পরীক্ষা আর্কাইভ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

পরীক্ষাসহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন১৫
সিলেবাস
[ATEO - নিয়োগ প্রস্তুতি: পরীক্ষা - ৬] বাংলা পরীক্ষা - ২ (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ, অন্ধকার যুগ, যুগ-সন্ধিক্ষণ, ২. প্রাচীন যুগ ও চর্যাপদ, ৩. মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাসমূহ [পদাবলি, মঙ্গলকাব্য, অনুবাদ সাহিত্য ইত্যাদি।] ৪. মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখক, ৫. লোক সাহিত্য - গীতিকা, ৬. বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও অন্যান্যদের অবদান)। ৭. বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ, উক্তি ও চরিত্র (সকল যুগ)। ৮. বাংলা সাহিত্যে যা কিছু প্রথম। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO)

সহকারী থানা শিক্ষা অফিসার (ATEO) · তারিখ অনির্ধারিত · ১৫ প্রশ্ন

.
"কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।" - লাইনটি কোন যুগে রচিত হয়?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. মধ্যযুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
• ''কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল/ চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।।'' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: লুইপা।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- অর্থ্যাৎ, এটি প্রাচীন যুগের রচনা।

পদ - ১ - 
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
.
'পদাবলী' শব্দটি কোন ধরনের সাহিত্য রূপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়?
  1. বিবরণধর্মী প্রবন্ধ
  2. ছন্দবদ্ধ ও গীতিপ্রধান রচনা
  3. কল্পকাহিনি
  4. ঐতিহাসিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• পদাবলী (বিশেষ্য পদ):
অর্থ: বৈষ্ণব ও শাক্ত গীতিকবিতা।

• পদাবলী:
পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে।
গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘পদ’ নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।

• বৈষ্ণব পদাবলী:
বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্ণ, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং, পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘গোরা’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. সুচরিতা
  3. চন্দরা
  4. সুরবালা
ব্যাখ্যা
• গোরা উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পের চরিত্র:  
- তাঁর 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- তাঁর 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- তাঁর 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'। 
- পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; গোরা উপন্যাস।
.
“আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে” — এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্য থেকে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য সম্পর্কে বিস্তারিত: ১. রচয়িতা ও সময়কাল:
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭৫২-৫৩ সালে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
  • এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ বিদ্যাসুন্দর, যা প্রেম-কাহিনিভিত্তিক।
২. বৈশিষ্ট্য:
  • ছন্দ ও অলঙ্কারের নিপুণ ব্যবহার: ভারতচন্দ্র সংস্কৃত ও চলিত ভাষার মিশ্রণে কাব্যশৈলী তৈরি করেন।
  • ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক সংমিশ্রণ: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, ঈশ্বরী পাটনী প্রভৃতি চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।
  • বিখ্যাত পংক্তি:
    • "আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে"।
    • "মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন"
    • "হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" (অতিরঞ্জিত ভাবোক্তি)।
৩. মূল্যায়ন
  • অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এটি ১৮শ শতকের সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য এবং বাংলা সাহিত্যের মাইলফলক।
  • সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনচিত্র, রসবোধ ও নীতিকথা এতে সুসংহত।
৪. অন্যান্য মঙ্গলকাব্যের সাথে তুলনা:
  • মনসামঙ্গল: আদি কবি কানা হরিদত্ত; পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
  • চণ্ডীমঙ্গল: অপর নাম অভয়ামঙ্গল; চণ্ডীদেবীর মাহাত্ম্য কাহিনি।
  • ধর্মমঙ্গল: ধর্মঠাকুরের উপাসনা নিয়ে রচিত।
উৎসসূত্র:
  • লাল নীল দীপাবলি- হুমায়ুন আজাদ;
  • বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর;
  • বাংলাপিডিয়ার সংশ্লিষ্ট নিবন্ধ।
.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগকে তামস যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অবক্ষয় যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. যুগ সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

অন্যদিকে,
• মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় আর আধুনিক যুগের প্রথম কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই দুইজনের মাঝের (১৭৬০-১৮৬০) সময়কে বলা হয় অবক্ষয় যুগ বা যুগসন্ধিক্ষণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এ সময়ের কবি বলে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
.
'দনুবানু' চরিত্রটি কোন রচনার?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  3. পদ্মিনী উপাখ্যান
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কালীপ্রসন্ন সিংহের শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
.
‘বীরবলের হালখাতা’ গ্রন্থটি কোন ভাষাশৈলীতে লেখা প্রথম গ্রন্থ?
  1. তৎসম
  2. চলিত ভাষা
  3. মিশ্র ভাষা
  4. দেশজ ভাষা
ব্যাখ্যা
• ‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরীর চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

বাংলা সাহিত্যের আরো কিছু প্রথম সাহিত্য রচনার নাম:

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য 'বীরঙ্গনা'।
• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষায় রচিত প্রথম গ্রন্থ 'বীরবলের হালখাতা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প 'ভিখারিণী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা'।
• বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাহিত্যিক রচিত প্রথম নাটক 'বসন্তকুমারী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
.
মধ্যযুগের মহিলা কবি চন্দ্রাবতী নিচের কোনটি রচনা করেন?
  1. মহাভারত
  2. গীতা
  3. রামায়ণ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক।

- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- লৌকিক, মানবিক ও কিছু মৌলিক উপাদান সংযোগের ফলে তাঁর রচিত রামায়ণ বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছিল।
- চন্দ্রাবতীর রচিত কাব্যগুলো হলো মালুয়া, দস্যু কেনারামের পালা, রামায়ণ ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কাকে যুগ সন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরগুপ্ত দাস
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
ব্যাখ্যা
• যুগ সন্ধিক্ষণের কবি - 'ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত'।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়।
- ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলার কারণ:
- ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ সূচিত হলেও বাংলা কাব্যসাহিত্যে ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত অর্থে আধুনিকতা আরম্ভ হয় নি।
- এই ষাট বছর (১৮০১-১৮৬১) কাব্যে আধুনিকতায় পৌছার চেষ্টা চলেছে মাত্র।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের জীবৎকাল ১৮১২ থেকে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি বড় হয়েছেন কলকাতার নাগরিক পরিবেশে।
- সাংবাদিকতার পাশাপাশি কবিতাচর্চায় তিনি এ সময় মধ্যযুগের দেবদেবীর কথা বা কাহিনি নির্ভর কাব্যরচনা বর্জন করে ব্যক্তি অভিজ্ঞতায় ছোট ছোট কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তপ্সে মাছের মতো সামান্য প্রাণীও তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু হয়।
- তাঁর কবিতায় সমাজসচেতনতা বিশেষ করে মাতৃভূমির প্রতি দরদ অর্থাৎ দেশাত্মবোধ স্পষ্ট দেখা যায়।
- আবার কবিওয়ালাদের কাব্য ঢঙ, পয়ার ও ত্রিপদীর ব্যবহারও তাঁর কবিতায় ব্যাপকভাবে লক্ষযোগ্য।
- আসলে মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন- এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য- বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা-বৈশিষ্ট্য দেখে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. ময়ূরভট্ট
  4. রূপরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট।

• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
- ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
- ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
- প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।
- ধর্মমঙ্গলের প্রচলিত কাহিনী লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।

অন্যদিকে,
- অন্নধামঙ্গল কাব্যের কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- রূপরাম চক্রবর্তী ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি।
- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদিকবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
'লোকসাহিত্য' সংগ্রহে অবদান রেখেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১২.
চর্যাপদের ভাষাকে 'আলো আঁধারি ভাষা’ বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

----------------------
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১৩.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র—
  1. রমাকান্ত
  2. ভবানী পাঠক
  3. নিতাইচরণ
  4. রমেশচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• কবি' উপন্যাস সম্পর্কে কিছু তথ্য:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

• এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে — 'নিতাইচরণ'।

• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।

আরো কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
• হাজার বছর ধরে - টুনি, মন্তু, আম্বিয়া, মকবুল।
• শ্রীকান্ত - শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া।
• পুতুলনাচের ইতিকথা - হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
১৪.
"দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।।” - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকুমার রায়
  4. রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।” - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়।

স্বাধীনতা-সঙ্গীত
কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়।

“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।
কোটিকল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,
নরকের প্রায়!
দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে,
স্বর্গসুখ তায়!

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৫.
'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আবদুল হাকিম
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'মাতৃভাষায় যাহার ভক্তি নাই সে মানুষ নহে।' - উক্তিটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। এটি তাঁর 'আমাদের শিক্ষা' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মীর মশাররফ হোসেন আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।