পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৮
সিলেবাস
পরীক্ষা - ১৫ রিভিশন পরীক্ষা (পরীক্ষা ৯-১৪) ক্লাস (৬-১০)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামী শিক্ষা [২০১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৮ প্রশ্ন

.
ইসলামী অর্থনীতিতে সুদ হারাম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. শোষণ 
  2. ঝুঁকি
  3. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার
  4. প্রথা
ব্যাখ্যা

ইসলামী অর্থনীতিতে সুদ হারাম হওয়ার প্রধান কারণ এটি শোষণমূলক এবং সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। সুদ দরিদ্রদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ধনী ব্যক্তিদের আরও ধনী করে তোলে, যা সমাজে আর্থিক বৈষম্য বাড়ায় এবং ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে। এর বিপরীতে, ইসলাম একটি সুদমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করতে চায়। 

.
একটি ইসলামি দেশে ভূমি কর কী নামে পরিচিত?
  1. খারাজ
  2. যাকাত
  3. সাদাকাহ
  4. ইনফাক
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্রে ভূমি কর মূলত খারাজ নামে পরিচিত, যা কৃষি জমি ও তার উৎপাদিত পণ্যের উপর ধার্য করা হয়। এটি এমন ভূমি থেকে আদায় করা হয় যা একটি ইসলামী রাষ্ট্র কোন অমুসলিমকে ইজারা দিয়েছে। উমরের (রাঃ) শাসনামল থেকেই বিজিত অঞ্চল থেকে খারাজ আদায় করা হত, যা ভূমির উপর আরোপিত এক প্রকার রাজস্ব বা খাজনা।

.
ইসলামী সমাজে এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার শাস্তি কী?
  1. সামাজিক বয়কট
  2. জাহান্নামের আগুন 
  3. দেনা শোধ
  4. কিয়ামতে বিচারের বিলম্ব
ব্যাখ্যা

এতীমের হক নষ্ট করা অন্যতম কবীরা গুনাহ। এর শাস্তি সরাসরি জাহান্নাম। কুরআনে ও হাদীসে এ বিষয়ে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে এবং ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এতিমের সম্পদ গ্রাস করা তো দূরের কথা, এতিমের সঙ্গে কঠোরতা অবলম্বন করাও নিষেধ। 

.
কোন মুসলিম বিজ্ঞানীর নামে ইংরেজি শব্দ Algorithm এসেছে?
  1. আল ফারাবি
  2. আল-খাওয়ারিজমি
  3. ইবনে ইউনুস
  4. আল মাসউদি
ব্যাখ্যা

ইংরেজি শব্দ Algorithm এসেছে মুসলিম বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদ মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি-এর নামের লাতিন রূপ 'আলগরিজমি' বা 'আলগোরাসিমি' থেকে। এই শব্দটি মূলত হিন্দু-আরবি সংখ্যা ব্যবহার করে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের একটি কৌশল বোঝাত, যা আল-খোয়ারিজমি উন্নত করেছিলেন। 

.
যারাইব কখন আরোপ করা হয়?
  1. মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য
  2. যাকাত ও সাদকাহ ছাড়া রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজনে 
  3. রাষ্ট্রের ব্যাঙ্ক লোন পরিশোধের জন্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

জরুরি কর (যারাইব) আরোপ করা হয় তখন, যখন যাকাত ও সাদকাহ ছাড়া রাষ্ট্রের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্র সম্পদশালীদের ওপর এই কর আরোপ করা হয়। এটি ইসলামি রাষ্ট্রে প্রচলিত আছে।

.
ইসলামে ‘আযল’ বলতে কোনটি বোঝায়?
  1. স্ত্রীর সাথে একাধিকবার সহবাস করা
  2. বীর্যপাতের আগে পুরুষাঙ্গ বের করে নেওয়া
  3. স্ত্রীকে তালাক দেওয়া
  4. স্ত্রীর সাথে সহবাস না করা
ব্যাখ্যা

আযল হলো সহবাসের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ করার একটি পদ্ধতি, যেখানে পুরুষ যৌন মিলনের সময় বীর্যপাতের আগে মহিলার যোনি থেকে তার লিঙ্গ বের করে নেয় এবং যোনির বাইরে বীর্যপাত ঘটায়। এই গর্ভনিরোধক পদ্ধতিটি প্রায় দুই হাজার বছর ধরে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রাসুলে কারিম (সা) এর সাহাবিরাও আযল করতেন।

.
মজলিশে শুরা কোন বিভাগের সাথে জড়িত?
  1. শাসন বিভাগ        
  2. বিচার বিভাগ
  3. আইন বিভাগ
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগ
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে মজলিসে শুরা মূলত আইন বিভাগের একটি আলাদা ইউনিট হয়ে কাজ করে। মজলিসে শুরা হলো একটি পরামর্শক পরিষদ যা রাষ্ট্রের প্রধানকে (খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধান) পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেয়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মতো মজলিসে শুরা আইন বিভাগের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, এটি একটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থা যা জনগণের পরামর্শ ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও কাজ করে।  

.
‘মাসলাহা মুরসালা’ কোনটিকে বলে?
  1. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
  2. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে স্পষ্ট দলিল রয়েছে
  3. এমন কল্যাণকর বিষয়, যার জন্য শরীয়তে স্পষ্ট অনুমতি বা নিষেধাজ্ঞা নেই
  4. এমন কল্যাণকর বিষয়, যা কেবল কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত
ব্যাখ্যা

মাসলাহা মুরসালা (المصلحة المرسلة) হলো ইসলামি আইনশাস্ত্রের একটি নীতি, যা "অপ্রচলিত কল্যাণ" বা "সাধারণ জনস্বার্থ" হিসেবে পরিচিত। এটি এমন একটি কল্যাণকর কাজ বা বিষয়, যা কোনো নির্দিষ্ট দলিলের (কুরআন বা সুন্নাহ) মাধ্যমে সরাসরি সমর্থিত বা নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু মানবজাতির সাধারণ কল্যাণের জন্য জরুরি। ফিকাহবিদগণ এই নীতি ব্যবহার করে নতুন আইনগত বিধান তৈরি করেন, যা সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে আসে। 

.
সাদকাতুল ফিতরের পরিমাণ ‘এক সা’ সমান কত কেজি?
  1. ২.৫ কেজি
  2. ৪ কেজি
  3. ৩.৩ কেজি
  4. ৫ কেজি
ব্যাখ্যা

মাঝারি দেহের অধিকারী মানুষের হাতের চার আজলা এক ‘সা’ হয়। (অর্থাৎ দুই হাতের কব্জি একত্র করে চার খাবরিতে যে পরিমাণ খাবার উঠে তাই এক ‘সা’।) আরবিতে صاع ‘সা’ নির্দিষ্ট পরিমাপের একটি পাত্রকে বলা হয়, যার দ্বারা দানা জাতীয় শস্য মাপা হয়। সাধারণভাবে বলা যায় যে, এক সা পরিমাণ= ৩.৩ কেজি।

১০.
মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশির হক ও অমুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশির হক হলো যথাক্রমে-
  1. ৩টি ও ১টি   
  2. ৩টি ও ৩টি    
  3. ৩টি ও ২টি
  4. ৬টি ও ৩টি
ব্যাখ্যা

মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশির ৩টি হক: (১) মুসলিম হিসেবে, (২) আত্মীয় হিসেবে, (৩) প্রতিবেশি হিসেবে; মুসলিম প্রতিবেশির ২টি হক: (১) মুসলিম হিসেবে, (২) প্রতিবেশি হিসেবে; অমুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশির হক ১টি (১) প্রতিবেশি হিসেবে।

১১.
“রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ইচ্ছাই সার্বভৌমত্ব” এ কথাটি বলেছেন-
  1. এরিস্টটল                                                        
  2. উইলোবি
  3. আব্রাহাম লিংকন
  4. কেভি কামাথ
ব্যাখ্যা

“রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ইচ্ছাই সার্বভৌমত্ব” এই কথাটি বলেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উইলোবি। তিনি সার্বভৌমত্বকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ইচ্ছা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তিনি সার্বভৌমত্বের ধারণাকে স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেছেন যে, এটিই রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ইচ্ছা বা ক্ষমতার প্রকাশ, যা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না।  তাঁর মতে, সার্বভৌমত্ব হলো এমন এক ক্ষমতা যা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং বহির্শক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে।

১২.
ব্যবসায়ী পণ্যের যাকাতের নেসাব কোনটি?
  1. ৫২.৫ তোলা রৌপ্যের সমপরিমাণ
  2. ৩০টি গরুর দামের সমপরিমাণ 
  3. ৭.৫ তোলা স্বর্ণের সমপরিমাণ    
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ব্যবসার পণ্যের যাকাতের নেসাব হলো ব্যবসার সমস্ত পণ্যের বাজার মূল্যের সমান পরিমাণ সম্পদ, যা কমপক্ষে সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫২.৫ তোলা) রূপার মূল্যের সমান। এই পরিমাণ সম্পদ যদি এক বছরকাল পর্যন্ত ব্যবসায়ীর মালিকানায় থাকে, তাহলে ব্যবসার মোট সম্পদের উপর আড়াই শতাংশ (২.৫%) যাকাত দিতে হবে।

১৩.
‘ইসতিদলাল’ বলতে কী বোঝায়?
  1. ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী আইন করা  
  2. লোকমুখে প্রচলিত রেওয়ায অনুসরণ করা
  3. কুরআন-সুন্নাহের তুলনায় কিয়াসকে প্রাধান্য দেওয়া
  4. কুরআন, হাদিস ও যুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা
ব্যাখ্যা

'ইসতিদলাল' হলো ইসলামি আইন বা শরিয়তে একটি পদ্ধতি যেখানে সরাসরি ধর্মীয় গ্রন্থ (কুরআন বা সুন্নাহ) থেকে কোনো বিধান বের করা না গেলে, কিয়াস বা অন্যান্য ইসলামি উৎস থেকে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে ঐ বিধানটি নির্ণয় করা হয়। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মুজতাহিদ কোনো নতুন বা জটিল সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে পূর্বের প্রতিষ্ঠিত নিয়ম বা নীতির আলোকে যৌক্তিক অনুমান বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। 

১৪.
বিচারকার্য পরিচালনায় কোনটির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য? 
  1. পরামর্শের 
  2. হিসাব-নিকাশের
  3. অভিজ্ঞতার                                                 
  4. আদলের
ব্যাখ্যা

বিচারকার্য পরিচালনায় আদল বা ন্যায়বিচার অপরিহার্য কারণ এটিই সামাজিক শৃঙ্খলা, প্রকৃত শাসন ব্যবস্থা ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। আদল ছাড়া বিচার প্রক্রিয়া সঠিক ও নিরপেক্ষ হতে পারে না, যা একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

১৫.
কে ঘোড়ার যাকাত প্রচলন করেন ?
  1. রাসুল (সা)
  2. ওমর (রা)
  3. আবু বকর (রা)
  4. ওসমান (রা)
ব্যাখ্যা

- কুরআন ও সুন্নাহতে ঘোড়ার যাকাত সরাসরি বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যাকাতের মূল নির্দিষ্ট ক্ষেত্রসমূহ হলো— স্বর্ণ-রূপা, কৃষিজ পণ্য, ব্যবসার পুঁজি, গবাদিপশু (উট, গরু, ছাগল) ইত্যাদি।
- তবে হযরত উমর (রা.) তাঁর খিলাফতের সময় (৬৩৪–৬৪৪ খ্রি.) ঘোড়ার যাকাত প্রবর্তন করেন। এর কারণ ছিল:
যুদ্ধ ও জিহাদে ঘোড়ার গুরুত্ব:
ইসলামের প্রথম যুগে ঘোড়া ছিল যুদ্ধের প্রধান বাহন। শক্তিশালী সেনা গঠনে বিপুল সংখ্যক ঘোড়ার প্রয়োজন হতো। এজন্য ঘোড়ার উপর যাকাত ধার্য করা হয়, যাতে রাষ্ট্রীয় কোষাগার (বাইতুল মাল) থেকে সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়।
সমাজের ন্যায্যতা নিশ্চিতকরণ:
ধনীদের হাতে ঘোড়া ছিল যুদ্ধাস্ত্রের মতো। যদি তারা শুধু নিজেদের জন্য ব্যবহার করত, তবে দরিদ্র মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। যাকাতের মাধ্যমে তা থেকে সমাজের অন্যান্য অংশ উপকৃত হতে পারত।
প্রশাসনিক ইজতিহাদ:
- এটি মূলত উমর (রা.)-এর ইজতিহাদ (স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত) ছিল। তিনি মনে করেছিলেন, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে ঘোড়ার যাকাত জরুরি।

১৬.
মদিনা সনদে বৈদেশিক নীতির কোন দিক প্রতিফলিত হয়?
  1. বাণিজ্য সম্প্রসারণ
  2. সামরিক জোট গঠন
  3. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও চুক্তিভিত্তিক সহাবস্থান
  4. দাসপ্রথা বিলোপ
ব্যাখ্যা

মদিনা সনদে মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য গোত্রকে নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একত্রে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রাথমিক উদাহরণ।

১৭.
খারাজের পরিমাণ কত শতাংশ?
  1. ১৫% 
  2. ১৯%
  3. ৫১%
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

খারাজের পরিমাণ নির্দিষ্ট শতকরা হারে নির্ধারিত থাকে না; এটি জমির ধরন, সেচ ব্যবস্থা এবং উৎপাদন পরিমাণের উপর নির্ভর করে। খারাজের ন্যূনতম পরিমাণ হলো মোট উৎপন্ন ফসলের এক পঞ্চমাংশ বা ২০ ভাগ। আর সর্বোচ্চ পরিমাণ ৫০ ভাগ। অন্য একটি বর্ণনা মতে, খারাজের পরিমাণ ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ (উশর) বা বিশ ভাগের এক ভাগ (নিসফ উশর) হতে পারে। অর্থাৎ, প্রাকৃতিক উৎসে সেচকৃত জমির উৎপাদনে উশর (১০%) এবং সেচের মাধ্যমে সেচকৃত জমির উৎপাদনে নিসফ উশর (৫%) প্রযোজ্য হতে পারে। 

১৮.
আল জাজারির আবিষ্কৃত বিখ্যাত যন্ত্র কোনটি?
  1. জলঘড়ি 
  2. টেলিস্কোপ
  3. হাইড্রোমিটার
  4. মাইক্রোস্কোপ
ব্যাখ্যা

আল-জাজারি একটি বিশাল, হাতির আকৃতির জলঘড়ি আবিষ্কার করেন যা তার সবচেয়ে বিখ্যাত উদ্ভাবনগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে একটি পাখি ঘন্টা বাজিয়ে গান করত এবং একজন মাহুত হাতির মাথায় আঘাত করত। তিনি এই যন্ত্রটি তৈরি করতে ক্যামশ্যাফট নামক একটি যান্ত্রিক অংশ ব্যবহার করেছিলেন, যা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরির জন্য প্রথম ব্যবহার হয়েছিল।  

১৯.
নারীদের উত্তরাধিকারের সুনির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে স্পষ্ট বিধানসমূহ পবিত্র কুরআনের কোথায় বর্ণিত হয়েছে? 
  1. সুরা তাওবা
  2. সুরা নিসা   
  3. সুরা হুজরাত
  4. সুরা নুর  
ব্যাখ্যা

পবিত্র কুরআনের সুরা নিসাতে নারীদের উত্তরাধিকারের সুনির্দিষ্ট অংশ সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান বর্ণিত আছে, যেখানে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নারীরা ঠিক কী পরিমাণ সম্পত্তি পাবেন, তা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরা নিসা মূলত নারীজাতিকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে এতিম ও উত্তরাধিকারীদের অধিকারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

২০.
রাসুল (সা) তার জীবনে কোন ঘটনায় শুরার বাস্তব প্রয়োগ করেছেন?
  1. মক্কা বিজয়
  2. বিদায় হজ
  3. হুদায়বিয়ার সন্ধি
  4. খন্দকের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

রাসুল (সা) এর জীবনের খন্দকের যুদ্ধেই যুদ্ধের কৌশল হিসাবে শুরার বা পরামর্শের বাস্তব প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে তিনি পারস্যের সালমান ফারসি (রা)-এর পরামর্শে মদিনার চারদিকে পরিখা খনন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এটি একটি কার্যকর প্রতিরক্ষা কৌশল ছিল, যা শত্রুদের সরাসরি আক্রমণ প্রতিহত করে এবং মদিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। 

২১.
নিচের কোনটি খারাজ আদায়ের অনুমোদিত পদ্ধতি নয়?
  1. মুতাহারা
  2. মাসাহা
  3. মুকাসামা
  4. মুকাতাআ
ব্যাখ্যা

খারাজ আদায়ের পদ্ধতি ৩টি। মাসাহা (জমির আয়তনের উপর ভিত্তি করে), মুকাসামা (উৎপন্ন ফসলের পরিমাণের উপর), মুকাতাআ (প্রদেয় কর এক কিস্তিতে বা নগদে)। সুতরাং মুতাহারা খারাজ আদায়ের কোন পদ্ধতি নয়।

২২.
সংখ্যালঘুদের অধিকার ইসলামি রাষ্ট্রে কীভাবে নিশ্চিত হয়?
  1. সমান নাগরিকত্ব
  2. সীমিত স্বাধীনতা
  3. কেবল ধর্মীয় অধিকার
  4. কেবল অর্থনৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা

ইসলামি রাষ্ট্রে সংখ্যালঘুরা সমান নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করে থাকে। ইসলামী আইন অনুযায়ী, সকল নাগরিকের জীবন, সম্পত্তি, সম্মান, এবং বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা (কোন প্রকার বৈষম্য ছাড়াই) সুরক্ষিত। ইসলামী রাষ্ট্রের আইন দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় ক্ষেত্রেই মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের সমান অধিকার দেয়।

২৩.
‘আহলুল হাল ওয়াল আকদ’ বলতে কাদের বোঝায়?
  1. ধনী ব্যবসায়ী
  2. বিদেশি কূটনীতিক
  3. শুরা পরিষদ
  4. বিচারকবৃন্দ
ব্যাখ্যা

আহলুল হাল ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد) হলো এমন ব্যক্তি যারা মুসলিম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে খলিফা, শাসক বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করতে সক্ষম। এই ব্যক্তিদের সাধারণত বিচক্ষণ, জ্ঞানী, সৎ, দূরদর্শী এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি বিশেষ গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা সমাজে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

২৪.
ইসলামে অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক নীতি কোনটি?
  1. অর্থের নিজস্ব মূল্য আছে
  2. অর্থ বিনিময়ের মাধ্যম
  3. অর্থ বিক্রি করা যায়
  4. অর্থ ভাড়া দেওয়া যায়
ব্যাখ্যা

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, অর্থ কেবল পণ্য ও পরিষেবার বিনিময়ের একটি মাধ্যম, এর নিজস্ব কোনো অন্তর্নিহিত মূল্য নেই, এবং একে ভাড়া বা বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা যায় না। ইসলামে অর্থ হলো আল্লাহ প্রদত্ত একটি আমানত, যার প্রকৃত মালিকানা আল্লাহর, এবং একে হালাল পথে (যেমন ব্যবসা, কৃষি) উপার্জন করে বৈধভাবে ব্যবহার করতে হয়। 

২৫.
নিচের কোন ব্যক্তি অবশ্যই যাকাত প্রদান করবে?
  1. রাষ্ট্রপ্রধান
  2. মুসাফির
  3. প্রাপ্তবয়স্ক নারী 
  4. নেসাবী ঋণগ্রস্ত
ব্যাখ্যা

যাকাত আবশ্যিকভাবে প্রদান করতে হবে সেইসব মুসলিম ব্যক্তিকে, যাদের মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ (যেমন নগদ টাকা, সোনা, রুপা, বাণিজ্যিক পণ্য, গবাদিপশু ইত্যাদি) এক বছর পূর্ণ হয়েছে এবং যাদের নিজেদের বা পরিবারের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে। এখন যদি ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত থাকে , তাহলে ঋণ পরিশোধের পরও যদি তার নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে তিনি হলেন নিসাবি ঋণগ্রস্ত এবং তিনি যাকাত প্রদান করবেন।

২৬.
ইসলামি গণতন্ত্রে শুরা ব্যবস্থার আধুনিক রূপ কী হতে পারে?
  1. রাজতন্ত্র
  2. সংসদীয় ব্যবস্থা
  3. স্বৈরতন্ত্র
  4. স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা

ইসলামি গণতন্ত্রে শুরা প্রথার আধুনিক রূপ হিসেবে সংসদীয় ব্যবস্থাকে বিবেচনা করা যেতে পারে, কারণ অনেক সমসাময়িক মুসলিম চিন্তাবিদ শুরার ধারণার সাথে পশ্চিমা সংসদীয় গণতন্ত্রের নীতিগুলির তুলনা করেছেন, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে পরামর্শ এবং জনগণের সম্মতির ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আধুনিক সংসদীয় ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। 

২৭.
মানবাধিকার সনদে বিবাহের স্বাধীনতা কোন অনুচ্ছেদে স্বীকৃত?
  1. অনুচ্ছেদ ১২
  2. অনুচ্ছেদ ১৬
  3. অনুচ্ছেদ ১৮
  4. অনুচ্ছেদ ২০
ব্যাখ্যা

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ধারা ১৬ তে বিবাহের স্বাধীনতা স্বীকৃত। এই ধারা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ, তাদের জন্মস্থান, জাতীয়তা বা ধর্ম নির্বিশেষে, বিবাহের ক্ষেত্রে কোনো রকম বিধিনিষেধ ছাড়াই বিবাহ করার এবং পরিবার গঠনের অধিকার রাখে।

২৮.
ইসলামি রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
  1. ব্যক্তি ও রাষ্ট্র পরস্পর পরিপূরক
  2. রাষ্ট্র ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে
  3. ব্যক্তি রাষ্ট্রের অধীন
  4. জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক
ব্যাখ্যা

ইসলামী রাষ্ট্র ও ব্যক্তিজীবনের সম্পর্ক পরস্পর পরিপূরক, যেখানে রাষ্ট্র ব্যক্তিজীবনের ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে এবং ব্যক্তি তার ইসলামী জীবনধারার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করে। ইসলাম একটি সামগ্রিক জীবন ব্যবস্থা যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যার মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর আইন বা পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহ। 

২৯.
কোন জমিতে মুসলিমদের উশর দিতে হয়?
  1. পতিত জমিতে
  2. যে ভূমির মালিকানা কাফিরদের কাছে বিদ্যমান
  3. ফসল উৎপাদন না করা হলে
  4. বিজয় লাভ করার মাধ্যমে মালিক হলে   
ব্যাখ্যা

মুসলিম সেনাপতি কোনো কাফের রাষ্ট্র বিজয়ের পর সে এলাকার জমি মুসলমানদের মাঝে বন্টন করে দিলে তা উশরী জমিতে রূপান্তরিত হবে। সুতরাং বিজয় লাভ করার মাধ্যমে মালিক হলে  মুসলিম মালিককে উশর প্রদান করতে হবে।

৩০.
‘মুজাম আল বুলদান’ এর রচয়িতা কে?
  1. ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ
  2. ইবনে সিনা
  3. আল-রাজি
  4. মাসুদি
ব্যাখ্যা

'মুজাম আল-বুলদান' (Mu'jam al-Buldan) গ্রন্থের লেখক হলেন ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ঐতিহাসিক ও ভূগোলবিদ এবং তার এই বিশ্বকোষীয় গ্রন্থটি 'সাহিত্যিক ভূগোল' হিসেবে পরিচিত, যেখানে তিনি বিভিন্ন স্থানের ভৌগলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ তুলে ধরেছেন। 

৩১.
জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদে শিশুর বয়স নির্দিষ্ট করা হয়েছে-
  1. ১৪ বছর
  2. ২১ বছর
  3. ১৬ বছর
  4. ১৮ বছর
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার কম বয়সী সকল মানুষকেই শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সংজ্ঞাটি সনদটির প্রথম অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

৩২.
মুসা আল খোয়ারিজমি টলেমির ভূগোল গ্রন্থে সংযোজন করেন-
  1. টিকা                                                             
  2. মানচিত্র                                                           
  3. নিজস্ব মতামত
  4. নতুন তথ্য
ব্যাখ্যা

মুসা আল-খারেজমি টলেমির ভূগোল গ্রন্থে শহর, দ্বীপ, নদী, সমুদ্র ও পর্বতমালার অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ তালিকাভুক্ত করে তার উন্নতি সাধন করেন এবং মানচিত্র সংযোজন করেন। এই উন্নতিগুলোকে কিতাব সুরতুল আল-আরদ (কিতাব সুরত আল-আরদ) নামক গ্রন্থে সংযুক্ত করেন। এই সংযোজনগুলোর মধ্যে একটি মানচিত্র ছিল, যা টলেমির কাজের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিল। 

৩৩.
আত্মীয়দের প্রতি সদাচরণের বিষয়টিকে কুরআনে সাধারণত কোন শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে?
  1. সিলাহ্
  2. ইহসান
  3. কিরাম
  4. আদল
ব্যাখ্যা

কুরআনে আত্মীয়দের প্রতি সদাচরণকে সিলাহ (صلة) শব্দ দ্বারা অভিহিত করা হয়, যা সম্পর্ক রক্ষা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখাকে বোঝায়। এটি পরিবার এবং আত্মীয়দের সঙ্গে দৃঢ় বন্ধন তৈরি এবং বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে, যা ইসলামের একটি অপরিহার্য অংশ।

৩৪.
গণিমত বণ্টনের বিস্তারিত নীতি কোথায় বর্ণিত হয়েছে?
  1. সুরা আনফাল, আয়াত ০১
  2. সুরা আনফাল, আয়াত ৪১
  3. সুরা মায়িদা, আয়াত ৪১ 
  4. সুরা আরাফ, আয়াত ৩৭
ব্যাখ্যা

সূরা আনফালের ৪১ নম্বর আয়াত যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বা গনীমতের বন্টন সম্পর্কিত, যেখানে বলা হয়েছে যে অর্জিত গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, তাঁর রাসুল, রাসুলের আত্মীয়স্বজন, এতীম, মিসকীন (দরিদ্র) এবং মুসাফিরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, যদি বান্দারা আল্লাহ ও শেষ বিচার দিবসে তাঁর পক্ষ থেকে নাযিল হওয়া বাণীর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।  
আয়াতটির মূল বক্তব্য:
এই আয়াতে গনীমতের মালকে পাঁচ ভাগে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  
চার ভাগ: যুদ্ধের অংশগ্রহণকারী মুজাহিদদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।  
এক ভাগ (এক-পঞ্চমাংশ): এটি আল্লাহ, তাঁর রাসুল, রাসুলের নিকটাত্মীয়, এতীম, মিসকীন ও মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। 

৩৫.
রাসায়নিক পদার্থকে অ্যাসিড ও ক্ষার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন কে?
  1. জাবির ইবনে হাইয়ান              
  2. ইবনে সিনা
  3. আল-রাযি
  4. আল-বিরুনি
ব্যাখ্যা

জাবির ইবনে হাইয়ান রাসায়নিক পদার্থকে অ্যাসিড ও ক্ষার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেন। তিনি সালফিউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন অ্যাসিড আবিষ্কারের জন্য পরিচিত এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়া, যেমন পাতন এবং দ্রবণ, নিয়ে কাজ করেছেন। 

৩৬.
‘কিতাব আল-হাওয়ি’ কোন বিজ্ঞানীর লেখা?
  1. আল-রাজি
  2. আল-বিরুনি  
  3. আল-ফারাবি
  4. ইবনে সিনা
ব্যাখ্যা

'কিতাব আল-হাওয়ি' রচনা করেছেন পারসিক বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক আল রাজি। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত চিকিৎসা বিষয়ক গ্রন্থকার, যার লেখা এই গ্রন্থটি ১০ম শতাব্দীতে রচিত হয়েছিল এবং চিকিৎসাশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩৭.
কত সালে মালেশিয়া সরকার তাকাফুল অ্যাক্ট পাস করে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ১৯৭২ সালে  
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

মালয়েশিয়ায় ১৯৮৩ সালে ‘তাকাফুল (বীমা) অ্যাক্ট ১৯৮৪’ পাস হয়।
ঘটনাপ্রবাহ:
১৯৮২ সাল: মালয়েশিয়া একটি ইসলামী বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে।  
১৯৮৩ সাল: মালয়েশিয়ায় ইসলামী ব্যাংকিং আইন পাস হয়।  
১৯৮৪ সাল: তাকাফুল (বীমা) অ্যাক্ট ১৯৮৪ পাস হয়। এই আইনের অধীনেই শরিকাত তাকাফুল মালয়েশিয়া বারহাদ (STMB) নামে দেশের প্রথম তাকাফুল বীমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়।  
১৯৮৪ সালের ২৯শে নভেম্বর: মালয়েশিয়া ইসলামী বীমা কোম্পানি লিমিটেড, অর্থাৎ শরিকাত তাকাফুল মালয়েশিয়া বারহাদ (STMB) কার্যক্রম শুরু করে। 

৩৮.
অপটিক্স নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাবুল মানাজির’ কার রচনা?
  1. ইবনে হাইসাম
  2. আল-খাওয়ারিজমি      
  3. আল-কিন্দি       
  4. আল-রাজি
ব্যাখ্যা

অপটিক্স নিয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ 'কিতাবুল মানাযির' রচনা করেছেন ইবনে হাইসাম। তিনি একজন বিখ্যাত আরব গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ এবং পদার্থবিদ ছিলেন। এই সাত খণ্ডের গ্রন্থটি আলোকবিদ্যার উপর মধ্যযুগের অন্যতম প্রভাবশালী একটি কাজ, যা আধুনিক অপটিক্সের ভিত্তি স্থাপন করেছে। 

৩৯.
বাংলাদেশে ইসলামী বীমার যাত্রা শুরু হয় কখন?
  1. ১৯৮৩ সালে 
  2. ১৯৯৯ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৯৯ সালের ১২ ডিসেম্বর ইসলামী ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ও ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলামী বীমার যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং শুরু হয়।

৪০.
নিচের কোন পুরুষ জাবিল ফুরুজের অন্তর্ভূক্ত নন?
  1. পুত্র                                                                
  2. স্বামী                                                              
  3. বৈমাত্রেয় ভাই
  4. দাদা
ব্যাখ্যা

জাবিল ফুরুজ ঐ শ্রেণির ওয়ারিশ যাদের আংশ কুরআন ও হাদিস দ্বারা নির্ধারিত এবং যাদের অংশ দেওয়া ব্যতিত অন্য কারো অংশ দেওয়া যায় না। এদের সংখ্যা মোট ১২ জন। পুরুষ ৪ জন, নারী ৮ জন। পুরুষ ৪জন হলেন-
বাবা: মৃত ব্যক্তির বাবা;
স্বামী: মৃত ব্যক্তির স্বামী;
দাদা: মৃত ব্যক্তির দাদা;
ভাই: মৃত ব্যক্তির  ভাই।
সুতরাং পুত্র জাবিল ফুরুজ নন।

৪১.
‘আল-আসারুল বাকিয়া’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আল-বিরুনি
  2. ইবনে খালদুন   
  3. ইবনে সিনা  
  4. আল-ফারাবি
ব্যাখ্যা

'আল-আসারুল বাকিয়া' বা 'কিতাবুল আসারুল বাকিয়া' গ্রন্থটি লিখেছেন আবু রায়হান আল-বিরুনি। এটি একটি তুলনামূলক কাজ যেখানে বিভিন্ন সংস্কৃতির ক্যালেন্ডার, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ইতিহাস, প্রথা এবং ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। 

৪২.
‘তাজকিরাতুল কাহহালিন’ কী বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. পদার্থ বিষয়ক
  2. রসায়ন বিষয়ক  
  3. স্থাপত্য বিষয়ক 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: কোনটিই নয় (তাজকিরাতুল কাহহালিন, চক্ষু চিকিৎসায় সবচেয়ে দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ) একাদশ শতাব্দীর আরব মুসলিম চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ আবুল কাসিম আম্মার বিন আলী আল-মাওসুলি চোখের ছানি অপারেশনে সিদ্ধহস্ত ছিলেন এবং তাঁর "তাজকিরাতুল কাহহালিন" চক্ষু চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি দুর্লভ ও মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত। 

৪৩.
ইসলামি ব্যক্তিগত মালিকানার বৈশিষ্ট্য কী?
  1. সীমিত এবং শর্তযুক্ত
  2. সম্পূর্ণ স্বাধীন
  3. নিষিদ্ধ                                                            
  4. সীমাহীন                                                          
ব্যাখ্যা

ইসলামে ব্যক্তিগত মালিকানা অনুমোদিত হলেও এটি আল্লাহ ও সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতার অধীনে থাকে। মালিকের দায়িত্ব হলো নিজের সম্পদ থেকে সমাজের কল্যাণ সাধন করা, অভাবীদের সাহায্য করা এবং ন্যায়পরায়ণভাবে সম্পদ ব্যবহার করা, যা মালিকানাকে শর্তযুক্ত করে। মালিকানা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ এবং মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হলেও এর মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ সাধন, যা এটিকে সীমিত ও শর্তযুক্ত করে তোলে। 

৪৪.
হযরত আবু বকর (রা) ইসলামের ১ম খলিফা নির্বাচিত হন কীভাবে?
  1. সকলের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে
  2. উপস্থিত সাহাবিদের বাইয়াত গ্রহণের মাধ্যমে
  3. রাসুলে কারিম (সা) এর ওসিয়তের মাধ্যমে
  4. হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

হযরত আবু বকর (রা) মদিনার সাকিফা নামক স্থানে খলিফা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যেখানে বিভিন্ন গোত্রের নেতারা রাসুলে কারিম (সা) এর ইন্তেকালের পর একত্রিত হয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য আলোচনা করেন এবং তাকে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করেন। তাঁর এই নির্বাচন কোনো সুনির্দিষ্ট নির্বাচনের প্রক্রিয়া বা ভোটদানের মাধ্যমে না হয়ে, বরং উপস্থিত নেতাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে হয়েছিল। 

৪৫.
কোন দেশ মানবাধিকার সনদে বিরত ভোট দিয়েছিল?
  1. ভারত
  2. চীন
  3. কানাডা
  4. সোভিয়েত ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা

মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের (UDHR) উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) ভোটদানে বিরত ছিল। জাতিসংঘের ৫৮ সদস্যের মধ্যে ৪৮ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল, যার মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নও ছিল। 

৪৬.
‘আল-মদিনা আল-ফাদিলা’ বা ‘আদর্শ রাষ্ট্র’ গ্রন্থ কে রচনা করেছেন?
  1. আল-ফারাবি
  2. ইবনে খালদুন
  3. ইমাম গাজ্জালি
  4. আল-মাওয়ার্দি
ব্যাখ্যা

‘আল-মদিনা আল-ফাদিলা' বা 'আদর্শ রাষ্ট্র' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ও বিজ্ঞানী আল-ফারাবি। এই গ্রন্থে তিনি প্লেটোর আদর্শ রাষ্ট্রের ধারণার আদলে একটি আদর্শ নগর বা আদর্শ রাষ্ট্রের কল্পনা করেছেন। 

৪৭.
মালিকানা নীতি বর্ণিত হয়েছে কোন আয়াতে?
  1. আলে ইমরান ২৬
  2. তাওবা ৬০
  3. বাকারাহ ২৫৫
  4. নিসা ৫৮
ব্যাখ্যা

বলো, ‘হে আল্লাহ, রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে চান রাজত্ব দান করেন, আর যার থেকে চান রাজত্ব কেড়ে নেন এবং আপনি যাকে চান সম্মান দান করেন। আর যাকে চান অপমানিত করেন, আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয় আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’। (আলে ইমরান ২৬) এ আয়াতের মাধ্যমে মালিকানা নীতি প্রমাণিত হয় ।

৪৮.
ইসলামে অর্থনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য কী?
  1. মুনাফা                                         
  2. ফালাহ বা মুক্তি                                       
  3. ধনসম্পদ বৃদ্ধি
  4. বিশ্ব রাজত্ব
ব্যাখ্যা

ইসলামী অর্থনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য শুধু পার্থিব সমৃদ্ধি নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও নৈতিক উন্নয়নসহ মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিশ্চিত করা, যা ফলাফল হিসেবে দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও মুক্তি বয়ে আনে। এর মধ্যে রয়েছে হালাল উপার্জন, সম্পদের ন্যায়সঙ্গত বণ্টন, দারিদ্র্য হ্রাস, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং যাকাত ও অন্যান্য সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করা।