পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়30 minutes
মোট প্রশ্ন৬৩
সিলেবাস
৪৭তম বিসিএস প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড ⎯ ৩] বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [৮০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৬৩ প্রশ্ন

.
'Ordinance' শব্দের বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. বিঘোষিত করা
  2. অধ্যাদেশ
  3. স্বশাসিত
  4. প্রতিনিধিত্ব
সঠিক উত্তর:
অধ্যাদেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
• 'Ordinance' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ - অধ্যাদেশ।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'Deputation' অর্থ - প্রতিনিধিত্ব।
• 'Autonomous' অর্থ - স্বশাসিত; স্বায়ত্তশাসিত; স্বাধীন।
• 'Proclaim' অর্থ - ঘোষণা/উৎকীর্তন/অনুকীর্তন/প্রচার/বিঘোষিত করা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
.
পরাগত স্বরসঙ্গতির উদাহরণ কোনটি?
  1. মোজা > মুজো
  2. তুলা > তুলো
  3. মিঠা > মিঠে
  4. দেশি > দিশি
সঠিক উত্তর:
দেশি > দিশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশি > দিশি
ব্যাখ্যা
• স্বরসঙ্গতি:
একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমন- দেশি > দিশি, বিলাতি > বিলিতি, মুলা > মুলো ইত্যাদি।

• প্রগত স্বরসঙ্গতি:
আদিস্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে প্রগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মুলা > মুলো, শিকা > শিকে, তুলা > তুলো।

• পরাগত স্বরসঙ্গতি:
অন্ত্যস্বরের কারণে আদ্যস্বর পরিবর্তিত হলে পরাগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- আখো > আখুয়া > এখো, দেশি > দিশি।

• মধ্যগত স্বরসঙ্গতি:
আদ্যস্বর ও অন্ত্যস্বর অনুযায়ী মধ্যস্বর পরিবর্তিত হলে মধ্যগত স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- বিলাতি > বিলিতি, জিলাপি > জিলিপি।

• অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি:
আদ্য ও অন্ত্য দুই স্বরই পরস্পর প্রভাবিত হলে অন্যোন্য স্বরসঙ্গতি হয়।
যেমন- মোজা > মুজো

• চলিত বাংলায় স্বরসঙ্গতি:
- গিলা > গেলা, মিলামিশা > মেলামেশা, মিঠা > মিঠে, ইচ্ছা > ইচ্ছে ইত্যাদি।

- পূর্বস্বর উ-কার হলে পরবর্তী স্বর ও-কার হয়। যেমন- মুড়া > মুড়ো, চুলা > চুলো ইত্যাদি।
- বিশেষ নিয়মে - উড়ুনি > উড়নি, এখনি > এখুনি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
.
অর্থতত্ত্বের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয় কোনটি?
  1. ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান
  2. সমাস
  3. প্রতিশব্দ
  4. সন্ধি
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতিশব্দ
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্ব:
ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

অন্যদিকে, 
----------------
• ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হলো- ষ-ত্ব ও ণ-ত্ব বিধান, সন্ধি। 
• রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় হলো- সমাস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'মরুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. মাটি
  2. পর্বত
  3. বাতাস
  4. পৃথিবী
সঠিক উত্তর:
বাতাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাতাস
ব্যাখ্যা
• 'বাতাস' শব্দের সমার্থক শব্দ:
বায়ু, হাওয়া, পবন, সমীর, সমীরণ, অনিল, মরুত, প্রভঞ্জন।




উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
'টসটস' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
.
'হাঙ্গামা' কোন ভাষার শব্দ?
  1. ফারসি
  2. আরবি
  3. হিন্দি
  4. উর্দু
সঠিক উত্তর:
ফারসি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি
ব্যাখ্যা
হাঙ্গামা (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ
অর্থ:
- মারামারি;
- দাঙ্গা।
- বিপত্তি।
- হট্টগোল;
- বিশৃঙ্খলা।
- জটিলতা।

'ফারসি' ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
খোদা, গুনাহ, দোজখ, ফেরেশতা, আমদানি, জিন্দা, রপ্তানি, বেহেশত, নমুনা, রোজা, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
অন্ত্যযতি নয় কোনটি?
  1. প্রশ্নচিহ্ন
  2. কোলন-ড্যাশ
  3. বিস্ময়চিহ্ন
  4. দাঁড়ি
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোলন-ড্যাশ
ব্যাখ্যা
• অন্ত্যযতি নয়- কোলন-ড্যাশ। 

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অনুসারে, বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত যতিচিহ্ন হলো
• অন্ত্যযতি:
১. দাঁড়ি (।),
২. প্রশ্নচিহ্ন (?),
৩. বিস্ময়চিহ্ন (!),
৪. দুই দাঁড়ি (।।)।

• অভ্যন্তর যতি:
৫. কমা (,),
৬. সেমিকোলন (;),
৭. হাইফেন (-),
৮. ড্যাশ (_),
৯. কোলন (:),
১০. কোলন-ড্যাশ (:-),
১১. বিন্দু (.)।

• অন্যান্য যতি:
১২. ঊর্ধ্বকমা ('),
১৩. ত্রিবিন্দু (...),
১৪. উদ্ধৃতিচিহ্ন ('.../"..."),
১৫. বন্ধনীচিহ্ন (({{-]})),
১৬. বিকল্পচিহ্ন (/)

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড)।
.
'ছড়ার ছন্দ' নামে পরিচিত ছন্দ কোনটি?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দ
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  3. স্বরবৃত্ত ছন্দ
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বরবৃত্ত ছন্দ
ব্যাখ্যা
• স্বরবৃত্ত ছন্দ:
- স্বরবৃত্ত ছন্দের বহুল প্রচলিত নাম ছড়ার ছন্দ, লৌকিক ছন্দ, লোকছন্দ, মেয়েলি ছন্দ।
- এটাকে প্রাকৃত বাংলা ছন্দও বলা হয়। প্রাচীন ছড়াগুলো স্বরবৃত্তে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একে ছড়া ছন্দ বা লোকছন্দ বলেছেন।
- এর ভাব লঘু ও চপল।

স্বরবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- দ্রুত লয়ের ছন্দ।
- এই ছন্দের মূল পর্ব বা পূর্ণ পর্ব চার মাত্রাবিশিষ্ট।
-  মুক্তাক্ষর এবং বদ্ধাক্ষর উভয়ই একমাত্র বিশিষ্ট, পর্বগুলো ছোট ৪ মাত্রা বিশিষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং  বাংলাপিডিয়া।
.
'ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।' বাক্যেটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. অনুজ্ঞা বর্তমান
  2. অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কাল:
ভবিষ্যতে যে ক্রিয়া সম্পন্ন হবে তাকে ভবিষ্যৎ কাল বলে। ভবিষ্যৎ কাল তিন প্রকার: সাধারণ ভবিষ্যৎ, ঘটমান ভবিষ্যৎ এবং অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ।

সাধারণ ভবিষ্যৎ:
ভবিষ্যৎ কালে যে কাজ সাধারণভাবে সম্পন্ন হবে বোঝায়, তাকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমরা রংপুরে যাব।
- দু-এক দিনের মধ্যে সে আসবে।

ঘটমান ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালে চলতে থাকবে বোঝায়, তাকে ঘটমান ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- আমাদের কাজ আমরা করতে থাকব।
- এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ:
যে ক্রিয়া দিয়ে ভবিষ্যৎ কালের আদেশ, অনুমতি, অনুরোধ, প্রার্থনা, আমন্ত্রণ, আশীর্বাদ, উপদেশ, উপেক্ষা ইত্যাদি প্রকাশ করা হয়, তাকে অনুজ্ঞা ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যেমন:
- তাড়াতাড়ি কাজটি কোরো।
- ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
১০.
'পারিভাষিক' শব্দের ইংরেজি পরিভাষা কোনটি?
  1. Interpreter
  2. Translate
  3. Technical
  4. Technological
সঠিক উত্তর:
Technical
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Technical
ব্যাখ্যা
• 'Technical' অর্থ - পারিভাষিক।

অন্যদিকে, 
• 'Interpreter' অর্থ - দোভাষী।
• 'Translate' অর্থ - অনুবাদ করা।
• 'Technological' অর্থ - প্রযুক্তিগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
১১.
আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. জেলেনী
  2. কাঙালিনী
  3. বাঘিনী
  4. চাকরানী
সঠিক উত্তর:
চাকরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাকরানী
ব্যাখ্যা
• আনী-প্রত্যয় যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ:
চাকর - চাকরানী,
মেথর - মেথরানী।

অন্যদিকে,
---------------
• নী/নি-প্রত্যয় যোগে গঠিত নারীবাচক শব্দ- জেলে - জেলেনী।

• কিছু শব্দ 'ইনী' প্রত্যয় যুক্ত করে স্ত্রীবাচক করা হয়।
যথা:
- কাঙাল - কাঙালিনী,
-গোয়ালা - গোয়ালিনী,
- বাঘ - বাঘিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১২.
'অজমূর্খ' শব্দে 'অজ' উপসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অশুভ
  2. অভাব 
  3. মন্দ
  4. আধা
সঠিক উত্তর:
মন্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মন্দ
ব্যাখ্যা
• 'অজ' খাঁটি বাংলা উপসর্গ যোগে 'নিতান্ত (মন্দ)' অর্থে গঠিত শব্দ - অজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর। 

-----------------
• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথা:
অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

- তবে বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১৩.
'পঙ্কজ' কোন ধরনের তৎপুরুষ সমাস?
  1. অলুক তৎপুরুষ
  2. উপপদ তৎপুরুষ
  3. পঞ্চমী তৎপুরুষ
  4. অলুক ষষ্ঠী তৎপুরুষ
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
• উপপদ তৎপুরুষ সমাস:
যে পদের পরবর্তী ক্রিয়ামূলের সঙ্গে কৃৎ-প্রত্যয় যুক্ত হয় সে পদকে উপপদ বলে। কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপপদের যে সমাস হয়, তাকে বলে উপপদ তৎপুরুষ সমাস।
যেমন:
- জলে চরে যা = জলচর,
- জল দেয় যে = জলদ,
- পক্ষে জন্মে যা = পঙ্কজ।

এরূপ - গৃহস্থ, সত্যবাদী, ইন্দ্রজিৎ, ছেলেধরা, ধামাধরা, পকেটমার, পাতাচাটা, হাড়ভাঙ্গা, মাছিমারা, ছারপোকা, ঘরপোড়া, বর্ণচোরা, গলাকাটা, পা-চাটা, পাড়াবেড়ানি, ছা-পোষা ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
১৪.
সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ ঘটছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল।
  2. যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম।
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
  4. তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে।
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
ব্যাখ্যা
• সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)
- সবাই যেন সভায় হাজির থাকে। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

•  ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
আগামী মাসে আমরা সিলেট যাচ্ছি। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল বর্তমান।)

• সাধারণ অতীত কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
শিকারি পাখিটিকে এইমাত্র গুলি করল। (ঘটনা পুরাঘটিত বর্তমানের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)
যদি বৃষ্টি হতো, সবাই মিলে খিচুড়ি খেতাম। (ঘটনা ভবিষ্যতের; কিন্তু ক্রিয়ার কাল অতীত।)

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ক্রিয়ার বিশিষ্ট প্রয়োগ:
তোমরা হয়ত ছয় দফার কথা শুনে থাকবে। (ঘটনা অতীতের; কিন্তু কাল ভবিষ্যৎ।)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)
১৫.
'অনল' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. আকাশ
  2. পানি
  3. সমুদ্র
  4. আগুন
সঠিক উত্তর:
আগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুন
ব্যাখ্যা
• 'অগ্নি' শব্দের সমার্থক শব্দ:
আগুন, পাবক, বৈশ্বানর, সর্বশুচি, হুতাশন, বহ্নি, অনল প্রভৃতি।



উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
'মৌ' শব্দে কোন অর্ধস্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ই্‌
  2. ও্‌
  3. উ্‌
  4. ঔ্‌
সঠিক উত্তর:
উ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উ্‌
ব্যাখ্যা
• 'মৌ' শব্দে - উ্‌ অর্ধস্বরধ্বনি ব্যবহৃত হয়েছে।
যেমন- [ওউ্‌]: মৌ, বউ।
এখানে, ও - পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং উ্‌ - অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি 'ওউ্‌' তৈরি হয়েছে।
--------------------

• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই। 
[এই্‌]: সেই, নেই। 
[আও্‌]: যাও, দাও। 
[আএ্‌]: খায়, যায়। 
[উই্‌]: দুই, রুই। 
[অএ্‌]: নয়, হয়। 
[ওউ্‌]: মৌ, বউ। 
[ওই্‌]: কৈ, দই। 
[এউ্‌]: কেউ, ঘেউ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
'আঁতে ঘা' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. সর্বনাশ করা
  2. বেকায়দায় ফেলা
  3. অত্যন্ত রেগে যাওয়া
  4. দুর্বল জায়গায় খোঁচা
সঠিক উত্তর:
দুর্বল জায়গায় খোঁচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুর্বল জায়গায় খোঁচা
ব্যাখ্যা
• 'আঁতে ঘা' বাগ্‌ধারার অর্থ - দুর্বল জায়গায় খোঁচা।
বাক্য- সত্যি কথা বললে অনেকেরই আঁতে ঘা লাগে।

অন্যদিকে, 
• 'ঘুঘু চরানো' অর্থ - সর্বনাশ করা। 
• 'কোণঠাসা করা' অর্থ - বেকায়দায় ফেলা। 
• 'অগ্নিশর্মা' অর্থ - অত্যন্ত রেগে যাওয়া। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ। 
১৮.
'যথোচিত' শব্দের শুদ্ধ সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. যথাঃ + উচিত
  2. যথঃ + উচিত
  3. যথা + উচিত
  4. যথো + উচিত
সঠিক উত্তর:
যথা + উচিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা + উচিত
ব্যাখ্যা
• স্বরসন্ধির নিয়ম:
প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হয়-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-ঊ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও- কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়।

অ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ;
সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়;
দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ;
প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তরায়।

অ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
নব + ঊঢ়া = নবোঢ়া;
সর্ব+ ঊর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব ইত্যাদি।

আ + উ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
যথা + উচিত = যথোচিত;
কথা + উপকথন = কথোপকথন;
যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত ইত্যাদি।

আ + ঊ = ও (ও-ধ্বনিতে রূপান্তর):
গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি;
মহা + ঊর্মি = মহোর্মি;
মহা + ঊর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৯.
মূর্ধন্য 'ণ' এর অশুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ক্রণ্দন  
  2. রুক্মিণী
  3. কঙ্কণ
  4. কফণি
সঠিক উত্তর:
ক্রণ্দন  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রণ্দন  
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য 'ণ' এর অশুদ্ধ ব্যবহার ঘটেছে- ক্রণ্দন  শব্দে। 

-----------------------
মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:

১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন - ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তৃণ, কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
'বসে আছে যে' এক কথায় কী বলে?
  1. উপবাসক
  2. উপবিষ্ট
  3. উপবিধি
  4. উপবীতী
সঠিক উত্তর:
উপবিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপবিষ্ট
ব্যাখ্যা
• 'বসে আছে যে' এক কথায় বলে- আসীন, উপবিষ্ট।

• উপবিষ্ট (বিশেষণ পদ)। 
অর্থ- আসন গ্রহণ করেছে এমন, আসীন।

অন্যদিকে, 
• 'উপবাসক' অর্থ- না খেয়ে আছে এমন, অনাহারী, উপবাসকারী।
• 'উপবিধি' অর্থ- প্রধান বা মূল আইনের অন্তর্গত আইন। 
• 'উপবীতী' অর্থ- উপবীত বা পইতা ধারণ করেছে এমন, যজ্ঞসূত্রধারী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
'Criminology' এর বাংলা পারিভাষিক শব্দ কোনটি?
  1. প্রতিষেধকবিদ্যা
  2. প্রত্নবিদ্যা
  3. যুক্তিবিদ্যা
  4. দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা
সঠিক উত্তর:
দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা
ব্যাখ্যা
• 'Criminology' শব্দের বাংলা পরিভাষা - দুষ্ক্রিয়াবিদ্যা; অপরাধতত্ত্ব; অপরাধবিদ্যা।

অন্যদিকে, 
• 'Immunology' অর্থ - প্রতিষেধকবিদ্যা; রোগপ্রতিরোধ বিজ্ঞান।
• 'Archaeology' অর্থ - প্রত্নতত্ত্ব; প্রত্নবিদ্যা।
• 'Logic' অর্থ - যুক্তিবিদ্যা; বিতর্কশক্তি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
২২.
কোনটি রূপবাচক বিশেষণ?
  1. ঠাণ্ডা হাওয়া।
  2. কালো মেঘ।
  3. পাথুরে মূর্তি।
  4. রোগা ছেলে।
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কালো মেঘ।
ব্যাখ্যা
বিশেষণের প্রকারভেদ:
• রূপবাচক: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
• গুণবাচক: চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠাণ্ডা হাওয়া।
• অবস্থাবাচক: তাজা মাছ, রোগা ছেলে, খোঁড়া পা।
• সংখ্যাবাচক: হাজার লোক, দশ দশা, শ টাকা।
• ক্রমবাচক: দশম শ্রেণি, সত্তর পৃষ্ঠা, প্রথমা কন্যা।
• পরিমাণবাচক: বিঘাটেক জমি, পাঁচ শতাংশ ভূমি, হাজার টনী জাহাজ, এক কেজি চাল, দু কিলোমিটার রাস্তা।
• অংশবাচক: অর্ধেক সম্পত্তি, ষোল আনা দখল, সিকি পথ।
• উপাদানবাচক: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পাথুরে মূর্তি।
• প্রশ্নবাচক: কতদূর পথ? কেমন অবস্থা?
• নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: এই লোক, সেই ছেলে, ছাব্বিশে মার্চ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
'ঞ' বর্ণের উচ্চারণ হয়-
  1. [ঙ]-এর মতো
  2. [এঁ]-এর মতো
  3. [ওঁ]-এর মতো
  4. [অঁ]-এর মতো
সঠিক উত্তর:
[অঁ]-এর মতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[অঁ]-এর মতো
ব্যাখ্যা
• 'ঞ' বর্ণের উচ্চারণ:
ঞ বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই। স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন:
- মিঞা [মিয়াঁ],
- চঞ্চল [চন্‌চল্],
- গঞ্জ [গন্‌জা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
২৪.
'দারোয়ান' শব্দটি কোন ধরনের প্রত্যয় যোগে গঠিত?
  1. সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়
  2. বাংলা কৃৎ প্রত্যয়
  3. বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
  4. বাংলা তদ্ধিত প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়
ব্যাখ্যা
বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়ের কিছু উদাহরণ হলো:
• ওয়ালা > আলা (হিন্দি): বাড়ি + ওয়ালা = বাড়িওয়ালা (মালিক অর্থে), দিল্লি + ওয়ালা = দিল্লিওয়ালা (অধিবাসী অর্থে), মাছ + ওয়ালা = মাছওয়ালা (বৃত্তি অর্থে), দুধ + ওয়ালা = দুধওয়ালা (বৃত্তি অর্থে)।

• ওয়ান-আন (হিন্দি): গাড়ি + আন = গাড়োয়ান, দার + আন = দারোয়ান

• আনা-আনি (হিন্দি): মুনশি + আনা = মুনশিয়ানা, বিবি + আনা = বিবিআনা, হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি।
• সা (হিন্দি): পানি + সা = পানসা > পানসে, এক + সা = একসা, কাল (কাল) + সা = কালসা > কালসে।
• গর > কর (ফারসি): কারি + গর = কারিগর, বাজি + কর = বাজিকর, সওদা + গর = সওদাগর।
• দার (ফারসি): তাঁবে + দার = তাঁবেদার, খবর + দার = খবরদার, বুটি + দার = বুটিদার, দেনা + দার = দেনাদার, চৌকি + দার = চৌকিদার, পাহারা + দার = পাহারাদার।
• বাজ (দক্ষ অর্থে-ফারসি): কলম + বাজ = কলমবাজ, ধড়ি + বাজ = ধড়িবাজ; ধোঁকা + বাজ = ধোঁকাবাজ, গলা + বাজ + ই = গলাবাজি (বিশেষ্য)।
• বন্দি (বন্দ-ফারসি): জবান বন্দি = জবানবন্দি, সারি বন্দি = সারিবন্দি, নজর + বন্দি = নজরবন্দি।
• 'সই' মতো অর্থে: জুত + সই = জুতসই, মানান + সই = মানানসই, চলন + সই = চলনসই, টেক + সই = টেকসই।
• 'পনা' মতো অর্থে: গিন্নী + পনা = গিন্নীপনা, বেহায়া + পনা = বেহায়াপনা।

উৎস বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৫.
সাধু ভাষার শব্দ কোনটি?
  1. বন্য
  2. জুতো
  3. শুকনো
  4. তুলো
সঠিক উত্তর:
বন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্য
ব্যাখ্যা
• সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

আসিয়া - এসে;
মস্তক - মাথা;
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
বন্য - বুনো। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৬.
'ছিঁচকাঁদুনে' বাগ্‌ধারাটি কী অর্থ প্রকাশ করে? 
  1. বিপর্যস্ত অবস্থা
  2. দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন
  3. সামান্যতে কেঁদে ফেলে
  4. অত্যন্ত অলস
সঠিক উত্তর:
সামান্যতে কেঁদে ফেলে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্যতে কেঁদে ফেলে
ব্যাখ্যা
• 'ছিঁচকাঁদুনে' অর্থ- সামান্যতে কেঁদে ফেলে।
• বাক্য- এমএ পাশ করেও মেয়েটার ছিঁচকাঁদুনে স্বভাব গেল না।

অন্যদিকে, 
• 'উনপাঁজুরে' অর্থ- দুর্বল ও ব্যক্তিত্বহীন। 
• 'ঝড়ো কাক' অর্থ- বিপর্যস্ত অবস্থা। 
• 'গোঁফ খেজুরে' অর্থ- অত্যন্ত অলস। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ। 
২৭.
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কোন যতিচিহ্ন ব্যবহৃত হয়?
  1. কোলন
  2. কমা
  3. সেমিকোলন
  4. ত্রিবিন্দু
সঠিক উত্তর:
কমা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কমা
ব্যাখ্যা
কমা (,) এর ব্যবহার:
• বাক্য সুস্পষ্ট করতে বাক্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতিটি ভাগের মাঝে কমা বসে। যেমন- সুখ চাও, সুখ পাবে বই পড়ে।
• পরস্পর সম্পর্কিত একাধিক বিশেষ্য বা বিশেষণ পদ একসঙ্গে ব্যবহৃত হলে শেষ পদটি ছাড়া প্রতিটির পরে কমা বসে। যেমন- ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মন সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য, ভালবাসা, আনন্দে ভরে থাকে।
• সম্বোধনের পরে কমা বসে। যেমন- রশিদ, এদিকে এসো।
• জটিল বাক্যের প্রত্যেকটি খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
• কোন বাক্যে উদ্ধৃতি থাকলে, তার আগের খণ্ডবাক্যের শেষে কমা (,) বসে। যেমন- আহমদ ছফা বলেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ।' তুমি বললে, 'আমি কালকে আবার আসবো।'
• মাসের তারিখ লেখার সময় বার ও মাসের পর কমা বসে। যেমন- ২৫ বৈশাখ, ১৪১৮, বুধবার।
• ঠিকানা লেখার সময় বাড়ির নাম্বার বা রাস্তার নামের পর কমা বসে। যেমন-৬৮, নবাবপুর রোড, ঢাকা-১০০০।
ডিগ্রী পদবি লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক, এম, এ, পি-এইচ,ডি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।
২৮.
প-বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, -এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড, , ণ -এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৯.
'সমৃদ্ধ' শব্দটি কোন ধরনের উপসর্গ যোগে গঠিত?
  1. খাঁটি বাংলা 
  2. ফারসি 
  3. ইংরেজি 
  4. সংস্কৃত 
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 
ব্যাখ্যা
'সম্' সংস্কৃত উপসর্গ যোগে গঠিত শব্দ- 
• সম্যক রূপে অর্থে- সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সমাদর। 
• সম্মুখে অর্থে- সমাগত, সম্মুখ। 

---------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০ টি।
যথা:
প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩০.
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. অদ্য
  2. অনেক
  3. কথা
  4. অনাথ
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৩১.
'যার নাম পরিচয় জানা নেই' এক কথায় বলে-
  1. অজ্ঞেয়
  2. অজেয়
  3. অজানা
  4. অজ্ঞাত
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজ্ঞাত
ব্যাখ্যা
• 'যার নাম পরিচয় জানা নেই' এক কথায় বলে - অজ্ঞাত। 

অন্যদিকে, 
• 'অজ্ঞেয়' অর্থ -  জানা যায় না এমন; জ্ঞানের অতীত।
• 'অজানা' অর্থ - অবিদিত; অজ্ঞেয়, অপরিচিত ব্যক্তি, 
• 'অজেয়'অর্থ - জয়করা যায় না এমন: আয়ত্তে আনা যায় না এমন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩২.
'কুবলয়' শব্দের অর্থ কী?
  1. কবুতর
  2. ময়ূর
  3. পদ্ম
  4. অগ্নি
সঠিক উত্তর:
পদ্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্ম
ব্যাখ্যা
• কুবলয় [বিশেষ্য পদ],
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- নীলপদ্ম।
- পদ্ম,
- নলিনী,
- উৎপল।

• 'পদ্ম' শব্দের অন্যান্য সমার্থক শব্দ:
কমল, উৎপল, পঙ্কজ, কুমুদ, কুবলয়, শতদল, অরবিন্দ, রাজীব, নলিনী, সরোজ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৩.
কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. আস্পদ
  2. স্বাধীন
  3. সপ্তর্ষি
  4. প্রচ্ছদ
সঠিক উত্তর:
আস্পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আস্পদ
ব্যাখ্যা
নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি:
কতগুলো সন্ধি কোন নিয়ম অনুসারে হয় না, সেগুলোকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।

নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হলো:
- আ + চর্য = আশ্চর্য,
- গো + পদ = গোষ্পদ,
- আ + পদ = আস্পদ,
- পর + পর = পরস্পর,
- ষট্ + দশ = ষোড়শ,
- এক + দশ = একাদশ,
- হরি + চন্দ্র = হরিশ্চন্দ্র,
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• য + অধীন = স্বাধীন; স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।
• সপ্ত + ঋষি = সপ্তর্ষি, স্বরসন্ধির নিয়মে গঠিত।
• প্র + ছদ = প্রচ্ছদ, ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে গঠিত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪.
'Disclose' শব্দের অর্থ কী?
  1. ত্যাজ্য করা
  2. বাতিল করা
  3. অনাবৃত করা
  4. খালাস করা
সঠিক উত্তর:
অনাবৃত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনাবৃত করা
ব্যাখ্যা
• 'Disclose' শব্দের অর্থ - অনাবৃত করা; খুলে দেওয়া।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'Disclaim' অর্থ - দাবি পরিত্যাগ করা; সম্পর্ক অস্বীকার করা; ত্যাজ্য করা। 
• 'Discard' অর্থ - বাতিল করা; ফেলে দেওয়া; অপ্রার্থিত; অবাঞ্ছিত কিছু পরিত্যাগ করা। 
• 'Discharge' অর্থ - জাহাজ থেকে মাল খালাস করা। 

উৎস: অভিগম্য অভিধান।
৩৫.
'যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল 
  2. জটিল 
  3. যৌগিক
  4. অনজ্ঞাসূচক
সঠিক উত্তর:
জটিল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জটিল 
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

আশ্রিত খণ্ডবাক্য তিন প্রকার:
১) বিশেষ্য স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
২) বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য,
৩) ক্রিয়া বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য।

ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় খণ্ডবাক্য (Adverbial clause ):
যে আশ্রিত খণ্ডবাক্য ক্রিয়াপদের স্থান, কাল ও কারণ নির্দেশক অর্থে ব্যবহৃত হয় তাকে ক্রিয়া-বিশেষণ স্থানীয় আশ্রিত খণ্ডবাক্য বলে।
যেমন:
- যতই করিবে দান, তত যাবে বেড়ে।
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিকচক্রবাল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৩৬.
প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস কোনটি?
  1. খোশমেজাজ 
  2. বিড়ালচোখী 
  3. দশগজি 
  4. ঊনপাঁজুরে
সঠিক উত্তর:
ঊনপাঁজুরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঊনপাঁজুরে
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি:
যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি।
যথা:
- এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার = একচোখা (চোখ+আ),
- ঘরের দিকে মুখ যার = ঘরমুখো (মুখ+ও),
- নিঃ (নেই) খরচ যার = নি-খরচে (খরচ+এ)।
- উন (দুর্বল) পাঁজর যার = ঊনপাঁজুরে (পাঁজুর + এ)। 

এরকম- দোটানা, দোমনা, একগুঁয়ে, অকেজো, একঘরে, দোনলা, দোতলা, ঊনপাঁজুরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• পূর্বপদ বিশেষণ ও পরপদ বিশেষ্য হলে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি সমাস হয়। যেমন- খোশ মেজাজ যার = খোশমেজাজ।

• বহুব্রীহি সমাসের ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহৃত বাক্যাংশের কোনো অংশ যদি সমস্তপদে লোপ পায়, তবে তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বলে। যেমন: বিড়ালের চোখের ন্যায় চোখ যে নারীর = বিড়ালচোখী। 

•  পূর্বপদ সংখ্যাবাচক এবং পরপদ বিশেষ্য হলে এবং সমস্তপদটি বিশেষণ বোঝালে তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। এ সমাসে সমস্তপদে 'আ', 'ই' বা 'ঈ' যুক্ত হয়। যথা- দশ গজ পরিমাণ যার = দশগজি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
৩৭.
যুক্তবর্ণের কোন গঠনটি শুদ্ধ?
  1. হ্ + ঊ = হু
  2. হ্‌ + ণ = হ্ণ
  3. হ্ + ষ = হ্ম
  4. হ্ + র = হৃ
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্‌ + ণ = হ্ণ
ব্যাখ্যা
• গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ হলো:
- হ্ + ঋ = হৃ,  
- হ্ + ম = হ্ম,  
- হ্ + উ = হু,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ, 
- হ্ + ন = হ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩৮.
'কি হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।' এখানে 'হেতু' কোন পদ?
  1. অনুসর্গ 
  2. যোজক 
  3. উপসর্গ 
  4. আবেগ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা
• 'কি হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।' এখানে 'হেতু' অনুসর্গ পদ। 

----------------
• অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে, যেমন:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

- এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
উৎস বিবেচনায় 'অধ্যাদেশ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. তদ্ভব শব্দ
  2. বাংলা শব্দ
  3. তৎসম শব্দ
  4. দেশি শব্দ
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তৎসম শব্দ
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ:
বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ:
ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪০.
'বিচিত্র' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. একবর্গা
  2. বিভক্ত
  3. সংহত
  4. একবর্ণ
সঠিক উত্তর:
একবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একবর্ণ
ব্যাখ্যা
• 'বিচিত্র' শব্দের অর্থ -  নানা বর্ণবিশিষ্ট। 
• আবার, 'একবর্ণ' শব্দের অর্থ - একরঙা।

সুতরাং, 
• 'বিচিত্র' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - একবর্ণ।

অন্যদিকে, 
• 'সংহত' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - বিভক্ত।
• 'একবর্গা' শব্দের অর্থ - একরোখা, একগুঁয়ে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৪১.
শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √কৃ+ অন = করণ
  2. √নো + অন = নয়ন
  3. √ভৈ + অন = ভুবন
  4. √শয় + অন = শয়ন
সঠিক উত্তর:
√কৃ+ অন = করণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
√কৃ+ অন = করণ
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়-অন (< অনট্):

কর্তৃবাচ্যে-
√নিন্দ্ + অন = নন্দন,
√সাধ্‌ + অন = সাধন,
√তপ্ + অন = তপন ইত্যাদি।

ভাববাচ্যে-
- √গম + অন = গমন,
- √শী + অন = শয়ন,
- √কৃ+ অন = করণ,
- উদ্‌ + গৃ + অন = উদ্গিরণ ইত্যাদি।

করণবাচ্যে-
√ নী + অন = নয়ন,
√চর্ + অন = চরণ ইত্যাদি।

অধিকরণবাচ্যে-
√শী + অন = শয়ন,
√স্থা + অন = স্থান,
√ভূ + অন = ভুবন,
√উদ্‌ + যা + অন = উদ্যান ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী ভাষারীতি কোনটি?
  1. উপ কথ্য রীতি
  2. সাধু রীতি
  3. আঞ্চলিক কথ্য রীতি
  4. চলিত রীতি
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধু রীতি
ব্যাখ্যা
• সাধু রীতি:
(ক) বাংলা লেখ্য সাধু রীতি সুনির্ধারিত ব্যাকরণের নিয়ম অনুসরণ করে চলে এবং এর পদবিন্যাস সুনিয়ন্ত্রিত ও সুনির্দিষ্ট।
(খ) এ রীতি গুরুগম্ভীর ও তৎসম শব্দবহুল।
(গ) সাধু রীতি নাটকের সংলাপ ও বক্তৃতার অনুপযোগী।
(ঘ) এ রীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠনপদ্ধতি মেনে চলে।

অন্যদিকে, 
-------------------
• চলিত রীতি:
(ক) চলিত রীতি পরিবর্তনশীল। একশ বছর আগে যে চলিত রীতি সে যুগের শিষ্ট ও ভদ্রজনের কথিত ভাষা বা মুখের বুলি হিসেবে প্রচলিত ছিল, কালের প্রবাহে বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত রূপ লাভকরেছে।
(খ) এ রীতি তদ্ভব শব্দবহুল।
(গ) চলিত রীতি সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য এবং বক্তৃতা, আলাপ-আলোচনা ও নাট্যসংলাপের জন্য বেশি উপযোগী।
(ঘ) সাধু রীতিতে ব্যবহৃত সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ চলিত রীতিতে পরিবর্তিত ও সহজতর রূপ লাভ করে। বহু বিশেষ্য ও বিশেষণের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে।

• আঞ্চলিক কথ্য রীতি:
সব ভাষারই আঞ্চলিক রূপের বৈচিত্র্য থাকে, বাংলা ভাষারও তা আছে। বিভিন্ন অঞ্চলে কথিত রীতির বিভিন্নতা লক্ষিত হয়; আবার কোথাও কোথাও কারো কারো উচ্চারণে বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষার মিশ্রণও লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ
৪৩.
বাক্যে কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারে 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. সেমিকোলন
  3. কমা
  4. ইলেক চিহ্ন
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিস্ময় চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ:
•  কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলতে যে সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
•  সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে- 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
•  হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্র্যাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
•  দাঁড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে- 'এক' সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
'কর্তিত' শব্দটি কোন ধাতু যোগে গঠিত?
  1. কৃৎ
  2. কর্‌ 
  3. কৃ
  4. কথ্‌ 
সঠিক উত্তর:
কৃৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কৃৎ
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু।
এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বা ক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

সংস্কৃত ধাতু - সাধিত পদ:
কৃ - কুত, কর্তব্য।
কৃৎ - কর্তন, কর্তিত।
কথ - কথ্য, কথিত।
অঙ্ক - অঙ্কন, অঙ্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৫.
সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক-
  1. খানা
  2. গাছা
  3. টুকু
  4. গুলা
সঠিক উত্তর:
টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুকু
ব্যাখ্যা
• সংখ্যা বা পরিমাপের স্বল্পতা বোঝাতে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক- টুকু, টুকুন, টো, গোটা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পদার্শিত নির্দেশকের বচনভেদে প্রয়োগ:
• একবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি।
উদাহরণ:
কলমটি, বইটা, বৈঠকখানা, বইখানি, লাঠিগাছা, চুড়িগাছি ইত্যাদি।

• বহুবচনে ব্যবহৃত পদাশ্রিত নির্দেশক: গুলি, গুলা, গুলো ইত্যাদি।
উদাহরণ: আমগুলি, ফলগুলো, বিড়ালগুলা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
'যতিচিহ্ন' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. অর্থতত্ত্বে
  2. রূপতত্ত্বে
  3. বাক্যতত্ত্বে
  4. ধ্বনিতত্ত্বে
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যতত্ত্বে
ব্যাখ্যা
• বাক্যতত্ত্ব:
- বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। বাক্যের নির্মাণ এবং এর গঠন বাক্যতত্ত্বের মূল আলোচ্য।
- বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্বে তা বর্ণনা করা হয়।
- এছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
- কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতিও বাক্যতত্ত্বে আলোচিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৪৭.
'যথাসাধ্য' এর সঠিক ব্যাসবাক্য কী?
  1. সাধ্য পর্যন্ত
  2. সাধ্যকে অতিক্রম না করে
  3. যথাযথ সাধ্যের সদৃশ
  4. সাধ্যকে অতিক্রান্ত
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধ্যকে অতিক্রম না করে
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ীভাব সমাস:
পূর্বপদে অব্যয়যোগে নিষ্পন্ন সমাসে যদি অব্যয়েরই অর্থের প্রাধান্য থাকে, তবে তাকে অব্যয়ীভাব সমাস বলে। অব্যয়ীভাব সমাসে কেবল অব্যয়ের অর্থযোগে ব্যাসবাক্যটি রচিত হয়।
যেমন:
- জানু পর্যন্ত লম্বিত (পর্যন্ত শব্দের অব্যয় 'আ') = আজানুলম্বিত (বাহু), মরণ পর্যন্ত = আমরণ।

সামীপ্য (নৈকট্য), বিপ্‌প্সা (পৌনঃপুনিকতা), পর্যন্ত, অভাব, অনতিক্রম্যতা, সাদৃশ্য, যোগ্যতা প্রভৃতি নানা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাস হয়।
 নিচের উদাহরণগুলোতে অব্যয়ীভাব সমাসের অব্যয় পদটি বন্ধনীর মধ্যে দেখানো হলো-

১. সামীপ্য (উপ): 
কণ্ঠের সমীপে = উপকণ্ঠ, কূলের সমীপে = উপকূল।

২. বিপ্সা (অনু, প্রতি):
দিন দিন = প্রতিদিন, ক্ষণে ক্ষণে = প্রতিক্ষণে, ক্ষণ ক্ষণ = অনুক্ষণ।

৩. অভাব (নিঃ = নির): 
আমিষের অভাব = নিরামিষ, ভাবনার অভাব = নির্ভাবনা, জলের অভাব = নির্জল, উৎসাহের অভাব = নিরুৎসাহ।

৪. পর্যন্ত (আ):
সমুদ্র থেকে হিমাচল পর্যন্ত = আসমুদ্রহিমাচল, পা থেকে মাথা পর্যন্ত = আপাদমস্তক।

৫. সাদৃশ্য (উপ):
শহরের সদৃশ = উপশহর, গ্রহের তুল্য = উপগ্রহ, বনের সদৃশ = উপবন।

৬. অনতিক্রম্যতা (যথা):
রীতিকে অতিক্রম না করে = যথারীতি, সাধ্যকে অতিক্রম না করে = যথাসাধ্য। এরূপ-যথাবিধি, যথাযোগ্য ইত্যাদি।

৭. অতিক্রান্ত (উৎ):
বেলাকে অতিক্রান্ত = উদ্বেল, শৃঙ্খলাকে অতিক্রান্ত = উচ্ছৃঙ্খল।

৮. বিরোধ (প্রতি):
বিরুদ্ধ বাদ = প্রতিবাদ, বিরুদ্ধ কূল = প্রতিকূল।

৯. পশ্চাৎ (অনু):
পশ্চাৎ গমন = অনুগমন, পশ্চাৎ ধাবন = অনুধাবন।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 
৪৮.
বিসর্গ সিন্ধ সাধিত শব্দ কোনটি?
  1. অহংকার
  2. চিন্ময়
  3. পরিচ্ছেদ
  4. অকুতোভয়
সঠিক উত্তর:
অকুতোভয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকুতোভয়
ব্যাখ্যা
• বিসর্গ সিন্ধর নিয়ম:
পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (অস্) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি বর্গের ৩য়, ৪র্থ বা ৫ম বর্ণের ধ্বনি (গ/ঘ, জাঝা, ড/ঢ, দ/ধান, ব/ভ/ম) থাকে, কিংবা অন্তঃস্থ বর্ণ (য/র্ল) অথবা হ থাকে তবে সন্ধির ফলে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও-ধ্বনি হয় এবং পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়। কিন্তু পূর্বপদের শেষে যদি অঃ (=অস) থাকে এবং পরপদের প্রথমে যদি অ থাকে তবে অঃ রূপান্তরিত হয়ে ও হয়ে পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং পরের অ-ধ্বনি লোপ পায়।

যেমন:
- অকুতঃ + ভয় = অকুতোভয়।
- মনঃ + ভাব = মনোভাব।
- ইতঃ + মধ্যে = ইতোমধ্যে।
- সদ্যঃ + মুক্ত = সদ্যোমুক্ত।
- মনঃ + যোগ = মনোযোগ।
- মনঃ + রম = মনোরম।
- শিরঃ + রত্ন = শিরোরত্ন।
- যশঃ + লাভ = যশোলাভ।
- যশঃ + লিপ্সা = যশোলিপ্সা।
- পুরঃ + হিত = পুরোহিত।
- মনঃ + হর = মনোহর।
- বয়ঃ + অধিক = বয়োধিক।

অন্যদিকে, 
অহম্ + কার = অহংকার, 
চিৎ + ময় = চিন্ময়,
পরি + ছেদ = পরিচ্ছেদ। 
[উপরে প্রদত্ত শব্দগুলো ব্যঞ্জন সন্ধির নিয়মে গঠিত।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৯.
ভাববাচ্যের ক্রিয়া কোন পুরুষ হয়?
  1. কর্তৃ পুরুষ
  2. মধ্যম পুরুষ
  3. উত্তম পুরুষ
  4. নাম পুরুষ
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম পুরুষ
ব্যাখ্যা
• ভাববাচ্য:
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যে ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয় তাকে ভাববাচ্য বলে।

১. ভাববাচ্যের ক্রিয়া সর্বদাই নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়া বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন:
(ক) আমার (কর্তায় ষষ্ঠী) খাওয়া হলো না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(খ) আমাকে (কর্তায় দ্বিতীয়া) এখন যেতে হবে। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)
(গ) তোমার দ্বারা (কর্তায় তৃতীয়) এ কাজ হবে না। (নাম পুরুষের ক্রিয়া)

২. কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন:
- এ পথে চলা যায় না।
- এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- কোথা থেকে আসা হচ্ছে?

৩. মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- এ ব্যাপারে আমাকে দায়ী করা চলে না।
- এ রাস্তা আমার চেনা নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫০.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. অজিজ্ঞাসীত
  2. অজীজ্ঞাসিত
  3. অজিজ্ঞাসিত
  4. অজিজ্ঞসীত
সঠিক উত্তর:
অজিজ্ঞাসিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অজিজ্ঞাসিত
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- অজিজ্ঞাসিত। 
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।
- এটি বিশেষণ পদ। 
অর্থ:
- জিজ্ঞাসা করা হয়নি এমন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫১.
জাপানি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. বুর্জোয়া
  2. ক্যারাটে
  3. হারিকেন
  4. ক্যাসেট
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যারাটে
ব্যাখ্যা
ক্যারাটে(বিশেষ্য পদ)
- এটি জাপানি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
খালি হাতে লড়াইয়ের জাপানি কৌশলবিশেষ।

• জাপানি ভাষার এরূপ কিছু শব্দ হলো- রিকশা, জুডো। 

অন্যদিকে, 
• 'হারিকেন' স্প্যানিশ ভাষা হতে আগত শব্দ।
• 'বুর্জোয়া' ও 'ক্যাসেট' ফরাসি ভাষা হতে আগত শব্দ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫২.
নিচের কোনটি বিদেশি উপসর্গ?
  1. ভর
  2. দুর
  3. অভি
  4. কম
সঠিক উত্তর:
কম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কম
ব্যাখ্যা
• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।

যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

অন্যদিকে, 
দুর, অভি- সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ। 
ভর- খাঁটি বাংলা উপসর্গ

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৩.
'Intellectual' শব্দের বাংলা পরিভাষা-
  1. মেধা
  2. বুদ্ধিবৃত্তি
  3. বিচারবুদ্ধি
  4. বোধশক্তি
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিবৃত্তি
ব্যাখ্যা
• 'Intellectual' শব্দের বাংলা পরিভাষা - ধীশক্তি সম্বন্ধী; বৌদ্ধিক; বুদ্ধিবৃত্তিক; বুদ্ধিবৃত্তি।

অন্যদিকে, 
• 'Intellect' অর্থ- বোধশক্তি ও বিচারবুদ্ধি; ধী; ধীশক্তি; মেধা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
৫৪.
নিচের কোনটির ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান খাটে না?
  1. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর
  2. ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ে
  3. সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে
  4. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদে
ব্যাখ্যা
ষ ব্যবহারের নিয়ম:
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।

২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

৩. ঋ'এবং ঋ কারের পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ ইত্যাদি।

৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা: পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা: পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা: কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৭. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' হয়। 
যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি।

'ষ' এর ব্যবহার প্রযোজ্য নয় যেসব ক্ষেত্রে-
• বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন - অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫.
নিত্য পুরুষবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রোতা
  2. শিষ্য
  3. বিচারপতি
  4. ক্ষত্রিয়
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিচারপতি
ব্যাখ্যা
• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কতগুলো শব্দের স্ত্রীবাচক হয় না। এদের নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন:
কবিরাজ, যোদ্ধা, সেনাপতি, দলপতি, ঢাকী, লম্পট, কৃতদার, রাষ্ট্রপতি, বিচারপতি ইত্যাদি।

• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
বাংলা ভাষায় বেশ কিছু শব্দ আছে যেগুলো নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ হিসেবে পরিচিত। এদের পুরুষবাচক শব্দ হয় না।
যেমন:
সধবা, বিধবা, সপত্নী, সতিন, বিমাতা, ললনা, অঙ্গনা, এয়ো, দাই, কুলটা, অসূর্যম্পশ্যা, অরক্ষণীয়া, লক্ষ্মী, ডাইনি, গর্ভিণী, বেশ্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শ্রোতা - শ্রোত্রী,
• শিষ্য - শিষ্যা,
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়া। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৫৬.
শুদ্ধ বাক্য কোনটি?
  1. সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র।
  2. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
  3. অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
  4. আমি সন্তোষ হলাম।
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। 
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বাক্য: খুব দুঃখ পেলাম/অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।

অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-
• অশুদ্ধ: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্যগত ছাত্র।
• শুদ্ধ: সে তাহার শিক্ষকের একান্ত বাধ্য/অনুগত ছাত্র।

• অশুদ্ধ: অপব্যায় একটি মারাত্মক ব্যাধি।
• শুদ্ধ: অপব্যয় একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অশুদ্ধ: আমি সন্তোষ হলাম।
• শুদ্ধ : আমি সন্তুষ্ট হলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৫৭.
সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. পিতৃহারা
  2. দিবারাত্রি
  3. যুবরাজ
  4. নির্দোষ
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিবারাত্রি
ব্যাখ্যা
• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।
যেমন- নেই ধন যার = নির্ধন; নেই গুণ যার = নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
পিতাহারা - পিতৃহারা;
যুবরাজা - যুবরাজ;
মহিমামণ্ডিত - মহিমমণ্ডিত;
রাজাগণ - রাজগণ;
মাতাজাতি - মাতৃজাতি; 
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮.
'মাথার খুলি' এক কথায় বলে- 
  1. করেণু
  2. করোটি
  3. কর্কট
  4. কিরীট
সঠিক উত্তর:
করোটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করোটি
ব্যাখ্যা
• 'মাথার খুলি' এক কথায় বলে - করোটি।

অন্যদিকে, 
• 'করেণু' অর্থ- হস্তী, হাতি, গজ।
• 'কর্কট' অর্থ- দেহে জীব-কোষের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধিজনিত দুরারোগ্য ব্যাধি, ক্যানসার।
• 'কিরীট' অর্থ- মুকুট, শিরোভূষণ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা , ড. হায়াত মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৯.
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনগুচ্ছ কোনটি?
  1. ন, র, ল, স
  2. ত, থ, দ, ধ
  3. চ, ছ, জ, ঝ
  4. প, ফ, ব, ভ
সঠিক উত্তর:
ন, র, ল, স
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন, র, ল, স
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে, 
• তালব্য ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
• দন্ত্য ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৬০.
'অষ্টধাতু' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
  1. কর্মধারয় সমাস 
  2. তৎপুরুষ সমাস 
  3. দ্বিগু সমাস
  4. বহুব্রীহি সমাস 
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিগু সমাস
ব্যাখ্যা
• দ্বিগু সমাস:
সমাহার (সমষ্টি) বা মিলন অর্থে সংখ্যাবাচক শব্দের সঙ্গে বিশেষ্য পদের যে সমাস হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। দ্বিগু সমাসে সমাসনিষ্পন্ন পদটি বিশেষ্য পদ হয়।
যেমন:
- আটটি ধাতুর সমাহার = অষ্টধাতু, 
- তিন কালের সমাহার = ত্রিকাল,
- চৌরাস্তার সমাহার = চৌরাস্তা,
- তিন মাথার সমাহার = তেমাথা,
- শত অব্দের সমাহার = শতাব্দী,
- পঞ্চবটের সমাহার = পঞ্চবটী,
- ত্রি (তিন) পদের সমাহার = ত্রিপদী ইত্যাদি।

এরূপ-অষ্টধাতু, চতুর্ভুজ, চতুরঙ্গ, ত্রিমোহিনী, তেরনদী, পঞ্চভূত, সাতসমুদ্র ইত্যাদি।

উৎস:  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১.
ব্যঞ্জনদ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. পদ্ম > পদ্দ
  2. জন্ম > জন্ম
  3. সকাল > সক্কাল
  4. লগ্ন > লগ্গ
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা
• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব:
 কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়, একে দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা,
- সকাল > সক্কাল।

অন্যদিকে,
-------------------
• সমীভবন:
শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভকরে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন:
- জন্ম > জন্ম;
- পদ্ম > পদ্দ;
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৬২.
'কানন' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ফুল
  2. অরণ্য
  3. বৃক্ষ
  4. কন্যা
সঠিক উত্তর:
অরণ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অরণ্য
ব্যাখ্যা
'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৩.
'গরীয়ান' শব্দের শুদ্ধ স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. গরিয়সিনী
  2. গরিয়ানী
  3. গরিয়াসী
  4. গরীয়সী
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরীয়সী
ব্যাখ্যা
বিশেষ নিয়মে সাধিত কিছু স্ত্রীবাচক শব্দ:
• যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'ত্রী' হয়।
যেমন:
নেতা - নেত্রী, কর্তা - কর্ত্রী, শ্রোতা - শ্রোত্রী, ধাতা - ধাত্রী।

• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যেমন:
সৎ - সতী, মহৎ - মহতী, গুণবান - গুণবতী, রূপবান - রূপবতী, শ্রীমান - শ্রীমতী, বুদ্ধিমান - বুদ্ধিমতী, গরীয়ান - গরীয়সী।

• কোনো কোনো পুরুষবাচক শব্দ থেকে বিশেষ নিয়মে স্ত্রীবাচক শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
সম্রাট - সম্রাজ্ঞী, রাজা - রানি, যুবক - যুবতী, শ্বশুর - শ্বশ্রু, নর - নারী, বন্ধু - বান্ধবী, দেবর - জা, শিক্ষক - শিক্ষয়িত্রী, স্বামী - স্ত্রী , পতি - পত্নী, সভাপতি - সভানেত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।