পরীক্ষা আর্কাইভ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

পরীক্ষা৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন১০
সিলেবাস
বাংলা পরীক্ষা - ৩ (সাহিত্য) পরীক্ষার টপিক: ১. মধ্যযুগের গুরুত্বপূর্ণ লেখক, ২. লোক সাহিত্য - গীতিকা, ৩. বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশ (ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও অন্যান্যদের অবদান)।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি

৯ম - ১৩তম গ্রেড পরীক্ষার প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১০ প্রশ্ন

.
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্য প্রথম রচনা করেন কে?
  1. ক) কানা হরিদত্ত
  2. খ) বিজয় গুপ্ত
  3. গ) ক্ষেমানন্দ
  4. ঘ) নারায়ন দেব
ব্যাখ্যা
 - বিজয় গুপ্ত (১৫ শতক)  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
সুস্পষ্ট সন তারিখযুক্ত মনসামঙ্গল কাব্যের প্রথম রচয়িতা বিজয় গুপ্ত।
- তাঁর কাব্যের ভণিতা থেকে কাব্য রচনার কাল পাওয়া যায় ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।

- মনসামঙ্গলের  আদি কবি  কানা হরিদত্ত, কিন্তু তাঁর গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।
- মনসামঙ্গলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি নারায়ন দেব।
- নারায়ন দেবের কাব্যের নাম পদ্মাপুরাণ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'গঙ্গাবাক্যাবলী' গ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
.
দ্বিজ বংশীদাস রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) মনসামঙ্গল
  3. গ) অভয়ামঙ্গল
  4. ঘ) চন্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। 
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।
- কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
.
'কারবালা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
আবদুল হাকিম: 
- আবদুল হাকিম ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের সন্দীপের ভুলুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবদুল হাকিম সতেরো শতেকের একজন কবি। 
- তিনি ৮ টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
যথা: 
• লালমতি সয়ফুল মুলুক, 
• নূরনামা, 
• কারবালা
• ইউসুফ জোলেখা, 
• নসীহৎনামা, 
• শহরনামা, 
• শিহাবউদ্দিননামা এবং 
• চারি মোকামভেদ। 

- আবদুল হাকিমের ‘নূরনামা’ কাব্যের বিখ্যাত উক্তি: 
"যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি"। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (মাহবুবুল আলম), বাংলা সাহিত্যের কথা (ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ) এবং লাল নীল দীপাবলি।
.
'দৌলত কাজী' রচিত কাব্য কোনটি ?
  1. ক) লাইলী-মজনু
  2. খ) সতীময়না-লোরচন্দ্রানী
  3. গ) সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) গুলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
• দৌলত কাজী (আনু. ১৬০০-১৬৩৮):
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কাজীবংশে তাঁর জন্ম বলে অনুমান করা হয়।
- তিনি বাল্যকালেই নানা শাস্ত্রে শিক্ষা লাভ করেন; কিন্তু স্বদেশে স্বীকৃতি না পেয়ে আরাকানে চলে যান এবং আরাকানরাজের সভাকবির মর্যাদা পান।
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার (থিরি-থু-ধম্ম, ১৬২২-১৬৩৮) সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের মৈনাসৎ ও মোল্লা দাউদের চান্দাইন কাব্য অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়।
- কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমা্যন্টিক আখ্যানমূলক কাব্য।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।
- হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. ক) চন্দ্রবতী
  2. খ) দস্যু কেনারামের পালা
  3. গ) আয়না বিবি
  4. ঘ) দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- দীনেশচন্দ্র সেন ইংরেজি ballad-এর বাংলা পরিভাষা হিসেবে ‘গীতিকা’ শব্দটি গ্রহণ করেন। 

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে যথা :
- মহুয়া, 
- মলুয়া, 
- চন্দ্রাবতী, 
- কমলা, 
- দেওয়ান ভাবনা, 
- দস্যু কেনারামের পালা, 
- রূপবতী, 
- কঙ্ক ও লীলা, 
- কাজলরেখা ও 
- দেওয়ান মদিনা।

= বিঃদ্রঃ 'আয়না বিবি' পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
‘শকুন্তলা’ গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
  3. গ) উইলিয়াম জোনস
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম জোনস ১৭৪৬ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মূলত বহু ভাষাবিদ এবং এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি ১৭৭০ সালে পারসি ভাষায় নাদির শাহের জীবনী অনুবাদ করেন।
- ১৭৮৪ সালে তিনি কলকাতায় এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন।

• তিনি কিছু গ্রন্থ সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন-
- শকুন্তলা, 
- হিতোপদেশ, 
- জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
কাকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়?
  1. ক) বিদ্যাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) সীতা
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাথা প্রচলিত আছে। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক কে?
  1. ক) মনসুর বয়াতি
  2. খ) শাহ মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ
  3. গ) আবদুল হাকিম
  4. ঘ) সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার লেখক মনসুর বয়াতি।
• বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীনে বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙ্গের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা।
• ‘দেওয়ানা মদিনা' পালার অপর নাম ‘আলাল-দুলালের' পালা।
• ‘দেওয়ারা মদিনা’র প্রধান কয়েকটি চরিত্র হলো: আলাল, দুলাল, মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০.
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
-  জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- পদরচনায় তিনি  বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।