ব্যাখ্যা
⇒৬৩২ সালে মহানবী (সা.) এর ইন্তেকালের পর যে চারজন তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তাদের খলিফা বলা হয়। ⇒খলিফা আরবি শব্দ এর অর্থ হচ্ছে প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত, Representative
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন
⇒৬৩২ সালে মহানবী (সা.) এর ইন্তেকালের পর যে চারজন তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তাদের খলিফা বলা হয়। ⇒খলিফা আরবি শব্দ এর অর্থ হচ্ছে প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত, Representative
⇒৬৩২ সালে মহানবী (স.) এর ওফাতের পর ইসলামি রাষ্ট্রকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ভাবে পরিচলনার জন্য যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন পরে।
⇒এজন্য বিশিষ্ট সাহাবী গণ একত্রিত হয়ে আবু বকর (রা) কে নির্বাচিত করার মধ্যে দিয়েই খিলাফতের সূচনা ঘটে।
⇒খিলাফত ধর্মীয়-রাজনৈতিক সংগঠন।
⇒৬৩৩ সালে ভন্ডনবী মুসায়লামাকে দমনের জন্য আবু বকর (রা) মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করলে তিনি ইয়ামামার যুদ্ধে মুসায়লামাকে পরাজিত করেন।
-এ যুদ্ধে অনেক কুরআনে হাফেজ শহীদ হলে আবু বকর (রা.) যায়েদ বিন সাবিত কে কুরআন সংকলনের দায়িত্ব দেন।
⇒মহানবী (স.) এর ইন্তেকালের পর অনেক কুটকৌশলী ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নবী বলে দাবী করে। -তাদের মধ্যে নারী ছিল সাজাহ।
-যে নিজের সুবিধার জন্য মুসায়লামাকে বিবাহ করেন।
⇒৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) এর অসুস্থতার সময় তাঁর স্থলে ইমামতি করেন।
⇒এজন্য ইসলামের সংকটময় সময়ে হযরত উমর (রা.) এবং আবু উবায়দাকে সঙ্গে নিয়ে হযরত আবু বকর (রা.) সহ ছাকিফা বানী সায়িদা গৃহে অবস্থান করছিলেন। ⇒পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে হযরত উমর (রা.) বয়স, অবস্থান, পদমর্যাদা,সম্মান ইত্যাদি বিবেচনা করে হযরত আবু বকর (রা.) কে ইসলামের প্রথম খলিফা বলে ঘোষণা করে তাঁর হাত স্পর্শ করে বায়াৎ গ্রহণ করেন।
⇒ বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের দামেস্ক,হিমস সহ অনেক এলাকা মুসলমানদের অধিনে চলে যায়।
- এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সম্রাট ইরাক্লিয়াস ভাই থিউডরের নেতৃত্বে ৫০,০০০ সৈন্যের এক বাহিনী প্রেরণ করে।
-আবু উবায়দা (রা.) ও আমর (রা.),খালিদ (রা.) ও মুসলিম ২৫,০০০ সৈন্যে বাহিনী নিয়ে সেখানে পৌঁছান।
-৬৩৬ সালের ২০ আগস্ট এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংগঠিত হয়।
-রোমানবাহিনী চরমভাবে পরাজিত হলে ও ৩০০০ মুসলিম সেনা শহীদ হন।
⇒মহানবী (স.) এর ইন্তেকালের পর অনেক কুটকৌশলী ও সুবিধাবাদী ব্যক্তি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নবী বলে দাবী করে।
⇒সাম্রাজ্যকে ১১ টি ভাগে বিভক্ত করে আবু বকর (রা.) তাদের বিরুদ্ধে অভিযান প্রেরন করে তাদের দমন করেন।
⇒ভন্ডনবীদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ছিলো মুসায়লামা।
⇒প্রথমে ইকরামা ও শুরাহবিল (রা.)-কে তার বিরুদ্ধে প্রেরণ করে ব্যর্থ হলে ৬৩৩ খ্রি. খালিদ (রা.) তাকে ইয়ামামার যুদ্ধে পরাজিত করেন।
⇒এ যুদ্ধে ৩০০/৭০ জন হাফেজ শহিদ হয়।
⇒এজন্যে ওমর(রা.) এর পরামর্শে যায়েদ বিন সাবিতকে কুরআন সংকলনের দায়ীত্ব দেন।
⇒হযরত আবু বকর (রা.) দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে রাষ্ট্রের হাল ধরে শিশু রাষ্ট্রেকে রক্ষা করেন।
⇒তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্রকে ভবিষ্যৎ সংকট হতে রক্ষা করেন।
⇒ইসলামের প্রতি তাঁর ত্যাগ ও সেবার জন্য তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বা ‘Savior of Islam’ বলা হয়।
⇒রোমান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের বিরুদ্ধে তাবুক ৬৩০/৬৩১ খ্রি.অভিযান ছিল মহানবী (স.) এর শেষ অভিযান।
⇒এ যুদ্ধের তহবিল সংগ্রহের সময় আবু বকর (রা) তার সমস্ত সম্পদ,
⇒হযরত ওমর (রা.) অর্ধেক সম্পদ
⇒ এবং ওসমান (রা.) ১০০০ উট দান করেন।
⇒মহানবী (স.) এর প্রধান ওহী লেখক ও ব্যাক্তিগত সচিব ছিলেন হযরত যায়িদ বিন সাবিত (রা.)।
⇒ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন কুরআনে হাফেজ শহিদ হলে ওমর(রা.) এর পরামর্শে হযরত আবু বকর (রা.) যায়েদ বিন সাবিতকে কুরআন সংকলনের দায়ীত্ব দেন।
⇒৫৮৩ খ্রি. কুরাইশ বংশের ‘আদ্দিয়া’ বা আদিয়া গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
⇒তাঁর ডাকনাম ছিল আবু হাফস।
⇒তৎকালীন কুরাইশ বংশে যে ১৭ জন শিক্ষিত ব্যক্তি ছিলেন তার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।
⇒ইসলামের সঠিক মর্ম অনুধাবন করে ইসলাম গ্রহন করায় মহানবী (সা.) তাকে ‘আল ফারুক’ বা সত্য মিথ্যার প্রভেদকারী উপাধি দেন।
⇒প্রধান চারজন খলীফা হলেন- হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.), হযরত আলী (রা.)।
⇒তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অবদান রয়েছে।
⇒চারজন খলীফা মধ্যে হযরত উমর (রা.) এর সময় ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে।
⇒ এ সময় আরবের বাইরেও পারস্য,বাইজান্টাইন,মিশর ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
⇒৬৩৭ খ্রি. জেরুজালেম অধিকারের পর আমর ইবন আল-আস (রা.) ৬৪০ খ্রি. হেলিওপলিসের যুদ্ধে রোমান সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে।
⇒৬৪১ সালের ৮ই নভেম্বর আলেকজান্দ্রিয়া বিজয় করেন।
⇒আমর ইবন আল-আস (রা.) বর্তমান কায়রোর নিকটবর্তী আল-ফুসতাতে একটি নগরী প্রতিষ্ঠিত করেন।
⇒ এটি ৬৪২-৯৬৯ খ্রি. পর্যন্ত মিশরের রাজধানী ছিল।
⇒মুসান্নার নেতৃত্বে ৬৩৫ খ্রি. বুয়ায়েবের যুদ্ধে পারস্য বাহিনীকে পরাজিত করে।
⇒মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বে পারসিকরা পুনরায় আক্রমন করলে ওমর (রা.) সাদ-বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.)কে সেনাপতি মনোনীত করে ৬৩৬ খ্রি. নভেম্বর মাসে অভিযানে প্রেরণ করলে কাদেসিয়ার প্রান্তরে ৩ দিন ব্যাপি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
⇒মহাবীর রুস্তম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়।
⇒মুসলিম সেনাপতি নুমান বিন মুকরানের নেতৃত্বে ৬৪১ খ্রি. হামাদানের নিকটবর্তী নিহাওয়ান্দে পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হয়।
⇒ এ যুদ্ধে পারস্যবাসী চূড়ান্তভাবে মুসলিমদের নিকট পরাজিত হয়।
⇒ সমগ্র পারস্য মুসলমানদের আধিনে চলে আসে।
⇒চারজন খলীফা মধ্যে হযরত উমর (রা.) এর সময় -
-মজলিস আল শূরার প্রবর্তন ও এটি দুইটি অংশে বিভক্ত ছিল ১) মজলিশ আল-আম বা সাধারণ পরিষদ ২) মজলিশ আল-খাস বা বিশেষ পরিষদ।
-শাসনকার্যের সুবিধার জন্য সমগ্র রাষ্ট্রকে ১৪টি প্রদেশে ভাগ করেন।
-তিনিই সবর্প্রথম (৬৩৯) হিজরী সনের প্রবর্তন করেন।
-রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ বিভাগ সৃষ্টি করেন।
-এ জন্য তাকে ‘Administrative genius’ বলা হয়।
⇒হযরত উমর (রা.) এর সময় ইসলামী সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে।
⇒আরবের বাইরেও পারস্য,বাইজান্টাইন,মিশর সহ অনেক অঞ্চল ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।
⇒বিশাল ইসলামী সাম্রাজ্যের শাসনকার্যের সুবিধার জন্য হযরত উমর (রা.) রাষ্ট্রকে কতটি প্রদেশে ১৪টি ভাগ করেন ।
⇒সেগুলো হচ্ছে-১. মক্কা ২. মদীনা ৩. সিরিয়া ৪. বসরা ৫. কুফা ৬. ফারস ৭. কিরমান ৮. খুরসান ৯. মিসর ১০. ফিলিস্তিন ১১. মাকরান ১২. সিজিস্তান ১৩. আজারবাইজান
⇒সুবিস্তৃতিত ইসলামী সাম্রাজ্যের শাসনকার্যের সুবিধা।
⇒জনগণকে সুন্দর ভাবে ভাতা প্রদান ।
⇒ উমর (রা.) সর্ব প্রথম পরিকল্পিত ভাবে আদমশুমারীর ব্যবস্থা করেন।
⇒৬২২ খ্রিস্টাব্দ হযরত আলী (রা.)কে নিজের বিছানায় রেখে হযরত আবু বক্কর (রা.)কে সাথে নিয়ে মদিনায় হিজরত করেন।
⇒এই হিজরতকে স্বরণীয় করে রাখতে হযরত উমর (রা.) ৬৩৯ সালে হিজরী সাল প্রবর্তন করেন।
⇒ওমর (রা.) এর সময় ইয়ারমুকের যুদ্ধে(৬৩৬ সালে) রোমানদের পরাজিত করে সিরিয়া দখল করেন।
⇒পরে তাকে সিরিয়ার শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।
⇒ কিন্তু অর্থনৈতিক হিসাবকে কেন্দ্র করে ওমর (রা.) এর সাথে মনমালিন্য হলে তাকে অপসারন করে মুয়াবিয়াকে সিরিয়ার শাসক নিযুক্ত করেন।
⇒মহাবীর রুস্তমের নেতৃত্বে পারশ্যিকরা মুসলমানদের আক্রমন করলে খলিফা ওমর রা. সাদ-বিন আবি ওয়াক্কাস (রা.) কে সেনাপতি মনোনীত করে অভিযান প্রেরণ করেন।
⇒৬৩৬ খ্রি. নভেম্বর মাসে কাদেসিয়ার প্রান্তরে ৩ দিন ব্যাপি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
⇒পারশ্যিক মহাবীর রুস্তম যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়।
⇒খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ইসলাম গ্রহনের পূর্বে উহুদের(৬২৫) যুদ্ধে মুসলমানদের বিপর্যয়ে ফেলেন।
⇒ তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধির(৬২৮) পর ইসলাম গ্রহন করেন।
⇒মুতার(৬২৯) যুদ্ধে অসীম বীরত্বের জন্য সাইফুল্লাহ বা আল্লাহর তরবারি উপাধি লাভ করেন।
⇒আবু বকর (রা.) এর সময় বুখারের যুদ্ধে ভন্ডনবী তোলায়হাকে, ইয়ামামার যুদ্ধে(৬৩৩) মুসায়লামাকে পরাজিত করেন।
⇒উইলিসের যুদ্ধে (৬৩৩) পারস্যিকদের পরাজিত করে হিরা দখল করেন।
⇒ওমর (রা.) এর সময় ইয়ারমুকের যুদ্ধে(৬৩৬ সালে) রোমানদের পরাজিত করে সিরিয়া দখল করেন।
⇒পরে তাকে সিরিয়ার শাসনকর্তা নিয়োগ করেন।
⇒জীবনে কোন যুদ্ধেই তিনি পরাজিত হননি।
⇒৬৪৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
⇒৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী (সা.) এর ইন্তেকালের পর ইসলামের নেতৃত্বে সংকট দেখা দেয়।
⇒ হযরত উমর (রা.) এবং আবু উবায়দাকে সঙ্গে নিয়ে হযরত আবু বকর (রা.) সহ ছাকিফা বানী সায়িদা গৃহে অবস্থান করছিলেন।
⇒পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে হযরত উমর (রা.) বয়স, অবস্থান, পদমর্যাদা,সম্মান ইত্যাদি বিবেচনা করে হযরত আবু বকর (রা.) কে ইসলামের প্রথম খলিফা বলে ঘোষণা করে তাঁর হাত স্পর্শ করে বায়াৎ গ্রহণ করেন।
-হযরত আবু বকর (রা.) দায়িত্ব গ্রহনের মাধ্যমেই ইসলামী খিলাফতের সূচনা ঘটে।
-যা ১৯২৪ খ্রি. পর্যন্ত চালু ছিল।
⇒রাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য ২য় খলিফা হযরত উমর (রা.) সর্ব প্রথম পুলিশ বিভাগ সৃষ্টি করেন ।
⇒পুলিশ বিভাগের প্রধানকে বলা হতো সাহিব-উল-আহদাস।
⇒৬৩৭ খ্রি. আমর ইবনে আল-আস (রা.) জেরুজালেম অবরোধ করেন।
⇒তখন জেরুজালেমের খ্রিস্টান পাদ্রী সাফ্রীউনিয়াস খলিফার সাথে সন্ধি স্বাক্ষর করতে প্রস্তাব দেন।
⇒এ জন্য ২য় খলিফা হযরত উমর (রা.) জেরুজালেমে গিয়ে খ্রিস্টান পাদ্রী সাফ্রীউনিয়াসের সাথে সন্ধি স্বাক্ষর করেন।
⇒রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলকে বলা হতো বাইজান্টাইন যার অন্তর্ভুক্ত ছিল সিরিয়া,জর্ডান,প্যালেস্টাইন অঞ্চল গুলো।
⇒হযরত আবু বকর (রা.) এর সময় ৬৩৪ খ্রি. সময় দামেস্ক,হীরা বিজয় করেন।
⇒পরবর্তীতে ২য় খলিফা হযরত উমর (রা.)এর সময় ৬৩৫-৬৪০ খ্রি.মধ্যে এন্টিওক, আলেপ্পো, টায়ার, সিওন, জেরুজালেম সহ সমস্ত বাইজান্টাইন অঞ্চল মুসলমানদের অধিকারে আসে।