পরীক্ষা - ২৬:
বিষয় - বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ
টপিকসমূহ:
১. শব্দপ্রকরণ [সমাস; উপসর্গ ও অনুসর্গ]
২. পদ-প্রকরণ [পদ ও এর শ্রেণিবিভাগ]
৩. বাক্য প্রকরণ [বাক্য ও বাক্যের প্রকারভেদ; বাক্য ও উক্তির পরিবর্তন; কারক ও বিভক্তি; বাচ্য ও বাচ্যের পরিবর্তন।]
এবং
বিষয় - মানসিক দক্ষতা
টপিকসমূহ:
১. বানান ও ভাষা (Spelling and Language)
২. যান্ত্রিক দক্ষতা (Mechanical Reasoning)
এখানে 'পরা' একটি সংস্কৃত উপসর্গ। সাধারণত 'পরা' উপসর্গটি ব্যবহৃত হয় আতিশয্য অর্থে।
উপসর্গ: - উপসর্গের ইংরেজি প্রতিশব্দ Prefix. - শব্দের অর্থগত পরিবর্তন করে। - অর্থের সংকোচন ও সম্প্রসারণ করে। - উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে। - উপসর্গের অর্থ নেই, কিন্ত অর্থ দ্যোতনা তৈরি করার ক্ষমতা আছে।
উপসর্গ তিন প্রকার। যথা: ⇒ খাঁটি বাংলা উপসর্গ- ২১টি ⇒ তৎসম উপসর্গ- ২০টি ⇒ বিদেশী উপসর্গ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২.
নিচের কোনটি সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ?
ক
ক) মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
খ
খ) হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
গ
গ) ভালাে করে খেয়ে নাও।
ঘ
ঘ) সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: - সাধারণ অনুসর্গ ও - ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
সাধারণ অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। যেমন: উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ। কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে? জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি। দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না। বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৩.
'যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে'- এটি কোন ধরনের বাক্য?
ক
সরল বাক্য
খ
জটিল বাক্য
গ
হ্যাঁ-বাচক বাক্য
ঘ
যৌগিক বাক্য
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: » সরল বাক্য, » জটিল বাক্য, » যৌগিক বাক্য।
জটিল বাক্য: এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ পাওয়া যায় জটিল বাক্যে।একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়। যেমন: - যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
• সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর: - মূল অর্থ ঠিক রেখে জটিল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক ও সাপেক্ষ সর্বনাম ব্যবহার করতে হবে। - খণ্ডবাক্য দুটির মাঝে কমা দিতে হবে।
» সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। • জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
» সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
• সরল বাক্য: আমার দেখাবে আমার সত্য। জটিল বাক্য: যা আমার পথ তাই আমাকে পথ দেখাবে।
» সরল বাক্য: সূর্যোদয়ে পদ্মফুল ফোটে। • জটিল বাক্য: যখন সূর্য উদিত হয় তখন পদ্মফুল ফোটে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
জাতি-বিশেষ্য: জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
বস্তু-বিশেষ্য: কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।
সমষ্টি-বিশেষ্য: এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।
গুণ-বিশেষ্য: গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।
ক্রিয়া-বিশেষ্য: যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫.
অসমাপিকা ক্রিয়া কয় ধরনের?
ক
২
খ
৩
গ
৪
ঘ
৫
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।
• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের: - ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়। - ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়। - শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬.
লোকটি দুঃখের সাথে বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।"- বাক্যের পরোক্ষ উক্তি নিচের কোনটি?
ক
লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, এই শীতে তারা কতই না কষ্ট পাচ্ছি।
খ
লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।
গ
লোকটি দুঃখের সাথে বলল, শীতে তারা কতই না কষ্ট পাচ্ছে।
ঘ
লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, শীতে আমরা কতই কষ্ট পাচ্ছি।
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের পরোক্ষ উক্তি হচ্ছে - লোকটি দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।
• আবেগসূচক প্রত্যক্ষ উক্তিকে পরোক্ষ উক্তিতে পরিবর্তিত করার সময় নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলো ব্যবহার করতে হয়। যেমন: আনন্দের সাথে/আক্ষেপের সাথে/দুঃখের সাথে/বিস্ময়ের সাথে + বল্ল/বললেন/বললাম + যে।
- আবার খণ্ড বাক্যের ক্রিয়াকে ভাব অনুসারে পরিবর্তন করতে হয়।
⇒ প্রত্যক্ষ উক্তি: ভিখারিণী দুঃখের সাথে বলল, "শীতে আমরা কতই না কষ্ট পাচ্ছি। ⇒ পরোক্ষ উক্তি: ভিখারিণী দুঃখের সাথে বলল যে, তারা শীতে বড়ই কষ্ট পাচ্ছে।
⇒ প্রত্যক্ষ উক্তি: সে বলল, "বাহঃ! পাখিটি বেশ চমৎকার। ⇒ পরোক্ষ উক্তি: সে বিস্ময়ের সাথে বলল যে, পাখিটা খুব সুন্দর।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭.
নিম্নের কোনটি ফারসি অনুসর্গের উদাহারণ?
ক
ক) ভেতর, মাঝে
খ
খ) অপেক্ষা, অভিমুখ
গ
গ) কর্তৃক, বদলে
ঘ
ঘ) বাবদ, বরাবর
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার। - নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ, - ক্রিয়া অনুসর্গ।
• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। - সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি। - বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি। - ফারসিঅনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৮.
‘মামা বাড়িতে আছেন’ বাক্যে কোন কারকের প্রয়োগ ঘটেছে?
ক
করণ কারক
খ
অপাদান কারক
গ
অধিকরণ কারক
ঘ
সম্বন্ধ কারক
ব্যাখ্যা
• অধিকরণ কারক: যে কারকে স্থান, কাল, বিষয় ও ভাব নির্দেশিত হয়, তাকে অধিকরণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত এ, য়, য়ে, তে, ইত্যাদি বিভক্তি শব্দের সাথে যুক্ত হয়। যেমন: - মামা বাড়িতে আছেন। - বিকাল পাঁচটায় অফিস ছুটি হবে। - রাজীব বাংলা ব্যাকরণে ভালো।
• অপাদান কারক: যে কারকে ক্রিয়ার উৎস নির্দেশ করা হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘হতে’, ‘থেকে, ইত্যাদি অনুসর্গ শব্দের পরে বসে। যেমন- - জমি থেকে ফসল পাই। - কাপটা উঁচু টেবিল থেকে পড়ে ভেঙ্গে গেল।
• করণ কারক: যারা দ্বারা বা যে উপায়ে কর্তা ক্রিয়া সম্পাদন করে, তাকে করণ কারক বলে। এই কারকে সাধারণত ‘দ্বারা’, ‘দিয়ে’, ‘কর্তৃক’ ইত্যাদি অনুসর্গ যুক্ত হয়। যেমন: - ভেড়া দিয়ে চাষ করা সম্ভব নয়।
• সম্বন্ধ কারক: যে কারকে বিশেষ্য ও সর্বনামের সঙ্গে বিশেষ্য ও সর্বনামের সম্পর্ক সির্দেশিত হয়, তাকে সম্বন্ধ কারক বলে। এই কারকে শব্দের সাথে র, এর, য়ের, কার, কের ইত্যাদি বিভক্তি যুক্ত হয়। যেমন: - ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯.
'সোমবার' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
ক
ক) স্থাননাম
খ
খ) সৃষ্টিনাম
গ
গ) কালনাম
ঘ
ঘ) ব্যক্তিনাম
ব্যাখ্যা
'সোমবার' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।
• নাম-বিশেষ্য: - ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়। যেমন- ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা। স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা। কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷ সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২২)।
১০.
কোন সমাসে অল্প স্বরবিশিষ্ট শব্দ পূর্বে বসে?
ক
ক) দ্বন্দ্ব সমাস
খ
খ) দ্বিগু সমাস
গ
গ) তৎপুরুষ
ঘ
ঘ) কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
• দ্বন্দ্ব সমাস: যে সমাসে দুই বা তার বেশি পদেরে মিলন হয় এবং সমস্যামান পদগুলোর প্রতিটিতেই অর্থের প্রাধান্য থাকে তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে। দ্বন্দ্ব সমাসে সমস্যমান পদ্গুলো প্রত্যেকটি সংযোজক অব্যয়। যেমন: ভাই ও বোন = ভাইবোন। তাল ও তমাল = তালতমাল।
দ্বন্দ্ব সমাসের বৈশিষ্ট্য: - সমান বিভক্তিযুক্ত একাধিক বিশেষ্য পদ হয়। - অল্প স্বর বিশিষ্ট শব্দ পূর্বে বসে। যেমন - ঝি-চাকর, দা-কুমড়া, চা-বিস্কুট। - অপেক্ষাকৃত সম্মানসূচক পদ পুর্বে বসে। যেমন - রাজা-রানি, বামন-চাড়াল। - সাধারণত স্ত্রীবাচক শব্দ পূর্বে বসে। যেমন- মা-বাবা, মেয়ে-জামাই, সীতা-রাম। - 'পতি' শব্দ আগে থাকলে 'জায়া' শব্দের বিকল্পে 'দম' হয়। যেমন - জায়া ও পতি = দম্পতি।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি ড. হায়াৎ মামুদ ও মোহাম্মদ আমীন।
১১.
"আমার কথা শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো।" - বাক্যে 'থেকে' শব্দটি কোন প্রকারের অনুসর্গের উদাহরণ?
ক
ক) বিবর্তিত
খ
খ) ক্রিয়াজাত
গ
গ) ফারসি
ঘ
ঘ) সংস্কৃত
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি সেগুলো ক্রিয়াজাত অনুসর্গ হিসাবে পরিচিত। - ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে, হতে, ইত্যাদি।
করে: কাপড়গুলো ভালো করে পরিষ্কার করো। থেকে: আমার কথা শুনে সে যেন আকাশ থেকে পড়লো। দিয়ে: মন দিয়ে লেখা পড়ালেখা করা উচিত। বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যবহারিক ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
১২.
নিচের কোনটি ভাব বিশেষ্য এর উদাহরণ?
ক
হাত
খ
বাক্স
গ
যুক্তি
ঘ
গোলাপ
ব্যাখ্যা
• ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার দিক থেকে সাধারণ বিশেষ্যকে দুটি উপশ্রেণিতে ভাগ করা যায় :
মূর্ত বিশেষ্য: এমন ব্যাক্তি বা বস্তুর নাম বোঝায় যা দেখা যায়, স্পর্শ করা, ঘ্রান নেওয়া কিংবা পরিমাপ করা যায় । যেমন - গোলাপ, বাক্স, হাত ইত্যাদি।
ভাব বিশেষ্য: নির্বস্তুক অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুনগত বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির নাম বোঝায়। যেমন - আনন্দ, ইচ্ছা, শান্তি, ক্ষমা, পাপ, যুক্তি, রাগ ইত্যাদি।
এ শ্রেণীর বিশেষ্যের সঙ্গে বহুবচন প্রয়োগ খুব স্বাভাবিক নয়।
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খণ্ড)।
১৩.
নিচের কোনগুলি সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ?
ক
সাগর, পর্বত
খ
আকাশ, বই
গ
মিছিল, পরিবার
ঘ
আনন্দ,দীনতা
ব্যাখ্যা
• ‘সাগর, পর্বত’ সাধারণ-বিশেষ্যের উদাহরণ।
• জাতি বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন- মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।
• আকাশ, বই বস্তু-বিশেষ্য এর উদাহরণ। • আনন্দ, দীনতা গুণ-বিশেষ্যের উদাহরণ। • মিছিল, পরিবার সমষ্টি - বিশেষ্যের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২২)।
১৪.
'সাবধান না হলে বিপদে পড়বে' - এর জটিল রূপ কোনটি?
ক
ক) সাবধান হও না হয় বিপদে পড়বে।
খ
খ) যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
গ
গ) তুমি সাবধান না হলে বিপদে পড়বে।
ঘ
ঘ) যদি সাবধান না হও, বিপদে পরবে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য: যে বাক্যে একটি কর্তা এবন একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে ।
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর: যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন- সরল বাক্য: সাবধান না হলে বিপদে পড়বে। জটিল বাক্য: যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
উৎস: ভাষা - শিক্ষা, বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ।
১৫.
নিচের এলোমেলো অক্ষরগুলো দিয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ শব্দের শেষ অক্ষর কোনটি? প নি শ বে উ
ক
বে
খ
নি
গ
শ
ঘ
উ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের এলোমেলো অক্ষরগুলো দিয়ে গঠিত অর্থপূর্ণ শব্দের শেষ অক্ষর কোনটি? প নি শ বে উ
সমাধান: প্রদত্ত এলোমেলো অক্ষরগুলো সাজালে শব্দটি হবে 'উপনিবেশ'। শব্দটির শেষ অক্ষর হবে 'শ'।
১৬.
লাল তীর দ্বারা চিহ্নিত চাকাটি যদি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে তাহলে শেষের চাকার হাতলটি কোনদিকে যাবে?
ক
1 এর দিকে
খ
2 এর দিকে
গ
উভয় দিকে
ঘ
স্থির থাকবে
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: লাল তীর দ্বারা চিহ্নিত চাকাটি যদি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে তাহলে শেষের চাকার হাতলটি কোনদিকে যাবে?
সমাধান:
বেল্ট দ্বারা যুক্ত চাকাসংক্রান্ত সমস্যা:
পরস্পর সংযুক্ত দুটি চাকা ক্রস-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে একটি অপরটির বিপরীত দিকে ঘুরবে। আর সমান্তরাল-বেল্ট দ্বারা যুক্ত থাকলে একই দিকে ঘুরবে।
আবার দুটি চাকা পরস্পর সংলগ্নভাবে সংযুক্ত থাকলে একটি অপরটির বিপরীত দিকে ঘুরবে।
উল্লিখিত তথ্যানুযায়ী, C C লিখিত চাকাগুলো ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরবে। তাহলে শেষ চাকাটিও ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরবে। তাহলে হাতলটি 2 এর দিকে যাবে।
১৭.
চিত্রে m1 ও m2 ভারদ্বয় ভারসাম্য অবস্থায় আছে। যদি m1 : m2 = 3 : 2 হয়, তাহলে x : y = কত?
ক
2 : 3
খ
1 : 2
গ
3 : 2
ঘ
3 : 4
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: চিত্রে m1 ও m2 ভারদ্বয় ভারসাম্য অবস্থায় আছে। যদি m1 : m2 = 3 : 2 হয়, তাহলে x : y = কত?
সমাধান: ধরি, m1 = 3a m2 = 2a ভারসাম্য অবস্থায় থাকলে, 3a × x = 2a × y বা, x/y = (2a)/(3a) বা, x/y = 2/3 ∴ x : y = 2 : 3
১৮.
নিচের কোনটিকে অর্থবোধক শব্দে সাজানো যায়?
ক
ANSLAYT
খ
LSNIT
গ
OTATM
ঘ
WQRGQ
ব্যাখ্যা
ANSLAYT কে সাজালে হয় ANALYST. ANALYST অর্থ বিশ্লেষক।
১৯.
MEHEDI, TANVEER, RASEL তিনজন সুবোধ বালক। এদের নামের মধ্যে ইংরেজি বর্ণমালার পঞ্চম বর্ণটি কতবার ব্যবহৃত হয়?
ক
১ বার
খ
৪ বার
গ
৫ বার
ঘ
৩ বার
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: MEHEDI, TANVEER, RASEL তিনজন সুবোধ বালক। এদের নামের মধ্যে ইংরেজি বর্ণমালার পঞ্চম বর্ণটি কতবার ব্যবহৃত হয়?
সমাধান: ইংরেজি বর্ণমালার পঞ্চম বর্ণ E
MEHEDI এর নামে E আছে ২টি TANVEER এর নামে E আছে ২টি RASEL এর নামে E আছে ১টি
মোট E আছে ২ + ২ + ১ = ৫টি
২০.
একটি লন রোলারকে যদি দুইজন ব্যক্তির একজন টেনে নেয় ও একজন ঠেলে নেয় তবে কার বেশি কষ্ট হবে?
ক
টেনে নেয়া ব্যক্তির
খ
ঠেলে নেয়া ব্যক্তির
গ
দুজনের সমান কষ্ট হবে
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
লন রোলার ঠেলার চেয়ে টানা সহজ কারন টানার সময় আপাত ওজন হ্রাস পায় কিন্তু ঠেলার সময় আপত ওজন বৃদ্ধি পায়।
তাই টেনে নেয়া ব্যক্তির কষ্ট কম হবে। ঠেলে নেয়া ব্যক্তির কষ্ট বেশি হবে।
২১.
অভিধানে কোন শব্দটি আগে বসবে?
ক
Commission
খ
Commerce
গ
Common
ঘ
Committee
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিটি শব্দের শুরুতে Comm আছে। কিন্তু তার পরের বর্ণগুলো যথাক্রমে i, e, o, i. যাদের মধ্যে প্রথমে e আসে। তাই অভিধানে Commerce শব্দটি আগে আসবে।
২২.
নিচের অক্ষরগুলো দিয়ে সঠিক শব্দ কোনটি? হা সা র ম গ
ক
গরমহাসা
খ
মহাসাগর
গ
সারগহাম
ঘ
হামরসাগ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: নিচের অক্ষরগুলো দিয়ে সঠিক শব্দ কোনটি? হা সা র ম গ
সমাধান: হা সা র ম গ অক্ষরগুলো সাজালে হয়: মহাসাগর
২৩.
প, ন্যা, ক, সি এর সাথে কোন বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে?
ক
ঔ
খ
ক
গ
ট
ঘ
ঈ
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: প, ন্যা, ক, সি এর সাথে কোন বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে?
সমাধান: প, ন্যা, ক, সি এর সাথে ঔ বর্ণটি যোগ করলে একটি অর্থবোধক শব্দ গঠিত হবে। শব্দটি হবে 'ঔপন্যাসিক'।
২৪.
কোন বস্তুটি টানতে কম বল প্রয়োজন?
ক
A
খ
B
গ
উভয়েরই সমান বল লাগবে
ঘ
বলা সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কোন বস্তুটি টানতে কম বল প্রয়োজন?
সমাধান: A তে প্রয়োজনীয় ওজন = প্রদত্ত ওজন/ওজনটির ঝুলন্ত রশির শাখা = 10/2 = 5 kg
B তে প্রয়োজনীয় ওজন = প্রদত্ত ওজন/ওজনটির ঝুলন্ত রশির শাখা = 10/1 = 10kg
∴ A বস্তুটি টানতে কম বল প্রয়োজন।
২৫.
নিচের কোন বানানটি শুদ্ধ?
ক
চক্ষুস্মান
খ
চক্ষুষ্মান
গ
চক্ষুশ্মান
ঘ
চক্ষুষ্মাণ
ব্যাখ্যা
চক্ষুষ্মান হলো শুদ্ধ বানান। চক্ষুষ্মান (বিশেষণ) ⇒ চক্ষু আছে এরূপ; দর্শনেন্দ্রয়বিশিষ্ট।
উৎস: Accessible Dictionary.
২৬.
কাঠমিস্ত্রির জন্য কোন যন্ত্রটির ব্যবহার বেশি সুবিধাজনক?
ক
1
খ
2
গ
3
ঘ
4
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: কাঠমিস্ত্রির জন্য কোন যন্ত্রটির ব্যবহার বেশি সুবিধাজনক?
সমাধান: এখানে কাঠমিস্ত্রীর কাজের জন্য ১নং যন্ত্রটি বেশি সুবিধাজনক। কারণ একাধারে পেরেক লাগানো যাবে আবার তোলাও যাবে।
২৭.
কোনটি সঠিক বানান?
ক
উজ্জল্য
খ
ঔজ্জ্বল্য
গ
উজ্বল
ঘ
ওজ্জ্বল্য
ব্যাখ্যা
সঠিক বানান 'ঔজ্জ্বল্য'।
ঔজ্জ্বল্য (বিশেষ্য) ১ উজ্জ্বলতা; দীপ্তি; প্রখরতা।
উৎস: Accessible Dictionary.
২৮.
ভারসাম্য রক্ষা করতে '?' চিহ্নিত স্থানে বস্তুটির ভর কত হবে?
ক
25 lb
খ
30 lb
গ
35 lb
ঘ
50 lb
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: ভারসাম্য রক্ষা করতে '?' চিহ্নিত স্থানে বস্তুটির ভর কত হবে?
Grievance বানানটি শুদ্ধ। Grievance অর্থ দুঃখদুর্দশার কারণ; দুঃখদুর্দশা।
উৎস: Accessible Dictionary.
৩০.
কোন বানানটি অশুদ্ধ?
ক
ব্রাহ্মণ
খ
মনকষ্ট
গ
সমীচীন
ঘ
দারিদ্র
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
ক) ব্রাহ্মণ শুদ্ধ বানান। এর অর্থ: যিনি ব্রহ্মকে জানেন; হিন্দুমতে উচ্চবর্ণের লোক।
খ) মনকষ্ট অশুদ্ধ বানান। এর শুদ্ধরূপ মনঃকষ্ট। এর অর্থ: মনোদুঃখ; মনোবেদনা; মনের কষ্ট।
গ) সমীচীন শুদ্ধ বানান। এর অর্থ: সঙ্গত; যোগ্য; উপযুক্ত।
ঘ) দারিদ্র অশুদ্ধ বানান। এর শুদ্ধরূপ দারিদ্র্য। এর অর্থ: নির্ধনতা; দরিদ্র অবস্থা; দরিদ্রতা।
[অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।]
উৎস: Accessible Dictionary.
৩১.
কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে-
ক
ডান পার্শ্বে
খ
বাম পার্শ্বে
গ
সামনে
ঘ
পিছনে
ব্যাখ্যা
• কোনো নৌকাকে বেশি গতিতে চালাতে হলে, বৈঠা ব্যবহার করতে হবে পিছনে। একজন মাঝি যখন নৌকা চালানোর সময় নৌকার পেছন থেকে বৈঠা দিয়ে পানিতে বা লগি দিয়ে ভূমিতে ধাক্কা দেন তখন পানি বা ভূমি যথাক্রমে বৈঠা ও লগির ওপর সমান ও বিপরীত বল প্রয়োগ করে। এই প্রতিক্রিয়া বলের অনুভূমিক উপাংশই নৌকাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
সমুদ্র শব্দের প্রতিশব্দ - অর্ণব, জলধি, জলনিধি, পারাবার, বারিধি, রত্নাকর, সাগর, সিন্ধু। অন্যদিকে জলদ শব্দের অর্থ মেঘ।
এখানে সমুদ্র : জলদ সমার্থক নয়। তাই ভিন্ন।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী।
৩৫.
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক
নির্ভীক
খ
বিরত
গ
বিনীত
ঘ
স্থাবর
ব্যাখ্যা
'উদ্ধত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - বিনীত 'ভীরু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - নির্ভীক 'জঙ্গম' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - স্থাবর 'ঢালু' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো - সমান 'উদ্যত' শব্দের বিপরীত শব্দ হলো- বিরত
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।