পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes৪৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৫০
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৯ পার্ট-১) বাংলাদেশ বিষয়াবলি: টপিকসমূহ ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: ২. বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা পার্ট-২) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ বাক্য প্রকরণ (প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ; বানান ও বাক্যশুদ্ধি; যতিচিহ্ন ও এর ব্যবহার; পরিভাষা; বাগ্‌ধারা; সমার্থক শব্দ/প্রতিশব্দ; বিপরীতার্থক শব্দ; শব্দজোড় ও প্রায় সমোচ্চারিত শব্দ; এক কথায় প্রকাশ/বাক্য সংক্ষেপ বিবিধ।) ------------------ পার্ট–১ সোর্স: পৌরনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] পার্ট–২ সোর্স: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৫০ প্রশ্ন

.
কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে কতক্ষণ থামতে হয়?
  1. এক সেকেন্ড
  2. থামার প্রয়োজন নেই
  3. এক বলতে যে সময় লাগে
  4. এক বলার দ্বিগুণ সময়
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।

• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে -
- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।

• হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে -
- থামার প্রয়োজন হয় না।

• দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে -
- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন শব্দটি ভিন্নার্থক?
  1. ক্ষিতি
  2. অবনি
  3. মহী
  4. বারি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,।

- 'বারি' শব্দটি ভিন্নার্থক।
• 'বারি' শব্দের অর্থ: পানি।

• 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জগৎ,
- ভুবন,
- সংসার,
- বিশ্ব,
- ধরা,
- বসুমতী,
- বসুন্ধরা,
- ভূ,
- মর্ত্য,
মহী,
- মেদিনী,
ক্ষিতি, 
- অবনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটি সমাসঘটিত অশুদ্ধি নয়?
  1. দিবারাত্রি
  2. অহর্নিশি
  3. নীরোগ
  4. নিরপরাধী
ব্যাখ্যা
'নীরোগ' সমাসঘটিত অশুদ্ধি নয়।
• নীরোগ শুদ্ধ শব্দ।

• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি:
- শুদ্ধ    -    অশুদ্ধ
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি
- অহর্নিশ - অহর্নিশি
- নিরপরাধ - নিরপরাধী
- নিরপরাধ - নিরপরাধী। 
- নিরহঙ্কার - নিরহঙ্কারী। 
- নির্ধন - নির্ধনী। 
- নিরভিমান - নিরভিমানী। 
- নির্দোষ - নির্দোষী। 
- নীরোগ - নীরোগী। 
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি। 
- পিতৃহারা - পিতাহারা। 
- যুবরাজ - যুবরাজা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'পরিতোষ' শব্দের অর্থ কী?
  1. চন্দ্র
  2. কর্মফল
  3. খুশি
  4. জ্যোৎস্না
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধানে অনুসারে,

• পরিতোষ শব্দের অর্থ: খুশি, পরিতুষ্ট।

• 'আনন্দ'-এর আরো কিছু সমার্থক শব্দ:  
খুশি, আমোদ, মজা, পুলক, হর্ষ, আহ্লাদ, স্ফূর্তি, সন্তোষ, পরিতোষ, প্রমোদ, উল্লাস, উচ্ছ্বাস। 

'চাঁদ' এর সমার্থক শব্দ:
- চন্দ্র, শশী, শশাঙ্ক, সুধাকর, ইন্দু, সোম, শশধর, বিধু, নিশাকর, সুধাংশু, সিতাংশু, হিমাংশু, মৃগাঙ্ক, হিমকর ইত্যাদি।

• 'জ্যোৎস্না' এর আরো কিছু প্রতিশব্দ:
- চন্দ্রিমা, চন্দ্রকিরণ, চন্দ্রিকা, জোছনা, চন্দ্রালোক, কৌমুদী।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'Quarterly' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. ষাণ্মাষিক
  2. ত্রৈমাসিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. পাক্ষিক
ব্যাখ্যা
'Quarterly' এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ - ত্রৈমাসিক।

অন্যদিকে,
- Fortnightly - পাক্ষিক। 
- Weekly - সাপ্তাহিক। 
- Half yearly - ষাণ্মাষিক।

উৎস : প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।
.
'সাক্ষী গোপাল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. উপস্থিত দর্শক
  2. শক্তিশালী সাক্ষী
  3. নিষ্ক্রিয় দর্শক
  4. কাল্পনিক সাক্ষী
ব্যাখ্যা
• 'সাক্ষী গোপাল' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - নিষ্ক্রিয় দর্শক।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- লেফাফা দূরস্ত - পরিপাটি।
- রাবণের চিতা - চির অশান্তি।
- বুদ্ধির ঢেকি - নির্বোধ।
- শাখের করাত - উভয় সংকট / দু'দিকেই বিপদ।
- শিবরাত্রির সলতে - একমাত্র সন্তান / বংশধর।
- সাত পাঁচ ভাবা - নানারকম চিন্তা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
'কলাধর' শব্দের সমার্থশব্দ কোনটি?
  1. চাঁদ
  2. সূর্য
  3. পৃথিবী
  4. পাহাড়
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• 'কলাধর' শব্দের অর্থ: চাঁদ/চন্দ্র।

• চাঁদ শব্দের সমার্থক শব্দ:
সোম, চন্দ্র, চন্দ্রমা, শশী, শশধর, শশাঙ্ক, শুধাংশু, হিমাংশু, বিধু, ইন্দু, সিতকর, নিশাকর, সুধাকর, নিশাকান্ত, মৃগাঙ্ক, রজনীকান্ত, কলাধর, কলানিধি, কুমুদনাথ।

• 'সূর্য' শব্দের সমার্থক শব্দ:
আদিত্য, তপন, দিবাকর, ভাস্কর, ভানু, মার্তণ্ড, রবি, সবিতা।

• পৃথিবী' এর সমার্থক শব্দ:
বসুন্ধরা, ক্ষিতি, অখিল, ভুবন, অবনী, ধরা, ধরণী, ভূ, মেদিনী ইত্যাদি।

• পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- মহীধর, পাহাড়, অচল, শৈল, ভূধর, অদ্রি, শিখরী, শৃঙ্গী, শৃঙ্গধর, মহীধ্র, ভূভৃৎ, নগ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. চপলতা
  2. পৌরুষত্ব
  3. গাম্ভীর্য
  4. চতুরতা
ব্যাখ্যা
 • 'পৌরুষত্ব'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - পৌরুষ, পুরুষত্ব।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, চতুরতা ও চপলতা শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
'যা দমন করা কষ্টকর' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. দুর্দমনীয়
  2. দুর্বাক
  3. দুস্তর
  4. অদম্য
ব্যাখ্যা
• 'যা দমন করা কষ্টকর' এক কথায় হবে - দুর্দমনীয়।

অন্যদিকে:
- যা দমন করা যায় না এর এক কথায় প্রকাশ - অদম্য।
- দুর্বাক: অশিষ্ট বাক্য বলে এমন, অপ্রিয়ভাষী, কটুভাষী।
- যা পার হওয়া কষ্টসাধ্য - দুস্তর।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
'বাস্তুঘুঘু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অসহায় ব্যক্তি
  2. অতি ধূর্ত লোক
  3. ভবঘুরে ব্যক্তি
  4. বাস্তুহারা লোক
ব্যাখ্যা
• 'বাস্তুঘুঘু' বাগ্‌ধারাটির অর্থ অতি ধূর্ত লোক।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- বর্ণচোরা - কপটচারী। 
- ব্যাঙের সর্দি - অসম্ভব ঘটনা। 
- বক দেখানো - অশোভন বিদ্রুপ করা। 
- ব্যাঙের আধুলি - সামান্য ধনে অহংকার। 
- বচনবাগীশ - কথায় পটু।
- বামন হয়ে চাঁদে হাত - অসম্ভব কিছু পাওয়ার চেষ্টা। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
'Intelligence' এর পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. গুপ্তবার্তা
  2. জ্ঞানী
  3. জ্ঞানগর্ব বাণী
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• Intelligence এর পারভাষিক শব্দ - গুপ্তবার্তা।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ পারিভাষিক শব্দ:
- Intellectualism- বুদ্ধিবাদ।
- Disclosed - উদ্‌ঘাটিত।
- Aphorism - জ্ঞানগর্ব বাণী
- Intelligence Branch - গুপ্তবার্তা বিভাগ।
- Forecast - পূর্বাভাস
- Table - তালিকা,
- Tender - দরপত্র,
- Quoted - উদ্ধৃত,
- Racial - জাতীয়,
- Publish - প্রকাশ করা।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি।

১২.
'শিকায় তোলা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. তোষামুদি করা
  2. মুলতবি
  3. বিচারের মুখোমুখি করা
  4. মাথায় তুলে রাখা
ব্যাখ্যা
'শিকায় তোলা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ মুলতবি বা স্থগিত।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- রাম ধোলাই - প্রচণ্ড পিটুনি।
- লেজে গোবরে - বিশৃঙ্খলা। 
- লবেজান করা - নাজেহাল করা। 
- শরতের শিশির - সুসময়ের বন্ধু / ক্ষণস্থায়ী। 
- শাপে বর - অনিষ্টে ইষ্ট লাভ। 
- শবরীর প্রতীক্ষা - দীর্ঘকাল ধরে। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৩.
ইলেক চিহ্ন কেন দেওয়া হয়?
  1. উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে
  2. প্রত্যক্ষ উক্তির জন্য
  3. সমাসবদ্ধ পদের জন্য
  4. বিলুপ্ত বর্ণের জন্য
ব্যাখ্যা
• বিলুপ্ত বর্ণের জন্য- ইলেক বা লোপ চিহ্ন দিতে হয়।

• ইলেক বা লোপ চিহ্ন:
- বাক্যে এক বা একাধিক বর্ণকে বর্জন করা হলে, তা প্রকাশের জন্য বর্জিত স্থানে ইংরেজি ভাষায় অ্যাপস্ট্রফি বলে পরিচিত ( ' ) লোপচিহ্নটি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলায় একে 'উর্ধ্বকমা' বলা হয়।
- আধুনিক- প্রমিত বানানে 'উর্ধ্বকমা' বর্জনীয়।
- ইলেক বা লোপ চিহ্ন থাকলে - থামার প্রয়োজন নেই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৪.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. বিশেষণ
  2. দুর্ণীতি
  3. ত্রিনয়ন
  4. স্বতঃস্ফূর্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

- 'দুর্ণীতি ' বানানটি অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ রূপ: দুর্নীতি (বিশেষ্য)।
- সংস্কৃত শব্দ।
প্রকৃতি- প্রত্যয়: দুঃ+√ নী+তি।
অর্থ:
- কুরীতি,
- আর্থিক অনিয়ম ও অসাধুতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৫.
'ম্যাও ধরা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. দায়িত্ব নেওয়া
  2. অবহেলা করা
  3. ভান ধরা
  4. বড় গ্রাহক ধরা
ব্যাখ্যা
• 'ম্যাও ধরা' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - দায়িত্ব নেওয়া।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- ভুঁইফোড় - অর্বাচীন / নতুন। 
- ভানুমতির খেল - যাদুবিদ্যা / ভেলকিবাজি। 
- ভস্মে ঘি ঢালা - নিষ্ফল কাজ। 
- মাছের মা - নির্মম / নিষ্ঠুর। 
- মাকাল ফল - অন্তঃসারশূন্য। 
- মগের মুল্লুক - অরাজক দেশ। 
- মিছরির ছুরি - মুখে মধু অন্তরে বিষ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৬.
'Adjournment’ এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. স্থগিতকরণ
  2. সংযুক্তকরণ
  3. স্থগিতাবস্থা
  4. বিভক্তকরণ
ব্যাখ্যা
• Adjournment এর সঠিক পারিভাষিক শব্দ - স্থগিতকরণ।

অন্যদিকে,
- স্থগিতাবস্থা - Abeyance।
- সংযুক্তিকরণ - 'Annexation' অথবা Attachment।
- বিভক্তকরণ - Division, Partition, or Fragmentation।

উৎস: প্রশাসনিক পরিভাষা, বাংলা একাডেমি ও অক্সফোর্ড ডিকশনারি।
১৭.
'যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী / বাগদত্তা ছিল' তাকে এক কথায় কী বলে?
  1. স্বয়ংবরা
  2. অন্যপূর্বা
  3. অধিবিন্না
  4. অনন্যা
ব্যাখ্যা
• 'যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী / বাগদত্তা ছিল = অন্যপূর্বা।

এই সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
যে নারী প্রিয় কথা বলে - প্রিয়ংবদা। 
যে নারীর পতি নেই, পুত্রও নেই - অবীরা।
যে নারীর হাসি সুন্দর - সুস্মিতা। 
যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে - বীরপ্রসূ। 
যে নারী আনন্দ দান করে - বিনোদিনী। 
যে নারী নিজে বর বরণ করে নেয় - স্বয়ংবরা। 
যে নারীর হাসি কুটিলতাবর্জিত - শুচিস্মিতা। 
যে নারীর অসূয়া / হিংসা নাই - অনসূয়া। 
যে নারীর সম্প্রতি বিয়ে হয়েছে - নবোঢ়া। 
যে নারীর কোনো সন্তান হয় না - বন্ধ্যা। 
যে নারী অন্য কারও প্রতি আসক্ত হয় না - অনন্যা। 
যে নারীর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে - অধিবিন্না।
 যে নারীর সূর্যও মুখ দেখতে পারে না - অসূর্যম্পশ্যা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
সঠিক বানান নির্ণয় করুন-
  1. দুরাকাঙ্ক্ষা
  2. দুরকাঙ্খা
  3. দুরাকাংক্ষা
  4. দুরাকাঙ্খা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

• শুদ্ধ বানান: 'দুরাকাঙ্ক্ষা'।
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ
- প্রকৃতি প্রত্যয় = দুর্‌ঃ + আ + √ কাঙ্ক্ষ্‌ + অ + আ।
অর্থ:
- দুর্লভ বস্তু লাভ করার আশা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯.
'সলিল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. পানি
  2. পদ্ম
  3. পবিত্র
  4. অন্তিম
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধানে অনুসারে,
• 'সলিল' শব্দের অর্থ: পানি, বারি।

• 'পানি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
- জল, জীবন, নীর, সলিল, পয়ঃ, বারি, অপ, উদক, জীবন, অম্বু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২০.
'সমষ্টি' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. একষ্টি
  2. তুষ্টি
  3. নিষ্টি
  4. ব্যষ্টি
ব্যাখ্যা
'সমষ্টি' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ ব্যষ্টি।
• ব্যষ্টি শব্দের অর্থ- ব্যক্তিতা, পৃথক অস্তিত্ব।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিপরীতার্থক শব্দ:
- নম্রতা - ঔদ্ধত্য।
- ব্যষ্টি - সমষ্টি।
- নানা - এক।
- নগণ্য - গণ্য।
- প্রশস্ত - সংকীর্ণ।
- নশ্বর - শ্বাশত।
- শত্রু - মিত্র।
- যোজক - প্রণালি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২১.
'যে পুরুষ স্ত্রীর বশীভূত' এর কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. সুদর্শন
  2. কৃতদার
  3. কানীন
  4. স্ত্রৈণ
ব্যাখ্যা
• 'যে পুরুষ স্ত্রীর বশীভূত' এর কথায় প্রকাশ - স্ত্রৈণ।

এই সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- যে দার (স্ত্রী) পরিগ্রহ করেনি - অকৃতদার। 
- যে পুরুষ বিয়ে করেছে - কৃতদার। 
- যে পুরুষ পত্নীসহ বর্তমান - সপত্নীক। 
- যে পুত্রের মাতা কুমারী - কানীন। 
- যে পুরুষের চেহারা দেখতে সুন্দর - সুদর্শন। 
- যে পুরুষের দাড়ি গোঁফ গজায়নি - অজাতশ্মশ্রু। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২২.
সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধি কোনটি?
  1. বাগেশ্বরী
  2. অনটন
  3. বিপদুদ্ধার
  4. পৃথগন্ন
ব্যাখ্যা
• 'বাগেশ্বরী' সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধ শব্দ।
• শুদ্ধ শব্দ: বাগীশ্বরী

• সন্ধি সংক্রান্ত অশুদ্ধির কিছু উদাহরণ:

শুদ্ধ  -  অশুদ্ধ
- অনটন - অনাটন। 
- বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি। 
- পৃথগন্ন - পৃথকন্ন। 
- বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী। 
- বিপদুদ্ধার - বিপদোন্ধার। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৩.
নিচের কোনটি শুদ্ধ বানান?
  1. হীনোম্নন্যতা
  2. হীনম্মন্যতা
  3. হীনমন্যতা
  4. হীনমন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• শুদ্ধ বানান - 'হীনম্মন্যতা'
- বিশেষণ পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয়: হীনম্মন্য + তা।
অর্থ:
- নিজের সম্বন্ধে হীন ধারণা পোষণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪.
'নীর' ও 'নীড়' শব্দযুগলের অর্থ কোনটি?
  1. পানি ও পাখির বাসা
  2. পাখির বাসা ও পানি
  3. নীলাভ বর্ণ ও আবাস
  4. আকাশ ও আবাস
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,

 'নীর'
- সংস্কৃত শব্দ
অর্থ: পানি, জল, রস। 

• নীড় (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [নি+√ঈড়্‌+অ]
অর্থ: পাখির বাসা, কুলায় 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
'হরণ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ কী হবে?
  1. জিজীবিষা
  2. অপচিকীর্ষা
  3. জিহীর্ষা
  4. জিগমিষা
ব্যাখ্যা
• 'হরণ করার ইচ্ছা' এর এক কথায় প্রকাশ - জিহীর্ষা। 

• এই সম্পর্কিত কিছু এক কথায় প্রকাশ:
- বেঁচে থাকার ইচ্ছা - জিজীবিষা। 
- অপকার করার ইচ্ছা - অপচিকীর্ষা। 
- গমন করার ইচ্ছা - জিগমিষা। 
- উদক / জল পানের ইচ্ছা - উদন্যা। 
- দেখবার ইচ্ছা - দিদৃক্ষা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৬.
'সরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. গরল
  2. কুটিল
  3. বিরল
  4. মধুর
ব্যাখ্যা
'সরল' শব্দের বিপরীত শব্দ কুটিল, জটিল, বক্র।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দ:
- 'তিক্ত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - মধুর।
- 'অবিরল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিরল।
- 'কুটিল' এর বিপরীতার্থক শব্দ - সরল।
- 'জীবিত' এর বিপরীতার্থক শব্দ - মৃত।
- 'হর্ষ' এর বিপরীতার্থক শব্দ - বিষাদ।

উৎস: ভাষা- শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৭.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ?
  1. কোষ্ঠকাঠিন্য
  2. উর্ধ্ব
  3. জাজ্বল্যমান
  4. পিপীলিকা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• অশুদ্ধ বানান- উর্ধ্ব।
• শুদ্ধ বানান- ঊর্ধ্ব।

• 'ঊর্ধ্ব':
- এর সঠিক উচ্চারণ- উরধো।
- অর্থ:
১ ওপরের দিক, উপরিভাগ।
২ উচ্চতা (ঊর্ধ্বে তিন হাত)।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৮.
'পায়াভারি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ কী?
  1. অলস
  2. অহংকার
  3. অভিজ্ঞ
  4. দালালী
ব্যাখ্যা
• 'পায়াভারি' বাগ্‌ধারাটির অর্থ - অহংকার।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগ্‌ধারা:
- পটল তোলা - মারা যাওয়া। 
- ধর্মের ষাঁড় - স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি/অপদার্থ/অকর্মণ্য। 
- নাড়াবুনে - মূর্খ। 
- নিমরাজি - আংশিক স্বীকার করা। 
- ন মাসে ছ মাসে - কালে-ভদ্রে। 
- নদের চাঁদ - সুন্দর ব্যক্তি অথচ অপদার্থ। 
- ননীর পুতুল - শ্রমবিমুখ। 
- ন কড়া ছ কড়া - হেলাফেলা। 
- ধামাধরা - চাটুকারিতা/তোষামোদকারী। 
- ধর্মের ষাঁড় - স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি/অপদার্থ/অকর্মণ্য। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৯.
বাংলাদেশ সরকারের বিভাগ কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৫ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সরকারের তিনটি বিভাগ:
সেগুলো হচ্ছে:
- নির্বাহীবিভাগ
- আইনবিভাগ ও
- বিচারবিভাগ।

• নির্বাহী বিভাগ
- নির্বাহীবিভাগকে শাসনবিভাগও বলা হয়ে থাকে।
এটি মূলত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে গঠিত।

• বিচার বিভাগ:
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত এবং বিশেষট্রাইব্যুনাল নিয়ে গঠিত।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩০.
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি
  2. নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ
  3. ক্ষমতা লাভ
  4. হরতাল ও অবরোধ
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৩১.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম ভূমিকা হল-
  1. সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. সমস্যা চিহ্নিত করা
  4. জনকল্যাণে কাজ করা
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২.
NCP-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. National Curriculum Party
  2. National Citizen Party
  3. National Cultural Party
  4. New Citizen Party
ব্যাখ্যা
National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
৩৩.
সংবিধান সংরক্ষণ এর দ্বায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত?
  1. সুপ্রিমকোর্ট
  2. হাইকোর্ট
  3. আপিলবিভাগ
  4. জাতীয় সংসদ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংরক্ষণ এর দ্বায়িত্ব কার উপর ন্যস্ত?
উত্তর: সুপ্রিমকোর্ট ও জাতীয় সংসদ। 
অপশনে একের অধিক সঠিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে। 
===================== 

• জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
- কোনো নতুন আইন পাশ করতে হলে খসড়া বিলের আকারে তা সংসদে পেশ করা হয়। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বিলটি গৃহীত হওয়ারপর এবং বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর তা' আইনে পরিণত হয়।

• জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি করে।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। মুলতুবি

• জাতীয় সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না।
- সংসদ প্রতিবছর জাতীয় বাজেট পাস করে।
- অর্থমন্ত্রী বাজেটের খসড়া সংসদে উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যগণ দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা পাশ করেন।

•  জাতীয় সংসদের বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য অসংসদীয় আচরণ করলে স্পিকার তাঁকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- তাছাড়া সংবিধান লঙ্ঘন করলে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।

•  সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়।
• জাতীয় সংসদের সদস্যগণ সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত করেন।
- সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণও সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
- এ ছাড়া সংসদ সদস্যগণ দেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করে থাকেন।

• সংবিধান সংরক্ষণ ও সংশোধন:
সংবিধানের আমানতদার হিসেবে সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংবিধানের যে কোনো সংশোধনীও সংসদে উত্থাপিত ও গৃহীত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

৩৪.
নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে কোন দলের পতন ঘটে?
  1. জাতীয় পার্টি
  2. আওয়ামী লীগ
  3. বিএনপি
  4. জাসদ
ব্যাখ্যা
• নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে- জাতীয় পার্টি।
• নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সূচনা হয় ১৯৮২ সালের ২৪শে মার্চ যখন তৎকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেঃ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন ।

----------------------------------
• জাতীয় পার্টি:
- জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ১ জানুয়ারি ১৯৮৬ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জাতীয় পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, ইসলামি আদর্শ ও সকল ধর্মের স্বাধীনতা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সামাজিক প্রগতি তথা অর্থনৈতিক মুক্তি দলের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

উৎস: জাতীয় পার্টি ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো।
৩৫.
কেন্দ্রিয় প্রশাসনিক কাঠামোর পদসোপান অনুযায়ী সর্বনিম্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হচ্ছেন-
  1. সিনিয়র সহকারী সচিব
  2. উপসচিব
  3. সহকারী সচিব
  4. যুগ্ম সচিব
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রশাসনের দুটি স্তর রয়েছে।
যেমন:
-কেন্দ্রীয় প্রশাসন
- মাঠ প্রশাসন।

কেন্দ্রিয় প্রশাসনিক কাঠামোর পদসোপান অনুযায়ী সর্বনিম্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হচ্ছেন সহকারী সচিব।
---------------------------------------------
- ধাপের ক্রমানুসারে কর্মকর্তাদের পদবি
যথাক্রমে
- সিনিয়র সচিব,
- সচিব,
- অতিরিক্ত সচিব,
- যুগ্ম সচিব,
- উপসচিব,
- সিনিয়র সহকারী সচিব,
- সহকারী সচিব
- এবং সবার উপরে মন্ত্রী অবস্থান করেন।
-  প্রশাসনিক কর্মকান্ড এই কাঠামো স্তরের মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হয়।
- সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ উপর থেকে নিচের দিকে যায়।
- সচিবের পরামর্শ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো বিভাগীয় প্রধান, সরাসরি মন্ত্রীর কাছে কোনো প্রস্তাব বা সুপারিশ পাঠাতে পারেন না।
- একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব বা অধস্তন কর্মকর্তা থাকতে পারেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়-৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩৬.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন কে? (জুন-২০২৫)
  1. জনাব তারেক রহমান
  2. বেগম খালেদা জিয়া
  3. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
  4. জোবাইদা রহমান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দলটির অন্যতম মূলনীতি।
- বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন : বেগম খালেদা জিয়া। (জুন-২০২৫)
- মহাসচিব : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

উৎস: বিএনপি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৭.
মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা কে?
  1. উপসচিব
  2. যুগ্ম সচিব
  3. সহকারি সচিব
  4. অতিরিক্ত সচিব
ব্যাখ্যা
• কেন্দ্রীয় প্রশাসন:
- মন্ত্রণালয় হলো প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু।
- আর যে স্থানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো অবস্থিত তা সচিবালয় নামে পরিচিত।
- প্রতিটি মন্ত্রণালয় একজন মন্ত্রীর অধীনে ন্যস্ত।
- মন্ত্রীর প্রধান কাজ প্রকল্প প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ
- প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন সচিব।
- অতিরিক্ত সচিব মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি সচিবকে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেন।
- কোনো মন্ত্রণালয়ে সচিব না থাকলে তিনি সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৮.
নিচের কোনটি স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
 ’জেলা পরিষদ’ স্থানীয় প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত নয় কারণ  এটি একটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠান ।

- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন বলতে নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক জনগণের স্বশাসনকে বুঝায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা তা পরিচালিত হয়।
----------------------------------------------
• স্থানীয় প্রশাসন: 
- স্থানীয় শাসন বলতে সাধারণত স্থানীয় পর্যায়ের তথা বিভাগ,জেলা এবং উপজেলা শাসন ব্যবস্থাকে বুঝায়। প্রশাসনের সুবিধার্থে এর সৃষ্টি।
- এ প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ও নিয়ন্ত্রণকে নিম্নস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায় ও সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই এর মুখ্য উদ্দেশ্য।
- স্থানীয় শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিবৃন্দ সরকারের এজেন্ট বা প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য।

• স্থানীয় প্রশাসনগুলো হলো:

• বিভাগীয় প্রশাসন:
বাংলাদেশে আটটি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।

• জেলা প্রশাসন:
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।
- তাঁকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়।

• উপজেলা প্রশাসন:
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- উপজেলার প্রশাসনিক কাজ তদারক করা তাঁর অন্যতম দায়িত্ব।
- এছাড়া তিনি উপজেলার সকল উন্নয়নকাজ তদারক করেন ও সরকারি অর্থের ব্যয় তত্ত্বাবধান করেন।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩৯.
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ নামক রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন কোথায়?
  1. রমনার বটমূলে
  2. সেনানিবাসে
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. পল্টনে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দলটির অন্যতম মূলনীতি।

উৎস: বিএনপি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪০.
বাংলাদেশে কতটি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে? (জুন-২০২৫)
  1. ১১টি
  2. ১২টি
  3. ৯টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা
• সিটি কর্পোরেশন:
- বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান শহরকে কেন্দ্র করে সিটি কর্পোরেশনগুলো গড়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের মোট ১২টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

• এগুলো হলো:
- ঢাকায় দুটি (ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ),
- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
- রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন,
- খুলনা সিটি কর্পোরেশন,
- সিলেট সিটি কর্পোরেশন,
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশন,
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন,
- নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন,
- কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন,
- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন
 - ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪১.
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক কে?
  1. হাসনাত আব্দুল্লাহ
  2. সারজিস আলম
  3. আখতার হোসেন
  4. নাহিদ ইসলাম
ব্যাখ্যা
National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
৪২.
ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষা হয় কোন রাষ্ট্রব্যবস্থায়?
  1. পুঁজিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা
  2. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
  3. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
  4. একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুণ:
----------------------------------------------
• ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ :
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারে। সরকারের সমালোচনা করতে পারে।
- প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারে।
- ফলে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিকাশ ঘটে এবং নাগরিকের অধিকার রক্ষা হয়।

• দায়িত্বশীল শাসন:
- এ ব্যবস্থায় শাসকগণ জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট দায়ী থাকে।
- তারা পরবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য জনস্বার্থমূলক কাজ করার চেষ্টা করে। ফলে দেশে দায়িত্বশীল শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

• সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি:
- গণতন্ত্রে জনগণের আস্থার উপর সরকারের স্থায়িত্ব নির্ভর করে। ফলে জনগণের আস্থা লাভের জন্য সরকার সততার সাথে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে।
- এর ফলে সরকারের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

•  সাম্য ও সমঅধিকারের প্রতীক :
- গণতন্ত্রে সবাই সমান।
- এতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি নির্বিশেষে সবাই সমান সুযোগ বা অধিকার ভোগ করে এবং সবাই সমানভাবে রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

• নাগরিকের মর্যাদা বৃদ্ধি:
-  গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
- নির্বাচনের মাধ্যমে সব নাগরিকের রাষ্ট্রের কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার তারা নিজেদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
- এতে তাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ সৃষ্টি হয় এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

• যুক্তি ও সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা জনগণের সম্মতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
- কাজেই গণতন্ত্রে শক্তি প্রয়োগ বা জোর করে কিছু করার সুযোগ নেই বরং জনগণের ইচ্ছা এবং যুক্তি প্রাধান্য পায়।

• রাজনৈতিক শিক্ষা লাভ:
- গণতন্ত্রে রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকায় নাগরিকগণ জটিল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ পায়।
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনে তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৩.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি-
  1. বামপন্থী রাজনৈতিক দল
  2. ডানপন্থী রাজনৈতিক দল
  3. সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল
  4. ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে  আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়। ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪.
রাজনৈতিক দলের নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন
  2. নির্বাচনি প্রচার
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. ভোটারদের প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৪৫.
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক কে?
  1. অ্যাটর্নি জেনাররেল
  2. আইনমন্ত্রী
  3. আইন উপদেষ্টা
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
• অ্যাটর্নি জেনাররেল:
-  তিনি হলেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
-  অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত বিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।( জুন-২০২৫)

উৎস: প্রথম আলো।
৪৬.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টিকে রাখার জন্যে প্রয়োজন-
  1. সুশীল সমাজ
  2. শিক্ষক সমাজ
  3. চাপসৃষ্টিকারী দল
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭.
বাংলাদেশের আইনসভার কার্যকাল কত বছর?
  1. ৩ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৪ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের আইনসভা:
- সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
- জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০।
- এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন
- এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
- বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকেন।
- তাঁরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন।
 - জাতীয় সংসদের কার্যকাল পাঁচ বছর।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৪৮.
রাষ্ট্র চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রকাশ পায় কোন উপাদানের মাধ্যমে?
  1. জনসমষ্টি
  2. সার্বভৌমত্ব
  3. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের উপাদান:

• জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়।
- রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি একান্ত অপরিহার্য।
- জনসমষ্টির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা এবং পারস্পরিক সম্পর্ক থেকে রাষ্ট্র ধারণার উদ্ভব হয়েছে।

• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড:
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান। প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ভূখন্ড বলতে স্থলভাগ, সমুদ্রসীমা, আকাশসীমাও বোঝায়।
- রাষ্ট্রের জনগণের বসবাসের জন্য নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের উপর নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক।


• সরকার:
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার। সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ।
- এ তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়।

•সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা।
- সার্বভৌম শব্দদ্বারা চরম ও চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়।
- সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেরাষ্ট্রের গঠন পূর্ণতা পায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪৯.
সুপ্রিমকোর্টের অংশ-
  1. জেলা জজ আদালত
  2. আপিল বিভাগ
  3. সহকারী জজ আদালত
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত। 
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। 

• সুপ্রিমকোর্টের এর রয়েছে দুটি বিভাগ,
যথা:
- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
৫০.
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. সুপ্রিমকোর্ট
  3. আইনসভা
  4. হাইকোর্ট
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
----------------------------------------------
• বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- সংসদ যেকোনো নতুন আইন প্রণয়ন, প্রচলিত আইনের পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারে।
- কোনো নতুন আইন পাশ করতে হলে খসড়া বিলের আকারে তা সংসদে পেশ করা হয়। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে বিলটি গৃহীত হওয়ারপর এবং বিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর তা' আইনে পরিণত হয়।

• জাতীয় সংসদ নির্বাহী বিভাগের কার্যক্রম তদারকি করে।
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
- কোনো কারণে সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা আনলে মন্ত্রিসভা ভেঙে যায়। মুলতুবি

• জাতীয় সংসদের অনুমতি ছাড়া কোনো কর বা খাজনা আরোপ ও আদায় করা যায় না।
- সংসদ প্রতিবছর জাতীয় বাজেট পাস করে।
- অর্থমন্ত্রী বাজেটের খসড়া সংসদে উপস্থাপন করেন। সংসদ সদস্যগণ দীর্ঘ বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ তা পাশ করেন।

•  জাতীয় সংসদের বিচারসংক্রান্ত ক্ষমতা রয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য অসংসদীয় আচরণ করলে স্পিকার তাঁকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- তাছাড়া সংবিধান লঙ্ঘন করলে সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে পারে।

•  সংসদ সংবিধানে উল্লিখিত নিয়মের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে পারে। তবে এজন্য সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের দরকার হয়।
• জাতীয় সংসদের সদস্যগণ সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের বিভিন্ন কমিটির সদস্যদের নির্বাচিত করেন।
- সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণও সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
- এ ছাড়া সংসদ সদস্যগণ দেশের রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচন করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।