পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক। ------------------- [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. ভিকার-উল-মুল্ক
  4. নবাব মহসীন-উল-মুল্ক
সঠিক উত্তর:
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
:
- ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের জন্ম উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ন ঘটনা।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উনিশ শতকে স্যার সৈয়দ আহমদ খান সহ বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দের স্বাতন্ত্র্যবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার ফল হিসেবে একদিকে যেমন মুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়, তেমনি কংগ্রেসের রাজনীতি হতে দূরে থেকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থেও এগিয়ে আসে।
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা এ রূপ স্বাতন্ত্রবাদী রাজনৈতিক ধারারই ফল।

⇒ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- এর ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, আগা খান, নবাব ভিকার উল মুলক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৬ সালে ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় 'মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্সে'র বার্ষিক সম্মেলন।
- সম্মেলনের শেষ দিনে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসলিম প্রতিনিধিগণ 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' নামে মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।
- নবগঠিত দলের যুগ্ম- আহবায়ক নির্বাচিত হন নবাব মহসীন-উল-মুল্ক ও ভিকার-উল-মুল্ক।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- এই মতবাদ প্রচার করেন কে?
  1. তিতুমীর
  2. দুদুমিয়া
  3. ফকির মজনু শাহ
  4. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদুমিয়া
ব্যাখ্যা
জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী এই মতবাদ প্রচার করেন দুদুমিয়া।

দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়া হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র।
- তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন, ‘দুদু মিয়া’ ছিল তাঁর ডাক নাম।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন অনেক বেশি শক্তিশালী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।

⇒ তিনি উপলব্ধি করেন যে, সমাজের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং দরিদ্রদেরকে শোষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
- দুদু মিয়া মনে করতেন, বিশ্বের মালিক ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্। সুতরাং ভূসম্পত্তিসহ সকল প্রকার পার্থিব সম্পত্তি ও সম্পদের মালিকও আল্লাহ্। তাই কর বা খাজনা যদি দিতে হয়, তবে তা আল্লাহ্ পথে দিতে হবে, কোন ব্যক্তিকে নয়। তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’।
- সে সময়কার জমিদারেরা রায়তদের ওপর যে সমস্ত খাজনা ও কর আরোপ করেছিল, দুদু মিয়া সেগুলোকে বেআইনি ও নীতি-বিরুদ্ধ বলে ঘোষণা দেন।
- নিপীড়িত রায়ত ও চাষীদেরকে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য দুদু মিয়া বাংলার পুরনো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন।

উল্লেখ্য,
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে।
- ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়।
- ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোন সংগঠনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
  2. সেনাবাহিনী
  3. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  4. কৃষক সংগঠন
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
⇒ আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
- বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ। এরা চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়।
 
উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমউদ্দিন
  4. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ,
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

⇒ শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি.) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৯ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি.):
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী শরিক দল সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন. পি.) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঢাকার রমনা গ্রীনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি এ পর্যন্ত ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার পরিচালনা করে।
- দলটির বর্তমান সভাপতি বেগম খালেদা জিয়া।

⇒ বি.এন. পি'র দলীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের রাজনীতির মূলনীতি হল -
- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস,
- জাতীয়তাবাদ,
- গণতন্ত্র,
- সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে)। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কে দেশবন্ধু নামে খ্যাত?
  1. সি আর দাশ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
সি আর দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সি আর দাশ
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে গভীর নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জন্য চিত্তরঞ্জন দাশকে দেশবন্ধু আখ্যা দেওয়া হয়।
- তিনি সি আর দাশ নামেও পরিচিত।

⇒ একজন বিলেত ফেরত ব্যরিস্টার হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর অনঢ় অবস্থান।
- তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনকে মেনে নিতে পারেননি।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরও বেশি সোচ্চার হয়ে দেশপ্রেমের অমোঘ স্বাক্ষর রাখেন। '
- বেঙ্গল প্যাক্ট' দেশবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চিত্তের অনন্য উদাহরণ।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. স্থানীয় ও জাতীয়
  2. আর্দশহীন
  3. সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি
  4. সাংগঠনিক কাঠামো
সঠিক উত্তর:
আর্দশহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আর্দশহীন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।
- জাতি ধর্ম-বর্ণ লিঙ্গ, শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকল জনগোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
- অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা এবং নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে জনগণকে আকর্ষণ করা।

⇒ বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রেই একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে।
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই। যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। তাই এসব দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। 
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। 

⇒ রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
- সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি,
- নির্দিষ্ট নীতি ও আর্দশ,
- সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ,
- সাংগঠনিক কাঠামো,
- স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
'ব্রাহ্মসমাজ' নিম্নের কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দেবেন্দ্রনাথ
  4. দাদাভাই নওরোজী
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মসমাজ:
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন। 
- 'ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সংস্পর্শে এসে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের প্রচলিত মূর্তি পূজা ও আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন।
- এই সভায় বেদ, উপনিষদ পাঠ করার ব্যবস্থা হয়।

রাজা রামমোহন রায়
:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
নিম্নের কোন জন 'The Grand Old Man of India' নামে পরিচিত?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. দাদাভাই নওরোজী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. জওহরলাল নেহরু
সঠিক উত্তর:
দাদাভাই নওরোজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- 'The Grand Old Man of India' হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি সভাপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
১০.
নির্বাচন কমিশনে পরপর কত বছরের তথ্য না দিলে কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হবে?
  1. ২ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ৫ বছর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ বছর
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান অনুযায়ী নিবন্ধিত হতে হলে প্রথমত, স্বাধীনতার পর থেকে যে কোনো নির্বাচনে ন্যূনতম একটি আসন পাওয়া; দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের যে কোনো একটিতে অংশগ্রহণ করে, অংশগ্রহণ করা আসনের প্রদত্ত মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়া; এবং তৃতীয়ত, ন্যুনতম ১০ জেলা ও ৫০ উপজেলায় কমিটিসহ দলের অফিস থাকতে হবে।
- ২০০৯ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত দলের শর্তে বলা হয়েছে, ন্যুনতম এক-তৃতীয়াংশ জেলা (২১ জেলা) ও ১০০ উপজেলায় অফিস থাকতে হবে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত পরিপালন সম্পর্কে সময়ে সময়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে। নতুন কমিটি গঠন এবং দলীয় অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্য কমিশনকে জানাবে।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী, কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। [link]
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ কোনটি?
  1. অসঙ্গত প্রভাব খাটানো
  2. ছদ্মবেশ ধারণ
  3. ঘুষ গ্রহণ
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ নির্বাচনের মূল ভিত্তি সংবিধান।
- সেই সংবিধানের অধীনেই করা হয়েছিলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (রিপ্রেজেন্টেটিভ পিপলস অর্ডার ১৯৭২) , যা এ পর্যন্ত অনেকবার সংস্কার হয়েছে।
- বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০০৭ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।
- সবশেষ ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে।

⇒ আরপিওর ৭৩ থেকে ৯০ ধারা পর্যন্ত নির্বাচনী বিভিন্ন অপরাধের জন্য কি কি শাস্তি আছে তার উল্লেখ আছে। 
- আদেশের ৭৩ ধারায় ৪৪-ক ও ৪৪-খ এর বিধান লঙ্ঘন, ঘুষ গ্রহণ, ছদ্মবেশ ধারণ, নির্বাচনে অসঙ্গত প্রভাব খাটানো, কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী সাফল্যে বিঘ্ন সৃষ্টি বা তার নিজস্ব বা আত্মীয়স্বজনের ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিদান, কোনো প্রার্থীর প্রতীক বা প্রার্থিতা প্রত্যাহার সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিদান, কোনো প্রার্থীর বিশেষ সামাজিক বা ধর্মীয় অবস্থানের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটদানের আহবান বা প্ররোচিতকরণ, ভোটার উপস্থিতিতে বা ভোটদানে বাধা দান এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘুষ গ্রহণকে দুর্নীতিমূলক অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। [link]
ii) BBC.
১২.
ফয়জুন্নেসাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. এলিজাবেথ
  2. রাজা দ্বিতীয় চার্লস
  3. মহারানী ভিক্টোরিয়া
  4. লেডী চেমস ফোর্ড
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহারানী ভিক্টোরিয়া
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
-অবিভক্ত বাংলার রক্ষনশীল মুসলিম সমাজের মধ্যে সমাজসেবা, জমিদারী পরিচালনা, শিক্ষার বার্বিক উন্নয়নে নওয়াব ফয়জুন নেসা দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেছেন।
- দানবীর হাজী মোঃ মুহসীনের জনহিতকর কার্যবলীর সাথে তাঁর দানশীলতাকে তুলনা করা যেতে পারে।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।

⇒ সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে তাঁর অবদান:
- সমাজসেবা, দানশীলতা, ও জনহিতকর কাজের মাধ্যমে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- সমাজসেবার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে- রাস্তাঘাট, সেতু, কার্লভাট প্রভৃতি নির্মাণ পানীয় জলের সুব্যবস্থা করণের জন্য দিঘী, জলাশয়, কুপ খনন, চিকিৎসার জন্য দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন, মুসাফির খানা নির্মাণ, মক্কা শরীফে মাদ্রাসায় সাওলাতিয়া প্রতিষ্ঠা, মসজিদ ও উপাসনালয় স্থাপন ইত্যাদি।
- তিনি পাল্কীতে চড়ে নিজ জমিদারীর অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন মৌজা ঘুরে ঘুরে প্রজাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতেন যা ছিল সেই সময়ে কল্পনাতীত।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে নিম্নের কোন শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন?
  1. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী
  2. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী
  3. অসংগঠিত স্বার্থকামী
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী:
- স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সোহরাওয়াদী কোন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা?
  1. কংগ্রেস
  2. আওয়ামী লীগ
  3. মুসলিম লীগ
  4. কৃষক-প্রজা পার্টি
সঠিক উত্তর:
আওয়ামী লীগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

⇒ ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

⇒ ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন হয় তার পিছনেও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন?
  1. মাহমুদুল হক ওসমানী
  2. মোজাফফর আহমেদ
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. মশিউর রহমান যাদু মিয়া
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ):
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

এছাড়াও,
ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।