পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৬
সিলেবাস
[For iPad Mania: Season - 2] --------------------------------------------- বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি [বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত] i) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ ii) বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার বৈশ্বিক স্বীকৃতি উৎস: ইতিহাস সংক্রান্ত বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সহ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৬ প্রশ্ন

.
৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে কয়টি পূর্বশর্ত আরোপ করেন?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ: 
- বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। 
- ভাষণটি ইতিহাসে 'বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ' নামে অভিহিত হয়েছে। 
- উক্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দুটি উদ্দেশ্য লক্ষ করা যায়,
যথা:
১. ‘এবারে সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'
-এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। 

২. উক্ত ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খান কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে চারটি পূর্বশর্ত আরোপ করেন, যথা:
ক) অবিলম্বে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে,
খ) অবিলম্বে সৈন্যবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে,
গ)  প্রাণহানি সম্পর্কে তদন্ত করতে হবে এবং
 ঘ) জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন কে?
  1. মোনায়েম খান
  2. টিক্কা খান
  3. আলী জিন্নাহ
  4. গোলাম মুহাম্মদ
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণার পর থেকে শুধু সেনাবাহিনী ছাড়া সর্বত্র আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- অবস্থার গভীরতা উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া খান ১৫ মার্চ ঢাকায় আসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। 
- বঙ্গবন্ধু আলোচনায় রাজি হলেও অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন নি। 
- ১৬ মার্চ থেকে মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা শুরু হয়।  
- একদিকে আলোচনা শুরু হয় অন্যদিকে ১৭ মার্চ (তবে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি অনুসারে, ১৮ মার্চ) টিক্কা খান এবং রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চ লাইট' বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। 
- ১৯ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যরা জয়দেবপুরে নিরীহ বাঙালিদের ওপর হামলা চালায়। 
- এরপর ২২ মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন।
- কিন্তু আলোচনা অসমাপ্ত রেখে ইয়াহিয়া খান গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনা কর্তৃক নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে গণহত্যা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে।
- পাকিস্তানি সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ, স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষের উপর হামলা করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। 
- পাকিস্তানিরা বাঙালিদের হত্যার এই অভিযানের নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট'।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
১৯৭১ সালের কত তারিখ মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকার গঠন অনুমোদন দেয়া হয়?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১২ এপ্রিল
  3. ১৩ এপ্রিল
  4. ১৭ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার:
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। 
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। 
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়। 
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন। সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের শপথ পাঠ করান । 
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। 
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে সত্য নয় কোনটি?
  1. স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আবদুল মান্নান।
  2. Bangladesh নামক পত্রিকা প্রকাশ করে।
  3. সদর দপ্তর ছিলো কলকাতায়।
  4. তাজউদ্দীন আহমেদ ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর অস্থায়ী সরকার:
- মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- এটি মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ সরকার কখনই মুজিবনগরে অবস্থান করেননি। কিন্তু 'মুজিবনগর' নামটি প্রতিকী তাৎপর্য বহন করতে থাকে। 
- সরকারের প্রকৃত কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় কোলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে ।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বন্টন করেন (তবে বাংলাপিডিয়ার মতে ১৮ই এপ্রিল দপ্তর বন্টন করা হয়)। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসিডেন্ট।
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
- তাজউদ্দীন আহমেদ প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ মন্ত্রণালয়।
- এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- ১৭ ই এপ্রিল আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান ।
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার ‘Bangladesh’ নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। 

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৩ নং
  4. ৪ নং
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। 
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। 
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

এছাড়া,
- ১নং সেক্টর  চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং তৎকালীন নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত।
- ৩ নং সেক্টর  উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- ৪নং সেক্টর  উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিলো।
  
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
মুক্তিযুদ্ধের পর নির্যাতিতা নারীদের সেবা প্রদানের জন্য আসা ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিস কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ইংল্যান্ড
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারীর প্রতি সহিংসতা:
- মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নারীরা। 
- মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা ধর্ষিতা বা নির্যাতিতা নারীর সংখ্যা আনুমানিক ছয় লাখের কাছাকাছি। 
- মুক্তিযুদ্ধের পর নির্যাতিতা নারীদের সেবা প্রদানের জন্য এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ডাক্তার জিওফ্রে ডেভিস। 
- তাঁর মতে নির্যাতিতা নারীর সংখ্যা চার লাখের কম নয়। 
- তাঁর বর্ণনায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলার সংখ্যাই ছিল ২ লাখ। 
- অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের সাহায্য সংক্রান্ত কর্মসূচি শুরু হবার আগেই দেড় লাখ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার মহিলা গর্ভপাত করেছেন। 
- অবশিষ্ট ৩০ হাজারের মধ্যে কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছেন, কেউ কেউ তাদের শিশুদের নিজের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন হেমায়েত বাহিনী কোন অঞ্চলে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে?
  1. ময়মনসিংহ
  2. টাংগাইল
  3. ঝিনাইদহ
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনী:
- মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা অনিয়মিত ও নিয়মিত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। 
- অনিয়মিতদের গণবাহিনী বলা হতো। নিয়মিত বাহিনীর অন্তর্গত ছিল সৈন্যরা যারা পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা ই পি আর এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। প্রশিক্ষণের পর বিভিন্ন সেক্টরের অধীনে গণবাহিনীতে নিযুক্ত করা হতো।
- বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও অনেকে গেরিলা বাহিনী গঠন করেন। 
- যেমন টাঙ্গাইলের কাদের সিদ্দিকীর কাদেরিয়া বাহিনী, সিরাজগঞ্জে রফিক মির্জা বাহিনী, ফরিদপুরের হেমায়েত বাহিনী, ঝিনাইদহের আকবর বাহিনী, বরিশালের কুদ্দুস বাহিনী, ময়মনসিংহের আফসার বাহিনী প্রভৃতি ।
- ভারতের বাহিনীর মেজর জেনারেল ওবানের অধীনে বঙ্গবন্ধুর নামে ‘মুজিব বাহিনী' নামে একটি বাহিনী গঠিত হয়।
- ২৮ সেপ্টেম্বর এ.কে খন্দকারের নেতৃত্বে গঠিত হয় বিমান বাহিনী।
- পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করা নৌসেনাদের নিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। 
- ৯ নভেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রথম নৌবহর ‘বঙ্গবন্ধু নৌবহর'।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন জনমত গঠনে লন্ডন তথা ইউরোপে প্রবাসী বাঙালিদের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. আবু সাঈদ চৌধুরী
  2. আবুল হাসান মাহমুদ আলী
  3. জাফরউল্লাহ চৌধুরী
  4. হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালীন বিদেশে জনমত গঠন:
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। 
- এর মধ্যে লন্ডন, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটনে (যেখানে বাঙালিরা সংখ্যায় বেশি ছিলেন) বাঙালিরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন, স্মারকলিপি দেন, সংসদ সদস্যদের কাছে ধর্ণা দেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের সাহায্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। 
- লন্ডনে ইউরোপের অন্যান্য প্রবাসী বাঙালিরা এসে মিলিত হতেন। 
- লন্ডনে প্রবাসী বাঙালিদের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।

এছাড়া, 
- আবুল হাসান মাহমুদ আলী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ নিয়ে নিউইয়র্কে পাকিস্তান কনসুলেট জেনারেলের ভাইস কনসালের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- জাফরউল্লাহ চৌধুরী বিদেশে ডাক্তারি পড়া অসমাপ্ত রেখে দেশে এসে যুদ্ধকালীন মেডিকেল ক্যাম্প ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন।
- হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী দিল্লীতে পাকিস্তান দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে পদত্যাগ করেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২০ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: 
- ১৯২০ শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মা শেখ সায়েরা খাতুন। 
- ৪ কন্যা এবং ২ পুত্রসন্তানের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। 
- মা-বাবা তাঁকে আদর করে ‘খোকা’ বলে ডাকতেন।
- ১৯২৭ সালে সাত বছর বয়সে শেখ মুজিবুর রহমান গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে তাঁর স্কুল জীবন আরম্ভ করেন। 
- নয় বছর বয়সে তিনি গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 
- পরবর্তীকালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। 
- ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠার আগে অন্য আরো দশজন কিশোরের মত শেখ মুজিবুর রহমান খেলার মাঠকেই বেশি ভালোবাসতেন।
- ফুটবল খেলার প্রতি ছিল তাঁর দুরন্ত টান। 
- একজন মেধাবী ফুটবলার হিসেবে কৈশোরে কুড়িয়েছিলেন অসামান্য খ্যাতি। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলাগুলোতে কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মিত পুরস্কৃত হতেন।
- ১৯৩৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ বছর বয়সে শেখ ফজিলাতুন্নেসা (রেনু)-কে বিয়ে করেন। 
- তাঁরা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা এবং তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী ছিলেন। 

উৎস: বঙ্গবন্ধুর জীবন ভিত্তিক তথ্য, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সরকারি ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]।
১০.
রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হয়েছিলো কে?
  1. মতিউর রহমান নিজামী
  2. গোলাম আযম
  3. মোঃ ইউসুফ
  4. ফজলুল কাদের চৌধুরী
ব্যাখ্যা
রাজাকার বাহিনী:
- লেফট্যানেন্ট জেনারেল টিক্কা খান ১৯৭১ সালের জুন মাসে 'পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স ১৯৭১' জারি করেন।
- তার পূর্বেই ১৯৭১ এর মে মাসে মওলানা এ.কে.এম ইউসুফ ৯৬ জন জামায়াত কর্মীর সমন্বয়ে খুলনায় আনসার ক্যাম্পে 'রাজাকার বাহিনী' গঠন করেন। 
- পরবর্তীকালে অর্ডিন্যান্সে এই নাম গ্রহণ করা হয়। 
- ইসলামী ছাত্র সংঘের প্রধান মোঃ ইউসুফ রাজাকার বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত হন।
- রাজাকার বাহিনী পাকিস্তান রক্ষার সংগ্রামের চাইতে লুটপাট, ছিনতাই, নারী ধর্ষণ এসব কাজে মগ্ন থেকেছে। 
- মুক্তিযোদ্ধার সন্ধান দেওয়া, হানাদার বাহিনীকে তাদের বাড়িঘর চিনিয়ে দেওয়া, গ্রাম থেকে গরু, ছাগল, মুরগি ধরে এনে পাকিস্তানী বাহিনীর ক্যাম্পে সরবরাহ করা, গ্রাম থেকে যুবতী নারী ধরে এনে আর্মি ক্যাম্পে সরবরাহ করা ইত্যাদি অপকর্মে রাজাকারদের নিয়োজিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া,
- মতিউর রহমান নিজামী আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন।
- গোলাম আযম, ফজলুল কাদের চৌধুরী আল শামস বাহিনীর নেতা ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন?
  1. ১০ বছর
  2. ১১ বছর
  3. ১২ বছর
  4. ১৩ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ গঠনে প্রধান সংগঠকদের একজন ছিলেন শেখ মুজিব। 
- বস্তুত জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় নবগঠিত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের (১৯৪৯) যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ মুজিবের সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন। 
- ১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন। 
- দলকে ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র দেওয়ার জন্য ১৯৫৫ সালে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে দলের নাম হতে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২.
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কে বঙ্গবন্ধু কী নামে নামকরণ করেছিলেন?
  1. করাচি ষড়যন্ত্র মামলা
  2. লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা
  3. ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা
  4. ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলা
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা: 
- ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য একটি ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটিত হয়েছে। 
- এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজন আওয়ামী লীগ নেতা, সিভিল সার্ভিসের দুইজন বাঙালি কর্মকর্তাসহ ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। 
- ১৮ জানুয়ারি আরেকটি প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে উক্ত মামলার ১নং আসামী বলে ঘোষণা করা হয়। 
- এই মামলার বিচারের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। 
- এই মামলার সরকারি নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য'। লোকমুখে এই মামলা পরিচিতি লাভ করে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবে। 
- বঙ্গবন্ধু এই মামলার নামকরণ করেছিলেন ‘ইসলামাবাদ ষড়যন্ত্র মামলা' নামে।
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বাঙালিরা এটিকে মিথ্যা মামলা হিসেবে অভিহিত করে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তোলে। 
- আন্দোলন জোরদার হলে সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয় এবং বিনাশর্তে ৩৫ জন অভিযুক্তকে মুক্তি দেয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক গুরু কে ছিলেন?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- ১৯৪৭ সালে ভারত এবং পাকিস্তানের পাশাপাশি তৃতীয় রাষ্ট্র হিসেবে স্বতন্ত্র, স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে আন্দোলনে যোগ দেন।
- যদিও এই উদ্যোগ বাতিল হয় কিন্তু পরবর্তীতে এটিই একজন জাতির পিতার স্বপ্নের রাষ্ট্র গড়ার ভিত্তি হয়ে ওঠে। 
- অন্যান্যদের মত ভারত ভাগের পরপরই শেখ মুজিবুর রহমান তড়িঘড়ি করে পূর্ববঙ্গে (পূর্ব পাকিস্তানে) আসেন নি, বরং কয়েক সপ্তাহ তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন।
- বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে মহাত্মা গান্ধীর শান্তি মিশনে যোগ দেন।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ বলা হয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। 
- পরে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে যাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল, তাদের মধ্যে একজন  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
এছাড়া,
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
- হাজী মোহাম্মদ দানেশ ছিলেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ।

উৎস: মুজিব জন্মশতবর্ষ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গঠিত গোপন পরিষদের নাম কি?
  1. স্বাধীন বাংলা মুক্তি পরিষদ
  2. স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
  3. স্বাধীন বাংলা সংগ্রাম পরিষদ
  4. স্বাধীন বাংলা স্বাধীনতা পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করেন এবং সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করেন। 
- ১১ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করা হয়। 
- ১৪ মাস পরে শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেফতার করা হয়।
- ১৯৬১ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক আটকাদেশ অবৈধ ঘোষণা করার পর শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। 
- এ সময় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য উদ্যমী ছাত্র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: মুজিব জন্মশতবর্ষ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। [লিঙ্ক]
১৫.
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের পক্ষে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. কাদের সিদ্দিকী
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। 
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। 
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে মুক্তিবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন। 
- পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়। 
এছাড়া,
- এম এ জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান ছিলেন।
- তাজউদ্দীন আহমেদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধকালীন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান ছিলেন।

উৎস: ইতিহাস প্রথমপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬.
বঙ্গবন্ধুকে কবে জুলিও কুরি পদক প্রদান করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর
  2. ১৯৭২ সালের ২৩ মে
  3. ১৯৭৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৭৩ সালের ২৩ মে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি পদক লাভ:
- ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী জঁ ফ্রেডেরিক জোলিও ক্যুরি ১৯৫৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে বিশ্বশান্তি পরিষদ তাদের শান্তি পদকের নাম ১৯৫৯ সাল থেকে রাখে ‘জোলিও ক্যুরি’ যা বাংলায় জুলিও কুরি নামে পরিচিত।
- মূলত, সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা এবং মানবতার ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, তাঁরা এই পদকে ভূষিত হয়ে আসছিলেন ১৯৫০ সাল থেকে।
- বিশ্বশান্তি পরিষদ ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর পদকপ্রাপক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নাম ঘোষণা করে। 
- পরের বছর ১৯৭৩ সালের ২৩ মে এশীয় শান্তি সম্মেলনের এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে সেই পদক বঙ্গবন্ধুকে পরিয়ে দেন পরিষদের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল রমেশচন্দ্র। 
- সেই অনুষ্ঠানে রমেশচন্দ্র বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নন, তিনি বিশ্বের এবং তিনি বিশ্ববন্ধু।' 
- স্বাধীন বাংলাদেশে কোনো রাষ্ট্রনেতার সেটিই ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক পদক লাভ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ মে ২০২১। [লিঙ্ক]