্টারি সিস্টেম হলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে শ্যাডো ক্যাবিনেট নেই, তবে কংগ্রেস/বিরোধী দল কিছু পর্যবেক্ষক দল রাখে। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম       

৭৬.
'ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন থাকবে, তবে তার মাত্রা নির্ধারিত থাকবে'- উক্তিটি কার?
  1. এল, ডি. ওয়াইট
  2. হ্যারন্ড যে. লাস্কি
  3. অধ্যাপক এফেন
  4. অধ্যাপক ক্যারল
সঠিক উত্তর:
এল, ডি. ওয়াইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এল, ডি. ওয়াইট
ব্যাখ্যা

- ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও প্রশাসনের কাঠামো সংক্রান্ত ধারণা। ক্ষমতা সম্পূর্ণ কেন্দ্রীভূত নয়, তবে বিকেন্দ্রীকরণ থাকবে; এবং সেই বিকেন্দ্রীকরণের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত ও সুষম হবে। এটি আধুনিক প্রশাসন ও রাজনীতির তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।
- এল, ডি. ওয়াইট প্রশাসন ও সরকারি কাঠামো বিশ্লেষণ করেছেন। উক্তি অনুযায়ী ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে, তবে তার মাত্রা নির্ধারিত থাকবে। এটি আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের তত্ত্বে জনপ্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি। সরকারী ক্ষমতা অনেক অংশে বিতরণ করা যায়, কিন্তু সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে থাকে, যাতে সুশাসন ও নীতি কার্যকর থাকে।

সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূরনবী 

৭৭.
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্র সংবিধান কোন্ দেশের?
  1. কানাডা
  2. ফ্রান্স
  3. জার্মানি
  4. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট সংবিধান হলো যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, যা মাত্র ৪,৫৪৩ শব্দের এবং চারটি পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ। 
- এটি ১৭৮৭ সালে গৃহীত হয় এবং এর সংক্ষিপ্ততা, সহজবোধ্যতা, এবং সময়ের সাথে সাথে সংশোধনী যুক্ত করার প্রক্রিয়ার কারণে এটি এখনো কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক রয়েছে।  
- মার্কিন সংবিধানের মাত্র ৭টি মূল অনুচ্ছেদ এবং ২৭টি সংশোধনী রয়েছে, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট লিখিত সংবিধান করে তুলেছে।  
- সংবিধানটি গৃহীত হওয়ার পর থেকেই এটি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা প্রদান করে আসছে।  
- নতুন আইন বা নীতির প্রয়োজন হলে, মূল নথিতে সংশোধনী যুক্ত করা হয়, যা এর কার্যকারিতা ও প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখে। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম       

৭৮.
কোন সরকার আইনসভার নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়?
  1. সংসদীয় সরকার
  2. প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার
  3. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  4. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
ব্যাখ্যা

- সংসদীয় সরকার  সরাসরি সংসদে জবাবদিহি করে, সংসদে আস্থা থাকা আবশ্যক।সরকারের কার্যক্রম সংসদের আস্থা ও তদারকির অধীনে থাকে।
- প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার সাধারণত সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত, তাই জবাবদিহি বাধ্যতামূলক।
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার - রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয় জনসাধারণের ভোটে, এবং সাধারণত সংসদে সরাসরি জবাবদিহি বাধ্যতামূলক নয়।রাষ্ট্রপতি নির্বাহী ক্ষমতা পরিচালনা করেন স্বাধীনভাবে। 
- একনায়কতান্ত্রিক সরকার  সাধারণত সংসদ বা জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি দেয় না। 
 সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৭৯.
চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম' এর অর্থ কী?
  1. ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  2. গণতন্ত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  3. সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
  4. রাষ্ট্রপতির মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
সঠিক উত্তর:
সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজতন্ত্রের ভিত্তিতে কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ
ব্যাখ্যা

ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম (গণতান্ত্রিক কেন্দ্রীকতা)  হলো চীনের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলনীতি।
কেন্দ্রীভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব বা কেন্দ্রীয় কমিটি নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্তগুলো নীচের স্তরের সকল কর্মকর্তা ও সাধারণ সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক।
গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ: নীতি প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নীচের স্তরের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। তবে একবার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা সবাইকে মানতে হয়।
সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: মূলত সমাজতান্ত্রিক নীতি ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। ব্যক্তি বা আঞ্চলিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের সামগ্রিক লক্ষ্যকে প্রধান্য দেওয়া হয়।
- ডেমোক্রেটিক সেন্ট্রালিজম হলো গণমতের গ্রহণযোগ্যতা ও কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থার সমন্বয়, যা চীনে সমাজতান্ত্রিক নীতির প্রয়োগ নিশ্চিত করে।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও কোরিয়া- প্রফেসর ইয়াসমিন বেগম 

৮০.
'অনিয়ন্ত্রিত আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য হুমকীস্বরূপ' - উক্তিটি কার?
  1. এল ডি হোয়াইট
  2. লুথার গুলিক
  3. রিচার্ড ক্রশম্যান
  4. উড্রো উইলসন
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড ক্রশম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রিচার্ড ক্রশম্যান
ব্যাখ্যা

- রিচার্ড ক্রসম্যান বলেছেন, যদি আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রণহীন বা স্বেচ্ছাচারীভাবে কাজ করে, তবে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
- জনসাধারণের প্রতিনিধিত্ব ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয়। আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রশাসনিক কর্মকর্তারা যদি নিজস্ব ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়, জনগণের প্রতিনিধি বা সরকারের নীতি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়। এটি ক্ষমতার কেন্দ্রীভূততা বাড়ায়, জনগণের অংশগ্রহণ ও স্বায়ত্তশাসন কমায়। সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক দুর্বল হয়, যেটি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা। আইন ও সংবিধানের দ্বারা আমলাতন্ত্রকে সীমাবদ্ধ রাখা। জনগণ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনকে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা।
- রিচার্ড ক্রসম্যান মনে করতেন যে, অসংযত ও নিয়ন্ত্রণহীন আমলাতন্ত্র গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক, কারণ এটি জনগণের ক্ষমতা ও নৈতিক শাসন প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
সূত্রঃ লোকপ্রশাসন পরিচিতি- প্রফেসর এস এম মোঃ নূরনবী 

৮১.
২০২৪ সালে বাংলাদেশ হতে কত লোক কর্মের উদ্দেশ্যে বিদেশে অভিবাসন করেছেন?
  1. ৭ লাখ
  2. ৯ লাখ
  3. ১০ লাখ
  4. ১৩ লাখ
সঠিক উত্তর:
১০ লাখ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১০ লাখ
ব্যাখ্যা

২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অভিবাসন প্ল্যাটফর্ম ‘আমি প্রবাসী’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর মোট ১০ লাখ ৯ হাজার ১৪৬ বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ কম। ২০২৩ সালে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ৯ হাজার ৮১১।
সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ৫ ফেব্রুয়ারী,২০২৫

৮২.
'Constitution' শব্দটির ম্যাটিন শব্দ কোনটি?
  1. Constitre
  2. Constitari
  3. Constitatio
  4. Constitar
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 

- “Constitution” শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন শব্দ “Constituere/ Constiture/ Constitute” থেকে, যার অর্থ হলো  “to establish”, “to set up” বা “প্রতিষ্ঠা করা”।

“Constituere” শব্দটি বোঝায় কোনো কিছু গঠন করা, প্রতিষ্ঠা করা বা নির্ধারণ করা। এই ধারণা থেকেই রাষ্ট্রের মৌলিক আইন বা সংবিধান শব্দটির জন্ম।
- সংবিধান একটি রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি, শাসন কাঠামো ও নাগরিক অধিকার নির্ধারণ করে। এটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ও সংগঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- সংবিধান শুধু একটি আইন নয়, এটি একটি মূল দলিল, যা দ্বারা রাষ্ট্রের ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও জনগণের অধিকার নির্ধারিত হয়।
- “Constitution” শব্দটি ল্যাটিন Constituere থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রতিষ্ঠা করা বা গঠন করা। এই কারণেই সংবিধানকে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি বা প্রতিষ্ঠার দলিল বলা হয়।

সূত্র: রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম।

৮৩.
'ন্যায় বিচার' বলতে প্লেটো যা বুজিয়েছেন-
  1. প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করা
  2. সত্য ভাষণ ও ঋণ শোধ করা
  3. অন্যের কাজে মাথা না গলিয়ে নিজের কর্তব্য পালন করা
  4. সরকারের স্বার্থ যথাযথ সংরক্ষণ করা
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করা
ব্যাখ্যা

- Plato-এর মতে, ‘ন্যায়বিচার’ (Justice) হলো  “প্রত্যেককে তার প্রাপ্য প্রদান করা” (To give each his due)।
- প্লেটো ন্যায়বিচারকে নৈতিক ও সামাজিক শৃঙ্খলার ভিত্তি হিসেবে দেখেছেন। সমাজে প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার নিজ নিজ দায়িত্ব ও কাজ সঠিকভাবে করে  এটিই প্রকৃত ন্যায়বিচার।
-  প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রে তিনটি শ্রেণি থাকে - শাসক শ্রেণি,যোদ্ধা শ্রেণি,উৎপাদক শ্রেণি। প্রত্যেক শ্রেণি নিজের নির্ধারিত কাজ করবে কেউ অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।
- ন্যায়বিচার মানে কাউকে বাড়তি কিছু দেওয়া নয় বা কারও অধিকার হরণ নয়। বরং যার যা প্রাপ্য, তা তাকে দেওয়া এবং সে যেন নিজের কাজ করে যায় এই ভারসাম্যই ন্যায়।
 উদাহরণ: যদি কোনো যোদ্ধা শাসকের কাজ করতে চায় বা শ্রমিক সেনার দায়িত্ব নেয়, তাহলে রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে যা প্লেটোর মতে অন্যায়।
- প্লেটোর মতে, ন্যায়বিচার হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রত্যেকে তার নিজস্ব কাজ করে এবং তার প্রাপ্য পায়, ফলে সমাজে শৃঙ্খলা ও সাম্য বজায় থাকে।
সূত্রঃ পাশ্চাত্যের রাষ্ট্রচিন্তা- রাখী বর্মন 

৮৪.
বাংলাদেশের কোন বিভাগে বরেন্দ্রভূমি অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. সিলেট
  3. রংপুর
  4. বরিশাল
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজশাহী
ব্যাখ্যা

- বরেন্দ্রভূমি বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি উচ্চভূমি অঞ্চল। এটি মূলত রাজশাহী বিভাগ–এর মধ্যে পড়েছে। এই অঞ্চল বাংলাদেশের প্রাচীনতম ভূখণ্ডগুলোর একটি এবং কৃষি উৎপাদনের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
 - বরেন্দ্রভূমির রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে বিস্তৃত। এ অঞ্চলটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তুলনামূলকভাবে উঁচু এবং বেলে দোআঁশ মাটির জন্য পরিচিত।
- খরাপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেচ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে এখানে ধান, গম, ডাল, ভুট্টা ইত্যাদি ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।
 বরেন্দ্রভূমিকে বাংলাদেশের “শস্যভাণ্ডার” হিসেবেও অনেক সময় উল্লেখ করা হয়।
সূত্রঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস- সৈয়দ নুরুল হক 

৮৫.
গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয় কোনটিকে?
  1. গণমাধ্যম
  2. রাজনৈতিক দল
  3. আমলাতন্ত্র
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দল হলো জনগণের মতামত সংগঠিত করা, নেতৃত্ব তৈরি করা ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের মূল হাতিয়ার। তাই রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের “প্রাণ” বলা হয়।
- রাজনৈতিক দল জনগণ ও সরকারের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি জনমত গঠন করে এবং নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
- সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল ছাড়া গণতন্ত্র কার্যত প্রাণহীন হয়ে পড়ে। দলগুলোই নির্বাচন আয়োজন ও ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরের পথ সুগম করে।
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যদি কার্যকর রাজনৈতিক দল না থাকে, তাহলে জনগণের ইচ্ছা নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হয় না। ফলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৮৬.
জনমত বলতে বোঝায়-
  1. জনগনের মত
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মত
  3. জনগনের কল্যাণকামী মত
  4. সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মত
সঠিক উত্তর:
জনগনের কল্যাণকামী মত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগনের কল্যাণকামী মত
ব্যাখ্যা

- জনমত একটি প্রাচীন ধারণা। গ্রিক ও রোমান আইনে এবং মধ্যযুগেও জনমতের ধারণা প্রচলিত ছিল। 
- আক্ষরিক অর্থে, জনসাধারণের কল্যাণ সাধনের উপায় হিসেবে জনগণের মতামতকে জনমত বলা হয়ে থাকে।
- সাধারণ অর্থে জনমত হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসাধারণের মতামত। 
- পৌরনীতিতে কেবল প্রভাবশালী, যুক্তিসংগত, স্পষ্ট এবং কল্যাণকামী মতামতকেই জনমত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সহজভাবে বলতে গেলে, যেকোনো জাতীয় প্রশ্নে বিভিন্ন শ্রেণি বা স্বার্থকামী মহল বিভিন্ন মত পোষণ করতে পারে। এভাবে মতামত বিভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হবার সময় কোনো কোনো মত অন্যগুলোর তুলনায় প্রবলতর হয়ে ওঠে। এ প্রবলতর অভিমতগুলোকেই জনমত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- জনমত হলো কল্যাণধর্মী, বলিষ্ঠ যুক্তিভিত্তিক ও সুস্পষ্ট মতামত, যা প্রধানত সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক 

৮৭.
চীনের মৌলিক অর্থনৈতিক নীতি কী?
  1. সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি
  2. সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি
  3. মুক্তবাজার অর্থনীতি
  4. পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতি
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি
ব্যাখ্যা

চীন তার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে “সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতি” (Socialist Market Economy) হিসেবে বর্ণনা করে। এই নীতি ১৯৭৮ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য:
- রাষ্ট্র অর্থনীতির মূল খাতগুলোর নিয়ন্ত্রণ রাখে।
- বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগকে বাজার ব্যবস্থায় সীমিতভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।
- বাজার অর্থনীতি ও সমাজতান্ত্রিক নীতির মধ্যে সমন্বয় করা হয়।
- উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসে রাষ্ট্রের পরিকল্পিত ভূমিকা থাকে।
- এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন দ্রুত শিল্পায়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল হয়েছে। তাই এটি অনেক সময় “চীনা ধাঁচের অর্থনীতি” বলেও পরিচিত।
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও কোরিয়া- প্রফেসর ইয়াসমিন বেগম 

৮৮.
গনতন্ত্রকে 'Great discovery of modern science' বলে অভিহিত করেছেন কে?
  1. লর্ড ব্রাইস
  2. জেমস মিল
  3. জন অস্টিন
  4. গেটেল
সঠিক উত্তর:
লর্ড ব্রাইস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লর্ড ব্রাইস
ব্যাখ্যা

- “Democracy is the great discovery of modern science.” — Lord Bryce “গণতন্ত্র হচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের এক মহান আবিষ্কার।”
 ব্রাইস এই উক্তির মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে যেমন বিজ্ঞান মানুষের জীবনযাত্রায় বিপ্লব এনেছে, তেমনি গণতন্ত্রও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে।
গণতন্ত্র জনগণের অংশগ্রহণ, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। এটি কোনো আকস্মিক প্রথা নয়; বরং মানব চিন্তা, অভিজ্ঞতা ও বিবর্তনের ফসল।
বিজ্ঞান যেমন পরীক্ষা–নিরীক্ষা ও যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠে, গণতন্ত্রও তেমনি অংশগ্রহণ, তথ্য ও আলোচনার ভিত্তিতে টিকে থাকে।
- গণতন্ত্র আধুনিক সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, যা মানুষের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে প্রতিষ্ঠা করেছে—তাই একে “আধুনিক বিজ্ঞানের মহান আবিষ্কার” বলা হয়।
- সীলী ও এই ধরণের উক্তি প্রদান করেছেন। 
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম 

৮৯.
জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বলা হয়?
  1. সেলফ ডিফেন্স ফোর্সেস
  2. ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সেস
  3. ইম্পেরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সেস
  4. পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস
সঠিক উত্তর:
সেলফ ডিফেন্স ফোর্সেস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সেলফ ডিফেন্স ফোর্সেস
ব্যাখ্যা

জাপান–এর প্রতিরক্ষা বাহিনীকে বলা হয় “Self-Defense Forces (SDF)”। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সংবিধানে যুদ্ধ পরিচালনা বা আক্রমণাত্মক সামরিক বাহিনী গঠনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সীমিত আকারে এই বাহিনী গঠন করা হয়।
 জাপানের Self-Defense Forces (SDF)-এর তিনটি শাখা:
Japan Ground Self-Defense Force (JGSDF) – স্থল বাহিনী
Japan Maritime Self-Defense Force (JMSDF) – নৌ বাহিনী
Japan Air Self-Defense Force (JASDF) – বিমান বাহিনী
- এই বাহিনী মূলত রক্ষণাত্মক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। 
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া - রাখী বর্মন 

৯০.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল- 
  1. ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
  2. ১৯৫৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর
  3. ১৯৫৪ সালের ৩০ জানুয়ারী
  4. ১৯৫৪ সালের ১ মার্চ
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট বা United Front গঠিত হয় ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের পূর্বে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর। এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের  বিভিন্ন বিরোধী দলের একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক জোট, যার লক্ষ্য ছিল মুসলিম লীগ–এর শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করা।যুক্তফ্রন্টে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো: আওয়ামী লীগ,কৃষক শ্রমিক পার্টি,নেজাম-ই-ইসলাম পার্টি,গণতান্ত্রিক পার্টি ও খেলাফতে রাব্বানী পার্টি। 
 - যুক্তফ্রন্ট একটি ঐতিহাসিক “২১ দফা” ঘোষণা করে, যা জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
- এই জোটের মাধ্যমে জনগণ মুসলিম লীগের একক আধিপত্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক চেতনা প্রকাশ করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক 

৯১.
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের বৈশিষ্ঠগুলো হলো i) স্থানীয় জনগনের শাসন; ii) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন; iii) নির্বাচিত কর্মচারীদের শাসন;
  1. i
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i ও ii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i ও ii
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের মূল বৈশিষ্ট্যঃ
 স্থানীয় জনগণের শাসন → স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ সরাসরি স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনে অংশগ্রহণ করে।
 নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন  → স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই নেতৃত্ব দেয়।
- নির্বাচিত কর্মচারীদের শাসন  — এটি সঠিক নয়, কারণ প্রশাসনিক কর্মচারীরা নির্বাচিত নয়, বরং সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। তারা জনপ্রতিনিধিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক 

৯২.
প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র শুরু হয় কোথায়?
  1. রোম
  2. এথেন্স
  3. লন্ডন
  4. প্যারিস
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এথেন্স
ব্যাখ্যা

- প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র শুরু হয়েছিল এথেন্স-এ। প্রাচীন এথেন্সে, নাগরিকরা সরাসরি আইন প্রণয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করত, যেখানে তারা নিজেদের পক্ষে ভোট দিত। এটি ছিল সরাসরি অংশগ্রহণের একটি পদ্ধতি, যা আজকের প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের থেকে ভিন্ন। 
- এ ব্যবস্থায় নাগরিকগণ নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্ধারিত স্থানে মিলিত হয়ে আইন প্রণয়ন, সরকারি কর্মচারী নিয়োগ, রাজত্ব ও ব্যয় নির্ধারণ প্রস্তুতি এবং সরকারি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। এভাবে জনগণ কর্তৃক প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত শাসনব্যবস্থাই হলো প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র। 
- এ ধরনের শাসনব্যবস্থায় সকল নাগরিকই সরাসরি রাষ্ট্রীয়কার্যে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাই এ শাসনব্যবস্থাকে অংশগ্রহণকারী গণতন্ত্র (Participatory Democracy) বলা হয়। নাগরিকগণ আইন প্রণয়ন ও শাসন সংক্রান্ত অন্যান্য কাজ করার জন্য যে স্থানে মিলিত হতো এথেন্সে  একে বলা হতো এক্লেসিয়া (Ecclecsia) আর রোমে বলা হতো 'মিলিশিয়া' (Militia)।
- সুইজারল্যান্ডের ক্ষুদ্রাকৃতির কয়েকটি 'ক্যান্টনে' (Canton) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্থানীয় সরকার পরিচালনায় প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র এখনও প্রচলিত রয়েছে।
সূত্রঃ রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থা– ড. রবিউল ইসলাম       

৯৩.
অ্যালমন্ডের মতে ইনপুট এবং আউটপুটের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের উপায় কী?
  1. বৈধ দৈহিক বল প্রয়োগ ও আদেশ প্রদান
  2. বৈধ বিধি প্রনয়ন ও বল প্রয়োগের হুমকী
  3. বৈধ দৈহিক বল প্রয়োগ ও বল প্রয়োগের হুমকী
  4. বৈধ নির্দেশ প্রদান ও বল প্রয়োগের হুমকী
সঠিক উত্তর:
বৈধ দৈহিক বল প্রয়োগ ও আদেশ প্রদান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈধ দৈহিক বল প্রয়োগ ও আদেশ প্রদান
ব্যাখ্যা

অ্যালমন্ডের মতে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে জনগণ ও সমাজের বিভিন্ন দাবি, আগ্রহ ও সমর্থনকে “ইনপুট” হিসেবে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পাঠায়। রাষ্ট্র এই ইনপুটের ভিত্তিতে নীতি, আইন ও কর্মসূচি তৈরি করে এবং তা সমাজে “আউটপুট” হিসেবে বাস্তবায়ন করে।
ইনপুট (Input): জনগণের দাবি, সমর্থন, চাপ সৃষ্টি, জনমত ইত্যাদি।
 আউটপুট (Output): রাষ্ট্রীয় নীতি, আইন, প্রশাসনিক আদেশ, সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি।
- ইনপুট ও আউটপুটের মধ্যে যোগসূত্র: অ্যালমন্ড বলেন এই দুইয়ের মধ্যে কার্যকর সম্পর্ক স্থাপনের জন্য রাষ্ট্রের থাকতে হবে বৈধ কর্তৃত্ব,সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষমতা, প্রয়োজনে বৈধ দৈহিক বল প্রয়োগ ও আদেশ প্রদান করার সক্ষমতা।
-  শুধু আইন তৈরি করলেই হবে না রাষ্ট্রকে বৈধ কর্তৃত্বের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে হলেও শৃঙ্খলা ও নীতিমালা রক্ষা করতে হবে।
উদাহরণ: ধরা যাক, জনগণ নিরাপত্তা চায় (Input)। রাষ্ট্র আইন করে ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে (Output)।
এই আইন কার্যকর করতে রাষ্ট্র বৈধ বল প্রয়োগ ও আদেশ প্রদান করে - এখানেই ইনপুট ও আউটপুটের যোগসূত্র তৈরি হয়। 
 সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি- সৈয়দ নুরুল হক 

৯৪.
'Voice of the people is the voice of the God' উক্তিটি কে করেছেন?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. রুশো
  4. অগাস্টিন
সঠিক উত্তর:
রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো
ব্যাখ্যা

-“Voice of the people is the voice of God” অর্থাৎ “জনগণের কণ্ঠস্বরই ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর” উক্তিটি রুশোর। 
- রুশো ছিলেন এক জন সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের প্রবক্তা। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্রের নীতি ও শাসনের ভিত্তি নির্ধারণ করে।
- তিনি “General Will” বা “সাধারণ ইচ্ছা” ধারণা দেন, যা জনগণের সার্বিক স্বার্থকে প্রতিফলিত করে।
- রুশো বিশ্বাস করতেন , জনগণ ভুল করতে পারে না, কারণ তাদের ইচ্ছা সমাজের সম্মিলিত মঙ্গলকে প্রতিফলিত করে। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো আইন বা শাসন বৈধ নয়। তাই জনগণের কণ্ঠস্বরকেই তিনি ঈশ্বরের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
 উদাহরণ: যদি কোনো রাষ্ট্রে জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেটি বৈধ গণতান্ত্রিক শাসন বলে গণ্য হয়। বিপরীতে জনগণের মত উপেক্ষা করলে সেই শাসন অবৈধ হয়ে পড়ে।
- “Voice of the people is the voice of God” উক্তির মাধ্যমে Jean-Jacques Rousseau জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের ভিত্তি ব্যাখ্যা করেছেন। জনগণের ইচ্ছাই রাষ্ট্র ও শাসনের সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি-এম রফিকুল ইসলাম 

৯৫.
জাপানের সংসদের নাম কোনটি?
  1. ন্যাশনাল ডায়েট
  2. ন্যাশনাল পার্লামেন্ট
  3. ন্যাশনাল কংগ্রেস
  4. ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি
সঠিক উত্তর:
ন্যাশনাল ডায়েট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যাশনাল ডায়েট
ব্যাখ্যা

- জাপানের সংসদকে National Diet বলা হয়। এটি জাপানের এককেন্দ্রিক এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা, যা দেশীয় আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারকে তদারকি করার ক্ষমতা রাখে।
- ডায়েটের গঠন কাঠামো: House of Representatives (Shūgiin) – নিম্নকক্ষ, House of Councillors (Sangiin) – উপরকক্ষ
- জাপানের ন্যাশনাল ডায়েট হলো দেশের আইন প্রণয়ন ও শাসন ব্যবস্থার প্রধান প্রতিষ্ঠান। 
সূত্রঃ পূর্ব এশিয়ার সরকার ও রাজনীতিঃ চীন,জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া - রাখী বর্মন 

৯৬.
সেভেন সিস্টার্স ভুক্ত কোন রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই?
  1. মিজোরাম, ত্রিপুরা
  2. আসাম, ত্রিপুরা
  3. মিজোরাম, মেঘালয়
  4. অরুণাচল, মণিপুর
সঠিক উত্তর:
অরুণাচল, মণিপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরুণাচল, মণিপুর
ব্যাখ্যা

- সেভেন সিস্টার্স (Seven Sisters) হলো ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য: আসাম,নাগাল্যান্ড,মণিপুর , মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয় । 
- বাংলাদেশের সাথে সীমান্তবদ্ধ রাজ্য: মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম
 - বাংলাদেশের সাথে সীমান্তবিহীন রাজ্য: অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর ও নাগাল্যান্ড। 
 - তাই, বাংলাদেশ সীমান্ত অরুণাচল ও মণিপুরের সাথে নেই।
সূত্রঃ বাংলাদেশের মানচিত্র-জাহিদ সোহেল 

৯৭.
ব্যবস্থা তত্ত্বের লক্ষ্য হচ্ছে- i) ইনপুট ও আউটপুট বিশ্লেষণ; ii) ব্যবস্থার সামগ্রিক আলোচনা; iii) ফিডব্যাক বিশ্লেষণ; কোনটি সঠিক?
  1. i
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

- ব্যবস্থা তত্ত্ব হলো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রক্রিয়ার একটি বিশ্লেষণধর্মী মডেল, যা রাষ্ট্র বা যে কোনো সংস্থাকে ইনপুট (Input), আউটপুট (Output), এবং ফিডব্যাক (Feedback) এর মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে দেখায়।
- ইনপুট ও আউটপুট বিশ্লেষণঃ রাষ্ট্র বা প্রশাসন জনগণ বা সমাজ থেকে চাহিদা ও দাবী গ্রহণ করে (ইনপুট) এবং নীতি বা সিদ্ধান্তে রূপান্তরিত করে (আউটপুট)।
- ব্যবস্থার সামগ্রিক আলোচনাঃ রাষ্ট্র বা প্রশাসনকে একটি সাম্প্রতিক, সংহত ও ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়।
- ফিডব্যাক বিশ্লেষণঃ আউটপুটের ফলাফল ও প্রভাব যাচাই করা হয় এবং তা ইনপুটে প্রতিফলিত হয়, যাতে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ও নীতি উন্নত করা যায়।
-  ব্যবস্থা তত্ত্ব রাষ্ট্র বা প্রশাসনের কার্যক্রমকে ইনপুট → আউটপুট → ফিডব্যাক ধারা হিসেবে বিশ্লেষণ করে। 
সূত্রঃ রাজনীতি অধ্যয়ন পদ্ধতি- সৈয়দ নুরুল হক 

৯৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদাহরণ হলো i) প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি; ii) সুশীল সমাজ; iii) শ্রমিক সংঘ:- কোনটি সঠিক?
  1. i
  2. i ও ii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
উত্তর
সঠিক উত্তর:
i, ii ও iii
ব্যাখ্যা

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure Groups) হলো এমন গোষ্ঠী যা সরকারের নীতি বা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করে, তবে সরাসরি ক্ষমতা গ্রহণ করে না।
- তারা নির্বাচনে অংশ নেয় না, তবে নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে। 
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই গোষ্ঠীগুলি জনমত ও বিশেষ স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে।
 - উদাহরণ: প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি – শিক্ষা সংক্রান্ত নীতিতে প্রভাব ফেলে।
সুশীল সমাজ – সমাজ ও নীতিনির্ধারণে জনমতের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে।
শ্রমিক সংঘ – শ্রম নীতি, বেতন ও কর্মপরিস্থিতিতে সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে।
তাই সবগুলোই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদাহরণ।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

৯৯.
কোনটি আমলাতন্ত্রের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব
  2. কর্তৃত্বের বণ্টন
  3. সুনির্দিষ্ট বিধি নিয়মের প্রবর্তন
  4. অফিস সময়ের পর কাজ না করা।
সঠিক উত্তর:
অফিস সময়ের পর কাজ না করা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অফিস সময়ের পর কাজ না করা।
ব্যাখ্যা

আমলাতন্ত্রের (Bureaucracy) প্রধান বৈশিষ্ট্য:
#সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব – প্রত্যেক কর্মকর্তা নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করে।
#কর্তৃত্বের বণ্টন – দায়িত্ব ও ক্ষমতা পদসোপান অনুযায়ী বণ্টিত থাকে।
#সুনির্দিষ্ট বিধি ও নিয়মের প্রবর্তন – প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়মিত ও পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
 #অফিস সময়ের পর কাজ না করা –  আমলাতন্ত্রের মূল বৈশিষ্ট্য নয়। এটি ব্যক্তিগত কাজের সময়সংক্রান্ত একটি শৃঙ্খলাজনিত বিষয়, যা মূলত কর্মসংস্কৃতি বা শ্রমনীতির অন্তর্ভুক্ত।
সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন ( একাদশ-দ্বাদশ)-প্রফেসর  মোঃ মোজাম্মেল হক  

১০০.
'Civilization has polluted human beings' – এ বক্তব্যটি কোন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর?
  1. ম্যাকিয়াভেলি
  2. মার্কস
  3. রুশো
  4. জেমস মিল
সঠিক উত্তর:
রুশো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রুশো
ব্যাখ্যা

- রুশো বলেছেন, “Civilization has corrupted/polluted human beings”। মানবজাতির প্রাকৃতিক অবস্থা নৈতিকভাবে নিষ্পাপ ও ভালো ছিল, কিন্তু সভ্যতা, শহুরে জীবন ও সমাজের জটিলতা মানুষের চরিত্র ও নৈতিকতাকে দূষিত করেছে।
- মানব প্রকৃতি মূলত সৎ ও নিষ্পাপ। সমাজ ও সভ্যতার জটিলতা মানুষকে স্বার্থপর, অধিকার লোভী ও অন্যায়মুখী করেছে। রুশো প্রাকৃতিক রাষ্ট্রের দিকে ফেরার বা সাধারণ ন্যায় ও সততার মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছিলেন।
 - রুশো সভ্যতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং তাই উক্তিটি তার দর্শনের প্রতিফলন।
সূত্রঃ রাজনৈতিক তত্ত্ব পরিচিতি-এম রফিকুল ইসলাম 

১০১.
'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. বলক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক। প্রশ্নে দেওয়া বাক্য ‘পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু’-এর মধ্যে ‘থেকে’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘ই’ শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

• বলক:

যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০২.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১০৩.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?
[মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল]
  1. শ্বাস
  2. প্রতিজ্ঞা
  3. কোমর
  4. প্রতিশ্রুত
সঠিক উত্তর:
কোমর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোমর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) কোমর।
-------------------
প্রথমে শব্দের অর্থগুলো জেনে নিই-

• বদ্ধ শব্দের অর্থ- বাঁধা; আবদ্ধ; বাঁধানো।
• পরিকর অর্থ- কটিবন্ধ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,




ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর” — এখানে ‘পরিকর’ শব্দের অর্থ কোমর।
‘বদ্ধ পরিকর’ মানে কোমর বেঁধে প্রস্তুত হওয়া বা দৃঢ় সংকল্প করা।

অর্থাৎ বাক্যটির ভাবার্থ —
“এ কাজটি করতে আমি দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; Accessible Dictionary by Bangla Academy.
---------------------

সংস্কৃত ‘বদ্ধ’ এবং ‘পরিকর’ শব্দ সহযোগে গঠিত শব্দ হলো বদ্ধপরিকর। এটি বিশেষণ পদ। বদ্ধপরিকর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কঠোর প্রতিজ্ঞা, দৃঢ়সংকল্প, কোনো কাজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এমন বোঝায় প্রভৃতি। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘বদ্ধ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘বাঁধা’ আর ‘পরিকর’ শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি অর্থ হলো, কোমর বা কটিবন্ধ, কোমরবন্ধনী। ইংরেজিতে যেটিকে আমরা বলি বেল্ট। সেই হিসেবে বদ্ধপরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হয় কোমর বা কটিবন্ধ বাঁধা। সংস্কৃত থেকে জাত কোমরবন্ধনী বাঁধা প্রসঙ্গটিই কালক্রমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্থরূপে পরিগ্রহ করেছে।

সূত্র: 'আজকের পত্রিকা'র রিপোর্ট - "শব্দের আড়ালে গল্প: বদ্ধপরিকর", লেখক: রাজীব কুমার সাহা, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক।
----------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:
এই প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের জন্য আমরা বিগত ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন যদি পর্যালোচনা করি।

'গড্ডালিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারায় 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
ক) গরু
খ) ছাগল
গ) ভেড়া
ঘ) মহিষ

• ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্ধভাবে অনুসরণ। কিন্তু এখানে আক্ষরিক অর্থে 'গড্ডল' শব্দের অর্থ 'ভেড়া' হয়েছে।

একইভাবে, এখানেও 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- বাক্যে পরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ ধরলে সেটার অর্থ হয় কটি বা কোমর।

১০৫.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৬.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে —
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?
  1. ক্রন্দন > কাঁদা
  2. অঞ্চল > আঁচল
  3. সংগীত > গীতিকা
  4. দন্ত > দাঁত
সঠিক উত্তর:
সংগীত > গীতিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংগীত > গীতিকা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সংগীত > গীতিকা।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে শব্দের রূপান্তর ঘটে, যা প্রায়শই তৎসম, তদ্ভব বা দেশি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুসারে, তৎসম শব্দ থেকে তদ্ভব শব্দে রূপান্তরের সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, যেমন স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন।

চলুন অপশন বিশ্লেষণ করি —
ক) ক্রন্দন → কাঁদা:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত। তৎসম শব্দ ‘ক্রন্দন’ (অর্থ: কান্না) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘কাঁদা’ (ক্রিয়া, অর্থ: কাঁদা বা কান্না করা) গঠিত হয়েছে।

খ) অঞ্চল → আঁচল:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ। তৎসম শব্দ ‘অঞ্চল’ (অর্থ: কাপড়ের প্রান্ত বা অঞ্চল) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘আঁচল’ (অর্থ: শাড়ির প্রান্ত) গঠিত হয়েছে।

গ) সংগীত → গীতিকা:
‘সংগীত’ থেকে ‘গীতিকা’ গঠনের জন্য কোনো সরাসরি ধ্বনিগত পরিবর্তন নেই। বরং এটি অন্য একটি শব্দগঠন (প্রত্যয়যুক্ত রূপ)। ‘গীতিকা’ একটি তৎসম শব্দ, যা ‘গীত’ (গান) শব্দের সঙ্গে ‘-ইকা’ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত। 'গীতিকা' সংগীতের একটি রূপ বা ছোট গান বোঝায়, কিন্তু ‘সংগীত’ থেকে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি উৎপন্ন হয় না।

ঘ) দন্ত → দাঁত:
এটি স্পষ্ট ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ (স্বরবিকৃতি ও উচ্চারণগত পরিবর্তন)। তৎসম শব্দ ‘দন্ত’ (অর্থ: দাঁত) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘দাঁত’ গঠিত হয়েছে।

অতএব, যথাযথ নয় — গ) সংগীত > গীতিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর-
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহেলিকা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
---------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।

- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:

- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
  1. জোর
  2. ঊর্ধ্ব
  3. আড়াল
  4. গতি
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊর্ধ্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষেপণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষেপণ (মূল শব্দ)

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষেপণ মানে হচ্ছে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা বা উচ্চে ছোড়া।

যেমন: রকেটের উৎক্ষেপণ (রকেটকে আকাশে ঊর্ধ্বে পাঠানো)।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১১.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. হাসপাতাল
  3. আকাশছোঁয়া
  4. গুণমান
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারখানা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাক্তারখানা
ব্যাখ্যা

• ডাক্তারখানা - শব্দটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ডাক্তারখানা:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত। ‘ডাক্তার’ শব্দটির সঙ্গে ‘-খানা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘ডাক্তারখানা’ গঠিত হয়েছে। ‘খানা’ একটি প্রত্যয়, যা স্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ডাক্তারখানা’ মানে ডাক্তারের চিকিৎসার স্থান বা হাসপাতাল। এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শব্দ, যার কোনো অংশ বাংলায় প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত হয়নি। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।

গ) আকাশছোঁয়া:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘আকাশছোঁয়া’ একটি সমাসবদ্ধ শব্দ এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত, প্রত্যয়ের মাধ্যমে নয়।

ঘ) গুণমান: এটি সঠিক শব্দ নয়। এর শুদ্ধ শব্দ হবে ‘গুণবান’।

তাই, ডাক্তারখানা শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও বচনের
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বচনের
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বানান ও বচনের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

বানানের ভুল:
বাক্যে “চায়না” লেখা হয়েছে, যা ভুল। বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “চায় না”।
“চায়না” একটি অপ্রমিত রূপ, যা কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিক লেখায় গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ‘চাওয়া’ এর নেতিবাচক রূপে ‘চায় না’ লেখা হয়। উদাহরণ: “সে যেতে চায় না।”

বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।

বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-
  1. ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর
  2. বিদেশি শব্দের অনুবাদ
  3. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
  4. ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ
সঠিক উত্তর:
বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।

ব্যাখ্যা:
পরিভাষিক শব্দ বলতে এমন শব্দ বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, পেশা, শাস্ত্র, বা ক্ষেত্রের (যেমন: বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, সাহিত্য) সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এই শব্দগুলো সাধারণত একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের অর্থ সাধারণ ব্যবহারের থেকে আলাদা বা সীমিত হতে পারে। উদাহরণ: ‘পরিবাহক’ (conductor, বিদ্যুৎ পরিবহনের প্রেক্ষাপটে), ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ (pedagogy, শিক্ষাবিজ্ঞানে)।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ শুধু ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর নয়। এটি যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তৎসম, তদ্ভব, বা নতুন গঠিত শব্দ হতে পারে। উদাহরণ: ‘অণুজীব’ (microbe) ইংরেজি থেকে এলেও, এটি বিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে সুনির্দিষ্ট।

খ) বিদেশি শব্দের অনুবাদ: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ বিদেশি শব্দের অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো স্থানীয়ভাবে গঠিত বা বিষয়ভিত্তিক শব্দও হতে পারে। উদাহরণ: ‘গ্রন্থাগার’ (library) বিদেশি শব্দের অনুবাদ, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে এটি গ্রন্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট।

ঘ) ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ: আংশিকভাবে সঠিক, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।
কিছু পরিভাষিক শব্দ নতুন করে গঠিত হতে পারে (যেমন: ‘দূরদর্শন’ বা ‘টেলিভিশন’), কিন্তু সব পরিভাষিক শব্দ নবনির্মিত নয়। অনেক পরিভাষা তৎসম বা প্রচলিত শব্দ থেকেও আসে (যেমন: ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ বা ‘অর্থনীতি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়?
  1. বানর
  2. সিংহ
  3. পশু
  4. বন
সঠিক উত্তর:
পশু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশু
ব্যাখ্যা

• 'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' বলতে 'পশু' বোঝানো হয়।

• উল্লেখ্য,
'মৃগ' শব্দের অর্থ - হরিণ, পশু।
'মৃগয়া' শব্দের অর্থ - হরিণ শিকার; বন্য পশুপাখি শিকার।

অন্যদিকে,
• 'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদরসুলভ স্বভাববিশিষ্ট, শাখামৃগ, মর্ব।
• 'সিংহ' শব্দের অর্থ - মৃগেন্দ্র, স্ত্রী. সিংহী /শিংহি।
• 'বন' শব্দের অর্থ - অরণ্য, জঙ্গল, কানন, কুঞ্জ, গহন, বিপিন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১৫.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
  1. নীরব
  2. উজ্জ্বল
  3. মানোত্তীর্ণ
  4. সংগ্রাম
সঠিক উত্তর:
নীরব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নীরব
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দটি হলো - নীরব।
শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ, নিঃ + রব = নীরব।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌ হয়। যেমন - উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম।

- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৬.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপমূল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১৭.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. লেখার ধরনে
  2. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  3. সংখ্যাগত পরিমানে
  4. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

-------------
ব্যাখ্যা:

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৮.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. সুকুমার সেন
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সুকুমার সেন।

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া পদাবলী। এই পদগুলো মূলত প্রাচীন বাংলা, মৈথিলি, ওড়িয়া, এবং অসমীয়ার মতো পূর্ব ভারতীয় ভাষার মিশ্রণে রচিত। চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয় তিব্বতে, এবং এগুলো তিব্বতি ভাষায় অনুবাদিত বা টীকাকৃত আকারে পাওয়া যায়।
-------------
প্রেক্ষাপট:
• প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করছে যে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং) তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় কে রূপান্তর করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুসারে, এই কাজটি করেছেন সুকুমার সেন। তিনি আনুমানিকভাবে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

• ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপিতে ২৩ এর খণ্ডিত, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং পদগুলো ছিল না।

• অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে,
মূল পুথির চারখানা পাতা লুপ্ত। এই চর্যাটির শেষ চার পঙ্‌ক্তি ও টীকা, ২৪ নং চর্যার সমস্ত অংশ ও টীকা এবং তার পরের অর্থাৎ ২৫ নং চর্যার মূল ও টীকার প্রথম অংশ বিনষ্ট। তবে এই চর্যাগুলির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে। ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৯৪২ সালে। সেই অনুবাদ অবলম্বনে এই চর্যাগুলির মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ-পরিকল্পনা দিয়েছেন ডক্টর হুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাীতি পদাবলী' গ্রন্থের ৭৬ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায়।


অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: ভুল।
তিনি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এর সাহিত্যিক ও ভাষাগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। তাঁর গবেষণা, বিশেষ করে The Origin and Development of the Bengali Language এবং চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এই কাজের জন্য উল্লেখযোগ্য।

খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: ভুল।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার বা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিব্বতি অনুবাদ ১৯৫৬ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তিভিক্ষু শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত হয়।

গ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র: ভুল।
রাজেন্দ্রলাল মিত্র (১৮২৪-১৮৯১) চর্যাপদ আবিষ্কারের (১৯০৭) অনেক আগে মারা যান। তিনি সংস্কৃত সাহিত্য ও পুরাতত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘ) সুকুমার সেন: সঠিক।
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে, সুকুমার সেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীর সংস্কৃত অনুবাদের ভিত্তিতে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন এবং তা প্রকাশ করেন।
--------------------
--------------------
'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; চর্যাগীতি_পরিক্রমা- ড. নির্মল দাশ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- সুকুমার সেন, Buddhist Mystic Songs- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন
  4. স্বত্তের-অধীন
সঠিক উত্তর:
স্ব-এর অধীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্ব-এর অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

১২০.
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
  1. হরফের ছড়া
  2. বর্ণশিক্ষা
  3. বর্ণপরিচয়
  4. সহজ ছড়া
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হরফের ছড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) হরফের ছড়া।

------------------
‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:

‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।
‘বর্ণশিক্ষা’ বলতে কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১২১.
Pick the correctly spelt word:
  1. Conscintious
  2. Consientious
  3. Concientious
  4. Conscientious
সঠিক উত্তর:
Conscientious
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Conscientious
ব্যাখ্যা

• The correctly spelt word: Conscientious.

• Conscientious (adjective):
- English Meaning: Meticulous, careful; Feeling a moral responsibility to do your work carefully and to be fair to others.
- Bangla Meaning: বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

• Example:
- A conscientious public servant.
- She has always been a very conscientious worker.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২২.
They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an-
  1. participle
  2. infinitive
  3. verbal noun
  4. gerund
সঠিক উত্তর:
gerund
উত্তর
সঠিক উত্তর:
gerund
ব্যাখ্যা

• They talked about going on a vacation.
- Here 'going' is a gerund.

- Here, “going” comes after the preposition “about”, so it must function as a noun.
- প্রদত্ত বাক্যে, going (verb+ing)- preposition “about” -এর object হিসেবে বসে noun -এর কাজ করেছে তাই এটি gerund.
- অর্থাৎ, 'going' এখানে যাওয়ার কাজ (an act or instance of going) বুঝাচ্ছে।
- এটি participle নয়, কারণ এই বাক্যে এটি কোনো noun/pronoun কে modify করেনি।

• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

• Functions of the Gerund:
1. As a subject of a verb: Rising early is a good habit.
2. As an object of a verb: I like reading poetry.
3. As an object of a preposition: I am tired of waiting.
4. As a complement of a verb: Seeing is believing.
5. As absolutely (part of a compound noun): This is my writing table.

অন্যদিকে,
• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- Present participle দ্বারা চলমান sense বোঝায়।
- যেমন: Everything was in going order.

• Infinitive:
- Infinitive হচ্ছে verb এর base form অথবা to + base form.
- যেমন: go, to go.

• Infinitive দুই রকম হতে পারে। যেমন:
- To -যুক্ত infinitive এবং
- To -বিহীন infinitive বা Bare Infinitive.

• Verbal Noun:
- কোন বাক্যের Verb + ing - এর পূর্বে the এবং পরে of থাকলে তাকে Verbal Noun বলে।
- The + verb+ing + of = verbal noun.
- যেমন: The making of the plan is in hand.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৩.
The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname-
  1. Ellise Bellet
  2. Ellis Belle
  3. Ellis Bell
  4. Una Elis
সঠিক উত্তর:
Ellis Bell
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Ellis Bell
ব্যাখ্যা

• The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the pen name Ellis Bell.

• Wuthering Heights:

- Emily Bronte রচিত এই উপন্যাসটি ১৮৪৭ সালে Ellis Bell ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়।
- 'Heathcliff' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন এতিম বালক।
- অন্যের আশ্রয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে আশ্রয়দাতার কন্যা Catherine Earnshaw -এর সাথে তার মনের মিলন ঘটে, দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে ফেলে।
- কিন্তু Catherine প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অন্যত্র বিয়ে করলে Heathcliff নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
- যখন ফিরে আসে তখন সে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক।
- কাহিনীর এ পর্যায়ে তাকে তার মালিকের বাড়ি Wuthering Heights কিনে নেয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন প্রেমিকা Catherine -এর ননদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সম্পত্তির লোভে তাকে বিয়ে করতে দেখা যায়।
- পরবর্তীতে এই বিয়েটা ভেঙে যায় এবং এরপর Catherine মারা যায়। তার ভাই Hindley ও মারা যায়। কিন্তু তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
- Heathcliff -এর সন্তানও এদের সাথে যোগ দেয়। এভাবে কাহিনী এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মের মাঝে এগিয়ে চলে।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ট্র্যাজেডি এবং Gothic Novel -এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

• Main characters:
- Catherine Earnshaw,
- Cathy Linton,
- Edgar Linton,
- Heathcliff (The central character)
- Lockwood, etc.

• Emily Bronte (1818-1848):
- Emily Bronte ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা ও কবি।
- তার পুরো নাম Emily Jane Bronte, তার ছদ্মনাম Ellis Bell.
- তিনি Charlotte Bronte -এর ছোট বোন।
- “Wuthering Heights” উপন্যাসকে ঘিরেই মূলত তার পরিচতি।
- মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই এই উপন্যাসিক মৃত্যু বরণ করেন।

• Notable Works:
- Poems by Currer, Ellis and Acton Bell,
- Wuthering Heights, etc.

Source: Britannica.

১২৪.
Which gender is the noun 'neighbour'?
  1. Masculine
  2. Feminine
  3. Neuter
  4. Common
সঠিক উত্তর:
Common
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Common
ব্যাখ্যা

• 'Neighbour' is a Common gender.

• Neighbour (noun, adjective, verb)
- English Meaning: one living or located near another.
- Bangla Meaning: প্রতিবেশী; প্রতিবাসী; পড়শি।

- The noun "neighbour" refers to a person (male or female) who lives near or next to another.

• Common gender:
- A noun that denotes either a male or female is said to be of the common gender.
- অর্থাৎ, Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Infant (শিশু), Deer (হরিণ), student (ছাত্র/ছাত্রী), lawyer (উকিল), Neighbor (প্রতিবেশী), orphan (এতিম), parent (মা, বাবা), spouse (দম্পতি) etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.

১২৫.
'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
In this sentence the verb 'sneezed' is-
  1. causative
  2. intransitive
  3. transitive
  4. factitive
সঠিক উত্তর:
intransitive
উত্তর
সঠিক উত্তর:
intransitive
ব্যাখ্যা

• 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
- In this sentence, the verb 'sneezed' is intransitive.

- "sneezed" এখানে Intransitive verb কারণ এটি কোনো Direct object গ্রহণ করেনি।
- Intransitive verb হলো এমন Verb যা কোন Direct object ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
-
The verb "sneezed" does not take a direct object - it expresses an action that does not pass over to an object.
- অর্থাৎ এটি কেবল subject -এর কাজ বোঝাচ্ছে, sneezed কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে (object) প্রভাবিত করছে না।

• Intransitive verb:
- An intransitive verb is a verb that denotes an action which does not pass over to an object, or which expresses a state or being.
- অর্থাৎ, intransitive verb হলো subject নিজের দ্বারাই যে কাজ সম্পন্ন হয়, action (কাজ) সম্পন্ন হওয়ার জন্য object -এর দ্বারস্থ হতে হয় না।
- যে verb -এর কর্ম (direct object) নেই তাকে Intransitive verb বলে।
- এই verb কে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না। Direct object থাকে না বলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না।
- সাধারণত verb-এর পরে কোনো word না থাকলে অথবা verb-এর পরে adverb/preposition থাকলে সেটি Intransitive verb হবে।

• More Examples:
- The glass broke.
- We shall stop here a few days.
- The leaves fall in winter.

অন্যদিকে,
• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়।
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He always has me do his work. (সে সব সময় আমাকে দিয়ে তার কাজ করিয়ে নেয়।)

• Transitive verb:
- যে verb এর object আছে তাকে transitive verb বলে৷
- Transitive verbs এর সাধারণ Structure হচ্ছে: subject + verb + object.
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun অথবা Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- আবার intransitive verb এর শেষে preposition + object যুক্ত করেও তাকে transitive verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He writes a letter. write হলো transitive verb, কারণ এর object হলো a letter.

• Factitive Verb:
- যে Verb এর Object বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে Factitive Verb বলে।
- Factitive Verb হলো এমন ক্রিয়া যা দুটি object নেয় - একটি direct object এবং একটি object complement।
- এই verb direct object কে object complement হিসেবে বর্ণিত অবস্থায় পরিণত করে বা নিয়োগ দেয়।
- কিছু factitive verbs হলো: Elect, Select, Make, Appoint, Call, Name, etc.

- যেমন: The manager appointed him secretary.
- উল্লিখিত বাক্যে secretary হচ্ছে Objective Complement Factitive Object.
- "The manager appointed him" দ্বারা বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে না, তাই Objective Complement হিসেবে secretary বসানোর পর বাক্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- যেহেতু Object (him) বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়নি তাই এটি Factitive Verb.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৬.
A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an-
  1. immigrant
  2. expatriate
  3. emigrant
  4. migrant
সঠিক উত্তর:
emigrant
উত্তর
সঠিক উত্তর:
emigrant
ব্যাখ্যা

• A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called an emigrant.

• Emigrant (Noun, Adjective)
- English Meaning: A person who leaves his/her own country to settle permanently in another country.
- Bangla Meaning: স্বদেশত্যাগী; বাস্তুত্যাগী বা দেশান্তরী (ব্যক্তি)।

অন্যদিকে,
• Immigrant (Noun):
- English Meaning: A person who comes to a country to take up permanent residence.
- Bangla Meaning: বহিরাগত; অভিবাসী; বসবাসের জন্য বিদেশে আগমনকারী।

• Expatriate (Noun, verb, adjective):
- English Meaning: A person who lives in a foreign country.
- Bangla Meaning: প্রবাসী ব্যক্তি।

• Migrant (Noun):
- English Meaning: A person who moves from one place to another, especially in order to find work or better living conditions; a bird or animal that migrates.
- Bangla Meaning: বসবাসের উদ্দেশ্যে এক স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র গমনকারী (বিশেষত পাখি)।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৭.
Identify the word that can be used as both singular and plural:
  1. light
  2. shot
  3. criterion
  4. cannon
সঠিক উত্তর:
cannon
উত্তর
সঠিক উত্তর:
cannon
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- ঘ) cannon.

• Cannon (Noun & Verb):
- English meaning: An old type of large, heavy gun, usually on wheels, that fires solid metal or stone balls.
- Bangla meaning: (collective; plural- এর স্থলে প্রায়ই 'singular ব্যবহৃত হয়) (বিশেষত ধাতুর তৈরি নীরেট গোলানিক্ষেপক, প্রাচীন) কামান; আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানে ব্যবহৃত গোলানিক্ষেপক ভারী, স্বয়ংক্রিয় কামান।

- Cannon -এর plural form হলো দুইটি- cannons or cannon.
- তবে সাধারণত plural হিসেবে cannon-ই ব্যবহার করা হয়।
- cannon (same form in military contexts).

অন্যদিকে,
• Light [uncountable noun] - আলোক; আলো → singular: light, plural: lights.

• Shot [countable noun] - গুলি; গুলিবর্ষণ; গুলির শব্দ → singular: shot, plural: shots.
- তবে ছোট সীসা বা ইস্পাতের গুলি, বিশেষ করে শটগানের জন্য চার্জ তৈরি করা অর্থে plural noun: shot ব্যবহৃত হয়।
- প্রচলিত plural form হলো- Shots.
- যেমন: Several shots were fired.

• Criterion (plural criteria বিচারের মাপকাঠি; মানদণ্ড) → singular: criterion, plural: criteria.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৮.
Identify the correct passive form, "People thought that the despot was corrupt"
  1. The despot had been thought to be corrupt.
  2. It was thought that the despot was corrupt.
  3. The despot was thought to be corrupt.
  4. The despot is thought to be corrupt.
সঠিক উত্তর:
The despot was thought to be corrupt.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The despot was thought to be corrupt.
ব্যাখ্যা

- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- এই ধরনের complex বাক্যে যেখানে that-clause আছে, সেখানে passive form তৈরির দুটি উপায় আছে:
- প্রথম উপায় (Impersonal passive) দ্বিতীয় অংশকে 'It' ধরে। যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: It was thought that the despot was corrupt.

- Subject হিসেবে People থাকলে Passive voice -এ সাধারণত তা লেখা হয় না।
- তবে, দ্বিতীয় অংশে transitive verb থাকলে দ্বিতীয় অংশেরও Passive করতে হয়।

- দ্বিতীয় উপায় (Personal passive):
- সাধারণত Acknowledge, assume, think, claim, believe, know, report, understand, ইত্যাদি verb যুক্ত Active voice এর Passive করার নিয়ম-
- Personal object টিকে subject ধরা হয়।
- Tense অনুযায়ী auxiliary verb বসে।
- মূল verb -এর past participle + to be + direct object + by + subject -এর objective form.
- যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- তবে এই প্রশ্নে গ) অপশনটিই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে কারণ:
- Option গ) is more direct and commonly used when the focus is on the despot as the subject of the belief.

অন্যান্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ:
ক) The despot had been thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (had been = past perfect) ব্যবহার হয়েছে।

ঘ) The despot is thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (is = present, কিন্তু মূল বাক্যে past tense) ব্যবহার হয়েছে।

১২৯.
'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a /an-
  1. adverb
  2. adjective
  3. noun
  4. conjunction
সঠিক উত্তর:
adjective
উত্তর
সঠিক উত্তর:
adjective
ব্যাখ্যা

• 'After lunch we went for a leisurely stroll'.
- Here 'leisurely' is an adjective.

- The word "leisurely" describes the noun "stroll" — it tells what kind of stroll it was.
- When a word modifies a noun, it functions as an adjective.
- অর্থাৎ, 'leisurely' শব্দটি noun 'stroll' এর আগে বসে এটিকে বর্ণনা করছে।

• Leisurely (adjective)
- English Meaning: acting or done at leisure; unhurried or relaxed.
- Bangla Meaning: ব্যস্ততাহীন।

• Leisurely (adverb)
- English Meaning: without haste: deliberately.
- Bangla Meaning: মন্থরগতিতে; ধীরে ধীরে; ব্যস্ততাহীনভাবে।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৩০.
The play "Englishmen for My Money" was written by-
  1. Christopher Marlowe
  2. Thomas Kyd
  3. William Haughton
  4. Ben Jonson
সঠিক উত্তর:
William Haughton
উত্তর
সঠিক উত্তর:
William Haughton
ব্যাখ্যা

• The play "Englishmen for My Money" was written by William Haughton.

• Englishmen For My Money: Or A Woman Will Have Her Will:
- Englishmen for My Money, or A Woman Will Have Her Will হলো এলিজাবেথীয় যুগের একটি কমেডি নাটক, যা ১৫৯৮ সালে William Haughton রচনা করেছিলেন।
- Scholars and critics often cite it as the first city comedy.
- এই নাটকটি একটি dramatic subgenre সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে Thomas Dekker, Thomas Middleton, Ben Jonson, এবং অন্যান্যরা পরবর্তী বছর ও দশকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করেছিলেন।

• Summary:
- গল্পটি আবর্তিত হয় এক ধনী বিধবা মিসেস ফ্লাওয়ারডেলকে নিয়ে, যাকে তিনজন পুরুষ - স্যার লিওনেল ফ্রিভিল, স্যার থমাস লং এবং মাস্টার গ্যালিয়ার্ড - এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রতিটি পুরুষ তার স্নেহ ও ভাগ্য জয়ের চেষ্টা করে, কিন্তু মিসেস ফ্লাওয়ারডেল তার নিজের পথ নির্ধারণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সে এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয় যে তার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নাটকটি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার গতিশীলতার উপর একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিনোদনমূলক দৃষ্টিপাত। হটনের লেখনী ধারালো ও হাস্যরসাত্মক, এবং চরিত্রগুলি সুসংহত ও স্মরণীয়।

• William Haughton (1575-1605):
- William Haughton ছিলেন এলিজাবেথীয় যুগের একজন ইংরেজ নাট্যকার।
- তিনি ১৫৯৭ থেকে ১৬০৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রখ্যাত Admiral’s Men (a theatrical company) নাট্যকোম্পানির জন্য নাটক লিখতেন।
- He collaborated in many plays with Henry Chettle, Thomas Dekker, John Day and Richard Hathway.
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হলো "Englishmen For My Money", এই নাটকটিকেই ইংরেজি ভাষার প্রথম প্রহসন-ভিত্তিক শহুরে কমেডি (City Comedy) হিসেবে ধরা হয়।

• Notable works:
- Englishmen For My Money,
- The Devil and His Dame,
- The English Moor, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Goodreads.com

১৩১.
"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". the statement occurs in
  1. Robinson Crusoe
  2. A Doll's House
  3. Vanity Fair
  4. Gulliver's Travels
সঠিক উত্তর:
Gulliver's Travels
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Gulliver's Travels
ব্যাখ্যা

"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". - এই উক্তিটি এসেছে Jonathan Swift-এর বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক রচনা Gulliver’s Travels থেকে।

• Gulliver's Travels:

- Jonathan Swift রচিত একটি novel, তিনি Augustan age এর একজন Author, তাই এটি Augustan age এর রচনা।
- এটি 18th century এর একটি famous satire.
- এটি ৪ খন্ডের একটি রম্য রচনা।
- এর full title হচ্ছে - Travels into Several Remote Places in the World.
- এই novel টি ১৭২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• Lemuel Gulliver সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় এবং পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ভেঙ্গে যায়।
- Gulliver প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু এক অদ্ভুত দেশে নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সবার উচ্চতা ৬ ইঞ্চির নিচে।
- তার বিশাল দেহ নিয়ে লিলিপুটদের নানা উপকারে আসে, এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য Blefuscu এর সাথে চলমান যুদ্ধেও লড়াই করে।
- এভাবে সে লিলিপুটদের রাজ্যে একপ্রকার হিরোতে পরিণত হয়।
- যদিও এক পর্যায়ে Gulliver তাদের রোষের শিকার হয় এবং তার শাস্তি হয় তার চোখ তুলে ফেলা হবে।
- পরিশেষে Gulliver শাস্তি এড়াতে সমর্থ হয় এবং বেঁচে ফিরে আসে।

• Jonathan Swift:
- তিনি একজন Anglo-Irish author এবং clergyman ছিলেন।
- তিনি Augustan age এর একজন Author.
- Jonathon Swift, an Anglo-Irish author, who was the foremost prose satirist in the English language.
- অর্থাৎ, ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গরচয়িতা বা satirist হলেন Jonathan Swift.
- তার রচিত বিখ্যাত satire হলো ‘Gulliver’s Travels’.
- তাঁর ছদ্মনাম Isaac Bickerstaff.

• Famous works:
- Gulliver's Travels,
- A Tale of a Tub,
- A Modest Proposal,
- The Battle of Books.

Other options,
ক) Robinson Crusoe
লেখক: Daniel Defoe.

খ) A Doll’s House
লেখক: Henrik Ibsen.

গ) Vanity Fair
লেখক: William Makepeace Thackeray.

Source: Britannica & Live MCQ lecture.

১৩২.
'We know that the earth is a planet'. The underlined part is a/an-
  1. noun clause
  2. adverbial clause
  3. adjective clause
  4. principal clause.
সঠিক উত্তর:
noun clause
উত্তর
সঠিক উত্তর:
noun clause
ব্যাখ্যা

We know that the earth is a planet. The underlined part is a/an - Noun clause.
- এখানে "that the earth is a planet" অংশটি 'know' verb -এর object হিসেবে কাজ করছে।

• Noun clause:

- যে সব subordinate- clause noun এর কাজ করে থাকে অর্থাৎ, subject, object, compliment, বা case in apposition- এর কাজ করে থাকে তাদেরকে বলে noun clause.
- Noun clauses are used when a single word isn't enough.

• একটি বাক্যের যেসব স্থানে Noun clause বসতে পারে -

1. Verb এর subject হিসেবে।
Example: That he has much money is known to all.

2. Verb এর object হিসেবে।
Example: I know that he has done it.

3. Verb এর complement হিসেবে।
Example: This is what I said.

4. Preposition এর object হিসেবে;
Example: I cannot understand the meaning of what he said.

5. Noun/ pronoun - এর apposition হিসেবে।
Example: The fact that he is a thief is clear to all.

Source:
- A Passage to the English Language, S.M. Zakir Hussain.
- Advanced Learner's Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain.

১৩৩.
Select the sentence in which 'better' is an adverb.
  1. We're helping for better weather tomorrow.
  2. Sound travels better in water than in air.
  3. It's hard to decide which one is better.
  4. He joined the gym to better his health.
সঠিক উত্তর:
Sound travels better in water than in air.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Sound travels better in water than in air.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) Sound travels better in water than in air.
- এই বাক্যে 'better' শব্দটি 'travels' verb কে বর্ণনা করছে।
- এটি বলছে শব্দ কীভাবে ভ্রমণ করে।
- অর্থাৎ, "শব্দ পানিতে বেশি ভালোভাবে ভ্রমণ করে"।
- যেহেতু এটি verb কে modify করছে, তাই এটি adverb.

Better: [adverb]
English meaning: in a more excellent or pleasant way; to a higher or greater degree.
Bangla meaning: কোনো কাজ বা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বা বেশি আনন্দদায়কভাবে ঘটেছে।

Example:
- She sings much better than I do.
- Sound travels better in water than in air.

Other options,

ক) We're hoping for better weather tomorrow.
- 'better' এখানে adjective.
- এটি noun 'weather' কে বর্ণনা করছে।

গ) It's hard to decide which one is better.
- এখানে better হচ্ছে adjective।
- এখানে "better" শব্দটি "which one" কে বর্ণনা করছে।
- এটি verb 'is' এর পরে complement হিসেবে এসেছে।

ঘ) He joined the gym to better his health.
- এখানে better হলো verb, অর্থাৎ “উন্নত করা”।

Source:
- Oxford Dictionary.

১৩৪.
Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it _______ the park with her performance in culinary art.
  1. outside
  2. out of
  3. inside
  4. off
সঠিক উত্তর:
out of
উত্তর
সঠিক উত্তর:
out of
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) out of.

Complete sentence: Selina knocked it out of the park with her performance in culinary art.
Bangla: সেলিনা রান্নার শিল্পে তার পারফরম্যান্স দিয়ে অসাধারণ সফলতা পেয়েছে/দুর্দান্ত করেছে।

knock sb/sth out of the park: [idiom]

English meaning: to do something much better than someone else, or to be much better than someone or something else/ to do something extremely well.
Bangla meaning: কারো চেয়ে অনেক ভালো কিছু করা, বা কারো/কিছুর চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করা/ কোনো কাজ চরমভাবে দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা।

Example:
- Hotel Ferrero knocks everyone out of the park with their breakfast.
- The BBC is hitting them all out of the park at the moment, in children's drama at least.
- I feel like I can write anything for this actor, and she'll knock it out of the park.
- If I don't hit this out of the park, I'm finished.

সঠিক idiom টি হলো - knock out of the park তাই উল্লিখিত অন্য অপশন গুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

Source:
- Cambridge Dictionary.

১৩৫.
The idiom 'icing on the cake' means -
  1. a slice of the cake
  2. an attractive but unnecessary addition
  3. an attractive service
  4. an attractive and essential enhancement
সঠিক উত্তর:
an attractive but unnecessary addition
উত্তর
সঠিক উত্তর:
an attractive but unnecessary addition
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

• The icing on the cake:
[idiom]
English meaning: If you describe something as the icing on the cake, you mean that it makes a good thing even better, but it is not essential.
Bangla meaning: এর মানে হলো এটি ইতিমধ্যেই ভালো কিছুকে আরও ভালো করে তোলে, কিন্তু এটি অপরিহার্য নয়।

Example:

- I was just content to see my daughter in such a stable relationship, but a grandchild, that really was the icing on the cake.

- I love my job, and getting public recognition is merely the icing on the cake.

- The third goal was the icing on the cake.

Other options,
ক) a slice of the cake:
→ কেকের একটি টুকরো।

খ) an attractive but unnecessary addition:
→ আকর্ষণীয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সংযোজন।

গ) an attractive service:
→ আকর্ষণীয় সেবা।

ঘ) an attractive and essential enhancement:
→ আকর্ষণীয় এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন।

অপশন গুলোর অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায়, সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Collins Dictionary.

১৩৬.
Choose the synonym for 'fright':
  1. placidity
  2. composure
  3. apprehension
  4. equanimity
সঠিক উত্তর:
apprehension
উত্তর
সঠিক উত্তর:
apprehension
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) apprehension.

• Fright: [noun]

English meaning: the feeling of fear, especially if felt suddenly, or an experience of fear that happens suddenly.
Bangla meaning: আকস্মিক প্রচণ্ড ভীতি; আতঙ্ক; ত্রাস; সন্ত্রাস; শঙ্কা।

Other options,

ক) Placidity: [noun]
English meaning: the fact of being calm and peaceful, with very little movement.
Bangla meaning: শান্ততা; প্রসন্নতা।

খ) Composure: [noun]
English meaning: the state of being calm and in control of your feelings or behaviour.
Bangla meaning: শান্তি; স্থৈর্য; আত্মসংবরণ।

গ) Apprehension: [noun]
English meaning:
- worry about the future, or a fear that something unpleasant is going to happen.
- an act of catching and arresting someone who has not obeyed the law.
- the act of understanding something, or the way that something is understood.

Bangla meaning:

- [Countable noun, Uncountable noun] আশঙ্কা; ভবিষ্যৎ বিষয়ে উৎকণ্ঠার অনুভূতি: filled with apprehension; an apprehension of failure.
- [Uncountable noun] (আইন সম্বন্ধীয়) গ্রেফতার: the apprehension of a thief.
- [Uncountable noun] উপলব্ধি; চেতনা; বোধ: apprehension of truth.

ঘ) Equanimity: [noun]
English meaning: a calm mental state, especially after a shock or disappointment or in a difficult situation
Bangla meaning: মনমেজাজের প্রশান্তি।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, Fright এর synonym হলো - Apprehension.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Accessible Dictionary.
- Oxford Dictionary.

১৩৭.
"Rubiyat of Khayyam" is attributed to
  1. Edward FitzGerald
  2. Scott Fitzgerald
  3. Thomas Fitzgerald
  4. William Fitzgerald
সঠিক উত্তর:
Edward FitzGerald
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Edward FitzGerald
ব্যাখ্যা

সাহিত্য কর্মটির সঠিক নাম - The Rubaiyat of Omar Khayyam.

The Rubaiyat of Omar Khayyam:
- এটি রচনা করেন সাহিত্যিক Edward Fitzgerald.
- যুগ শ্রেষ্ঠ জ্যেতির্বিজ্ঞানী ওমার খৈয়ামের রচনা থেকে অনুপ্রাণিত।
- এটি মূলত: অনুবাদ নয় বরং মূল গ্রন্থকে সামনে রেখে মৌলিক রচনা।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি Classic হিসেবে বিবেচিত।
- It is one of the most frequently quoted lyric poems, and many of its phrases are passed into common currency.
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- ইংরেজি সংস্করণে এই নামের সাথে যুক্ত হয়- "the Astronomer-Poet of Persia" বাক্যটি।

• Edward Fitzgerald:
- Edward Fitzgerald belongs to the Victorian Period.
- He was born on March 31, 1809, in England.
- FitzGerald was educated at Trinity College, Cambridge, where he formed a lifelong friendship with William Makepeace Thackeray.

• Notable Work:
- The Rubaiyat of Omar Khayyam.

Source: Live MCQ English Essence and Britannica.

১৩৮.
'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an
  1. adjective
  2. noun
  3. preposition
  4. pronoun
সঠিক উত্তর:
preposition
উত্তর
সঠিক উত্তর:
preposition
ব্যাখ্যা

We work every day except Friday. In this sentence, 'except' is a/an - Preposition.
- এখানে except শব্দটি বোঝাচ্ছে "Friday-এর বাইরে" বা "Friday ছাড়া"।
- অর্থাৎ এটি Friday-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা হলো preposition-এর কাজ।
- এটি দেখাচ্ছে যে শুক্রবার ছাড়া বাকি সব দিন কাজ হয়।

• Except: [preposition]
English meaning: ​used before you mention the only thing or person about which a statement is not true.
Bangla meaning: ব্যতীত; ছাড়া।

Example:
- We work every day except Sunday.
- They all came except Matt.
- I had nothing on except for my socks.

Source:
- Oxford Dictionary.
- Accessible Dictionary.

১৩৯.
Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?
  1. Claire Clairmont
  2. Marry Wollstonecraft
  3. Mary Wollstonecraft Godwin
  4. Mary Shelley
সঠিক উত্তর:
Mary Wollstonecraft Godwin
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Mary Wollstonecraft Godwin
ব্যাখ্যা

A Vindication of the Rights of Woman:
- এটি রচনা করেন British writer Mary Wollstonecraft Godwin.
- এটি ১৭৯২ সালে প্রকাশিত একটি প্রসিদ্ধ নারীবিদ্বেষ-বিরোধী প্রবন্ধ, যা ব্রিটিশ লেখক এবং নারী অধিকার কর্মী Mary Wollstonecraft লিখেছেন।
- এই রচনায় নারীদের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ এবং বিবাহে ক্ষমতায়ন (empowerment) নিশ্চিত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

Mary Wollstonecraft/ Mary Wollstonecraft Godwin:
- জন্ম ২৭ এপ্রিল, ১৭৫৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড — মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর, ১৭৯৭, লন্ডন।
- তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি লেখিকা এবং নারীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সমতার প্রবল সমর্থক। তিনি তার বিশ্বাসসমূহ “A Vindication of the Rights of Woman” (১৭৯২) গ্রন্থে উপস্থাপন করেন, যা নারীবাদ (ফেমিনিজম)-এর একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।

Notable works:
- A Vindication of the Rights of Woman,
- Letters Written During a Short Residence in Sweden, Norway, and Denmark,
- Maria; or, The Wrongs of Woman.

Other option,
খ) Marry Wollstonecraft: Marry ভুল বানান, সঠিক বানান হলো - Mary Wollstonecraft.

-----------
উল্লেখ্য -
• Mary Wollstonecraft:
- Married name: Mary Wollstonecraft Godwin is actually her full married name, but she is generally known as Mary Wollstonecraft.
- Spouse name: William Godwin.
- Daughter: Mary Wollstonecraft Shelley.

Source: Britannica.

১৪০.
Which sentence is correct?
  1. The picture was hanged on the wall.
  2. The picture was hung on the wall.
  3. The picture was hunged on the wall.
  4. The picture had hanged on the wall.
সঠিক উত্তর:
The picture was hung on the wall.
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The picture was hung on the wall.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) The picture was hung on the wall.

"Hang" verb এর past tense ও past participle আলাদা ব্যবহারে বিভক্ত।


• Hang(verb) ঝোলা; ঝুলে থাকা; ঝুলানো; ঝুলিয়ে রাখা।
- এই অর্থে এর past tense, past participle form হবে Hung.
- hang something from the ceiling; a picture hanging on the wall; windows hung with curtains.

• Hang (verb) ফাঁসি দেওয়া; ফাঁসি হওয়া; ফাঁসি নেওয়া
- এই অর্থে এর past tense, past participle form hanged হবে।
- He was hanged for murder, খুনের দায়ে ফাঁসি হয়েছে;
- He hanged himself, ফাঁস নিয়ে মরেছে।

অর্থাৎ, যখন কোনো ছবি বা বস্তু দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hung.
- যখন কারো ফাঁসিতে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hanged.

• যেহেতু এখানে ছবি দেয়ালে ঝুলানো হয়েছে, তাই সঠিক ব্যবহার হবে: was hung.

Other options,

ক) The picture was hanged on the wall.
- Hanged ব্যবহার হয় ফাঁসিতে ঝুলানো এর জন্য, যেমন Execution-এর ক্ষেত্রে।
- এখানে ছবির প্রসঙ্গ, তাই ভুল।

খ) The picture was hunged on the wall.
- এখানে, Hunged হলো ভুল বানান; English-এ hung হলো সঠিক past participle.

ঘ) The picture had hanged on the wall.
- hanged ফাঁসির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া, past perfect tense "had hanged" এখানে প্রয়োজন নেই, কারণ সাধারণ description দেওয়া হচ্ছে।

Source:
- Accessible Dictionary.

১৪১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস'। তমুদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন
  2. পদার্থ বিজ্ঞান
  3. অর্থনীতি
  4. ইসলামী শিক্ষা
সঠিক উত্তর:
পদার্থ বিজ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদার্থ বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

⇒ 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

♦ তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
→ ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
→ পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
→ এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ২১ ফেব্রুয়ারী
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ৫ আগস্ট
সঠিক উত্তর:
২৬ মার্চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা

⇒ ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।

♦ স্বাধীনতা দিবস:
→ ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
→ ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
→ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
→ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস।
→ ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'।

♦ বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস:
→ ০২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।
→ ০১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস।
→ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।
→ ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস'।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৩.
নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাগাল্যান্ড
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন ভূমি সীমানা নেই।

♦ বাংলাদেশের সীমান্ত:
→ বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
→ বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
→ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
→ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
→ বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

♦ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
→ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।
→ এটি পৃথিবীর ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
→ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যসমূহ: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ওয়ার্ল্ড এটলাস ও Statistica.com

১৪৪.
আয়নাঘর কী?
  1. স্বচ্ছ কামরা
  2. পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ
  3. গোপন কারাগার
  4. একটি হলিউড মুভি
সঠিক উত্তর:
গোপন কারাগার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপন কারাগার
ব্যাখ্যা

⇒ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত 'গোপন কারাগার'।

♦ আয়নাঘর:
→ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাউন্টার-টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম আয়নাঘর।
→ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত হয়।
→ এটি রাজনৈতিক বিরোধীদের, সরকার-সমালোচকদের, সন্দেহভাজন 'চরমপন্থী' বা 'সন্ত্রাসী'দের গুম করে আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
→ মূলত সরকার-বিরোধী চক্রান্তে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা হত এখানে।
→ শুধু তৎকালীন সরকারের সমালোচকেরা নন, ‘চরমপন্থী’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত করেও বহু মানুষকে ‘আয়নাঘর’ বা সেই জাতীয় গোপন বন্দিশালাগুলিতে আটক করা হয়েছিল।

♦ আয়নাঘরের অবস্থান:
→ আয়নাঘরের অবস্থান ঢাকা সেনানিবাস এলাকায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, যেখানে প্রাচীর-আবৃত অন্ধকার কক্ষসমূহ ছিল।
→ এতে কমপক্ষে ১৬টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটিতে ৩০ জন করে বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
→ রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি স্পট পরিদর্শন করেন তিনি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিম্নের কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বাক-স্বাধীনতার অধিকার
  2. শিক্ষার অধিকার
  3. সভা সমাবেশের অধিকার
  4. ধর্মচর্চার অধিকার
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্ষার অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়:
→ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় মৌলিক অধিকার।
→ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বাক-স্বাধীনতার অধিকার, সভা সমাবেশের অধিকার ও ধর্মচর্চার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

♦ তৃতীয় অধ্যায়ের অন্যান্য আলোচ্য বিষয়সমূহ:
→ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৬.
'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসূদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. এস ওয়াজেদ আলী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

♦ বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা:
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ।
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থে যে ৪২টি নিবন্ধ রয়েছে।
→ সেগুলির মধ্যে প্রথম ৩৯টি ১৯৭২ ও ৭৩ সালে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
→ এই গ্রন্থে প্রকাশিত ৪২-টি নিবন্ধ পাচ মিশালা হহলেও প্রত্যেকাঢর মূল বক্তব্য অভিন্ন।
→ প্রবন্ধগুলোতে নানান দিকে উদ্ভুত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানেরই পথ-নির্দেশনা লেখক তার লেখাগুলো দিয়েছেন।
→ অনেক বিষয়ে তিনি লেখা ও আলোচনা শুরু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সবার উপর।

♦ আবুল মনসুর আহমেদ:

→ তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
→ তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

♦ ব্যঙ্গরচনা:
→ আয়না,
→ ফুড কনফারেন্স,
→ গালিভারের সফরনামা

♦ স্মৃতিকথা:
→ আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
→ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
→ শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
→ সত্যমিথ্যা,
→ জীবন ক্ষুধা,
→ আবে-হায়াৎ

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. হাকিম আজমল খান
  2. শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হক
  3. স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার আব্দুর রহিম
সঠিক উত্তর:
স্যার সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস:
→ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
→ বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন' এবং 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির' সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
→ নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
→ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
→ ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
→ ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৮.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
উত্তর
সঠিক উত্তর:
The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৯.
জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. Generalized System of Preference
  2. Global System of Positioning
  3. Global Strategic Partnership
  4. Government Support Program
সঠিক উত্তর:
Generalized System of Preference
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Generalized System of Preference
ব্যাখ্যা

⇒ জিএসপি (GSP) এর পূর্ণরূপ 'Generalized System of Preferences'.

♦ GSP:
→ Generalized System of Preferences (GSP) হল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এক ধরণের শুল্কমুক্ত বা শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা।
→ GSP হচ্ছে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
→ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম GSP সুবিধা চালু করে।
→ নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রথম জিএসপি সুবিধা দেয় ১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে।
→ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা হারায় ২৭ জুন, ২০১৩ সালে।
→ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র - ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

১৫০.
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কি?
  1. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
  2. সংসদের আসন বৃদ্ধি
  3. সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল
  4. পি আর (PR) চালু করা
সঠিক উত্তর:
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
ব্যাখ্যা

⇒ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ।

♦ সংস্কার প্রস্তাব:
→ এই সংস্কারে বর্তমান এককক্ষ সংসদের পরিবর্তে নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে।
→ যাতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু, জনকেন্দ্রিক এবং চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স সহ নিশ্চিত হয়।
→ নিম্নকক্ষে ৪০০ সদস্য (৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ১০০ নারী সংরক্ষিত সরাসরি নির্বাচিত) এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ সদস্য (১০০ সমানুপাতিক + ৫ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন, ৩০% নারী সংরক্ষিত) থাকবে।

♦ উল্লেখ্য:
→ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরির জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার।
→ সেগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কমিশন।
→ সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
→ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই কমিশনের সভাপতি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৫১.
বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথম কে অবস্থান করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান উপদেষ্টা
  4. প্রধান বিচারপতি
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা

জুলাই, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী:

রাষ্ট্রপতি (President of the Republic) এর অবস্থান সর্ব প্রথম।

উল্লেখ্য,
২. প্রধানমন্ত্রী
৩. সংসদের স্পিকার
৪. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ।
৫. কেবিনেট মন্ত্রিগণ; কেবিনেটের প্রধান হুইপ; সংসদের ডেপুটি স্পিকার; সংসদে বিরোধী দলের নেতা
৬. কেবল পদমর্যাদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সমমানের পদে থাকা ব্যক্তিরা।
৭. বিশেষ দূত ও কমনওয়েলথ দেশের হাইকমিশনারগণ, যারা বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত।
৮. প্রধান নির্বাচন কমিশনার; পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান; সংসদে বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা;সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ(আপিল বিভাগ); রাষ্ট্রের রাজ্য মন্ত্রীগণ; হুইপ।

এছাড়াও,
ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সে মোট ২৫টি পদক্রম রয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৫২.
পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি সাত্তার
  2. বিচারপতি সায়েম
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি হামদুর রহমান
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি সাত্তার
ব্যাখ্যা

• ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

১৯৭০ এর নির্বাচন:

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৩১০টি আসন বরাদ্দ ছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি সাধারন আসন ও ১০টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. মৌলভীবাজার
  4. পঞ্চগড়
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা

• চা-বাগান:
- চা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধকৃত দেশে মোট চা-বাগানের সংখ্যা - ১৭০ টি।
- মৌলভীবাজার জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ৯০ টি।
- হবিগঞ্জ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২৫ টি।
- সিলেট জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১৯ টি।
- চট্টগ্রাম জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২২ টি।
- রাঙ্গামাটি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২ টি।
- পঞ্চগড় জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১১ টি।
- ঠাকুরগাওঁ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১ টি।
- খাগড়াছড়ি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা -১ টি

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

১৫৪.
চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
  1. ইয়াংসি
  2. লিজিয়াং
  3. হয়াইলি
  4. ইয়ারলাং সাংপো
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইয়ারলাং সাংপো
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo):
- ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রবাহিত: চীন, ভারত, এবং বাংলাদেশ।
- ব্রহ্মপুত্র নদী চীনের তিব্বত মালভূমিতে উৎপন্ন হয় এবং সেখানে এ নদীকে “ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নামে ডাকা হয়।
- পরে এটি ভারতে প্রবেশ করে “সিয়াং” নামে পরিচিত হয় এবং বাংলাদেশে এসে “ব্রহ্মপুত্র” নামে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের ভূখণ্ডে ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। - এমন একটি প্রকল্প যা ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

১৫৫.
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।

১৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. তথ্য মন্ত্রণালয়
  2. প্রেস কাউন্সিল
  3. বিটিআরসি
  4. বাংলাদেশ টেলিভিশন
সঠিক উত্তর:
প্রেস কাউন্সিল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রেস কাউন্সিল
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রেস কাউন্সিল।

♦ প্রেস কাউন্সিল:
→ প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মানোন্নয়ন ও মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়।
→ প্রেস কাউন্সিল একটি আধা-বিচারিক সংস্থা।
→ প্রেস কাউন্সিলের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং তাদের মান উন্নত ও বজায় রাখা।

♦ প্রেস কাউন্সিলের কার্যাবলী:
• সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
• উচ্চ পেশাগত মান অনুযায়ী সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।
• সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের দ্বারা জনসাধারণের উচ্চমানের রুচি বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকলের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মনোভাব বৃদ্ধি করা।
• জনস্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ ও প্রচারে বাধা সৃষ্টিকারী যেকোনো উন্নয়ন পর্যালোচনা করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় ব্যক্তিদের জন্য সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা।



তথ্যসূত্র -
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওয়েবসাইট।
Media Landscapes

১৫৭.
Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
  1. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  2. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
  3. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
  4. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬৪) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে।
- বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯১১ জন।
- তার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হলো ১১ কোটি ৭ লাখ প্রায়, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.২৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং প্রথম আলো।

১৫৮.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
  4. তিব্বত-বর্মী
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি,
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
  1. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী
  2. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
  3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
  4. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
ব্যাখ্যা

• লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার আগে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

• চার্লস কর্নওয়ালিস:

সেভেন ইয়ার্স ওয়ার (১৭৫৬–৬৩)-এর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন কর্নওয়ালিস।
এই যুদ্ধে (১৭৬২ সালে) তিনি তার পিতার আর্ল উপাধি ও অন্যান্য পদবি উত্তরাধিকার সূত্রে পান।
তিনি যদিও উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের প্রতি ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি আমেরিকান বিপ্লব দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

- ১৭৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেমিক বাহিনীকে নিউ জার্সি থেকে বিতাড়িত করেন, কিন্তু ১৭৭৭ সালের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন আবার রাজ্যের একটি অংশ পুনর্দখল করেন।

- ১৭৮০ সালের জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নওয়ালিস জেনারেল হোরেশিও গেটসের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যারোলিনার ক্যামডেনে (১৬ আগস্ট, ১৭৮০) এক বড় জয় লাভ করেন।

- পূর্ব নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ভার্জিনিয়ায় অগ্রসর হয়ে তিনি জোয়ারভাটার বন্দর নগর ইয়র্কটাউনে তার ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- সেখানে তিনি আমেরিকান ও ফরাসি স্থলবাহিনীর (ওয়াশিংটন ও কমতে দ্য রোশামবো এর নেতৃত্বে) এবং ফরাসি নৌবাহিনীর (কমতে দ্য গ্রাস এর নেতৃত্বে) দ্বারা অবরুদ্ধ হন।
- অবশেষে তিনি এক দীর্ঘ অবরোধের পর তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করেন।

- যদিও ইয়র্কটাউনে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি যুদ্ধকে উপনিবেশবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত করে দেয়, তবুও কর্নওয়ালিস নিজ দেশে উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখেন।
- ১৭৮৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পদ গ্রহণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৬০.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে।
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

১৬১.
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে সাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৯
  4. ১৯৬০
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৪৯
ব্যাখ্যা

♦ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট ১৯৪৯ সালে সাক্ষরিত হয়।

NATO:

- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।

⇒ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে এক চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।
- এছাড়াও, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬২.
বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?
  1. International Conference on Civil and Political Rights
  2. International Conference of Civil and Political Rights
  3. International Covenant on Civil and Political Rights
  4. International Covenant of Civil and Political Rights
সঠিক উত্তর:
International Covenant on Civil and Political Rights
উত্তর
সঠিক উত্তর:
International Covenant on Civil and Political Rights
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ International Covenant on Civil and Political Rights.

ICCPR:

- ICCPR-এর পূর্ণরূপ: International Covenant on Civil and Political Rights.

⇒ এটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ১৯৬৬ সালে।
- কার্যকর হয়: ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে।
- আন্তর্জাতিক এই চুক্তি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি পেশার এবং প্রতিটি মানুষ যেন সমান অধিকার পায় সেই লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে দুইটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যেমন-জীবনের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের অধিকার সুরক্ষা করা।
- এতে মোট ৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এই চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি (UN Human Rights Committee)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এটি ২০০০ সালে অনুমোদন করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৬৩.
গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুইডেন
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. ফিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেনমার্ক
ব্যাখ্যা

♦ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।
- এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস। আরও আছে পৃথিবীর বিরল কিছু ধাতু, যেগুলোর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৬৪.
বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম কি?
  1. এন্থনি মাসকারেনহাস
  2. লরেঞ্চ জিরিং
  3. লরেঞ্চ লিফশূলজ্
  4. হেনরি কিসিঞ্জার
সঠিক উত্তর:
লরেঞ্চ জিরিং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লরেঞ্চ জিরিং
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম লরেঞ্চ জিরিং।

অধ্যাপক লরেঞ্চ জিরিং:
- 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারণা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়'- লরেঞ্চ জিরিং (Lawrence Ziring) কর্তৃক প্রদত্ত।
- তিনি তাঁর গ্রন্থ 'বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস'-এই গ্রন্থে এই পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- যেখানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণ করেছেন।
- এই গ্রন্থে জিরিং উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার প্রথম বিশ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যারা জনগণের অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বা ধারণার ভিত্তি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

- মূলত এটি একটি নিরপেক্ষ ইতিহাসের বই। ১৯৪০-১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের শাসনকাল, তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা/অস্থিরতা সহ বিভিন্ন বিষয় নিরপেক্ষভাবে উঠে এসেছে।

⇒ এছাড়াও, তিনি "মুজিব, এরশাদ ও হাসিনা: রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ইতিহাস" নামক একটি বইয়ের লেখক।


Link: core.ac.uk page: 124.

উৎস: বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস।

১৬৫.
বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?
  1. UNOSOM
  2. UNMOGIP
  3. UNTSO
  4. UNEF
সঠিক উত্তর:
UNTSO
উত্তর
সঠিক উত্তর:
UNTSO
ব্যাখ্যা

♦ বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী UNTSO (United Nations Truce Supervision Organization).

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৮ সালে।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।

১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. ভারসাই চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
সঠিক উত্তর:
ভারসাই চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারসাই চুক্তি
ব্যাখ্যা

♦ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি:

- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্থান: ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের হল অফ মিররসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর যে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল, তা মূলত স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles)-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এই চুক্তিটি জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করে এবং মিত্র দেশগুলোর ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে।
- ফলাফল: যুদ্ধের কারণে মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষতি হয়েছিল, তার জন্য জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১৬৭.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
  1. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি, বুজভেল্ট
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. জর্জ ডারিও বুশ
সঠিক উত্তর:
হাঁরি এস. ট্রুম্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাঁরি এস. ট্রুম্যান
ব্যাখ্যা

♦ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

হ্যারি এস. ট্রুম্যান:
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতিত্বে উন্নীত হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে শীতল যুদ্ধের উত্থান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর নেতৃত্ব দেন।
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'। পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।

উৎস: History.com

১৬৮.
ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. রামসার কনভেনশন
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্ট্রিল প্রটোকল
ব্যাখ্যা

♦ ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ ODS (Ozone Depleting Substances) হলো এমন পদার্থ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং অ্যারোসলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

১৬৯.
আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. চীন ও আফগানিস্তান
  2. চীন ও ইংল্যান্ড
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
সঠিক উত্তর:
চীন ও ইংল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন ও ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ আফিম যুদ্ধ চীন ও ইংল্যান্ড- এই দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।

আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

• নানকিং চুক্তি:
- প্রথম আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনের শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- চিনা কমিশনার চিইং (Chiying) এবং নব নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি পট্টিনগার (Sir Henry Pottinger) -এর উদ্যোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ সালে
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া চীন কর্তৃক ব্রিটেনকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বাধ্য হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে চীন সরকার ৯৯ বছরের জন্যে হংকংকে ব্রিটেনের নিকট লিজ দেয় এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজের মেয়াদ শেষে ব্রিটেন পুনরায় চীনের নিকট হংকং কে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.

১৭০.
কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. গালফ অফ গিনি
  2. ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া
  3. দক্ষিন আফ্রিকা
  4. পশ্চিম আফ্রিকা
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম আফ্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চিম আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

♦ কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।

কেপ ভার্দে (Cape Verde):
- কেপ ভার্দে রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- রাজধানী: প্রাইয়া (Praia)।
- সরকারি ভাষা: পর্তুগিজ।
- মুদ্রা: কেপ ভার্দীয় এসকুডো (সিভিই)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক); এছাড়াও ইসলাম।
- এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি এবং এর সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

১৭১.
নিম্নোক্ত কোন দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?
  1. তিমুর লিস্টি
  2. দক্ষিন সুদান
  3. ওয়েস্টার্ন সাহারা
  4. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার্ন সাহারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওয়েস্টার্ন সাহারা
ব্যাখ্যা

♦ ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়। তিমুর লিস্টি, দক্ষিন সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক জাতিসংঘের সদস্য দেশ।

ওয়েস্টার্ন সাহারা (পশ্চিম সাহারা):
- পশ্চিম সাহারা বা ওয়েস্টার্ন সাহারা আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন জনবহুল অঞ্চল যার বেশিরভাগই মরুভূমি।
- বৃহত্তম শহর: লায়াউন।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা একটি বিতর্কিত অঞ্চল।
- এটি পূর্বে স্পেনের উপনিবেশ (Spanish Sahara) ছিল। ১৯৭৫ সালে তা স্বাধীন হয়। কিন্তু মরক্কো ওই এলাকার অনেকটাই দখল করে নেয়। তখন থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই চলছে মরক্কোর।
- দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের নাম পোলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ চলার পর মরক্কো এবং পোলিসারিও-র মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পোলিসারিও নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র নয়। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে "Non-self-governing territory" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে,
- তিমুর-লিস্টি (পূর্ব তিমুর) ২০০২ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।

⇒ জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ জুন, ১৯৪৫।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি: ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১৭২.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?
  1. বুলগেরিয়া
  2. হাঙ্গেরি
  3. পোল্যান্ড
  4. সুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ সুইজারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়। অন্যদিকে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (
European Union):
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে।
- সদরদপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ: ৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ: ২৭টি।

⇒ ইইউ দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া , স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে।
• ১৮ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে প্যারিসে একচুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয় কয়লা ও ইস্পাত পরিষদ (ECSE- European Coal and Steel Community) গঠিত হয়।
• ২৫ মার্চ, ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্, ইতালি ফ্রান্স ও সাবেক পশ্চিম জার্মানী এ ৬টি রাষ্ট্রের মধ্যে 'রোম চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ সালে European Economic Community (EEC) এবং Euratom প্রতিষ্ঠিত হয়।
• পরবর্তীতে EEC একটি একক ইউরোপিয় অর্থনীতি গঠন করার প্রয়াস চালায়।
- ১৯৬৫ সালে সম্পাদিত 'ব্রাসেলস চুক্তি' সংগঠনটিকে European Community (EC) রূপান্তরিত করে।
• ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত 'ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি'র ভিত্তিতে EC রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন European Union (EU) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

এছাড়াও,
- শেনজেনভুক্ত দেশ: ২৯টি।
- ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশ: ২০টি।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।

১৭৩.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ফ্রান্স
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. কানাডা
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

♦ 'Five Eyes' গোয়েন্দা জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশ নয় ফ্রান্স। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা Five Eyes-এর সদস্য।

Five Eyes:
- Five Eyes ইন্টেলিজেন্স অ্যালায়েন্স, যা FVEY নামেও পরিচিত।
- ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের একটি গোয়েন্দা জোট।
- জোটটি UKUSA চুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
- তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে একসাথে কাজ করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তারা তাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে একে অপরকে সাহায্য করছে।
- সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য তারা শেয়ার করে।

⇒ UKUSA চুক্তি:
- ১৯৪৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একটি সমবায় গোয়েন্দা চুক্তি গঠন করে যা BRUSA চুক্তি নামে পরিচিত।
- এই গোপন চুক্তিটি পরবর্তীতে UKUSA চুক্তি হিসাবে আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
- এই চুক্তিটি ফাইভ আই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: Five Eyes ওয়েবসাইট।

১৭৪.
"কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"-অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?
  1. Development as Freedom
  2. Women and Human Development
  3. Development through Disposition
  4. Development, Environment and Power
সঠিক উত্তর:
Development as Freedom
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Development as Freedom
ব্যাখ্যা

♦ "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন 'Development as Freedom' গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন।

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

⇒ ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারণ" - এই উক্তিটি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর। তিনি তার "Development as Freedom" গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন। এখানে 'সামর্থ্যের অভাব' বলতে শুধু আর্থিক সংগতিই নয়, বরং মানুষের সক্ষমতার অভাবকেও বোঝানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুযোগ এবং স্বাধীনতা লাভের অভাব।

এছাড়াও,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন। বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Development as Freedom- Amartya Sen.

১৭৫.
নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়?
  1. আজারবাইজান
  2. ভারত
  3. পাকিস্তান
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
আজারবাইজান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আজারবাইজান
ব্যাখ্যা

♦ আজারবাইজান রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও ইরান সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য।

Shanghai Cooperation Organisation (SCO):
- সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) হলো একটি ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা।
- এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- গঠিত হয়: ১৫ জুন, ২০০১ সাল।
- সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন।
- প্রতিষ্ঠিত সদস্য দেশ: ৬টি (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি (রাশিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, বেলারুশ)।
- সর্বশেষ সদস্য: বেলারুশ।
- বর্তমান মহাসচিব: Nurlan Yermekbayev।
- ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র: আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালের Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩১ আগস্ট -১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি SCO-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন ছিল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

উৎস: Shanghai Cooperation Organisation ওয়েবসাইট।

১৭৬.
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৮০
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

♦ ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
------------------------

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty):
- ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে সিন্ধু পানি চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: করাচি, পাকিস্তান।
- মধ্যস্থতাকারী: বিশ্বব্যাংক।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান।

⇒ সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়।
- এই চুক্তি সিন্ধু নদের অববাহিকার ছয়টি নদী দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে।
- চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।
- অন্যদিকে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় তিনটি নদ–নদী অর্থাৎ সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাবের নিয়ন্ত্রণ। বলা হয় পশ্চিম অংশের এ তিনটি নদ–নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানে মোট পানির প্রায় ৮০ ভাগ সরবরাহ করে।
- চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান পায় ৭০ ভাগ পানি আর ভারত পায় ৩০ ভাগ পানি।
- চুক্তিটি কোনো দেশ একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। বরং এতে সুস্পষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
---------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:

১৯৬০ সালে IWT স্বাক্ষরিত হলেও, ভারত ভাগের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-বণ্টন বন্দোবস্ত হয়েছিল ৪ মে ১৯৪৮—Inter-Dominion Agreement on Punjab Canal Waters. এই চুক্তিতে ভারত পাকিস্তানের অববাহিকায় পানি সরবরাহ দেবে, আর পাকিস্তান বার্ষিক অর্থপ্রদান করবে—যা ছিল স্থায়ী চুক্তি হওয়া পর্যন্ত একটি স্টপগ্যাপ/অন্তর্বর্তী সমাধান।
এই অন্তর্বর্তী বন্দোবস্তই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক-মধ্যস্থ আলোচনার পথ খুলে দেয় এবং ১৯৬০ সালের IWT-তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তাই প্রশ্নটি যদি “ইন্দাস ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-ব্যবস্থাপনা চুক্তি/সমঝোতা”—এই অর্থে নেওয়া হয়, তহলে ক) ১৯৪৮ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। কিন্তু প্রশ্নে সরাসরি এই চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ঘুরিয়ে উত্তর নেওয়ার সুযোগ কম।


উৎস:
i) Britannica.
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
iii) Ministry of External Affairs, Government of India.

১৭৭.
হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
  1. ব্রুনেই
  2. মালয়েশিয়া
  3. সিংগাপুর
  4. তানজানিয়া
সঠিক উত্তর:
সিংগাপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিংগাপুর
ব্যাখ্যা

♦ হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

হালিমা ইয়াকুব:
- হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের অষ্টম ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
- ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হালিমা ইয়াকুব ক্ষমতায় এসেছিলেন।
- ২০২৩ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ থারমান শানমুগারাতনাম হালিমা ইয়াকুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট পদ অনেকটা আলংকারিক। প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নগররাষ্ট্রটির পুঞ্জীভূত আর্থিক রিজার্ভ দেখভাল করেন, সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত অনুমোদন করেন। তবে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বেশ কঠিন কিছু শর্ত রয়েছে। সংবিধান মতে, প্রেসিডেন্ট হচ্ছে নির্দলীয় একটি পদ।

⇒ সিঙ্গাপুর:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর।
- রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি।
- মুদ্রা: সিঙ্গাপুরীয় ডলার।
- দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: লরেন্স ওং (Lawrence Wong)।
- দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট: থারমান শানমুগারাতনাম (Mr Tharman Shanmugaratnam)।
- সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৯ সালে সিঙ্গাপুর স্ব-শাসিত হয়ে ওঠে।

এছাড়াও,
- আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক হলেন লি কুয়ান ইউ। লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে , সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.

১৭৮.
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন্ রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পাকিস্তান পিপলস পাটি (PPP)
  2. পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)
  3. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
  4. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
ব্যাখ্যা

♦ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার:
- মুহাম্মদ ইসহাক দার একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ।
- তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইসহাক দার পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।
- তিনি মুসলিম লীগ এন-এর প্রধান নওয়াজ শরীফের বেয়াই।

⇒ ২৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবতরণ করেন।
- ১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি ঢাকা সফর করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরটি যতটা কূটনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। তাঁর সফরকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১৭৯.
তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জালাল তালাবানী
  2. মাসুদ বারজানী
  3. মাজলুম আবদি
  4. আবদুল্লাহ ওচালান
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ ওচালান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবদুল্লাহ ওচালান
ব্যাখ্যা

♦ তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওচালান।

Kurdistan Workers' Party (PKK):
- কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) একটি কুর্দি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- এটি মূলত তুরস্ক, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ায় কুর্দিদের অধিকারের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
- পিকেকে ১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ ওচালানের (Abdullah Ocalan) নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- পিকেকে শুরুতে একটি সাম্যবাদী বিপ্লবী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- সংগঠনটির মূল দাবি ছিল স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দেয়।
- পিকেকে-কে বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও, অনেকের কাছে এটি কুর্দিদের অধিকারের জন্য সংগ্রামী প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য,
- পিকেকে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
- পিকেকে'র আদর্শ বিপ্লবী মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগত-জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশ সহ অনেক দেশ পিকেকেকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
- পিকেকে'র প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হল তুরস্কের পুলিশ, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পদ।
- সম্প্রতি (১ মার্চ, ২০২৫) কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) দেশটির সরকারের সঙ্গে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Republic of Türkiye Ministry of Foreign Affairs.

১৮০.
প্রাচীনকালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত হয়?
  1. মিশর
  2. গ্রীস
  3. চীন
  4. রোম
সঠিক উত্তর:
চীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চীন
ব্যাখ্যা

♦ প্রাচীনকালে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত চীনে।

সিভিল সার্ভিস:
- সিভিল সার্ভিস একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। এটি মূলত একটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনী, যারা সংবিধান ও সরকারের নীতিমালার আলোকে কাজ করে।
- এছাড়া, তারা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা স্তরে নিয়োজিত থাকেন।

⇒ সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয়েছে – প্রাচীন কালেই; যখন কিনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।
- এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, সিভিল সার্ভিসের ধারণার উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রীক সভ্যতার সময়।
- পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্য প্রশাসনিক দপ্তর নির্মাণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল; যা পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চগুলোও অনুসরণ করে।

⇒ চীনে খ্রিস্টপূর্ব ২ অব্দে সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয় যা চীনা সভ্যতা/সাম্রাজ্যকে দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়িত্ব দিয়েছে।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের প্রাচীনতম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো চীনের ইম্পেরিয়াল আমলাতন্ত্র।
- চীনে সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়। চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চ বেতনের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে।
- চীনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা মান্দারিন ভাষায় হয় ‘Guako’।
- খ্রিষ্টপূর্ব ২০৬ অব্দে চীনের হান রাজবংশের রাজা গাওজু (Gaozu) এর শাসনামলে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের উন্মেষ ঘটে। তিনি প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে রাজকর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করেন। এই সময়ে ইম্পেরিয়াল পরীক্ষা ব্যবস্থা (Keju বা Civil Service Examination) চালু হয়, যা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থা পরবর্তীতে সুই (৫৮১-৬১৮) এবং তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭) সময়ে আরও উন্নত হয়।
- পরবর্তীতে অন্যান্য রাজবংশের শাসনের সময় তা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে ও অধিক সুসংগঠিত হয়।
- সং সাম্রাজ্য (Song Dynasty – 960–1279) প্রথম যোগ্যতা (jinshi degree) ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়।
- মিং সাম্রাজ্যের (Ming dynasty – 1368–1644) সময় সিভিল সার্ভিস সিস্টেম চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে কিং সাম্রাজ্যও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে। এই সময় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ নিজের এলাকায় নিয়োগ না পাওয়া, এক স্থানে তিনবছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করা ইত্যাদি নিয়ম অন্তর্ভূক্ত হয়। তাছাড়া, উচ্চপদের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস অন্তর্ভূক্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়।
- চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর মূলত বর্তমান রাষ্ট্রীয় সিভিল সার্ভিসের প্রচলন ঘটে। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই সার্ভিসে যোগদান করে।

• তাই, সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হিসেবে চীন দেশকেই গণ্য করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর এই কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারত ও পাকিস্তানের নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামোতে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৮১.
একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
  1. 2√2 মিটার
  2. 2√3 মিটার
  3. 2 মিটার
  4. 2√6 মিটার
সঠিক উত্তর:
2√6 মিটার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2√6 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার

আমরা জানি,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 6a2, [যেখানে a হলো ঘনকের একটি বাহুর দৈর্ঘ্য।]

প্রশনমতে,
6a2 = 48
⇒ a2 = 48/6
⇒ a2 = 8
⇒ a = √8 = 2√2
∴ a = 2√2 মিটার

আবার,
আমরা জানি,
ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√3
= (2√2) × √3 ; [a = 2√2]
= 2√(2 × 3)
= 2√6

সুতরাং, ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য 2√6 মিটার।

১৮২.
একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?


  1. ১৬

সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?

সমাধান:
ধরি,
বড় গোলকের ব্যাসার্ধ = R
ছোট গোলকের ব্যাসার্ধ, r = R/2

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন V = (4/3)πr3

এখন,
বড় গোলকের আয়তন = (4/3)πR3
ছোট গোলকের আয়তন = (4/3)π(R/2)3 = (1/8) × (4/3)πR3

∴ ছোট গোলকের সংখ্যা = বড় গোলকের আয়তন ÷ ছোট গোলকের আয়তন
= {(4/3)πR3} ÷ {(1/8) × (4/3)πR3}
= 1/(1/8)
= 8

সুতরাং, বড় গোলকটি গলিয়ে ৮টি সমান ছোট গোলক তৈরি করা সম্ভব।

১৮৩.
logx4 = - 2 হলে x = কত?
  1. 1/2
  2. - 1/2
  3. 2
  4. - 2
সঠিক উত্তর:
1/2
উত্তর
সঠিক উত্তর:
1/2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: logx4 = - 2 হলে x = কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
logx4 = - 2
⇒ 4 = x- 2
⇒ 4 = 1/x2
⇒ x2 = 1/4
⇒ x2 = (1/2)2
∴ x = 1/2

১৮৪.
একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
সঠিক উত্তর:
৬০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৬০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?

সমাধান:
ধরি,
দ্বিতীয় কোণ = x
প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক।
∴ প্রথম কোণ = x/2
এবং,
তৃতীয় কোণটি অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ।
অর্থাৎ, তৃতীয় কোণ = 3{x - (x/2)} = 3(2x - x)/2 = 3x/2

আমরা জানি,
ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি সর্বদা 180°

প্রশ্নমতে,
x + (x/2) + (3x/2) = 180°
⇒ (2x + x + 3x)/2 = 180°
⇒ 6x/2 = 180°
⇒ 3x = 180°
⇒ x = 180°/3
∴ x = 60°

অতএব, দ্বিতীয় কোণটি হলো 60°.

১৮৫.
একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?
  1. 100
  2. 150
  3. 200
  4. 300
সঠিক উত্তর:
150
উত্তর
সঠিক উত্তর:
150
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n - 1)d ; যেখানে a = প্রথম পদ, d = সাধারণ অন্তর।

সুতরাং,
সমান্তর ধারার 4র্থ পদ = a + (4 - 1)d = a + 3d
সমান্তর ধারার 12 পদ = a + (12 - 1)d = a + 11d

প্রশ্নমতে,
a + 3d + a + 11d = 20
∴ 2a + 14d = 20 ........ (1)

আবার,
সমান্তর ধারার প্রথম n পদের যোগফল = (n/2) × {2a + (n - 1)d}
∴ সমান্তর ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল = (15/2) × {2a + (15 - 1)d}
= (15/2) × {2a + 14d}
= (15/2) × 20 ; [(1) নং হতে]
= 15 × 10
= 150

সুতরাং, ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল 150

১৮৬.
x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?
  1. [-9, 3]
  2. [3, ∞)
  3. (-9, 3)
  4. (∞, -9)
সঠিক উত্তর:
(-9, 3)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(-9, 3)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
⇒ x2 + 6x - 27 < 0

এখন,
⇒ x2 + 9x - 3x - 27 = 0
⇒ x(x + 9) - 3(x + 9) = 0
⇒ (x + 9)(x - 3) = 0
হয়, (x + 9) = 0
∴ x = - 9

এবং, (x - 3) = 0
∴ x = 3

অসমতাটি হলো x2 + 6x - 27 < 0 যেহেতু এটি একটি দ্বিঘাত অসমতা, এর সমাধানটি মূল দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হবে। অর্থাৎ, x এর মান - 9 এবং 3 এর মধ্যে থাকবে।

সুতরাং, সমাধান সেট = (- 9, 3)

বিকল্প সমাধান:
যদি x = - 10 হয়, তাহলে (- 10)2 + 6(- 10) - 27 = 100 - 60 - 27 = 13 > 0
যদি x = 0 হয়, তাহলে (0)2 + 6(0) - 27 = 0 - 0 - 27 = - 27 < 0
যদি x = 4 হয়, তাহলে (4)2 + 6(4) - 27 = 16 + 24 - 27 = 13 > 0

সুতরাং, সমাধান সেটটি (-9, 3) এর মধ্যে অবস্থিত।

১৮৭.
একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?

সমাধান:
লাল বল = ৪
নীল বল = ৩
হলুদ বল = ২
সবুজ বল = ১
মোট = ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ বল

সমাধান করতে হবে: কমপক্ষে কয়টা বল তুললে অন্তত একটি লাল বল উঠবেই।

- কমপক্ষে লাল বল বের করার জন্য worst case বিবেচনা করতে হবে।
worst case = প্রথমে সব লাল না তুলে বাকি সব রঙের বল তুলতে হবে।

লাল নয় এমন বলের সংখ্যা = ৩ + ২ + ১ = ৬
অতএব, ৬টা বল তোলার পরও আমরা কোনো লাল বল নাও পেতে পারি।

এখন,
৬টা লাল নয় এমন বলের পর আরও ১টা বল তুললে লাল বল আসবেই।
অতএব, ৭টা বল তুলতে হবে।

সঠিক উত্তর: (গ) ৭

১৮৮.
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?
  1. { }
  2. {a, b}
  3. { 0 }
  4. {- a, - b}
সঠিক উত্তর:
{ }
উত্তর
সঠিক উত্তর:
{ }
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2}

প্রদত্ত রাশি,
N - M = {1, 2} - {a, b, 1, 2} = { }
N - M = { }

অথবা,
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান হলো একটি খালি সেট, অর্থাৎ ∅ বা { }। এর কারণ হলো N সেটের সকল উপাদান (1 এবং 2) M সেটে উপস্থিত রয়েছে। N - M মানে হলো N সেটের এমন সকল উপাদান যা M সেটে নেই, এবং এই ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান নেই।

সুতরাং, N - M = ∅ বা {}

১৮৯.
ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?
  1. (a2, b2)
  2. (a, b)
  3. (0, a)
  4. (a, 0)
সঠিক উত্তর:
(a, 0)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
(a, 0)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ax + by = a2 ............ (1)
bx - ay = ab..........(2)

সমীকরণ (1)-কে b দিয়ে গুণ করে পাই, abx + b2y = a2b.......(3)
সমীকরণ (2)-কে a দিয়ে গুণ করে পাই, abx - a2y = a2b.......(4)

এখন, (3) - (4) করে পাই,
abx + b2y - abx + a2y = a2b - a2b
⇒ y(a2 + b2) = 0
∴ y = 0

y এর মান (1) নং এ বসিয়ে পাই,
ax + 0 = a2
⇒ x = a2/a = a
∴ x = a

সুতরাং, সমাধান (x, y) = (a, 0)

১৯০.
একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

  1. ১৬

  2. ১/২
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
একটি গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn -1

দেওয়া আছে,
৫ম পদ, ar4 = 32 .........(১)
৮ম পদ, ar7 = 256 .........(২)

এখন, (২) নং কে (১) নং দ্বারা ভাগ করে পাই,
ar7/ar4 = 256/32
⇒ r3 = 8
⇒ r3 = 23
∴ r = 2

সুতরাং, ধারাটির সাধারণ অনুপাত ২ ।

১৯১.
একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

  1. ১.৫

  2. ০.৫
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

সমাধান:
ট্রেনের বেগ = ১০০ ফুট/সেকেন্ড
গুলির বেগ = ২০০ ফুট/সেকেন্ড
স্তম্ভের দূরত্ব = ৩০০ ফুট

ব্যক্তি ট্রেনের উপর থেকে সামনের দিকে গুলি ছুড়েছে, তাই গুলির আপেক্ষিক কার্যকর বেগ = ট্রেনের বেগ + গুলির বেগ।

কার্যকর বেগ = ২০০ + ১০০ = ৩০০ ফুট/সেকেন্ড
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = ৩০০ ÷ ৩০০ = ১ সেকেন্ড

১৯২.
দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-
  1. x2 - 4
  2. 2(x2 - 4)
  3. 4(x2 - 4)
  4. x + 2
সঠিক উত্তর:
2(x2 - 4)
উত্তর
সঠিক উত্তর:
2(x2 - 4)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-

সমাধান:

[মূল প্রশ্নে 4x2 + 12x2 - 16x - 48 অংশটি ভুল দেওয়া আছে, এটি: 4x3 + 12x2 - 16x - 48 হবে, তাই ল,সা, গু 4x3 + 12x2 - 16x - 48 ধরে সমাধান করা হয়েছে]

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
গ,সা,গু = 2x + 4

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
অপর সংখ্যা = ?

আমরা জানি,
প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু

গ,সা,গু = 2x + 4 = 2(x + 2)

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
= 4(x2 + 5x + 6)
= 4(x + 2)(x + 3)

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
= 4(x3 + 3x2 - 4x - 12)
= 4[x2(x + 3) - 4(x + 3)]
= 4(x + 3)(x2 - 4)
= 4(x + 3)(x - 2)(x + 2)

প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু
দ্বিতীয় সংখ্যা = [4(x + 3)(x - 2)(x + 2) × 2(x + 2)] / [4(x + 2)(x + 3)]
= [8(x + 3)(x - 2)(x + 2)2] / [4(x + 2)(x + 3)]
= 2(x - 2)(x + 2)
= 2(x2 - 4)

১৯৩.
যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?
  1. শুক্রবার
  2. বুধবার
  3. সোমবার
  4. রবিবার
সঠিক উত্তর:
বুধবার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুধবার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?

সমাধান:
গতকাল শুক্রবার ছিল।
অতএব, আজ শনিবার।
এখন আজ থেকে ৮১ তম দিন কোন বার হবে তা বের করতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে ৭ দিন থাকে, তাই আমরা ৮১ কে ৭ দিয়ে ভাগ করব:

৮১ ÷ ৭ = ১১ সপ্তাহ এবং ৪ দিন।
অতএব, ৮১ দিনের ব্যবধান মানে ৪ দিন পরের বার।

এখন আজ (শনিবার) থেকে ৪ দিন যোগ করি:
আজ = শনিবার (দিন ০)
দিন ১ = রবিবার
দিন ২ = সোমবার
দিন ৩ = মঙ্গলবার
দিন ৪ = বুধবার

∴ সঠিক উত্তর: বুধবার

১৯৪.
নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......


  1. ১০
  2. ১২
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

সমাধান:
দেওয়া ধারা: ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = √৯ = ৩
তৃতীয় পদ = ৫
চতুর্থ পদ = √৪৯ = ৭
পঞ্চম পদ = ?

এখন সংখ্যাগুলি দেখি: ১, ৩, ৫, ৭.......

প্যাটার্ন: এটি একটি বিজোড় সংখ্যার ধারা যেখানে প্রতিটি পদ আগের পদ থেকে ২ বেশি।

১ থেকে ৩ = +২
৩ থেকে ৫ = +২
৫ থেকে ৭ = +২
৭ থেকে ? = +২
পরবর্তী সংখ্যা = ৭ + ২ = ৯

∴ সঠিক উত্তর: খ) ৯

১৯৫.
১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

  1. ২৫

  2. ১০
সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

সমাধান:
১ জন লোক ১ টা কলা = ১ মিনিট
১ জন লোক ৫ টা কলা = ৫ মিনিট

৫ জন লোক ১ টা করে কলা = ১ মিনিট (সবাই একসাথে খায়)
৫ জন লোক ৫ টা কলা = ১ মিনিট (প্রতিটি লোক ১ টা কলা খায়)

কারণ: যখন ৫ জন লোক একসাথে খায়, তারা একই সময়ে কলা খাওয়া শুরু করে এবং শেষ করে। প্রতিটি লোক ১ টা কলা খেতে ১ মিনিট সময় নেয়।

১৯৬.
একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?
  1. 200
  2. 300
  3. 400
  4. 500
সঠিক উত্তর:
400
উত্তর
সঠিক উত্তর:
400
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?

সমাধান:
ধরি,
বইটির ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
10% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য = 100 - 10 = 90 টাকা
5% লাভে, বিক্রয়মূল্য = 100 + 5 = 105 টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য বেশি = 105 - 90 = 15 টাকা

বিক্রয়মূল্য 15 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
বিক্রয়মূল্য 1 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100/15 টাকা
বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = (100 × 60)/15 টাকা
= 400 টাকা

সুতরাং, বইটির ক্রয়মূল্য 400 টাকা।

১৯৭.
কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?
  1. আস্তে
  2. জোরে
  3. একইভাবে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
জোরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জোরে
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?

সমাধান:

গিয়ার মেকানিজমের নীতি:

যখন দুটি গিয়ার চাকা সংযুক্ত থাকে, তখা তারা একে অপরকে স্পর্শ করে এবং চলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- ছোট চাকার দাঁতের সংখ্যা < বড় চাকার দাঁতের সংখ্যা
- যখন সংযুক্ত থাকে, উভয় চাকার দাঁত একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই সংখ্যক বার মিলিত হয়

গতির সম্পর্ক:
- ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘোরে (জোরে/বেগে ঘোরে)।

কারণ:
- যদি বড় চাকায় 100 দাঁত এবং ছোটটায় 20 দাঁত থাকে
- বড় চাকা 1 বার ঘুরলে, ছোট চাকা 5 বার ঘোরে
- তাই ছোট চাকা আরও বেশি দ্রুত ঘোরে
- সঠিক উত্তর: খ) জোরে

সুতরাং, ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে জোরে/দ্রুত গতিতে ঘোরে।

১৯৮.
১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?
  1. ৪৫
  2. ৩০
  3. ১৫

সঠিক উত্তর:
১৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?

সমাধান:

স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য = ১৫ মিটার
এক প্রান্তের ওজন = ১০ কেজি
পেরেক বিভাজন = ৩ : ২

৩ : ২ অনুপাতে পুরো ১৫ মিটারকে ৫ ভাগে ভাগ করলে পেরেকটি এক প্রান্ত থেকে ৯ মিটারে আছে। অপর অংশ = ৬ মিটার। ভারসাম্য শর্ত অনুযায়ী টর্ক সমান হবে।

বাঁ দিকের টর্ক = ১০ কেজি × ৯ মিটার = ৯০
ডান দিকের টর্ক = W × ৬ মিটার

W = ৯০ ÷ ৬ = ১৫ কেজি

সঠিক উত্তর: গ) ১৫ কেজি

১৯৯.
একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. 5/7
  2. 2/7
  3. 5/12
  4. 1/4
সঠিক উত্তর:
5/7
উত্তর
সঠিক উত্তর:
5/7
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?

সমাধান:
প্রথম থলিতে, 3 টি সবুজ বল, 2 টি লাল বল
দ্বিতীয় থলিতে, 2 টি সবুজ বল, 5 টি লাল বল

অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - দুইটি বলই লাল
প্রথম থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 2/5
দ্বিতীয় থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 5/7

দুইটি লাল হওয়ার সম্ভাব্যতা = (2/5) × (5/7) = 2/7
অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - (2/7) = 5/7

∴ সঠিক উত্তর: ক) 5/7

২০০.
PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. PR = 2QR
  2. PQ = 2PR
  3. PR = 2PQ
  4. QR = 2PQ
সঠিক উত্তর:
PR = 2PQ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
PR = 2PQ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?

সমাধান:
এখানে,
∠Q = 90°
∠P = 2∠R

আমরা জানি,
∠P + ∠Q + ∠R = 180°
∠Q = 90°
⇒ ∠P + ∠R = 90°

∠P = 2∠R
⇒ 2∠R + ∠R = 90°
⇒ ∠R = 30°,

∴ ∠P = 60°
সমকোণ ত্রিভুজে,
PR = অতিভুজ
QR = বিপরীত ∠P,
PQ = বিপরীত ∠R

sin P = QR / PR
→ sin 60° = √3/2
→ QR = (√3/2) PR

sin R = PQ/PR
→ sin 30° = 1/2
→ PQ = (1/2) PR
সুতরাং, PR = 2 PQ