পরীক্ষা আর্কাইভ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

পরীক্ষাগুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভারতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩৭
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৮ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ ⎯⎯⎯⎯⎯⎯⎯ টপিক: ধ্বনি ও শব্দ, পদ, প্রত্যয়, সমাস, বাগধারা, সন্ধি, উপসর্গ, এক কথায় প্রকাশ, সমার্থক ও বিপরীতার্থক শব্দ, বানান, পরিভাষা, প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ। [নম্বর কাভার - ৯]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার

গুরুত্বপূর্ণ টপিকের উপর পরীক্ষা - ১৩৫ মার্কস্‌ কাভার · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৭ প্রশ্ন

.
কোনটি সাধিত শব্দ?
  1. আসল
  2. প্রভাত
  3. কলস
  4. পরশ
ব্যাখ্যা

• সাধিত শব্দ - প্রভাত। এখানে, ভাত এর সাথে 'প্র' উপসর্গ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করেছে।

• গঠন বিবেচনায় বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মৌলিক শব্দ ও
২. সাধিত শব্দ।

• মৌলিক শব্দ:
যেসব শব্দ বিশ্লেষণ করলে অর্থপূর্ণ কোনো অংশ থাকে না, সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে।
যেমন,
- গাছ, পাখি, ফুল, হাত, কলম, আসল, গোলাপ ইত্যাদি।

• সাধিত শব্দ:
- যেসব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে তার মধ্যে এক বা একাধিক অর্থপূর্ণ অংশ থাকে, সেগুলােকে সাধিত শব্দ বলে।
- উপসর্গ বা প্রত্যয় যােগ করে অথবা সমাস প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ তৈরি হয়।
যেমন - পরিচালক, গরমিল, সম্পাদকীয়, সংসদ সদস্য, নীলাকাশ, ডুবুরি, চলন্ত ইত্যাদি।

- শব্দের দ্বিত্ব করেও সাধিত শব্দ হয়ে থাকে।
যেমন - ফিসফিস, ধুমাধুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
‘রোজনামচা’ শব্দটি কোন ভাষা থেকে এসেছে?
  1. আরবি
  2. পর্তুগিজ
  3. ফরাসি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'রোজনামচা’ শব্দটি - 'ফারসি' ভাষা থেকে এসেছে।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।

• রোজনামচা (বিশেষ্য) অর্থ- যে বইতে প্রতিদিনের বিবরণ লেখা হয়; দিনলিপি।
 
• কিছু ফারসি শব্দ:
- খোয়াব,
- চশমা,
- চেহারা,
- দরদি,
- দরবার,
- দারোগা,
- দারোয়ান,
- ফসলি,
- রোজ,
- রোজা,
- রোজগার,
- রোজনামা,
- রোজনামচা,
- লাল,
- লুঙ্গি, 
- সাদা ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
কোন শব্দে দ্বিস্বরধ্বনি রয়েছে?
  1. মালি
  2. লাউ
  3. তিনি
  4. কনে
ব্যাখ্যা

দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।

যেমন:
- 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
- [আই]: তাই, নাই,
- [এই]: সেই, নেই,
- [উই]: দুই, রুই,
- [ওউ]: মৌ, বউ।

অন্যদিকে,
"তিনি; মালি; কনে" এর ক্ষেত্রে- দুটি পৃথক স্বরধ্বনি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।

.
শুদ্ধ বানান- 
  1. পুঙ্খানুপঙ্খ
  2. পুঙ্খানুপুক্ষ
  3. পুঙ্খানপুঙ্খ
  4. পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা

• শুদ্ধ বানান - 'পুঙ্খানুপুঙ্খ'।
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

• 'পুঙ্খানুপুঙ্খ' অর্থ:
- তন্নতন্ন,
- সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ:
  1. অমাবস্যা
  2. অত্যধিক
  3. কটূক্তি
  4. কুয়াশা
ব্যাখ্যা

- 'কুজ্ঝটিকা' শব্দের অর্থ: কুহেলিকা, কুয়াশা।
- সন্ধিবিচ্ছেদ: কুৎ + ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা।

• আরো কিছু শব্দার্থ: 
- ‘অঙ্গনা’ শব্দের অর্থ - অঙ্গসৌষ্ঠববিশিষ্ট নারী, সুন্দর নারী।
- ‘ললনা’ শব্দের অর্থ - নারী, কান্তা, পত্নী।
- 'আফতাব' শব্দের অর্থ - সূর্য।
- 'বিবর' শব্দের অর্থ - গহ্বর। 
- চূড়া' শব্দের অর্থ - শীর্ষদেশ, শিখর। 
- পর্ণ শব্দের অর্থ - গাছের পাতা; তাম্বুল; পান; ডানা ইত্যাদি।
- পর্ণমোচী শব্দের অর্থ - পত্রঝরা; পত্রমোচী।
- 'সলিল' শব্দের অর্থ - 'জল'।
- 'খগ' শব্দের অর্থ - পাখি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।

.
'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. ভাব + উক
  2. ভো + অক
  3. ভা + বুক
  4. ভৌ + উক
ব্যাখ্যা

• 'ভাবুক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- 'ভৌ + উক'।
- এটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। 

• সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম: 
- এ, ঐ, ও, ঔ- কারের পরে এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্‌, আব্‌ হয়। 
যেমন,
- ভৌ + উক = ভাবুক; (সূত্র: ঔ+উ = আব্‌+উ)।
- পৌ + অক = পাবক,
- গো + আদি = গবাদি,
- গো + এষণা = গবেষণা,
- পো + ইত্র = পবিত্র,
- নৌ + ইক = নাবিক ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
কোন বানানটি শুদ্ধ?
  1. যশোঃধন
  2. জাজ্জ্বল্যমান
  3. ন্যূনাধিক
  4. শ্বাশত
ব্যাখ্যা

• ন্যূনাধিক বানানটি সঠিক।
ন্যূনাধিক (বিশেষণ) শব্দের অর্থ- কমবেশি; বেশিকম। 

অন্যদিকে,
যশোঃধন এর শুদ্ধ বানান- যশোধন।
জাজ্জ্বল্যমান এর শুদ্ধ বানান- জাজ্বল্যমান। 
শ্বাশত এর শুদ্ধ বানান- শাশ্বত।

উৎস: বাংলা একাডেমি বাংলা বানান- অভিধান। 

.
তালব্য ধ্বনি নয় কোনটি?
  1. ছ 
  2. ঝ 
  3. ঞ 
ব্যাখ্যা

• ঘ - তালব্য ধ্বনি নয়। এটি কণ্ঠ ধ্বনি।
-------------
বাংলা বর্ণমালায় (ক - ম) পর্যন্ত এই ২৫টি বর্ণকে একত্রে স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়।

এরমধ্যে,
ক - বর্গীয় (ক, খ, গ, ঘ, ঙ) - এই ৫টি কণ্ঠ ধ্বনি,
চ - বর্গীয় (চ, ছ, জ, ঝ, ঞ) - ৫টি তালব্য ধ্বনি,
ট - বর্গীয়( ট, ঠ, ড, ঢ, ণ) - এই ৫টি মূর্ধন্য ধ্বনি,
ত - বর্গীয় (ত, থ, দ, ধ, ন) - পাঁচটি দন্ত ধ্বনি এবং
প - বর্গীয় (প, ফ, ব, ভ, ম) - এই ৫টি ওষ্ঠ্য ধ্বনি।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী (২০১৯ সংস্করণ)।

.
'সংবর্ত' এর সম্প্রসারিত বাক্য কোনটি?
  1. রাত্রির তিনভাগ একত্রে
  2. অনূঢ়ার পুত্র
  3. যে মেঘে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়
  4. রাত্রির মধ্যভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি অভিধান অনুসারে,
সংবর্ত = অধিক বর্ষণকারী মেঘ; প্রলয় বর্ষণ।
সুতরাং, সঠিক উত্তর - গ) যে মেঘে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।

• কানীন এর সম্প্রসারিত প্রকাশ -= অনূঢ়ার পুত্র।
• 'মহানিশা'র সম্প্রসারিত প্রকাশ - রাত্রির মধ্যভাগ।
• 'ত্রিযামা'র সম্প্রসারিত প্রকাশ - রাত্রির তিনভাগ একত্রে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
কোন বাক্যে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. এই দেশে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য রয়েছে।
  2. বর্ষাকালে পানির প্রাচুর্য থাকে।
  3. তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই।
  4. বইটিতে তথ্যের প্রাচুর্য রয়েছে।
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) তার জীবনে দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই। 
-------------------
ব্যাখ্যা:
• 'প্রাচুর্যতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - প্রাচুর্য, প্রচুর।

 'প্রাচুর্য' মানে আধিক্য বা প্রাবল্য। "দুঃখের প্রাচুর্যতা নেই"।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১১.
'কারিগর' শব্দের 'গর' কোন ধরনের প্রত্যয়?
  1. তৎসম
  2. দেশি 
  3. আরবি
  4. ফারসি
ব্যাখ্যা

• 'কারিগর' শব্দের - 'গর' ফারসি প্রত্যয়। 
শব্দ বিশ্লেষণ: কারি + গর = কারিগর 

অনুরূপভাবে,
বাজি+গর = বাজিগর>বাজিকর 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
'খপোত' - শব্দের অর্থ কোনটি?
  1. আকাশ
  2. খরগোশ
  3. আকাশযান
  4. তরুণ
ব্যাখ্যা

• 'খপোত' শব্দের অর্থ - বিমান, উড়োজাহাজ, আকাশযান।

আরো কয়েকটি শব্দের অর্থ:
- 'খরগোশ' শব্দের অর্থ - শশক।
- 'গাড়ি' শব্দের অর্থ - পণ্য বহনের জন্য ব্যবহৃত শকট।
- 'হরিণ' শব্দের অর্থ - কুরঙ্গ, মৃগ, সুনয়ন।
- 'যুবক' শব্দের অর্থ - তরুণ / জোয়ান।
- ‘পাখি’ শব্দের অর্থ - পক্ষী, বিহগ, বিহঙ্গ, খেচর, বিহঙ্গম, শকুন্ত, অণ্ডজ, পতত্রী৷

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ ও ২০২১ সংস্করণ)।

১৩.
'প্রাদুর্ভাব' -এর সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. প্রাদুর + ভাব
  2. প্রাদুঃ + ভাব 
  3. প্রাদু + ভাব 
  4. প্রাদুঃ+ ভাবঃ
ব্যাখ্যা

'প্রাদুর্ভাব' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ- প্রাদুঃ + ভাব।
- এটি বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ।

বিসর্গ সন্ধি :
- বিসর্গের সাথে অর্থাৎ র্ ও স্-এর সাথে স্বরধ্বনির কিংবা ব্যঞ্জনধ্বনির যে সন্ধি হয় তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।
- বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:
- ১. বিসর্গ + স্বর এবং
- ২. বিসর্গ + ব্যঞ্জন।

• অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সঙ্গে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্যধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ-এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে 'র' হয়। যেমন -
- নিঃ + আকার = নিরাকার,
- আশীঃ বাদ = আশীর্বাদ,
- দুঃ + যোগ = দুর্যোগ ইত্যাদি।

এরূপ - নিরাকরণ, জ্যোতির্ময়, নির্জন, বহির্গত, দুর্লোভ, দুরন্ত ইত্যাদি।

ব্যতিক্রম: ই কিংবা উ ধ্বনির পরের বিসর্গের সঙ্গে 'র' এর সন্ধি হলে বিসর্গের লোপ হয় ও বিসর্গের পূর্ববর্তী হ্রস্ব স্বর দীর্ঘ হয়। যেমন -
- নিঃ + রব = নীরব,
- নিঃ + রস = নীরস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৪.
'উৎকর্ষতা' - শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. ষত্ব বিধান অনুসারে ভুল
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• উৎকর্ষ এটি বিশেষ্য পদ,
- (উৎ + √কৃষ্ + অ) প্রত্যয় সাধিত শব্দ।

• আর এর সাথে 'তা’ (বিশেষ্য) প্রত্যয় যুক্ত করলে ‘উৎকর্ষতা’ হয় যা বিশেষ্যের দ্বিত্ব প্রয়োগ। অর্থাৎ ‘উৎকর্ষতা’ শব্দে তা-প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।

• ‘উৎকর্ষতা’ শব্দের এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে- 'উৎকর্ষ বা উৎকৃষ্টতা'।

• নিয়ম:
‘তা’ ‘ত্ব’ এবং ‘য’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ ‘ত্ব’ বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন: কৃপণ বিশেষণ শব্দের সাথে তা প্রত্যয় যুক্ত হয়ে কৃপণতা হয়েছে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান ও ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৫.
সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. দুষ + কর = দুষ্কর
  2. গোষ্‌ + পদ = গোষ্পদ
  3. ষট্ + দশ = ষোড়শ
  4. আশ্‌ + চর্য = আশ্চর্য
ব্যাখ্যা

• সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ - ষট্ + দশ = ষোড়শ।
- এটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ। 

• কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
- বন্‌ + পতি = বনস্পতি,
- তৎ + কর = তস্কর,
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- পর্‌ + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক্‌ + দশ = একাদশ,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'দুষ্কর' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ = দুঃ + কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১৬.
‘খাসমহল’- কোন সমাস সাধিত পদ?
  1. তৎপুরুষ
  2. কর্মধারয়
  3. বহুব্রীহি
  4. দ্বন্দ্ব 
ব্যাখ্যা

• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষ্য ও বিশেষণ পদে বা বিশেষ্য ও বিশেষণ ভাবাপন্ন পদে যে সমাস  হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন:
• খাস যে মহল = খাসমহল;
• ক্ষুধিত যে পাষাণ = ক্ষুধিত-পাষাণ;
• অক্ষয় যে কীর্তি  = অক্ষয়কীর্তি;
• অর্ধ যে পথ = অর্ধপথ;
• নব যে অন্ন = নবান্ন ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৭.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে কোন শব্দটি গঠিত?
  1. পরাকাষ্ঠা
  2. অবজ্ঞা
  3. আবছায়া
  4. প্রভাব
ব্যাখ্যা

• ‘আব’ খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - আবছায়া।
 
অন্যদিকে,
- ‘পরা’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - পরাকাষ্ঠা।
- ‘অব’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - অবজ্ঞা।
- ‘প্র’ তৎসম উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ - প্রভাব।

সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি।
যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।
 
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি অভিধান।

১৮.
'Avocation'- এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. বিস্তার
  2. বৃত্তি
  3. ইশতেহার
  4. দুষ্ক্রিয়তা
ব্যাখ্যা

• 'Avocation' এর বাংলা পরিভাষা - পেশা / বৃত্তি।

অন্যদিকে,
- 'Communique' এর বাংলা পরিভাষা - ইশতেহার।
- 'Amplitude' এর বাংলা পরিভাষা - বিস্তার।
- 'Delinquency' এর বাংলা পরিভাষা - দুষ্ক্রিয়তা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

১৯.
“আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল।” - বাক্যটিতে কোন ধরনের ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ
  2. দুর্বোধ্যতা
  3. উপমার ভুল প্রয়োগ
  4. বাহুল্য দোষ 
ব্যাখ্যা

• “আমার হৃদয় মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হল”- বাক্যে উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
কারণ,
বীজ মন্দিরে বপন হয় না। বপন হয় ক্ষেতে। 
সঠিক বাক্যটি হবে - আমার হৃদয় ক্ষেত্রে আশার বীজ উপ্ত হল।

অন্যদিকে,
• তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের মিশ্রণ ঘটলে তা গুরুচণ্ডালী দোষ হয়।
• প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাহুল্য দোষ ঘটে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০.
'গৃহী' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. দাতা
  2. বৈরাগি
  3. সন্ন্যাসী
  4. বৈভব
ব্যাখ্যা

• 'গৃহী' এর বিপরীত শব্দ - সন্ন্যাসী।

উল্লেখ্য,
বৈরাগি- বানান অশুদ্ধ।
বৈভব অর্থ- ধনসম্পদ। 

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীত শব্দ:
• 'কুঞ্চন' এর বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
• 'বর্জন' এর বিপরীত শব্দ - গ্রহণ।
• 'দুর্জন' এর বিপরীত শব্দ - সজ্জন।
• 'উৎকর্ষ' এর বিপরীত শব্দ - অপকর্ষ।
• 'দাতা' এর বিপরীত শব্দ - গ্রহীতা।
• 'ক্ষয়িষ্ণু' এর বিপরীত শব্দ - বর্ধিষ্ণু।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২১.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. উপগ্রহ
  2. উদ্যম
  3. উন্নতি
  4. পাবক
ব্যাখ্যা

• 'পাবক' - উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়।
- এটি প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

- 'পাবক' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায়: পৌ + অক। এখানে কোনো উপসর্গ নেই।

অন্যদিকে,
- 'উপগ্রহ' - তৎসম উপসর্গ 'উপ' রয়েছে।
- 'উদ্যম', উন্নতি - তৎসম উপসর্গ 'উৎ' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২২.
'সিংহ' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. কুরঙ্গ
  2. কেশরী
  3. কুঞ্জর
  4. অলক
ব্যাখ্যা

• 'সিংহ' এর প্রতিশব্দ - কেশরী। 

• ‘সিংহ' এর সমার্থক শব্দ: 
- পশুরাজ, কেশরী, মৃগেন্দ্র, মৃগরাজ।

অন্যদিকে, 
কুরঙ্গ = হরিণ শব্দের প্রতিশব্দ।
কুঞ্জর = ‘হাতি’ এর প্রতিশব্দ। 
'অলক' হচ্ছে 'চুল' শব্দের প্রতিশব্দ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৩.
"কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি"- লোপ পেয়ে কোন ধরনের সমাস হয়?
  1. দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  2. তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস
  3. চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস
  4. পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস
ব্যাখ্যা

• চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে।
যেমন- 
- গুরুকে ভক্তি = গুরুভক্তি,
- আরামের জন্য কেদারা = আরামকেদারা,
- বসতের নিমিত্ত বাড়ি = বসতবাড়ি।

----------------------------
অন্যদিকে,
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।
যথা:
- দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত,
- বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।

পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে ইত্যাদি) লোপে যে তৎপুরুষ সমাস হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে তৃতীয়া বিভক্তির (দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪.
'ত্বরিত' এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. রাজসিক
  2. বিরত
  3. প্রস্থিত
  4. শ্লথ
ব্যাখ্যা

• 'ত্বরিত' এর বিপরীত শব্দ - শ্লথ।

অন্যদিকে, 
- 'ঐহিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - পারত্রিক।
- 'তামসিক' শব্দের বিপরীত শব্দ - রাজসিক। 
- ‘আকুঞ্চন' শব্দের বিপরীত শব্দ - প্রসারণ।
- 'নিয়ত' এর বিপরীত শব্দ -  বিরত।
- 'প্রবিষ্ট' এর বিপরীত শব্দ - প্রস্থিত।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
'Quotation' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. উদ্ধৃত
  2. ভাগফল
  3. মূল্যজ্ঞাপন
  4. কোটা 
ব্যাখ্যা

• 'Quotation' এর বাংলা পরিভাষা - 'মূল্যজ্ঞাপন'।

অন্যদিকে, 
• Quotient- ভাগফল,
• Quoted- উদ্ধৃত,
• Quota - যথাংশ / কোটা।

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।

২৬.
'কন্যা' শব্দের সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. তনয়া
  2. দুহিতা
  3. আত্মজা
  4. মীনাক্ষী
ব্যাখ্যা

• "কন্যা" শব্দের প্রতিশব্দ:
- দুহিতা,
- কন্যা,
- আত্মজা,
- তনয়া,
- নন্দিনী,
- সুতা,
- মেয়ে,
- দুলালী।

অন্যদিকে,
মীনাক্ষী শব্দের অর্থ - 'মাছের মতো সুন্দর চোখবিশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৭.
"সুবর্ণ" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - 
  1. সু বর্ণ যার
  2. সমান বর্ণ যার
  3. সুন্দর বর্ণ যার
  4. সুন্দর রূপ বর্ণ
ব্যাখ্যা

• "সুবর্ণ" - এর সঠিক ব্যাসবাক্য - সুন্দর বর্ণ যার।
--------------
• সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস:

যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হয়ে থাকে, তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস বলে।

যেমন:
- পােড়া কপাল যার = পােড়াকপালে,
- সমান উদর যার = সহোদর,
- বদ রাগ যার = বদরাগী,
- সুন্দর বর্ণ যার = সুবর্ণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৮.
'ছুঁচোর কেত্তন' - এ 'ছুঁচো' বলতে কী বোঝায়?
  1. অবিরাম
  2. নিষ্ঠুর
  3. আজগুবি
  4. ইদুরজাতীয় প্রাণী
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ছুঁচোর কেত্তন' - এ 'ছুঁচো' বলতে বোঝায়- ইদুরজাতীয় প্রাণী।

• ‘ছুঁচোর কেত্তন’ বাগধারার অর্থ - অবিরাম কলহ।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা: 
- 'রামগরুড়ের ছানা' - গোমড়ামুখো লোক। 
- 'লগন চাঁদা' - ভাগ্যবান। 
- 'কালে ভদ্রে' - কদাচিৎ।
- 'গোঁফ খেজুরে' - নিতান্তই অলস।
- ‘কুয়োর ব্যাঙ’ - সংকীর্ণমনা লোক।
- ‘খয়ের খাঁ’ - চটুকার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,

২৯.
'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি কী অর্থ নির্দেশ করে?
  1. আধিপত্য
  2. উপরি
  3. ব্যাপ্তি
  4. সদৃশ
ব্যাখ্যা

• 'অধিরোহণ' শব্দের 'অধি' উপসর্গটি - 'উপরি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

বিভিন্ন অর্থে 'অধি' উপসর্গের ব্যবহার:
• 'আধিপত্য' অর্থে- অধিকার, অধিপতি।
• 'উপরি' অর্থে- অধিরোহণ, অধিষ্ঠান।
• 'ব্যাপ্তি' অর্থে- অধিবাস, অধিগত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৩০.
'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয় কোনটি?
  1. হুতাশন
  2. অংশু
  3. বৈশ্বানর
  4. কৃশানু
ব্যাখ্যা

• 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ নয়- অংশু।

• অংশু(বিশেষ্য পদ), 
অর্থ: কিরণ, দীপ্তি, রশ্মি।

• 'আগুন' এর সমার্থক শব্দ:
অগ্নি, অনল, বহ্নি, হুতাশন, পাবক, বৈশ্বানর, দহন, সর্বভুক, শিখা, হোমাগ্নি, কৃশানু, সর্বশুচি, সপ্তাংশু, বিভাবসু।

অন্যদকে,
-------------
• 'কিরণ' এর সমার্থক শব্দ:
প্রভা, আলো, বিভা, দীপ্তি, কর, অংশু, রশ্মি, জ্যোতি, আলোক, ময়ূখ, ভাতি, রেশন, রশ্মী, কিরণ, নুর, উদ্ভাস, ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১.
"গলায় গামছা যার"- এটি কোন সমাসের ব্যাসবাক্য?
  1. অলুক বহুব্রীহি সমাস
  2. ব্যতিহার বহুব্রীহি সমাস
  3. ব্যাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস
  4. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস
ব্যাখ্যা

• অলুক বহুব্রীহি সমাস:
- যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্ব বা পরপদের কোনো পরিবর্তন হয় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি বলে।
- অলুক বহুব্রীহি সমাসে সমস্ত পদটি বিশেষণ হয়।
যথা:
→ মাথায় পাগড়ি যার = মাথায়পাগড়ি,
→ গলায় গামছা যার = গলায়গামছা (লোকটি)।

এরূপ,
হাতে-ছড়ি, কানে-কলম, হাতে-বেড়ি, মাথায়-ছাতা, মুখে-ভাত, কানে-খাটো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩২.
কোনটিতে চন্দ্রবিন্দুর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সাঁকো
  2. কাঁধ
  3. বাঁধা
  4. বাশঁরি
ব্যাখ্যা

• "বাশঁরি" শব্দটি লিখতে চন্দ্রবিন্দু এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
এখানে,
চন্দ্রবিন্দু 'ব' এর উপর হবে, অপশনে 'শ' এর এর উপর দেয়া আছে।

অর্থ্যাৎ, শুদ্ধ শব্দ - বাঁশরি।

সূত্র: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৩.
'নূপুরের ধ্বনি' বলতে কোন শব্দটি নির্দেশ করে?
  1. ঝংকার
  2. টঙ্কার
  3. নিক্বণ
  4. শিঞ্জন
ব্যাখ্যা

• 'নূপুরের ধ্বনি' এর এক কথায় প্রকাশ- নিক্বণ। 

অন্যদিকে, 
• 'বাদ্যযন্ত্রের ধ্বনি' - ঝংকার। 
• 'ধনুকের ধ্বনি' - টঙ্কার। 
• 'অলঙ্কারের ধ্বনি' - শিঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪.
'Hemisphere' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. আবহমণ্ডল
  2. সমর্থক
  3. গোলার্ধ
  4. বারিমণ্ডল
ব্যাখ্যা

• 'Hemisphere' এর বাংলা পরিভাষা - গোলার্ধ।

অন্যদিকে,
• 'Hydrosphere' এর বাংলা পরিভাষা - বারিমণ্ডল।
• 'Seconder' এর বাংলা পরিভাষা - সমর্থক।
• 'Atmosphere' এর বাংলা পরিভাষা - আবহমণ্ডল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা।

৩৫.
নিচের কোন বানানটি ভুল?
  1. বিপণি
  2. পিণ্ডারি
  3. নিপুণ
  4. আপণ
ব্যাখ্যা

• তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মকে ণ-ত্ব বিধান বলে।

• ‘ণ’ - এর ভুল প্রয়োগ ঘটেছে- পিণ্ডারি শব্দে।
• 'পিণ্ডারি' শব্দটির সঠিক বানান - পিন্ডারি।
• 'পিন্ডারি' শব্দের অর্থ- মহারাষ্ট্রীয় অশ্বারোহী দস্যুদল, বর্গি।
• 'পিন্ডারি' মারাঠি শব্দ। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না।

------------------
অন্যদিকে,
• আপণ-
→ আপণ একটি পুরনো তদ্ভব শব্দ, যার অর্থ: নিজের মালিকানাধীন বা দোকান।
→ যদিও অনেকেই আপন ভাবেন, আসলে আপণ বানানটিও অভিধানসম্মতভাবে স্বীকৃত।
→ উদাহরণ: “আপণ প্রতিষ্ঠানে সে কর্মরত।”

• বিপণি-
→ শুদ্ধ বানান: বিপণি (অর্থ: দোকান)।
→ ‘ণ’ ব্যবহারে ভুল নেই।

• নিপুণ-
→ শুদ্ধ বানান: নিপুণ (অর্থ: দক্ষ/কুশলী)।
→ সঠিক প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯); বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৬.
কোনটি ঈষৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস?
  1. উপবন
  2. উপকণ্ঠ
  3. আরক্তিম
  4. উপশহর
ব্যাখ্যা

 অব্যয়ীভাব সমাস:
- পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে।
- অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।

যেমন:
• 'ঈষৎ (আ)' অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- আনত = ঈষৎ নত,
- আরক্তিম = ঈষৎ রক্তিম।

• সাদৃশ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- বনের সদৃশ = উপবন,
- শহরের সদৃশ = উপশহর

অন্যদিকে,
• সমীপ্য অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ,
- কূলের সমীপে = উপকূল ইত্যাদি।

• ক্ষুদ্র অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস:
- উপনদী,
- উপগ্রহ।

• পশ্চাৎ অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হচ্ছে: 
- পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৭.
'বক্তব্য'- এর শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √ বক্‌ +তব্য
  2. √ বচ্‌ + তব্য
  3. √ বক্‌ + অব্য
  4. √বচ্‌ +অব্য
ব্যাখ্যা

• 'বক্তব্য'- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় - √ বচ্‌ + তব্য।

এখানে,
- '√ বচ' সংস্কৃত ক্রিয়াপ্রকৃতি এবং 'তব্য' সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।

- ধাতুর সঙ্গে যখন কোনো ধ্বনি বা ধ্বনি-সমষ্টি যুক্ত হয়ে বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ তৈরি হয়, তখন ক্রিয়ামূল বা ধাতুকে বলা হয় ক্রিয়া প্রকৃতি বা প্রকৃতি।

- ক্রিয়া প্রকৃতির সঙ্গে যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বলে কৃৎ-প্রত্যয়।
- যেমন- চল্ (ক্রিয়া প্রকৃতি)+ অন (কৃৎ-প্রত্যয়)= চলন (বিশেষ্য পদ)।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।