পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: অন্নদাশঙ্কর রায়, অমিয় চক্রবর্তী, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, আবু জাফর শামসুদ্দীন, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বিহারীলাল চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বেগম রোকেয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২. অন্যান্য লেখকগণ: অতুলপ্রসাদ সেন, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, আনিসুজ্জামান, আব্দুল কাদির, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল্লাহ আল মুতী, আব্দুল হাই, আবু ইসহাক, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল ফজল, আবুল মনসুর আহমেদ, আবুল হাসান, আবুল হুসেন, আল মাহমুদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আহমদ ছফা, আহমদ শরীফ, আহসান হাবীব, ইবরাহীম খাঁ, এস ওয়াজেদ আলি, কাজী আব্দুল ওদুদ, কাজী ইমদাদুল হক। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ---------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত ছিলেন কোন লেখক?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২) ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ। উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অন্নদাশঙ্কর রায় ২০ বছর বয়সে ওড়িয়া সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা ওড়িয়া ভাষায় রচিত। কম বয়সে প্রভা নামে ওড়িয়া ভাষায় হাতে লেখা একটি পত্রিকা বের করেন। 

বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম প্রকাশিত মৌলিক রচনার বিষয় ছিল নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা, যা ভারতী পত্রিকায় ছাপা হয়।

অন্নদাশঙ্করের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধ তারুণ্য ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয় বিচিত্রা পত্রিকায়। তবে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা পথে প্রবাসে ভ্রমণকাহিনীর মাধ্যমেই তিনি বাংলা সাহিত্যে নিজের স্থান করে নেন। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত দুই বছর উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সম্পাদিত বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘পথে প্রবাসে’।

দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে তিনি প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন। তাঁর রচিত উপন্যাসের সংখ্যা ২২টি।

এর মধ্যে প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'আগুন নিয়ে খেলা (১৯৩০)'। বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্যিক উপন্যাস তাঁর ছয় খন্ডে প্রকাশিত 'সত্যাসত্য ছয়টি' নামে প্রকাশিত হয় যথাক্রমে- যার যেথা দেশ (১৯৩২), অজ্ঞাতবাস (১৯৩৩), কলঙ্কবতী (১৯৩৪), দুঃখমোচন (১৯৩৬), মর্ত্যের স্বর্গ (১৯৪০), অপসরণ (১৯৪২)।

• উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
অসমাপিকা; পুতুল নিয়ে খেলা; কন্যা; তিন খন্ডে প্রকাশিত রত্ম ও শ্রীমতী (১ম-১৯৫৬, ২য়-১৯৫৮, ৩য়-১৯৭২), সুখ; বিশল্যকরণী; তৃষ্ণার জল; রাজঅতিথি এবং চার খন্ডে রচিত ও প্রকাশিত ক্রান্তদর্শী (১ম-১৯৮৪, ২য়-১৯৮৫, ৩য়-১৯৮৫, ৪র্থ-১৯৮৬)। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থগুলো:
প্রকৃতির পরিহাস; দুকান কাটা; হাসনসখী; মনপবন; যৌবনজ্বালা; কামিনীকাঞ্চন;, রূপের দায়; গল্প; কথা; কাহিনী; শ্রেষ্ঠগল্প এবং গল্পসমগ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
.
তিরিশের দশকের কবি ছিলেন কে?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। জন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯০১ শ্রীরামপুর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ।

- পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি লাভ (১৯২৬) করেন। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন এবং তাঁর সাথে বহু দেশ ভ্রমণ koren।

- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। অন্য চারজন হলেন জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু ও বিষ্ণু দে। আধুনিক কবিতায় ভাব, দর্শন ও রসের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সংযোজন ঘটিয়েছেন।

- অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫; তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই কবিতাবলী (১৯২৪-২৫)।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ,
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' মঞ্চ নাটকটি কে রচনা করেন?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নাটক:
'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত একটি মঞ্চ নাটক। প্রথম অভিনীত হয় ২০০৪ সালের মার্চ মাসে। তারপর নিউইয়র্কে। মঞ্চ নাটকের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই এটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা হয়েছে।

এই নাটক মঞ্চায়নে ও চলচ্চিত্রে রূপায়নে লেখককে অনেক বাধা বিঘ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক খ্যাতনামা অভিনেতা-অভিনেত্রী সরকারী রোষের ভয়ে এই নাটকে ও তার ছায়াছবিতে অভিনয়ে রাজি হননি। তবু যারা সাহসের সঙ্গে এগিয়ে এসেছেন, তাদের কাছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর-হত্যা নিয়ে এই নাটকটি লেখা হয়েছিল হত্যাকাণ্ডের মাত্র ঊনত্রিশ বছর পর। এই কাহিনির অধিকাংশ চরিত্র এখনো বেঁচে আছেন, ফলে লেখককে অনেক সতর্কতার সঙ্গে ঘটনাবিন্যাস ঘটাতে হয়েছে। যতদূর সম্ভব লেখক ঘটনার বাস্তব সত্যের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছেন।

উৎস: 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' নাটক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
.
'নিরুপায় হরিণী' আনোয়ার পাশা রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ:
আনোয়ার পাশা গল্প বলতে ভালোবাসেন; এবং তিনি গল্প বলতে জানেন 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থে সেই কথাই বলছে। এ বইতে তাঁর ভাষা স্বচ্ছন্দ, তাঁর লেখার রীতির মধ্যে দেখা যায় একটা বুর্জোয়া পরিছন্নতা। পরিহার করে চলেছেন অলঙ্কার প্রিয়তা ও অতিরিক্ত ভাবাবেগ। প্রতীক আছে কিন্তু তার ব্যবহারে অতিশয়োক্তির আড়ম্ব নেই।

এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো:
- নিরুপায় হরিণী, 
- বেনো দিঘির উপকথা,
- বাঘে-ছারপোকায়,
- প্রতিনায়িকা,
- নিমসিতানের পথে,
- দুটি মেয়ে একটি ছেলে,
- শিকার,
- মর্কটবৃত্ত,
- ঝরিয়া যায়,
- বাঘা ভূতের পাঁচালি। 

উৎস: 'নিরুপায় হরিণী' গল্পগ্রন্থ আনোয়ার পাশা।
.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত রচিত নাটক কোনটি?
  1. হিতোপদেশ
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. বোধেন্দুবিকাশ
  4. রাজাবলি
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা  প্রকাশ করেন। অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত, কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিল মধ্যযুগীয়। মঙ্গলকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ভারতচন্দ্রের সাহিত্যাদর্শ যখন লুপ্ত হয়ে আসছিল, তখন তিনি বিভিন্ন বিষয় অবলম্বনে খন্ডকবিতা রচনার আদর্শ প্রবর্তন করেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের এ ভঙ্গি তিনি আয়ত্ত করেছিলেন কবিয়ালদের নিকট থেকে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে অনেক গুরু বিষয়ও তিনি সহজভাবে প্রকাশ করতেন।

• তিনি সবসময় ইংরেজি প্রভাব বর্জিত খাঁটি বাংলা শব্দ ব্যবহার করতেন। ভাষা ও ছন্দের ওপর তাঁর বিস্ময়কর অধিকারের প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর 'বোধেন্দুবিকাশ' (১৮৬৩) নাটকে।

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনা গ্রন্থ:
• তিনি রামপ্রসাদ সেন রচিত কালীকীর্তন (১৮৩৩) ও প্রবোধ প্রভাকর (১৮৫৮) সম্পাদনা করেন।

তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর রচিত নাটক:
• হিতপ্রভাকর (১৮৬১) ও বোধেন্দুবিকাশ (১৮৬৩) প্রকাশিত হয়। 

অন্যদিকে, 
• 'প্রবোধচন্দ্রিকা' 'হিতোপদেশ' ও 'রাজাবলি' গদ্য গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন'- পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'সর্বদাই হুহু করে মন, বিশ্ব যেন মরুর মতন'- পঙ্‌ক্তিটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত 'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 

• 'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থ:

- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ 'বঙ্গসুন্দরী' (১৮৭০)।
- রবীন্দ্রনাথ এই কাব্য -প্রসঙ্গে বলেছেন: 'আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।'
- কাব্যটি দশটি সর্গে বিভক্ত। কাব্যটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরবালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

এ কাব্যে কবি বলেছেন:

'সর্বদাই হুহু করে মন 
বিশ্ব যেন মরুর মতন
চারিদিকে ঝালাপালা
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা 
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র কান্ত
  4. বিদ্যাসাগর শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈত্রিক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'। কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি প্রকাশক গ্রন্থগুলো হলো তাঁর অনুবাদমূলক রচনা। গ্রন্থগুলো হলো: 
• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি',
•কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা',
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ),
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস',
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

•  তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে মৌলিক রচনা হিসেবে 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' ক্ষুদ্র নিবন্ধ এবং স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
বেগম রোকেয়ার 'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থটি কয়টি খণ্ডে রচিত?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৩টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা
'মতিচুর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচুর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচুর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই। 'মতিচুর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- এই গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে ১০টি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
• Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
• পদ্মরাগ (উপন্যাস),
• অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; অ-তে অজগর; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
অমিয় চক্রবর্তীর বাংলাদেশ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মাটির দেয়াল
  2. এক মুঠো
  3. অনিঃশেষ
  4. অভিজ্ঞান বসন্ত
ব্যাখ্যা
• 'বাংলাদেশ' কবিতাটি 'অনিঃশেষ' কাব্যের 'বাংলাদেশ' নামের সুদীর্ঘ কবিতা থেকে নির্বাচিত। 
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- ১৮ মাত্র বিশিষ্ট ; প্রতি চরণে দুটি পর্ব- ১০ + ৮ মাত্রা করে। 

--------------------
অমিয় চক্রবর্তী
বাংলাদেশ- কবিতা 

যমুনা-পদ্মার তীরে তীরে
রূপোলি জলের ধারে, আম-জাম-নারকেল ঘেরা
আমন ধানের খেতে
সেই বাংলাদেশের ছিল সহস্রের একটি কাহিনী
কোরানে পুরাণে শিল্পে, পালা-পার্বণের ঢাকে ঢোলে
আউল বাউল নাচে; পূণ্যাহের সানাই রঞ্জিত
রোদ্দুরে আকাশতলে দেখ কারা হাটে যায়, মাঝি
পাল তোলে, তাঁতি বোনে,
রা কারা বুনো দল ঢোকে/ এরি মধ্যে (পাকসেনাদের কথা বলা হয়েছে।)

উৎস: 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থ এবং 'বাংলাদেশ' কবিতা।
১১.
সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে দক্ষশিল্পী ছিলেন-
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল ফজল
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আমৃত্যু এই দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসঙ্কুল পটভূমিও তাঁর উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।

অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
• উপন্যাস:
জননী (১৯৩৫), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬), শহরতলী (১৯৪০-৪১), চিহ্ন (১৯৪৭), চতুষ্কোণ (১৯৪৮), সার্বজনীন (১৯৫২), আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি। 

• ছোটগল্প:
অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫), আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০), ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
'বিশ শতকে বাঙালী' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আবুল হুসেন
  3. আবুল ফজল
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'বিশ শতকে বাঙালী' আহমদ শরীফ রচিত একটি প্রবন্ধ।
১৯৯৮ সালে প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 

---------------
• আহমদ শরীফ ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 

অধ্যাপক শরীফ ছিলেন একজন যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবকল্যাণকামী, শ্রেয়োবাদী ও প্রগতিশীল লেখক। বাংলাদেশের সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি রচনা করেছেন তার সংকলন গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশোর্ধ্ব। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

- বিচিত চিন্তা,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- প্রত্যয় ও প্রত্যাশা,
- যুগ যন্ত্রণা,
- কালের দর্পণে স্বদেশ,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলার বিপ­বী পটভূমি,
- বাঙলাদেশের সাম্প্রতিক চালচিত্র,
- মানবতা ও গণমুক্তি,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- প্রগতির বাধা ও পন্থা,
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
- বিশ শতকে বাঙালী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
"এখনও ক্রীতদাস" নাটকের নাট্যকার ছিলেন-
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• "এখনও ক্রীতদাস" নাটক :
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত "এখনো ক্রীতদাস" নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা' বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত। পুরুষতান্ত্রিক, পুঁজিতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

- সব সময় আলোয় ঝলমল করে নগর। চারদিকে যেন শুধু সুখ আর সুখ। কিন্তু আলোর নিচে তো অন্ধকার! নগরের সেই অন্ধকার বস্তি। এখানে মানবেতর জীবনযাপন করে অসংখ্য মানুষ। কীভাবে কাটে মানুষগুলোর দিন? তাঁদের কাহিনি নিয়েই নাটক এখনো ক্রীতদাস।

---------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন(১৯৪২-২০০৮) নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

আবদুল্লাহ আল মামুন ৭টি উপন্যাস রচনা ও প্রকাশ করেন, সেগুলো-
- মানব তোমার সারাজীবন,
- আহ্ দেবদাস,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডার বাবা,
- খলনায়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "এখনো ক্রীতদাস" নাটক।
১৪.
'ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আবুল হাসান
  3. আবুল ফজল
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল ও ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।

মুসলিম সাহিত্য সমাজের উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক কুসংস্কার ও অন্ধ শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষকে মুক্ত করা। এ উদ্দেশে তাঁরা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁদের সে আন্দোলনের বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৯২৬ সালে তাঁরা প্রকাশ করেন সমাজের মুখপত্র শিখা। মুসলিম সাহিত্য সমাজ ও শিখার সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন তাঁরা ‘শিখাগোষ্ঠী’ নামে পরিচিত ছিলেন। এ গোষ্ঠী তখন ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন শুরু করে। তাঁদের আন্দোলনের মূলকথা ছিল ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’।

শিখাগোষ্ঠীর এ আন্দোলনের মাধ্যমে আবুল ফজল যে মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী হয়েছিলেন, পরবর্তীকালে তাঁর রচনায় তার প্রতিফলন ঘটেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
আবুল হাসান রচিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. এখানে এখন
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওরা কয়েকজন
  4. গণনায়ক
ব্যাখ্যা
• আবুল হাসানের  মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য-  ওরা কয়েকজন। 

অন্যদিকে, 
সৈয়দ শামসুল হকের  কাব্যনাট্যসমূহ হচ্ছে-  পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬), গণনায়ক (১৯৭৬), এখানে এখন (১৯৮৮)। 

-------------------
• আবুল হাসান:

- আবুল হাসান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া, আর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।

- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে বিএ শ্রেণীতে ভর্তি হন, কিন্তু পরীক্ষা শেষ না করেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তাবিভাগে যোগদান করেন। পরে তিনি গণবাংলা (১৯৭২-৭৩) এবং দৈনিক জনপদ-এ (১৯৭৩-৭৪) সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম হন।

---------------------
তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করো (১৯৭৪) ও
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

মৃত্যুর পর কাব্যনাট্য-
- ওরা কয়েকজন ও
- আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ (১৯৯০) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৬.
'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে সাপ্তাহিক কলাম লিখে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন বাংলা ১৩১৭ সালের ২৮ ফাল্গুন (মার্চ, ১৯১১) তৎকালীন ঢাকা জেলার কালীগঞ্জ থানার দক্ষিণবাগ গ্রামে এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

- আবু জাফর শামসুদ্দীনের সাহিত্য জীবনের শুরু হয় ১৯৩২ সালে। তিনি অসংখ্য গল্প, বেশকিছুসংখ্যক উপন্যাস, নাটক, মননশীল প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনি প্রভৃতি রচনা করেছেন। তাঁর রচিত এবং প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা তিরিশটির অধিক। তাঁর হাজার পৃষ্ঠার সুবৃহৎ উপন্যাস 'পদ্মা মেঘনা যমুনা' বাংলা সাহিত্যের একটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। উভয় বাংলায় এ-গ্রন্থ উচ্চ প্রশংসা অর্জন করে।

- উপমহাদেশের একজন প্রথম সারির সাংবাদিক এবং কলামিস্ট হিসেবে তাঁর খ্যাতি রয়েছে। 'দৈনিক সোলতান' পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি  খুলনা,  কলকাতা ও কটকে কিছুকাল সরকারি চাকরি করেন। এর পাশাপাশি তিনি  আজাদ, ইত্তেফাক, পূর্বদেশ ও  সংবাদ পত্রিকায় বিভিন্ন পদে চাকরি করেন।

- ১৯৭৫ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দৈনিক 'সংবাদ'-এ 'অল্পদর্শী' এই ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এর আগে তিনি ১৯৬১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমীতে সহকারী অনুবাদকের পদে নিযুক্ত ছিলেন।

- সাহিত্য এবং সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, বেগম জেবুন্নিসা-কাজী মাহবুবুল্লাহ স্বর্ণপদক, জহুর হোসেন চৌধুরী স্মৃতি স্বর্ণপদক, সমকাল সাহিত্য পুরস্কার, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রভৃতি লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• উপন্যাস:
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১৭.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলন -
  1. সুরসাকী
  2. কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  3. বেতালপঞ্চবিংশতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম - কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৮.
'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• বাঙালি মুসলমানের মন:
- রচয়িতা: আহমদ ছফা।
- প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১ সাল।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১৯.
আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. খেলাঘর
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. অলাতচক্র
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২০.
'অ-তে-অজগর' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. আহসান হাবীব
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. এস ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
• 'অ-তে-অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রন্থ। 

--------------------
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১.
“চতুষ্কোণ” উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আহমদ ছফা
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা
• “চতুষ্কোণ” উপন্যাস:
- 'চতুষ্কোণ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা প্রথম থেকেই চলে সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্বের রেখা ধ’রে। “চতুষ্কোণে” ও তাই হয়েছে;-বরং “চতুষ্কোণ”ই মানিকের শরীর-মনের সন্ধানের দ্বন্দ্ব ও দ্বন্দ্বোত্তরণের এক চূড়ান্ত নিদর্শন।

- বাস্তববাদিতা সত্ত্বেও, যৌনতার ব্যবহার সত্ত্বেও মানিক-যে অজনপ্রিয়, তার কারণ, তাঁর লক্ষ্য সব সময় ব্যক্তির এই ভিতরদেশে, মনস্তত্ত্বে, বস্তুবাদিতা বা যৌনতায় তা অবসান মানে না, বস্তুবাদিতা বা যৌনতার আভ্যন্তর এলাকায় চ’লে যায় সত্যের সন্ধানে।

উৎস: “চতুষ্কোণে” উপন্যাস।
২২.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল' এর রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আবু ইসহাক
  3. আবদুল মানান সৈয়দ
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'। 

• 'জাল' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
=============== 
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক ও একজন অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

• তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাল’ উপন্যাসের ভূমিকা; বাংলাপিডিয়া।
২৩.
"কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২৪.
আহমদ শরীফ ছিলেন-
  1. শিক্ষাবিদ
  2. চিন্তাবিদ
  3. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ:
• আহমদ শরীফ ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।

• অধ্যাপক শরীফ ছিলেন একজন যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবকল্যাণকামী, শ্রেয়োবাদী ও প্রগতিশীল লেখক। বাংলাদেশের সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি রচনা করেছেন তার সংকলন গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশোর্ধ্ব।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

- বিচিত চিন্তা,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- প্রত্যয় ও প্রত্যাশা,
- যুগ যন্ত্রণা,
- কালের দর্পণে স্বদেশ,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলার বিপ­বী পটভূমি,
- বাঙলাদেশের সাম্প্রতিক চালচিত্র,
- মানবতা ও গণমুক্তি,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- প্রগতির বাধা ও পন্থা,
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
- বিশ শতকে বাঙালী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৫.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৩৮ সালে
  3. ১৮৩৪ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ও পত্রিকা:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে 'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তী কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. প্রগতি
  3. পূর্ণিমা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
• 'কবিতা' ও 'প্রগতি' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২৭.
মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
  3. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই:
- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।

মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব ,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।
 
অন্যদিকে,
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত গ্রন্থ - বাংলা সাহিত্যের কথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  2. ওঙ্কার
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খােয়াবনামা
  2. কর্ণফুলী
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

অন্যদিকে,
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. অলাতচক্র
  2. অনিল বাগচীর একদিন
  3. আগুনের পরশমণি
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- 'রাইফেল রোটি আওরাত' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সর্বপ্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঘটে যাওয়া গণহত্যা এবং তার পরবর্তী দিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কাহিনি  উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে।

- সেকালে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা প্রবাহের মধ্যে বসে লেখা, আমাদের সমগ্র ইতিহাসে একটি মাত্র উপন্যাসই পাওয়া যায়-এ উপন্যাসই হচ্ছে “রাইফেল রোটি আওরাত"। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাস এর রচনাকাল। লেখক শহীদ আনোয়ার পাশা নিহত হলেন ১৯৭১ সালেরই ১৪ই ডিসেম্বর। স্বাধীনতা লাভের মাত্র দু'দিন আগে তিনি যে অমর কাহিনি উপন্যাসে বিধৃত করেছেন নিজেই হয়ে গেলেন তারই অঙ্গ চিরকালের জন্য।

- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- ড. খালেক,
- ড. মালেক,
- ছাবেদ আলী,
- হাসমত,
- জামাল সাহেব প্রমুখ।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র' এর রচয়িতা - আহমদ ছফা। ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।

• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'। উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে। উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার। এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।

উৎস: 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১.
বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক -
  1. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  2. আহমদ শরীফ
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ:
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২.
'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বন্দীর বন্দনা' বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

• বুদ্ধদেব বসু ছিলেন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক। ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 

• ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
বন্দীর বন্দনা; কঙ্কাবতী; দ্রৌপদীর শাড়ী; শীতের প্রার্থনা: বসন্তের উত্তর; যে আধার আলোর অধিক।

• উপন্যাস:
লাল মেঘ; রাতভর বৃষ্টি; পাতাল থেকে আলাপ; গোলাপ কেন কালো। 

• গল্পগ্রন্থ:
অভিনয়, অভিনয় নয়; রেখাচিত্র; ভাসো আমার ভেলা। 

• নাটক:
তপস্বী ও তরঙ্গিণী; কলকাতার ইলেকট্রা; সত্যসন্ধ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩.
'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস':
• মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত গ্রন্থ 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস'। 

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' দৈনিক বাংলা কাগজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি -এই নয় মাস দেশের বাইরে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে অনুপ্রেরণা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন। মুজিবনগর সরকারের সাপ্তাহিক মুখপত্র 'জয় বাংলার' নির্বাহী সম্পাদক এবং স্বাধীন বাংলা বেতারে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে এই বই। এটা শুধু তাঁর দেশ ত্যাগের পরের কাহিনিই নয়। আগের চারমাসের কাহিনিও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• ১৯৭২ সালে 'দৈনিক বাংলা' প্রত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। মুক্তিযুদ্ধ সফল হওয়ার পর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী দেশে ফিরে এসে, একদিন দৈনিক বাংলা অফিসে যেতেই তোয়াব খান বললেন, আপনি যে নয়মাসের মতো মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়ে দেশের বাইরে কাটিয়ে এলেন সে সম্পর্কে একটা ধারাবাহিক লেখা আমাদের দিন। তাঁর অনুরধেই গ্রন্থটি রচনা করা হয়। 

উৎস: 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
৩৪.
'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. ইব্রাহীম খাঁ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র':
- 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ইবরাহীম খাঁর কেবল ভ্রমণকাহিনিই নয়, এটি তাঁর অন্যতম সাহিত্যকীর্তিও।

- ইব্রাহীম খাঁ ১৯৫১ সালের ২২ আগস্ট করাচী থেকে ইস্তাম্বুল যাত্রা করেন। সহযাত্রী ছিলেন মৌলভী তমিজুদ্দীন খাঁ ও মৌলভী খোন্দকার আলী আফজাল-এঁরা তিনজনই বাঙালি। তাঁরা আন্তঃপার্লামেন্টারি মতবিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসাবে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ভ্রমণ করেন। মূলত এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকেই অবলম্বন করে 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি রচিত। 

- তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের পথে প্রথমেই গিয়েছিলেন বছরা; তারপর বৈরুত, আলোপ্পো, খালেদার মাজার দেখলেন, আরবী গান শুনলেন এবং আঙ্কারার পথে যাত্রা করলেন। এরপর এলেন ইস্তাম্বুলে, নিকোশিয়া, কায়রো, জেদ্দা, মক্কা, মদীনা, দামেশক, তেহরান ইত্যাদি ভ্রমণশেষে তাঁরা ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর করাচী এসে তাঁদের সফর শেষ করেন।

- এই 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' গ্রন্থটি আলোচনা করতে গিয়ে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ- ইবরাহীম খাঁ'কে 'অভিনব ভ্রমণকাহিনির প্রবর্তক' হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক বলেন-
ইস্তাম্বুল যাত্রীর অনেকগুলি পত্র আজাদে প্রকাশিত হয়। তখন পাঠক সমাজের অনেকে একে বইয়ের আকারে ছাপাতে পরামর্শ দেন। তাঁদের এই পরামর্শকে কাজে পরিণত করার ব্যাপারে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস যে সহযোগিতা করেছেন, সেজন্য তাঁদেরে ধন্যবাদ। আর যে সহৃদয় পাঠক বন্ধুদের আগ্রহে আমি এই ছাপান কাজে প্রবৃত্ত হই, আজ তাঁদেরেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি।
৩৫.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ নয় কোনটি?
  1. গ্রানাডার শেষ বীর
  2. ভবিষ্যতের বাঙালী
  3. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  4. জীবনের শিল্প
ব্যাখ্যা
এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।

এস ওয়াজেদ আলি রচিত প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

এস ওয়াজেদ আলি উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
"শাশ্বত বঙ্গ" গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
শাশ্বত বঙ্গ:
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত ‘শাশ্বত বঙ্গ’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি গ্রন্থ।
- একটি কবিতাসহ ৭৫টি প্রবন্ধ নিয়ে সংকলিত হয় এ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা ১৩৫৮ সনে, কলকাতা থেকে।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত নবর্পয্যায় (১ম ও ২য় খণ্ড), রবীন্দ্রকাব্য পাঠ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ, আজকার কথা, নজরুল প্রতিভা, স্বাধীনতা-দিনের উপহার প্রভৃতি গ্রন্থের নির্বাচিত প্রবন্ধ এবং অপ্রকাশিত কিছু প্রবন্ধ নিয়ে গ্রন্থ আকারে ‘শাশ্বত বঙ্গ’ সংকলিত হয়।

কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. শকুন্তলা
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা
• "প্রভাবতী সম্ভাষণ":
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা ভাষায় রচিত প্রথন মৌলিক গদ্য রচনা "প্রভাবতী সম্ভাষণ"।  
- "প্রভাবতী সম্ভাষণ" নামে স্বর্গীয় বিদ্যাসাগর মহাশয় যে প্রবন্ধটি লিখেছেন, তা পড়লে হৃদয় করুণায় ভরে যায়। রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কন্যা প্রভাবতীকে তিনি নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। কিন্তু প্রভাবতীর অকালমৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। সেই শোক থেকেই তিনি প্রভাবতীর স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি ছিল তাঁর প্রকাশিত অনুবাদমূলক রচনাগুলো। এগুলো হলো:

• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'। 
•কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা'। 
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ)। 
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস'। 
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং "প্রভাবতী সম্ভাষণ" প্রবন্ধটি।
৩৮.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে-
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।