পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিকসমূহ: ১. বাংলা গদ্যের উৎপত্তি ও বিকাশ; ২. বাংলা নাটকের উৎপত্তি ও বিকাশ; ৩. বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বিভিন্ন সাহিত্য কর্মের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------- নির্দেশিকা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 10” এর জন্য প্রযোজ্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
কোনটিকে বাংলা গদ্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  2. কোচবিহার রাজার লেখা চিঠি
  3. চর্যাপদ
  4. কড়চা
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের ইতিহাস: প্রাচীনতম নিদর্শন
দৈনন্দিন জীবনে কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও ঊনবিংশ শতাব্দীর পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যের তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ, বই, কড়চা ও বিদেশী খ্রিস্টান কর্তৃক লিখিত ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থের সংকীর্ণ সীমানায় আবোধ্য ছিল।

• ১৫৫৫ খ্রিস্টাব্দে আসামের রাজাকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি চিঠি বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।

উৎস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম,
- লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ)।
.
‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?
  1. ভূষণার জমিদার মোহনলাল
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দোম আন্তনিও
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
• ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ:
বাংলা গদ্যের প্রাচীনতম নিদর্শনের পরবর্তী প্রচেষ্টার নিদর্শনস্বরূপ সর্বাগ্রে উল্লেখ করা যায় সতের শতকের শেষভাগে ঢাকার ভূষণার জমিদারপুত্র দোম আন্তনিও নামক একজন দেশীয় পাদ্রি রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ'।

- ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থে একজন ব্রাহ্মণ ও একজন রোমান-ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মবিচারচ্ছলে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে খ্রিষ্ট ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিপাদন করাই ছিল উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থটি ১৭৩৫ সালে রচিত হয় এবং পর্তুগালের রাজধানী লিসবন নগরে ১৭৪৩ সালে রোমান অক্ষরে মুদ্রিত হয়।
- সাধুভাষার ছাঁদে গ্রন্থটি লিখিত এবং এতে ফারসি শব্দের বাহুল্য বর্জন করার চেষ্টা আছে।
- গ্রন্থের ভাষায় তৎসম শব্দের আধিক্য পরিলক্ষিত না হলেও রচনা সহজবোধ্য হয়নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং ‘ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থ।
.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের বাংলা গদ্য:
বাংলা গদ্যে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।

বংলা গদ্যের সূচনা ও বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

উল্লেখ্য, 
বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক। 

অন্যদিকে,
দুর্গেশনন্দিনী - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস (১৮৬৫)।
চণ্ডীমঙ্গল - মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্য।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন - মধ্যযুগের কাব্য সাহিত্যের নিদর্শন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি ছিল?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. হিন্দু কলেজ
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• বাংলা গদ্য সাহিত্য বিকাশে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিশেষ অবদান রয়েছে।
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
বিদ্রোহী বালিকা বধূ ‘জমিলা’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. লালসালু
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।

কাহিনি সংক্ষেপ: 
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে বালিকা বধূ জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
 - আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

অন্যদিকে, 
- 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : কুবের , কপিলা , মালা , গণেশ , শীতলবাবু , হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিচিত?
  1. সীতার বনবাস
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  4. দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
• আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে,
• 'সীতার বনবাস' (১৯৮১) নাটকটি রচনা করেছেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ। আবার, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ- সীতার বনবাস (১৮৬২)।
• কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা - হুতোম প্যাঁচার নকশা।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. রামরাম বসু
  4. রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়।

• রামরাম বসু:

- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ  — 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের নায়ক কদম সারেং এর স্ত্রীর নাম কী? 
  1. জয়গুন
  2. জোহরা
  3. জমিলা
  4. নবিতুন
ব্যাখ্যা
'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- 'নবীতুন' চরিত্রটি শহীদুল্লা কায়সারের 'সারেং বৌ' উপন্যাসের অন্তর্গত।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

অন্যদিকে, 
• মোজাম্মেল হকের ‘জোহরা' উপন্যাসের চরিত্র- 'জোহরা'। 
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না কে?
  1. গোলকনাথ শর্মা
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন - গোলকনাথ শর্মা, রামরাম বসু, চণ্ডীচরণ মুনশী।

অন্যদিকে, 
- "হরপ্রসাদ শাস্ত্রী" ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের শিক্ষক ছিলেন না।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০১ সালের মে মাসে উইলিয়াম কেরী ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নিযুক্ত হন।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০.
'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়কের নাম কী?
  1. নবকুমার
  2. অমিত
  3. অপু
  4. গোবিন্দলাল
ব্যাখ্যা
• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- অমিত রায় 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের নায়ক। 

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্রের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের নায়ক - নবকুমার।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী'র নায়ক বালক - অপু।
• ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র - গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও শেষের কবিতা।
১১.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন পত্রিকা সাহায্য করেছিল?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সমাচার-দর্পণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্য বিকাশে উল্লেখযোগ্য পত্রিকা:

• শ্রীরামপুর মিশন থেকে ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাচার-দর্পণ এবং পরে রামমোহন রায়ের সম্বাদকৌমুদী (১৮২১) ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাচারচন্দ্রিকা (১৮২২) বাংলা গদ্যকে ভাবপ্রকাশের উপযোগিতা দিয়েছিল এবং খানিকটা সরল ও কেজো গদ্যে পরিণত করেছিল।

আরো দুটি সাময়িকপত্রিকা— সম্বাদপ্রভাকর (১৮৩১) এবং তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৮৪৩) — বাংলা গদ্যের বিকাশে সাহায্য করেছিল। বিশেষত,
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় লিখে অক্ষয়কুমার দত্ত এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সেকালের দুই শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক বলে পরিচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
"মহিম ও সুরেশ" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের উলেখযোগ্য চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. গৃহদাহ
  3. চরিত্রহীন
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ-বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র:
- ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র: নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
- ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
বাংলা সাহিত্যে বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে কোন নাটকটি রচিত হয়েছিলো?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. রত্নাবলী
  3. কীর্তিবিলাস
  4. নীল-দর্পণ
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

• কাহিনি সংক্ষেপ: 
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক - কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
- 'রামনারায়ণ তর্করত্ন' রচিত অনুবাদ নাটক - রত্নাবলী (১৮৫৮)।
- দীনবন্ধু মিত্রের রচিত ট্র্যাজেডি নাটক - নীল-দর্পণ (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৪.
‘সুদীপ্ত শাহীন’ চরিত্রটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বোন
  3. রাইফেল রোটি আওরাত
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
রাইফেল রােটি আওরাত:
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- হাসমত,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্য অপশনের রচনাগুলোর চরিত্র:
• পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় -মাতব্বর, পির সাহেব, মাতব্বরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণদল ও মুক্তিযোদ্ধারা।
• জীবন আমার বোন -  জাহিদুল কবির খোকা, মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।
• নিষিদ্ধ লোবান - বিলকিস, সিরাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটকের রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস।
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে, 
• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১৬.
"নবীন মাধব" কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. নীল-দর্পণ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
• নীল-দর্পণ: 
- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
-  নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে  Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোলক বসু, 
- নবীন মাধব,  
- রাইচরণ, 
- তোরাপ,
- সাবিত্রী।

অন্যদিকে,
• 'আলালের ঘরের দুলাল' এর চরিত্র- মোকাজান মিঞা, মতিলাল।
• 'চাঁদের অমাবস্যা' এর চরিত্র- আরেফ আলী, দাদা সাহেব।
• 'কপালকুণ্ডলা' এর চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।