পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) ভাষা আন্দোলন, ii) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচন, iii) ৫৬ - এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------- নির্দেশিকা: ১. এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে। ২. এই পরীক্ষাটি "Award Mania: Season - 10” এর জন্য প্রযোজ্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
কোন সংস্থা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে?
  1. ইউনিসেফ
  2. ইউনেস্কো
  3. ইউএনডিপি
  4. ইউএনইপি
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইউনেস্কো
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহীদদের স্মরণে পালিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকায় কয়েকজন ছাত্র-জনতা শহীদ হন।
- তাঁদের স্মরণে ২০০০ সাল থেকে এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়।
- এ প্রস্তাবে মাতৃভাষার উন্নয়ন ও ভাষাগত বৈচিত্র্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
- ইউনেস্কো সদস্য দেশগুলো এ দিনে ভাষাবিষয়ক প্রদর্শনীসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
- এটি ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত ঐতিহ্যের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংহতি জাগ্রত করে।
- দিবসটি ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি বিশ্বমানবতার শ্রদ্ধা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নের সময় প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. ইস্কান্দার মীর্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
সংবিধান কাঠামো: 
- ১৯৪৭ সালে সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় একটি গণপরিষদকে।
- এই গণপরিষদ ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন আইনসভা হিসেবে কাজ করত।
- ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক প্রণীত হয়।
-এ সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইস্কান্দার মীর্জা। 
- এটি ১৯৩৫ সালের আইনের রূপ অনুসরণ করে রাষ্ট্রপতিকে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করার ক্ষমতা প্রদান করে।

উৎস: Britannica.
.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক কী ছিল?
  1. তারকা
  2. চাঁদ
  3. নৌকা
  4. হারিকেন
সঠিক উত্তর:
নৌকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৌকা
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারকে পাঁচ মাইলের বেশি হাঁটতে না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে বুথ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- গেজেটেড অফিসার, কলেজের প্রফেসর, হাই স্কুল ও হাইমাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার নিযুক্ত করা হয়।
- কোনো ভোটার যাতে একবারের বেশি ভোট দিতে না পারে সেজন্য ভোটদান কালে তার আঙুলে অমোচনীয় (যা সহজে ওঠেনা) কালির ছাপ দেওয়ার বিধান করা হয়।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. ইস্কান্দার মীর্জা
  4. আইয়ুব খান
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইস্কান্দার মীর্জা
ব্যাখ্যা
ইস্কান্দার মীর্জা: 
- ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। 

- ১৯৫৫ সালের ৫ আগস্ট অসুস্থতার জন্য গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ছুটিতে গেলে তিনি প্রথমে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জেনারেল এবং পরে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান (১৯৫৬) মোতাবেক গভর্নর জেনারেলের পদকে প্রেসিডেন্ট পদে রূপান্তর করা হয় এবং ইস্কান্দার মীর্জা জাতীয় পরিষদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তিনি ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি করেন। 
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন।
- তিন সপ্তাহের মধ্যে আইয়ূব খান এক রক্তপাতহীন সামরিক ক্যুর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- তিনি ইস্কান্দার মীর্জাকে প্রথমে কোয়েটা এবং পরে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠান।
- ১৯৬৯ সালের ১২ নভেম্বর মির্যা লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে কয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১২ দফা
  2. ২৪ দফা
  3. ২১ দফা
  4. ১৮ দফা
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২১ দফা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কোন পরিষদে উর্দু বা ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও অন্যতম ভাষা করার দাবি জানান?
  1. পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ
  2. পাকিস্তান গণপরিষদ
  3. পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ
  4. পশ্চিম পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান গণপরিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান গণপরিষদ
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার দাবি উত্থাপন:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পরিষদ সদস্যদের উর্দু বা ইংরেজিতে বক্তৃতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের কংগ্রেস দলের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এ প্রস্তাবে সংশোধনী এনে বাংলাকেও পরিষদের অন্যতম ভাষা করার দাবি জানান।
- তিনি বলেন, পাকিস্তানের ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ৪০ লাখই পূর্ব পাকিস্তানের, যাদের মাতৃভাষা বাংলা।
- কিন্তু প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং পূর্ববাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন বিরোধিতা করলে এ দাবি বাতিল হয়ে যায়।
- এ খবর ঢাকায় পৌঁছলে ছাত্রসমাজ, বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিকরা বিক্ষুব্ধ হন।
- আজাদ পত্রিকা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আনা প্রস্তাবে যারা বিরোধিতা করেছিল তাদের সমালোচনা করে।
- পরে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন পরিচালনার জন্য একটি নতুন রাষ্ট্রভাষা পরিষদ গঠিত হয়, যার আহবায়ক ছিলেন শামসুল আলম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নের পথ সুগম করে কোন ঘটনাটি?
  1. মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  2. মারী চুক্তি
  3. সম্মিলিত বিরোধী দল (COP) গঠন
  4. 'পোডো' ও 'এবডো' আদেশ জারি
সঠিক উত্তর:
মারী চুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মারী চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৩ মাস।
- তিনি ১৯৫৪ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- আইনমন্ত্রী থাকাকালে সোহ্‌রাওয়ার্দীর বলিষ্ঠ ও উদ্যোগী ভূমিকার সুবাদেই পাকিস্তানের দুই অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ১৯৫৫ সালে মারী চুক্তি সম্ভব হয়। 
- এই চুক্তি পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নের পথ সুগম করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করেন।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছু সদস্য সমর্থন প্রত্যাহার করায় সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভা দুর্বল হয়ে পড়ে।
- ফলে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
পূর্ববাংলায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন ছিল কোনটি?
  1. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  2. ১৯৬৫ সালের নির্বাচন
  3. ১৯৭০ সালের নির্বাচন
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালের নির্বাচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৪ সালের নির্বাচন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের গুরুত্ব:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- পূর্ববাংলায় এটি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচন ছিল অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।
- নির্বাচনে সরকারি দলের এমন শোচনীয় পরাজয় ছিল বিরল ঘটনা।
- পূর্ববাংলার তৎকালীন সরকার নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনা এড়ানোর জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেন, কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করেননি।
- এই নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ লাভ করেছিল এবং তারা উক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার দাবির সপক্ষে ভোট দিয়ে জনগণ পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিল।
- এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ের ফলে পাকিস্তান গণপরিষদে উক্ত দলের সদস্য সংখ্যা হ্রাস পায়, ফলে পাকিস্তানে কোয়ালিশন সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
- পূর্ববাংলায় সেই যে মুসলিম লীগের পতন ঘটলো, এরপর আর কখনো এখানে মুসলিম লীগ দল শক্তিশালী হতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি ছিল -
  1. ৮ মাঘ
  2. ১২ বৈশাখ
  3. ৮ ফাল্গুন
  4. ৮ চৈত্র
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৮ ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারি: 
- একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
- এটি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের একাধারে মর্মান্তিক ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন।
- ১৯৫২ সালের এ দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন।
- তাই এ দিন শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে।
- ওই দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়।
- এতে আবুল বরকত, আবদুল জববার ও আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন।
- নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে।
- তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে।
- ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া কে প্রণয়ন করেন?
  1. আবুল কাশেম
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. ফজলুল হক
  4. মাওলানা ভাসানী
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে নিচের কোন ঘটনার অবদান ছিল?
  1. পাকিস্তানের সংবিধান রচনা
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ছয় দফা
  4. এগারো দফা
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির প্রতিষ্ঠা:
- ভাষা আন্দোলনের ফলে ১৯৫৫-তে কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড (বাংলা ভাষায় পাঠ্য পুস্তুক রচনার উদ্দেশ্যে) ও বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত (বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে) হয়।
- বাংলা একাডেমী বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ৩ ডিসেম্বর, ১৯৫৫ সালে ঢাকার বর্ধমান হাউজে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
- যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউজে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া। 
১২.
ইস্কান্দার মীর্জা কাকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দীন
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
ইস্কান্দার মীর্জা:
- ১৯৫৫ সালের ৫ আগস্ট অসুস্থতার জন্য গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ছুটিতে গেলে ইস্কান্দার মীর্জা প্রথমে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জেনারেল এবং পরে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান (১৯৫৬) মোতাবেক গভর্নর জেনারেলের পদকে প্রেসিডেন্ট পদে রূপান্তর করা হয়।
- সৈয়দ ইস্কান্দার আলী মীর্জা জাতীয় পরিষদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তিনি ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন।
- তিন সপ্তাহের মধ্যে আইয়ূব খান এক রক্তপাতহীন সামরিক ক্যুর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- তিনি ইস্কান্দার মীর্জাকে প্রথমে কোয়েটা এবং পরে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩.
এ. কে ফজলুল হক কোন দলের নেতৃত্বে ছিলেন?
  1. আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. কৃষক শ্রমিক পার্টি
  3. নেজামে ইসলাম
  4. গণতন্ত্রী দল
সঠিক উত্তর:
কৃষক শ্রমিক পার্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃষক শ্রমিক পার্টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ এবং পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান শরিক দলগুলো ছিল:
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- এ. কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি,
- মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম,
- হাজী মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং
- খিলাফতে রব্বানী পার্টি।

নির্বাচনের ফলাফল:
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৮টি আসন লাভ করে।
- এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনও ছিল।
- ১৯৩৭ সাল থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় আসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
- যুক্তফ্রন্টের ২২৮টি আসনের মধ্যে আওয়ামী মুসলিম লীগ পায় ১৪৩টি আসন, কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলাম ২২, গণতন্ত্রী দল ১৩, এবং খেলাফতে রববানী পার্টি পায় ২টি আসন।
- অমুসলিম আসনে কংগ্রেস পায় ২৫টি, তফসিলী ফেডারেশন ২৭টি এবং সংখ্যালঘুদের যুক্তফ্রন্ট পায় ১৩টি আসন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৪.
কোন সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল?
  1. ১৯৫২ সাল
  2. ১৯৫৩ সাল
  3. ১৯৫৪ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা
- গণপরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিল পাস করে।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন অব্যাহত ছিল।
- পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অনুমোদনের মাধ্যমে এই আন্দোলন তার লক্ষ্য অর্জন করে।
- জাতীয় পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের (১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৬) এক পর্যায়ে এর সদস্য ফরিদপুরের আদেলউদ্দিন আহমদের (১৯১৩-১৯৮১) দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব  অনুযায়ী বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- ১৯৫২ সালের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার জন্য বাঙালিদের সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে দিনটি উদ্যাপন করা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
- এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৫.
কবে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়?
  1. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল
  2. ৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
  3. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৫ সাল
  4. ৩০ মে, ১৯৫৫ সাল
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের শাসনামল (১৯৫৪-৫৮):
- যুক্তফ্রন্ট গঠনের সময় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়লাভ করলে এ. কে. ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট পার্লামেন্টারি বোর্ডের নেতা নির্বাচিত হবেন।
- সে অনুযায়ী তিনি পূর্ববাংলায় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পান।
- তিনি ৩ এপ্রিল (১৯৫৪) মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় কেন্দ্রীয় সরকার সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্টের ভাঙন চেয়েছে।
- মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের সঙ্গে মনোমালিন্য, ৩০ এপ্রিল কোলকাতায় ফজলুল হক প্রদত্ত ভাষণের অপব্যাখ্যা, পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার বাঙালি-অবাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে সংঘটিত দাঙ্গা প্রভৃতি ফজলুল হককে বেকায়দায় ফেলে।
- 'নিউইয়র্ক টাইমস' এর সংবাদদাতা জন পি. কালাহান এ.কে. ফজলুল হকের সাক্ষাতকার বিকৃত করে প্রকাশ করেন।
- উক্ত সাক্ষাতকারে ফজলুল হক পূর্ববাংলার অধিক স্বায়ত্তশাসন পাওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।
- কিন্তু কালাহান লেখেন যে, ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা চান।
- কেন্দ্রীয় সরকার কালাহানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ফজলুল হককে দেশদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করে (৩০ মে, ১৯৫৪) প্রদেশের ওপর গভর্নরের শাসন জারি করে।
- পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন চলে ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
পাকিস্তান সৃষ্টির কত বছর পরে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়?
  1. ৫ বছর
  2. ৭ বছর
  3. ৯ বছর
  4. ১১ বছর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৯ বছর
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- এ শাসনতন্ত্রের অধীনে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ও সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- কিন্তু এ শাসনতন্ত্র যথার্থভাবে কাজ করতে পারেনি।
- এ শাসনতন্ত্র দিনে দিনে অকার্যকর হয়ে পড়ে।
- শাসনতন্ত্রের এ ব্যর্থতার জন্যে (পশ্চিম পাকিস্তানের) শাসকবর্গই দায়ী ছিলেন।
- যার পরিপ্রেক্ষিতে শাসনতন্ত্র রচনার আড়াই বছরের মধ্যেই এটি বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসন জারী করা হয়।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ এবং বিএসএস প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. মো. আজফার
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. হাজী দানেশ
সঠিক উত্তর:
মো. আজফার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মো. আজফার
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ব্যালট বাক্সে ব্যবহারের জন্য সরকার চূড়ান্তরূপে মোট ২৪টি প্রতীক নির্দিষ্ট করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ 'হারিকেন' প্রতীক এবং যুক্তফ্রন্ট 'নৌকা' প্রতীক গ্রহণ করে।
- ভোটগ্রহণ ৮ মার্চ থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৫ দিনে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মো. আজফার।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল ও জোট:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করে।
- মুসলমান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মুসলিম লীগ, পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী, যুবলীগ, গণতন্ত্রী দল, খেলাফতে রব্বানী পার্টি প্রভৃতি।
- অমুসলমান আসনে অংশগ্রহণ করে পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস, তফশিলি ফেডারেশন, গণসমিতি, অভয় আশ্রম (কুমিল্লা), পূর্ব পাকিস্তান সমাজতন্ত্রী দল প্রভৃতি।
- কমিউনিস্ট পার্টির মুসলমান সদস্যগণ মুসলমান আসনে এবং হিন্দু সদস্যগণ হিন্দু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- মুসলমান আসনে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং নেজামে ইসলামী 'যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- হিন্দু আসনে গণসমিতি, অভয় আশ্রম ও পূর্ব পাকিস্তান সমাজতান্ত্রিক দল 'সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট' গঠন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আবু হোসেন সরকার
  4. সৈয়দ আজিজুল হক
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- শেরে বাংলা এবং যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে থাকেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।