পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
[নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।] বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের অর্থনীতি ১. উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রেক্ষিত, জাতীয় আয়-ব্যয়, রাজস্ব নীতি ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি। ২. অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ, আমদানি-রপ্তানি রিপোর্ট। উৎস: যেকোনো গাইড বই, NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড বই, সর্বশেষ প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাজেট, কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থগ্রন্থ, EPB -এর আমদানি-রপ্তানি রিপোর্ট। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে থাকে -
  1. অর্থ মন্ত্রণালয়
  2. পরিকল্পনা কমিশন
  3. জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল
  4. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

পরিকল্পনা কমিশন:
- বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা সহ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল।
- পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী এবং ভাইস চেয়ারম্যান পরিকল্পনা মন্ত্রী।
- পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনাসহ সরকারের যাবতীয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইট।

.
বাংলাদেশে কয়টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. ৫টি
  2. ৬টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট ৮টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে।
- কিন্তু ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
- প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৩-১৯৭৮)।
- দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮০-১৯৮৫)।
- তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০)।
- চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯০-১৯৯৫)।
- পঞ্চম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৯৭-২০০২)।
- ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-২০১৫)।
- সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৬-২০২০)।
- অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০২০-২০২৫)। (বাতিল করা হয়েছে)

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।

.
অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) পেছনে প্রধান কারণ কোনটি?
  1. দেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিস্থিতি না থাকা
  2. বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা না থাকা
  3. অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করার চেষ্টা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থ পাচার:
- অর্থ পাচার হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অপরাধীরা তাদের বেআইনি উপার্জনের উৎস ও মালিকানা লুকানোর চেষ্টা করে।
- এটি প্রত্যেক দেশের জন্যই একটি ক্ষরণ-জাতীয় জটিল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত করা হয়।
- অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) পেছনে প্রধান কারণসমূহ:
• দেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত পরিস্থিতি না থাকা।
• ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে টিকে থাকতে না পারা।
• বাংলাদেশের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা না থাকা।
• অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ গোপন করার চেষ্টা।

তথ্যসূত্র - বণিক বার্তা পত্রিকা রিপোর্ট ও সিপিডি ওয়েবসাইট।

.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, চরম দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ৫.৬%
  2. ৬.২%
  3. ৭.৮%
  4. ৮.২%
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭১ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.৩৩%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১/বর্গ কি.মি.
- গড় আয়ু: ৭২.৩ বছর।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৭৮৪ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৩৮.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৪৪.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মূল্যস্ফীতি: ৯.৭৪%।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর +): ৭৭.৯%।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।

.
২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিধবা ভাতার পরিমাণ কত টাকা?
  1. ৫৫০ টাকা
  2. ৬০০ টাকা
  3. ৬৫০ টাকা
  4. ৭০০ টাকা
ব্যাখ্যা

বিধবা ভাতা:
- ১৯৯৮-৯৯ অর্থ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- ঐ অর্থ বছরে ৪ লক্ষ ৩ হাজার ১১০ জনকে এককালীন মাসিক ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়।
- বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রবর্তিত এ কর্মসূচির সকল উপকারভোগীকে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার নগদ ও বিকাশ এবং এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে জিটুপি পদ্ধতিতে (গভর্নমেন্ট টু পারসন) সফলভাবে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
- এ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ২৯ লক্ষ জনের জন্য জনপ্রতি মাসিক ৬৫০ টাকা হারে মোট ২২৭৭.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান।
২. পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি।
৩. আর্থিক অনুদানের মাধ্যমে তাঁদের মনোবল জোরদার করা।
৪. চিকিৎসা সহায়তা ও পুষ্টি সরবরাহ বৃদ্ধিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান।

তথ্যসূত্র - সমাজসেবা অধিদফতর ওয়েবসাইট।

.
সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কোন বাজেট থেকে প্রণয়ন করে থাকে?
  1. রাজস্ব বাজেট
  2. অ-উন্নয়ন বাজেট
  3. চলতি বাজেট
  4. উন্নয়ন বাজেট
ব্যাখ্যা

মূলধন বাজেট বা উন্নয়ন বাজেট:
- সরকারের মূলধন আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয় তাকে মূলধন বা উন্নয়ন বাজেট বলে।
- এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ও জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
- এ লক্ষ্যে সরকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস হতে অর্থসংস্থান করে।
- অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস হলো-রাজস্ব উদ্বৃত্ত, বেসরকারি সঞ্চয় ব্যাংক ঋণ ও অতিরিক্ত কর ধার্য করা ইত্যাদি।
- বৈদেশিক আয়ের উৎস হলো-বৈদেশিক ঋণ, বৈদেশিক অনুদান ইত্যাদি।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায়- কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মহিলা ও যুব উন্নয়ন, পরিবহণ ও যোগাযোগ, পল্লি উন্নয়ন ও গৃহায়ণ ইত্যাদি খাতে সরকার ব্যয় করে থাকে।
- এ বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি অর্জন।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
আবগারি শুল্ক কীসের উপর ধার্য করা হয়?
  1. আমদানি করা দ্রব্যের উপর
  2. দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের উপর
  3. রপ্তানি করা দ্রব্যের উপর
  4. বিদেশী বিনিয়োগের উপর
ব্যাখ্যা

আবগারি শুল্ক (Excise Duties):
- দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের উপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আবগারি শুল্ক বলা হয়।
- রাজস্ব সংগ্রহ ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের ভোগ হ্রাস করার উদ্দেশ্যেও আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়।
- বাংলাদেশে প্রধানত চা, সিগারেট, চিনি, তামাক, কেরোসিন, ওষুধ, স্পিরিট, দিয়াশলাই প্রভৃতি দ্রব্যের উপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে জিডিপি গণনা করে না?
  1. আয় পদ্ধতি
  2. ব্যয় পদ্ধতি
  3. উৎপাদন পদ্ধতি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো আয় পদ্ধতি ব্যবহার করে জিডিপি গণনা করে না।

বাংলাদেশে মোট দেশজ আয় পরিমাপ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে জিডিপি গণনার দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
- পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রতি বছর চলতি বাজার মূল্য ও স্থির মূল্যে দ্রব্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে জিডিপি গণনা করে থাকে।
- এসব হিসাব করতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো উৎপাদন পদ্ধতি ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে জিডিপি গণনা করে।
- উৎপাদন পদ্ধতিতে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) পরিমাপের জন্য অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে বিভক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, আমদানি ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ -
  1. জাপান
  2. ভারত
  3. ফ্রান্স
  4. চীন
ব্যাখ্যা

দেশভিত্তিক আমদানি:
- ২০২৩-২৪ (জুলাই - ফেব্রুয়ারি সময়ে) অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪,১০৮.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের মোট আমদানি ব্যয়ের (৫২,১১৯.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ কম।
- ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত দেশে আমদানি ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে রয়েছে।
- শতকরা ২৮.৪৬ ভাগ আমদানি হয়েছে চীন থেকে।
- দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (১৩.৪২%) ও যুক্তরাষ্ট্র (৪.৫১%)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।

১০.
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কোন মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. অর্থ মন্ত্রণালয়
  2. শিল্প মন্ত্রণালয়
  3. রাজস্ব মন্ত্রণালয়
  4. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড:
- ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৭৬ (The National Board of Revenue Order, 1972) এর ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি কাস্টমস, মূল্য সংযোজন কর ও আয়কর বিষয়ক রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ।
- বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক দেশের মোট রাজস্বের ৮৬% এর অধিক আহরিত হচ্ছে।
- এনবিআর বাংলাদেশের রাজস্ব সংগ্রহের জন্য আইনি কাঠামো, নীতিমালা ও ব্যবস্থা প্রণয়ন করে এবং তা বাস্তবায়ন করে।
- এর আওতাভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ভ্যাট, আয়কর, শুল্কসহ অন্যান্য সকল রাজস্ব সংগ্রহের কার্যক্রম রয়েছে।
- এনবিআর রাষ্ট্রের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, একই সাথে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগেরও সচিব।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং বোর্ড প্রশাসনের অধীনে তথ্যপ্রযুক্তি শাখা কাজ করছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।

১১.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কোনটি?
  1. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটি
  2. পরিকল্পনা কমিশন
  3. অর্থ মন্ত্রণালয়
  4. জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC)

ECNEC:
- ECNEC এর পূর্ণরূপ - Executive Committee of the National Economic Council.
- একনেক ১৯৮২ সালে গঠিত হয়।
- এর চেয়ারম্যান বা প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প সভাপতি হলেন- অর্থমন্ত্রী।
- সদস্য হচ্ছেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী।

তথ্যসূত্র - মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
'ভিজিএফ' নিচের কোন কর্মসূচির আওতাভুক্ত?
  1. সামাজিক নিরাপত্তা
  2. অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  3. স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা
  4. সামাজিক আন্দোলন
ব্যাখ্যা

মানবিক সহায়তা কর্মসূচি:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে এবং কৃষি ক্ষেত্রে কর্মহীন সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।
- এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
(১) দুঃস্থদের খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ)
(২) খাদ্য ও অর্থ সহায়তা (জিআর)

⇒ দুঃস্থদের খাদ্য সহায়তা (ভিজিএফ):
- ভিজিএফ একটি মানবিক সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সরকার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করে থাকে।
- ভিজিএফ কর্মসূচিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়।
- এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য হ্রাস করা:
(১) দুঃস্থ ও গরীর জনগণের দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন করার লক্ষ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
(২) পীড়িত জনগণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ করা;
(৩) মন্দার সময়ে কর্মহীন জনগণের মধ্যে খাদ্য সরবরাহ করা;
(৪) উপকারভোগীদেরকে সাময়িক সাহায্যের মাধ্যমে দারিদ্র্য নিরসনে অবদান রাখা, বিশেষ করে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

তথ্যসূত্র - সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইট।

১৩.
কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী?
  1. বিদেশে শ্রমিক পাঠানো
  2. সরকারি চাকরি প্রদান
  3. বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

কর্মসংস্থান ব্যাংক:
- কর্মসংস্থান ব্যাংক ১৯৯৮ সালের কর্মসংস্থান ব্যাংক আইনের আওতায় দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে দেশের বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের ঋণ সহায়তা ও আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সরকার একটি বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সরকারি/বেসরকারি অন্যান্য বিশেষায়িত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকার দেশের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সনের ৭ নং আইন বলে কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছে।
- ৩০ জুন ১৯৯৮ সালে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের ৩০ মিলিয়ন শেয়ারে বিভক্ত ৩,০০০ মিলিয়ন টাকার মূলধন নিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়।
- কর্মসংস্থান ব্যাংক বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য নিজস্ব কর্মসূচি হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কর্মসূচি এবং সরকারের বিশেষ কর্মসূচি হিসেবে কৃষিভিত্তিক শিল্পঋণ প্রদান কর্মসূচি ও শিল্পকারখানা/প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছা অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/কর্মচারিদের কর্মসংস্থানের জন্য জামানতবিহীন ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৪.
বাংলাদেশে কোন ধরনের অর্থব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে?
  1. ইসলামিক
  2. মিশ্র
  3. পুঁজিবাদী
  4. সমাজতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

মিশ্র অর্থব্যবস্থা:
- অর্থনীতিতে যখন সরকারি এবং ব্যক্তিগত খাত একসাথে সহাবস্থান করে তখন সেই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে মিশ্র অর্থব্যবস্থা বলে।
- বাংলাদেশে মিশ্র অর্থব্যবস্থা প্রচলিত।
- কারণ এখানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সুসমন্বয় বিদ্যমান।
- বাংলাদেশের অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা, উৎপাদন ব্যবস্থা, ব্যবসায়-বাণিজ্য প্রত্যেক খাতে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানার উপস্থিতি বিদ্যমান।
- গুরুত্বপূর্ণ কিছু সম্পদ ব্যক্তি মালিকানায় রেখে বাকি সম্পদ সরকারকে বাৎসরিক করের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানার হাতে থাকে।
- সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ খাতসহ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা খাতসমূহে সরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগ পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশের অর্থনীতির অধিকাংশই বেসরকারি বিনিয়োগের উপর নির্ভরশীল।
- তবে বেসরকারি বিনিয়োগের উপর সরকারের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
'ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন' কত সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়?
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৬ সালে
  4. ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা

ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন:
- বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই আইনটি প্রণীত হয়।
- এর মাধ্যমে ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড কে একটি স্বতন্ত্র ও আইনগত স্বীকৃত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- যা প্রবাসী কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করে থাকে।
- 'ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড আইন' ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- আইনটি বোর্ডের গঠন, দায়িত্ব ও কার্যক্রম নির্ধারণ করে। এতে বোর্ডের সদস্য সংখ্যা, তাদের নিয়োগ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
- আইনটি ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ডের গঠন, ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- প্রবাসী কর্মীদের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য বোর্ডকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড ওয়েবসাইট।

১৬.
বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা

মুক্ত বাজার অর্থনীতি:
- মুক্ত বাজার অর্থনীতি হচ্ছে সেই অর্থনীতি যেখানে ব্যক্তি মালিকানা এবং ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে স্বীকার করা হয়।
- বাংলাদেশে ১ জানুয়ারি, ১৯৯১ মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হয়।

মুক্ত বাজার অর্থনীতির বৈশিষ্ট্য:
- মুক্ত বাজার অর্থনীতির ফলে রাষ্ট্রীয় খাতের ক্রমাগত লোকসান বন্ধ হবে;
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির স্বীকৃতি;
- মুক্তবাজার অর্থনীতি ব্যক্তিস্বার্থ নির্ভর বিধায় এ অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতার উৎপত্তি হয় এবং প্রতিযোগিতার ফলে সর্বনিম্ন দরে দ্রব্য ও সেবার উৎপাদনে নিশ্চয়তা আসে;
- ভোক্তার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়;
- মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে আমদানী ব্যয় এবং রপ্তানী আয় বৃদ্ধি পায়;
- ভর্তুকি, কর-রেয়াত ইত্যাদি না থাকার ফলে রাষ্ট্রের অর্থ-সাশ্রয় হয়।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য থেকে মূলধন সামগ্রীর ব্যবহারজনিত ব্যয় বা অবচয় ব্যয় বাদ দিলে যা থাকে তাকে কী বলে?
  1. নিট দেশজ উৎপাদন
  2. মোট জাতীয় আয়
  3. নিট জাতীয় আয়
  4. মোট দেশজ উৎপাদন
ব্যাখ্যা

⇒ মোট জাতীয় আয় (Gross National Income: GNI):
মোট জাতীয় আয় ও মোট জাতীয় উৎপাদন পরিমাণগতভাবে একই অর্থ প্রকাশ করে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের নাগরিক কর্তৃক দাবিকৃত দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস হতে সংগৃহীত মূল্য সংযোজনকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলা যায়।
- GNI মোট দেশজ উৎপাদন এবং বৈদেশিক উৎস হতে প্রাপ্ত প্রাথমিক আয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

⇒ নিট জাতীয় আয় (Net National Income বা NNI):
- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্য (GNI) থেকে মূলধন সামগ্রীর ব্যবহারজনিত ব্যয় (Capital Consumption Allowance-CCA) বা অবচয় ব্যয় (Depreciation Cost) বাদ দিলে যা থাকে তাকে নিট জাতীয় আয় বলে।

⇒ মোট দেশজ উৎপাদন (Gross Domestic Product বা GDP):
- GDP জাতীয় আয় নির্ধারণ, সামষ্টিক বিশ্লেষণ ও উন্নয়ন নীতি নির্ধারণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক। GDP ধারণাটি GNP ধারণার সাথে সমজাতীয় হলেও উভয়ের মধ্যে কিছুটা তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত দ্রব্য ও সেবার বাজারমূল্য এবং উক্ত দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের উপার্জিত আয়-এর সমষ্টি (includes) থেকে দেশীয় নাগরিক কর্তৃক বিদেশ হতে প্রেরিত অর্থ থেকে বাদ (excludes) দেয়ার পর অবশিষ্ট আর্থিক মূল্যকে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) বলা হয়।

⇒ নিট দেশজ উৎপাদন (Net Domestic Product বা NDP):
- মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) হতে মূলধন সামগ্রীর ব্যবহারজনিত ব্যয় (CCA) বা অবচয় ব্যয় (DC) বাদ দেওয়ার পর যা পাওয়া যায়, তাকে নিট দেশজ উৎপাদন বলে।

তথ্যসূত্র - Macroeconomics, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য মূল্যস্ফীতির সহনশীল মাত্রা ধরা হয় -
  1. ৬-৮%
  2. ৮-৯%
  3. ৮-১০%
  4. ৯-১১%
ব্যাখ্যা

মুদ্রাস্ফীতি:
- যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- বাজারে উৎপাদনের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি হলো মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি।
- এতে করে টাকা তথা মুদ্রার মান হ্রাস পায়, পক্ষান্তরে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
- একই পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে পূর্বাপেক্ষা অধিক অর্থ ব্যয় হয়।
- উৎপাদনের তুলনায় বাজারে মুদ্রার সরবরাহ কমে গেলে মুদ্রা সংকোচন ঘটে।
- উন্নয়নশীল দেশগুলিতে মুদ্রাস্ফীতির জন্য সর্বজনীনভাবে নির্ধারিত সহনীয় স্তর নেই।
- তবে, উন্নয়নশীল দেশের জন্য মূল্যস্ফীতির সহনশীল মাত্রা ধরা হয় ৬-৮%।
- মুদ্রাস্ফীতি ৬-৮% এর বেশি হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং দারিদ্র্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এছাড়াও,
⇒ অতি মুদ্রাস্ফীতি নিম্নলিখিত প্রভাব সৃষ্টি করে:
• সঞ্চয় হ্রাস করে
• বিনিয়োগ হ্রাস করে।
• অর্থনৈতিক পছন্দগুলিকে বিকৃত করে।
• আয়ের বৈষম্য আরও বাড়ায়।

তথ্যসূত্র -  অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Bangladesh Bank ওয়েবসাইট।

১৯.
আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর কত?
  1. ১৫%
  2. ২০%
  3. ২৫%
  4. ৩০%
ব্যাখ্যা

মূল্য সংযোজন কর:
- মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হচ্ছে কোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে তার উৎপাদন ও বণ্টনের প্রতিটি পর্যায় শেষে সংযোজিত মূল্যের ওপর শতকরা হারের কর।
- বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর একটি পরোক্ষ কর।
- ১৯৯০ সনের মধ্য জুনের কিছু আগে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯০ (খসড়া) তৈরি করা হয়।
- মূল্য সংযোজন কর চালু হয় ১ জুলাই ১৯৯১ সালে।
- সকল পন্য ও সেবার উপর ১৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপ হয়।
- আমদানি ও সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ১৫%।
- পন্য বা সেবার সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সংযোজন কর দাতা।
- রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর ০%।

তথ্যসূত্র- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

২০.
কাবিখা কর্মসূচি কোন ধরনের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিক্ষা উন্নয়ন
  2. দারিদ্র্য বিমোচন
  3. স্বাস্থ্যসেবা
  4. শিল্পায়ন
ব্যাখ্যা

কাবিখা:
- 'কাবিখা' বা 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে।

⇒ কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণ/পুননির্মাণ।
- স্বাভাবিক অবস্থায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন।
- গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- গ্রামীণ দরিদ্র জনগনের আয় বৃদ্ধি।
- দেশের সর্বত্র খাদ্য সরবরাহের ভারসাম্য আণয়ন এবং
- দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র - সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২১.
ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য -
  1. উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ
  2. উদ্যোক্তা সৃষ্টি
  3. নারীর ক্ষমতায়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম:
- দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে দরিদ্র মহিলাদের মধ্যে গোষ্ঠীভিত্তিক ঋণ প্রদানের একটি কর্মসূচি হিসেবে প্রথমে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম আরম্ভ হয়।
- বর্তমানে  বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এবং  কর্মসংস্থান ব্যাংক-এর মতো বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ৮০০-এর অধিক  এনজিও দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

• ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
১। উৎপাদনমুখী কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণ।
২। উদ্যোক্তা সৃষ্টি।
৩। নারীর ক্ষমতায়ন।

⇒ এখানে অপশন বিবেচনায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি অধিক গ্রহণযোগ্য। তার যৌক্তিকতা হল - 
• গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম মূলত নারীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।
• এ কার্যক্রম নারীর ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করে।
• স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
• এর ফলে সমাজে নারীর দৃঢ় অবস্থান প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।

⇒ তাই বলা যায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র -  জাতীয় তথ্য বাতায়ণ এবং অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
বাংলাদেশে 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি গৃহীত হয় কবে?
  1. ১৯৮৮ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা

'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি:
- দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত পরিবারের শিশুদেরকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছর থেকে শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে 'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচি চালু হয়।

উল্লেখ্য:
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২৩.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনপ্রশাসন খাতের অবদান কত শতাংশ?
  1. ২১.২%
  2. ২৩.৫%
  3. ২৫.৩%
  4. ২৭.৭%
ব্যাখ্যা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট:
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাতসমূহ,
• প্রথম অবস্থানে জনপ্রশাসন - ২৩.৫%।
• দ্বিতীয় অবস্থানে শিক্ষা ও প্রযুক্তি - ১৪.০%।
• তৃতীয় অবস্থানে পরিবহন ও যোগাযোগ - ৯.০%।
- উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: পরিবহন ও যোগাযোগ।
- অউন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: সুদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অর্থবছর।

২৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ কোনটি?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. জাপান
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

রপ্তানি আয়:
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হার ১৫.৮৭%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জার্মানি।
- জার্মানিতে রপ্তানি হার ১১.২১%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য।
- যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হার ১০.৫২%।

• এশিয়া,
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – জাপানে।
- জাপানে রপ্তানি হার ৩.৪০%।

• অঞ্চল,
- অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে - ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে।
- ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র - জার্মানি।
- ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।

২৫.
জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ উত্থাপনকারী কে?
  1. ড. আদিলুর রহমান খান
  2. ড. আলী ইমাম মজুমদার
  3. ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন
  4. ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বাজেটের ক্রম: ৫৪তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫৫তম)।
- বাজেটের শিরোনাম: 'বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়'।
- বাজেট উত্থাপনকারী: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা)।
- বাজেট উত্থাপন: ২ জুন, ২০২৫।
- অনুমোদন হয় : ২২ জুন, ২০২৫।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২৫।
- জিডিপির আকার: ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

২৬.
বাংলাদেশে কোন ধরনের বাজেট প্রণয়ন করা হয়?
  1. ঘাটতি বাজেট
  2. সম্পূরক বাজেট
  3. সুষম বাজেট
  4. উদ্বৃত্ত বাজেট
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করা হয়।

ঘাটতি বাজেট:
- কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।
- বাজেটের এ ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ঋণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান নিয়ে থাকে।
- ঘাটতি বাজেট বলতে বোঝায় যখন ব্যয় আয়ের চেয়ে বেশি হয়।
- সাধারণত মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতিকে সহনীয় বলে ধরা হয়।
- বাজেট ঘাটতি দুভাবে পূরণ করা হয়।
- বৈদেশিক উৎস: এটি মূলত বৈদেশিক ঋণ।
- সরকার বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশ থেকে সহজ শর্তে ঋণ নেয়।
- অভ্যন্তরীণ উৎস: সরকার দুভাবে দেশের ভেতর থেকে ঋণ নেয়।
- যেমন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও ব্যাংকবহির্ভূত ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি ১ম পত্র, এইএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও দৈনিক ইত্তেফাক।

২৭.
জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অনুযায়ী, মাথাপিছু আয় কত?
  1. ২,৭১০ মার্কিন ডলার
  2. ২,৭৮০ মার্কিন ডলার
  3. ২,৮২০ মার্কিন ডলার
  4. ২,৯৬০ মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৫.৫%।
- বাজেটের আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
- অনুদান ব্যতিত বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
- অনুদান সহ বাজেট ঘাটতি: ২,২১,০০০ কোটি টাকা।
- সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত (পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট): জনপ্রশাসন।
- উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: পরিবহন ও যোগাযোগ।
- অনুন্নয়ন (পরিচালন) বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত খাত: সুদ।
- মাথাপিছু আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (ADP): ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭%)।
- উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দের পরিমাণ: ২,৪৫,৬০৯ কোটি টাকা।
- অনুমিত মুদ্রাস্ফীতির হার: ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

২৮.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৬.৫%
  2. ১৭.২%
  3. ১৮.৭%
  4. ১৯.৩%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

২৯.
বাংলাদেশের অর্থবৎসরের সময়কাল নিচের কোনটি?
  1. ১ জানুয়ারি - ৩১ ডিসেম্বর
  2. ১ জুলাই – ৩০ জুন
  3. ১ জুলাই – ৩১ জুলাই
  4. ১ জানুয়ারি - ৩০ জুন
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট:
- বাজেট (সরকারি) একটি নির্দিষ্ট সময়কালের জন্য সরকারের ব্যয় ও রাজস্বসমূহের একটি পূর্বাভাষ।
- বাংলাদেশ সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে একটি অর্থবৎসর, যা একটি বৎসরের ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বৎসরের ৩০ জুন পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সরকারি বাজেটে কর ও মুদ্রাসংক্রান্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি অর্থের আহরণ, আবণ্টন ও বিতরণ করা হয়।
- বাজেট দলিল চূড়ান্তকরণের সকল স্তরে অর্থাৎ সংগ্রহ, মন্ত্রণালয়ে পেশের পর পরীক্ষা ও সংসদে পাস হওয়া থেকে তার চূড়ান্ত প্রকাশ পর্যন্ত, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ।
- অর্থবিভাগের বাজেট উইং ও উন্নয়ন উইং যথাক্রমে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের তদারকি করে এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ কর ব্যবস্থার প্রস্তাবসমূহ প্রস্ত্তত করে।
- অর্থমন্ত্রী জুন মাসে সংসদে বাজেট পেশ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৩০.
নিচের কোনটি 'হোয়াইট গোল্ড' নামে পরিচিত?
  1. চিংড়ি
  2. পাট
  3. রূপচাঁদা
  4. ইলিশ
ব্যাখ্যা

হোয়াইট গোল্ড:
- বাংলাদেশ বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- তাই চিংড়িকে 'সাদা সোনা' বা 'হোয়াইট গোল্ড' বলা হয়।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের মোট চিংড়ির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উত্পাদিত হচ্ছে, তবে বছরভেদে এর পরিমান ওঠানামা করে।
- ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়।
- প্রবৃদ্ধি দাড়ায় ২৩.৮৪ শতাংশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০২৩ ও ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩।

৩১.
GDP এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Gross Domestic Product
  2. Global Domestic Production
  3. Gross Development Progress
  4. Growing Domestic Product
ব্যাখ্যা

GDP:
- GDP এর পূর্ণরূপ Gross Domestic Product (মোট দেশজ উৎপাদন)।
- মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি হলো একটি নির্দিষ্ট দেশের ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক সীমানার মধ্যে অবস্থানরত দেশি ও বিদেশি সকল সম্পদ ব্যবহার করে এক বছরে উৎপাদিত সকল চূড়ান্ত পণ্য ও সেবার বাজার মূল্য।
- জিডিপি একটি দেশের ভুগোলিক সীমার মধ্যে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য ও সেবার আর্থিক মূল্য হিসাব করে।
- এটি দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদন ক্ষমতার সার্বিক চিত্র তুলে ধরে এবং দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা দেয়।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২.
ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়নে কোন দেশ সহায়তা করছে?
  1. চীন
  2. ভারত
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।

৩৩.
বাংলাদেশ কত সালে LDC হতে উত্তরণ করবে?
  1. ২০২৪ সালে
  2. ২০২৫ সালে
  3. ২০২৬ সালে
  4. ২০২৭ সালে
ব্যাখ্যা

LDC (Least Developed Countries):
- LDC হলো জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন ১৯৭১ সালে তৈরিকৃত বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশসমূহের একটি তালিকা।
- তিনটি সূচককে মানদন্ড হিসেবে নিয়ে LDC কর্যক্রম পরিচালনা  করে থাকে। সেগুলো হলো:
১. আয় সূচক
২. মানব সম্পদ সূচক
৩. অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুর্বলতা সূচক

- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- বর্তমানে LDC তালিকায় ৪৪টি দেশ রয়েছে।
- সপ্তম দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDC) তালিকা থেকে বের হয় - ভুটান(১৩ ডিসেম্বর, ২০২৩)।
- বাংলাদেশ ২০২৬ সালে LDC হতে উত্তরণ করবে।
- বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো LDC তালিকা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে।
- অর্জিত লক্ষ্যসমূহ ২০২১ সাল পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে LDC তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৩৪.
নিচের কোনটি 'পরোক্ষ কর'?
  1. ভূমি রাজস্ব
  2. সম্পদ কর
  3. বিক্রয় কর
  4. আয়কর
ব্যাখ্যা

⇒ প্রত্যক্ষ কর:
- যে কর প্রথমে যার উপর ধার্য করা হয় চূড়ান্তভাবে তাকেই পরিশোধ করতে হয় তাকে প্রত্যক্ষ কর বলা হয়।
- এ কর কোনোভাবেই অন্যের উপর চাপানো যায় না।
- যেমন: আয়কর, ভূমি রাজস্ব, সম্পদ কর প্রভৃতি।

⇒ পরোক্ষ কর:
- কোনো ব্যক্তির উপর কর ধার্য করা হলে সে যদি করের ভার অন্যের উপর চাপাতে পারে তাকে বলা হয় পরোক্ষ কর।
- এরূপ করের বোঝা প্রাথমিকভাবে একজন বহন করলেও পরে তা অন্যের উপর চাপাতে পারে।
- যেমন: মূল্য সংযোজন কর, বিক্রয় কর, আমদানী শুল্ক প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র - কর ব্যবস্থা ও নিরীক্ষা শাস্ত্র, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫.
মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলে নিচের কোনটি ঘটে?
  1. আমদানি হ্রাস পায়
  2. আমদানি বৃদ্ধি পায়
  3. রপ্তানি কমে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মুদ্রার অবমূল্যায়ন:
- মুদ্রার অবমূল্যায়ন হলো ডলারের বিপরীতে কোন দেশের মুদ্রার মান কমিয়ে দেওয়া।
- মুদ্রা ইস্যুকারী সরকার একটি মুদ্রার অবমূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে বিদেশী ক্রেতারা সমপরিমাণ ডলার দিয়ে পূর্বাপেক্ষা কম দামে অধিক পণ্য ক্রয় করতে পারে।
- এতে করে রপ্তানি বৃদ্ধি পায় এবং আমদানি হ্রাস পায়।
- ফলশ্রুতিতে বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পায়।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬.
বাংলাদেশে কোন অর্থ বছরে প্রতিবন্ধী ভাতা চালু করা হয়?
  1. ২০০৪-২০০৫ অর্থবছর
  2. ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর
  3. ২০০৬-২০০৭ অর্থবছর
  4. ২০০৭-২০০৮ অর্থবছর
ব্যাখ্যা

প্রতিবন্ধী ভাতা:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিবন্ধী।
- বাংলাদেশে 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩' প্রণীত হয়।
- বর্তমানে (নভেম্বর, ২০২৫) প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক ভাতার হার: ৯০০/- টাকা।
- বাস্তবায়নকারী দফতর: সমাজসেবা অধিদপ্তর।
- কার্যক্রম শুরুর বছর: ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর।

⇒ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
১. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি প্রদত্ত সাংবিধানিক ও আইনগত প্রতিশ্রুতি পূরণ।
২. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন।
৩. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনয়ন।
৪. সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাছাইকৃত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান।
৫. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তকরণ।
৬. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জরিপ করে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান।

তথ্যসূত্র - সমাজসেবা অধিদফতর ওয়েবসাইট।

৩৭.
'পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন:
- জাতীয় সংসদে গৃহীত আইনের মাধ্যমে 'পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠা করা হয়: ১৯৯৯ সালে।
- পিডিবিএফ একটি সংবিদিবদ্ধ, স্ব-শাসিত, অমুনাফাকাঙ্ক্ষী, আত্মনির্ভরশীল, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- পিডিবিএফ ক্ষুদ্র ঋণ এর পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ (SELP) পরিচালনা করে যাতে করে গ্রামীন বঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হয়।

তথ্যসূত্র - পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।

৩৮.
জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে কী বলা হয়?
  1. নিট আয়
  2. জাতীয় আয়
  3. মাথাপিছু আয়
  4. জিডিপি
ব্যাখ্যা

⇒ মাথাপিছু আয়:
- সাধারণত মাথাপিছু আয় বলতে জনপ্রতি বার্ষিক আয়কে বুঝায়।
- কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে কোন দেশের মোট জাতীয় আয়কে ঐ বছরের মধ্যসময়ের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলেই মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।

⇒ মোট জাতীয় আয় (Gross National Income বা GNI):
- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত আর্থিক বছরে কোনো দেশের নাগরিকগণ কর্তৃক যে পরিমাণ চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয় তার বাজারমূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় আয় (GNI) বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

৩৯.
NNP এর পূর্ণরূপ নিচের কোনটি?
  1. Net National Production
  2. Net National Product
  3. National Net Production
  4. Net National Price
ব্যাখ্যা

NNP:
- NNP এর পূর্ণরূপ Net National Product.
- মোট জাতীয় উৎপাদন থেকে মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয় বাদ দিলে পাওয়া যায় নীট জাতীয় উৎপাদন।
- মোট জাতীয় উৎপাদন করতে সারা বছর ধরে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হয়।
- ফলে যন্ত্রপাতির অবচয়জনিত কারণে প্রকৃত মূল্য হ্রাস পেতে থাকে।
- দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বজায় রাখতে হলে মোট জাতীয় উৎপাদনের কিছু অংশ মূলধনের ক্ষয়ক্ষতি পুরণের জন্য কর্তন করতে হয়।
- একে মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয় বলে।
- নীট জাতীয় উৎপাদন মোট জাতীয় উৎপাদন মূলধনের অবচয়জনিত ব্যয়।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক কে?
  1. ড. আকতার হামিদ খান
  2. শফিউর রহমান
  3. ফজলে হাসান আবেদ
  4. ড. মুহাম্মদ ইউনুস
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র ঋণ:
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

⇒ বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।
- এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়।
- এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনুস।

উল্লেখ্য,
- ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণাটি হচ্ছে, দরিদ্র ব্যক্তিদের কিছু টাকা ঋণ দেওয়া।
- সেই টাকায় তাঁরা ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার মুনাফা থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন প্রতিষ্ঠানকে।
- প্রতিষ্ঠান আবার ওই টাকা ঋণ দেবে অন্য কাউকে।
- এভাবেই বিষয়টি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা পতিকার রিপোর্ট।

৪১.
স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. মেয়াদ ভিত্তিক বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা
  2. দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা
  3. আর্থ-সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও কর্মসূজির দ্রুত বাস্তবায়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা:
- যখন সুনির্দিষ্ট কতগুলো আর্থ-সামাজিক লক্ষ্য স্বল্প সময়, যেমন পাঁচ বছর বা তার চেয়ে কম সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, তখন স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা বলে।
- এ পরিকল্পনার মধ্যে এমন ধরনের কর্মসূচি, প্রকল্প ও লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে যেগুলো জাতীয় স্বার্থে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন।
- কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, বাণিজ্যের প্রসার, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থার প্রসার, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন প্রভৃতি লক্ষ্যগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য ফেলে রাখা যায় না। সামাজিক স্বার্থে এগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্জন দরকার।
- স্বল্পমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান প্রধান উদ্দেশ্য হল -
• আর্থ-সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও কর্মসূজির দ্রুত বাস্তবায়ন।
• মেয়াদ ভিত্তিক বৈদেশিক সাহায্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা।
• বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির সফলতা ও বিফলতা মুল্যায়ন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
• দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
• কখনও কখনও দেশে বিরাজমান বিশেষ পরিস্থিতির কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনার মত একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা।
• পরবর্তী পরিকল্পনাগুলোর উন্নয়ন প্রক্রিয়া সহজ ও ত্বরান্বিত করা।

তথ্যসূত্র - অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২.
পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান -
  1. অর্থমন্ত্রী
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. শিল্প মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

পরিকল্পনা কমিশন:
- বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা সহ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।
- পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান: প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প চেয়ারম্যান: অর্থমন্ত্রী।
- ভাইস চেয়ারম্যান: পরিকল্পনা মন্ত্রী।
- পরিকল্পনা কমিশন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, প্রেক্ষিত পরিকল্পনাসহ সরকারের যাবতীয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে।

তথ্যসূত্র - পরিকল্পনা কমিশনের ওয়েবসাইট।

৪৩.
নিচের কোনটি দুর্যোগকালে দরিদ্র মানুষকে জরুরি নগদ অর্থ প্রদান করে?
  1. টি. আর
  2. ভিজিএফ
  3. পিডিবিএফ
  4. এসএফডিএফ
ব্যাখ্যা

⇒ ভিজিএফ:
- সাধারণত দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে দরিদ্র মানুষের জীবিকা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
- প্রতি পরিবারকে মাসিক ২০-৪০ কেজি করে ২ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত এ সহায়তা দেয়া হয়।
- এছাড়া, মা ইলিশ ও জাটকা আহরণে বিরত থাকা জেলেরাও ভিজিএফ সহায়তা পেয়ে থাকেন।
- বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে দরিদ্র জনগণও ভিজিএফ সহায়তা পান।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১,০৮৯.৭৮ কোটি টাকা।

⇒ টি. আর:
- দুর্যোগকালে দরিদ্র মানুষকে জরুরি নগদ অর্থ হিসেবে টিআর সহায়তা প্রদান করা হয়।

⇒ পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ):
- পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) পল্লীর দরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, আয় উৎসারী ও সামাজিক উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান, সঞ্চয় আহরণ, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি ও কর্মসৃজন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী পুরুষের সমতা বিধানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

⇒ ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএফ):
- দেশের পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক কৃষক পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনই ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (এসএফডিএফ) এর প্রধান লক্ষ্য।
- বর্তমানে ৩৬টি জেলার ২০০টি উপজেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
- ফাউন্ডেশনের আওতায় ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে গ্রাম পর্যায়ে ৯,৬২২ টি কেন্দ্র গঠনের মাধ্যমে ২,৬৮,৯৩৭ জন পুরুষ/মহিলাকে সদস্যভুক্ত করা হয়েছে।
- ফাউন্ডেশনের সুফলভোগীদের শতকরা ৯৪ ভাগই মহিলা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।