পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
পরীক্ষা - ৯১: বিষয় - সাধারণ বিজ্ঞান টপিক - আধুনিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য ১. মানবদেহ ও এর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, রোগের কারণ ও প্রতিকার, সংক্রামক রোগ, রোগ জীবাণুর জীবনধারণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোবায়োলজি, ইম্যুনাইজেশন এবং ভ্যাকসিনেশন, এইচআইভি, এইডস, টিবি, পোলিও, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি - এপিকালচার, সেরিকালচার, পিসিকালচার, হর্টিকালচার ইত্যাদি। ২. ইলেকট্রনিক্স, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শক্তির উৎস ও প্রয়োগ, শক্তির রূপান্তর, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস, পারমাণবিক শক্তি, খনিজ উৎস ও জীবাশ্ম ইত্যাদি। ------------------ [এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আজ বা যেকোন সময় পরীক্ষা শুরু করা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ]

ডেইলি কুইজ [১৪০ দিনের রুটিনের অংশ] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
নিম্নের কোনটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট রোগ?
  1. যক্ষ্মা
  2. পোলিও
  3. ম্যালেরিয়া
  4. কলেরা 
ব্যাখ্যা

◉ পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সংক্রমিত হয়। এটি মূলত স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী পঙ্গুত্ব সৃষ্টি করতে পারে।

ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও, 
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

অন্যদিকে, ম্যালেরিয়া — Plasmodium প্রজাতির প্রোটোজোয়া দ্বারা সৃষ্ট, যা মশার মাধ্যমে ছড়ায়।

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

.
কোনটি দ্বারা মাছ চাষ বোঝায়?
  1. এপিকালচার
  2. সেরিকালচার
  3. পিসিকালচার
  4. হর্টিকালচার
ব্যাখ্যা

◉ পিসিকালচার (Pisciculture) — মাছের চাষ বা উৎপাদনকে বোঝায়। এটি মৎস্যচাষের বৈজ্ঞানিক নাম।

পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যান্য অপসনসমূহ, 
এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।
হর্টিকালচার (Horticulture) — ফল, ফুল, শাকসবজির চাষ।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

.
মোবাইল ফোনে যোগাযোগের জন্য কোন ধরনের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়?
  1. দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গ
  2. অতিবেগুনি রশ্মি
  3. মাইক্রোওয়েভ
  4. গামা রশ্মি
ব্যাখ্যা

◉ মোবাইল ফোন যোগাযোগ সাধারণত মাইক্রোওয়েভ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডে (প্রায় 800 MHz থেকে 2.6 GHz) পরিচালিত হয়। এই তরঙ্গগুলো দীর্ঘ দূরত্বে তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণে উপযোগী এবং অ্যান্টেনা দ্বারা সহজে প্রেরণযোগ্য।

মাইক্রোওয়েভ:
- মাইক্রোওয়েভ এক ধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ যা সেকেন্ডে প্রায় 1 গিগা বা তার চেয়ে বেশিবার কম্পন বিশিষ্ট।
- মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে ডাটা স্থানান্তর অর্থাৎ কম্পিউটার প্রদত্ত ডাটা, কথা এবং ছবি ইত্যাদি অনেক দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব।
- মাইক্রোওয়েভ সিস্টেমে মূলত দুটো ট্রান্সসিভার (Transceiver) থাকে।
- এর একটি সিগন্যাল ট্রান্সমিট (Transmit) করে এবং অন্যটি রিসিভ (Receive) করে।
- মাইক্রোওয়েভ এর ফ্রিকুয়েন্সী রেঞ্জ হচ্ছে 300MHz থেকে 30GHz.

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।

.
জিওথার্মাল শক্তির প্রধান উৎস কী?
  1. সূর্যের তাপশক্তি
  2. বায়ুর গতি
  3. ভূগর্ভস্থ তাপ
  4. সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা
ব্যাখ্যা

◉ জিওথার্মাল এনার্জি (Geothermal Energy) হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরে সংরক্ষিত তাপশক্তি, যা মূলত গলিত শিলা (magma), গরম পানি ও বাষ্প থেকে পাওয়া যায়।

জিওথার্মাল এনার্জি: 
- জিওথার্মাল এনার্জি হলো পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ তাপশক্তি, যা প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে রান্না, স্নান, ঘর গরম রাখা, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ নানা কাজে ব্যবহার করা যায়। 
- পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপ এবং তেজস্ক্রিয় উপাদানের ক্ষয়ের ফলে এই তাপ উৎপন্ন হয়। এটি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি। 
- পৃথিবীতে বিদ্যমান মোট জিওথার্মাল শক্তির পরিমাণ বিশ্বের বর্তমান জ্বালানি চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি, তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ শক্তিকে ব্যবহার করা প্রযুক্তিগতভাবে চ্যালেঞ্জিং। 
- তবুও, এটি জীবাশ্ম জ্বালানি (যেমন কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের বিপরীতে একটি পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

.
ORS সাধারণত কোন রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়?
  1. জ্বর
  2. ডায়রিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. কাশি
ব্যাখ্যা

◉ ORS (Oral Rehydration Solution) ডায়রিয়া, কলেরা বা বমি ইত্যাদির ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া রোধে ব্যবহৃত হয়।

- ORS হলো এক ধরনের দানাদার মিশ্রণ যা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয় শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ বা পূরণ করার জন্য।
- এটি সাধারণত ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়ার সময় ব্যবহৃত হয়, যখন শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়।
- এটি শরীরের পানিশূন্যতা (Dehydration) প্রতিরোধ করে এবং লবণ-পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।

ORS-এ থাকা উপাদানসমূহ: 
- লবণ (সোডিয়াম ক্লোরাইড), 
- গ্লুকোজ, 
- পটাশিয়াম ক্লোরাইড, 
- সোডিয়াম বাইকার্বনেট বা সাইট্রেট। 

উৎস: 
১। জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ (UNICEF) ওয়েবসাইট। 

.
কোন ধরনের কয়লাকে সর্বোচ্চ মানের কয়লা হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. পিট
  2. লিগনাইট
  3. বিটুমিনাস
  4. অ্যানথ্রাসাইট
ব্যাখ্যা

অ্যানথ্রাসাইট (Anthracite) হলো সবচেয়ে উচ্চমানের কয়লা, যাতে কার্বনের পরিমাণ সর্বাধিক এবং আর্দ্রতা ও অমিশ্রণ খুব কম থাকে। এটি ধোঁয়াবিহীন ও অধিক তাপ উৎপাদনকারী।

কয়লা:
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা।
- এতে বিদ্যমান মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)।
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে।
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা।
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে।

কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।
যথা -
১। অ্যানথ্রাসাইট,
২। বিটুমিনাস এবং
৩। লিগনাইট।

- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে।
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে।
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. আম
  2. তুঁত
  3. রাবার
  4. নিম
ব্যাখ্যা

◉ রেশমকীট (Silkworm) মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।

সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়। 
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ডায়োডের প্রধান কাজ কী?
  1. একমুখী প্রবাহ নিশ্চিত করা
  2. ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. সার্কিটে প্রতিরোধ সৃষ্টি করা
  4. বৈদ্যুতিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা

◉ ডায়োড (Diode) হলো একটি সেমিকন্ডাক্টর যন্ত্র, যা কেবল একদিকে তড়িৎ প্রবাহ যেতে দেয় এবং বিপরীত দিকে প্রবাহ বাধা দেয়।

ডায়োড: 
- ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযোগে হয় না।
- সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছোট ছোট আলো হল Light Emitting Diode.
- একটি p টাইপ অর্ধপরিবাহী ও একটি n টাইপ অর্ধপরিবাহী পাশাপাশি জোড়া লাগিয়ে p-n জাংশন ডায়োড তৈরি করা হয়।
- ডায়োড মূলত রেকটিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
- রেকটিফায়ার এসি প্রবাহকে ডিসি প্রবাহে রূপান্তর করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত কোন প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. পারমাণবিক সংযোজন
  2. পারমাণবিক বিভাজন
  3. তেজস্ক্রিয় ক্ষয়
  4. আয়নীকরণ
ব্যাখ্যা

◉ পারমাণবিক বিভাজন (Nuclear Fission) হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
- এই শক্তি পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করতে ব্যবহৃত হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়।
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
পারমাণবিক সংযোজন (Nuclear Fusion) — হালকা পরমাণু মিলিয়ে ভারী পরমাণু তৈরি, যা সূর্যের শক্তির উৎস, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay) — স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ নির্গমন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়।
আয়নীকরণ (Ionization) — ইলেকট্রন যোগ-বিয়োগ করে আয়ন তৈরি, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।

১০.
সমুদ্রের জোয়ারভাটা থেকে কোন ধরনের শক্তি উৎপন্ন হয়?
  1. তাপশক্তি
  2. রাসায়নিক শক্তি
  3. যান্ত্রিক শক্তি
  4. পারমাণবিক শক্তি
ব্যাখ্যা

জোয়ারভাটা শক্তি (Tidal Energy) হলো সমুদ্রের পানির উত্থান-পতনের ফলে সৃষ্ট যান্ত্রিক শক্তি, যা টারবাইনের সাহায্যে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। পানির গতি ও চাপের পরিবর্তন থেকে এই শক্তি উৎপন্ন হয়, তাই এটি নবায়নযোগ্য শক্তির একটি উৎস।

জলবিদ্যুৎ:
- পানি নবায়নযোগ্য শক্তির অন্যতম উৎস।
- পানির স্রোত ও জোয়ার-ভাটাকে ব্যবহার করে শক্তির উৎপাদন করা যায়।
- পানির স্রোতে আছে গতি শক্তি ও বিভব শক্তি।
- পানির স্রোতকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়। একে জলবিদ্যুৎ বলা হয়।
- জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভব শক্তি বা স্থিতি শক্তি ব্যবহার করা হয়। 
- পানির স্রোতের সাহায্যে একটি টার্বাইন ঘোরানো হয়।
- এই ট্রার্বাইনের ঘূর্ণন থেকেই এখানে যান্ত্রিক শক্তি ও চৌম্বকশক্তির সমন্বয় ঘটানো হয়।
- প্রবাহিত পানির স্রোত থেকে যান্ত্রিক শক্তি সংগ্রহ করে চৌম্বক শক্তির সমন্বয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

১১.
নিম্নের কোনটি জীবাণুনাশক বা এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

আয়োডিন একটি বহুল ব্যবহৃত এন্টিসেপটিক, যা ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করে জীবাণু ধ্বংস ও সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। সাধারণত পোভিডোন-আয়োডিন (Povidone-iodine) দ্রবণ আকারে ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন:
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান।

বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন: 
- নিউমোনিয়া নিরাময়ে পেনিসিলিন।
- যক্ষ্মা নিরাময়ে স্ট্রেপটোমাইসিন।
- টাইফয়েড নিরাময়ে ক্লোরোমাইসেটিন।
- অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন।
- চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা কত হওয়া উচিত?
  1. ৮–১০ গ্রাম/ডেসিলিটার
  2. ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার
  3. ১৮–২২ গ্রাম/ডেসিলিটার
  4. ২৫–৩০ গ্রাম/ডেসিলিটার
ব্যাখ্যা

◉ রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা— ১২–১৬ গ্রাম/ডেসিলিটার। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) বিদ্যমান একটি প্রোটিন, যা শরীরের টিস্যুগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।
- পর্যাপ্ত টিস্যু অক্সিজেনেশন নিশ্চিত করতে রক্তে যথেষ্ট হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
- রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ডেসিলিটার (g/dl) এককে প্রকাশ করা হয়।

- স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন মাত্রা:
পুরুষ: ১৪–১৮ g/dl; 
মহিলা: ১২–১৬ g/dl; 

- স্বাভাবিকের চেয়ে কম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা থাকলে তাকে অ্যানিমিয়া (রক্তাল্পতা) বলা হয়।
- রক্তে লাল কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে তাকে এরিথ্রোসাইটোসিস বলা হয়, যার ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

উৎস: National Library of Medicine ওয়েবসাইট। 

১৩.
টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভিদ জন্মানোর জন্য সাধারণত কী ব্যবহার করা হয়?
  1. শুধু শিকড়
  2. শুধু বীজ
  3. পূর্ণাঙ্গ গাছ
  4. গাছের অংশবিশেষ 
ব্যাখ্যা

◉ টিস্যু কালচার (Tissue Culture) হলো একটি উদ্ভিদ প্রজনন পদ্ধতি, যেখানে গাছের যেকোনো অংশ (পাতা, কাণ্ড, শিকড়, কলি ইত্যাদি) জীবাণুমুক্ত পরিবেশে পুষ্টি মাধ্যমের মধ্যে রেখে নতুন উদ্ভিদ উৎপাদন করা হয়।

টিস্যু কালচার:
- উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে টোটিপোটেন্ট (totipotent) স্টেম কোষ থাকায় এর প্রায় যেকোনো অংশ থেকে হুবহু আরেকটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদ জন্মানো সম্ভব, এটিই টিস্যু কালচারের মূলনীতি।
- পূর্ণাঙ্গ গাছ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, বরং ছোট অংশ থেকেই নতুন উদ্ভিদ তৈরি হয়।
- সাধারণত এক বা একাধিক ধরনের এক গুচ্ছ কোষসমষ্টিকে টিস্যু (Tissue) বা কলা বলা হয়।
- এই এক গুচ্ছ কোষ উৎপত্তিগতভাবে অভিন্ন এবং সম্মিলিতভাবে একই কাজ করে।
- একটি টিস্যুকে জীবাণুমুক্ত পুষ্টিবর্ধক কোনো মিডিয়ামে (Nutrient medium) বর্ধিতকরণ প্রক্রিয়াই হলো টিস্যু কালচার।
- টিস্যু কালচার উদ্ভিদবিজ্ঞানের একটি অপেক্ষাকৃত নতুন শাখা।
- উদ্ভিদ টিস্যু কালচারে উদ্ভিদের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ বা অঙ্গবিশেষ (যেমন পরাগরেণু, শীর্ষ বা পার্শ্বমুকুল, পর্ব, মূলাংশ ইত্যাদি) কোনো নির্দিষ্ট পুষ্টিবর্ধক মিডিয়ামে জীবাণুমুক্ত অবস্থায় কালচার করা হয়।
- মিডিয়ামগুলোতে পুষ্টি এবং বর্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপাদান সরবরাহ করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম - ১০ শ্রেণি।

১৪.
বায়ু টারবাইনের সাহায্যে কোন শক্তি বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়?
  1. রাসায়নিক শক্তি
  2. তাপশক্তি
  3. গতিশক্তি
  4. স্থিতিশক্তি
ব্যাখ্যা

◉ বায়ু টার্বাইন (Wind Turbine) বাতাসের গতিশক্তিকে (Kinetic Energy) ঘূর্ণনশক্তিতে রূপান্তর করে, যা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

বায়ু শক্তি:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বায়ু প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু প্রবাহজনিত গতিশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করা হয় তাকে বায়ুকল (টারবাইন) বলে।
- বায়ু প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে প্রাচীনকালের মানুষেরা কুয়া থেকে পানি তোলা, জাহাজ চালানো ইত্যাদি কাজ সম্পাদন করতো।
- নৌকায় পাল তুলে আজও বায়ু শক্তিকে কাজে লাগানো হয়।
- বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বায়ু কল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
কোনটি ধাতব খনিজের উদাহরণ?
  1. চুনাপাথর
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. লৌহ আকরিক
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা

◉ ধাতব খনিজ (Metallic Minerals) থেকে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। লৌহ আকরিক (Iron Ore) থেকে লোহা আহরণ করা হয়, যা ইস্পাত ও অন্যান্য ধাতব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

• ধাতব-অধাতব খনিজ:
- পৃথিবীর অধিকাংশই খনিজই মাটি কিংবা শিলা থেকে পাওয়া খনিজ পদার্থ যার বেশিরভাগ খনিজ পদার্থই কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায়।
- এখন পর্যন্ত প্রকৃতিতে প্রায় ২৫০০ রকমের খনিজ পদার্থ পাওয়া গেছে।
- খনিজ পদার্থ ধাতব কিংবা অধাতব দুটোই হতে পারে। যথা:

১. ধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি তাদেরকে ধাতব খনিজ বলে। যেমন:
- আয়রন (Fe),
- তামা (Cu),
- সোনা (Au),
- রূপা (Ag) ইত্যাদি।

২. অধাতব খনিজ পদার্থ:
- যেসব খনিজ ধাতব পদার্থ দ্বারা তৈরি নয় তাদের অধাতব খনিজ পদার্থ বলে। যেমন:
- কোয়ার্টজ (Quartz),
- মাইকা (Mica),
- গ্রাফাইট,
- জিপসাম,
- কয়লা,
- খনিজ লবণ ইত্যাদি।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।