ব্যাখ্যা
• নিমন্ত্রণ(বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ: নিমোন্ত্রোন্।
অর্থ:
- আমন্ত্রণ;
- ভোজে আহ্ম্যন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯৩ প্রশ্ন
• নিমন্ত্রণ(বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ: নিমোন্ত্রোন্।
অর্থ:
- আমন্ত্রণ;
- ভোজে আহ্ম্যন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
স্বরসঙ্গতি (Vowel harmony):
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে। যেমন: দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি ।
ক. প্রগত (Progressive): আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।
খ. পরাগত (Regressive): অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি
গ. মধ্যগত (Mutual) : আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: বিলাতি > বিলিতি ।
ঘ. অন্যোন্য (Reciprocal) : আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়। যেমন: মোজা > মুজো ।
ঙ. চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি : গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি। পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন: মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি। বিশেষ নিয়মে– উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• মূর্ধন্য-ণ ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন- ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ্)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি৷
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, চিক্কণ, নিক্কণ, গুণ গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• স্বরে-ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জন সন্ধি:
পূর্বপদের শেষে যদি স্বরধ্বনি থাকে এবং পরপদের প্রথম ধ্বনি ছ্ হয় তবে দুয়ের সন্ধিতে ছ্-ধ্বনি চ্ছ হয়ে যায়। স্বরধ্বনি চ্ছ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়।
যেমন:
বৃক্ষ + ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া,
মুখ + ছবি = মুখচ্ছবি,
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ,
এক + ছত্র = একচ্ছত্র,
পরি + ছন্ন = পরিচ্ছন্ন।
অন্যদিকে,
-------------------------
• বিসর্গ সন্ধির নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/খ, জ/ঝ, ড/ঢ, দ/ধ/ন, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য্/র্/ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় | এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (-অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।
অঃ (স)।
যেমন:
অধঃ + গতি = অধোগতি,
বয়ঃ + জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ,
মনঃ + গত = মনোগত,
সদ্যঃ + জাত = সদ্যোজাত,
ত্রয়ঃ + দশ = ত্রয়োদশ,
তিরঃ + ধান = তিরোধান,
শিরঃ + দেশ = শিরোদেশ,
মনঃ + নয়ন = মনোনয়ন,
সরঃ + বর = সরোবর,
অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়,
ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে শব্দগুলো বর্ণানুক্রমিক (অর্থাৎ অ-আ-ই-ঈ-উ-ঊ... এই ক্রমে) সাজানো হয়। বাংলা অভিধানের বর্ণগুলোকে নিম্নোক্ত ক্রমে সাজাতে পারি:
অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ,
ং, ঃ, ঁ,
ক, খ, গ, ঘ, ঙ,
চ, ছ, জ, ঝ, ঞ,
ট, ঠ, ড, ড়, ঢ, ঢ়, ণ,
ত, ৎ, থ, দ, ধ, ন,
প, ফ, ব, ভ, ম,
য, য়, র, ল,
শ, ষ, স, হ।
অপশনে দেওয়া চারটি শব্দের মধ্যে প্রথম চার অক্ষর একই (নিরব)। সুতরাং সঠিক ক্রম বের করতে ষষ্ঠ অক্ষর দেখতে হবে:
নিরবচ্ছিন্ন → চ
নিরবদ্য → দ
নিরবয়ব → য়
নিরবলম্ব → ল
বাংলা বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী: চ < দ < য় < ল। সুতরাং সঠিক ক্রম হলো: নিরবচ্ছিন্ন → নিরবদ্য → নিরবয়ব → নিরবলম্ব।
অভিধানে নিরবচ্ছিন্ন শব্দটি সবচেয়ে আগে আসবে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• শুদ্ধ বানান- সমাধিস্থ।
• স্ত আর স্থ-য়ে গন্ডগোল:
স্ত /স্থ সংক্রান্ত বানান ভুল এড়াবার একটা উপায় আছে। যেসব শব্দে স্থ আছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব শব্দ থেকে স্থ বাদ দিলেও অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে। কিন্তু স্ত দিয়ে যেসব শব্দ পাচ্ছি সেখানে স্ত বাদ দিলে অর্থবোধক শব্দ পড়ে থাকবে না।
উদাহরণগুলো লক্ষ করি:
• স্ত: অভ্যস্ত, অস্ত, আশ্বস্ত, গ্রস্ত (যেমন: বিপদগ্রস্ত) ত্রস্ত, নিরস্ত, ন্যস্ত, পরাস্ত, পর্যুদস্ত, প্রশস্ত, বিধ্বস্ত, বিন্যস্ত, বিপর্যস্ত, বিশ্বস্ত, ব্যতিব্যস্ত, সন্ত্রস্ত সমস্ত, স্বস্তি।
• স্থ: অন্তঃস্থ, অবস্থা, অভ্যন্তরস্থ, কণ্ঠস্থ, গর্ভস্থ, গৃহস্থ, তটস্থ, দুস্থ, দ্বারস্থ, ভূগর্ভস্থ, মধ্যস্থতা, মনস্থ, মুখস্থ, সভাস্থ, সমাধিস্থ, সুস্থ।
উল্লেখ্য, 'অধীনস্থ' ব্যাকরণসম্মত নয় বটে, কিন্তু বর্তমানে সর্বত্র প্রচলিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• বাংলা নী-প্রত্যয় যোগে স্ত্রীবাচক শব্দ:
- কামার-কামারনী,
- জেলে-জেলেনী,
- কুমার-কুমারনী,
- ধোপা-ধোপানী,
- মজুর-মজুরনী।
-------------------
বাংলা স্ত্রী প্রত্যয়:
পুরুষবাচক শব্দের সঙ্গে কতগুলো প্রত্যয় যোগ করে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠন করা হয়। এগুলো হলো : ঈ, নি, নী, আনী, ইনী, ন ।
• ঈ-প্রত্যয় : বেঙ্গমা-বেঙ্গমী, ভাগনা/ভাগনে—ভাগনী ৷
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে ঈ থাকলে স্ত্রীবাচক শব্দে নী হয় এবং আগের ঈ ই হয়। যেমন : ভিখারি- ভিখারিনী, অভিসারী-অভিসারিণী ।
• আনী-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকুরানী, নাপিত-নাপিতানী, মেথর-মেথরানী, চাকর-চাকরানী ইত্যাদি।
• ইনী-প্রত্যয় : কাঙাল - কাঙালিনী, গোয়ালা-গোয়ালিনী, বাঘ-বাঘিনী ইত্যাদি ।
• উন-প্রত্যয় : ঠাকুর-ঠাকরুন / ঠাকুরানী।
• আইন-প্রত্যয় : নতুন নতুন প্রত্যয়ের প্রয়োগ দেখা যায়। যেমন : ঠাকুর-ঠাকুরাইন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• কর্মধারয় সমাস:
বিশেষণ ও বিশেষ্য পদে কর্মধারয় সমাস হলে কখনো কখনো বিশেষণ পরে আসে, বিশেষ্য আগে যায়।
যেমন-
- সিদ্ধ যে আলু = আলুসিদ্ধ,
- অধম যে নর = নরাধম।
-------------------
• বহুব্রীহি সমাস:
যে সমাসে সমস্যমান পদগুলোর কোনোটির অর্থ না বুঝিয়ে, অন্য কোনো পদকে বোঝায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
বহুব্রীহি সমাসে সাধারণত যার, যাতে ইত্যাদি শব্দ ব্যাসবাক্যরূপে ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- আয়ত লোচন যার = আয়তলোচনা (স্ত্রী),
- মহান আত্মা যার = মহাত্মা,
- স্বচ্ছ সলিল যার = স্বচ্ছসলিলা,
- ধীর বুদ্ধি যার = ধীরবুদ্ধি।
‘সহ’ কিংবা ‘সহিত’ শব্দের সঙ্গে অন্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে ‘সহ’ ও ‘সহিত’ এর স্থলে ‘স’ হয়।
যেমন : বান্ধবসহ বর্তমান = সবান্ধব, সহ উদর যার = সহোদর > সোদর। এরূপ – সজল, সফল, সদৰ্প, সলজ্জ, সকল্যাণ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল।
বিবিধপ্রকার - বিবিধ।
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন।
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র।
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র।
----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার:
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।
লক্ষণীয়, মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বর্ণের নাম:
• কণ্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• তালব্য বর্ণ- চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য়, য।
• মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দত্তমূলীয় বৰ্ণ- ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়।
• দন্ত্য বৰ্ণ- ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
• ওষ্ঠ্য বর্ণ- প, ফ, ব, ভ, ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• বাংলা 'আ' উপসর্গে 'অভাব' অর্থে গঠিত শব্দ- আকাড়া, আধোয়া, আলুনি।
অন্যদিকে,
• বাংলা 'কদ্' উপসর্গ যোগে নিন্দিত অর্থে গঠিত শব্দ- কদবেল, কদর্য, কদাকার।
• বাংলা 'নি' উপসর্গ যোগে নাই/নেতি অর্থে গঠিত শব্দ- নিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিভাঁজ, নিরেট।
• বাংলা 'কু' উপসর্গ যোগে কুৎসিত/অপকর্ষ অর্থে গঠিত শব্দ- কুঅভ্যাস, কুকথা, কুনজর, কুসঙ্গ।
------------------
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• বিশেষণজাত (গুণবাচক) বিশেষ্য:
বিশেষণের সঙ্গে বিশেষ্যকারী অন্ত্যপ্রত্যয় যোগ করে এ ধরনের বিশেষ্য গঠিত হয়।
যেমন: ধীর+তা = ধীরতা; এরকম- দ্রুততা, চালাকি, পটুত্ব, শৌখিনতা, নষ্টামি ইত্যাদি।
অন্যদিকে,
• গুণবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন: চৌকশ লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক বিশেষণ: বিশেষিত পদের অবস্থা প্রকাশ করে। যেমন: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• উপাদানবাচক বিশেষণ: বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• যোজক শব্দের কাজ একাধিক পদ, খণ্ডবাক্য কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। অর্থ ও সংযোজনের ধরন অনুযায়ী যোজক বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে।
যেমন:
• সাধারণ যোজক: এ ধরনের শব্দশ্রেণি দুটি শব্দ কিংবা বাক্যকল্পকে জুড়ে দেয়। সাধারণ যোজক শব্দ হলো- এবং, ও, আর। যেমন : মিমিয়া আর আলিয়া দু বোন। সুখ ও দুঃখ একসঙ্গে আসে না। স্কুলে যাও এবং পঠ মন দাও।
• বৈকল্পিক যোজক: এ ধরনের যোজক একাধিক পদ, বা বাক্যকল্প বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। বৈকল্পিক যোজক হলো- বা, না-হয়, অথচ। যেমন- সাদা বা কালো। তিনি হয় রিকশায় না হয় হেঁটে যাবেন। সারাদিন খুঁজলাম, অথচ বইটা পেলাম না।
• বিরোধমূলক যোজক: এ ধরনের যোজক দুটি বাক্যের সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয়টির সাহায্যে প্রথম বাক্যের বিরোধ নির্দেশ করে। বিরোধমূলক যোজক হলো- কিন্তু, তবু। যেমন: তোমাকে চিঠি লিখেছি, কিন্তু উত্তর পাইনি। এই বৃষ্টি হলো, তবু গরম গেল না।
• কারণবাচক যোজক: এ ধরনের যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ। কারণবাচক যোজক হলো– কারণ, যেহেতু, তাই, অতএব। যেমন: জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ পরিবহন ধর্মঘট। যেহেতু ঠাণ্ডা লেগেছে, তাই আইসক্রিম খাচ্ছি না। তুমি অপরাধী, অতএব শাস্তি পেতে হবে।
• সাপেক্ষ যোজক: এ ধরনের সংযোজক একে অন্যের পরিপুরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সাপেক্ষ যোজক হলে যথা... তথা, যত .... তত, যখন ... তখন, যেমন তেমন, যেরূপ সেরূপ। যেমন: যত গর্জে তত বর্ষে না।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• কামরা পর্তুগিজ ভাষার শব্দ।
- শব্দটি বিশেষ্য পদ।
অর্থ: কক্ষ, কুঠুরি, ঘর।
• পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত কিছুশব্দ হলো:
আনারস, গির্জা, পেয়ারা, পেঁপে, সালোয়ার, চাবি, বালতি, গুদাম, পাউরুটি, পাদরি, কামরা, বোতল, জানালা, বোতাম, তোয়ালে।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• রোদন (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ক্রন্দন,
- কান্না।
উল্লেখ্য,
'অরণ্যে রোদন' বাগ্ধারার অর্থ- বৃথা আবেদন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতাটির রচয়িতা হলেন কাজী নজরুল ইসলাম, যা তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত হয়ে লিখেছিলেন।
- এটি রবীন্দ্রনাথের মহাপ্রয়াণের (১৯৪১) পরপরই "মোহাম্মদী" পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং এর পাশাপাশি তিনি "রবিহারা" নামে আরেকটি কবিতা এবং "ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে" গানটি রচনা করেন।
- ‘রবিহারা’ কবিতাটি নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন রেকর্ডে। ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন।
কবিতাটির অংশবিশেষ-
সালাম অস্তরবি
- কাজী নজরুল ইসলাম
কাব্য-গীতির শ্রেষ্ঠ স্রষ্ঠা, দ্রষ্ঠা, ঋষি ও ধ্যানী
মহাকবি রবি অস্ত গিয়াছে! বীণা, বেণুকা ও বাণী
নীরব হইল। ধুলির ধরণী জানিনা সে কত দিন
রস- যমুনার পরশ পাবেনা। প্রকৃতি বাণীহীন
মৌন বিষাদে কাঁদিবে ভুবনে ভবনে ও বনে একা;
রেখায় রেখায় রুপ দিবে আর কাহার ছন্দ লেখা?
অপ্রাকৃত মদনে মাধবী চাঁদের জ্যোৎস্না দিয়া
রূপায়িত রসায়িত করিবে কে লেখনী, তুলিকা নিয়া?
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'সালাম অস্তরবি' কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• জয়দেব:
- কবি জয়দেব জাতিতে বাঙ্গালি হলেও, তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় প্রসিদ্ধ কবি। তাঁর সাহিত্যের ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই বলে ধারণা করা হয়। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।
অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
---------------------
• চণ্ডীদাস:
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।
• গোবিন্দদাস:
সম্ভবত ষোল শতকের তৃতীয় দশকে গোবিন্দদাসের জন্ম এবং সতের শতকের দ্বিতীয় দশকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় সাত শ পদ রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু বাংলা পদ থাকলেও অধিকাংশ পদ ব্রজবুলিতে রচিত। বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে তিনি বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন, বিদ্যাপতির অলঙ্কার ও চিত্রকল্প তাঁকে বিমুগ্ধ করেছিল।
• জ্ঞানদাস:
সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্য। তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেম বেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন। ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য। তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন। সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- আমরাও সৈনিক হবো,
- প্রতিশ্রুতি,
- গেরিলা,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।
----------------------
• শামসুর রহমান রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে সমালোচনার মাধ্যমে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চব্বিশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।
- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।
- সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘জুবিলী সংখ্যা’, আষাঢ় মাসে ‘বিরহ সংখ্যা’ ও কার্তিক মাসে ‘ভোট সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।
- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।
- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।
অন্যান্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
• দিগদর্শন:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানত শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক পত্রিকা। ভাষা শিক্ষা, নীতিকথা ও সাধারণ জ্ঞান উপস্থাপনই পত্রিকার উদ্দেশ্য। সমালোচনামূলক পত্রিকা নয় এটি।
• কল্লোল:
আধুনিকতাবাদী সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। নতুন কবিতা, গল্প ও সাহিত্য আন্দোলনের সূতিকাগার। যদিও সাহিত্যিক বিতর্ক ও মতাদর্শ ছিল, তবে এটি মূলত সৃজনশীল সাহিত্যপত্র।
• তত্ত্বোবধিনী:
ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত। ধর্ম, সমাজ সংস্কার ও দার্শনিক আলোচনাভিত্তিক পত্রিকা। সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তাচর্চা থাকলেও সাহিত্যিক ব্যঙ্গ বা আক্রমণমূলক সমালোচনা ছিল না। সমালোচনামূলক সাময়িকী নয় এটি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
"খোয়াবনামা" উপন্যাস:
- "খোয়াবনামা" কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ উপন্যাস। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি সর্বপ্রথম মাওলা ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়।
- একই বছরের এপ্রিলে বইটি পশ্চিমবঙ্গের নয়া উদ্যোগ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়। সে বছরই উপন্যাসটি সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার এবং আনন্দ পুরস্কার লাভ করে।
- উপন্যাসটি গন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৯৪ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার সাহিত্য পাতায় ধারাবাহিকভাবে কিছুকাল প্রকাশিত হয়। তবে সম্পূর্ণ উপন্যাসটি প্রকাশ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এর ছাপা বন্ধ করে দেয়।
- এই উপন্যাসটি মূলত বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭)-এর কিয়ৎকাল পূর্ব এবং পরবর্তী সময়কাল নিয়ে রচিত। এর কাহিনি বিস্তৃতিলাভ করেছে বগুড়া জেলার একটি ক্ষুদ্রাকার ও প্রত্যন্ত জনপদে। অঞ্চলটির কেন্দ্রে রয়েছে একটি বিল, যার নাম কাৎলাহার; এবং কাৎলাহার ঘিরে গড়ে উঠেছে গিরিরডাঙা, নিজগিরির ডাঙা, গোলাবাড়ি হাট ইত্যাদি পল্লীসমূহ।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ সালের মন্বস্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাপ্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে,
-------------------
• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রস্থটে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।
• 'খোঁয়ারি' গল্পগ্রন্থ:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ 'খোঁয়ারি'। এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থভুক্ত চারটি গল্পে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস সময়ের ভেতরে থেকেও সময়কে অতিক্রম করা চিরকালের কিছু প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন - নৈঃসঙ্গ, যৌনতা, বার্ধক্য, মৃত্যু।
- তাঁর নিজস্ব সময় এই গল্পগুলোতে যথার্থ রুক্ষ শুকনো ভাষায় জীবন্ত-স্থির হয়ে পরিণত হয়েছে বাংলা ভাষার চিরায়ত সম্পদে।
• 'দোজখের ওম' গল্পগ্রন্থ:
- দোজখের ওম' আখতারুজ্জমান ইলিয়াস রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গল্পগ্রন্থের নামগল্প 'দোজখের ওম'।
- ছোট্ট এই সংকলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট চারটি ছোটগল্প। এগুলো হচ্ছে- কীটনাশকের কীর্তি, যুগলবন্দি, অপঘাত ও দোজখের ওম নামক গল্প।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• ‘এর উপায় কি’ প্রহসন:
- ‘এর উপায় কি’ মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম প্রহসন। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।
- অনেক সমালোচক মনে করেন মধুসূদনের অনুকরণেই মশাররফ হোসেন আলোচ্য প্রহসন রচনা করেছেন। তবে অনুকরণ করলেও আলোচ্য প্রহসনে মশাররফের স্বাতন্ত্র্য সহজেই পরিলক্ষিত হয়।
- লেখক সামাজিক অনিয়ম, অনাচার আর উচ্ছৃঙখলা সমর্থন করতে পারেন নি। তাঁর প্রহসনে যে মনোভাবরে পরিচয় মিলে। তিনি নিজের জীবনে সহজ বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে তাঁর নাটক প্রহসনে তা প্রতিফলিত করে ছিলেন। অন্যায়-অনাচার রূপায়ণে তাঁর সাহসিকতাও নাটকে প্রকাশমান এবং তা যে কোনো বিচারে প্রশংসার্হ।
- চরিত্র সৃষ্টিতে তিনি পূর্বসূরীদের অনুসারী হলেও এ ক্ষেত্রে তিনি কৃতিত্ব দাবী করতে পারেন। নাটকে ভাষার লালিত্য বৃদ্ধি এবং সঙ্গীত সংযোজনা তাঁর নিজস্ব শিল্পকুশলী মনের পরিচায়ক। তবে অন্য প্রহসনগুলোতে মীর মশাররফ হোসেন ততটা সাফল্য লাভ করতে পারেন নি।
মীর মশাররফ হোসেন রচিত অন্যান্য প্রহসনগুলো হলো-
- এর উপায় কি,
- ভাই ভাই এইতো চাই,
- ফাঁস কাগজ ও
- একি? প্রহসন।
অন্যদিকে,
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
উৎস: ‘এর উপায় কি’ প্রহসন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প:
- কাবুলিওয়ালা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- গল্পটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গল্পের প্রধান চরিত্র- রহমত শেখ।
কাবুলিওয়ালা গল্পের সংক্ষিপ্ত সারাংশ:
রহমত শেখ একজন আফগানের কাবুল থেকে বাংলায় আগত ফল বিক্রেতা। ফল বিক্রি করতে সে কলকাতায় আসে। লেখকের পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়ে মিনির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মিনির সঙ্গে কথা বলতে বলতে রহমতের মনে পড়ে তার কাবুলে থাকা নিজের ছোট মেয়ের কথা। মিনিকে সে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করে, ফল-বাদাম দেয়, আর দুজনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক তৈরি হয়।
কিন্তু একদিন ঝগড়ার জেরে রহমত একজনকে ছুরি মেরে ফেলে। আদালতে সে অপরাধ স্বীকার করে, ফলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়।কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রহমত মিনির বাড়িতে যায়। ততদিনে মিনি বড় হয়ে গেছে- চৌদ্দ বছরের যুবতী, তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। মিনি তাকে আর চিনতে পারে না। রহমত বুঝতে পারে, তার নিজের মেয়েও নিশ্চয়ই তাকে ভুলে গেছে। শেষে মিনির বাবা (লেখক) রহমতকে তার দেশে ফেরার টাকা দেন এবং তার মেয়ের জন্য একটা উপহার (মিনির হাতের ছাপসহ) পাঠান।
অন্যদিকে,
• 'মেহের আলি' হচ্ছে 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র।
• 'মুসলমানীর গল্প'র প্রধান চরিত্র হলো হবির খাঁ, যিনি একজন উদার, ধর্মপ্রাণ ও শ্রদ্ধেয় মুসলমান, যিনি জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে বিপন্ন হিন্দু কন্যা কমলা-কে রক্ষা করেন, যা তৎকালীন ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের একটি শক্তিশালী বার্তা ছিল।
• ইশা খাঁ 'মুকুট' ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।
উৎস: 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্প; বাংলাপিডিয়া এবং 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প।
• ‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সীর ‘পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।
- অযোধ্যার কবি জায়সী ১৫৪০ সালে 'পদুমাবত' কাব্য রচনা করেছিলেন। আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকানরাজ সাদ উমাদার বা থদোমিন্তারের আমলে (১৬৪৫-৫২) মাগন ঠাকুরের আদেশে পদ্মাবতী কাব্য রচনা করেন। পদ্মাবতী হিন্দি পদুমাবতের স্বাধীন অনুবাদ।
- কাহিনি রূপায়ণ, চরিত্রচিত্রণ, প্রকাশভঙ্গি প্রয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে মধ্যযুগের প্রতিভাশালী কবিগণ যে কৃতিত্ব দেখিয়ে মৌলিকতার মত মর্যাদা লাভ করেছেন সেদিক থেকে আলাওলের স্থান সর্বোচ্চে। এ প্রসঙ্গে কবি বলেছেন, 'স্থানে স্থানে প্রকাশিলঁ নিজ মন উক্তি।' একটি অধ্যাত্মরসের কাব্যকে মানবরসের কাব্যে রূপান্তরিত করতে গিয়ে কবি আলাওল আনন্দ ও সৌন্দর্য উপভোগের দিকে বেশি দৃষ্টি দিয়েছিলেন।
- পদ্মাবতী প্রেমমূলক ঐতিহাসিক কাব্য। তবে প্রেমের স্বরূপই এখানে বেশি, ইতিহাস এখানে গৌণ।
কাহিনি সংক্ষেপ-
পদ্মাবতী চিতোরের রানী পদ্মিনীর কাহিনি নিয়ে রচিত। পদ্মাবতীর স্বামীর নাম রত্নসেন। পদ্মাবতী অপূর্ব সুন্দরী। চিতোরের রাজসভায় রাঘবচেতন নামে এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত লাঞ্ছনার প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দীনের নিকট পদ্মাবতীর অনুপম রূপের প্রশংসা করে তাঁকে হরণ করতে প্ররোচিত করেন। আলাউদ্দীন রত্নসেনের নিকট পদ্মাবতী সম্বন্ধে অনুরূপ প্রস্তাব করে প্রত্যাখ্যাত হন এবং প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে চিতোর আক্রমণ করেন। যুদ্ধে রত্নসেন বন্দী হলেও বিশ্বস্ত অনুচরদের সহায়তায় মুক্তি পেতে সক্ষম হন। পরে রাজা দেওপালের সঙ্গে রত্নসেনের যুদ্ধ বাঁধে। সে যুদ্ধে দেওপাল নিহত এবং রত্নসেন আহত হন। এ সুযোগে আলাউদ্দীন পুনরায় চিতোর আক্রমণ করেন। ইতোমধ্যে রত্নসেনের মৃত্যু ঘটলে পদ্মাবতী সহমৃতা হন। আলাউদ্দীন বিজয়ীবেশে চিতোর পৌঁছে তাঁদের জ্বলন্ত চিতা দেখতে পেলেন । তখন চিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুলতান দিল্লি ফিরে এলেন।
অন্যদিকে,
-------------------
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্য:
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কেরেশী মাগন ঠাকুর ৷ এর একটি খণ্ডিত পুথি পাওয়া গেছে।
- কাব্যের রচনাকাল নিয়ে সংশয় আছে। তবে মাগন আরাকান রাজ্যের মন্ত্রী ও আলাওলের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন৷ তাই কাব্যটি সতের শতকের
- 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের প্রাচীন উৎস জানা যায় না। মনে হয় এটা কবির স্বাধীন কল্পনা।
• 'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।
- হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের কাব্যের অনুসরণে তাঁর 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলুভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মধুমালতী কাব্যের কাহিনি উৎস 'ভারতীয় উপাখ্যান।
• 'মৃগাবতী' কাব্য:
মধ্যযুগের অন্যান্য অনেক কাব্যের মত 'মৃগাবতী' অন্য ভাষা থেকে অনুবাদ বা রূপান্তর। হিন্দীতে কুতবন ‘মৃগাবতী' করেছিলেন। ১৪৯৪ খ্রীষ্টাব্দে হোসেন শাহ শৰ্কী জৌনপুর থেকে পালিয়ে গৌড়ে আশ্রয় নেন। তখন আলাউদ্দিন হোসেন শাহ গৌড়েশ্বর, কুতবন হোসেন শাহ শর্কীর সভাকবি ছিলেন। তিনিও হোসেন শাহ শকীর সঙ্গে পালিয়ে আসেন। হোসেন শাহ শৰ্কীকে ভাগলপুরের কাছে 'কোলভ' এ থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
সম্ভবতঃ এখানে বসেই কুতবন হিন্দীতে 'মৃগাবতী' কাব্যখানি রচনা করেন। ধারণা করা হয় কুতবনের হিন্দি ‘মৃগাবতী'র বঙ্গানুবান করেন মুহম্মদ মুকীম।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং 'মৃগাবতী' কাব্য।
• 'একাত্তরের বর্ণমালা':
- 'একাত্তরের বর্ণমালা' মূলত এম. আর. আখতার মুকুল রচিত ও মাহমুদা খানম রেবা সহযোগিতায় প্রকাশিত একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি গ্রন্থ ।
- গ্রন্থটি 'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের চরমপত্র'-এর অংশবিশেষ নিয়ে লেখা, যেখানে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের নানা ঘটনা, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা বর্ণমালার অক্ষরের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। যা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের দলিল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
----------------------
• এম আর আখতার মুকুল:
- এম আর আখতার মুকুল ছিলেন একজন সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে। পুরো নাম মুস্তাফা রওশন আখতার মুকুল। পিতা বিশিষ্ট সাহিত্যিক সা’দত আলি আখন্দ, মাতা রাবেয়া খাতুন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় রণাঙ্গন পরিদর্শন শেষে তাঁর রচিত এবং স্বকণ্ঠে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটি ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নিয়োগ করা হয়।
- ১৯৭২ সালে তিনি লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রেস মিনিস্টার নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ চাকরি হারিয়ে অনেক বছর তিনি লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন। ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- একাত্তরের বর্ণমালা,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি,
- পঞ্চাশ দশকে আমরা ও ভাষা আন্দোলন ইত্যাদি।
অন্যান্য অনশনগুলোর বিশ্লেষণ,
• 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের লেখন- রাবেয়া খাতুন।
• 'একাত্তরের কথামালা' গ্রন্থের লেখন- বেগম নূরজাহান।
• 'একাত্তরের রণাঙ্গন' গ্রন্থের লেখন- শামসুল হুদা চৌধুরী।
উৎস: একাত্তরের বর্ণমালা' গ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে মৌলিক রচনা হিসেবে ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ' ক্ষুদ্র নিবন্ধ এবং স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।
• প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রভাবতী সম্ভাষণ একটি শোকগাঁথা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।
অন্যদিকে,
-------------------
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি প্ৰকাশক গ্রন্থগুলো হল তাঁর অনুবাদমূলক রচনা। তিনি অন্য ভাষার সাহিত্য থেকে কয়েকটি গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন। এগুলো হলো-
• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
• কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা'।
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ), ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ।
• বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত ‘সীতার বনবাস'।
• সেক্সপীয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবিউল আলম।
চর্যাগীতির রচয়িতা:
চর্যাগানের রচয়িতারা ছিলেন যোগপন্থার সাধক তথা সিদ্ধাচার্য। চর্যাগীতির ভণিতা থেকে চর্যাগীতি-রচয়িতা বিভিন্ন বৌদ্ধ আচার্য ও কবির নাম পাওয়া যায়। চর্যাগীতিতে মোট ২৩ জন সিদ্ধাচার্যের রচনা সন্নিবেশিত হয়েছে। তবে পুথিতে ২৪ জন কবির নাম ছিল অনুমান করা হয়। লাড়ী ডোম্বীপা নামে একজন কবির কথা মুনি দত্তের টীকায় উল্লেখিত হলেও তাঁর গান পাওয়া যায় নি। তিব্বতি অনুবাদে তন্ত্রীপাদের নাম আছে। কিন্তু গান নেই।
প্রধান কয়েকজন চর্যা রচয়িতা হলেন : লুইপা, কাহ্নপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শান্তিপা, শবরপা । এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পদের রচয়িতা কাহ্নপা। তাঁর রচিত গীতির সংখ্যা ১৩টি। চর্যাগীতিকারদের মধ্যে লুইপা হলেন সবচেয়ে প্রাচীন।
বৌদ্ধ ধর্মে স্বীকৃত ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের মধ্যে তিনিই আদিসিদ্ধা। জন্মস্থান বিচারে চর্যাগীতিকারদের অনেকে ছিলেন বাংলা, মিথিলা, উড়িষ্যা ও কামরূপের অধিবাসী। সেকালে এসব জায়গা একই ভৌগোলিক সীমানার তথা বৃহৎ বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল। চর্যাগানের রচয়িতাদের অনেকেই প্রকৃত নাম পরিহার করে ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। বিরুআ পা, কুক্কুরীপা, সবরপা, তাড়ক পা ইত্যাদি ছদ্মনাম হতে পারে।
উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহাবুবুল হক।
• 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা:
- কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়।
- কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঝের মায়া'র অন্তর্গত। কবিতার মূল বক্তব্য- কবিজীবনের খ্যাতির অন্তরালে বেদনাকে স্মরণ।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার স্তবক সংখ্যা ৫টি এবং পতি সংখ্যা ৩০টি।
- 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা।
- কবিতায় মাঘ ও ফাল্গুন দুটি বাংলা মাসের নামের উল্লেখ রয়েছে।
তাহারেই পড়ে মনে
- সুফিয়া কামাল
“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
----------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।
• গল্পগ্রন্থ: কেয়ার কাঁটা।
• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।
• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া, 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতা এবং 'সাঁঝের মায়া' কাব্যগ্রন্থ।
• 'সঞ্চয়ন' প্রবন্ধটির রচয়িতা - 'কাজী মোতাহার হোসেন'।
উল্লেখ্য,
- সঞ্চয়িতা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্য সংকলন এবং
- সঞ্চিতা - কাজী নজরুল ইসলামের কাব্য সংকলনের নাম।
কাজী মোতাহের হোসেন:
- 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য- সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৮৫ সালে।
'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
• 'আরণ্যক' উপন্যাস:
- 'আরণ্যক' কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চতুর্থ উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপন্যাসটি রচনা করেন।
- আরণ্যক উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৩৭-৩৯ খ্রিষ্টাব্দ। "কাত্যায়ণী বুক স্টল" থেকে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- বই হিসাবে প্রকাশের আগে 'প্রবাসী' মাসিক পত্রিকায় কার্তিক ১৯৩৮ থেকে ফাল্গুন ১৯৩৯ পর্যন্ত উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- বিভূতিভূষণ এই উপন্যাসটি অকালে-লোকান্তরিতা তার প্রথমা স্ত্রী গৌরী দেবীকে উৎসর্গ করেন।
- মূল বাংলা ছাড়াও 'আরণ্যক' সাহিত্য একাডেমির প্রচেষ্টায় ভারতের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত করা হয়েছে। যেমন- ওড়িয়া, তেলুগু, গুজরাটি, মারাঠী, মালয়ালম, পাঞ্জাবী এবং হিন্দি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
চর্যাপদ ও তিব্বতি অনুবাদ সম্পর্কে আলোচনা:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মহাশয় এশিয়াটিক সোসাইটির পুথিসংগ্রহ কার্যে নিযুক্ত হয়ে তিনবার নেপালে গিয়েছিলেন। ১৮৯৭-৯৮ খ্রিস্টাব্দে দুবার ও ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে আরেকবার নেপাল যান। শাস্ত্রীর প্রথমবার নেপাল যাওয়ার আগেই তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধিৎসা দেখা দিয়েছিল। বেন্ডাল, কাওয়েল ও রাজেন্দ্রলাল মিত্রের তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্মের পুথির বিবরণ এবং তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। তাঁর দ্বিতীয়বার নেপার যাওয়ার আগে বেন্ডাল-এর সুভাষিত সংগ্রহও হাতে এসেছিল।
- শাস্ত্রীমশাইয়ের তৃতীয়বার (১৯০৭) নেপালযাত্রা অবশ্য বিশেষ ফলপ্রসূ হয়। এইবারে তিনি ‘চর্যাচর্য্যবিনিশ্চয়'-এর সন্ধান পান ও নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে তিনি প্রাপ্ত পুথির নকল তৈরি করে আনেন। শাস্ত্রীমশাই অন্যান্য সংগ্রহগ্রন্থও পেয়েছিলেন। এগুলি হল যথাক্রমে- ১. সরোজব্রজের সটীক ‘দোহাকোষ’, ২. মেখলা টীকাসহ কাহ্নপাদের ‘দোহাকোষ’, ৩. বৌদ্ধতন্ত্রের পুথি ‘ডাকার্ণব’।
- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে ‘হাজার পুরাণ বছরের বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে সংগৃহীত পুঁথিগুলি প্রকাশ লাভ করে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ার পরেও চর্যা সংক্রান্ত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বহু তথ্য আবিষ্কৃত হয়। শাস্ত্রীমশাই এই গানগুলির তিব্বতি অনুবাদের কথা জানতেন কিন্তু সেই অনুবাদ তিনি ব্যবহার করতে পারেননি।
- তিব্বতি অনুবাদটির প্রথম সন্ধান করেন সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। ‘Indian Historical Quarterly' (Vol. III, 1972 ) পত্রিকায় এই তিব্বতি অনুবাদ সম্বন্ধে আলোচনা প্রকাশিত হয়। পুথিখানির তিব্বতি অনুবাদ প্রথম প্রকাশ করেন প্রবোধচন্দ্র বাগচী।
- পরে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তি ভিক্ষুর যুগ্ম সম্পাদনায় ‘চর্যাগীতিকোষ' নামে প্রকাশিত হয়। তিব্বতি অনুবাদ থেকে জানা গেল মূলে একশোটি চর্যার একটি সংকলন ছিল। শাস্ত্রীমশাই এর প্রাপ্ত পুথিটে ৫০টি পদ সংকলিত হয়েছে। পরবর্তী এই আবিষ্কারগুলি চর্যাসম্বন্ধীয় জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিলেও হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কার বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন প্রাপ্তি সংবাদ হিসেবে সাধারণ জনমানসে যে আন্দালন সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছিল সেরকম কোনো আন্দোলন এই পরবর্তী আবিষ্কারগুলি সৃষ্টি করতে পারেনি।
উৎস: নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক।
সঠিক উত্তর হলো খ) Last complete play.
উইলিয়াম শেকসপিয়ারের “The Tempest”, শেষ সম্পূর্ণ নাটক, যা জীবন, ক্ষমতা, ক্ষমা ও জাদু–কে কেন্দ্র করে রচিত।
• The Tempest:
- William Shakespeare এর last work বা Swan Song, "The Tempest".
- এর কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম হচ্ছে Prospero, who is a magician.
- এটি 5 act এ বিভক্ত একটি Romantic comedy, যা ১৬২৩ সালে First Foilo এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়।
- Tempest শব্দটির অর্থ হচ্ছে Violent Storm.
• Main Characters:
- Prospero (Duke),
- Miranda(Heroine),
- Ariel (Supernatural creature - good character),
- Caliban (Supernatural creature - bad in character),
- Antony (Villain/ brother of Duke),
- Ferdinand (Hero),
- Gonzalo ইত্যাদি।
• Some quotations from The Tempest:
- “Hell is empty and all the devils are here.”
- “We are such stuff as dreams are made on, and our little life is rounded with a sleep.”
- “This thing of darkness, I Acknowledge mine.”
- “Thought is free.”
- “O, brave new world, that has such people in't!”
- “Awake, dear heart, awake. Thou hast slept well. Awake.”
- “Misery acquaints a man with strange bedfellows.”
Source:
- Britannica.com
- Live MCQ English Essence.
"Sweet Helen, make me immortal with a kiss”
- এই বিখ্যাত লাইনটি Christopher Marlowe-এর নাটক Doctor Faustus (প্রকাশিত হয়েছে ১৬০৪ সালে) থেকে নেওয়া।
• Doctor Faustus:
- নাটকটির পুরো নাম The Tragicall History of D. Faustus.
- ১৬০৪ সালে প্রকাশিত হওয়া এটি একটি 5 acts বিশিষ্ট একটি নাটক।
- ডক্টর ফস্টাস- এ মার্লো Faustus এর গল্প বলেছেন, যিনি ডাক্তার থেকে জাদুবিদ্যায় আগ্রহী হয়ে জ্ঞান ও ক্ষমতা অর্জনের জন্য শয়তানের সাথে চুক্তি করেন।
- In this play, Doctor Faustus and Mephistopheles, who is the devil’s intermediary in the play, are subtly and powerfully portrayed.
- এই নাটকে Mephistopheles হচ্ছে The embodiment of evil.
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে Doctor Faustus যে অপরিসীম ক্ষমতা লাভের আশায় শয়তান অর্থাৎ Mephistopheles এর কাছের নিজের আত্না বিক্রি করে দিয়েছিল। তিনি শয়তানের সাথে এমন একটি চুক্তি করেন যাতে করে তিনি জ্ঞান ও শক্তি প্রাপ্ত হতে পারেন। পরবর্তীতে ভালো এবং খারাপ দুইজন ফেরেশতা Doctor Faustus কে প্রভাবিত করতে চায়। একপর্যায়ে ফিরে আসতে চাইলেও শেষ অবধি Doctor Faustus বুঝতে পারেন আর ফেরার সুযোগ নেই।
• Some other quotes of Doctor Faustus:
- Pluck up your hearts, since fate still rests our friend.
- Hell is just a frame of mind.
- Fools that will laugh on earth, most weep in hell.
- Money can't buy love, but it improves your bargaining position.
- He that loves pleasure must for pleasure fall.
- The stars move still, time runs, the clock will strike.
- It is a comfort to the wretched to have companions in misery.
- Sweet Helen, make me immortal with a kiss.
• Christopher Marlowe:
- তিনি একজন Elizabethan poet এবং একজন University Wit ছিলেন।
- Shakespeare এর আগে তিনিই ছিলেন English drama এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- He is noted especially for his establishment of dramatic blank verse.
• Notable work:
- Doctor Faustus,
- Edward II,
- Hero and Leander,
- Tamburlaine the Great,
- The Jew of Malta, etc.
Source: Britannica and Live MCQ Lecture.
The famous character Ebenezer Scrooge appears in: A Christmas Carol.
• A Christmas Carol:
- A Christmas Carol, Charles Dickens এর লেখা একটি Novella/Short Novel.
- It was published in 1843.
- Novella হচ্ছে Short Novel যা ছোট গল্প থেকে বড় কিন্তু Novel থেকে ছোট।
- Ebenezer Scrooge হচ্ছে স্বভাবের ক্ষেত্রে কৃপণ যাকে A Ghost of Christmas নানান ধরণের অদ্ভুত স্বপ্ন দেখায়।
- স্বপ্নে তাঁকে এমন একটি বার্তা দেয়া হয় যে, জীবনে সুখের চাবিকাঠি কেবল অর্থ সম্পদ নয়, সুখের জন্য মানুষকে উদার মানসিকতার এবং মানবিক হতে হয়।
- ক্রিসমাস ইভের রাতে তিনটি আত্মা—পাস্ট, প্রেজেন্ট, এবং ফিউচারের আত্মা—তাকে তার জীবনের বিভিন্ন মুহূর্ত দেখায়, যা তাকে উপলব্ধি করায় তার কৃপণতা এবং স্বার্থপরতার জন্য সে কতটা একাকী এবং দুঃখী। এই অভিজ্ঞতা Ebenezer Scrooge কে একটি সদয়, উদার মানুষে পরিণত করে, এবং সে তার জীবনকে অন্যদের কল্যাণে উৎসর্গ করতে শিখে।
• এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ হচ্ছে:
- Ebenezer Scrooge,
- Jacob Marley,
- Bob Cratchit,
- Ghost of Christmas Present,
- Tiny Tim,
- Ghost of Christmas Past,
- Fezziwig,
- Ghost of Christmas Yet to Come,
- Fred,
- Mrs. Emily Cratchit,
- Martha Cratchit, etc.
• Charles Dickens is considered the greatest novelist of the Victorian era.
- Boz' was the pseudonym of Charles Dickens.
• Best Works: (Novels)
- A Christmas Carol,
- David Copperfield,
- Bleak House,
- A Tale of Two Cities,
- Great Expectations,
- Our Mutual Friend,
- Hard Times,
- The Pickwick Papers.
Source: Britannica and Live MCQ Lecture.
"The old order changeth, yielding place to new."
- এই বিখ্যাত উক্তিটি Alfred, Lord Tennyson-এর কবিতা Morte d'Arthur থেকে নেওয়া।
• Morte d'Arthur:
- It is the poetic creation of - Alfred Tennyson.
- The central theme of Le Morte d'Arthur is loyalty and its expression in chivalry.
- অর্থাৎ, কবিতার মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে - আনুগত্য এবং বীরত্ব এর অভিব্যক্তি।
- কবিতাটিতে বলা হয়েছে রাজার প্রতি আনুগত্যই হচ্ছে একজন নাইট (Knight) এর জীবনের মূল উপাদান এবং উদ্দেশ্য।
- It opens in the wake of Arthur's final battle, where Arthur lies mortally wounded, and is accompanied by Sir Bedivere.
• Famous quotation from the poem -
- 'The old order changeth, yielding place to new'
• Alfred Tennyson:
- Alfred, Lord Tennyson একজন English poet
- He is often regarded as the chief representative of the Victorian age in poetry.
• Some poems of Tennyson:
- The Lotos Eaters,
- Morte D' Arthur,
- Tithonus,
- Ulysses,
- In Memoriam,
- The Charge of the Light Brigade.
• অন্যদিকে,
• ‘Morte d' Arthur’ is the first romance in prose written by - Sir Thomas Malory.
- এটি হচ্ছে ইংরেজি সাহিত্যের প্রথম English prose version of the Arthurian legend.
Source: Britannica.com
সঠিক উত্তর: ঘ) The Sun Rising.
• The Sun Rising is a poem by John Donne.
- এই কবিতাটি Songs and Sonnets এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে ১৬৩৩ সালে কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিল।
- তাঁর অধিকাংশ কবিতাগুলোর মত এই কবিতাটিরও মূল উপজীব্য বিষয় হচ্ছে কবির প্রেমিকাকে ঘিরে তাঁর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।
- কবিতায় কবি সূর্যকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, সূর্য যেনো তার রশ্মি দিয়ে তাদের ঘরকে আলোকিত এবং বিছানাকে উষ্ণ রাখেন।
- কারণ এতে করে তিনি এবং তার প্রেমিকা একে অপরের সাথে সারাদিন সেখানে থাকতে পারবেন এবং তাদের কাজে যেতে হবে না।
• John Donne:
- তিনি একজন Metaphysical Poet.
- He is called Poet of Love and Religious.
• Notable works (Poems)
- The Good-Morrow,
- The Flea,
- The Ecstasy,
- The Sun Rising,
- The Canonization,
- Twicknam Garden,
- For Whom The Bell Tolls, etc.
• উল্লেখ্য যে, The Sun also Rises ও For Whom The Bell Tolls শিরোনামে Ernest Hemingway এর একটি উপন্যাস রয়েছে।
অন্য অপশনগুলো:
ক) She Walks in Beauty → Lord Byron.
খ) Hyperion → John Keats.
গ) Elegy Written in a Country Churchyard → Thomas Gray.
Source: Britannica
Fanny Price is the protagonist of Jane Austen’s novel Mansfield Park.
• Mansfield Park:
- এটি Jane Austen রচিত।
- প্রকাশিত হয় 1814 সালে।
- এই উপন্যাসটিকে ধরা হয় Jane Austen এর সবচেয়ে সিরিয়াস গুরুগম্ভীর উপন্যাস হিসেবে।
• সার-সংক্ষেপ:
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে ধরা যায়, Fanny Price নামের এক তরুনীকে।
- কিছুটা অন্তর্মুখী স্বভাবের Fanny Price কে তার পরিবার ধনী আত্মীয় Bertram family এর কাছে পাঠায়।
- কিশোরী Fanny Price এর সাথে সেই পরিবারের অনেকেই রুঢ় আচরণ করে ।
- কিন্তু শেষপর্যন্ত তার অবিচল ব্যক্তিত্ব এবং নৈতিকতায় মুগ্ধ হয়ে পরিবারের সবাই তাকে সমাদরে গ্রহন করে।
- Edmund Bertram এর সাথে বিয়ে হয় Fanny Price এর।
• Jane Austen (1775-1817):
- তিনি একজন English novelist.
- She first gave the novel its distinctly modern character through her treatment of ordinary people in everyday life.
• Some notable work:
- Sense and Sensibility,
- Pride and Prejudice,
- Mansfield Park,
- Emma,
- Persuasion,
- Northanger Abbey, etc.
Other options,
ক) Elizabeth Bennet → protagonist of Pride and Prejudice.
খ) Emma Woodhouse → Emma (Jane Austen).
ঘ) Helen Burns → character in Charlotte Bronte’s Jane Eyre.
Source: An ABC of English Literature by M Mofizar Rahman. Britannica.
The correct answer is: গ) Elegy.
“Adonais” হলো Percy Bysshe Shelley–এর লেখা একটি elegy।
এটি লেখা হয়েছে John Keats-এর মৃত্যুতে।
Elegy হলো এমন একটি কবিতা যা দুঃখ, শোক বা মৃত ব্যক্তির স্মৃতিতে লেখা হয়।
• Adonais:
- এটি Shelley রচিত একটি কবিতা।
- এই কবিতাটি হলো একটি pastoral elegy.
- এই ধরনের কবিতাগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো মৃত্যু এবং গ্রামীণ পরিবেশের বর্ণনা।
- Shelley তার বন্ধু John Keats এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এই কবিতাটি লিখেছিলেন।
- গ্রীক পূরাণ কাহিনী অনুযায়ী Adonais একজন তরুণ বীরের নাম।
- এই কবিতাকে John Milton এর Lycidas কবিতার সাথে তুলনা দেয়া হয়।
- কবিতায় দেখা যায়, John Keats এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে প্রকৃতি, দেবতাদের আহবান করা হচ্ছে যেন তারাও শোক প্রকাশ করে।
• P.B. Shelley:
- তাঁর পুরো নাম Percy Bysshe Shelley.
- তিনি রোমান্টিক যুগের অন্যতম একজন কবি।
• Some notable work:
- Adonais,
- Mont Blanc,
- Ode to the West Wind,
- Ozymandias,
- Peter Bell the Third,
- Prometheus Unbound,
- Queen Mab,
- Rosalind and Helen,
- The Cenci,
- The Cloud,
- The Masque of Anarchy.
Source: Britannica
The Pied Piper of Hamelin হলো Robert Browning-এর বিখ্যাত কবিতা।
- এটি ১৮৪২ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি একটি narrative poem.
• The Pied Piper of Hamelin:
- কবিতাটির পুরো নাম: The Pied Piper of Hamelin, a Child’s Story.
- এর author হচ্ছেন Robert Browning.
- ৩০৩ লাইনের কবিতাটি ১৮৪২সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতাটি জার্মানির হ্যামেলিন শহরের একটি পুরনো লোককথা অবলম্বনে লেখা।
- শহরে ইঁদুরের উপদ্রব হয়, একজন রঙিন পোশাকধারী বাঁশিওয়ালা (Pied Piper) আসে, বাঁশি বাজিয়ে ইঁদুরগুলোকে নদীতে ডুবিয়ে মারে, শহরবাসী টাকা না দেওয়ায় সে বাঁশি বাজিয়ে শহরের শিশুদের নিয়ে চিরতরে হারিয়ে যায়।
Robert Browning:
- তিনি Victorian যুগের একজন major English poet.
- তিনি তার dramatic monologue and psychological portraiture এর জন্যে বিখ্যাত।
- তার বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম The Ring and the Book (1868–69).
Notable Works:
Poems:
- My Last Duchess,
- The Pied Piper of Hamelin,
- Fra Lippo Lippi,
- Andrea del Sarto.
Plays:
- Browning's first play, Strafford (1837), closed after only five performances.
Source: Encyclopedia Britannica.
সঠিক উত্তর: ক) Chile.
Pablo Neruda ছিলেন চিলির একজন বিখ্যাত কবি, কূটনীতিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
• Pablo Neruda:
- Pablo Neruda ছিলেন চিলির সবচেয়ে বিখ্যাত কবি।
- তিনি Diplomat and Politician হিসেবেও খ্যাতিমান ছিলেন।
- এই বিখ্যাত কবি 1971 সালে Literature- Nobel Prize লাভ করেন।
- ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার' লাভ করেন।
- কলম্বিয়ার বিখ্যাত উপন্যাসিক Gabriel Garcia Marquez তাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
Notable works:
- Canto general (epic poem);
- Residence on Earth;
- Twenty Love Poems and a Song of Despair (poetry), etc.
Source: Encyclopedia Britannica.
সঠিক উত্তর: খ) Irish.
- Waiting for Godot বিখ্যাত Absurd নাটকটির লেখক Samuel Beckett.
- Samuel Beckett ছিলেন আইরিশ (Irish) লেখক।
• Waiting for Godot:
- এটি রচনা করেন Irish writer Samuel Beckett.
- It is an Absurd play.
- এটি একটি two-act বিশিষ্ট tragic-comedy too.
- Waiting for Godot is Beckett's translation of his own original French-language play, En attendant Godot.
- ১৯৫২ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- Waiting for Godot was a true innovation in drama and the Theatre of the Absurd’s first theatrical success.
- ১৯৬৯ সালে এই play টির জন্য Samuel Beckett সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
• নাটকের গল্প দুটি প্রধান চরিত্র, Vladimir এবং Estragon কে নিয়ে, যারা একটি গাছের নিচে বসে অপেক্ষা করে একজন ব্যক্তি "Godot"-এর জন্য। তারা বিশ্বাস করে যে Godot তাদের জীবনকে অর্থপূর্ণ করবে, কিন্তু Godot আসে না। নাটকে দেখা যায়, Vladimir ও Estragon এর জীবনের একঘেয়েমি, হতাশা, এবং সমাজের অস্থিরতা উঠে আসে। তারা অপেক্ষা করতে থাকে, কিন্তু Godot আসবে কিনা তা জানে না।
• "Waiting for Godot" মানবজীবনের অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা, এবং অস্তিত্বের মানে খোঁজার একটি প্রতীকী কাহিনী।
• Samuel Beckett:
- He is an Irish novelist, author, critic, and playwright.
- He was awarded the Nobel Prize for Literature in 1969.
• Best Works: (play)
- Waiting for Godot,
- Endgame,
- Happy Days.
Source:
1. Britannica.
2. An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman.
• The Devil’s Disciple:
- এটি রচনা করেন G. B. Shaw.
- এটি একটি play.
- যা ১৮৯৭ সালে মঞ্চস্থ হয়।
- এটি আমেরিকান বিপ্লবের সময় নিউ হ্যাম্পশায়ারে সংঘটিত একটি নাটক এবং প্রচলিত মেলোড্রামার (melodrama) রীতিকে সম্পূর্ণ উল্টে দেয়।
• G. B. Shaw (1856-1950):
- তার পুরো নাম George Bernard Shaw.
- তিনি 'Modern period' এর নাট্যকার।
- George Bernard Shaw একজন Irish নাট্যকার এবং সাহিত্য সমালোচক।
- তিনি ১৯২৫ সালে নোবেল পুরস্কার পান।
- G.B. Shaw ছিলেন Fabian Society এর একজন সদস্য।
• Famous Plays of G.B. Shaw:
- Pygmalion (Romantic play),
- Major Barbara (Social satire),
- Mrs. Warren's Profession;(play),
- Arms and the Man (Romantic comedy),
- Heartbreak House;
- Caesar and Cleopatra; (play/tragedy),
- Man and Superman; (Comedy play),
- The Doctor's Dilemma; (satire drama/play, Epilogue),
- St. Joan of Arc etc.
Source: An ABC of English Literature, Dr. M Mofizar Rahman; Encyclopedia Britannica and Live MCQ Lecture.
• "All changed, changed utterly: A terrible beauty is born." - এই বিখ্যাত লাইনটি William Butler Yeats (W. B. Yeats)-এর কবিতা Easter, 1916 থেকে নেওয়া। এই কবিতাটি ১৯১৬ সালের আইরিশ ঈস্টার বিদ্রোহ (Easter Rising) নিয়ে লেখা, যেখানে Yeats বিদ্রোহীদের আত্মত্যাগ ও আইরল্যান্ডের পরিবর্তনকে "terrible beauty" (ভয়ঙ্কর সৌন্দর্য) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
• Easter 1916:
- কবিতাটি William Butler Yeats লিখিত।
-১৯১৬ সালের এপ্রিলে British Colonialism এর বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ডে যে গণঅভ্যুত্থান হয়, তাকে কেন্দ্র করে Easter 1916 কবিতাটি লেখা হয়।
- এখানে শহীদদের আত্মত্যাগ এর কথা বর্ণিত হয়েছে।
- It commemorates the lives lost at the Easter Uprising in 1916, Dublin, and immortalizes several names of key leaders in the movement, some of whom Yeats knew personally.
- এই কবিতার একটি বিখ্যাত লাইন "All changed, changed utterly: A terrible beauty is born.”
• W. B. Yeats:
- William Butler Yeats (1865-1939) একজন আইরিশ কবি এবং নাট্যকার।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রথম আইরিশ হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
W. B. Yeats was the first Irish poet to receive the Nobel Prize.
- তাঁকে Ireland এর National poet বলা হয়ে থাকে।
- একজন কবি এবং নাট্যকার হিসাবে, তার সাহিত্যকর্ম গুলো আয়ারল্যান্ডের ঐতিহ্য এবং রাজনীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন
- নিজের জন্মভূমির প্রতি তার ভালোবাসার প্রকাশ তার বিভিন্ন কবিতায় লক্ষ্য করা যায়।
- W.B Yeats was first awarded the Nobel Prize in Literature as the first Irishman.
- Abbey Theatre হচ্ছে W. B. Yeats প্রতিষ্ঠাকৃত Irish National Theatre Society. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
• Major Poems:
- The Wild Swans at Coole,
- The Tower,
- The Second Coming,
- The Cat and the Moon,
- Sailing to Byzantium,
- The Lake Isle of Innisfree,
- Among School Children,
- A Prayer for My Daughter,
- When You Are Old,
- Easter 1916,
- September 1919,
- The Wanderings of Oisin,
- Leda and The Swan.
• W.B Yeats রচিত কিছু play হচ্ছে -
- The Resurrection,
- The Only Jealousy of Emer,
- The Dreaming of the Bones,
- Four Plays for Dancers,
- Calvary,
- Cathleen ni Houlihan,
- The Countess Cathleen.
• Prose
- A Vision,
- Celtic Twilight (essay).
Source: Britannica.
The quote "Better a witty fool, than a foolish wit." is from: Twelfth Night.
- উক্তিটি এসেছে William Shakespeare এর নাটক Twelfth Night থেকে।
- এই বিখ্যাত উক্তিটি বলেছেন নাটকের চরিত্র Feste (যিনি Olivia-র পেশাদার ফুল/জেস্টার)। এটা Act 1, Scene 5-এ আছে। Feste একটা কাল্পনিক দার্শনিক "Quinapalus"-এর নাম করে বলেন: “For what says Quinapalus? ‘Better a witty fool, than a foolish wit.’”
• Twelfth Night:
- এটি Shakespeare এর একটি বিখ্যাত comedy.
- ১৬০২-০৩ সালের দিকে লেখা এই comedy টি ১৬২৩ সালে Shakespeare এর First Folio অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়।
- Viola এ নাটকের পটভূমি Illyria নামক কাল্পনিক অঞ্চলকে ঘিরে।
- এটি এই কমেডির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র।
- নাটকের শুরুতে তাকে পুরুষের ছদ্মবেশে দেখতে পাওয়া যায়।
- শেক্সপিয়ারের অন্যসব কমেডির হিরোইনদের মত "Viola" কেও লেখক সুন্দর এবং বুদ্ধিদৃপ্ত চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
• Famous quotes from Twelfth Night:
- “Be not afraid of greatness. Some are born great, some achieve greatness, and others have greatness thrust upon them.”
- “If music be the food of love, play on,
Give me excess of it; that surfeiting,
The appetite may sicken, and so die.” - নাটকের শুরু হয় Duke Orsino উল্লেখিত এই লাইনটি দ্বারা।
- “Better a witty fool, than a foolish wit.”
• Important Characters from Twelfth Night:
- Sebastian,
- Viola,
- Olivia,
- Malvolio,
- Duke Orsino (Male protagonist),
- Maria,
- Sir Andrew Aguecheek,
- Valentine,
- Antonio,
-Sir Toby Belch, etc.
• William Shakespeare:
- জন্মস্থান Stratford-upon-Avon.
- তিনি একাধারে একজন English poet, dramatist এবং actor.
- তাকে English national poet বলা হয়।
- তাকে 'Bard of Avon' বলা হয়।
- He is considered by many to be the greatest dramatist of all time.
• Notable works:
• Tragedy:
- Hamlet,
- Othello,
- King Lear,
- Macbeth,
- Julius Caesar.
• Comedy:
- As You Like It,
- The Tempest,
- Twelfth Night,
- The Merchant of Venice,
- A Midsummer Night's Dream etc.
• Famous poem:
- Shall I Compare Thee to a Summer Day/Sonnet 18,
- The Rape of Lucrece,
- Venus and Adonis.
Source: britannica.com
ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে "Golden Age" (স্বর্ণযুগ) বলতে বোঝানো হয় Queen Elizabeth I-এর রাজত্বকালকে (১৫৫৮–১৬০৩)। এই সময়কে Elizabethan Age বলা হয় এবং এটি ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ যুগ হিসেবে বিবেচিত।
• Elizabethan Period (1558-1603) is known as the 'Golden Period of English Literature' বা ইংরেজি সাহিত্যের স্বর্ণযুগ।
উল্লেখ্য যে, ইংরেজি সাহিত্যের যুগ বিভাজন অনুযায়ী এই সময়টি The Renaissance Period (1500-1660) এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাগ।
• Elizabethan period (1558-1603)
- Elizabethan Age হচ্ছে Renaissance Period এর চার ভাগের প্রথম অংশ।
- এই যুগটির নামকরণ করা হয়েছে 'Queen Elizabeth I' এর নামে যিনি ১৫৫৮ থেকে ১৬০৩ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শাসনকর্তা ছিলেন।
- এসময় শিল্প, সাহিত্য সব ক্ষেত্রে সমৃদ্ধির পথে যাত্রা শুরু করে সেসময়ের ইংল্যান্ড।
- এই যুগেই ইংরেজী সাহিত্যের সবচেয়ে বেশী বিকাশ ঘটেছিলো।
- বিশেষ করে নাট্যজগতে এক বৈপ্লবিক সংস্কার সাধিত হয়েছিল।
- চার্চের আধিপত্য থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে সাহিত্য রচনা শুরু হয়েছিল।
- এছাড়াও এ যুগকে The Golden Age বলার অন্যতম কারণ এই যুগেই সর্বকালের অন্যতম সেরা নাট্যকার William Shakespeare সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- এ যুগের সাহিত্য ছিল সৃষ্টিশীল এবং পরবর্তী যুগের জন্য ব্যাপকমাত্রায় প্রভাব সৃষ্টিকারী।
• এই যুগের কিছু বিখ্যাত সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম:
- Christopher Marlowe,
- Thomas More,
- Norton,
- Edmund Spenser,
- William Shakespeare,
- Thomas Kyd,
- Nicholas Udall,
- Robert Peele,
- Robert Greene,
- Sir Philip Sidney,
- John Lyly, etc.
Source: An ABC of English Literature by Dr. M. Mofizar Rahman & Britannica.com
সঠিক উত্তর: খ) Early 20th century.
Bloomsbury Group ছিল একটি বিখ্যাত ব্রিটিশ বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পী ও সমালোচকদের একটি অনানুষ্ঠানিক দল।
• Bloomsbury Group হলো ইংল্যান্ডের একটি ছোট্ট সমিতি যেখানে সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং শিল্পীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এই গোষ্ঠী প্রায় ১৯০৭ থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত লন্ডনের Bloomsbury এলাকাতে মিলিত হতো।
- তারা প্রধানত Clive, Vanessa Bell এবং Vanessa এর ভাই-বোন Adrian এবং Virginia Stephen (পরবর্তীতে Virginia Woolf) এর বাড়িতে মিলিত হতো।
- এই এলাকা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের আশেপাশের অঞ্চল।
- তারা ২০শ শতকের শুরুতে লন্ডনের Bloomsbury এলাকাতে বসবাস করতেন এবং মিলিত হতেন।
• এই গোষ্ঠীর সদস্যরা নান্দনিক (aesthetic) এবং দার্শনিক (philosophical) বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন, সাধারণত নিরপেক্ষতা বা agnosticism-এর মানসিকতা নিয়ে। তাদের চিন্তাভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল:
- G.E. Moore-এর Principia Ethica (1903)
- A.N. Whitehead ও Bertrand Russell-এর Principia Mathematica (1910–13)
এই প্রভাবের মাধ্যমে তারা সত্য (true), সুন্দর (beautiful), এবং শুভ (good) ধারণার সংজ্ঞা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতেন। তারা প্রচলিত ধারণাগুলোকে প্রশ্ন করতেন এবং সমস্ত ধরনের ভণ্ডামি বা ছদ্মবুদ্ধির প্রতি “comprehensive irreverence” দেখাতেন।
----------------
Virginia Woolf (1882-1941)
- একজন ইংরেজ লেখিকা ছিলেন, যাঁর উপন্যাসসমূহ নন-লিনিয়ার ধারায় রচিত হয়ে সাহিত্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
- Virginia Woolf আসল নাম ছিল Virginia Stephen।
- তিনি বিশেষভাবে পরিচিত Mrs. Dalloway (1925) ও To the Lighthouse (1927) উপন্যাসের জন্য।
- তিনি শিল্প তত্ত্ব, সাহিত্য ইতিহাস, নারীদের সাহিত্য এবং ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে অগ্রগামী প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
- তিনি জীবনী রচনার বিভিন্ন রীতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং চিত্রধর্মী ছোটগল্প লিখেছেন।
Notable Works:
- A Room of One's Own (essay),
- Jacob's Room (novel),
- Modern Fiction (essay),
- Mr. Bennett and Mrs. Brown (essay),
- Mrs. Dalloway (novel),
- To the Lighthouse (novel).
Source: Britannica.
• Do not দিয়ে শুরু যুক্ত Imperative Sentence কে Passive Voice করতে হলে –
i) বাক্যের শুরুতে Let বসে।
ii) Active Voice এ Do not থাকলে Passive Voice এ শুধু not বসে।
iii) Active Voice এর Object – Subject এর স্থানে বসে।
iv) be বসে।
v) মূল Verb এর Past Participle বসে।
• Active: Do not close the door.
• Passive: Let not the door be closed.
Active: Do not interrupt the speaker.
Passive: Let not the speaker be interrupted.
অন্য অপশনগুলো ভুল:
ক) Let not the speaker have been interrupted. → ভুল। এটা Perfect Passive (have been interrupted) ব্যবহার করেছে, যা এখানে প্রযোজ্য নয়।
খ) Let not the speaker being interrupted. → ভুল। “being interrupted” হলো Gerund/Continuous form, কিন্তু Let-এর পরে এটা বসে না।
গ) Let not the speaker to be interrupted. → ভুল। Let-এর পরে to বসে না (Let + object + bare infinitive).
'The baby cries all night.' In this sentence, the verb 'cries' is - Intransitive verb.
- The verb “cries” does not take a direct object.
- It expresses an action that stops with the subject (the baby).
- Therefore, “cries” is an intransitive verb.
• Intransitive verb:
- যেসকল verb এর object বা কর্ম থাকে না তাকে Intransitive verb বলে।
- সাধারণত Intransitive verb এর পর adverb অথবা preposition ব্যবহৃত হয়।
- বাক্যে ব্যবহৃত Intransitive verb-কে কি (what?) বা কাকে (whom?) দ্বারা প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায় না।
- উল্লেখ্য Intransitive Verb এর ক্ষেত্রে কখন(when) বা কোথায় (where) দ্বারা প্রশ্ন করতে হয়।
- Intransitive verb যুক্ত sentence-এর সাধারণ Structure হচ্ছে: Subject + verb.
Examples:
• They run every morning.
• The cat jumped onto the table.
• The leaves fall in winter.
Other options,
• Transitive verb:
- যে verb এর object আছে তাকে transitive verb বলে৷
- Transitive verbs এর সাধারণ Structure হচ্ছে: subject + verb + object.
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun অথবা Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- আবার intransitive verb এর শেষে preposition + object যুক্ত করেও তাকে transitive verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He writes a letter. write হলো transitive verb, কারণ এর object হলো a letter.
• কিছু Transitive verb এ object এর পাশাপাশি Complement থাকে।
Complement গুলো object কে Describe করে।
→ এই ধরনের Complement কে Objective Complement বলে।
• Factitive Verb:
- যে Verb এর Object বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে Factitive Verb বলে।
- Factitive Verb হলো এমন ক্রিয়া যা দুটি object নেয় - একটি direct object এবং একটি object complement। এই verb direct object কে object complement হিসেবে বর্ণিত অবস্থায় পরিণত করে বা নিয়োগ দেয়।
- কিছু factitive verbs হলো: Elect, Select, Make, Appoint, Call, Name, etc.
- যেমন: The manager appointed him secretary.
- উল্লিখিত বাক্যে secretary হচ্ছে Objective Complement Factitive Object.
- "The manager appointed him" দ্বারা বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে না, তাই Objective Complement হিসেবে secretary বসানোর পর বাক্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- যেহেতু Object (him) বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়নি তাই এটি Factitive Verb.
• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়।
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন:
- I shall get the work done by him. (আমি তার দ্বারা কাজটি করিয়ে নেব।)
Source:
- Cambridge Dictionary.
- A Passage to the English Language, S.M. Zakir Hussain.
- Advanced Learner's Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain.
সঠিক উত্তর: ক) of, to
Complete sentence: He was convicted of murder and sentenced to death.
• Convict somebody (of something):
Meaning: দোষী সাব্যস্ত করা; অপরাধী বলে রায় দেওয়া।
Example: The man was convicted of murder.
• Sentence/condemn to death [idiom]:
Meaning: কারো অপরাধের জন্য আইনি ভাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া বা মৃত্যুর সাজা ঘোষণা করা।
Example: The jury quickly convicted her and sentenced/condemned her to death.
Source: Merriam-Webster & Accessible Dictionary.
The correct answer is (ঘ) Common gender.
“Colleague” হলো common gender.
- কারণ এটি পুরুষ বা নারী উভয়ের জন্যই ব্যবহার করা যায়।
উদাহরণ:
He is my colleague. → এখানে পুরুষ।
She is my colleague. → এখানে নারী।
• Common gender:
- Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Parent, Child, Baby, Sibling, Server, Parent, Sheep, Deer, Teacher, Student, Monarch, Neighbor, etc.
• Gender:
যে সকল শব্দ দ্বারা কোন noun or pronoun এর পুরুষ, স্ত্রী বা এদের উভয়টি অথবা কোনটিই নয় বা অবচেতন পদার্থ (ক্লীব) ইত্যাদি বুঝায় তাদেরকে Gender বলে।
• Gender চার প্রকার। যথা:
- Masculine gender (পুং লিঙ্গ),
- Feminine gender (স্ত্রী লিঙ্গ),
- Common/Neutral gender (উভয় লিঙ্গ/লিঙ্গ নিরপেক্ষ),
- Neuter gender (ক্লীব লিঙ্গ).
Source:
1. Cambridge Dictionary.
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
সঠিক উত্তর: গ) had listened.
“If only” দিয়ে শুরু হওয়া বাক্য সাধারণত past-এর জন্য আফসোস বা অনুশোচনা প্রকাশ করে।
- এখানে বলা হচ্ছে, সে যদি গতবার আমার কথা শুনত! — অর্থাৎ past unreal condition.
• If only ব্যবহার করা হয় কোনো বিষয়ে খুব জোরালো ইচ্ছা বা আক্ষেপ প্রকাশ করতে, যেখানে আমরা চাই পরিস্থিতি ভিন্ন হোক।
- এর অর্থ I wish-এর মতোই, তবে if only বেশি জোরালো।
- এটি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের unreal (বাস্তব নয় এমন) পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
• অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে আমরা if only + past perfect ব্যবহার করি:
Example:
If only he had listened to what his friends had been telling him. (He didn’t listen.)
If only Anna had been able to come. (Anna wasn’t able to come.)
অন্য অপশনগুলো ভুল:
ক) listens → Present Simple (বর্তমান কাল) → ভুল।
খ) listened → Past Simple → সাধারণ অতীত, কিন্তু অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করতে আমরা if only + past perfect ব্যবহার করি।
ঘ) would listen → Conditional → ভবিষ্যৎ বা কাল্পনিক বর্তমানের জন্য ব্যবহার হয়, অতীতের আক্ষেপের জন্য নয়
----------
• বর্তমান সময়ের ইচ্ছা প্রকাশ করতে আমরা if only + past verb form ব্যবহার করি:
Example: If only he knew the truth. (he doesn’t know the truth, but he wishes he did).
Source: Cambridge Dictionary.
• Had better এর পরে verb এর base form বসে।
- এখানে had হলো unreal past বা অবাস্তব অতীত।
- Had better অর্থ তবুও/ বরং ভালো।
- এ ধরণের বাক্য সবসময় present বা future অর্থ প্রদান করে।
- Had better যুক্ত sentence past tense এর হলেও তা মূলত past tense নয়।
- এ জাতীয় বাক্যগুলি মূলত একটি উপদেশ বা suggestion প্রকাশ করে।
- Had better এর পর infinitive to বসে না।
Example:
- I had better meet him now.
- You had better stay today.
------------
• The question form of had better is made by inverting the subject and had. This means the same as should, but is more formal:
Example:
- Had I better speak to Joan first before I send this form off? What do you think?
Complete sentence: Had we better leave a note for the delivery guy to take the parcel next door?
অন্যগুলো ভুল:
ক) to leave → ভুল, কারণ had better এর পরে to লাগে না।
গ) left → past tense, এখানে উপযুক্ত নয়।
ঘ) leaving → participle, এখানে ব্যবহার করা যায় না।
Source: Cambridge Dictionary.
• Abstruse:
English meaning: not known or understood by many people.
Bangla meaning: দুর্বোধ্য; গূঢ়; নিগূঢ়।
Options,
ক) Secret:
- গোপন; গোপনীয়; গুপ্ত; গূঢ়; সংগুপ্ত।
খ) Ancient:
- (১) সুদূর অতীতের অন্তর্গত প্রাচীন: ancient Greece. (২) (প্রায়ই হাস্যরসাত্মক) অত্যন্ত পুরনো: an ancient looking coat.
গ) Diligent:
- অধ্যবসায়ী; পরিশ্রমী।
ঘ) Feasible:
- সম্ভব; যা করা যেতে পারে।
অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, the word that is synonymous with “Abstruse”: Secret.
Source: Accessible Dictionary.
The meaning of the expression 'In a nutshell' - In a few words.
• In a nutshell (Phrase)
Meaning: in the fewest possible words/in brief/in short.
Bengali meaning: সংক্ষেপে/অল্প কথায়।
Sentence: She put the matter in a nutshell.
Bangla: সে সংক্ষেপে ঘটনাটি বলল।
Source: Live MCQ.
Complete sentence: She is enamored of the idea of living abroad.
enamoured with/of:
English meaning: liking something a lot.
Bangla meaning: ভক্ত।
• কোনো কিছু খুব পছন্দ করা অর্থে enamoured এর সাথে with/of বসে।
- যেহেতু অপশনে of আছে তাই এটি সঠিক উত্তর।
Example:
- I have to say I'm not exactly enamoured with/of this part of the country.
Source: Cambridge Dictionary.
Keep off the grass! Here, 'off' is a - preposition.
- এখানে off শব্দটি the grass-এর সাথে যুক্ত হয়ে একটি সম্পর্ক (relation) দেখাচ্ছে। অর্থাৎ — ঘাস থেকে দূরে / বাইরে থাকতে বলা হচ্ছে।
- যখন কোনো শব্দ noun বা pronoun-এর সাথে বসে তাদের মধ্যে সম্পর্ক (place, direction, time ইত্যাদি) দেখায়, তখন সেটি Preposition হয়।
- off এখানে preposition হিসেবে কাজ করছে।
• Off: [preposition]
English meaning: down or away from a place; at a distance in space or time.
Bangla meaning: সামান্য দূরে; অদূরে।
Example:
- They were still 100 metres off the summit.
- Keep off the grass!
Source: Oxford Dictionary.
Answer - Graphology.
• Graphology:
English meaning: the study of the way people write letters and words, especially in order to discover things about their characters.
Bangla meaning: মানুষের হাতের লেখা বা শব্দ লেখার ধরন অধ্যয়ন, বিশেষ করে তাদের চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য জানার জন্য।
Other options,
খ) Calligraphy:
- the art of producing beautiful writing, often created with a special pen or brush, or writing produced in this way.
গ) Paleography:
- the study of the kinds of writing that people used in the past, especially in ancient times.
ঘ) Cryptology:
- the study of codes (= secret systems of words or numbers).
Source: Cambridge Dictionary.
সঠিক উত্তর: ঘ) Perfect example of something.
• Quintessential:
English meaning: representing the perfect example of something.
Bangla meaning: কোনো কিছুর নিখুঁত উদাহরণ উপস্থাপন করা।।
• Example sentence:
- Her calm behavior is quintessential professionalism.
- Rabindranath Tagore is the quintessential figure of Bengali literature.
Source: Accessible Dictionary, Oxford Dictionary, Merriam & Webster Dictionary.
Answer: ক) Sesquipedalian.
• Sesquipedalian (adjective)
English Meaning: characterized by the use of long words; given to or marked by the use of long, sometimes obscure, words.
Bangla Meaning: দীর্ঘশব্দাবলীর ব্যবহার করা; বড় বড় শব্দ ব্যবহারকারী।
Example Sentence:
- Stop using sesquipedalian words, please.
- The study is loaded with technical terminology and sesquipedalian neologisms.
Source:
1. Oxford English Dictionary.
2. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
I am proud that my friend won the award. The underlined part is - Noun Clause.
- এখানে that my friend won the award হলো “proud” এর object, অর্থাৎ আমি কী জন্য গর্বিত, তা বোঝাচ্ছে।
অতএব, এটি একটি noun clause.
Noun Clause:
- যেসব subordinate clause noun এর মত কাজ করে থাকে - অর্থাৎ - বাক্যে subject/ object/ complement/ appositive হিসেবে কাজ করে থাকে তাদেরকে Noun clause বলে।
• একটি বাক্যের চারটি স্থানে Noun clause বসতে পারে -
1. subject হিসাবে;
2. transitive verb এর object হিসেবে;
3. Linking verb এরপরে complement হিসাবে;
4. Preposition এর পরে।
[৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি]
• 'We must not be late, else we will miss the train'. This is a - compound sentence.
- We must not be late → independent clause.
- we will miss the train → independent clause.
- দু’টি clause else দিয়ে যুক্ত হয়েছে → এটি compound sentence.
• Compound sentence:
- A compound sentence is a sentence that connects two independent clauses, typically with a coordinating conjunction like and or but.
- They're best for combining two or more self-sufficient and related sentences into a single, unified one.
- যে বাক্যে একাধিক Principal Clause 'Coordinating Conjunction' দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে Compound Sentence বলে।
• Compound Sentence গঠনের শর্ত হচ্ছে-
- বাক্যে একের অধিক Principal Clause থাকবে।
- বাক্যে এক বা একাধিক Coordinating Conjunction থাকবে।
- and, or, but, both, fewer than, neither, and, not only.... but also, no less than, neither... nor, either... or, otherwise, still, yet, else, nevertheless, on the contrary, while, whereas, only, so, therefore, consequently, for- ইত্যাদি Coordinating Conjunction দ্বারা Compound Sentence গঠিত হয়।
প্রশ্ন: P = {x ∈ N : 3 ≤ x < 9} এবং Q = {x ∈ N : x বিজোড় সংখ্যা এবং x < 10} হলে P ∩ Q এর মান কত?
সমাধান:
দেয়া আছে,
P = {x ∈ N : 3 ≤ x < 9}
এখানে, x এর মান 3 এর সমান বা বড় এবং 9 এর ছোট স্বাভাবিক সংখ্যা।
∴ P = {3, 4, 5, 6, 7, 8}
আবার,
Q = {x ∈ N : x বিজোড় সংখ্যা এবং x < 10}
x স্বাভাবিক বিজোড় সংখ্যা যা 10 এর ছোট।
∴ Q = {1, 3, 5, 7, 9}
প্রদত্ত রাশি,
P ∩ Q = {3, 4, 5, 6, 7, 8} ∩ {1, 3, 5, 7, 9}
= {3, 5, 7}
প্রশ্ন: নিচের কোন ভগ্নাংশটি ৫/৮ হতে বড়?
সমাধান:
প্রদত্ত ভগ্নাংশ: ৫/৮ = ০.৬২৫
এখন অপশনগুলো যাচাই করি:
৩/৫ = ০.৬
১১/২০ = ০.৫৫
৭/১০ = ০.৭
২১/৪০ = ০.৫২৫
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, ০.৭ > ০.৬২৫
অর্থাৎ, ৭/১০ ভগ্নাংশটি ৫/৮ হতে বড়।
প্রশ্ন: যদি - 7, x, y, z, 29 একটি সমান্তর অনুক্রম গঠন করে, তবে x এবং z এর মান যথাক্রমে কত?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
ধারাটির প্রথম পদ, a = - 7
মোট পদের সংখ্যা, n = 5
ধরি, সাধারণ অন্তর = d
আমরা জানি,
সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n - 1)d
প্রশ্নমতে, ধারাটির 5ম পদ = 29
⇒ a + (5 - 1)d = 29
⇒ - 7 + 4d = 29
⇒ 4d = 29 + 7
⇒ 4d = 36
∴ d = 9
∴ ধারাটির দ্বিতীয় পদ, x = a + (2 - 1)d = - 7 + 9
= 2
∴ ধারাটির চতুর্থ পদ, z = a + (4 - 1)d = - 7 + 3(9) = - 7 + 27
= 20
প্রশ্ন: কোনো আসল চক্রবৃদ্ধি মুনাফায় ৫ বছরে দ্বিগুণ হলে, কত বছরে তা আটগুণ হবে?
সমাধান:
ধরি,
আসল = P
সুদের হার = r%
সময় = ৫ বছর
চক্রবৃদ্ধি মূলধন = ২P
আমরা জানি, চক্রবৃদ্ধি মুনাফা = P(১ + r)n
শর্তমতে,
২P = P(১ + r)৫
⇒ (১ + r)৫ = ২
⇒ ১ + r = ২১/৫ [ঘাতকে ৫ দ্বারা ভাগ করে]
আবার,
৮P = P(১ + r)n
⇒ (১ + r)n = ৮
⇒ (২১/৫)n = ২৩ [১ নং থেকে]
⇒ ২n/৫ = ৩
⇒ n/৫ = ৩
∴ n = ১৫
অতএব, আসল আটগুণ হতে ১৫ বছর লাগবে।
প্রশ্ন:
সমাধান:
প্রশ্ন: একটি ট্রাপিজিয়ামের সমান্তরাল বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে 15 সেমি ও 13 সেমি। যদি ট্রাপিজিয়ামটির উচ্চতা সমান্তরাল বাহুদ্বয়ের গড় দৈর্ঘ্যের সমান হয়, তবে এর ক্ষেত্রফল কত?
সমাধান:
দেওয়া আছে, সমান্তরাল বাহুদ্বয়ের দৈর্ঘ্য যথাক্রমে 15 সেমি ও 13 সেমি।
প্রশ্নমতে,
ট্রাপিজিয়ামটির উচ্চতা (h) = বাহুদ্বয়ের গড় মান
= (15 + 13) ÷ 2 সেমি
= 28 ÷ 2 সেমি
= 14 সেমি
আমরা জানি,
ট্রাপিজিয়ামের ক্ষেত্রফল = {(1/2) × (সমান্তরাল বাহুদ্বয়ের সমষ্টি) × উচ্চতা} বর্গ একক
= 1/2 × (15 + 13) × 14 বর্গ সেমি
= 1/2 × 28 × 14 বর্গ সেমি
= 14 × 14 বর্গ সেমি
= 196 বর্গ সেমি
∴ ট্রাপিজিয়ামটির ক্ষেত্রফল = 196 বর্গ সেমি
প্রশ্ন: যদি x = √5 + √4 হয়, তবে x3 - (1/x)3 এর মান কত?
সমাধান:
প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার প্রথম ও দ্বিতীয় পদ যথাক্রমে 2 এবং - 2/3 হলে, ধারাটির সপ্তম পদ কত?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
ধারাটির প্রথম পদ, a = 2
ধারাটির দ্বিতীয় পদ, ar2 - 1 = ar = - 2/3
∴ সাধারণ অনুপাত,r = (- 2/3)/2 = - 1/3
আমরা জানি,
গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn - 1
∴ সপ্তম পদ, ar7 - 1 = 2 × (- 1/3)6
= 2 × 1/729
= 2/729
প্রশ্ন: নিচের কোনটি একটি সরলরেখার সমীকরণ?
সমাধান:
দেওয়া আছে, x/y = 3
⇒ x = 3y
⇒ x - 3y = 0
এটি ax + by + c = 0 অথবা y = mx আকারের একটি সমীকরণ, যা একটি সরলরেখা নির্দেশ করে। এখানে ধ্রুবক পদ c = 0 হওয়ায় এটি একটি মূলবিন্দুগামী সরলরেখা।
অন্যান্য অপশন:
x2 + y2 = 9 ; চলকের ঘাত 2 হওয়ায় এটি একটি বৃত্তের (Circle) সমীকরণ।
xy = 5 ; চলকদ্বয় গুণফল আকারে থাকায় এটি একটি আয়তাকার অধিবৃত্ত (Rectangular Hyperbola)।
y = 2/x ; চলক হরে থাকায় এর ঘাত ঋণাত্মক (- 1) হয়ে যায়, যা একটি অধিবৃত্ত বা বক্ররেখা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন: 81 × (√3)4x = 1 হলে, x এর মান কত?
সমাধান:
প্রশ্ন: কামাল ১৫টি কমলা ৪৫ টাকায় ক্রয় করে প্রতি ডজন ৪৮ টাকায় বিক্রয় করলেন। কামালের শতকরা কত লাভ বা ক্ষতি হলো?
সমাধান:
১৫টি কমলার ক্রয়মূল্য = ৪৫ টাকা
∴ ১টি কমলার ক্রয়মূল্য = ৪৫ / ১৫ = ৩ টাকা
আবার,
১ ডজন বা ১২টি কমলার বিক্রয়মূল্য = ৪৮ টাকা
∴ ১টি কমলার বিক্রয়মূল্য = ৪৮ / ১২ = ৪ টাকা
লাভ = (৪ - ৩) টাকা = ১ টাকা
∴ শতকরা লাভ = (লাভ/ক্রয়মূল্য) × ১০০%
= (১/৩) × ১০০%
= ৩৩.৩৩%
প্রশ্ন:
সমাধান:
প্রশ্ন: একটি বৃত্তের পরিধি ও ক্ষেত্রফল যথাক্রমে 176 সেন্টিমিটার ও 2464 বর্গসেন্টিমিটার। বৃত্তটির বৃহত্তম জ্যা এর দৈর্ঘ্য কত?
সমাধান:
বৃত্তের পরিধি: 2πr = 176 সেন্টিমিটার .......................(1)
ক্ষেত্রফল: πr² = 2464 বর্গসেন্টিমিটার ....................(2)
(2) নং সমীকরণকে (1) নং দ্বারা ভাগ করি,
(πr²)/(2πr) = 2464/176
⇒ r/2 = 14
⇒ r = 14 × 2
⇒ r = 28
∴ বৃত্তের বৃহত্তম জ্যা = বৃত্তের ব্যাস = 2r = 2 × 28 = 56 সেন্টিমিটার
প্রশ্ন: |2x - 7| ≤ 3, যেখানে x ∈ N, অসমতাটির সমাধান সেট কোনটি?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
|2x - 7| ≤ 3
⇒ -3 ≤ 2x - 7 ≤ 3
⇒ -3 + 7 ≤ 2x ≤ 3 + 7 [উভয় পক্ষে 7 যোগ করে]
⇒ 4 ≤ 2x ≤ 10
⇒ 2 ≤ x ≤ 5 [উভয় পক্ষকে 2 দ্বারা ভাগ করে]
যেহেতু x ∈ N (স্বাভাবিক সংখ্যা), সেহেতু x এর মান 2 থেকে 5 এর মধ্যে (2 ও 5 সহ) হতে হবে।
অতএব সমাধান সেট = {2, 3, 4, 5}।
উল্লেখ্য:
অপশন ক: (2, 5) ভুল কারণ এটি একটি খোলা ব্যবধি যা কেবল বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে এবং এতে 2 ও 5 অন্তর্ভুক্ত নয়।
অপশন খ: {2, 4, 6, 8} ভুল কারণ এই মানগুলো অসমতার সীমার (2 থেকে 5) বাইরে চলে গেছে।
অপশন ঘ: (2, 5] ভুল কারণ এটি অর্ধেক খোলা ব্যবধি যা 2 কে বাদ দিয়ে 5 পর্যন্ত সকল বাস্তব সংখ্যা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন: নিচের কোনটি সমগ্রকের পরিমিত ব্যবধানের (Standard Deviation) গাণিতিক প্রকাশ?
সমাধান:
প্রশ্ন: চারটি ঘণ্টা একই সময়ে বাজতে শুরু করে। ঘণ্টা চারটি যথাক্রমে প্রতি ৮ সেকেন্ড, ১২ সেকেন্ড, ১৮ সেকেন্ড এবং ২৪ সেকেন্ডের ব্যবধানে বাজে। ঘণ্টা চারটি ৩ ঘণ্টার মধ্যে কতবার একসাথে বাজবে?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘণ্টাগুলির সময়কাল যথাক্রমে ৮, ১২, ১৮ ও ২৪ সেকেন্ড।
৮ = ২ × ২ × ২
১২ = ২ × ২ × ৩
১৮ = ২ × ৩ × ৩
২৪ = ২ × ২ × ২ × ৩
∴ ল.সা.গু = ২ × ২ × ২ × ৩ × ৩ = ৭২ সেকেন্ড
অর্থাৎ, ঘণ্টাগুলো প্রতি ৭২ সেকেন্ড অন্তর একত্রে বাজে।
এখন,
৩ ঘণ্টা = ৩ × ৬০ × ৬০ = ১০৮০০ সেকেন্ড
∴ ৩ ঘণ্টায় ঘণ্টাগুলো একত্রে বাজবে = (১০৮০০ / ৭২) বার + ১ বার (শুরুতে বাজার জন্য)
= ১৫০ + ১
= ১৫১ বার
∴ ৩ ঘণ্টার মধ্যে ঘণ্টা চারটি একত্রে ১৫১ বার বাজবে।
প্রশ্ন: একটি ক্লাসের সকল ছাত্র একে অপরের সাথে নববর্ষের কার্ড বিনিময় করল। যদি মোট কার্ড বিনিময়ের সংখ্যা 420 হয়, তবে ঐ ক্লাসে কতজন ছাত্র ছিল?
সমাধান:
মনে করি, ঐ ক্লাসে n সংখ্যক ছাত্র ছিল।
কার্ড বিনিময়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেকে একে অপরকে কার্ড দেয়। অর্থাৎ দুইজন ছাত্রের মধ্যে কার্ড বিনিময় হয় ২ ভাবে (A দেয় B-কে এবং B দেয় A-কে)। এটি মূলত একটি বিন্যাসের সমস্যা।
আমরা জানি,
n সংখ্যক ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক কার্ড বা উপহার বিনিময়ের মোট সংখ্যা = nP2 বা n(n - 1)
প্রশ্নমতে,
n(n - 1) = 420
⇒ n2 - n - 420 = 0
⇒ n2 - 21n + 20n - 420 = 0
⇒ n(n - 21) + 20(n - 21) = 0
⇒ (n - 21)(n + 20) = 0
∴ n = - 20 অথবা n = 21
কিন্তু n = - 20 গ্রহণযোগ্য নয়। [কারণ ছাত্রের সংখ্যা ঋণাত্মক হতে পারে না]
∴ ঐ ক্লাসে 21 জন ছাত্র ছিল।
প্রশ্ন: যদি f(x) = 2x3 - 5x2 + kx - 6 এর একটি উৎপাদক (x - 2) হয়, তবে k এর মান কত?
সমাধান:
ধরি, f(x) = 2x3 - 5x2 + kx - 6
যেহেতু (x - 2) রাশিটি f(x) এর একটি উৎপাদক, সেহেতু উৎপাদক উপপাদ্য অনুযায়ী f(2) = 0 হবে।
এখন,
f(2) = 2(2)3 - 5(2)2 + k(2) - 6
= 2(8) - 5(4) + 2k - 6
= 16 - 20 + 2k - 6
= 2k - 10
শর্তমতে, f(2) = 0
⇒ 2k - 10 = 0
⇒ 2k = 10
∴ k = 5
প্রশ্ন: একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 54 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 54 বর্গমিটার।
ধরি, ঘনকের এক বাহুর দৈর্ঘ্য = a মিটার।
আমরা জানি, ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 6a2
প্রশ্নমতে,
6a2 = 54
⇒ a2 = 54 / 6
⇒ a2 = 9
⇒ a = 3 মিটার
আবার আমরা জানি,
ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√3
যেহেতু a = 3 মিটার,
∴ ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = 3√3 মিটার
প্রশ্ন: একটি ব্যাগে 3টি সাদা, 3টি লাল এবং 4টি নীল বল আছে। ব্যাগটি থেকে দৈবভাবে 2টি বল তুলে নেওয়া হলো। সবগুলো বল সাদা হওয়ার সম্ভাবনা কত?
সমাধান:
প্রদত্ত:
মোট বলের সংখ্যা = 3 + 3 + 4 = 10টি
মোট সম্ভাব্য ফলাফল:
10টি বল থেকে 2টি বল নির্বাচন করার উপায়:
= 10C2
= 10!/(2! × 8!)
= (10 × 9)/(2 × 1)
= 45
3টি সাদা বল থেকে 2টি সাদা বল নির্বাচন করার উপায়:
= 3C2
= 3!/(2! × 1!)
= (3 × 2!)/(2! × 1)
= 3
P(দুইটি বলই সাদা) = অনুকূল ফলাফলের সংখ্যা/মোট সম্ভাব্য ফলাফলের সংখ্যা
= 3/45
= 1/15
প্রশ্ন: J এবং K ভাই। W হলো J-এর মা। S হলো T-এর ভাই। যদি T, K-এর ছেলে হয়, তাহলে S-এর চাচা কে?
সমাধান:
দেওয়া তথ্যমতে,
J এবং K দুজন ভাই।
W হলো J-এর মা ⇒ অর্থাৎ W হলো K-এরও মা (দুজনেরই মা একই)।
T হলো K-এর ছেলে।
S হলো T-এর ভাই ⇒ অর্থাৎ S ও K-এর ছেলে (T আর S ভাই-ভাই)।
S হলো K-এর ছেলে।
তাহলে S-এর চাচা হবে K-এর ভাই।
সুতরাং, S-এর চাচা হলো J।
সংক্ষেপে,
J → K-এর ভাই → K-এর ছেলে S-এর চাচা।
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
সমাধান:
√(বৃত্তের চার পাশের সংখ্যার সমষ্টি) = বৃত্তের মাঝের সংখ্যা
১ম বৃত্তে,
√(17 + 33 + 16 + 15) = √(81) = 9
২য় বৃত্তে,
√(29 + 41 + 11 + 19) = √(100) = 10
৩য় বৃত্তে,
√(42 + 23 + x + 15) = 9
⇒ 80 + x = 81 ; [বর্গ করে]
⇒ x = 81 - 80
∴ x = 1
সুতরাং, প্রশ্নবোধক স্থানে 1 সংখ্যাটি বসবে।
প্রশ্ন: Find the correct spelt word.
সমাধান:
সঠিক বানান ঘ) Adventitious
"Adventitious" শব্দের অর্থ হলো 'অপ্রত্যাশিত বা আকস্মিক'
এটি Merriam-Webster, Dictionary.com এবং Cambridge Dictionary-এর মতো নির্ভরযোগ্য অভিধানে সঠিক বানান হিসেবে স্বীকৃত।
অন্য অপশন ভুল:
ক) Adventitous → 'i' কম
খ) Adventitus → ভুল শেষাংশ
গ) Adventituous → অতিরিক্ত 'u'
প্রশ্ন: ভারসাম্যে থাকার জন্য প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানে কত কেজি ভর রাখতে হবে?
সমাধান:
আমরা জানি,
ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে উভয় পাশে ভর ও দৈর্ঘ্যের গুণফল সমান হতে হবে।
ধরি,
ডান দিকের ভর = x কেজি
প্রশ্নমতে,
5 × 9 = 6 × x
⇒ 6x = 45
⇒ x = 45/6
∴ x = 7.5
∴ ডানদিকে 7.5 Kg ভর রাখতে হবে।
প্রশ্ন: করিম প্রথমে উত্তর দিকে 12 কি.মি. পথ দৌড়ায়। সেখান থেকে পুনরায় দক্ষিণ দিকে 6 কি.মি. এবং সবশেষে পূর্ব দিকে 8 কি.মি. দৌড়ায়। বর্তমানে শুরুর স্থান থেকে তিনি কোন দিকে এবং কত দূরত্বে অবস্থান করছেন?
সমাধান:
তিনি উত্তরে 12 কি.মি. গিয়ে আবার দক্ষিণে 6 কি.মি. ফিরে আসায়।
শুরুর স্থান থেকে তিনি উত্তরে আছেন = 12 - 6 = 6 কি.মি.
এরপর তিনি 8 কি.মি. পূর্বে গেলেন।
এখন, পিথাগোরাসের সূত্রানুযায়ী,
অতিভুজ2 = লম্ব2 + ভূমি2
অতিভুজ = √(লম্ব2 + ভূমি2)
= √(82 + 62)
= √(64 + 36)
= √(100)
∴ অতিভুজ = 10
সুতরাং, তিনি শুরুর স্থান থেকে 10 কি.মি. দূরে।
এবং শুরুর স্থান থেকে উত্তর-পূর্ব (North-East) দিকে অবস্থান করছেন।
প্রশ্ন: ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ২৫০ কি.মি.। রাকিব সাইকেল চালায় ঘণ্টায় ৪০ কি.মি. বেগে, আর সোহেল মোটরসাইকেল চালায় ঘণ্টায় ৬০ কি.মি. বেগে। রাকিব ঢাকা থেকে রওনা দেয় সোহেলের চেয়ে ১.৫ ঘণ্টা আগে। সোহেল কত কি.মি. পথ চালিয়ে রাকিবের সাথে দেখা করবে?
সমাধান:
রাকিব সোহেলের চেয়ে ১.৫ ঘণ্টা আগে রওনা দিয়েছে।
∴ রাকিবের অতিক্রান্ত দূরত্ব = (৪০ × ১.৫) = ৬০ কি.মি.।
অর্থাৎ, যখন সোহেল রওনা দেয়, তখন রাকিব ইতিমধ্যে ৬০ কি.মি. এগিয়ে আছে।
আবার,
দুজন একই দিকে চলছে। সোহেলের গতি = ৬০ কি.মি./ঘণ্টা এবং রাকিবের গতি = ৪০ কি.মি./ঘণ্টা।
∴ আপেক্ষিকগতি = ৬০ - ৪০ = ২০ কি.মি./ঘণ্টা
∴ রাকিবকে ধরতে সোহেলের সময় লাগবে = ৬০/২০ = ৩ ঘণ্টা
∴ ৩ ঘণ্টায় সোহেলর অতিক্রম করবে = ৬০ × ৩ = ১৮০ কি.মি.।
সুতরাং, সোহেল ১৮০ কি.মি. পথ চালিয়ে রাকিবের সাথে দেখা করবে।
প্রশ্ন: প্রদত্ত শব্দটি পানিতে কেমন দেখাবে?
সমাধান:
সঠিক উত্তর গ)
প্রশ্ন: India : ISRO : : Japan : ?
সমাধান:
ISRO হলো ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও মহাকাশযান সংস্থার। [Indian Space Research Organisation]
একইভাবে,
JAXA হলো জাপানের জাতীয় মহাকাশ সংস্থার। [Japan Aerospace Exploration Agency]
সুতরাং সঠিক উত্তর হলো খ) JAXA
অন্য অপশনগুলো-
NASA: National Aeronautics and Space Administration (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা)।
CNSA: China National Space Administration (চীনের মহাকাশ সংস্থা)।
ESA: European Space Agency (ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা)।
প্রশ্ন: প্রশ্নবোধক স্থানে কোন সংখ্যাটি বসবে?
1632 : 4284 : : 1530 : ?
সমাধান:
প্রথম সংখ্যার প্রথম দুই অঙ্ক × 2 = প্রথম সংখ্যার শেষ দুই অঙ্ক ; [প্রত্যেকটার জন্য আলাদাভাবে এই শর্ত প্রযোজ্য]
এখানে,
16 × 2 = 32 ⇒ 1632
42 × 2 = 84 ⇒ 4284
15 × 2 = 30 ⇒ 1530
একইভাবে,
34 × 2 = 68 ⇒ 3468
অন্য অপশনগুলো এই শর্তপূরণ করে না।
সুতরাং, সঠিক উত্তর ঘ) 3468
প্রশ্ন: 'শিলীমুখ' এর প্রতিশব্দ কোনটি?
সমাধান:
'শিলীমুখ' এর প্রতিশব্দ হলো ভ্রমর বা মৌমাছি।
শিলীমুখ শব্দের আরও কিছু সমার্থক শব্দ হলো-
অলি, মধুকর, ভৃঙ্গ
অন্যদিকে,
'গুহা' শব্দের প্রধান প্রতিশব্দগুলো হলো-
গহ্বর, কন্দ, গর্ত, বিবর, ছিদ্র ইত্যাদি।
'তীক্ষ্ণপাথর' শব্দের প্রধান প্রতিশব্দগুলো হলো-
শানপাথর, শান ইত্যাদি
প্রশ্ন: 4 নং গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে, 1 নং গিয়ারটি কোন দিকে ঘুরবে?
সমাধান:
- 4 নং গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে, 3 নং গিয়ারটি ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
- 3 নং গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরলে, 2 নং গিয়ারটি ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে।
- 2 নং গিয়ারটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলে, 1 নং গিয়ারটি ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
সুতরাং, 1 নং গিয়ারটি ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
প্রশ্ন: প্রদত্ত চিত্র কয়টি ত্রিভুজ আছে?
সমাধান:
একটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 1, 2, 3, 4, 5, 6, 7 = ৭টি
দুইটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 27, 45 = ২টি
তিনটি করে ফাঁকা ঘর নিয়ে ত্রিভুজ আছে - 237, 456, 345, 267 = ৪টি
∴ মোট ত্রিভুজ আছে = ৭ + ২ + ৪ = ১৩টি
প্রশ্ন: একটি প্রতিষ্ঠানে দৈনিক ৮ ঘণ্টার কাজের মজুরি ঘণ্টা প্রতি ২৫০ টাকা। কোন শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে, শুধু অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য স্বাভাবিক মজুরির ১.৫ গুণ হারে টাকা পায়। কোন শ্রমিক যদি একদিনে ১১ ঘণ্টা কাজ করে তবে সে কত টাকা মজুরি পাবে?
সমাধান:
দেওয়া আছে,
দৈনিক স্বাভাবিক কাজের সময় = ৮ ঘণ্টা
ঘণ্টাপ্রতি স্বাভাবিক মজুরি = ২৫০ টাকা
∴ ৮ ঘণ্টার (স্বাভাবিক) মজুরি = (৮ × ২৫০) টাকা
= ২০০০ টাকা
আবার,
অতিরিক্ত ঘণ্টার মজুরি = স্বাভাবিকের ১.৫ গুণ = ২৫০ × ১.৫ = ৩৭৫ টাকা/ঘণ্টা
এবং শ্রমিক একদিনে মোট কাজ করেছে = ১১ ঘণ্টা
∴ অতিরিক্ত কাজের সময় = ১১ - ৮ = ৩ ঘণ্টা
∴ অতিরিক্ত ৩ ঘণ্টার মজুরি = (৩ × ৩৭৫) টাকা
= ১১২৫ টাকা
∴ মোট মজুরি = স্বাভাবিক মজুরি + অতিরিক্ত মজুরি
= ২০০০ + ১১২৫
= ৩১২৫ টাকা
সুতরাং, শ্রমিক একদিনে ১১ ঘণ্টা কাজ করলে ৩১২৫ টাকা মজুরি পাবে।
প্রশ্ন: নিচের কোন চিত্র দ্বারা প্যাটার্নটি সম্পূর্ণ হবে?
সমাধান:
সঠিক উত্তর ক) নং
কারণ,
১ম সারিতে ডান দিক থেকে ১ম চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ১৮০° বরাবর রয়েছে।
২য় চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (১৮০° + ৪৫°) বা ২২৫° বরাবর রয়েছে।
৩য় চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (২২৫° + ৪৫°) বা ২৭০° বরাবর রয়েছে।
৪র্থ চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে (২৭০° + ৪৫°) বা ৩১৫° বরাবর রয়েছে।
যা ক) নং চিত্র অবস্থিত
একইভাবে,
২য় সারিতে ডান দিক থেকে ১ম চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ০° বরাবর রয়েছে।
২য় চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ৪৫° বরাবর রয়েছে।
৩য় চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ৯০° বরাবর রয়েছে।
৪র্থ চিত্র ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ১৩৫° বরাবর রয়েছে।
যা ক) নং চিত্র অবস্থিত
প্রশ্ন: যদি 'POSITION' শব্দের বর্ণগুলোকে বর্ণানুক্রমে সাজানো হয়, তাহলে ডান দিক থেকে চতুর্থ বর্ণটি কোনটি হবে?
সমাধান:
শব্দটি হলো POSITION
বর্ণগুলো হলো P, O, S, I, T, I, O, N
এখন, বর্ণানুক্রমে সাজালে (A থেকে Z),
I, I, N, O, O, P, S, T
অর্থাৎ সাজানো শব্দটি I I N O O P S T
এখন ডান দিক থেকে (অর্থাৎ শেষ থেকে শুরুর দিকে) গণনা করে পাই,
১ম = T, ২য় = S, ৩য় = P এবং ৪র্থ = O
সুতরাং, ডান দিক থেকে চতুর্থ বর্ণটি হলো O।
• সার্চ ইঞ্জিনের যে অংশটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে, সেটি হলো ওয়েব ক্রলার। ওয়েব ক্রলারকে অনেক সময় স্পাইডার বা বটও বলা হয়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেটের এক পেজ থেকে আরেক পেজে ঘুরে বেড়ায় এবং ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, লিংকসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। সংগ্রহ করা এই তথ্য সার্চ ইঞ্জিনের ডাটাবেজে সংরক্ষিত হয়, যাতে ব্যবহারকারী কোনো কিছু সার্চ করলে দ্রুত ও সঠিক ফলাফল দেখানো যায়। অন্যদিকে সার্ভার মনিটর, ফায়ারওয়াল বা ব্রাউজার তথ্য সংগ্রহের কাজ করে না।
• সার্চ ইঞ্জিন:
- ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা আন্তর্জালের দুনিয়াতে যেকোনো তথ্য বা ছবি খুঁজে বের করার প্রযুক্তি মাধ্যম।
- সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রদর্শন করা হয়ে থাকে।
- ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন ক্রোলার বট এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে।
- বিশ্বের প্রথম সার্চ ইঞ্জিন Archie.
- গুগল, চরকি, খুঁজুন.কম, পিপীলিকা, ইয়াহু, নাভের, ইয়াণ্ডেক্স, বিং, এওএল, বাইডু, ডাকডাকগো, কিওওয়ান্ট হলো পরিচিত ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন।
- Bing মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন সার্চ ইঞ্জিন।
উৎস:
- ব্রিটানিকা।
- researchgate. [link]
• কম্পিউটারের সব যৌক্তিক কার্যক্রম অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট (ALU) দ্বারা সম্পন্ন হয়। ALU হল প্রসেসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা সংখ্যা ও লজিকাল অপারেশন যেমন যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, তুলনা এবং শর্তভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরিচালনা করে। যখন কোনো ডেটা প্রসেসরের মধ্যে আসে, তখন ALU সেই ডেটার উপর প্রয়োজনীয় গণনা এবং তুলনামূলক কাজ করে এবং ফলাফল প্রদান করে। ক্যাশ মেমোরি ডেটা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়, রেজিস্টার অস্থায়ী তথ্য ধারণ করে, আর পাওয়ার সাপ্লাই শুধুমাত্র শক্তি সরবরাহ করে। তাই সব যৌক্তিক ও গণনামূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে শুধুমাত্র অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট।
- সঠিক উত্তর: ক) অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট।
গাণিতিক যুক্তি অংশ (Arithmetic Logic Unit):
- ALU এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Arithmetic Logic Unit.
- নিয়ন্ত্রণ অংশের তত্ত্বাবধানে গাণিতিক যুক্তি অংশ বা ALU বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক বা লজিক্যাল অপারেশনের কাজ সম্পাদন করে।
- বেশির ভাগ গাণিতিক অপারেশনগুলো হলো যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং লজিক্যাল অপারেশনগুলো হলো তুলনা, সত্য-মিথ্যা যাচাই ইত্যাদি।
- কোনো রেজিস্টার পরিষ্কারকরণ এবং রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য বা সংখ্যাকে ডানে-বামে সরানো ইত্যাদি কাজও এ অংশের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।
- বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক বর্তনীর সহায়তায় গাণিতিক যুক্তি অংশ এই কার্যাবলি সম্পাদান করে থাকে এবং প্রয়োজনে ফলাফল অস্থায়ীভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষিত রাখে।
- বর্তমানের মাইক্রোপ্রসেসরগুলোতে কাজের গতি বাড়ানোর প্রয়োজনে একাধিক গাণিতিক যুক্তি অংশ ব্যবহৃত হয়।
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• ব্লকচেইন মূলত নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের ডিজিটাল রেকর্ড বা ডেটাবেস, যেখানে তথ্য ব্লকের আকারে সংরক্ষিত হয় এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে এক ব্লক থেকে অন্য ব্লকে সংযুক্ত করা হয়। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর তথ্য পরিবর্তন বা জালিয়াতি রোধ করে, কারণ একবার তথ্য ব্লকে যুক্ত হলে তা পরিবর্তন করা খুব কঠিন। ব্লকচেইন ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, চুক্তি স্বাক্ষর, এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। তাই এটি ক্লাউড স্টোরেজ, ওয়েব ডিজাইন বা সামাজিক মিডিয়ার জন্য নয়, বরং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেনের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
- সঠিক উত্তর: ঘ) নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন।
• ব্লকচেইন:
- ব্লকচেইন হলো একটি ডেটাবেজ প্রযুক্তি যা একটি লেজার বা রেকর্ডের উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং এই লেজারটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার নেটওয়ার্কে বিতরণ করা থাকে।
- এই রেকর্ডগুলোকে ব্লক বলা হয়।
- ব্লকচেইন প্রযুক্তি সর্বপ্রথম তৈরি করেন সাতোশি নাকামোতো নামে পরিচিত এক গোপন পরিচয়ের প্রোগ্রামার বা প্রোগ্রামারদের একটি দল।
- ২০০৯ সালে তারা এই প্রযুক্তিটি বিটকয়েন নামক ক্রিপ্টোকারেন্সির কাঠামোর অংশ হিসেবে উদ্ভাবন করেন।
- লেনদেনগুলো ব্লক নামে পরিচিত গ্রুপে একত্রিত হয়।
- ব্লকগুলো একটি ক্রমানুসারী সিকোয়েন্সে সাজানো থাকে, যাকে ব্লকচেইন বলা হয়।
- ব্লকগুলো চেইনে যুক্ত করা হয় একটি গাণিতিক পদ্ধতির মাধ্যমে, যা একক ব্যবহারকারীর জন্য ব্লকচেইন পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন করে তোলে।
• বিটকয়েন (Bitcoin):
- বিটকয়েন হলো প্রথম, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া এবং সবচেয়ে পরিচিত ক্রিপ্টোকারেন্সি।
- বিটকয়েনের মালিকরা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এটি অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে, অথবা বাস্তব মুদ্রায় যেমন মার্কিন ডলার বা ইউরোতে বিনিময় করতে পারেন।
- এছাড়া বিভিন্ন বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্য ও সেবা কেনাও সম্ভব।
উৎস: ব্রিটানিকা।
• হার্ড রিয়েল-টাইম সিস্টেম হলো এমন একটি কম্পিউটার সিস্টেম যা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য, এবং সময়সীমা লঙ্ঘন হলে তা গুরুতর ফলাফল সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গাড়ির এয়ারব্যাগ সিস্টেমকে ধরা যায়। দুর্ঘটনার সময় এয়ারব্যাগ ঠিক সময়ে না খোলায় যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাই এটি কঠোরভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অন্যদিকে অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট, ওয়ার্ড প্রসেসর, এবং ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপ্লিকেশন সফট রিয়েল-টাইম বা নন-রিয়েল-টাইম সিস্টেম, যেখানে দেরি হলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয় না। তাই গাড়ির এয়ারব্যাগ সিস্টেম হার্ড রিয়েল-টাইম সিস্টেমের স্পষ্ট উদাহরণ।
- উত্তর: ক) গাড়ির এয়ারব্যাগ সিস্টেম।
• রিয়েলটাইম অপারেটিং সিস্টেম (Realtime Operating System):
- রিয়েল টাইম সিস্টেমে কম্পিউটারকে ভালভাবে সংজ্ঞায়িত ও সুর্নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রসেসিং-এর কাজ সমাধান করে ফলাফল দিতে হয় যাতে ব্যবহারকারীর কোনো ক্ষতি না হয়।
- এটি সাধারণত এমন পরিবেশে ব্যবহৃত হয় যেখানে সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেমন এমবেডেড সিস্টেম, রোবোটিক্স, অটোমোটিভ সিস্টেম এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কন্ট্রোল সিস্টেম।
- এই পদ্ধতিটিও একপ্রকার অনলাইন প্রসেসিং।
- তবে অনলাইন প্রসেসিং-এর ক্ষেত্রে ফলাফল বা আউটপুট দিতে সামান্য দেরি হলেও ব্যবহারকারীর তেমন অসুবিধা হয় না।
- কিন্তু রিয়েল টাইমের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অবশ্যই ফলাফল দিতে হবে নতুবা ব্যবহারকারীর বিরাট ক্ষতি হয়।
- উদাহরণ: টিকেট বুকিং সিস্টেম, প্লেন পরিচালনার অপারেটিং সিস্টেম।
আরো কিছু রিয়েলটাইম অপারেটিং সিস্টেম:
- FreeRTOS,
- QNX,
- ThreadX, ইত্যাদি।
সূত্র:
- কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি-১, এসএসসি (ভোকেশনাল)।
- IEEE. [link]
• ইন্টিগ্রেশন স্কেল অনুযায়ী IC বা Integrated Circuit সাধারণত কতগুলো লজিক গেট বা কম্পোনেন্ট একটি চিপে সংযুক্ত আছে তার উপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই শ্রেণিবিভাগে প্রচলিত ও স্বীকৃত ধরণগুলো হলো SSI (Small-Scale Integration), যেখানে অল্প সংখ্যক গেট থাকে; MSI (Medium-Scale Integration), যেখানে মাঝারি সংখ্যক গেট ব্যবহৃত হয়; এবং LSI (Large-Scale Integration), যেখানে অনেক বেশি গেট সংযুক্ত থাকে।
- কিন্তু DSI (Deep-Scale Integration) নামে কোনো ইন্টিগ্রেশন স্কেল ইলেকট্রনিক্সে স্বীকৃত বা প্রচলিত নয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) DSI (Deep-Scale Integration).
• কম্পিউটারের পাঁচটি প্রজন্ম/জেনারেশন:
- প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৪২ - ১৯৫৯),
- দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৫৯ - ১৯৬৫),
- তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫ - ১৯৭১),
- চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৭১ - বর্তমান),
- পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৮২ - বর্তমান)।
• তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার (১৯৬৫-১৯৭১):
- একীভূত বর্তনী (IC-Integrated Circuit) এর ব্যবহার।
- মিনি কম্পিউটার আবির্ভাব।
- উন্নত নির্ভরযোগ্যতা।
- উচ্চ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা।
- উচ্চতর প্রোগ্রামিং ভাষার ব্যবহার।
- ন্যানো সেকেন্ডে কাজ সম্পাদন।
- যেমন: IBM 360.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।
উৎস:
- কম্পিউটার পরিচিতি ও ব্যবহার, স্কুল অব এগ্রিকালচার এন্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
• কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে Hadamard gate (H)-এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো একটি কিউবিটকে সুপারপজিশন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া, অর্থাৎ সঠিক উত্তর হলো ঘ) সুপারপজিশন তৈরি করা। সাধারণভাবে একটি কিউবিট যদি |0⟩ বা |1⟩ অবস্থায় থাকে, Hadamard gate প্রয়োগ করলে সেটি একই সঙ্গে |0⟩ এবং |1⟩ অবস্থার সমান সম্ভাবনাময় সংমিশ্রণে রূপান্তরিত হয়। এই সুপারপজিশন কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের ভিত্তি, কারণ এর মাধ্যমে একসাথে বহু সম্ভাব্য হিসাব করা যায়। Shor বা Grover-এর মতো অ্যালগরিদমে Hadamard gate গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
• কোয়ান্টাম কম্পিউটার:
- এটি এমন একটি কম্পিউটার যা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের গুণাবলী (যেমন: সুপারপজিশন ও এনট্যাঙ্গলমেন্ট) ব্যবহার করে জটিল গণনা করে।
- প্রচলিত ডিজিটাল কম্পিউটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ও শক্তিশালী হতে পারে।
- রিচার্ড ফেইনম্যান প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণা দেন।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে কিউবিট (Quantum Bit), যা একসাথে 0 এবং 1 হতে পারে – একে বলে Superposition।
- একটি কিউবিট একই সাথে অনেকগুলো সম্ভাব্য অবস্থায় থাকতে পারে। এটি একাধিক গাণিতিক সমস্যার সমাধান একই সাথে করতে সাহায্য করে।
- ডেভিড ডয়চ (১৯৮৫): কোয়ান্টাম লজিক গেটের ধারণা দেন।
- পিটার শোর (১৯৯৪): কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম উদ্ভাবন করেন যা বড় সংখ্যা অল্প সময়ে ভেঙে ফেলতে পারে।
• কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ৩টি মূল পদ্ধতি:
- NMR (Nuclear Magnetic Resonance): নিউক্লিয়াস স্পিন ব্যবহার করে।
- Ion Trap: আয়নকে ট্র্যাপ করে এবং লেজার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- Quantum Dots: অতি ক্ষুদ্র অর্ধপরিবাহী অঞ্চলে ইলেকট্রনের স্পিন ব্যবহৃত হয়।
• কোয়ান্টাম কম্পিউটিং:
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিং আধুনিক কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গাণিতিক সমস্যাগুলির সমাধানে একটি বিপ্লবী ধারণা।
- এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স এর ধারণা ব্যবহার করে, যেখানে কোয়ান্টাম বিট (Qubit) একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে, এবং তার ফলে এটি নির্দিষ্ট কাজগুলো খুব দ্রুত এবং দক্ষভাবে সম্পাদন করতে সক্ষম হয়।
- কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জন্য যে অ্যালগরিদমগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি সাধারণত ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের তুলনায় কিছু সমস্যা সমাধানে অনেক দ্রুত কাজ করে।
- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ কোয়ান্টাম অ্যালগরিদমের মধ্যে একটি হল Shor’s Algorithm, যা বড় সংখ্যার গুণফল বের করা (Integer Factorization) এর জন্য ব্যবহৃত হয়।
Shor's Algorithm:
- Shor's Algorithm কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের একটি প্রধান অ্যালগরিদম যা বড় সংখ্যাকে দ্রুত গুণফলে বিভক্ত (factorization) করতে পারে।
- এটা বিন্যাসযোগ্য সংখ্যা গুণফল (large number factorization) বের করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর মাধ্যমে আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফি সিস্টেম যেমন RSA সিকিউরিটি ভেঙে ফেলতে পারে।
- Shor’s Algorithm একটি কোয়ান্টাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যাগুলি অনেক দ্রুত সমাধান করতে সক্ষম, যেখানে সাধারণ কম্পিউটারে এসব সমস্যা সমাধান করতে কয়েক হাজার বছর সময় লাগতে পারে।
- Grover's algorithm - কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অ্যালগরিদমের আরেকটি উদাহরণ।
উৎস:
1) ব্রিটানিকা।
2) IBM [link]
3) sciencedirect [link]
• একটি RDBMS (Relational Database Management System)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণত SQL ভাষা ব্যবহার করা হয়। SQL-এর পূর্ণরূপ Structured Query Language, যা ডেটাবেসে তথ্য সংরক্ষণ, অনুসন্ধান, হালনাগাদ ও মুছে ফেলার কাজে ব্যবহৃত হয়। RDBMS যেমন MySQL, Oracle, PostgreSQL ইত্যাদি ডেটাবেসে টেবিল আকারে তথ্য থাকে এবং সেই তথ্য পরিচালনার জন্য SQL সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে CSS ও HTML ওয়েবপেজের নকশা ও কাঠামোর জন্য ব্যবহৃত হয়, আর XML মূলত ডেটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) SQL.
রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম:
- একটি ডাটাবেজে একাধিক টেবিল থাকতে পারে।
- কোন একটি নির্দিষ্ট ফিল্ডের উপর ভিত্তি করে দুই বা ততোধিক টেবিলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করাকে রিলেশনশীপ বলা হয়।
- রিলেশন তৈরি করা টেবিল থেকে প্রয়োজনীয় ডাটা নিয়ে আলাদা ডাটা টেবিল তৈরি করা যায়।
- রিলেশন করা ডাটা টেবিলের সমন্বয়ে গঠিত ডাটাবেজকে রিলেশনাল ডাটাবেজ বলা হয়।
- আধুনিক ডাটাবেজ বলতে সাধারণত রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকেই বুঝায়।
- রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সার্ভারে ডাটাবেজ ইঞ্জিন ব্যবহার করার জন্য বাজারে অনেক ধরনের সফট্ওয়্যার রয়েছে।
যথা- মাইক্রোসফ্ট একসিস, ওরাকল, মাইএসকিউএল, এসকিউএল সার্ভার, ইনফরমিক্স ইত্যাদি।
রিলেশনাল ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য:
- সহজে টেবিল তৈরি করে ডাটা এন্ট্রি করা যায়।
- ডাটা টেবিলের সাথে অন্য এক বা একাধিক ডাটা টেবিলের মধ্যে রিলেশন তৈরি করা যায়।
- অসংখ্য ডাটার মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় ডাটাকে খুঁজে বের করা যায়।
- সহজে এক ডাটাবেজ থেকে অন্য ডাটাবেজের সাথে তথ্য আদান প্রদান করা যায়।
- সংখ্যাবাচক ডাটাসমূহে সূক্ষ্ম গাণিতিক কাজ করা যায়।
- সহজে নানা ফরমেটের রিপোর্ট তৈরি করা যায় ও তা মুদ্রণ করা যায়।
- প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে লেবেল তৈরি করা যায় এবং ছাপানো যায়।
- এন্ট্রি ফর্ম তৈরি করা যায়।
- বিভিন্ন ধরনের চার্ট তৈরি করা যায়।
- আকর্ষণীয় ডাটা এন্ট্রি ফর্ম তৈরি করা যায়।
- অন্যান্য ডাটাবেজ প্রোগ্রাম (যেমন- ফক্সপ্রো, এক্সেল ইত্যাদি) থেকে তথ্য বা ডাটা এনে ব্যবহার করা যায়।
• SQL:
- SQL এর পূর্ণরূপ Structured Query Language.
- এটি একটি অনন্য শক্তিশালী ডাটা মেনিপুলেশন ও ডেফিনেশন ল্যাংগুয়েজ।
- রিলেশনাল ডাটাবেজ এ্যাকসেস করার জন্য SQL হচ্ছে একটি হাতিয়ার।
- অতীতে SQL কেবল মেইনফ্রেম কম্পিউটারে ব্যবহার করা হতো।
- বর্তমানে ডেস্কটপ কম্পিউটারেও রিলেশনাল ডাটাবেজ প্লাটফর্ম ব্যবহৃত হওয়ার ফলে SQL ব্যবহার শুরু হয়েছে।
- এগুলো এক বা একাধিক ডাটাবেজ, টেবিল, কলাম ইনডেক্স ইত্যাদিতে প্রয়োগ করা যায়।
- অধিকাংশ SQL স্টেটমেন্টই ফলাফল হিসেবে এক সেট রেকর্ড প্রদান করে।
- ১৯৭৪ সালে IBM (International Business Machine) এর Research Center এ SQL তৈরি করা হয়।
উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
• Ctrl + Z সাধারণত কম্পিউটার ব্যবহার এবং সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে Undo command হিসেবে পরিচিত। এটি ব্যবহারকারীদের ভুল করা বা অবাঞ্ছিত পরিবর্তন দ্রুত ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ কোনো ডকুমেন্টে লেখা মুছে ফেলে বা কোনো ছবি ভুলভাবে এডিট করে, Ctrl + Z চাপলে সেই কাজ পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। এটি সময় সাশ্রয় এবং কাজের ত্রুটি কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। অনেক জনপ্রিয় সফটওয়্যার যেমন Microsoft Word, Photoshop, Excel, এবং অন্যান্য টেক্সট এডিটর ও গ্রাফিক্স টুলে Ctrl + Z একটি মৌলিক শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, এটি কেবল একটি সুবিধাজনক ফাংশন নয়, বরং ব্যবহারকারীর কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
- সঠিক উত্তর: খ) Undo command.
• এমএস ওয়ার্ডে ব্যবহৃত কী-বোর্ডের বিভিন্ন কমান্ড:
Ctrl + A : ডকুমেন্টের সব টেক্সট (text) সিলেক্ট করার জন্য।
Ctrl + B: টেক্সট (text) বোল্ড (bold) করার জন্য।
Ctrl + C: সিলেক্ট করা টেক্সট কপি করার জন্য।
Ctrl + E : টেক্সট বা লিখা গুলি মধ্যখানে আনার জন্য।
Ctrl + F: যেকোনো শব্দ বা বাক্য খোঁজার জন্য।
Ctrl + I : সিলেক্ট করা টেক্সট italic font style করার জন্য।
Ctrl + K : সিলেক্ট করা টেক্সট (text) এ hyperlink (URL web address) বা ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস যোগ করার জন্য।
Ctrl + L: Left alignment বা আপনার লেখা গুলি বামদিকে নিয়ে নেয়ার জন্য।
Ctrl + N : নতুন word document খোলার জন্য।
Ctrl + O: আগে থেকে বানানো word file খোলার জন্য।
Ctrl + S: বানানো ওয়ার্ড ফাইল সেভ করার জন্য।
Ctrl + U : টেক্সট বা লেখাতে underline করার জন্য।
Ctrl + V : কপি করা টেক্সট (text) সহজে পেস্ট করার জন্য।
Ctrl + X: যেকোনো সিলেক্ট করা টেক্সট এর অংশ cut করার জন্য।
Ctrl + Z : ওয়ার্ডে কাজ করার সময় যদি কোনো ভুল হয়, তাহলে ও শর্টকাট ব্যবহার করে আবার আগের অবস্থায় যেতে পারবেন।
উৎস: মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট।
• ARPANET এর পূর্ণরূপ হলো Advanced Research Projects Agency Network, যা সঠিক উত্তর ক)। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীন Advanced Research Projects Agency (ARPA) কর্তৃক ১৯৬০-এর দশকের শেষ দিকে উন্নয়ন করা হয়। ARPANET-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। এটি প্যাকেট সুইচিং প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা নেটওয়ার্ক যোগাযোগকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তোলে। ARPANET-ই আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এখান থেকেই TCP/IP প্রোটোকলের ধারণা ও ব্যবহার শুরু হয়।
• ARPANET:
- ১৯৬৮ সালের ARPANET ছিলো ইন্টারনেটের প্রাথমিক পর্যায়।
- ARPANET-এর পূর্ণরূপ হলো: ‘Advanced Research Projects Agency Network’.
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ১৯৬৯ সালে ARPANET এর প্রকৃত যাত্রা শুরু হয়।
- ১৯৮২ সালে TCP/IP উদ্ভাবনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রটোকল TCP/IP.
- ১৯৯২ সালে ইন্টারনেট সোসাইটি (ISOC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎস: মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• হাফ-ডুপ্লেক্স যোগাযোগ বলতে এমন একটি যোগাযোগ পদ্ধতিকে বোঝায় যেখানে একই সময়ে উভয় দিকে ডেটা আদান-প্রদান করা যায় না, বরং এক সময়ে শুধু এক দিকেই ডেটা পাঠানো সম্ভব হয়। অর্থাৎ প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ই ডেটা পাঠাতে ও গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু একসাথে নয়। যখন এক পক্ষ ডেটা পাঠায়, তখন অন্য পক্ষ কেবল গ্রহণ করে এবং পরে ভূমিকা পরিবর্তন হতে পারে। ওয়াকিটকি এর একটি পরিচিত উদাহরণ। এই ব্যবস্থায় যোগাযোগ নিয়ন্ত্রিত হয় এবং সংঘর্ষ এড়ানো যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) এক সময়ে শুধু এক দিকে ডেটা পাঠানো যায়।
• ডাটা প্রবাহের দিকের উপর ভিত্তি করে ডাটা ট্রান্সমিশন মোডকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
১। সিমপ্লেক্স (Simplex),
২। হাফ-ডুপ্লেক্স (Half-Duplex) ও
৩। ফুল-ডুপ্লেক্স (Full-Duplex)।
১. সিমপ্লেক্স মোড:
- ডাটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ডাটার একদিকে প্রবাহকে সিমপ্লেক্স মোড বলে।
- সিমপ্লেক্সের উদাহরণ- রেডিও-টিভি, PABX, কীবোর্ড, মাউস, পেজার ইত্যাদি।
২. ফুল-ডুপ্লেক্স মােড:
- ফুল-ডুপ্লেক্স মােডে একই সময়ে উভয় প্রান্তের দুটি ডিভাইস একই সাথে ডেটা প্রেরণ এবং গ্রহণ করতে পারে।
- ফুল-ডুপ্লেক্সের উদাহরণ- মোবাইল ফোন, টেলিফোন, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ইত্যাদি।
৩. হাফ-ডুপ্লেক্স মোড:
- যখন এক প্রান্ত থেকে ডেটা প্রেরণ করা হয় তখন অপর প্রান্ত থেকে ডেটা শুধুমাত্র গ্রহণ করা যায় , আবার যখন অপর প্রান্ত থেকে ডেটা প্রেরণ করা হয় তখন প্রথম প্রান্ত থেকে ডেটা - শুধুমাত্র গ্রহণ করা যায় তাকে হাফ ডুপ্লেক্স মোড বলে।
- হাফ ডুপ্লেক্সের উদাহরণ- ওয়াকিটকি, ফ্যাক্স, এসএমএস, ইন্টারনেট ব্রাউজার ইত্যাদি।
উৎস:
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) ব্রিটানিকা।
• ই-মেইল টার্মিনোলজিতে “স্প্যাম” বলতে সাধারণত অনিচ্ছাকৃত বা জাঙ্ক ই-মেইলকে বোঝানো হয়। এসব ই-মেইল ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই পাঠানো হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর কোনো বাস্তব প্রয়োজনীয়তা থাকে না। স্প্যাম ই-মেইলে প্রায়ই ভুয়া বিজ্ঞাপন, প্রতারণামূলক অফার, অপ্রয়োজনীয় প্রচারমূলক বার্তা বা ক্ষতিকর লিংক থাকতে পারে, যা ব্যবহারকারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ই-মেইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্প্যাম শনাক্ত করে আলাদা ফোল্ডারে রাখে, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল ব্যবহারকারীর নজর এড়িয়ে না যায়। সঠিক উত্তর হলো: ক) অনিচ্ছাকৃত বা জাঙ্ক ই-মেইল।
• ই-মেইল (E-mail):
- ই-মেইল বা ইলেকট্রনিক মেইল আজকাল বহুল ব্যবহৃত একটি যোগাযোগ মাধ্যম।
- কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত এক কম্পিউটারের সাথে অন্য কম্পিউটারের সংযোগ স্থাপন করে যে কোনো ডকুমেন্ট, চিঠি-পত্র, চিত্র বা গ্রাফিক্স এবং যে কোনো তথ্য আদান প্রদান করা যায়।
- টেলিফোন লাইন ও মোডেম ব্যবহার করে এ সংযোগ স্থাপন করা যায়।
- প্রেরণকৃত তথ্য প্রাপক গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেটওয়ার্কের একটি স্টোরেজে (সার্ভার) জমা থাকে।
- বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করতে ফ্রি ই-মেইল পরিষেবা প্রদান করে।
- ব্যবহারকারীরা এসব সাইটে বিনামূল্যে ই-মেইল একাউন্ট খুলতে পারেন।
- একাউন্ট তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে সাইন আপ বা ক্রিয়েট একাউন্ট অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পূরণ করতে হয়।
- একাউন্ট তৈরি হলে সেটির মাধ্যমে ই-মেইল আদান-প্রদান করা যায়।
- ই-মেইল ঠিকানায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডোমেইন থাকে, যেমন @gmail.com, @yahoo.com ইত্যাদি।
- প্রতিটি একাউন্টের জন্য পৃথক পাসওয়ার্ড নির্ধারিত থাকে।
- ওয়েবসাইটের ডোমেইন এক্সটেনশন থেকে তার ধরন চেনা যায়, যেমন .com (কমার্শিয়াল), .org (সংস্থা), .net (নেটওয়ার্ক), এবং .edu (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।
উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• সেলসফোর্স (Salesforce) মূলত একটি কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (CRM) প্ল্যাটফর্ম। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য গ্রাহকের তথ্য সংগঠিত করা, বিক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা, মার্কেটিং ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা এবং গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করার কাজে ব্যবহৃত হয়। সেলসফোর্স ব্যবহার করে সংস্থা তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ী করতে পারে, বিক্রয় সম্ভাবনা ট্র্যাক করতে পারে এবং ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এটি ক্লাউড ভিত্তিক হওয়ায় যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান থেকে অ্যাক্সেস করা যায়। সেলসফোর্স ব্যবহারকারীদের জন্য আরও স্বয়ংক্রিয় কার্যপ্রবাহ এবং রিপোর্টিং সুবিধা প্রদান করে। তাই এটি অপারেটিং সিস্টেম, ভিডিও এডিটিং বা গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য নয়, বরং গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়।
- সঠিক উত্তর: গ) কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট।
• অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):
- অ্যাপ্লিকেশন সফট্ওয়্যার কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারিক কাজের জন্য তৈরি হয়।
- ব্যবহারকারী যে সকল সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করতে পারে তাকে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম বা ব্যবহারিক সফটওয়্যার বলা হয়। যেমন-
- Photo Editing Program: Adobe Photoshop
- Word Processing Package Program: Word Star, Word Perfect, Ms Word, Word Note.
- Spreadsheet Package Program : Lotus 1-2-3, Ms-Excel, Qrater Pro.
- Browsing Program: Internet Explorer, Edge, Mozilla Firefox, Netscape Communicator, Safari, Opera, Google Chrome
- Database Package Program: dBase, Foxpro, Oracle, Informix, Access ইত্যাদি।
উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রােগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
• নেটফ্লিক্স মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা প্রদান করে। এটি কোনো একক স্থানীয় সার্ভারের উপর নির্ভর করে না, বরং বড় বড় ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে কাজ করে। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করলে নেটফ্লিক্স প্রচুর পরিমাণের ভিডিও কন্টেন্ট সঞ্চয়, প্রসেস এবং ব্যবহারকারীর ডিভাইসে দ্রুত পৌঁছাতে পারে। এটি ব্যবহারকারীর অনুরোধ অনুযায়ী ডেটা ট্রান্সফার করে ল্যাগ বা বিরতি ছাড়াই ভিডিও স্ট্রিমিং নিশ্চিত করে। এছাড়াও ক্লাউড প্রযুক্তি নেটফ্লিক্সকে স্কেল করার সুবিধা দেয়, মানে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও সহজে সার্ভিস পরিচালনা করা যায়। তাই সঠিক উত্তর হলো: খ) ক্লাউড কম্পিউটিং।
• নেটফ্লিক্স (Netflix):
- নেটফ্লিক্স হলো একটি নিবন্ধনভিত্তিক (subscription-based) স্ট্রিমিং সার্ভিস।
- নেটফ্লিক্স ইউজারদের ইন্টারনেটে বিভিন্ন টিভি শো ও সিনেমা বিজ্ঞাপন ছাড়াই দেখার সুবিধা প্রদান করে।
- প্রয়োজনে এই শো বা মুভিগুলো ডাউনলোড করে অফলাইনেও দেখা যায়।
- এটি একটি মার্কিন বিনোদনধর্মী প্রতিষ্ঠান, যেটি ১৯৯৭ সালের ২৯ আগস্ট রিড হ্যাস্টিংস (Reed Hastings) ও মার্ক রেন্ডোল্ফ (Marc Randolph) কর্তৃক - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের স্কটস ভ্যালি শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নামকরা সব চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়াল তৈরি করে বিভিন্ন দেশের দর্শকদের মন জয় করেছে নেটফ্লিক্স।
- নেটফ্লিক্স দেখতে পারবে শুধু তাদের নিবন্ধিত গ্রাহকরা এবং এ জন্য অবশ্যই মাসিক ফি দিতে হবে।
- বাংলাদেশসহ বহু দেশে নিজেদের জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা চালু করেছে নেটফ্লিক্স। ফলে এই দেশগুলোর নিবন্ধিত গ্রাহকরা যে কোনো স্থান থেকে টিভি শো ও মুভি উপভোগ করতে পারবেন।
• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন- কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহার শুরু করে।
• ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য:
- On-demand,
- Resource scalability,
- Pay as you go.
• ক্লাউডের অবস্থান অথবা মানুষের মাঝে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবার বিস্তৃতি অনুসারে একে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
- পাবলিক ক্লাউড,
- প্রাইভেট ক্লাউড ,
- মিশ্র বা হাইব্রিড ক্লাউড।
উৎস:
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি মাহবুবুর রহমান।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
• বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে প্রতিটি সংখ্যা (বিট) হলো ২-এর ঘাতের ভিত্তিতে মান নির্ধারণ করে। সংখ্যা 1001112 কে ডেসিমেলে রূপান্তর করতে, আমরা প্রতিটি বিটের মান লিখব এবং ২-এর ঘাত অনুযায়ী গুণ করব। পরিশেষে, 100111 (base 2) সংখ্যাটি ডেসিমেলে 39 হয়।
• বাইনারি থেকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর:
- বাইনারি থেকে দশমিক সংখ্যায় রূপান্তর করার সময় প্রত্যেক অংককে ২ দ্বারা গুণ করতে হয়।
- গুণ করার সময় স্থানীয় মান অনুযায়ী ২ এর ঘাত ০ হতে বাড়াতে হবে।
- প্রাপ্ত গুণফলকে যোগ করলে উক্ত বাইনারি সংখ্যাটির সমতুল্য দশমিক মান বা ডেসিমেল নাম্বার পাওয়ার যাবে।
এখানে,
100111
= 1 × 25 + 0 × 24 + 0 × 23 + 1 × 22 + 1 × 21 + 1 × 20
= 32 + 0 + 0 + 4 + 2 + 1
= 39
উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
- রেকটিফায়ার (Rectifier) এমন একটি বর্তনী যা অল্টারনেটিং কারেন্ট (AC) (এসি)-কে ডাইরেক্ট কারেন্ট (DC) (ডিসি)-এ রূপান্তরিত করে, যা ডায়োডে ব্যবহার করে করা হয় এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে এই রূপান্তর অপরিহার্য।
রেকটিফায়ার:
- যে পদ্ধতিতে পরিবর্তী প্রবাহকে (A.C) একমুখী (D.C) প্রবাহে পরিবর্তন করে তাকে একমুখীকরণ বা রেকটিফিকেশন (Rectification) বলে এবং যে বর্তনীর সাহায্যে এই ক্রিয়া সম্পাদন করা হয়, তাকে একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার (Rectifier) বলা হয়।
- একমুখীকারক বা রেকটিফায়ার মূলত দুই প্রকার।
যথা-
(ক) অর্ধতরঙ্গ একমুখীকারক এবং (খ) পূর্ণ তরঙ্গ একমুখীকারক।
পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার:
- পূর্ণ তরঙ্গ ব্রিজ রেকটিফায়ার তৈরি করা হয় চারটি ডায়োড ব্যবহার করে। এই চারটি ডায়োডের ন্যায় সংযোগ করে একটি ব্রিজ গঠন করা হয়।
- রেকটিফাই বা একমুখী করার জন্য এসি উৎসকে একটি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে ব্রিজের কোনার দুই বিপরীত প্রান্তে সংযোগ দেওয়া হয়।
- অন্য দুই বিপরীত কোনার সাথে লোড রেজিস্টান্স সংযোগ দেওয়া হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, শাহজাহান তপন এবং পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- GMO-এর পূর্ণরূপ হলো Genetically Modified Organism. এটি দিয়ে এমন কোনো জীব বোঝানো হয় যার জিনকে জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে পরিবর্তন বা পরিবর্তিত করা হয়েছে।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic engineering):
- একটি জীব থেকে একটি নির্দিষ্ট জিন বহনকারী ডিএনএ খণ্ড পৃথক করে ভিন্ন একটি জীবে স্থানান্তরের কৌশল হচ্ছে জিন প্রকৌশল (Genetic engineering)।
অর্থাৎ, কাঙ্ক্ষিত নতুন একটি বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির জন্য কোনো জীবের ডিএনএর পরিবর্তন ঘটানোকে জিন প্রকৌশল বলে।
- এই জিন যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়, তাদের একত্রে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ কৌশল বলে। এই কৌশল অবলম্বন করে একটি ডিএনএ অণুর কাঙ্ক্ষিত অংশ কেটে আলাদা করে অন্য একটি ডিএনএ অনুতে প্রতিস্থাপন করার ফলে যে নতুন ডিএনএ অণুর সৃষ্টি হয়, তাকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ বলে।
- রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ তৈরির প্রক্রিয়াকে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তি বা জিন ক্লোনিং বলা হয়।
- জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপন্ন নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের কোনো কোনোটিকে বলা হয় GMO (Genetically Modified Organism) আর কোনোটিকে বলে ট্রান্সজেনিক (Transgenic)। জিএমও এবং ট্রান্সজেনিক জীব এক নয়।
- আধুনিক জীবপ্রযুক্তি বা জিন কৌশলের মাধ্যমে জিন স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য অল্প সময়ে সুচারুভাবে স্থানান্তর করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবক বা উদ্যোক্তাগণের নিকট প্রচলিত প্রজননের তুলনায় এ প্রযুক্তিটি অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- মার্কারির প্রধান আকরিক হলো সিন্নাবার (Cinnabar), যার রাসায়নিক সংকেত হলো HgS । এই আকরিকটিকে বাতাসে গরম করে (রোস্টিং প্রক্রিয়ায়) মার্কারি বা পারদ নিষ্কাশন করা হয়।
আকরিক:
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না।
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে।
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে, এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে।
ধাতু ⇒ আকরিক:
• মার্কারি ⇒ সিন্নাবার (HgS),
• লেড ⇒ গ্যালেনা (PbS),
• ক্যালসিয়াম ⇒ চুনাপাথর (CaCO3),
• অ্যালুমিনিয়াম ⇒ বক্সাইট (Al2O3.2H2O),
• জিংক ⇒ জিংক ব্লেন্ড (ZnS) ও ক্যালামাইন (ZnCO3),
• কপার ⇒ কপার পাইরাইট (CuFeS2) ও চালকোসাইট (Cu2S) এবং
• আয়রন ⇒ ম্যাগনেটাইট (Fe3O4), হেমাটাইট (Fe2O3) ও লিমোনাইট (Fe2O3.3H2O) ।
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- সূর্য প্রতি বছর ২১ মার্চ এবং ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখে বিষুবরেখার উপর খাড়াভাবে কিরণ দেয়। এই দুটি দিনকে বিষুব বা Equinox বলা হয় এবং এই দিনগুলোতে পৃথিবীর সর্বত্র দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়।
পৃথিবীর বার্ষিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যের চারপাশে কিছুটা হেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবী বছরের বিভিন্ন সময়ে তার হেলানো অবস্থান পরিবর্তন করে। তাই পৃথিবীর একটা নির্দিষ্ট অংশ একটি নির্দিষ্ট সময় সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে।
- পৃথিবীর একটি নির্দিষ্ট অংশ যখন সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে, তখন সেই অংশটি বেশিক্ষণ ধরে এবং খাড়াভাবে সূর্যের তাপ পায়। পৃথিবীর সেই অংশে তখন গ্রীষ্মকাল। পৃথিবীর বিষুবরেখার দুই পার্শ্বকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করা হয়। উত্তর অংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণ অংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয় এবং আমরা উত্তর গোলার্ধে বাস করি।
২১ শে জুন:
- ২১ জুন পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই দক্ষিণ গোলার্ধে তখন রাত বড় হয়, দিন ছোট হয় এবং ওখানে সূর্যের তাপ তির্যক বা হেলানোভাবে পড়ে। ফলে দক্ষিণ গোলার্ধ এ সময় সূর্যের তাপ কম পায়। ওখানে তখন শীতকাল। যেমন- অস্ট্রেলিয়ায় জুন, জুলাই ও আগস্ট এই তিন মাস শীতকাল।
২৩ শে সেপ্টেম্বর:
- সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখে পৃথিবীর বিষুব অঞ্চল সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরু ঐ সময়ে সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকে।
- সেপ্টেম্বর ২৩ তারিখে সূর্য থেকে সমান দূরত্বে থাকার ফলে পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে দিনরাত সমান হয়। বিষুবীয় অঞ্চলে তখন সূর্য মাথার উপরে অবস্থান করে খাড়াভাবে কিরণ দেয়, তখন বিষুবীয় অঞ্চলে বেশ গরম পড়ে।
- বাংলাদেশে তখন দিনরাত সমান বলে তখন শীতও নয় আবার খুব গরমও নয়। দক্ষিণ গোলার্ধেও তখন শীত চলে গিয়ে গ্রীষ্মকাল আসতে থাকে, অর্থাৎ সেখানে তখন বসন্ত।
২২ শে ডিসেম্বর:
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধের একটি অংশ সূর্যের দিকে মুখ করে থাকে। আর তখন বাংলাদেশ সূর্য থেকে দূরে অবস্থান করে। তাই তখন বাংলাদেশে দিন ছোট হয় এবং রাত বড় হয়। সূর্যকে দেখা যায় দক্ষিণ দিকে হেলে কিরণ দিতে। কম সময় এবং তির্যকভাবে কিরণ পায় বলে বাংলাদেশে তখন শীত পড়ে। পক্ষান্তরে, দক্ষিণ গোলার্ধের অস্ট্রেলিয়ায় তখন দিন বড়ো এবং রাত ছোটো হয়। সূর্য তখন দক্ষিণ গোলার্ধে খাড়াভাবে কিরণ দেয়। তাই দক্ষিণ গোলার্ধে তখন গ্রীষ্মকাল।
২১ শে মার্চ:
- পৃথিবী ২১ মার্চ সূর্যের দিকে মুখ করে হেলে থাকে। তখন পৃথিবীর সকল স্থানে দিনরাত সমান হয়। এজন্য এই সময়ে বাংলাদেশেও দিনরাত সমান হয়।
- এই সময়ে শীতও বেশি থাকে না আবার গরমও বেশি পড়ে না। এই সময়ে দেশে বসন্তকাল। ২১ মার্চের পরে পৃথিবী আবার ঘুরতে ঘুরতে ২১ জুন তারিখে আগের বছরের অবস্থানে ফিরে আসে। এভাবে সূর্যের দিকে পৃথিবীর অবস্থানের তারতম্যের কারণে দিনরাত ছোটো বা বড়ো হয় এবং ঋতু পরিবর্তিত হয়।
উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
- ব্যারোমিটার হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা বোঝার জন্য এই যন্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র:
• ব্যারােমিটার- বায়ুমণ্ডলের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র।
• সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ম্যানােমিটার- গ্যাসের চাপ নির্ণায়ক যন্ত্র।
• ফ্যাদোমিটার- সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
• হাইগ্রোমিটার- আর্দ্রতা পরিমাপের যন্ত্র।
• পাইরোমিটার- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র।
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র।
- ওডোমিটার মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র।
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
- তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্ধপরিবাহীর রোধ বা রেজিস্ট্যান্স হ্রাস পায় এবং এর পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বাড়লে আরও বেশি সংখ্যক ইলেকট্রন শক্তি অর্জন করে এবং যোজ্যতা ব্যান্ড থেকে পরিবহন ব্যান্ডে মুক্তভাবে চলাচল করতে পারে, যার ফলে চার্জ বাহকের সংখ্যা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ প্রবাহ সহজ হয়।
অর্ধ-পরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর (Semiconductor):
- আধুনিক জগৎ এবং আধুনিক সভ্যতা পুরোটাই ইলেকট্রনিকসের উপরে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এই ইলেকট্রনিকসের জন্য যদি কোনো এক ধরনের পদার্থের বলা হয় তাহলে সেইই পদার্থটি হবে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর।
- যে সব পদার্থের তড়িৎ পরিবহণ ক্ষমতা পরিবাহী এবং অপরিবাহী পদার্থের মাঝামাঝি তাদেরকে বলা হয় অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
অর্থাৎ, যার মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ করতে পারে কিন্তু তা পরিবাহীর চেয়ে অনেক কম, কিন্তু অপরিবাহীর চেয়ে বেশি এদেরকে অর্ধপরিবাহী বলে।
যেমন- জার্মেনিয়াম, সিলিকন ইত্যাদি।
- সিলিকন হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেমিকন্ডাক্টর পদার্থ।
- পরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা হ্রাস পায়, কিন্তু অর্ধপরিবাহীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে তড়িৎ প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি করলে পরিবাহীর রোধ বৃদ্ধি পায় এবং অর্ধপরিবাহীর রোধ হ্রাস পায়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ক্ষমতা হলো কাজ করার হার বা শক্তি স্থানান্তরের হার। আন্তর্জাতিক একক ব্যবস্থায় (S.I) ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট (W), যা প্রতি সেকেন্ডে এক জুলের (J) সমান (1 W = 1 J/s)।
ক্ষমতা (Power):
- ক্ষমতা, কাজ ও সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে।
- একটি নির্দিষ্ট সময়ে কি পরিমাণ কাজ সম্পন্ন হয় তা দ্বারা ক্ষমতার পরিমাপ করা হয়।
- ক্ষমতা P দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
• ক্ষমতা, P = (সম্পন্ন কাজ/প্রয়োজনীয় সময়)
বা, ক্ষমতা = (বল × সরণ)/সময়
বা, ক্ষমতা = বল × বেগ
∴ ক্ষমতা = বল × বেগ
বা, P = Fv
অর্থাৎ, কোন যন্ত্রে F পরিমাণ বল প্রয়োগের ফলে যন্ত্রটি যদি বলের দিকে v বেগ প্রাপ্ত হয় তবে বল এবং বেগের গুণফল হবে ঐ যন্ত্রের ক্ষমতা।
- ক্ষমতার এস.আই একক ওয়াট। হর্স পাওয়ার বা অশ্বক্ষমতা (HP) নামে ক্ষমতার আর একটি একক ব্যবহার করা হয়।
- 1 হর্স পাওয়ার (H.P) = 746 ওয়াট (W)।
- ক্ষমতার মাত্রা হচ্ছে ML2T -3.
অন্যদিকে,
- জুল (Joule) কাজ বা শক্তির এস.আই একক।
- নিউটন (Newton) বলের এস.আই একক।
- কিলোওয়াট (Kilowatt) ক্ষমতার একটি একক, তবে এটি ওয়াটের চেয়ে বড় একটি প্রায়োগিক একক (১ কিলোওয়াট = ১০০০ ওয়াট)।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ইনটেলসেট-১, যা 'আর্লি বার্ড (Early Bird)' নামেও পরিচিত, ১৯৬৫ সালের ৬ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ।
কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস:
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ।
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে।
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে।
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে।
- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান।
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়।
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন।
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে।
- বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয়।
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে।
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে।
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এপর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।
উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
- ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক সাধারণত 2 থেকে 10 মেগাহার্টজ (MHz) এর মধ্যে থাকে।
ইকোকার্ডিওগ্রাফি:
- ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়।
- শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- শব্দ তরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল।
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিণ্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10 MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540 ms-1 এবং রক্তের মধ্যে 1570 ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়।
- আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃৎযন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে।
- যত বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়।
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- ভিনেগার প্রস্তুতের জন্য ব্যবহৃত ব্যাকটেরিয়া হলো অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter), যা অ্যালকোহলকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে ভিনেগার তৈরি করে।
সিরকা বা ভিনেগার:
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়।
- ভিনেগার একটি তরল পদার্থ।
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়।
ভিনেগারের প্রস্তুতি:
25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়।
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে।
খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা:
- ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে আচার ভালো রাখার জন্য আচারের মধ্যে ভিনেগার দিলে আচারকে ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে না।
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড।
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন (H+) ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়।
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
- পারকিনসন রোগের উপসর্গ নয়- রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস। অন্যদিকে, পারকিনসন রোগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ মুখ অনড় থাকা এ রোগের অন্তর্ভুক্ত।
পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease):
- পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।
- এই রোগ সাধারণত 50 বছর বয়সের পরে হয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে যুবক-যুবতীদেরও হতে পারে, এই ক্ষেত্রে রোগটি তার বংশে রয়েছে বলে ধরা হয়।
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে, যার একটি হলো ডোপামিন।
- ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলো পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না, ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- বয়স বাড়ার সাথে সাথে পারকিনসনের কারণে রোগীর মাংসপেশি আরও অকার্যকর হয়ে উঠে, ফলে রোগীর চলাফেরা, লেখালেখি ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
- পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে প্রকট রূপে দেখা দেয়।
- প্রাথমিক অবস্থায় রোগী হালকা হাত বা পা কাঁপা অবস্থায় থাকে, ফলে চলাফেরা বিঘ্নিত হয়।
- এছাড়াও চোখের পাতার কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া, সোজাসুজি হাঁটার সমস্যা, কথা বলার সময় মুখের বাচনভঙ্গি না আসা অর্থাৎ, মুখ অনড় থাকা মাংসপেশিতে টান পড়া বা ব্যথা হওয়া, নড়াচড়ায় কষ্ট হওয়া, যেমন- চেয়ার থেকে উঠা কিংবা হাঁটতে শুরু করার সময় অসুবিধে হওয়া এমন নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে।
- ডাক্তারের পরামর্শে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণ, পরিমিত খাদ্য গ্রহণ এবং সুশৃঙ্খল জীবন যাপন করার মাধ্যমে রোগী অনেকটা সুস্থ থাকে।
উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমানা রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের সাথে।
• বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত:
- বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। যথা:
- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- বাংলাদেশের সাথে মেঘালয়ের স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা প্রায় ৪৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- আসামের সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ২৬৪ কিলোমিটার।
- ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের স্থলসীমান্ত প্রায় ৮৭৪ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্থলসীমান্ত সবচেয়ে দীর্ঘ, যা প্রায় ২,২৬২ কিলোমিটার।
- সর্বমোট স্থল সীমানা ৪১৫৬ কিলোমিটার।
উৎস: বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। এবং MAPs of India. [link]
• দোয়াব: প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
- নদীসংগম: দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসংগম বলে।
- উপনদী: পর্বত বা হ্রদ থেকে যেসব ছোট নদী উৎপন্ন হয়ে কোনো বড় নদীতে পতিত হয় তাকে সেই বড় নদীর উপনদী বলে।
- বাংলাদেশের তিস্তা ও করতোয়া হলো যমুনা নদীর উপনদী।
- শাখানদী: মূল নদী থেকে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। বাংলাদেশের কুমার ও গড়াই হলো পরা নদীর শাখানদী।
অপরদিকে,
- নদী উপত্যকা: যে খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয় সে খাতকে উন্ন নদীর উপত্যকা বলে।
- নদীগর্ত: নদী উপতাকার তলদেশকে নদীগর্ভ বলে।
- নদী অববাহিকা: উৎপত্তি স্থান থেকে শাখাপ্রশাখার মাধ্যমে যে বিদীর্ণ অঞ্চল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রঃ যা হ্রদে পতিত হয় সেই - সমগ্র অঞ্চলই নদীর অববাহিকা।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
গিবসন মরুভূমি:
- গিবসন মরুভূমি (Gibson Desert) অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশাল মরু অঞ্চল,
- যা আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাপনের জন্য পরিচিত।
- অবস্থান: পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত;
- লিটল স্যান্ডি মরুভূমি, গ্রেট স্যান্ডি মরুভূমি এবং গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি দ্বারা ঘেরা।
- আয়তন: প্রায় ১৫৫,০০০ বর্গ কিলোমিটার (১৫৬,০০০ কিমি²);
- অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম বৃহত্তম মরুভূমি, যা দেশের মোট আয়তনের ২.০%।
জলবায়ু: সাধারণত গরম; গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪০°সে-এর উপরে, শীতকালে ন্যূনতম ৬°সে।
- ১৮৭৪ সালে অন্বেষণকারী অ্যালফ্রেড গিবসনের নামে নামকরণ, যিনি এই মরুভূমিতে হারিয়ে যান এবং কখনো পাওয়া যায়নি।
•বিভিন্ন দেশের কয়েকটি বিখ্যাত মরুভূমি:
- সাহারা মরুভূমি: আফ্রিকা (১১টি দেশ জুড়ে)
- আরবীয়ান মরুভূমি: এশিয়া (আরব উপদ্বীপ)
- গোবি মরুভূমি: এশিয়া (মঙ্গোলিয়া, চীন)
- প্যাটাগোনিয়ান মরুভূমি: দক্ষিণ আমেরিকা (আর্জেন্টিনা)
- গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি: অস্ট্রেলিয়া
- কালাহারি মরুভূমি: আফ্রিকা (নামিবিয়া, বতসোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা)।
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
ম্যাজিনো লাইন:
- ফ্রান্স কর্তৃক জার্মান-ফ্রান্স সীমান্তে (প্রধানত আলসাস-লরেন অঞ্চলে) জার্মান আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১৯২৯ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে নির্মিত বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো ম্যাজিনো লাইন।
- এটি ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে ম্যাজিনোর নামে নামকরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে,
• হিন্ডারবার্গ লাইন: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নির্মিত একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অবস্থান, যা ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলে অ্যারাস থেকে লাফাক্স পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল
• ওডেরনিস লাইন: এটি হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে নির্ধারিত একটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখা,
• জিগফ্রিড লাইন: জিগফ্রিড লাইন (Siegfried Line) ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি কর্তৃক ফ্রান্স-জার্মানি সীমান্তে নির্মিত একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক সামরিক স্থাপনা।
উৎস:ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে।
- পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ দখল করে আছে।
- তবে মহাদেশীয় ভূত্বকের আবরণের ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে ।
- পাললিক শিলা যৌগিক, জৈবিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হতে পারে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।
- জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে।
- অনেক পাললিক শিলার মধ্যে নানাপ্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়।
উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র এপিসেন্টার (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।
উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫।
- ভূমিকম্প সংঘটনের সময়: ১৮ ঘন্টা ৪৩ মিনিট ৩১ সেকেন্ড (বি.এস.টি) (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)
- উৎপত্তিস্থল: অক্ষাংশঃ ২২.০৭° উত্তর, দ্রাঘিমাঃ ৯২.৫১° পূর্ব (রুমা, বান্দরবান)
- উৎপত্তিস্থল হতে দূরত্ব: ২৮৯ কি.মি. (ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র, ঢাকা হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে)
- ভূমিকম্পের মাত্রা: ৩.৯ রিখটার স্কেল
- ভূমিকম্পের শ্রেণী: মৃদু
উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবহাওয়া অফিস।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় স্লেট পাথর, বেলে পাথর ও কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত।
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হচ্ছে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এসব পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে।
- পাহাড়ি এলাকার দীর্ঘকালের প্রাকৃতিক ভূমিক্ষয়ের ফলে পাহাড়ি এলাকার উচ্চতা কমে ক্ষয়িত অংশের দ্বারা সংলগ্ন এলাকা ভরাট হয়ে নতুন মৃত্তিকার সমতল ভূমি সৃষ্টি করছে।
• রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ অবস্থিত।
= এসকল পাহাড়কে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ ও
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহ
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের (রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম) পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান এলাকার পাহাড়ের সাথে এদের মিল দেখা যায়।
- এ সকল পাহাড় বেলে পাথর, স্লেট পাথর ও কর্দমের সংমিশ্রণে গঠিত।
- এদের মধ্যে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিনডং(বিজয়)-র উচ্চতা ১২৩১ মিটার। এটি বান্দরবন জেলায় অবস্থিত।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায়) ছোট বড় বিচ্ছিন্ন কতগুলো পাহাড় অবস্থিত।
- এ অঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য পাহাড় হল সুনামগঞ্জের ছাতক পাহাড়।
- ছাতক (উপজেলা) শহরের উত্তরে প্রায় ৪০ কি.মি. স্থান জুড়ে এই টিলা পাহাড়টি অবস্থিত।
- এছাড়া মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত পাহাড়গুলো কোনোরূপ গিরিশ্রেণী গঠন করেনি। এদেরকে ত্রিপুরার পাহাড় বলা হয়।
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
• বিশ্বব্যাংকের "Risk and Resilience: Helping People and Firms Adapt in South Asia" রিপোর্ট:
- প্রকাশিত হয়: জুন, ২০২৫।
- ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার (বাংলাদেশসহ) মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০% (প্রায় ১.৮ বিলিয়ন মানুষ) চরম তাপের ঝুঁকিতে থাকবে।
- এই ঝুঁকি উত্তাপ তরঙ্গের ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণ হবে।
- বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উচ্চতম তাপ-ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার হিসেবে,
- যেখানে ২০২৪ সালেই উত্তাপ-সম্পর্কিত ক্ষতি GDP-এর ০.৪% (প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে।
- রিপোর্টটি জলবায়ু অভিযোজনের জন্য আর্থিক সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত-কর্মক্ষেত্রীয় প্রস্তুতির উপর জোর দিয়েছে, যাতে এই ঝুঁকি মোকাবেলা করা যায়।
উৎস: বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।[লিঙ্ক]
ডেকার হাওর:
- সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, দোয়ারাবাজার এবং সুনামগঞ্জ সদরের অধীনে অবস্থিত।
- এর আয়তন ২৫,১০০ হেক্টর।
- এতে বেশ কয়েকটি বড় অগভীর বিল রয়েছে যাতে ভাসমান এবং উদ্ভিদ জলজ উদ্ভিদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রয়েছে,
- যা ধানক্ষেত দ্বারা ঘেরা।
আরো কয়েকটি হাওড়:
• হাইল হাওর:
- হাইল হাওর মৌলভীবাজার জেলার মৌলভীবাজার সদর এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার অধীনে অবস্থিত।
- এর আয়তন ১৫,১০০ হেক্টর।
- এটি দক্ষিণ-পূর্বভাগে তারাপ এবং বানুগাছ পাহাড়শ্রেণীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
বাইক্কা বিল:
- বাইক্কা বিল হলো হাইল হাওরের মধ্যে অবস্থিত ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমি অভয়ারণ্য।
- এতে উন্মুক্ত জলস্থান রয়েছে যাতে উদ্ভিদ (প্রধানত পদ্ম) উদ্ভিদ এবং স্থানীয় জলাভূমি বনের একটি ফ্রিঞ্জ রয়েছে।
- বিলটি মাছ সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য সুরক্ষিত এবং এতে প্রায় ৯০ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।
- শীতকালে প্রায় ১৪১ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি এখানে বিশ্রাম এবং বাসার জন্য ব্যবহার করে।
উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।
সভ্যতা ও সমাজ:
- সভ্যতা (Civilization) বলতে বোঝায় মানুষের জীবনযাপনের উন্নত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রূপ।
- এখানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, নৈতিকতা, শিল্প, সাহিত্য, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো ও মানদণ্ডে গড়ে ওঠে।
- আর এই সভ্যতার বিকাশ ও বিকাশমান রূপের অন্যতম প্রধান প্রতিফলন হয় সমাজে।
- সমাজ হল মানুষের সম্মিলিত জীবনযাপন ও পারস্পরিক সম্পর্কের কাঠামো।
- মানুষ সমাজে বসবাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি, নৈতিকতা, আইন, শিক্ষা এবং শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলে, যা সভ্যতার গঠন ও বিকাশে ভূমিকা রাখে।
- তাই সমাজকে সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি বলা হয়।
উৎস: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বার্ট্রান্ড রাসেল:
- রাসেল ছিলেন একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, যুক্তিবিদ, গণিতবিদ, ইতিহাসবেত্তা, সমাজকর্মী, অহিংসাবাদী, এবং সমাজ সমালোচক।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত যুদ্ধবিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ব্যক্তিত্ব।
- ১৯৫০ সালে তিনি সাহিত্য ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেল রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো -
- The Elements of Ethics,
- Human Society in Ethics and Politics,
- Moral and others,
- Power: A New Social Analysis,
- Political Ideals,
- Introduction to Mathematical Philosophy etc.
উৎস: শিক্ষার দার্শনিক ও মনোবৈজ্ঞানিক ভিত্তি, এমএড প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন:
- সরকার ও জনগণের স্বার্থকে এক সুতোয় বাঁধার প্রক্রিয়াকে সুশাসন (Good Governance) বলা হয়।
- এটি এমন একটি শাসনব্যবস্থা যা জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।
- সুশাসনই জনগণ ও সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক ও স্বার্থের সমন্বয় ঘটায়।
- সুশাসনের মাধ্যমে জনগণ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
- এই শাসনব্যবস্থায় সরকার কীভাবে কাজ করছে, তার জবাবদিহিতা থাকে জনগণের প্রতি।
- সুশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ প্রদান করে।
- সুশাসনই সেই মূল ভিত্তি যা সরকার ও জনগণের মাঝে বিশ্বাস, সমন্বয় এবং কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- জনগণের কল্যাণ সাধনই আধুনিক রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দশ্য।
- আধুনিক প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রই মূলত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বুঝায় যার সমুদয় সম্পদ ও শক্তিকে নাগরিকের সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত করা হয়।
- যে রাষ্ট্রে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নতি ও মঙ্গলের জন্য কর্মসূচী প্রণয়ণ ও বাস্তবায়ন করে তাঁকে কল্যাণ রাষ্ট্র বলা হয়।
- কল্যাণ রাষ্ট্র জনগণের মৌলিক চাহিদা যেমন খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
- মৌলিক চাহিদা বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই রাষ্ট্র পরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি এবং সুষম বন্টন নিশ্চিত করে।
- এছাড়া বিনা খরচে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা, বেকার ভাতা এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে।
উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সমাজ:
- রাষ্ট্র ও সমাজ দুটি ভিন্নধর্মী সংগঠন। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে যে সংস্থার সৃষ্টি হয় তাই সমাজ।
- ম্যাকাইভার বলেন "Society is the whole system of social relationship."
- সমাজ হচ্ছে গোটা সামাজিক সম্পর্কের ব্যবস্থা।
- যেখানেই মানুষ পরস্পর স্বেচ্ছায় একত্রিত হয়েছে সেখানেই সমাজ গড়ে উঠেছে।
- এডমন্ড তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, Reflection of the Revolution in France-এ উল্লেখ করেছেন যে সমাজ একটি সংঘবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- গিডিংসের মতে, "সমাজ বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বুঝায় যারা কোন সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মিলিত হয়েছে।"
- সমাজ সকল সংঘ ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে।
- রাষ্ট্র সমাজের এক প্রধান সংগঠন।
উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান: রাষ্ট্রতত্ত্ব, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
UNDP ও সুশাসন:
- জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) ১৯৯৭ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শাসনতান্ত্রিক পলিসির উপর গুরুত্ব আরোপ করতে গিয়ে সুশাসনের সংজ্ঞা প্রদান করে।
- UNDP-এর মতে, “একটি দেশের সার্বিক স্তরের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চার বা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো সুশাসন”।
- এটি একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্তৃত্বের চর্চাকে নির্দেশ করে, যেখানে অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের মতো উপাদান গুরুত্ব পায়।
• UNDP এর মতে সুশাসনের উপাদান ৯টি:
- স্বচ্ছতা, আইনের শাসন, সকলের অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের প্রাধান্য, সমতা, ন্যায্যতা, জবাবদিহিতা কৌশলগত লক্ষ্য।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। এবং UNDP ওয়েবসাইট।
নৈতিক মূল্যবোধ:
- নৈতিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব মনোভাব এবং আচরণ, যা মানুষ সবসময় ভালো, কল্যাণকর ও অপরিহার্য বিবেচনা করে এবং এতে মানসিক তৃপ্তি অনুভব করে।
- সত্যকে সত্য বলা, অন্যায়কে অন্যায় বলা, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা, অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং অন্যকে বিরত রাখতে পরামর্শ দেওয়া নৈতিক মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্ত।
- নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধেয় এবং বিশ্বস্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
- চরিত্র গঠনের জন্য আত্মবিশ্বাস, সাহসিকতা বা সৃজনশীলতা সহায়ক হলেও নৈতিক মূল্যবোধই হল সেই মূল ভিত্তি, যার উপর একটি দৃঢ়, সৎ ও গঠনমূলক চরিত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি: প্রথমপত্র: মো. মোজাম্মেল হক।
পরানীতিবিদ্যা (Meta-ethics):
- ‘Meta Ethics’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে পরানীতিবিদ্যা।
- পরানীতিবিদ্যা হলো নীতিশাস্ত্রের একটি শাখা, যা নৈতিক বিচার, নৈতিক ভাষা, নৈতিক সত্য এবং নৈতিক মূল্যবোধের প্রকৃতি নিয়ে দর্শনচিন্তা করে।
- এটি আমাদের শেখায়, কোনো কাজ সঠিক না ভুল- সেটা নির্ধারণ করার আগে, আমাদের জানা দরকার "সঠিক" বা "ভুল" শব্দগুলোর মানে কী এবং সেগুলো কীভাবে কাজ করে।
- পরানীতিবিদ্যা আমাদের নৈতিক ধারণাগুলোর গভীর ব্যাখ্যা দেয় - এগুলোর ভাষাগত, যুক্তিভিত্তিক ও অস্তিত্বগত বিশ্লেষণ করে।
- এটি সঠিক ও ভুলের বিচার না করে, বরং এই বিচারগুলোর ভিত্তি কী, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।
উৎস: নীতিবিদ্যা, এসএসএইচএল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সুশাসন:
- বিশ্বব্যাংকের ‘প্রেসক্রিপশন’ (Prescription) নামে পরিচিত প্রত্যয়টি হলো সুশাসন।
- ১৯৮০–এর দশক থেকে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সংকট, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায় যে কেবল আর্থিক সহায়তা বা ঋণ প্রদানই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে না।
- এজন্য তারা উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠার সুপারিশ বা প্রেসক্রিপশন প্রদান করে।
- বিশ্বব্যাংকের মতে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, কার্যকর প্রশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
- তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সুশাসনকে বিশ্বব্যাংক একটি বাধ্যতামূলক নীতিগত নির্দেশনা বা ‘প্রেসক্রিপশন’ হিসেবে উপস্থাপন করে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
সামাজিক মূল্যবোধ (Social Values):
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদণ্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে গড়ে ওঠা এমন কিছু আচরণ, বিশ্বাস ও নীতি, যা সবার জন্য গ্রহণযোগ্য এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও সহাবস্থানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
• বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানীর সংজ্ঞানুযায়ী-
• সমাজবিজ্ঞানী এইচ এম জনসন এর মতে,
"সামাজিক মূল্যবোধ হলো একটি মানদণ্ড।"
• ক্লাইড ক্লুখোন বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে সেসব প্রকাশ্য ও অনুমেয় আচার-আচরণের ধারা যা ব্যক্তি ও সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলে স্বীকৃত।''
• সমাজবিজ্ঞানী এফ ই মেরিল বলেন-
''সামাজিক মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাসের এক প্রকৃতি বা ধরণ, যা গোষ্ঠীগত কল্যাণে সংরক্ষণ করাকে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।''
• স্টুয়ার্ট সি. ডড -এর মতে,
''সামাজিক মূল্যবোধ হলো সেই সকল রীতি-নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তি সমাজের নিকট হতে আশা করে এবং যা সমাজ ব্যক্তির নিকট হতে লাভ করে।''
উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
গণতন্ত্র (Democracy):
- গনতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ Democracy, যা গ্রিক শব্দ Demos এবং Kratos বা Kratia থেকে উদ্ভূত।
- Demos অর্থ জনগণ এবং Kratos বা Kratia শব্দের অর্থ শাসন ক্ষমতা সুতরাং শব্দগত অর্থে গণতন্ত্রের অর্থ হচ্ছে জনগণের শাসন ক্ষমতা।
- গণতন্ত্র আধুনিক যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় সরকার।
- গণতন্ত্রে সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ।
• জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন। শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি।
- এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।
- মূল্যবোধ নির্ধারিত হয় আচরণের মাধ্যমে।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- মূল্যবোধের প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হচ্ছে বিদ্যালয়।
- মূল্যবোধ স্থায়ী নয় বরং পরিবর্তনশীল।
- শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলাবোধ ও মানবিক সুবিবেচিত আচরণের সমষ্টিগত রূপই হলো মূল্যবোধ।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দুর্নীতি দমনকে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ দুর্নীতি সুশাসনের প্রধান অন্তরায়।
- দুর্নীতির ফলে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায়।
- সুশাসনের মৌলিক উপাদানসমূহ- যেমন ন্যায়বিচার, কার্যকারিতা, অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা- দুর্নীতির কারণে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- এছাড়া বিচার বিভাগ, আমলাতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার- এই তিনটি ক্ষেত্রের কার্যকারিতাও মূলত দুর্নীতি দমনের উপর নির্ভরশীল।
- অর্থাৎ দুর্নীতি দমন ছাড়া এসব ক্ষেত্রের কোনোটিই কার্যকরভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে না।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Law'।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্নভাবে আইনের সংজ্ঞা দিয়েছেন।
- এরিস্টটল বলেন, "সমাজের যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।"
- অধ্যাপক হল্যান্ড এর মতে, আইন হচ্ছে, "সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ ও বলবৎ করা হয়।"
- আইনবিদ স্যামন্ড এর মতে, "আইন হলো ন্যায় প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও প্রয়োগকৃত নীতিমালা।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে, আইন বলতে সমাজ স্বীকৃত এবং রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত নিয়ম-কানুনকে বোঝায় যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। আইন মানুষের মঙ্গলের জন্য প্রণয়ন করা হয়। আইনের দ্বারা ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, ব্যক্তির সাথে রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে দেশের আইনসভা কতৃক আইন প্রণীত হয় এবং নির্বাহী বিভাগ তা প্রয়োগ করে। আইন ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধান আছে।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
- 'সম্পত্তি লাভের অধিকার' সামাজিক অধিকার।
অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
- অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
১. নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার। এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
২. আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত -অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।
ক. সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি। যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।
খ. রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
গ. অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে। যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
অ্যাজটেক সভ্যতা:
- অ্যাজটেক সভ্যতা ছিল মেসোআমেরিকার শেষ বড় সভ্যতাগুলোর একটি।
- উত্তর মেসোআমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা ৷
- বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- যার বিস্তৃতি ছিল উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ অংশজুড়ে।
- খ্রিস্টীয় ১২ শতকে এ সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল।
- অ্যাজটেকের রাজধানী ছিল টেনোচিটিলান ।
- আকামাপিচটলি ছিলেন অ্যাজটেকদের প্রথম রাজা ।
- কৃষিকাজের মাধ্যমে অ্যাজটেক সভ্যতার প্রসার ঘটে।
- চিনাম্পা নামক ভাসমান বাগানের মাধ্যমে তারা অত্যন্ত উন্নত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- অ্যাজটেকদের কাছে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
- তারা প্রকৃতির শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী বেশ কয়েকটি দেবতার পূজা করত।
- অ্যাজটেক ধর্মের দেবতা:
• যুদ্ধের দেবতা হুইটজিলোপোচটলি,
• সূর্যের দেবতা টোনাটিউহ,
• বৃষ্টির দেবতা তালোক।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সরাসরি যোগদান করে: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৪১ সালে।
- জার্মানি মিত্রবাহিনীর নিকট নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে: ৭ মে, ১৯৪৫ সালে।
- ২ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ জাপান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক অস্ত্রের দুটি ব্যবহার হয়েছিল।
⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পক্ষসমূহ:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• জার্মানি,
• জাপান,
• ইতালি।
- মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত ছিল:
• ব্রিটেন,
• ফ্রান্স,
• যুক্তরাষ্ট্র,
• সোভিয়েত ইউনিয়ন,
• চীন,
• পোল্যান্ড,
• নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।
⇒ উল্লেখ্য:
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ার নেতা বা প্রেসিডেন্ট ছিলেন জোসেফ স্ট্যালিন।
- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উইনস্টন চার্চিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট ও হ্যারি এস. ট্রুম্যান।
তথ্যসূত্র - হিস্টোরি ও ব্রিটানিকা কম।
নাগোয়া প্রটোকল:
- এর পূর্ণরূপ: The Nagoya Protocol on Access and Benefit-sharing.
- জৈবিক বৈচিত্র্য কনভেনশনের একটি পরিপূরক চুক্তি নাগোয়া প্রোটোকল।
- নাগোয়া প্রটোকল গৃহীত হয়: ২৯ অক্টোবর, ২০১০ সাল।
- নাগোয়া প্রটোকল স্বাক্ষরের স্থান: নাগোয়া, জাপান।
- নাগোয়া প্রটোকল কার্যকর হয়: ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সাল।
⇒ নাগোয়া প্রটোকলের উদ্দেশ্যগুলো হল:
• জিনগত সম্পদের ব্যবহার থেকে উদ্ভূত সুবিধাগুলির ন্যায্য এবং ন্যায়সঙ্গত বন্টন,
• জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ,
• টেকসই ব্যবহারে অবদান রাখা যায়৷
তথ্যসূত্র - Convention on Biological Diversity ওয়েবসাইট।
ESCWA:
- পশ্চিম এশীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন।
- ECWA এর পূর্ণরূপ: United Nations Economic and Social Commission for Western Asia.
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৩ সালে।
- সদর দপ্তর: বৈরুত, লেবানন।
⇒ উদ্দেশ্য:
• সদস্য দেশগুলিতে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপকে উৎসাহিত করা,
• তাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা।
• উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
⇒ অন্যদিকে:
- এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP)।
- ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অর্থনৈতিক কমিশন (ECLAC)।
- আফ্রিকান অর্থনৈতিক কমিশন (ECA)।
তথ্যসূত্র - ESCWA ওয়েবসাইট।
♦ ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬:
- ২০২৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩ তম আসর অনুষ্ঠিত হবে।
- আয়োজক দেশ: ৩টি।
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,
• কানাডা এবং
• মেক্সিকো।
- সময়কাল: ১১ জুন, ২০২৬ থেকে ১৯ জুলাই, ২০২৬।
- অংশগ্রহণকারী দেশ: ৪৮টি।
- অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ।
- তিন দেশের ১৬টি ভেন্যুতে এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
♦ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের মাসকট:
- ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ৩টি মাসকট উন্মোচন করেছে ফিফা।
- ৩টি মাসকট যৌথভাবে আয়োজক তিন দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
- ৩টি মাসকট হলো ‘ক্লাচ’ নামের টাক ঈগল, ‘মেপল’ নামের মুজ আর মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে আসা ‘জায়ু’ নামের জাগুয়ার।
- ‘মেপল, জায়ু ও ক্লাচ—আনন্দ, উদ্যম আর একতার প্রতীক।
- এই মাসকটগুলো একসঙ্গে একতা, বৈচিত্র্য আর ফুটবল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আবেগের প্রতীক।
তথ্যসূত্র - ফিফা ওয়েবসাইট।
হাজার হ্রদের দেশ:
- ফিনল্যান্ড উত্তর ইউরোপের একটি দেশ।
- ফিনল্যান্ডের হাজার হাজার হ্রদের কারণেই দেশটির ডাকনাম 'হাজার হ্রদের দেশ'।
- জনসংখ্যার সাথে হ্রদের সংখ্যার তুলনা করলে দেখা যায় যে প্রতি ২৬ জন ফিনের জন্য একটি হ্রদ রয়েছে।
- ফিনল্যান্ডের ভূমি এলাকার ১০% জল।
- লেকল্যান্ড ফিনল্যান্ডের একটি অংশ যেখানে সর্বাধিক সংখ্যক হ্রদ রয়েছে।
- লেকল্যান্ডের বৃহত্তম হ্রদ হল "সাইমা" যা সাইমা রিংড সিলের আবাসস্থল হওয়ার জন্য জনপ্রিয়।
⇒ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভৌগলিক উপনাম:
- নিশীথ সূর্যের দেশ: নরওয়ে।
- সূর্যোদয়ের দেশ: জাপান।
- সাদা হাতির দেশ: থাইল্যান্ড।
- হাজার হ্রদের দেশ: ফিনল্যান্ড।
- নীল নদের দেশ: মিশর।
- ক্যাঙ্গারুর দেশ: অস্ট্রেলিয়া।
- পিরামিডের দেশ: মিশর।
- ভূমিকম্পের দেশ: জাপান।
- ম্যাপল পাতার দেশ: কানাডা।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
⇒ ANZUS এর সদস্য দেশ নয় যুক্তরাজ্য।
ANZUS:
- এটি শীতল যুদ্ধের সময় কমিউনিজমের হুমকির বিরুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত হয়।
- ANZUS একটি সামরিক জোট।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সালে।
- কার্যকর হয়: ১৯৫২ সালে।
- ANZUS এর সদস্য দেশ: ৩টি। যথা:
• অস্ট্রেলিয়া,
• নিউজিল্যান্ড,
• যুক্তরাষ্ট্র।
⇒ উদ্দেশ্য:
- যেকোনো একটি দেশের উপর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সশস্ত্র আক্রমণ হলে অন্যদের শান্তি ও নিরাপত্তা বিপন্ন হবে বলে মনে করা হবে, এবং সকলে মিলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসারে সেই বিপদ মোকাবিলা করবে।
তথ্যসূত্র - ANZUS-এর ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।
WWF:
- WWF এর পূর্ণরূপ World Wildlife Fund.
- WWF প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংগঠন।
- জলাবায়ু, খাদ্য, বনভূমি, সুপেয় পানি, সমুদ্র, বণপ্রাণী প্রভৃতি ক্ষেত্রে WWF এর কর্মপরিধি বিস্তৃত।
- WWF প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬১ সালে।
- World Wildlife Fund এর সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- বর্তমান সভাপতি: কার্টার রবার্টস।
- WWF প্রায় ১০০টি দেশে কাজ করে।
তথ্যসূত্র - WWF অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
OIC:
- OIC এর পূর্ণরূপ The Organisation of Islamic Cooperation.
- ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা OIC.
- OIC রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠার স্থান: মরক্কো।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯ সালে।
- সদর দপ্তর: জেদ্দা, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: হুসাইন ইব্রাহিম তাহা (১২ তম)।
- অফিসিয়াল ভাষা: ৩টি।
• আরবি,
• ইংরেজি,
• ফ্রেঞ্চ।
- বর্তমান সদস্য: ৫৭টি।
♦ উল্লেখ্য:
⇒ দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দুটি দেশ OIC এর সদস্য।
• গায়ানা ও
• সুরিনাম।
⇒ ইউরোপ মহাদেশের আলবেনিয়া OIC এর সদস্য।
অন্যদিকে:
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২২-২৪ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত OIC এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে সর্বপ্রথম অংশগ্রহণ করে।
তথ্যসূত্র - OIC অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস:
- আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস: ২৪ জানুয়ারি।
- ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রস্তাব অনুযায়ী দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং বৈশ্বিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরতে দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ।
⇒ অন্যান্য আন্তর্জাতিক দিবস সমূহ:
- আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস: ৯ ডিসেম্বর।
- আন্তর্জাতিক নারী দিবস: ৮ মার্চ।
- বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস: ১০ অক্টোবর।
- বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস: ১১ জুলাই।
- বিশ্ব পরিবেশ দিবস: ৫ জুন।
- বিশ্ব বন দিবস: ২১ মার্চ।
- বিশ্ব সমুদ্র দিবস: ৮ জুন।
- বিশ্ব প্রাণী দিবস: ৪ অক্টোবর।
তথসের - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট
ফ্রান্স:
- ফ্রান্স উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের দেশ।
- এটি ইউরোপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদনকারী এবং বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প শক্তি।
- দেশটির আয়তন প্রায় ৫৪৩,৯৪০ বর্গ কিমি (২১০,০২০ মাইল)।
- দেশটির উত্তর-পূর্বে বেলজিয়াম এবং লুক্সেমবার্গে, পূর্বে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড এবং ইতালি ও দক্ষিণ-পূর্বে, মোনাকো এবং ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- দেশটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি টাইম জোনে বিভক্ত।
- দেশটিতে মোট ১৩টি টাইম জোন রয়েছে।
- রাজধানী ও বৃহত্তম নগরী: প্যারিস।
- মুদ্রা: ইউরো।
- ভাষা: ফরাসি (অফিসিয়াল)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক; এছাড়াও প্রোটেস্ট্যান্ট); এছাড়াও ইসলাম, ইহুদি ধর্ম।
- ফ্রান্সে বর্তমানে আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত (Semi-Presidential Republic) ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এটি ফিফথ রিপাবলিক (Fifth Republic) নামে পরিচিত।
- ১৯৫৮ সালের সংবিধানে সংসদীয় এবং রাষ্ট্রপতি উভয় ব্যবস্থার উপাদানগুলিকে একত্রিত করে একটি মিশ্র (আধা-রাষ্ট্রপতি) সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
- রাষ্ট্রপতি সরাসরি সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে হন এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কাজ করেন।
- দেশটির আইন সভা দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট।
তথ্যসূত্র - Britannica.com
Interpol:
- এর পূর্ণরূপ International Criminal Police Organization.
- Interpol হল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা।
- ১৯২৩ সালে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান কার্যালয় ফ্রান্সের লিওঁতে অবস্থিত।
- এর বর্তমান মহাসচিব ভালডেসি উরকুইজা।
- তিনি ব্রাজিলের নাগরিক।
- ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ৯২তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- বর্তমান সদস্য দেশ ১৯৬টি।
- সর্বশেষ সদস্য দেশ: পালাউ।
⇒ উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ সদস্যপদ লাভ করে: ১৪ অক্টোবর, ১৯৭৬ সাল।
তথ্যসূত্র - ইন্টারপোল অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
⇒ বাসেল কনভেনশন UNEP এর অধীনে গৃহীত হয়।
বাসেল কনভেনশন:
- 'বাসেল কনভেনশন' হলো বিপদজনক বর্জ্য দেশের সীমান্তের বাইরে চলাচল এবং নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কনভেনশন।
- বাসেল কনভেনশনের পুরো নাম- The Basel Convention on the Control of Transboundary Movements of Hazardous Wastes and their Disposal.
- বাসেল কনভেনশন গৃহীত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৮৯ সালে।
- বাসেল কনভেনশন গৃহীত হওয়ার স্থান: বাসেল, সুইজারল্যান্ড।
- এর কার্যক্রম শুরু হয় ৫ মে, ১৯৯২ সালে।
- জাতিসংঘের অধীনে বিপজ্জনক বর্জ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহন ও নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণকারী চুক্তি বাসেল কনভেনশন।
⇒ উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশকে 'বাসেল কনভেনশন' অনুমোদন করে ১৯৯৩ সালে।
তথ্যসূত্র - বাসেল কনভেনশন ওয়েবসাইট।
ICSID:
- ICSID এর পূর্ণরূপ International Centre for Settlement of Investment Disputes.
- এটি বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।
- ICSID সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পুঁজি বিনিয়োগ জনিত বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ অক্টোবর, ১৯৬৬ সাল।
- যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এর প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১৫৮টি।
⇒ উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশ ICSID এর সদস্য পদ লাভ করে ১৯৮০ সালে।
⇒ অন্যদিকে:
- IBRD মধ্য-আয়ের এবং ঋণযোগ্য নিম্ন-আয়ের দেশগুলিকে ঋণ, গ্যারান্টি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পণ্য এবং উপদেষ্টা পরিষেবা প্রদান করে।
- যেসব দেশ IBRD থেকে ঋণ পায় না, সেসব দেশকে IDA ঋণ প্রদান করে থাকে।
- MIGA বৈদেশিক বিনিয়োগে মধ্যস্থতা এবং গ্যারান্টি প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করে থাকে।
তথ্যসূত্র - বিশ্বব্যাংক ওয়েবসাইট।
গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স- ২০২৫:
- ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) প্রতি বছর বিশ্বের বসবাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করে।
- তালিকায় পাঁচটি প্রধান মানদণ্ডে বিশ্বের ১৭৩টি শহরের মূল্যায়ন করা হয়।
- মানদণ্ডগুলো হলো–স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো।
- গত ১৬ জুন, ২০২৫ ইআইইউ ২০২৫ সালের তালিকা প্রকাশ করে।
♦ শীর্ষ দেশসমূহ:
• কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক।
• ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
• জুরিখ, সুইজারল্যান্ড।
• মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া।
• জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
⇒ উল্লেখ্য:
⇒ বাংলাদেশের অবস্থান ১৭১ তম।
তথ্যসূত্র - বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট।
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার রাজধানী ছিল কুজকো।
- এই সভ্যতার স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- তাদের স্থাপত্য, সেচ ব্যবস্থা, প্রাসাদ, মন্দির ও দুর্গের অবশেষ আজও আন্দিজে দেখা যায়।
- ১৫৩২ সালে স্প্যানিশ বিজয়ীদের দ্বারা ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
সিমলা চুক্তি:
- ১৯৭১ সালে ভারত - পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ (বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে) পরবর্তী সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা এবং ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘাত রোধ করা।
- স্বাক্ষরের তারিখ: ২ জুলাই, ১৯৭২ সাল।
- স্বাক্ষরের স্থান: সিমলা, হিমাচল প্রদেশ, ভারত।
- স্বাক্ষরকারী পক্ষ: ভারত ও পাকিস্তান।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী:
• ভারতের পক্ষে - প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
• পাকিস্তানের পক্ষে - প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো।
তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা এবং হিস্টরি.কম।
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সম্মেলন:
- সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে জাতিসংঘের প্রথম পরিবেশ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলন ১৯৭২ সালে অনুষ্ঠিত হয়।
- স্টকহোম সম্মেলনের ফলাফল হিসেবে জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) তৈরী হয়।
- স্টকহোম ঘোষণাপত্রে ২৬টি নীতি রয়েছে।
⇒ অ্যাকশন প্ল্যানে তিনটি প্রধান বিভাগ ছিল। যথা:
• গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (ওয়াচ প্ল্যান)।
• পরিবেশ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
• জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্পাদিত মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমকে সমর্থন করার জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা।
- এই বিভাগগুলিকে ১০৯টি সুপারিশে বিভক্ত করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র - জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
আরব লীগ:
- মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন।
- স্বাক্ষরিত হয়: ৭ অক্টোবর, ১৯৪৪ সাল।
- আরব লীগের ভিত্তি: আলেকজান্দ্রিয়া প্রটোকল।
- আরব লীগ গঠিত হয়: ২২ মার্চ, ১৯৪৫ সাল।
- সদর দপ্তর: কায়রো, মিশর।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ২২টি।
- আরব লীগ বহির্ভূত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ: ইরান।
- অফিসিয়াল ভাষা: আরবি।
- আরব লীগের বর্তমান মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত।
⇒ উদ্দেশ্য:
•সদস্য দেশগুলোর রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডের সমন্বয় ও বন্ধন শক্তিশালী করা।
তথ্যসূত্র - আরব লীগ ওয়েবসাইট।
⇒ উত্তর ইউরোপের দেশসমূহ:
• নরওয়ে,
• সুইডেন,
• ডেনমার্ক,
• ফিনল্যান্ড,
• আইসল্যান্ড,
• যুক্তরাজ্য,
• আয়ারল্যান্ড,
• লিথুয়ানিয়া,
• লাটভিয়া,
• এস্তোনিয়া।
⇒ পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ:
• বেলারুশ,
• বুলগেরিয়া,
• চেক প্রজাতন্ত্র,
• হাঙ্গেরি,
• পোল্যান্ড,
• মলদোভা,
• রোমানিয়া,
• রাশিয়া,
• স্লোভাকিয়া,
• ইউক্রেন।
তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
GATT চুক্তির রাউন্ড:
- ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত GATT চুক্তির দুর্বলতা ও সমস্যা সমাধানের জন্য মোট ৮টি রাউন্ড সম্পন্ন হয়।
- সেগুলো হলো:
• Geneva Round,
• Annecy Round,
• Torquay Round,
• Geneva II Round,
• Dillon Round,
• Kennedy Round,
• Tokyo Round,
• Uruguay Round.
⇒ GATT চুক্তির সর্বশেষ রাউন্ড 'Uruguay Round'.
⇒ উরুগুয়ে রাউন্ড:
- GATT চুক্তির রাউন্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রাউন্ড হচ্ছে উরুগুয়ে রাউন্ড।
- উরুগুয়ে রাউন্ড শুরু হয়: ১৯৮৬ সালে।
- ১৫ এপ্রিল, ১৯৯৪ সালে উরুগুয়ে রাউন্ডের সমাপ্তির সময়ে GATT চুক্তি সংশোধনের মাধ্যমে।
- উরুগুয়ে রাউন্ডের সংলাপ চলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে।
- এর ফলে নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যার ফলে ১৯৯৫ সালে জন্ম হয় World Trade Organization (WTO)-এর।
তথ্যসূত্র - WTO ওয়েবসাইট।
UNFCCC:
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন UNFCCC.
- UNFCCC এর পূর্ণরূপ United Nations Framework Convention on Climate Change.
- জাতিসংঘ সদর দপ্তরে United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC) গৃহীত হয়।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে এটি স্বাক্ষরের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়।
- UNFCCC স্বাক্ষরিত হয়: ১৯৯২ সালে।
- কার্যকর হয়: ২১ মার্চ ১৯৯৪ সালে।
- সদর দপ্তর: বন, জার্মানি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৮টি।
তথ্যসূত্র - UNFCCC ওয়েবসাইট।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল:
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
- এটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রধান কার্যালয়: লন্ডন, যুক্তরাজ্যে।
- প্রতিষ্ঠাতা: ব্রিটিশ আইনজীবী পিটার বেনেনসন।
- সংস্থাটি ১৯৭৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
⇒ উল্লেখ্য:
- অ্যামনেস্টির প্রথম নারী ও এশীয় মহাসচিব ছিলেন বাংলাদেশের আইরিন জুবাইদা খান (২০০১-২০০৯)।
তথ্যসূত্র - অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট।
কার্বন-নেগেটিভ দেশ:
- ভুটান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত জলবায়ুর দেশ।
- ভুটান বিশ্বের প্রথম কার্বন-নেগেটিভ দেশ।
- দেশটির ৭২ শতাংশ ভূখণ্ড বনভূমিতে পরিপূর্ণ, যা কার্বন নিঃসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- দেশটির সংবিধানের একটি সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদ পরিবেশ রক্ষার জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে, যেখানে দেশের অন্তত ৬০ শতাংশ এলাকা সবসময় বনাচ্ছাদিত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
- দেশটির বন এবং নির্দিষ্ট কিছু জলাশয়ে মানুষের প্রবেশ নিষেধ। এমনকি পর্বতারোহণও সেখানে নিষিদ্ধ
- বিশ্বের সর্বোচ্চ আরোহণ না করা পর্বত 'গাংখার পুয়েনসাম' ভুটানেই অবস্থিত।
- এর উচ্চতা ৭,৫০০ মিটারের বেশি।
তথ্যসূত্র - দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রিপোর্ট।
তেলিয়াপাড়া বাংলোয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম বৈঠক:
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
⇒ ৪ এপ্রিল, ১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক
- হবিগঞ্জের মাধবপুরের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- তেলিয়াপাড়া চা বাগানের অবস্থান ঢাকা-সিলেট সড়ক ও তেলিয়াপাড়া রেলস্টেশন থেকে ২ কিলোমিটার দূরত্বে ভারতীয় সীমান্তের কাছে। ৪ এপ্রিল এই চা বাগানের ম্যানেজারের বাংলোতে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী উচ্চপদস্থ বাঙালি সামরিক কর্মকর্তারা। ভারতীয় বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন ।
- সভায় বাংলাদেশকে ৪টি অঞ্চলে বিভক্ত করে সেক্টর গঠনের ব্যাপারে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এরপর মেজর কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহকে বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। মেজর আবু ওসমান চৌধুরীকে দেওয়া হয় সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুর জেলা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশে যুদ্ধ পরিচালনার ভার।
- বৃহত্তর কুমিল্লা, ঢাকা ও নোয়াখালী অঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। নোয়াখালী, কুমিল্লার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর খালেদ মোশাররফকে। অপরদিকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার পূর্বাঞ্চলে যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় মেজর জিয়াউর রহমানকে।
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star Bangla.
জুলাই ঘোষণাপত্রের অনুচ্ছেদ ২৪-এ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জুলাই ঘোষণাপত্র:
- ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ হলো ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের একটি দলিল যার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
- ৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।
- এই ঘোষণাপত্রে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
⇒ জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- ২৮ দফা এ ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
উল্লেখ্য,
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৪ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের 'জাতীয় বীর' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
- ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
অন্যদিকে,
- ২৬ নং ধারা: সেহেতু বাংলাদেশের জনগণ এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে যে একটি পরিবেশ ও জলবায়ুসহিষ্ণু অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
- জুলাই ঘোষণাপত্রের ২৭ নং ধারায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ আছে। ২৭ নং ধারা: বাংলাদেশের জনগণ এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে যে ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর উপযুক্ত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এ ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।
- ২৮ নং ধারা: ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানে বিজয়ী বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে এই ঘোষণাপত্র প্রণয়ন করা হলো।
উৎস: i) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI):
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Fisheries Research Institute) বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনার জন্য নিবেদিত একটি বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
- এটি বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের মৎস্য খাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মোকাবেলা করার লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে গবেষণা পরিচালনা, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচী প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।
- ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তর ময়মনসিংহে অবস্থিত।
এছাড়াও, ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে। গবেষণা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে:
- স্বাদুপানি কেন্দ্র ময়মনসিংহে অবস্থিত।
- নদী কেন্দ্র চাঁদপুরে অবস্থিত।
- চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র বাগেরহাটে অবস্থিত
- লোনাপানি কেন্দ্র পাইকগাছা, খুলনায় অবস্থিত।
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র কক্সবাজারে অবস্থিত।
উৎস: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
জুলাই আন্দোলনে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ:
- ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ আব্দুল আহাদ।
⇒ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নিহত হয় ৪ বছরের শিশু আব্দুল আহাদ।
- শহীদ হওয়া সবচেয়ে ছোট শিশুর বয়স ৪ বছর। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে নিজ বাসার বারান্দায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরদিন ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
⇒ আহাদের মতোই বাসায় থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে আরও তিন শিশু।
- তারা হলো রাজধানীর মিরপুরে সাফকাত সামির (১০), উত্তরায় নাঈমা সুলতানা (১৫) ও নারায়ণগঞ্জে রিয়া গোপ (৬)।
উল্লেখ্য,
- জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ১৩৩ শিশু শহীদ হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শ্রমে নিয়োজিত শিশুরাও রয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল ১১৭ জন।
এছাড়াও,
- শিশু বলতে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বোঝানো হয়েছে। বাংলাদেশের শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী সবাই শিশু।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।
উৎস: i) জুলাই আর্কাইভ।
ii) প্রথম আলো।
বিজু উৎসব:
- চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যারা উপলক্ষে বিজু উৎসব পালন করে।
⇒ চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মোট তিন দিন ধরে বিজু উৎসব চলে।
- বিজু উৎসবে তিন দিনের আলাদা নামকরণ হয়েছে।
- প্রথম দিন ফুলবিজু, দ্বিতীয় দিন মূলবিজু এবং তৃতীয় দিন গজ্যাপজ্যা।
• বছরের শেষ অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে ‘ফুল বিজু’।
• চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ তারিখে পালন করা হয় মূলবিজু।
• বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পালন করা হয় গজ্যাপজ্যা (গড়িয়ে পড়ার দিন)।
উল্লেখ্য,
- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় বছরের শেষ দুইদিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি পালিত হয়।
- চাকমারা বিজু, মারমারা সাংগ্রাই, ত্রিপুরারা বৈসুক উৎসব পালন করে।
- রাখাইনদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
নারী শ্রমশক্তি:
- সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ–২০২৪ অনুযায়ী দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৪.২ শতাংশ নারী।
- এর মধ্যে প্রায় ৯৬.৬ শতাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত (বিশ্বব্যাংক, ২০২৪)। অর্থাৎ তাঁরা কৃষি, গৃহকর্ম, চা-বাগান, গৃহকেন্দ্রিক কাজ, দোকান বা ছোট উৎপাদন ইউনিটে কাজ করেন, যেগুলো শ্রম আইন বা সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসেনি।
⇒ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
- বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে, যেখানে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ নারী।
- গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কৃষিজমির মালিকানায় তাঁদের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ (বিবিএস, ২০২৩)।
- বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ নারী গৃহকর্মীর কাজ করেন (ডমেস্টিক ওয়ার্কার্স রাইটস নেটওয়ার্ক, ২০২৩)।
- চা-বাগানশ্রমিকদের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী।
- নির্মাণশিল্পে নারী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু নিরাপত্তা ও মর্যাদা কমছে (আইএলও-বিজিএমইএ রিপোর্ট, ২০২৪ অনুযায়ী), নির্মাণ সাইটে নারী শ্রমিকদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জাম পান না।
উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
ii) প্রথম আলো।
মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ সম্পর্কিত।
- এটি নাগরিকদের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৭(ক)) প্রদত্ত অধিকারগুলো বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে (অনুচ্ছেদ ১০২(১) অনুযায়ী) আবেদন করার অধিকার নিশ্চিত করে।
- এছাড়াও, এই অধিকার প্রয়োগের জন্য অন্য কোনো আদালতকে ক্ষমতা দিতে সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে।
- এই অনুচ্ছেদটি মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে যাওয়ার অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়।
উল্লেখ্য,
• ৪৪ (১) নং অনুচ্ছেদ: এই ভাগে প্রদত্ত অধিকারসমূহ বলবৎ করার জন্য এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা রুজু করিবার অধিকারের নিশ্চয়তা দান করা হলো।
• ৪৪ (২) নং অনুচ্ছেদ: এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোন আদালতকে তাহার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ঐ সকল বা উহার যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করিতে পারিবেন।
এছাড়াও,
• কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা:
- অনুচ্ছেদ ১০২ নং: কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ প্রভৃতি দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা-এর অধীনে বলা হয়েছে যে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি এই অনুচ্ছেদের অধীন সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে হাইকোর্টে মামলা রজু বা রিট করতে পারবেন।
- সুতরাং, ৪৪ নং অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে মামলা করার অধিকার প্রদান করা হয়েছে এবং তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকারসমূহ লঙ্ঘিত হলে ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের নিকট মামলা দায়ের করা যাবে।
অন্যদিকে,
- ৪২ নং অনুচ্ছেদ: সম্পত্তির অধিকার।
- ৪৩ নং অনুচ্ছেদ: গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- ৪৫ নং অনুচ্ছেদ: শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
বর্তমান অর্থবছরের (২০২৫-২০২৬) বাজেটে ব্যক্তি করদাতার মোট আয়ের উপর সর্বোচ্চ কর হার ৩০%।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তি করদাতা – করহার:
- ৩,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত: শূন্য।
- পরবর্তী ১,০০,০০০/- টাকার: ৫%,
- পরবর্তী ৪,০০,০০০/- টাকার: ১০%,
- পরবর্তী ৫,০০,০০০/- টাকার: ১৫%,
- পরবর্তী ৫,০০,০০০/- টাকার: ২০%,
- পরবর্তী ২০,০০,০০০/- টাকার: ২৫%,
- অবশিষ্ট টাকার উপর: ৩০%।
উল্লেখ্য, করমুক্ত আয়সীমা:
• সাধারণ করদাতা: ৩,৫০,০০০ টাকা।
• মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের করদাতা: ৪,০০,০০০ টাকা।
• প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ করদাতা: ৪,৭৫,০০০ টাকা।
• গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা: ৫,০০,০০০ টাকা।
• কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিবাবকের ক্ষেত্রে এরূপ প্রত্যেক সন্তান/পোষ্যের জন্য করমুক্ত সীমা ৫০,০০০/- টাকা বেশি।
এছাড়াও, ২০২৫-২৬ বাজেটে, ভাতাভোগীর মাসিক ভাতার হার:
- বয়স্ক ভাতা: ৬৫০ টাকা।
- বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা: ৬৫০ টাকা।
- অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা: ৯০০ টাকা।
- অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক ভাতার হার: ৬৫০ টাকা।
- মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায়: ৮৫০ টাকা।
উৎস: জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।
জাতীয় শিল্পনীতি:
- সর্বশেষ জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুসারে এসএমই ও অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান/উদ্যোগ এর শ্রেণিবিন্যাস -
• বৃহৎ শিল্প (Large scale industries):
- ‘বৃহৎ শিল্প’ (Large Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ (Replacement Cost) ৫০ কোটি টাকার অধিক কিংবা তৈরী পোশাক/শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
• মাঝারি শিল্প (Medium scale industries):
- ম্যানুফ্যাকচারিং এর ক্ষেত্রে ‘মাঝারি শিল্প’ (Medium Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১৫ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১২১-৩০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তবে তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান/শ্রমঘন শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাঝারি শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০০০ জন।
• ক্ষুদ্র শিল্প (Small industries):
- ম্যানুফ্যাকচারিং এর ক্ষেত্রে ‘ক্ষুদ্র শিল্প’ (Small Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৭৫ লক্ষ টাকা থেকে ১৫ কোটি টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২৬-১২০ জন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
• মাইক্রো শিল্প (Micro Industry):
- ‘মাইক্রো শিল্প’ (Micro Industry) বলতে সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা কিংবা যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে ০১-২৫ জন বা তার চেয়ে কম সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে।
• কুটির শিল্প (Cottage Industry):
- ‘কুটির শিল্প’ (Cottage Industry) বলতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্যভুক্ত সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে যেসব প্রতিষ্ঠানে জমি এবং কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ লক্ষ টাকার নীচে এবং যা পারিবারিক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্য সমন্বয়ে গঠিত এবং সর্বোচ্চ জনবল ১৫ এর অধিক নয়।
• ভারী শিল্প:
- ‘ভারী শিল্প’ বলতে এমন শিল্পপণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বোঝায় যেখানে বৃহৎ আকারের উদ্যোগ, বড় যন্ত্রপাতি, ভূমির বৃহৎ এলাকা, উচ্চ খরচ ইত্যাদি বিষয়গুলো জড়িত থাকবে এবং যা হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। উদাহরণস্বরূপ জাহাজ নির্মাণ শিল্প, পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্প, ইস্পাত শিল্প, মোটর গাড়ি নির্মাণ শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প ইত্যাদি ভারী শিল্প হিসেবে গণ্য হবে।
উৎস: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
⇒ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬।
- নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২শে জানুয়ারি থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
- জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি।
- এবার নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা করা হয়েছে।
⇒ এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
- ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।
উৎস: i) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ-এর নকশাকার আব্দুল হালিম চঞ্চল।
⇒ জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা পর্যায়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। রাজধানীর শাহবাগ ও অন্য ৬৩ জেলার প্রতিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হবে এই স্মৃতিস্তম্ভ। ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট ব্যাসের এই স্তম্ভে থাকছে গত বছরের জুলাইয়ের স্লোগান, কবিতা ও গ্রাফিতি।
উল্লেখ্য,
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
অন্যদিকে,
- আগ্রাসন বিরোধী আট স্তম্ভ শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে নির্মিত একটি প্রতীকী স্থাপনা যার নকশাকার হলেন স্থপতি নাজমুল হক নাঈম।
- 'অদম্য ২৪' স্মৃতিস্তম্ভটির নকশা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাঈদ হোসেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- শহীদ আবু সাঈদ-কে নিয়ে অঙ্কিত শিল্পকর্ম 'উন্নত মম শির' -এর শিল্পী শহীদ কবির।
উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৃহত্তম বাজার:
- একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র।
⇒ বিশ্বের বৃহৎ ভোক্তার বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটিতে ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। তার বিপরীতে আমদানি করেছে ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য।
- সেই হিসাবে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত বাণিজ্য ৬২৬ কোটি ডলার।
⇒ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২০১টি দেশ ও অঞ্চলে মোট ৪ হাজার ৬৫৭ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
- এই রপ্তানির প্রায় ১৯ শতাংশের গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয় ৭৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্যান্য পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১৭ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের।
উল্লেখ্য,
- যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি বেড়েছে জার্মানিতে। জার্মানিতে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ৫৩২ কোটি ডলার।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি নেদারল্যান্ডসে। রপ্তানি আয় ২৩৬ কোটি ডলার।
- যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বাকি ১১টি দেশ হলো জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, হলান্ড, ভারত, ইতালি, কানাডা, জাপান ও ডেনমার্ক।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।
গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ:
- ২৯ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে (ICPPED) স্বাক্ষর করেছে।
- রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সনদে স্বাক্ষর করেন।
⇒ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোর অন্যতম হলো, প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করা।
- এই লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিপিপিইডি ’শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- আইসিপিপিইডি জাতিসংঘের আওতাধীন একমাত্র আন্তর্জাতিক কনভেনশন যা এনফোর্স ডিসএপিয়ান্সকে কেন্দ্র করে গৃহীত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো জোরপূর্বক অন্তর্ধান বা গুম প্রতিরোধ করা, ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
- এ ছাড়া গুরুতর এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
উল্লেখ্য,
- গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ (International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance) স্বাক্ষরিত হয়: ২০ ডিসেম্বর, ২০০৬।
- কার্যকর হয়: ২৩ ডিসেম্বর, ২০১০।
- ICPPED জাতিসংঘের আওতাধীন একমাত্র আন্তর্জাতিক কনভেনশন যা এনফোর্স ডিসএপিয়ান্সকে কেন্দ্র করে গৃহীত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের জন্য দায়মুক্তি বন্ধ করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা দেওয়া।
- সনদে মোট ৪৫টি অনুচ্ছেদ আছে।
উৎস: i) OHCHR ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
'আমাদ'স ড্রিম' (Amad's Dream):
- ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র আমাদ’স ড্রিম।
- নির্মাতা: আশিষ কিফায়েত।
⇒ ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- দেশজুড়ে যখন লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, সেই ঢেউ শুধু সীমান্তের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে।
- কেউ সরাসরি আন্দোলনে অংশ নিতে দেশে ফিরে আসেন, আবার কেউ বিদেশে থেকেও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহায়তার মাধ্যমে আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন।
- প্রবাসীদের এই সক্রিয় ভূমিকা বিশেষ করে প্রবাসী নারীদের অবদান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার আশিষ কিফায়েত নির্মাণ করেছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র ‘আমাদ’স ড্রিম’।
- এটি কেবল প্রবাসী জীবনের গল্প নয়, বরং প্রতিফলিত করে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্রিয় ভূমিকা।
- কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন, কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, আবার কেউ নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ব্যবহার করেছেন আন্দোলনের পক্ষে।
উৎস: i) The Daily Star.
ii) যুগান্তর।
শিশুশ্রম মুক্ত শিল্প খাত:
- ২০০৫ সালে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক এবং চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
⇒ বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, ১৪ বছরের নিচে কোনো শিশুকে কাজ করানো নিষিদ্ধ এবং ১৮ বছরের নিচে বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ। তবে এ আইন সব খাতে প্রযোজ্য নয়; যেমন, কৃষি খামার, গৃহকর্ম এবং ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো এ আইনের আওতার বাইরে।
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ ও ব্যবহার, শোষণ, পাচার এবং সব ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন ও শিশুশ্রমের অবসান ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য,
- ২০২১ সালে দেশে ৬টি শিল্পখাতকে শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়। খাতগুলো হচ্ছে- ট্যানারি শিল্প, গ্লাস, সিরামিক, জাহাজ পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্প ও পাদুকা এবং রেশম শিল্প।
উৎস: i) সমকাল।
ii) প্রথম আলো।
জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম (১৯৩৬-১৯৮১) ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে।
⇒ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন। এগুলো হলো:
১. সর্বতোভাবে দেশের স্বাধীনতা, অখন্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
২. শাসনতন্ত্রের চারটি মূলনীতি, অর্থাৎ সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি সর্বাত্মক বিশ্বাস ও আস্থা, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ,সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সমাজতন্ত্র জাতীয় জীবনে সর্বাত্মক প্রতিফলন।
৩. সর্ব উপায়ে নিজেদেরকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসাবে গঠন করা।
৪. প্রশাসনের সর্বস্তরে, উন্নয়ন কার্যক্রমে ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
৫. সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এর ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়ন এর মাধ্যমে গ্রামীন তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা।
৬. দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং কেউ যেন ক্ষুধার্ত না থাকে তা নিশ্চিত করা।
৭. দেশে কাপড় এর উৎপাদন বাড়িয়ে সকলের জন্য অন্তত মোটা কাপড় নিশ্চিত করা।
৮. কোন নাগরিক যেন গৃহহীন না থাকে তার যথাসম্ভব গৃহায়ণ ব্যবস্থা করা।
৯. দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।
১০. সকল দেশবাসীর জন্য নূন্যতম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
১১. সমাজে নারীর যথাযোগ্য মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা এবং যুবসমাজকে সুসংহত করে জাতি গঠনে উদ্বুদ্ধ করা।
১২. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতে প্রয়োজনীয় উৎসাহ প্রদান দান।
১৩. শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি সাধন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে সুস্থ শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১৪. সরকারী চাকরিজীবীদের মধ্যে জনসেবা ও দেশ গঠনের মনোবৃত্তি উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন করা।
১৫. জনসংখ্যা বিস্ফোরণ রোধ করা।
১৬. সকল বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং মুসলিম দেশ গুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করা।
১৭. প্রশাসন এবং উন্নয়ন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা।
১৮. দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নীতি ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা।
১৯. ধর্ম, গোত্র ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের অধিকার পূর্ণ সংরক্ষণ করা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ় করা।
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র
- ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা করা ও বিকৃতির আশংকা এড়িয়ে যাবার জন্যই ইতিহাস রচনার পরিবর্তে দলিল ও তথ্য প্রকাশকেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে।
- আর সে প্রকল্পের ফসলই “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র”।
- প্রায় ১৫,০০০ পৃষ্ঠায় ১৫ খন্ডে এসব দলিলপত্র প্রণয়ন করে ১৯৮২ সালে তা প্রকাশ করা হয়।
- এ দলিলপত্রাদি ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মফিজুল্লাহ কবীর ও সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমানের যৌথ নেতৃত্বে একটি প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক প্রণীত।
- প্রায় সাড়ে তিন লাখ পৃষ্ঠাব্যাপী বিপুলায়তন ও সংগৃহীত উপাত্ত থেকে নির্বাচন করে প্রামাণ্যকরণ কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর কালপঞ্জি অনুসারে বিভিন্ন খন্ডে প্রকাশ করা হয়।
⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সরকারের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমির মাধ্যমে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের তথ্য সংগ্রহের প্রকল্প শুরু হয়।
- রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস লিখন ও মুদ্রণ প্রকল্প গ্রহণ করে।
- পরবর্তীকালে এই প্রকল্প স্বাধীনতা যুদ্ধ সংক্রান্ত দলিল ও তথ্যসমূহ প্রকাশনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এর কাজ শুরু হয় ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি থেকে।
- তবে প্রকল্পটি সরকারি অনুমোদন লাভ করে ১৮ জুলাই ১৯৭৮-এ বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (নং ৫১/২/৭৮/ডেব/২৬১)।
- এই প্রকল্পের সদস্য সচিব হাসান হাফিজুর রহমান বাংলা একাডেমি কর্তৃক ইতোপূর্বে সংগৃহীত দলিলপত্রসমূহ স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি এরশাদ সরকারের শাসনামলে ১৯৮২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে খন্ডগুলির প্রকাশ শুরু হয়।
উল্লেখ্য,
- দলিলপত্রের প্রথম খণ্ডে রয়েছে পটভূমি (১০৫-১৯৫৮), দ্বিতীয় খণ্ডেও পটভূমি (১৯৫৮-১৯৭১), তৃতীয় খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রশাসন’, চতুর্থ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: প্রবাসী বাঙালিদের তৎপরতা’, পঞ্চম খণ্ডে ‘মুজিবনগর: বেতারমাধ্যম’, ষষ্ঠ খণ্ডে ‘মুজিবনগর: গণমাধ্যম’, সপ্তম খণ্ডে ‘পাকিস্তানি দলিলপত্র: সরকারি ও বেসরকারি’, অষ্টম খণ্ডে ‘গণহত্যা, শরণার্থী শিবির ও প্রাসঙ্গিক ঘটনা’, নবম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (১)’, দশম খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (২)’, একাদশ খণ্ডে ‘সশস্ত্র সংগ্রাম (৩)’, দ্বাদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: ভারত’, ত্রয়োদশ খণ্ডে ‘বিদেশি প্রতিক্রিয়া: জাতিসংঘ ও বিভিন্ন রাষ্ট্র বিশ্ব জনমত’, চতুর্দশ খণ্ডে ‘বিশ্ব জনমত’, পঞ্চদশ খণ্ডে ‘সাক্ষাৎকার’, ষোড়শ খণ্ডে ‘কালপঞ্জী, গ্রন্থপঞ্জী ও নির্ঘণ্ট’ সন্নিবেশিত আছে।
উৎস: i) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ': 'দলিলপত্র।
ii) বাংলাপিডিয়া।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সেই উপদেষ্টা পরিষদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
উল্লেখ্য,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও,
- ১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।
উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
iii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
⇒ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা হয়। এর ফলে ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কিছু দোসর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। জনগণের বিজয়ের ফল হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
⇒ ৫টি সংস্কার কমিশনের একজন সদস্যকে সদস্য করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
- জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
- সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কমিশন কয়েক দফায় ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৭২টি বৈঠকে মিলিত হয়।
- বৈঠকসমূহের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের সর্বসম্মত ও বৃহত্তর ঐকমত্য এবং কয়েকটি ভিন্নমতসহ মোট ৮৪টি সুপারিশ সংবলিত 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫' প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন।
উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০ (একশত) আসনে উন্নীত করা হবে।
- জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পদ্ধতি:
(ক) বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০ (পঞ্চাশ) টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
(খ) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ (তিনশত) সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে, তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।
(গ) পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।
উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।
সেভেন সামিট জয়:
- বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে ‘সেভেন সামিট’-এর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন ওয়াসফিয়া নাজরিন।
- তিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় (সেভেন সামিট) করেছেন।
⇒ বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০১১ সালে ওয়াসফিয়া তাঁর সেভেন সামিট অভিযান শুরু করেন।
- ওয়াসফিয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ২৬ মে এভারেস্ট জয় করেন।
- এরপর বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও জয় (সেভেন সামিট) করেন তিনি।
- তিনি আফ্রিকার মাউন্ট কিলিমানজারো, এশিয়ার মাউন্ট এভারেস্ট, অ্যান্টার্কটিকার মাউন্ট ভিনসন, ইউরোপের এলব্রুস, উত্তর আমেরিকার মাউন্ট ডেনালি, দক্ষিণ আমেরিকার অ্যাকোংকাগুয়া পর্বতশৃঙ্গ, অস্ট্রেলিয়ার (ওশেনিয়া) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কারস্তনেজ পিরামিড জয় করেন।
উল্লেখ্য,
- ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চল দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার (ওশেনিয়া) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কারস্তনেজ পিরামিড জয়ের মধ্য দিয়ে সাতটি পর্বত জয়ের কাজটি সম্পন্ন করেন তিনি।
- ১৬ হাজার ২৪ ফুট উচ্চতার কারস্তনেজ পিরামিডের স্থানীয় নাম পুনাক জায়া।
- সেভেন সামিটের অংশ হিসেবে ওশেনিয়া অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে ধরা হয় এটিকে। এটি ছিল সেভেন সামিটের ৭ নম্বর চূড়া জয়।
এছাড়াও,
- ২০২২ সালের ২২ জুলাই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে২-এর চূড়ায় আরোহণ করেন।
- ২০১৪ সালে দুঃসাহসী অভিযানের জন্য ওয়াসফিয়া নাজরীনকে ন্যাশনাল জিওগ্রাফির বর্ষসেরা অভিযাত্রীর খেতাব দেওয়া হয়।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
'কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি রাষ্ট্রপতি পদে থাকতে পারবেন না'- এই বিধানটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(২) নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত আছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ
⇒ ৫০(১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর মেয়াদে তাঁর পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
- তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর উত্তরাধিকারী-কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকবেন।
⇒ ৫০(২) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- একাদিক্রমে হোক বা না হোক-দুই মেয়াদের অধিক রাষ্ট্রপতির পদে কোন ব্যক্তি অধিষ্ঠিত থাকবেন না।
⇒ ৫০(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- স্পীকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে রাষ্ট্রপতি তার পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
⇒ ৫০(৪) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
- রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যভারকালে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য হবেন না, এবং কোন সংসদ-সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে রাষ্ট্রপতিরূপে তাঁর কার্যভার গ্রহণের দিনে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।
অন্যদিকে,
- ৪৮ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি।
- ৫৩ নং অনুচ্ছেদ: অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
- ৫২ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।
উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
ভাষা আন্দোলন:
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে।
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
⇒ ভাষা আন্দোলনের শহীদের পরিচিতি:
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ২০ নম্বর ব্যারাকের বারান্দায় ছাত্র-জনতার মিছিলে আবুল বরকত শামিল হন। মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। বরকত পেটে গুলিবিদ্ধ হন। মুহূর্তে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ শফিউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ক্লাসের প্রাইভেট ছাত্র ও ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্ণে ঢাকার নওয়াবপুর রোডে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শফিউর রহমান তখন সাইকেল যোগে ঐ পথে অফিসে যাচ্ছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ করলে শফিউর রহমান পিঠে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঐদিন সন্ধ্যা ৭টায় তিনি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। ঐদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মিছিলে পুলিশের গুলিতে রফিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। তাঁকে আজিমপুর গোরস্থানে সমাহিত করা হয়।
• ভাষা আন্দোলনের শহিদ আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
সিপাহী বিদ্রোহ সমর্থন করার কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ব্রিটিশরা ক্ষমতাচ্যুত করে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠায় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর:
- আওরঙ্গজেবে পর মুঘল সাম্রাজ্য তথা ভারতের শেষ সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর। তিনি দিল্লির সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহর দ্বিতীয় পুত্র।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- বাহাদুর শাহ সিংহাসনে আরোহণের ২০ বছর পর সূত্রপাত হয় ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের।
- দেশপ্রেমিক সিপাহিরা মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফরকে ভারতবর্ষের স্বাধীন বাদশাহ বলে ঘোষণা দেন।
- ওই মুহুর্ত থেকে বাহাদুর শাহ জাফর হলেন বিদ্রোহের প্রধান পরিচালক ও কেন্দ্রস্বরূপ।
- বাহাদুর শাহ জাফর সিপাহিদের বিপ্লব তথা ভারতবর্ষের প্রথম সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন- এই সংবাদে কানপুর, লক্ষৌ বিহার, ঝাঁশি, বেরিলি থেকে শুরু করে পশ্চিম ও পূর্ব বাংলার সর্বত্র সিপাহিরা গর্জে ওঠেন।
- ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ব্রিটিশ শাসকেরা তাঁকে মিয়ানমারে নির্বাসনে পাঠান।
- ১৮৬২ সালের ৭ নভেম্বর সেখানেই তিনি মারা যান।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।
⇒ সিপাহী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- ফলাফল: ব্রিটিশরা কঠোর হাতে এই বিদ্রোহ দমন করে। এর ফলে ভারতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে এবং ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি শাসন প্রতিষ্ঠা হয়।
উৎস: i) The Business Standard.
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫:
- ২০২৫ সালে ৪ জন নারীকে ‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫’ প্রদান করা হয়।
⇒ নারী শিক্ষা ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার চার নারীকে রোকেয়া পদক ২০২৫ দেওয়া হচ্ছে।
- মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেগম রোকেয়া দিবসের অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
⇒ ‘বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫’ প্রাপ্ত চার নারী হচ্ছেন:
- নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব,
- নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার,
- মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস,
- নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।
উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।
• বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের পদের মেয়াদ: একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন।
প্রধান বিচারপতি:
- দেশের বর্তমান ও ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
⇒ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
উল্লেখ্য,
- সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। সে হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি অবসরে যাবেন।
উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।