পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৩
সিলেবাস
[For iPad Mania: Season - 2] --------------------------- বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ; ২. বাংলাদেশের সংবিধান উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের সংবিধান ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৩ প্রশ্ন

.
অপারেশন সার্চলাইটে কয় ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানি সৈন্য অংশগ্রহণ করে?
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন। 
- ১৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।
- ২১ মার্চ ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। 
- ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর মতের বিরুদ্ধে যাওয়া সমীচীন মনে করেননি।
- কারণ তখন পাঞ্জাবে ভুট্টোর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। 
- তাছাড়া পাকিস্তান সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছিলেন পাঞ্জাব থেকে আগত। 
- পাঞ্জাবিরা কিছুতেই ছয় দফার বাস্তবায়নে সম্মত ছিল না। 
- আওয়ামী লীগও ছয়দফার প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। 
- ইতোমধ্যে ঢাকায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানী পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় কালক্ষেপণ করে অলক্ষ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জামাদি আনয়ন করতে থাকে। 
- পাকিস্তান সামরিক জান্তা শক্তির সাহায্যে বাঙালির দমন করার একটি পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
- এর নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। 
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. রাজীব গান্ধী
  2. অটল বিহারি বাজপেয়ি
  3. জওহর লাল নেহেরু
  4. ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ভারতের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 
- দীর্ঘ নয় মাস ভারত প্রায় এককোটি শরণার্থীর ভরণ-পোষণের সকল খরচ বহন করে। 
- মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং প্রদান, অস্ত্র সরবরাহ, রসদ প্রদান এসবই করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। 
- মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথবাহিনী। 
- শেষ পর্যন্ত যৌথবাহিনীর নিকট আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। 
- ভারত শরণার্থী খাতে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও রসদ খাতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করে। 
- তাছাড়া পাকিস্তানি বাহিনী ও যৌথ বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধে ভারতের প্রায় চার হাজার অফিসার ও জওয়ান শহীদ হয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের অবস্থান ছিল ভারতে। 
-তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, পত্র-পত্রিকা প্রভৃতি কেবল মুক্তিযুদ্ধের সমর্থন দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি, বিশ্ব জনমত গঠন করা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন দেশের সমর্থন আদায় করা ইত্যাদি কাজগুলোও তারা করেছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কত তারিখ পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে আটক এবং বন্দী করার কথা স্বীকার করে?
  1. ২৯ মার্চ
  2. ১ এপ্রিল
  3. ৭ এপ্রিল
  4. ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার:
- ২৫ মার্চ দিবাগত রাত একটা থেকে দেড়টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতারের পূর্ব মুহূর্তে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।
- গ্রেফতারের তিনদিন পর তাকে বিমানযোগে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।
- সেখানে তাকে লায়াল্পুর (বর্তমান ফয়সালাবাদ) জেলে বন্দী করে রাখা হয়।
- এরপর ১০ এপ্রিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুকে বন্দী এবং হেফাজতে নেয়ার কথা ঘোষণা করে।
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপে পাকিস্তান সরকার ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
.
মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে যৌথকমান্ড গঠন করে-
  1. ১৫ নভেম্বর ১৯৭১
  2. ২১ নভেম্বর ১৯৭১
  3. ২৮ নভেম্বর ১৯৭১
  4. ০৩ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বাংলাদেশকে সকল প্রকার সহযোগিতা দেয়।
- যুদ্ধকালীন সরকারকে আশ্রয়দান, প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় ও ভরণ-পোষণ, বহির্বিশ্বে জনমত গঠন ও সহানুভূতি, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা সহ শেষ দিকে প্রত্যক্ষভাবে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- পাকিস্তান ৩ ডিসেম্বর ভারত আক্রমণ করলে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
- ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীও পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB।
.
মেজর এম এ জলিল কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা
৯ নং সেক্টর: 
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। 
- হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন। 
- এই সেক্টরে প্রায় বিশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে। 
- এই সেক্টরকে টাকি, হিঙ্গলগঞ্জ ও শমসেরনগর তিনটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। 
- ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত আক্রমণের পূর্বে এই সেক্টরকে ৮ নং সেক্টরের সঙ্গে একীভূত করা হয় এবং এর দায়িত্ব অর্পিত হয় মেজর মঞ্জুরের উপর।

এছাড়া,
- ৬ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
- ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
- ৮ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম এ মঞ্জুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়?
  1. ত্রয়োদশ
  2. চতুর্দশ
  3. পঞ্চদশ
  4. ষোড়শ
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
- ২০১১ সালের ৩০ জুন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূলনীতিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
- সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। 

এছাড়া,
- চতুর্দশ সংশোধনী ৪৫ টি নারী আসন সংরক্ষণ,
- ষোড়শ সংশোধনী বিচারপতিদের অভিসংশন ক্ষমতা এবং
- সপ্তদশ সংশোধনী ৫০ টি নারী আসন সংক্রান্ত।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা, ১৯ ডিসেম্বর ২০২১ [লিঙ্ক]
.
সংবিধানের কোন সংশোধনী ২০০৫ সালে হাইকোর্টের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়?
  1. চতুর্থ
  2. পঞ্চম
  3. ষষ্ঠ
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
পঞ্চম সংশোধনী:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সংবিধান কার্যকরী হওয়ার পর ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির চারটি মূল স্তম্ভে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। 
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতা দখল করেন জিয়াউর রহমান। 
- এই সামরিক শাসক ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের চারটি মূল স্তম্ভের তিনটিতে পরিবর্তন আনেন।
- সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ২৯ আগস্ট, ২০০৫ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে। 
- পরবর্তীতে আপিল বিভাগ ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সালে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখে। 

এছাড়া,
- চতুর্থ সংশোধনী বাকশাল গঠন,
- ষষ্ঠ সংশোধনী উপরাষ্ট্রপতির পদে থেকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন এবং
- সপ্তম সংশোধনী সামরিক শাসনের বৈধতা সংক্রান্ত।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়?
  1. সপ্তম
  2. অষ্টম
  3. নবম
  4. দশম
ব্যাখ্যা
সংবিধান সংশোধন:
- সময়ের চাহিদা ও প্রয়োজনে জনগণের কল্যাণার্থে সংবিধানের সংশোধন, পরিবর্তন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের দশম ভাগে ১৪২ নং অনুচ্ছেদে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও পদ্ধতির কথা উল্লেখ রয়েছে। 
- বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। 
- অষ্টম সংশোধনীর শিরোনাম ছিল সংবিধান [ অষ্টম সংশোধন] আইন, ১৯৮৮]   
- বিলটি সংসদে পাশ হয় ৭ জুন, ১৯৮৮। 
- অষ্টম সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা। 
- এছাড়া ঢাকার ইংরেজি বানান Dacca থেকে Dhaka এবং Bengali এর নাম Bangla করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে কয়টি স্তম্ভ রয়েছে?
  1. ৭ টি
  2. ১৬ টি
  3. ২৩ টি
  4. ২৬ টি
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের স্থানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য পরবর্তী সময়ে সেখানে নির্মিত হয় একটি স্মৃতিসৌধ।
- ১৯৭৩ সালের ৩১ আগস্ট সরকার মুজিবনগরে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেয়। 
- ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। 
- মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধ ও আত্মত্যাগের প্রতীক। 
- ২০.১০ একর জমির উপর স্মৃতিসৌধটি স্থাপিত। 
- ২৩টি কংক্রিটের ত্রিকোণাকার স্তম্ভ সমন্বয়ে এ স্মৃতিসৌধ নির্মিত। 
- স্থপতি তানভীর কবিরের নকশায় এ সৌধটিকে উদীয়মান সূর্যের প্রতীক বলে মনে হয়। 
- ২৩টি স্তম্ভ পাকিস্তানের ২৩ বছর শাসনের প্রতীক। 
- এই ২৩ বছরে বাঙালি জাতি ধীরে ধীরে যে সংগ্রাম গড়ে তোলে, তার প্রতীকও ২৩টি স্তম্ভ। 
- ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতায় ১৬০ ফুট ব্যাসে বেদীটি নির্মিত।
- ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে এখানে পাঠাগার, মসজিদ ও অতিথিশালা নির্মাণ করে একে মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ ছিলেন-
  1. কর্নেল তাহের
  2. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  3. লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ: 
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ এইচ এম কামরুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
প্রধান সেনাপতি - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
চিফ অব স্টাফ - লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব।
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ - গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB। 
১১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন ব্যক্তি একাধিক এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না?
  1. ৬৬
  2. ৬৮
  3. ৭১
  4. ৭৮
ব্যাখ্যা
দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা:
- সংবিধানের ৭১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
(১) কোনো ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকার সংসদ-সদস্য হবেন না।

(২) কোনো ব্যক্তির একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনী এলাকা হইতে নির্বাচনপ্রার্থী হওয়ায় এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় বর্ণিত কোনো কিছুই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না, তবে তিনি যদি একাধিক নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত হন তা হলে-
(ক) তাঁহার সর্বশেষ নির্বাচনের ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি কোন নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে ইচ্ছুক, তা জ্ঞাপন করে নির্বাচন কমিশনকে একটি স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণা প্রদান কঢ়বেন এবং তিনি অন্য যে সকল নির্বাচনী এলাকা হতে নির্বাচিত হয়েছিলেন, অতঃপর সেই সকল এলাকার আসনসমূহ শূন্য হবে;
(খ) এই দফার (ক) উপ-দফা মান্য করতে অসমর্থ হলে তিনি যে সকল আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই সকল আসন শূন্য হবে।

এছাড়া,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদ সংসদে নির্বাচিত হবার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা,
- ৬৮ নং অনুচ্ছেদ সংসদ-সদস্যদের [পারিশ্রমিক] প্রভৃতি এবং
- ৭৮ নং অনুচ্ছেদ সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি সংক্রান্ত।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১২.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ১৩৭
  2. ১৩৮
  3. ১৩৯
  4. ১৪০
ব্যাখ্যা

সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সংক্রান্ত ৫ টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

১৪০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
-  (১) কোন সরকারী কর্ম কমিশনের দায়িত্ব হবে,
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদেরকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা-পরিচালনা,
(খ) এই অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক কোনো বিষয় সম্পর্কে কমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে কিংবা কমিশনের দায়িত্ব- সংক্রান্ত কোনো বিষয় কমিশনের নিকট প্রেরণ করা হলে সেই সম্বন্ধে রাষ্ট্রপতিকে উপদেশদান; এবং
(গ) আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্বপালন।

(২) সংসদ কর্তৃক প্রণীত কোনো আইন এবং কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত কোন প্রবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে কোনো কমিশনের সহিত পরামর্শ করবেন :
(ক) প্রজাতন্ত্রের কর্মের জন্য যোগ্যতা ও তাতে নিয়োগের পদ্ধতি সম্পর্কিত বিষয়াদি;
(খ) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদান, উক্ত কর্মের এক শাখা হতে অন্য শাখায় পদোন্নতিদান ও বদলিকরণ এবং অনুরূপ নিয়োগদান, পদোন্নতিদান বা বদলিকরণের জন্য প্রার্থীর উপযোগিতা-নির্ণয় সম্পর্কে অনুসরণীয় নীতিসমূহ;
(গ) অবসর-ভাতার অধিকারসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মের শর্তাবলীকে প্রভাবিত করে, এইরূপ বিষয়াদি; এবং
(ঘ) প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি।

এছাড়া,
- ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন-প্রতিষ্ঠা,
- ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ এবং
- ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩.
২৫ শে মার্চের নৃশংস গণহত্যার খবর চাপা দিতে কত জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিলো?
  1. ১৫ জন
  2. ২২ জন
  3. ২৫ জন
  4. ৩০জন
ব্যাখ্যা
২৫ শে মার্চের নৃশংস গণহত্যা:
- ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকা ত্যাগ করেন। 
- যাবার আগে সেনাবাহিনীকে পূর্বপাকিস্তানিদের উপর আক্রমণের নির্দেশ দিয়ে যান। 
- ইয়াহিয়া খানের নির্দেশ মোতাবেক গভর্নর টিক্কা খানের ঘাতক সৈন্যরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যার তাণ্ডবলীলা চালায় । 
- এই গণহত্যা চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়, পুরনো ঢাকায়, কচুক্ষেত, তেজগাঁও, ইন্দিরা রোড, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে, রায়ের বাজার, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে। 
- ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তা ওয়্যারলেসযোগে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন। 
- নৃশংস গণহত্যার সংবাদ যাতে বিদেশে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২৫ জন বিদেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।