ব্যাখ্যা
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১): "Code" includes rules.
ধারা ২: সংজ্ঞা (Definitions)
এই আইন অনুযায়ী, যদি বিষয় বা প্রসঙ্গে অন্য কিছু ব্যাখ্যা না নির্দেশিত থাকে, তবে-
(১) “কোড” (Code) বলতে বিধি (Rules) অন্তর্ভুক্ত হবে।
বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৮ প্রশ্ন
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ২(১): "Code" includes rules.
ধারা ২: সংজ্ঞা (Definitions)
এই আইন অনুযায়ী, যদি বিষয় বা প্রসঙ্গে অন্য কিছু ব্যাখ্যা না নির্দেশিত থাকে, তবে-
(১) “কোড” (Code) বলতে বিধি (Rules) অন্তর্ভুক্ত হবে।
আদেশ ৩৯, বিধি ৫ক, দেওয়ানি কার্যবিধি: অপর পক্ষের শুনানি ছাড়া অন্তবর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া যাবে না (No order of ad interim oг temporary injunction without hearing the opposite party):
⇒ কোন আদালত সরকারি আইনজীবীর উপর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) জারি না করে এবং তাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করে বেসরকারি পক্ষের অনুরোধে সরকার বা বিধিবদ্ধ সংস্থার বিরুদ্ধে কোন একতরফা অন্তর্বর্তী বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবে না, যদি অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা কোন উন্নয়ন কর্মসূচী বা কর্ম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনিষ্ট বা হস্তক্ষেপ করার আশু সম্ভাবনা থাকে বা অন্যভাবে জনস্বার্থে অনিষ্টকর হয়।
⇒ কোন বেসরকারি পক্ষ অন্যকোন বেসরকারি পক্ষের বিপক্ষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত করলে আদালত নোটিশ ছাড়া তা মঞ্জুর করবে না, তবে দেরীর কারণে নিষেধাজ্ঞা অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ব্যাহত হলে সেক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়া অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া যাবে।
⇒ যদি বে-সরকারি পক্ষের অনুরোধ অপর বেসরকারি পক্ষের বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদত্ত হয়, তাহলে অপর পক্ষের হাজির হওয়ার তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যে শুনানি ও নিষ্পত্তি করতে হবে।
⇒ যে পক্ষের অনুরোধে অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হয় সেই পক্ষের বিরুদ্ধে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং দেখা যায় যে এরূপ নিষেধাজ্ঞার জন্য অন্যপক্ষের ক্ষতিসাধন হয়েছে তাহলে আদালত, অন্যপক্ষ যে খরচ পাবে তার অতিরিক্ত অনধিক ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণমূলক খরচ অনুমোদন করবেন।
⇒ The Code of Civil Procedure, 1908 section-10. Stay of suit:
No Court shall proceed with the trial of any suit in which the matter in issue is also directly and substantially in issue in a previously instituted suit between the same parties, or between parties under whom they or any of them claim litigating under the same title where such suit is pending in the same or any other Court in Bangladesh having jurisdiction to grant the relief claimed, or in any Court beyond the limits of Bangladesh established or continued by the Government and having like jurisdiction, or before the Supreme Court.
Explanation. -The pendency of a suit in a foreign Court does not preclude the Court in Bangladesh from trying a suit founded on the same cause of action.
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির ১০ ধারায় মোকদ্দমা স্থগিতকরণ (stay of suit) বা res sub judice সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে পূর্বে দায়েরকৃত এবং পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হলে, আদালত পরবর্তী মোকদ্দমার কার্যক্রম স্থগিত করবেন। এই নীতি প্রয়োগ করতে শর্তসমূহ-
১. দুইটি মোকদ্দমা থাকতে হবে। একটি হলো পূর্বে দায়েরকৃত মোকদ্দমা এবং অন্যটি হলো পরবর্তীতে দায়েরকৃত মোকদ্দমা;
২. উভয় মোকদ্দমার বিচার্য বিষয় প্রত্যক্ষ এবং মৌলিকভাবে একই হতে হবে;
৩. উভয় মোকদ্দমা একই পক্ষগণের বা তাদের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে;
৪. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি অবশ্যই বিচারাধীন থাকতে হবে;
৫. পূর্ববর্তী মোকদ্দমাটি যে আদালতে দায়ের করা হয়েছে সেই আদালতের দাবীকৃত প্রতিকার দেওয়ার এখতিয়ার থাকতে হবে;
৬. উভয় মোকদ্দমায় উভয় পক্ষগণ একই স্বত্ত্বের অধীন মোকদ্দমা [under same title) দায়ের করেছে।
আদেশ ৪১ বিধি-২১ক: সরাসরি আপিলে পুনঃশুনানি:
১) বিধি ২১ বা অন্য কোন আইনের যা কিছুই নে থাকুক না কেন, আদালত বিলম্ব এড়ানো এবং নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করানোর লক্ষ্যে কোন একতরফাভাবে শুনানি করতে আপিল সরাসরি পুনরায় শুনতে পারেন। বিধি ২১ এর অধীন বিবাদিকে কা পর্যাপ্ত কারণ বিষয়ে সন্তুষ্ট করতে সাক্ষ্য উপস্থাপনের নির্দেশ না দেয়, তবে আদালত যথোপযুক্ত মনে করে নির্ধারিণ করা সাপেক্ষে অনধিক তিন হাজার টাকার খরচা পরিশোধের নিমিত্তে বিবাদিকে নির্দেশ দিতে পারেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, এরূপ একতরফা ডিক্রি বিবাদির বিরুদ্ধে যে তারিখে প্রদান করা হয়, সে তারিখে থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি অন্য এফিডেবিট সহযোগে এরূপ আপিল পুনঃশুনানির কোন আবেদন আদালতে দাখিল করা না হয়ে থাকে, তাহলে এই বিধির অধীন কোন আপিলকে পুনরায় শুনা যাবে নাঃ তবে আরও শর্ত থাকে যে, এই বিধির অধীন কোন আপিল একাধিকবার পুনরায় শুনা যাবে না।
২) কোন আপিল পুনঃশুনানির কোন আদেশ উপ-বিধি (১) এর অধীন প্রদানে সঙ্গে সঙ্গে আদালতে বিবাদির খরচায় আপিলকারীর নিকট নোটিশ প্রেরণ করাবেন।
• দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ নং আদেশের ১১ বিধি অনুযায়ী দেওয়ানী আদালত ৪টি কারণে আরজি প্রত্যাখান করতে পারে। যথা-
(ক) আরজিতে মামলার কারণ (cause of action) উল্লেখ না করলে,
(খ) আরজিতে দাবিকৃত প্রতিকারের মূল্য কম করে উল্লেখ করা হলে এবং আদালতের নির্দেশমত নির্ধারিত সময় বা সর্বাধিক ২১ দিনের মধ্যে মোকদ্দমায় মূল্যমান সংশোধন এবং অতিরিক্ত কোর্ট ফি প্রদান করতে ব্যর্থ হলে,
(গ) অপর্যাপ্ত স্টাম্প পেপারে লিখলে এবং আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে,
(ঘ) মামলাটি কোনো আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ বা বারিত হলে। যেমন- তামাদি আইনে বারিত হলে, আদালত আরজি প্রত্যাখান করতে পারে।
Code of Civil Procedure, 1908 এর ধারা ৫৬- অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকরে নারীদের গ্রেফতার বা আটক নিষিদ্ধ:
এই অধ্যায়ে অন্য যেই কিছুই বলা থাকুক না কেন, আদালত কোনো বৃদ্ধা, দুর্বল, গর্ভবতী বা স্তন্যপান করানো নারীকে অর্থ পরিশোধের ডিক্রি কার্যকরে দেওয়ানি কারাগারে আটক বা গ্রেফতারের আদেশ প্রদান করতে পারবে না।
[Notwithstanding anything in this Part, the Court shall not order the arrest or detention in the civil prison of an old, infirm, pregnant or breast-feeding woman in execution of a decree for the payment of money.]
সঠিক উত্তর হলো- (গ) মোকদ্দমাটির গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে বিবৃতি।
আদেশ ৭: বিধি ১০, দেওয়ানি কার্যবিধি:
আরজি ফেরত অর্থ হলো এখতিয়ারবিহীন আদালতে আরজি দাখিল করলে, আরজিটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দাখিলের জন্য ফেরত দেয়া। যদি এমন কোন আদালতে আরজি দাখিল করা হয় যে আদালতে উক্ত মোকদ্দমার বিচার করার আর্থিক বা আঞ্চলিক এখতিয়ার নেই, তখন এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আরজিটি দাখিলের জন্য আদালত ফেরত দিতে পারে। মোকদ্দমার যেকোন পর্যায়ে আদালত আরজি ফেরতের আদেশ দিতে পারে।
• আরজি ফেরত প্রদানের পদ্ধতি- বিচারক আরজি ফেরত প্রদানের সময় উহার উপর;
- আরজি পেশ করার ও ফেরত নেয়ার তারিখ,
- দাখিলকারক পক্ষের নাম এবং
- তা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করবে।
কিন্তু আদালত মোকদ্দমাটির গ্রহণযোগ্যতা (admissibility) সম্পর্কে কোনো বিবৃতি লিখবেন না।
সঠিক উত্তর হলো - (ঘ) দাবি সমন্বয়ের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আদালত কর্তৃক তলবকৃত প্লিডিং।
“Subsequent Pleadings” বলতে বোঝায় মূল লিখিত জবাব (Written Statement) দাখিলের পর, আদালতের অনুমতিক্রমে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন দাবি-সমন্বয় / Counter-claim) অতিরিক্ত বা পরবর্তী প্লিডিং (Additional Pleading) দাখিল করা।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-৮ বিধি-৯: পরবর্তী আরজি জবাব (Subsequent pleadings):
বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের পরে আত্মপক্ষ সমর্থনে দাবি-সমন্বয়ের দাবি ব্যতীত অন্য কোন আরজি জবাব আদালতের অনুমতি ব্যতীত উপস্থাপন করা যাবে না, কিন্তু আদালত প্রয়োজন মনে করলে যে কোন সময় যে কোন পক্ষের নিকট লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত লিখিত জবাব তলব করতে পারবেন এবং তা দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত করে দিতে পারবেন।
রিভিশন (Revision)
রিভিশন হলো উচ্চতর আদালতের পুনর্বিবেচনামূলক প্রতিকার। উচ্চতর আদালত কর্তৃক ব্যবহৃত নিম্নতর আদালতের উপর তদারকি ক্ষমতা হলো রিভিশন। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলার বিচারকার্যে রিভিশন প্রযোজ্য। রিভিশনের ক্ষমতাকে তদারকি ক্ষমতা বা ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার ক্ষমতা বা নথিপত্র তলব করার ক্ষমতাও বলে।
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনের বিধান রয়েছে। ১১৫ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট ও জেলা জজ আদালতের রিভিশন ক্ষমতা আছে-
১) জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
২) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন ডিক্রির বিরুদ্ধে- হাইকোর্ট বিভাগে
৩) যুগ্ম জেলা জজ বা সিনিয়র সিভিল জজ বা সিভিল জজ কর্তৃক আপিলঅযোগ্য কোন আদেশের বিরুদ্ধে - জেলা জজ আদালতে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর জারি করা Civil Courts (Amendment) Ordinance, 2025-এর মাধ্যমে ‘সহকারী জজ’ ও ‘সিনিয়র সহকারী জজ’ পদবি বাতিল করে যথাক্রমে ‘সিভিল জজ’ এবং ‘সিনিয়র সিভিল জজ’ নামকরণ করা হয়েছে।
সঠিক উত্তর : ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮ বিধি-৩: অস্বীকার সুনির্দিষ্ট হবে:
বিবাদীকে তার লিখিত বিবৃতিতে বাদীর অভিযোগের কারণসমূহ সাধারণভাবে অস্বীকার করলেই যথেষ্ট হবে না, বরং যে সকল তথ্য সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা বিবাদী স্বীকার করে না, সেগুলোর প্রত্যেকটি বিবাদীকে অবশ্যই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তবে ক্ষতিপূরণের বিষয় ব্যতীত।
Order 8 Rule 3- Denial to be specific:
It shall not be sufficient for a defendant in his written statement to deny generally the grounds alleged by the plantiff, but the defendant must deal specifically with each allegation of fact of which he does not admit the truth, except damages.
দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা ৯৪ক- আদেশ/ডিক্রি কার্যকর করার নির্দেশ:
যে কোনো ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার উদ্দেশ্যে, আদালত নিম্নলিখিত নির্দেশ দিতে পারবে— যে কোনো নির্বাহী কর্তৃপক্ষ, যার মধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অন্তর্ভুক্ত, তাকে আদালতের নির্ধারিত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে নির্দেশ দিতে পারবে এবং আদালত সেই সহায়তা প্রদানের অনুপালনের প্রতিবেদন আদালতে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দাখিল করতে বলতে পারবে।
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ১৪, বিধি ১ অনুযায়ী-
মোকদ্দমার প্রথম শুনানির দিন আদালত বাদীর আরজি ও বিবাদীর লিখিত জবাব পাঠ করে, পক্ষগণের মধ্যে যে বিরোধপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বা ঘটনাগত বিষয় রয়েছে, তা নির্ধারণ করে বিচার্য বিষয় (Issues) প্রণয়ন ও লিপিবদ্ধ করে।
অর্থাৎ, বিচার্য বিষয় প্রণয়নের দায়িত্ব আদালতের।
ধারা ১০৪: কোন আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে:
(১) নিম্নলিখিত আদেশগুলি থেকে আপিল করা যেতে পারে, এবং যদি এই কোডের মূল অংশে বা বর্তমানে কার্যকর কোনো আইনে অন্যথায় স্পষ্টভাবে প্রদান না করা হয়, তবে অন্য কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না:
(চচ) ধারা ৩৫ক এর অধীনে একটি আদেশ;
(ছ) ধারা ৯৫ এর অধীনে একটি আদেশ;
(জ) এই কোডের কোনো ধারা অনুযায়ী একটি আদেশ যা কোনো ব্যক্তিকে অর্থদণ্ড প্রদান বা দেওয়ানি কারাগারে আটক বা আটক করার নির্দেশ দেয়, তবে এমন আটক বা আটককরণ যদি কোনো ডিক্রির কার্যকরীকরণের জন্য না হয়;
(ঝ) নিয়মের অধীনে করা কোনো আদেশ যা থেকে নিয়ম অনুযায়ী আপিল স্পষ্টভাবে অনুমোদিত হয়:
তবে শর্ত থাকে যে ধারা (চচ) এ উল্লিখিত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদি না এই ভিত্তিতে যে কোনো আদেশ, বা কম পরিমাণ প্রদানের জন্য আদেশ করা উচিত ছিল না।
(২) এই ধারার অধীনে আপিলে দেয়া কোনো আদেশ থেকে আপিল করা যাবে না।
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪৪ বিধি-২: নিঃস্বতা সম্বন্ধে তদন্ত:
আবেদনকারীকে নিঃস্বতা সম্পর্কে আপিল আদালত স্বয়ং অথবা যে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আদালতের আদেশক্রমে আপিল করা হয়েছে, সেই আদালত তদন্ত করতে পারবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, আবেদনকারী যদি যে আদালতের ডিক্রি হতে আপিল করা হয় সে আদালতে নিঃস্ব ব্যক্তি হিসাবে মোকদ্দমা বা আপিল করার অনুমতি পেয়ে থাকে, তাহলে আপিল আদালত অনুরূপ তদন্তের নির্দেশ দিতে কারণ না দেখলে তার নিঃস্বতা সম্পর্কে পুনরায় তদন্ত করার প্রয়োজন হবে না।
→ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-৬ বিধি-১৮: আদেশ প্রদানের পরে সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে: কোন পক্ষ আরজি জবাব সংশোধনের অনুমতি সূচক আদেশ লাভ করার পর যদি আদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংশোধন না করে অথবা আদেশে কোন সময় নির্ধারণ করা না হলে আদেশের তারিখ হতে চৌদ্দ দিনের মধ্যে যদি সংশোধন না করেন, তবে উক্ত নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সংশোধন করার অনুমতি পাবেন না, যদি না আদালত উক্ত মেয়াদ বর্ধিত করে থাকেন।
⇒ দেওয়ানি কার্যবিধিতে রিভিউ সংক্রান্ত বিধান ধারা ১১৪ এবং আদেশ ৪৭-এ উল্লেখিত আছে।
- ধারা ১১৪: রিভিউ করার অধিকার সম্পর্কে সাধারণ বিধান দেয়।
- অর্ডার ৪৭: রিভিউ পিটিশনের প্রক্রিয়া, শর্তাবলী এবং প্রয়োগের বিস্তারিত নিয়ম উল্লেখ করে।
⇒ ধারা ১১৪: এই ধারায় উল্লেখ আছে, আদালত নিজেই তার ডিক্রি বা আদেশ পুনঃপর্যালোচনা করতে পারে, যদি—
i) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা চলে কিন্তু আপিল করা হয় নাই;
ii) যে ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল চলে না; এবং
iii) ক্ষুদ্র বিষয়ক আদালতে রেফারেন্স প্রদত্ত সিদ্ধান্তের বিরূদ্ধে রিভিউ আবেদন করা যায়।
দেওয়ানি কার্যবিধি – আদেশ ৮ : লিখিত জবাব (Written Statement)
বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আদালতে যে লিখিত বিবরণ দাখিল করে, তাকে লিখিত জবাব (Written Statement) বলা হয়।
এ সম্পর্কিত বিধানগুলো দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৮-এর বিধি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত আলোচিত হয়েছে।
আদেশ ৮ বিধি ১ – লিখিত জবাব দাখিলের সময়সীমা:
বিবাদী তার উপর জারিকৃত সমনের তারিখ হতে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনপূর্বক একটি লিখিত জবাব দাখিল করবে। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে আদালত অতিরিক্ত সময় দিতে পারে, এবং সেই কারণটি আদালত রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করবে। কিন্তু এই অতিরিক্ত সময় সমন জারির তারিখ হতে সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবসের বেশি হতে পারবে না।
৬০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব না দিলে:
যদি বিবাদী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলে ব্যর্থ হয়, তাহলে আদালত একতরফা (ex parte) মোকদ্দমার নিষ্পত্তি করতে পারবে।
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৪১ বিধি ১ এর বিধান- আপিলের নমুনা স্মারকলিপির সঙ্গে যা থাকতে হবে:
(১) আপিলের রূপ এবং স্মারকলিপির সাথে সংযুক্তি:
- প্রত্যেকটি আপিল একটি স্মারকলিপি (memorandum) আকারে দায়ের করতে হবে,
- যেটি আপিলকারী বা তার আইনজীবীর (pleader) দ্বারা স্বাক্ষরিত হতে হবে,
- এবং তা আদালতে বা আদালত কর্তৃক নির্ধারিত কোনো কর্মকর্তার নিকট দাখিল করতে হবে।
স্মারকলিপির সাথে যা যুক্ত করতে হবে:
- যেই ডিক্রির (decree) বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে, তার একটি অনুলিপি (copy) এবং (যদি আপিল আদালত তা অব্যাহতি না দেয়) উক্ত ডিক্রির ভিত্তিতে প্রদত্ত রায়ের (judgment) একটি অনুলিপিও দাখিল করতে হবে।
(২) স্মারকলিপির বিষয়বস্তু:
স্মারকলিপিতে আপিলকারীর আপত্তির কারণসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে এবং পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে, কোনো বর্ণনামূলক বক্তব্য বা যুক্তি ছাড়াই, এবং প্রতিটি কারণকে ক্রম অনুযায়ী নম্বর দিয়ে সাজাতে হবে।
⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ ধারার বিধান: এখতিয়ারে আপত্তি-
যে আদালতে প্রথমে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়, সেই আদালতে প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণ করার সময় বা পূর্বে, আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত কোন আপত্তি উত্থাপন করতে হবে। যদি তা না করা হয় এবং ন্যায় বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত না হলে কোন আপিল বা রিভিশন আদালত মামলা দায়ের স্থান সম্পর্কে কোন আপত্তি গ্রহণ করবে না। কিন্তু ন্যায় বিচার ব্যাহত হলে এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে, আপিল বা রিভিশনের সময় আদালত এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ করতে পারে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারামতে, নিম্নলিখিত ৮টি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায় না। যথা-
১) কোন চুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট হলে;
২) কোন চুক্তি জটিল ও অসংখ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের সমষ্টি বা পক্ষসমূহের ব্যক্তিগত যোগ্যতা/সংকল্পের উপর নির্ভরশীল অথবা চুক্তিটি বলবৎ যোগ্য না হলে;
৩) চুক্তির শর্তাবলি নির্ণয় করা না গেলে;
৪) চুক্তিটি প্রকৃতিগতভাবে বাতিলযোগ্য বা প্রত্যাহারযোগ্য হলে;
৫) চুক্তিটি ট্রাস্টিগণ কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূতভাবে সম্পাদিত হলে;
৬) বিশেষ কোন কর্পোরেশন বা পাবলিক কোম্পানি কর্তৃক ক্ষমতা বহির্ভূত কোন চুক্তি;
৭) যে চুক্তি ক্রমাগতভাবে ৩ বছর চলে অথবা;
৮) চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে বিষয়বস্তুর উল্লেখযোগ্য অংশ বিলুপ্ত হলে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৪১- যে পক্ষের জন্য দলিল বাতিল করা হইয়াছে সেই পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশদানের ক্ষমতা:
দলিল বাতিলের রায় প্রদানের সময় আদালত যে পক্ষকে এইরূপ প্রতিকার প্রদান করিয়াছে, সেই পক্ষকে ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরপক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ প্রদান করিতে পারবে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা- নিরোধমূলক প্রতিকার যেভাবে মঞ্জুর করা হয়:
আদালতের ইচ্ছাধীন ক্ষমতাবলে অস্থায়ী বা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির মাধ্যমে নিরোধক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয়।
⇒ প্রতিরোধমূলক/ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করা হয় আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে। আদালত নিম্নোক্ত ২ ভাবে প্রতিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন-
১) অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary injunctions) জারির মাধ্যমে; বা
২) চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunctions) জারীর মাধ্যমে।
উত্তর: ঘ) ৪২ ও ৮ ধারা অনুসারে।
প্রশ্নে বলা হয়েছে - ‘ক’ নির্দিষ্ট সম্পত্তির দখলে আছে, ‘খ’ প্রকৃত মালিক, এবং ‘খ’ দাবি করছে যে ‘ক’ উক্ত সম্পত্তি তার কাছে অর্পণ করুক। এখানে দুই ধরনের অধিকার জড়িত:
মালিকানা অধিকার (ownership right) — যেটা ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে (ধারা ৪২ অনুসারে),
দখল পুনরুদ্ধার বা অর্পণ (possession or delivery of property) — যেটা দাবি করা হবে (ধারা ৮ অনুসারে)।
ধারা ৮-
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি তার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করতে পারেন।
(এটি “specific movable property”–এর জন্য প্রযোজ্য হলেও, স্থাবর সম্পত্তিতেও প্রযোজ্য হয় যদি দখল পুনরুদ্ধার চাওয়া হয়।)
ধারা ৪২-
যে কেউ তার আইনি চরিত্র বা কোনো অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে বা অস্বীকারের আশঙ্কা রয়েছে, সে ঘোষণামূলক ডিক্রি (declaratory decree) চেয়ে মামলা করতে পারেন।
এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিশ্লেষণঃ
‘খ’ তার মালিকানা ঘোষণা চাচ্ছে → ধারা ৪২ প্রযোজ্য
একই সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দখল চাচ্ছে → ধারা ৮ প্রযোজ্য
অতএব, মামলাটি করতে হবে-
নির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৪২ ও ৮ উভয়ের অধীনে।
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ক ধারার বিধান- অরেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে অকার্যকরযোগ্য:
এই আইন কিংবা বিদ্যমান অন্য কোন আইন বিপরীত কোন বিধান থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হবে না, যদি না-
(ক) চুক্তিটি লিখিত এবং ১৯০৮ সালের চুক্তি আইনের অধীন রেজিস্ট্রেশন হয়, হস্তান্তর গ্রহীতা ঐ সম্পত্তির কিংবা তার কোন অংশ দখল গ্রহণ করুক বা না করুক; এবং
(খ) চুক্তিটি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরী করার নিমিত্ত চুক্তির অবশিষ্ট মূল্য মোকদ্দমাটি রুজুর কালে আদালতে জমা দেয়া হয়।
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-১০ ধারা: সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির পুনরুদ্ধার:
সুনির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখলের অধিকারী ব্যক্তি দেওয়ানি কার্যবিধিতে নির্ধারিত পন্থায় তার দখল পুনরুদ্ধার করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ১:
এই ধারা অনুসারে, একজন জিম্মাদার যার জন্য জিম্মাদার নিযুক্ত হয়েছে, সে ব্যক্তির হিতকর স্বার্থে নিয়োগ করার অধিকার রয়েছে এমন অস্থাবর সম্পত্তির দখল পাওয়ার জন্য মামলা রুজু করতে পারে।
ব্যাখ্যা- ২:
সম্পত্তির বর্তমান দখলের জন্য অস্থায়ী বা বিশেষ অধিকারকেই এই ধারা অনুযায়ী দায়েরকৃত মামলাকে সমর্থন করার জন্য যথেষ্ট।
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭:
⇒ প্রকাশকাল: ৭ই ফেব্রুয়ারী ১৮৭৭;
⇒ কার্যকর: ১লা মে, ১৮৭৭; (১নং আইন)
⇒ সর্বশেষ সংশোধন: ১লা মে ২০০৪;
⇒ সর্বশেষ সংশোধন কার্যকর: ১লা জুলাই ২০০৫;
⇒ প্রকৃতি: দেওয়ানী প্রকৃতির;
⇒ আইনের ধরণ: মূল আইন;
⇒ প্রস্তাবনা: ১টি;
⇒ খন্ড: ৩টি;
⇒ তফলিস: নেই;
⇒ অধ্যায়: ১০টি;
⇒ ধারা: ৫৭টি।
• সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩৬ ধারা: ভুলের জন্য রদ:
কেবল সাধারণ ভুলের জন্য লিখিত কোনো চুক্তি বাতিল করা যাবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত যার বিরুদ্ধে চুক্তি বাতিল করা হবে তাকে অনুরূপ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় যেন চুক্তি করা হয়নি।
Section 36: Rescission for mistake:
Rescission of a contract in writing cannot be adjudged for mere mistake, unless the party against whom it is adjudged can be restored to substantially the same position as if the contract had not been made.
⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ - ধারা ৫৪: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কখন প্রদান করা হয়:
এই অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বা উল্লিখিত অন্যান্য বিধানাবলির অধীন, আবেদনকারীর অনুকূলে বিদ্যমান কোনো বাধ্যবাধকতা (স্পষ্ট বা অন্তর্নিহিত) লঙ্ঘন রোধ করার জন্য একটি চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা যেতে পারে।
যখন এই বাধ্যবাধকতা চুক্তি থেকে উদ্ভূত হয়, আদালত এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত বিধি ও বিধানাবলি দ্বারা পরিচালিত হবে।
যখন বিবাদী বাদীর সম্পত্তির অধিকার বা ভোগদখলে হস্তক্ষেপ করে বা হস্তক্ষেপের হুমকি দেয়, আদালত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে:
(ক) যখন বিবাদী বাদীর জন্য সম্পত্তির ট্রাস্টি হয়;
(খ) লঙ্ঘনের কারণে সৃষ্ট বা সৃষ্টির সম্ভাব্য ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কোনো মান (standard) না থাকলে।
(গ) লঙ্ঘন এমন ধরণের যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট প্রতিকার দেবে না।
(ঘ) সম্ভব যে অর্থমূল্য ক্ষতিপূরণ লঙ্ঘনের জন্য পাওয়া যাবে না।
(ঙ) একাধিক বিচারিক মামলা এড়ানোর জন্য injunction প্রয়োজন।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ট্রেডমার্ককে সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ৩৯: কখন বাতিলকরণ আদেশ করা যেতে পারে:
যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো লিখিত দলিল বাতিলযোগ্য (voidable) বা অকার্যকর (void), এবং যার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা আছে যে ওই দলিলটি যদি বহাল থাকে তবে তা তাকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে- সে ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারে যাতে দলিলটিকে অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য ঘোষণা করা হয়।
আদালত তার বিবেচনায় যদি মনে করে যে দলিলটি সত্যিই অকার্যকর বা বাতিলযোগ্য, তাহলে আদালত সেটিকে তেমনভাবে ঘোষণা করতে পারে এবং দলিলটি জমা দিয়ে বাতিল করার আদেশ দিতে পারে।
যদি সেই দলিলটি ১৯০৮ সালের নিবন্ধন আইন (Registration Act, 1908) অনুসারে নিবন্ধিত হয়ে থাকে, তবে আদালত তার ডিক্রির একটি অনুলিপি সেই নিবন্ধন অফিসারের কাছে পাঠাবে, যার অফিসে দলিলটি নিবন্ধিত হয়েছে। ঐ অফিসার তার রেকর্ডে সংরক্ষিত দলিলের অনুলিপিতে তার বাতিল হওয়ার বিষয়টি নোট করে রাখবে।
উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(ক) A, একটি জাহাজের মালিক, প্রতারণামূলকভাবে জাহাজটিকে সমুদ্রযাত্রার উপযোগী (seaworthy) বলে উপস্থাপন করে B-কে (যিনি বিমাকারী) সেটি বিমা করতে রাজি করান। B এই প্রতারণামূলক বিমা নীতিটি বাতিল করাতে পারেন।
(খ) A তার জমি B-কে হস্তান্তর করে, এবং B মৃত্যুর আগে সেই জমি C-কে উইল করে দেন। B মারা গেলে D জমিটির দখল নেয় এবং একটি জাল দলিল উপস্থাপন করে, যাতে বলা হয়েছে B আসলে D-এর পক্ষে ট্রাস্ট হিসেবে জমিটি নিয়েছিলেন। এই জাল দলিলটি বাতিল করার জন্য C মামলা করতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪২ ধারার বিধান- চার্জ গঠন:
যদি উপরোক্ত বিবেচনা ও শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে, অভিযুক্ত অপরাধ করেছে এমন ধারণা করার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তিনি এই অপরাধটি করেছেন কিনা।
Section-242. Charge to be framed:
If, after such consideration and hearing as aforesaid, the Magistrate is of opinion that there is ground for presuming that the accused has committed an offence, the Magistrate shall frame a formal charge relating to the offence of which he is accused and he shall be asked whether he admits that he has committed the offence with which he is charged.
• ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা- সাধারণ নাগরিক কর্তৃক গ্রেফতার এবং গ্রেফতারের পরবর্তী কার্যপ্রণালী:
(১) যে কোন সাধারণ নাগরিক তার মতে জামিন অযোগ্য ও আমলযোগ্য অপরাধ সংগঠনকারীকে অথবা অপরাধী বলে ঘোষিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারেন এবং অনাবশ্যক বিলম্ব না করে পুলিশ অফিসারের নিকট দিবেন অথবা পুলিশ অফিসারের অনুপস্থিতিতে ক্ষেত্রে নিকটস্থ থানার হেফাজতে নিয়ে যাবেন অথবা নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করবেন।
২) এরূপ ব্যক্তিকে ৫৪ ধারার বিধানের আওতাভুক্ত বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে কোন পুলিশ অফিসার পুনরায় গ্রেফতার করবেন।
(৩) সে আমলঅযোগ্য অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকলে এবং পুলিশ অফিসারের দাবীকে সে নিজের নাম ও বাসস্থান প্রকাশ করতে অস্বীকার করলে অথবা যদি এরূপ নাম ও বাসস্থান দেয় যা উক্ত অফিসারের মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার কারণ ঘটে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারার বিধানানুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে কোন অপরাধ করেছে বলে বিশ্বাস করার মত যথেষ্ট কারণ না থাকলে তাকে সাথে সাথে ছেড়ে দিতে হবে।
The Code of Criminal Procedure, 1898 – ধারা ১৮৮ (Liability for offences committed outside Bangladesh):
যদি- বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বাংলাদেশের সীমার বাইরে কোথাও কোনো অপরাধ করে, অথবা কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নিবন্ধিত জাহাজ বা উড়োজাহাজে (ship or aircraft) যেখানেই থাকুক না কেন, অপরাধ করে, তাহলে তাকে সেই অপরাধের জন্য এমনভাবে বিচার করা যাবে, যেন সে বাংলাদেশের ভেতরে, যেখানে তাকে পাওয়া যায়, সেখানেই অপরাধটি করেছে।
শর্ত (Proviso):
তবে এই অধ্যায়ের পূর্ববর্তী ধারাগুলোর যেকোনো বিধান সত্ত্বেও, এমন কোনো অপরাধের অভিযোগ বাংলাদেশে তদন্ত বা বিচার করা যাবে না সরকারের অনুমোদন (sanction of the Government) ছাড়া।
দ্বিতীয় শর্ত (Second Proviso):
এই ধারার অধীনে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা কার্যক্রম নেওয়া হয়, এবং যদি তা এমন প্রকৃতির হয় যে, যদি অপরাধটি বাংলাদেশেই সংঘটিত হত তবে সেই কার্যক্রম একই অপরাধে পরবর্তী বিচারকে (subsequent proceedings) বাধা দিত,
তাহলে একই অপরাধে তাকে Extradition Act, 1974 অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে অন্য কোনো অঞ্চলে পুনরায় বিচার করা যাবে না।
- ফৌজদারী মামলা দায়ের করার জন্য অপরাধ আমলে নেওয়ার এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ দায়ের করা হলে, অপরাধ আমলে নিতে ম্যাজিস্ট্রেট কি পদ্ধতি অনুসরণ করবে সেটাই ২০০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে। নালিশ গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রথম দায়িত্ব হলো নালিশকারীর জবানবন্দি গ্রহণ করা।
- ২০০ ধারার বিধান করা হয়েছে,নালিশের ভিত্তিতে অপরাধ আমলে নিচ্ছে এমন ম্যাজিস্ট্রেট অবিলম্বে বা তাৎক্ষণিকভাবে নালিশকারীকে বা উপস্থিত সাক্ষীগণের (যদি থাকে) মধ্যে যে কয়জনকে উপযুক্ত মনে করে তাদের শপথপূর্বক জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং জবানবন্দির সারমর্ম লিখিত আকারে লিপিবদ্ধ করবেন। নালিশকারী বা যে সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তি এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক উক্ত জবানবন্দির সারমর্মে স্বাক্ষর করবেন।
- যে ক্ষেত্রে জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই-
ক. যেক্ষেত্রে লিখিত আকারে নালিশ করা হয়, সেই ক্ষেত্রে ১৯২ ধারার অধীন মামলা স্থানান্তর করার পূর্বে নালিশকারী বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ বা পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০(ক)]
খ. যেকোন মামলায় যেক্ষেত্রে আদালত লিখিত আকারে নালিশ দায়ের করে [ধারা ২২০ (কক)] বা
গ. সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্ব পালনে লিখিত আকারে নালিশী দরখাস্ত দায়ের করে সেই ক্ষেত্রেও নালিশকারীর বা উপস্থিত সাক্ষীর (যদি থাকে) জবানবন্দি গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই [ধারা ২০০ (কক)]।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪২ক ধারার বিধান:- আপিল ও রিভিশন নিষ্পত্তির সময়:
(১) কোন আপিল আদালত ইহার নিকট দায়েরকৃত আপিল রেসপন্ডেন্টের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবেন।
(২) রিভিশনের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালত পক্ষগণের উপর নোটিশ জারী হবার তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে রিভিশনের কার্যক্রম নিষ্পত্তি করবেন।
(৩) এই ধারায় সময় নির্ধারণের জন্য কেবল কার্যদিবস গণনা করতে হবে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯২ ধারার বিধান:- পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের ক্ষমতা:
(১) সরকার, সাধারণভাবে বা কোনো নির্দিষ্ট মামলা, বা মামলার কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য, এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানীয় এলাকার জন্য, “পাবলিক প্রসিকিউটর” নামে একজন বা একাধিক কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে পারবেন।
(২) পাবলিক প্রসিকিউটরের অনুপস্থিতিতে, অথবা যেখানে কোনো পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়নি, সেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সরকারের নির্ধারিত পদমর্যাদার নিচের কোনো পুলিশ অফিসার না হন — এমন অন্য কোনো ব্যক্তিকে উক্ত মামলার জন্য পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন।
উত্তর : হাইকোর্ট বিভাগে।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধান- যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।
নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।
(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির (১২৪ক) ধারায় উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।
⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898 Section-4(h)-
"complaint" means the allegation made orally or in writing to a Magistrate, with a view to his taking action under this Code, that some person, whether known or unknown, has committed an offence, but it does not include the report of a police officer:
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা-৪(জ): নালিশ (Complaint)-
"নালিশ" বলতে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মৌখিক অথবা লিখিতভাবে এই মর্মে অভিযোগ করা যে, জ্ঞাত অথবা অজ্ঞাত কোন ব্যক্তি একটি অপরাধ করেছে।
অর্থাৎ, অপরাধ সম্পর্কে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে। কিন্তু অপরাধ সম্পর্কে পুলিশ অফিসারের নিকট মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ নালিশ (Complaint) বলে গণ্য হবে না।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২২- আপিলের নোটিশ (Notice of Appeal):
যদি আপিল আদালত (Appellate Court) কোনো আপিল সংক্ষেপে বাতিল না করে, তবে আদালত নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে:
- আপিলকারী (Appellant) অথবা তার আইনজীবী;
- যে কর্মকর্তা সরকার এই উদ্দেশ্যে নিয়োগ করবে।
নোটিশে আপিল শোনার সময় ও স্থান উল্লেখ থাকবে। সেই কর্মকর্তা চাইলে আদালত তাকে আপিলের ভিত্তি (grounds of appeal) এর কপি সরবরাহ করবে। আর যদি আপিল ধারা ৪১৭ অনুযায়ী হয়, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও (Accused) নোটিশ প্রদান করতে হবে।
• ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৯ মামলার যে কোন পর্যায়ে কোন রায় ঘোষণা না করে, কার্যক্রম বন্ধের ক্ষমতা দিয়েছে। উল্লেখ আছে,
নালিশ ব্যতিরেকে অন্যভাবে দায়ের করা যে কোন মোকদ্দমায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট অথবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি পূর্বে নিয়ে অন্য যেকোনো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলার যে কোন পর্যায়ে বেকসুর খালাস অথবা দণ্ডের কোন রায় ঘোষণা না করে,কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারেন এবং অতঃপর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মুক্তি (Release) দিতে পারবেন।
রিভিশন হলো নিম্ন আদালতের নথি পরীক্ষা করে উর্দ্ধতন আদালত কর্তৃক ভুলত্রুটি সংশোধন করা। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ থেকে এবং ৪৪২ থেকে ৪৪২ক পর্যন্ত রিভিশন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির অধীন রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে-
১. হাইকোর্ট বিভাগ,
২. দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজ।
• ৪৩৯ক ধারায় দায়রা জজকে রিভিশন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের রিভিশন সংক্রান্ত যে সকল ক্ষমতা আছে দায়রা জজও সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ধারা ৪৩৯ক এর ২ উপধারায় তে দেয়া আছে, দায়রা জজের নিকট রিভিশন দায়ের করা হলে উক্ত বিষয়ে দায়রা জজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে দ্বিতীয় রিভিশন দায়ের করা যাবে না।
ধারা ৪৩৯ক(৩) অনুযায়ী, অতিরিক্ত দায়রা জজও রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন, যদি দায়রা জজ সাধারণ বা বিশেষ আদেশের মাধ্যমে কোনো রিভিশন মামলা তাদের কাছে প্রেরণ করেন। এ ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত দায়রা জজ দায়রা জজের মতো একই রিভিশন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন।
ধারা ১৭৩খ: তদন্ত সম্পন্ন করার বিধান:
(৭) বিচার শেষে যদি আদালত মনে করে যে তদন্ত কর্মকর্তা-
(i) ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন;
(ii) যাকে আসামি করা উচিত ছিল তাকে সাক্ষী করেছেন; অথবা
(iii) যৌক্তিক কারণ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়েছেন - তাহলে আদালত এ বিষয়ে রায় লিপিবদ্ধ করতে পারবেন, এবং কর্মকর্তার এই কাজকে অসদাচরণ বা অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিতে পারবেন।
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৪৯৭ - অ-জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন:
১. সাধারণ বিধান (উপধারা ১):
যে কোনো ব্যক্তি যাকে অ-জামিনযোগ্য অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে বা পুলিশি ওয়ারেন্ট ছাড়া আটক করা হয়েছে, অথবা আদালতে উপস্থিত করা হয়েছে, তাকে জামিন দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু যদি মনে হয় যে সে এমন অপরাধে যুক্ত যা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা যোগ্য, তবে জামিন দেওয়া যাবে না।
আদালত নির্দেশ দিতে পারে যে, যদি অভিযুক্ত ১৬ বছরের কম বয়সী, নারী, বা অসুস্থ/দুর্বল ব্যক্তি হয়, তবে জামিন দেওয়া যেতে পারে, এমনকি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা যোগ্য গুরুতর অপরাধ হলেও।
২. তদন্ত, অনুসন্ধান বা বিচার চলাকালীন জামিন (উপধারা ২):
যদি পুলিশের অফিসার বা আদালত মনে করে না যে অভিযুক্ত নন-জামিনযোগ্য অপরাধ করেছে, কিন্তু অভিযুক্তের দোষ সম্পর্কে আরও অনুসন্ধানের পর্যাপ্ত কারণ আছে, তখন সেই ব্যক্তি অপেক্ষমাণ অবস্থায় জামিন পাবেন, অথবা বন্ডের মাধ্যমে (কোনো গ্যারান্টি ছাড়া) আদালতে হাজির থাকার শর্তে মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।
৩. কারণ লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা (উপধারা ৩):
যে কোনো পুলিশ অফিসার বা আদালত জামিন দেওয়ার সময় অবশ্যই লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ করবেন।
৪. বিচারের শেষ পর্যায়ে জামিন (উপধারা ৪):
যদি বিচার শেষের আগে আদালত মনে করে যে অভিযুক্তের অপরাধে যুক্তি নেই (নিষ্ক্রিয় বা অব্যাহত প্রমাণ নেই), তাহলে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হবে, কোনো গ্যারান্টি ছাড়া আদালতে হাজির থাকার শর্তে।
৫. উচ্চ আদালত বা সেশন কোর্টের ক্ষমতা (উপধারা ৫):
High Court Division বা Sessions Court, বা যে কোনো আদালত যে কাউকে ধারা ৪৯৭ অনুযায়ী জামিন দিয়েছে, তাকে আবার গ্রেফতার করার ও কারাগারে পাঠানোর ক্ষমতা রাখে।
ধারা ১৭২- তদন্ত চলাকালীন ডায়েরি (Diary of Proceedings in Investigation):
১. ডায়েরি সংরক্ষণ (উপধারা ১):
প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি এই অধ্যায়ের অধীনে তদন্ত করছেন, তাকে প্রতিদিনের ভিত্তিতে ডায়েরিতে তার তদন্তের প্রক্রিয়া লিখতে হবে। ডায়েরিতে অন্তত নিম্নলিখিত তথ্য থাকবে:
১. তথ্য পাওয়ার সময়;
২. তদন্ত শুরু ও শেষের সময়;
৩. যে স্থানগুলোতে তদন্ত হয়েছে;
৪. তদন্তে প্রাপ্ত পরিস্থিতি ও ঘটনা।
২. আদালতের ব্যবহার (উপধারা ২):
যে কোনো ফৌজদারী আদালত তদন্ত বা বিচার চলাকালীন পুলিশ ডায়েরি চাইতে পারে। আদালত এই ডায়েরি প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং তদন্ত বা বিচারে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
অভিযুক্ত বা তার প্রতিনিধি ডায়েরি দেখার বা চাওয়ার অধিকার পাবে না, কেবল আদালত যখন তা ব্যবহার করবে।
যদি পুলিশ কর্মকর্তা ডায়েরি ব্যবহার করে স্মৃতি তাজা করতে, বা আদালত ডায়েরি ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বিরোধ করতে, তখন Evidence Act, 1872-এর ধারা ১৬১ বা ১৪৫ প্রযোজ্য হবে।
ধারা ২৪৩- অভিযোগের সত্যতা স্বীকারে দোষী সাব্যস্তকরণ:
যদি অভিযুক্ত স্বীকার করে যে তিনি যে অপরাধে অভিযুক্ত, তা তিনি করেছেন, তাহলে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি যতটা সম্ভব তার নিজস্ব শব্দে রেকর্ড করা হবে।
যদি অভিযুক্ত প্রযোজ্য কারণ দেখাতে ব্যর্থ হন কেন তাকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে সেই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪০: গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সমন করার কিংবা উপস্থিত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করার ক্ষমতা:
এই বিধির অধীন কোন তদন্ত, বিচার বা অন্য কার্যধারার যে কোন ধাপে কোন আদালত যেকোনো ব্যক্তিকে সাক্ষী রূপে সমন করতে পারবেন বা সাক্ষী রূপে সমন করা না হলে উপস্থিত যেকোনো ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন, বা ইতোমধ্যে যার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে তাকে পুনরায় তলব করে পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন এবং এরূপ কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য আদালতের ন্যায়বিচারের জন্য অত্যাবশ্যক মর্মে প্রতীয়মান হলে, আদালত তাকে সমন করে তার জবানবন্দি গ্রহণ করবেন কিংবা পুনরায় তলব করে পুনরায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারবেন।
⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৪৭ অনুযায়ী-
নালিশের ভিত্তিতে যদি সমন জারি করা হয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির হাজির হবার জন্য নির্দিষ্ট দিনে অথবা তার পরবর্তী কোন দিনে (শুনানী মূলতবীর দিন) অভিযোগকারী যদি উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস প্রদান করবেন যদি না কোন কারণে তিনি অন্য কোন দিনে মামলাটির শুনানী মুলতবী করে দেয়া যথাযথ বিবেচনা করেন।
শর্ত এই যে, যেক্ষেত্রে কোন অভিযোগকারী যদি সরকারি কর্মচারী হন এবং যেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিমত পোষণ করেন যে, অভিযোগকারীর ব্যক্তিগতভাবে হাজিরা দেয়া অপ্রয়োজনীয় সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ঐরূপ হাজিরা দেয়া হতে অব্যাহতি দিতে পারেন ও মামলায় অগ্রসর হতে পারেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬ক: গ্রেপ্তার পদ্ধতি ও গ্রেপ্তারকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব-
গ্রেপ্তার করার সময়, পুলিশ কর্মকর্তা বা অন্যান্য যে ব্যক্তি গ্রেপ্তার করছেন, তাকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো পালন করতে হবে-
(ক) তার নামের সঠিক, দৃশ্যমান এবং স্পষ্ট পরিচয় বহন করতে হবে, যাতে সহজে শনাক্ত করা যায়;
(খ) তার পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং প্রয়োজনে অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তারের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের তার পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে হবে;
(গ) গ্রেপ্তারের একটি স্মারক প্রস্তুত করতে হবে, যা—
(i) অন্তত একজন সাক্ষী দ্বারা সাক্ষ্য সত্যায়িত হতে হবে, যিনি গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্ট এলাকার সুনামধন্য ব্যক্তি হবেন, এবং যদি এমন কোনো সাক্ষী পাওয়া না যায়, তার কারণ স্মারকে উল্লেখ করতে হবে;
(ii) অভিযুক্ত যদি অস্বীকার না করে, তবে স্মারকে অভিযুক্তের স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপ থাকবে;
(ঘ) যেখানে অভিযুক্তকে তার বাসা থেকে অন্য স্থানে গ্রেপ্তার করা হয়, সেখানে অভিযুক্তের দ্বারা মনোনীত পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা বন্ধুকে যত দ্রুত সম্ভব, কিন্তু গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে, গ্রেপ্তারের সময়, স্থান এবং কন্ট্রোলের স্থানের তথ্য জানাতে হবে;
(ঙ) যদি গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, তবে তাকে মেডিকেল অফিসার বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, শংসাপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং আঘাতের কারণ নথিভুক্ত করতে হবে;
(চ) অভিযুক্ত চাইলে তাকে নিজের পছন্দের উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করার বা নিকটতম আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে, সম্ভব হলে গ্রেপ্তারের ১২ ঘণ্টার মধ্যে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫২৮(৩):
সরকার হাইকোর্ট বিভাগের (High Court Division)-এর অনুমোদন নিয়ে চিফ মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে কোনো মামলা বা কোনো নির্দিষ্ট ধরনের মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা প্রদান করতে পারে।
দণ্ডবিধির ধারা ৩৫ – কোনো কাজ অপরাধ তখনই ধরা হবে, যদি তা অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ করা হয়:
যখন কোনো কাজ শুধুমাত্র অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ করায় তা অপরাধ হয়, এবং সেই কাজ একাধিক ব্যক্তি একত্রে করে, তখন যে প্রত্যেক ব্যক্তি ওই কাজের সাথে অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ যুক্ত হয়, সে ওই কাজের জন্য একইভাবে দায়ী হবে, যেমনটি সে নিজেই একা ঐ জ্ঞান বা অভিপ্রায়সহ কাজটি করত।
উদাহরণ:
তিনজন ব্যক্তি জানে যে তারা যে কাজটি করছে তা অবৈধ, এবং সবাই একসঙ্গে সেই কাজ সম্পন্ন করে। এ ক্ষেত্রে, তারা প্রত্যেকে সমানভাবে দায়ী হবে, যেন প্রত্যেকেই নিজে অপরাধটি করেছে।
The Penal Code,1860 এর ধারা ৩২৪ – বিপজ্জনক অস্ত্র বা উপায় ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা:
যে কোনো ব্যক্তি, ধারা ৩৩৪ দ্বারা নির্দিষ্ট কিছু ব্যতীত, যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কারো শরীরে আঘাত (hurt) করে, এবং তা নিম্নলিখিত যেকোনো মাধ্যমে ঘটায়- কোনো অস্ত্র বা যন্ত্র যা ফায়ারিং, ছেদ বা কোপ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, কোনো অস্ত্র যা আঘাতের জন্য ব্যবহৃত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে, আগুন বা গরম পদার্থ ব্যবহার করে, জৈব বা রাসায়নিক বিষ বা দাহ্য পদার্থ, বিস্ফোরক পদার্থ, এমন কোনো পদার্থ যা মানবদেহে শ্বাস, গ্রহণ বা রক্তে প্রবেশ করলে ক্ষতিকর, কোনো প্রাণী ব্যবহার করে,
তাহলে তার শাস্তি হবে-
কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৩ বছর, অথবা জরিমানা, অথবা উভয়ই।
⇒ দণ্ডবিধির ধারা ১০৩: যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়:
সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-
প্রথমত (First): দস্যুতা;
দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা অপথে গৃহে প্রবেশ করা:
তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;
চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।
দণ্ডবিধি অনুযায়ী,
যদি কোনো ব্যক্তি চুরি (theft) করার সময় বা চুরি শেষে ভয় দেখায়, আঘাত করে, বা মৃত্যু/আটকের আশঙ্কা সৃষ্টি করে — অর্থাৎ, ভুক্তভোগীকে ভয় দেখিয়ে চুরি সম্পন্ন করে, তবে সেই চুরি আর সাধারণ চুরি থাকে না, সেটি Robbery (দস্যুতা) হিসেবে গণ্য হয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৯০ ধারার বিধান- দস্যুতা:
প্রত্যেক দস্যুতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয়।
যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে: চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে 'দস্যুতা'।
বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে: বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহ্বল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় 'দস্যুতা' বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা: অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।
সঠিক উত্তর : ২ বছর কারাদণ্ড।
⇒ দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারায় জালিয়াতি কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৪৬৩ ধারা অনুযায়ী ,কোন ব্যক্তি জালিয়াতি (Forgery) করেছে বলে গণ্য হবে যদি সে নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যে কোন দলিল বা দলিলের অংশ প্রস্তুত করে;
১. কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের ক্ষতি সাধন করতে [with intent to cause damage or injury]; বা
২. কোনো দাবি বা অধিকার সমর্থন করতে [to support any claim or title]; বা
৩. কোনো ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি পরিত্যাগ করতে [to cause any person to part with property]; বা
৪. কোনো লোককে প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য করতে [to enter into any express or implied contract]; বা
৫. প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে বা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে [with intend to commit fraud or fraud may be committed]।
ধারা ৪৬৫- জালিয়াতির শাস্তি:
যে কোনো ব্যক্তি জালিয়াতি (Forgery) সংঘটিত করে, তাকে নিম্নলিখিত শাস্তি দেওয়া যেতে পারে:
-কারাদণ্ড (Imprisonment) – আইন অনুযায়ী যে কোনো রূপের কারাদণ্ড (rigorous বা simple) হতে পারে, এবং কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত হতে পারে; বা
- অর্থদণ্ড (Fine); বা
- উভয়ই (Both) – কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রযোজ্য হতে পারে।
সঠিক উত্তর : কোনো অপরাধ নয়।
⇒ দণ্ডবিধির ৩৩৯ ধারার বিধান- অবৈধ বাধা (Wrongful restraint):
যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যতিক্রম:
যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।
⇒ উদাহরণ:
যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয়। ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।
দণ্ডবিধির ধারা ১৮৮: "সরকারি কর্মকর্তার বৈধভাবে জারি করা আদেশ অমান্য করা"
যে কোনো ব্যক্তি যদি জানে যে, একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি বৈধভাবে এমন আদেশ জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন, তাকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বা কোনো সম্পত্তি সংক্রান্ত নির্দিষ্ট নির্দেশ পালন করতে বলেছে, এবং সে সেই নির্দেশ অমান্য করে, যদি এই অমান্য অবাঞ্ছিত বাঁধা, বিরক্তি, ক্ষতি বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে, সাধারণ কারাদণ্ড হতে পারে ১ মাস পর্যন্ত, বা জরিমানা ২০০ টাকা পর্যন্ত, বা উভয়ই।
যদি এই অমান্য মানব জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ সৃষ্টি করে, বা দাঙ্গা বা হাঙ্গামার ঝুঁকি সৃষ্টি করে, কারাদণ্ড হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত, বা জরিমানা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত, বা উভয়ই।
ব্যাখ্যা:
অপরাধীর উদ্দেশ্য ক্ষতি করা নয়, বা সে ক্ষতি ঘটাবে এমন আশা রাখলেও হবে না। কেবল যথেষ্ট যে, সে আদেশটি জানে এবং তা অমান্য করে, এবং তার অমান্য ক্ষতি ঘটায় বা ঘটার সম্ভাবনা আছে।
উদাহরণ (Illustration):
একজন সরকারি কর্মকর্তা বৈধভাবে আদেশ জারি করেন যে, একটি ধর্মীয় মিছিল নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে যাবে না। ব্যক্তি ‘A’ জানবুঝে এই আদেশ অমান্য করে, এবং তার কারণে দাঙ্গার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তখন ‘A’ এই ধারা অনুযায়ী অপরাধী।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ধারা ৪৪৯ – মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ সংঘটনের জন্য গৃহে অনধিকার প্রবেশ:
যে ব্যক্তি কোনো ঘর, গৃহ বা ভবনে অনধিকার প্রবেশ করে, সেই প্রবেশের উদ্দেশ্য থাকে কোনো মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ (offence punishable with death) সংঘটন করা, তাকে এই ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।
শাস্তি
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life) অথবা
- সশ্রম কারাদণ্ড (Rigorous imprisonment) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৪০৪ – মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ:
যে ব্যক্তি অঅসাধুভাবে (dishonestly) মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার দখলে থাকা সম্পত্তি নিজের ব্যবহারের জন্য নেয় বা পরিণত করে,
যা তখন কোনো আইনসিদ্ধ অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির দখলে যায়নি, তাকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে।
শাস্তি:
- কারাদণ্ড (Imprisonment) – সর্বোচ্চ ৩ বছর, এবং
- অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।
বিশেষ নিয়ম:
যদি অপরাধী ওই মৃত ব্যক্তির ক্লার্ক বা চাকর হিসেবে কাজ করত, তবে কারাদণ্ড সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
দণ্ডবিধির ৫৫ক ধারা- রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধিকার সংরক্ষণ:
৫৪ ধারা বা ৫৫ ধারার কোন বিধান দ্বারাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, দণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করা বা দণ্ডাজ্ঞা হ্রাসের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না।
Section 55A- Saving for President prerogative:
Nothing in section fifty- four or section fifty-five shall derogate from the right of the President to grant pardons, reprieves, respites or remissions of punishment.
• দণ্ডবিধির ৯৬ ধারায় বলা আছে,
"Nothing is an offence which is done in the exercise of the right of private defence."
ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার জন্য কোনো অধিকার প্রয়োগ করে থাকলে তা আইনে অপরাধ বলে গণ্য করা হবে না।
The Penal Code, 1860 এর ধারা ১২১ক– যে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের ভেতরে বা বাইরে, নিম্নলিখিত কোনোকিছু করার ষড়যন্ত্র করে:
- ধারা ১২১ দ্বারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটন করা, অথবা
- বাংলাদেশকে তার সার্বভৌমত্ব বা কোনো অংশ থেকে বঞ্চিত করা, অথবা
- শাস্তিমূলক বল বা বলের প্রদর্শনের মাধ্যমে সরকারকে প্রভাবিত বা আতঙ্কিত করা, সে অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।
শাস্তি:
- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life); অথবা
- কারাদণ্ড (সশ্রম/বিনাশ্রম) সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত;
- পাশাপাশি অর্থদণ্ড (Fine) প্রযোজ্য।
ব্যাখ্যা: এই ধারার জন্য ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হওয়া যথেষ্ট, কার্যকর কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়া বা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড করা অবশ্যক নয়।
সঠিক উত্তর: গ) ৫ বছরের কারাদণ্ড।
দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা- অবহেলার ফলে মৃত্যু সংঘটন:
কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
Section 304A: Causing death by negligence:
Whoever causes the death of any person by doing any rash or negligent act not amounting to culpable homicide shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to five years, or with fine, or with both.
ধারা ৩৪৯ – বলপ্রয়োগ (Force):
কোন ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি গতি সৃষ্টি করে, গতির পরিবর্তন ঘটায়, বা গতি বন্ধ করে — অথবা এমন কোনো পদার্থে এই ধরনের গতি সৃষ্টি করে যা ঐ ব্যক্তির শরীরের সঙ্গে, বা তার পরিধেয় বস্তু বা বহনকৃত জিনিসের সঙ্গে, অথবা এমন কিছুর সঙ্গে সংযোগ ঘটায় যা তার অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে — তবে বলা হয় যে, ঐ ব্যক্তি অন্যের প্রতি বল (Force) প্রয়োগ করেছে।
তবে এই বলপ্রয়োগ তখনই গণ্য হবে, যখন গতি সৃষ্টি, পরিবর্তন বা বন্ধ করার কাজটি নিম্নলিখিত তিনটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে করা হয়-
প্রথমত (Firstly):
নিজের শারীরিক শক্তি দ্বারা- যেমন, নিজ হাতে ঠেলে দেওয়া বা টেনে নেওয়া।
দ্বিতীয়ত (Secondly):
কোনো বস্তু বা পদার্থকে এমনভাবে স্থাপন বা ব্যবহার করা, যাতে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করে বা থেমে গিয়ে অন্যের সঙ্গে সংযোগ ঘটায় - যেমন, কেউ পাথর গড়িয়ে দেয় যাতে তা গিয়ে অন্যের গায়ে লাগে।
তৃতীয়ত (Thirdly):
কোনো পশুকে নড়াতে, থামাতে বা তার গতি পরিবর্তন করাতে উদ্বুদ্ধ করা, যাতে তা অন্যের সঙ্গে সংযোগ ঘটায়- যেমন, কারও কুকুরকে অন্যের দিকে কামড়াতে প্ররোচিত করা।
দণ্ডবিধির ৩২৬ক ধারা: স্বেচ্ছাকৃতভাবে দুইটি চোখ উপড়ে বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুইটির দৃষ্টি নষ্টকরণ বা মুখমণ্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ:
যে ব্যক্তি ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়া স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণিত উপায়ে-
(ক) ৩২০ ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে উভয় চক্ষুর ব্যাপারে হয় উৎপাটন দ্বারা অথবা যেকোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ কর্তৃক, কিংবা
(খ) ৩২০ ধারার ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে কোন এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করে, তবে সে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।
⇒ দণ্ডবিধির ৪২৬ ধারার অধীন অনিষ্টসাধন (Mischief) এর শাস্তি হতে পারে ৩ মাস পর্যন্ত যেকোন বর্ণনার কারাবাস অর্থদণ্ডসহ বা উভয়।
Section 426⇒ Punishment for mischief:
Whoever commits mischief shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three months, or with fine, or with both.
সঠিক উত্তর : ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860)-এর ধারা ৩৮২– চুরি করার পূর্বে মৃত্যু, আঘাত বা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করে চুরি করা:
যে ব্যক্তি চুরি করে, এবং চুরি করার আগে এমন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যার মাধ্যমে- কারো মৃত্যু, আঘাত (hurt), আটক (restraint), অথবা
এই বিষয়গুলির ভয় প্রদর্শন করা যায়- এই উদ্দেশ্যে যে চুরি করা সহজ হবে, বা চুরি শেষে পালাতে সুবিধা হবে, বা চুরি করা সম্পত্তি ধরে রাখা যাবে —তাহলে সে ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।
এই অপরাধের শাস্তি হলো-
১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড (rigorous imprisonment) এবং অর্থদণ্ড (fine)।
Illustrations (উদাহরণ):
(a) A, Z-এর সম্পত্তি চুরি করে। চুরির সময় A-এর পোশাকের নিচে একটি লোডেড পিস্তল ছিল, যা সে প্রস্তুত রেখেছিল যেন Z বাধা দিলে তাকে ভয় দেখাতে বা আঘাত করতে পারে। A ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।
(b) A, Z-এর পকেট কাটার সময় কয়েকজন সঙ্গীকে আশেপাশে দাঁড় করায় যেন Z টের পেলে তারা তাকে ধরে রাখতে বা বাধা দিতে পারে। A ধারা ৩৮২ অনুযায়ী অপরাধ করেছে।
দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা- স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহ করা:
কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।
ব্যতিক্রম:
অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
দণ্ডবিধির ধারা ৫০৭- অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন:
যে ব্যক্তি অজ্ঞাত পরিচয় দ্বারা অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে, বা যে ব্যক্তি হুমকি প্রদানের জন্য যার নাম বা অবস্থান গোপন রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকে দুই বছরের পর্যন্ত যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এছাড়া, এই অপরাধের জন্য পূর্ববর্তী ধারায় প্রদত্ত শাস্তিও তাকে প্রদান করা হবে।
Criminal intimidation by an anonymous communication:
Whoever commits the offence of criminal intimidation by an anonymous communication, or having taken precaution to conceal the name or abode of the person from whom the threat comes, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, in addition to the punishment provided for the offence by the last preceding section.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪১৫ – প্রতারণা (Cheating):
যে ব্যক্তি কাউকে প্রতারণা করে (deceiving any person)- এবং অসৎভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে (fraudulently or dishonestly) সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে প্ররোচিত করে যেন সে কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করে (deliver any property), অথবা কোনো ব্যক্তিকে সম্পত্তি ধরে রাখতে সম্মতি দেয় (consent to retain property), অথবা এমন কিছু করে বা করা থেকে বিরত থাকে, যা সে প্রতারণা না হলে করত না বা বাদ দিত না, এবং এই কাজ বা অবহেলার ফলে যদি ঐ ব্যক্তির শরীর, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে বলা হয় যে, সে “প্রতারণা (Cheating)” করেছে।
ব্যাখ্যা (Explanation): যদি কেউ অসৎভাবে কোনো সত্য গোপন করে (dishonest concealment of facts) — তাহলেও সেটি “প্রতারণা” হিসেবে গণ্য হবে।
উদাহরণসমূহ (Illustrations):
(a) A মিথ্যা দাবি করে যে সে সরকারি চাকরিজীবী, এবং এই মিথ্যা পরিচয়ে Z-এর কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নেয়, যদিও A-এর পরিশোধের কোনো ইচ্ছা নেই।
- A প্রতারণা করেছে।
(b) A কোনো পণ্যে নকল চিহ্ন লাগিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে এটি কোনো বিখ্যাত প্রস্তুতকারকের তৈরি, এবং এইভাবে Z-কে তা কিনতে প্ররোচিত করে।
- A প্রতারণা করেছে।
(c) A মিথ্যা নমুনা (sample) দেখিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে আসল পণ্যও একই মানের, এবং Z সেই পণ্য ক্রয় করে।
- A প্রতারণা করেছে।
জবানবন্দি (examination-in-chief) বা পুনঃজবানবন্দি (re-examination)-এর সময় সাধারণত ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন (leading question) করা যায় না। তবে আদালত নিম্নলিখিত অবস্থায় অনুমতি দিতে পারেন-
• প্রমাণিত তথ্যের ক্ষেত্রে – অর্থাৎ ইতিমধ্যে প্রমাণিত বা গৃহীত তথ্যের বিষয়ে।
• অবিসংবাদিত তথ্যের প্রশ্নের ক্ষেত্রে – যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো বিতর্ক নেই।
• পরিচয়মূলক তথ্যের প্রশ্নের ক্ষেত্রে – যেমন সাক্ষীর নাম, পেশা, ঠিকানা ইত্যাদি।
সুতরাং, এই তিনটি ক্ষেত্রেই আদালত ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্নের অনুমতি দিতে পারেন।
তাই সঠিক উত্তর: ঘ) বর্ণিত সবগুলো ক্ষেত্রে।
সাক্ষ্য আইনের ১৪২ ধারা- ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন যখন অবশ্যই করা যাবে না (When they must not be asked) :
বিরুদ্ধ পক্ষ যদি আপত্তি করেন, তবে জবানবন্দী ও পুনঃজবানবন্দী গ্রহণকালে আদালতের অনুমতি ব্যতীত ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা যাবে না। যেসকল বিষয় ভূমিকামূলক অথবা বিতর্কিহীন অথবা যেসব বিষয় পূর্বেই যথেষ্টরূপে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেন, সে সকল বিষয় সম্পর্কে আদালত অবশ্যই ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন করার অনুমতি দিবেন।
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৫: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা:
দেওয়ানি মামলায়, কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হতে পারে যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।
ব্যাখ্যা: ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়। তবে, ৫৪ ধারায় নির্দিষ্ট যে ব্যতিক্রম রয়েছে তা ছাড়া, শুধুমাত্র সাধারণ খ্যাতি ও সাধারণ স্বভাব সম্পর্কিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে, বিশেষ কোনো কার্য বা আচরণের মাধ্যমে প্রমাণিত খ্যাতি বা স্বভাবের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ২৬: পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় অপরাধীর স্বীকারোক্তি:
যে কোনো ব্যক্তি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন স্বীকারোক্তি (confession) করে, তা কেবল তখনই প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সেই স্বীকারোক্তি সরাসরি একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে করা হয়।
অন্যথায়, পুলিশ হেফাজতে করা স্বীকারোক্তি অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
ব্যাখ্যা (Explanation):
এখানে "ম্যাজিস্ট্রেট" বলতে কেবল সেই ম্যাজিস্ট্রেটকেই বোঝায়, গ্রামের প্রধান বা অন্য কোনো ব্যক্তি, যদিও তিনি কিছু ম্যাজিস্ট্রেটি কার্য সম্পাদন করেন, তাকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে ধরা হবে না, যদি না তিনি Code of Criminal Procedure, 1898 অনুযায়ী বৈধ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
সঠিক উত্তর : বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হবার পূর্বে দেওয়া বিবৃতি।
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ৩২(৫):
যখন কোনো বিবৃতি (statement) এমন একটি সম্পর্কের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেমন: রক্তের সম্পর্ক, বিবাহসূত্রে সম্পর্ক, অথবা দত্তক গ্রহণের সম্পর্ক- এবং যিনি ওই বিবৃতিটি দিচ্ছেন, তিনি যদি সেই সম্পর্ক সম্পর্কে জানার বিশেষ উপায় বা জ্ঞান রাখেন, এবং সেই বিবৃতিটি যদি বিবাদ বা মামলার প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার আগেই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই বিবৃতিটি গ্রহণযোগ্য (admissible) প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
Evidence Act, 1872 এর ধারা ৯০- ত্রিশ বছর পুরনো দলিল সম্পর্কে অনুমান (Presumption as to documents thirty years old):
যদি কোনো দলিল (document) আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যা দেখতে বা প্রমাণ দ্বারা বোঝা যায় যে সেটি ত্রিশ বছর পুরনো,
এবং দলিলটি এমন অভিভাবকত্ব (custody) থেকে উপস্থাপিত হয় যা আদালত নির্দিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতে যথাযথ বা উপযুক্ত বলে মনে করে, তাহলে আদালত অনুমান করতে পারে যে (May presume) — দলিলের স্বাক্ষর এবং হাতের লেখা অংশগুলো আসলেই সেই ব্যক্তির নিজের হাতের লেখা; এবং যদি দলিলটি সম্পাদিত (executed) বা সাক্ষ্যযুক্ত (attested) হয়, তাহলে আদালত ধরে নিতে পারে যে এটি যথাযথভাবে সম্পাদিত ও সাক্ষ্যযুক্ত হয়েছে।
ব্যাখ্যা (Explanation):
দলিলকে “উপযুক্ত অভিভাবকত্বে (proper custody)” আছে বলা হবে, যদি তা এমন স্থানে এবং এমন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে থাকে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সেটি থাকার কথা।
তবে কোনো অভিভাবকত্ব অযথাযথ (improper) ধরা হবে না, যদি দেখা যায় যে সেটি বৈধ উৎস (legitimate origin) থেকে এসেছে,
অথবা মামলার পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈধ উৎস থেকে আসা সম্ভাব্য (probable) মনে হয়।
সঠিক উত্তর : স্বীকৃত ঘটনা।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারার বিধান: স্বীকৃত ঘটনাসমূহ প্রমাণ করার আবশ্যকতা নেই:
মোকদ্দমায় পক্ষগণ বা তার প্রতিনিধিগণ যদি কোন বিষয় মামলার শুনানির সময়কালে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা শুনানির পূর্বে যদি তারা এটা নিজ হস্তে লিখে স্বীকার করতে সম্মত হয় অথবা উক্ত সময়ে কার্যকর কোন নিয়ম বা পক্ষগণের কোন আরজি-জবাব ইত্যাদি অনুসারে এটা পক্ষগণের দ্বারা স্বীকৃত বলে বিবেচিত হয়, তবে সে ঘটনা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
তবে, নিজের ইচ্ছাধীন ক্ষমতা অনুযায়ী আদালত কোন স্বীকৃত ঘটনার এবং অন্যবিধ প্রমাণ চাইতে পারেন।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬১ ধারা- দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ:
দলিলের বিষয়বস্তু প্রমাণ করা যেতে পারে প্রাথমিক সাক্ষ্য অথবা মাধ্যমিক সাক্ষ্য এর মাধ্যমে।
⇒ The Evidence Act, 1872- Section 61 - Proof of contents of documents:
The contents of documents may be proved either by primary or by secondary evidence.
সঠিক উত্তর: (ঘ) উল্লিখিত সব প্রাসঙ্গিক।
Evidence Act, 1872-এর ধারা ৩৭ অনুসারে-
যখন আদালতকে জনস্বার্থ বা গণ-প্রকৃতিমূলক (public nature) কোনো ঘটনার অস্তিত্ব সম্পর্কে অভিমত গঠন করতে হয়, তখন নিম্নলিখিত উৎসে থাকা বিবৃতিগুলো প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য (relevant evidence) হিসেবে গণ্য হয়-
- যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট কর্তৃক প্রণীত কোনো আইনে (Act of Parliament of the United Kingdom) বর্ণিত বিবৃতি।
- বাংলাদেশের সংসদ কর্তৃক পাশকৃত কোনো আইনে (Act of Parliament) থাকা বিবৃতি।
- সরকারি গেজেট বা বিজ্ঞপ্তিতে (Government Notification) থাকা বিবৃতি।
অতএব, এগুলোর কোনোটিই অপ্রাসঙ্গিক নয়, বরং সবকটিই প্রাসঙ্গিক (relevant)।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৬৩ ধারার বিধান- মাধ্যমিক সাক্ষ্য অর্থ এবং তাহার অন্তর্ভুক্ত হয়:
(১) বর্ণিত বিধানবলি অনুসারে প্রদত্ত জাবেদা নকল;
(২) মূল দলিল হইতে এরূপ যান্ত্রিক উপায়ে প্ৰস্তুত নকল, যাহাতে নকলের নির্ভুলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় এবং এরূপ নকলের সহিত মিলাইয়া লওয়া অন্য নকল;
(৩) মূল দলিল হইতে প্রস্তুত করা অথবা মূল দলিলের সহিত মিলাইয়া লওয়া নকল;
(৪) কোন দলিলের প্রতিলিপি যে পক্ষ উক্ত দলিল সম্পাদন করে নাই, তাহার বিরুদ্ধে উহা ব্যবহারের ক্ষেত্রে;
(৫) যে ব্যক্তি নিজের কোন দলিল দেখিয়াছে, তাহার দেওয়া উক্ত দলিলের বিষয় বস্তু সম্পর্কে মৌখিক বিবরণ।
Evidence Act, 1872 এর ধারা ৯৩-অস্পষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ দলিলের অর্থ ব্যাখ্যা বা সংশোধনের জন্য সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়:
যখন কোনো দলিলের ভাষা নিজেই অস্পষ্ট (ambiguous) বা ত্রুটিপূর্ণ (defective) হয়, তখন এমন কোনো তথ্যের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না, যা সেই অস্পষ্টতার অর্থ স্পষ্ট করে বা ত্রুটি পূরণ করে দিতে পারে।
উদাহরণ (Illustrations):
(ক) A লিখিতভাবে সম্মত হয়েছে যে, সে একটি ঘোড়া বিক্রি করবে B-কে, মূল্য ১০০০ টাকা বা ১৫০০ টাকা।
→ এখানে দলিলের ভাষাই অস্পষ্ট (দুটি দাম উল্লেখ আছে)। তাই কোন দামে ঘোড়া বিক্রি হবে তা প্রমাণ করার জন্য সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।
(খ) একটি দলিলে কিছু ফাঁকা ঘর বা শূন্যস্থান (blanks) রয়েছে।
→ এই ফাঁকা স্থানগুলো কীভাবে পূরণ করার উদ্দেশ্যে ছিল, তা বোঝানোর জন্য কোনো সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
সঠিক উত্তর: লিখিতভাবে সম্মতি প্রকাশ করলে।
Evidence Act, 1872-এর ধারা ১৩০- সাক্ষী যদি মামলার পক্ষ না হয়, তবে তার দলিল পেশে বাধ্য করা যাবে না:
যে ব্যক্তি কোনো মামলার পক্ষ নয় (অর্থাৎ শুধু সাক্ষী), তাকে তার সম্পত্তির মালিকানার দলিল (title-deed) অথবা যে দলিলের দ্বারা সে কোনো সম্পত্তি বন্ধক বা প্রতিশ্রুতিতে (pledgee/mortgagee) ধারণ করে, সে দলিল আদালতে পেশ করতে বাধ্য করা যাবে না,
এছাড়াও, যে দলিল আদালতে উপস্থাপন করলে সে নিজে অপরাধী (self-incrimination) বলে প্রমাণিত হতে পারে, সে দলিলও পেশ করতে বাধ্য নয়- যদি না সে ব্যক্তি লিখিতভাবে সম্মতি দেয় যে, সে নিজেই বা যার মাধ্যমে সে দাবি করছে, তাদের মধ্যে কেউ দলিলটি পেশ করবে।
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ধারা ৬৫খ- ডিজিটাল রেকর্ডের গ্রহণযোগ্যতা (Admissibility of Digital Records):
(১) এই আইনে অন্য কোনো বিধান থাকলেও, যদি কোনো তথ্য ডিজিটাল রেকর্ডে (Digital Record) থাকে—
এবং সেই তথ্য যদি কাগজে প্রিন্ট করা হয়, অথবা অপটিক্যাল (CD, DVD ইত্যাদি) বা ম্যাগনেটিক মিডিয়া (Hard Disk, Pen Drive ইত্যাদি) তে সংরক্ষিত, রেকর্ডকৃত বা কপি করা হয়, তাহলে সেটি “কম্পিউটার আউটপুট (computer output)” হিসেবে গণ্য হবে, এবং নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ হলে, সেটিকে আদালতে মূল প্রমাণ (primary evidence) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে - মূল ডকুমেন্ট হাজির করার প্রয়োজন হবে না।
(২) শর্তাবলি (Conditions):
একটি কম্পিউটার আউটপুট আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হলে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে —
(a) কম্পিউটারটি নিয়মিত ব্যবহৃত হত সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা, যারা আইনগতভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
(b) সংশ্লিষ্ট সময়কালে, তথ্যগুলো নিয়মিতভাবে ওই কম্পিউটারে সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত করা হত।
(c) সেই সময়কালে কম্পিউটারটি ঠিকভাবে কাজ করছিল; যদি কোনো সময় ঠিকভাবে না চলে, তবে তা যেন রেকর্ডের যথার্থতায় প্রভাব না ফেলে।
(d) ডিজিটাল রেকর্ডে যে তথ্য আছে, তা কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের সঠিক পুনরুৎপাদন (reproduction) বা তার থেকেই উদ্ভূত (derived)।
(৩) যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তথ্য সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ একাধিক কম্পিউটার দ্বারা বা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন কম্পিউটারে সম্পন্ন হয়,
তাহলে সেই সব কম্পিউটারগুলোকে একত্রে একটি কম্পিউটার হিসেবে গণ্য করা হবে।
(৪) সার্টিফিকেট (Certificate):
যখন আদালতে ডিজিটাল প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে, তখন একটি সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে যাতে উল্লেখ থাকবে —
(a) কোন ডিজিটাল রেকর্ডে তথ্যটি আছে এবং কীভাবে তা তৈরি হয়েছে;
(b) রেকর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্র বা ডিভাইসের বিবরণ;
(c) উপরের (২) নং উপধারার শর্তগুলো পূরণের প্রমাণ;
এবং এটি এমন ব্যক্তির স্বাক্ষরে হতে হবে যিনি দায়িত্বশীল অফিসিয়াল পদে অধিষ্ঠিত।
এই সার্টিফিকেটটি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, যদি তা দায়িত্বশীলভাবে এবং সৎ বিশ্বাসে প্রদান করা হয়।
(৫) সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা:
(a) কোনো তথ্য কম্পিউটারে সরবরাহ করা হয়েছে বলা হবে, যদি তা সরাসরি বা যেকোনো উপযুক্ত যন্ত্রের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
(b) কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহারের জন্য অন্য কারও কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করা হলেও, সেটি ঐ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
(c) কোনো কম্পিউটার আউটপুট কম্পিউটার দ্বারা উৎপন্ন বলে গণ্য হবে, তা সরাসরি হোক বা অন্য কোনো ডিভাইসের সহায়তায় (মানব হস্তক্ষেপ থাকুক বা না থাকুক)।
সঠিক উত্তর: (গ) ঋণ চুক্তিপত্র।
প্রাইভেট ডকুমেন্ট (Private Document) হলো সেই দলিল যা ব্যক্তিগত বা স্বতন্ত্র ব্যক্তিগত চুক্তি/লেনদেন প্রমাণ করে এবং যা সরকারি বা সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারা তৈরি নয়।
(ক) খতিয়ান → সরকারি দলিল, জমির রেকর্ড; প্রাইভেট নয়।
(খ) আরজি → সরকারি দফতরে দাখিলকৃত আবেদন বা অভিযোগ; প্রাইভেট নয়।
(গ) ঋণ চুক্তিপত্র → ব্যক্তি বা সংস্থার মধ্যে স্বতন্ত্র চুক্তি; প্রাইভেট দলিল।
(ঘ) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার বক্তব্য → আদালত/ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে রেকর্ড করা; সরকারি দলিল; প্রাইভেট নয়।
The Evidence Act, 1872 – ধারা ৮৩- সরকারি কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রণীত মানচিত্র বা নকশা সম্পর্কে অনুমান (Presumption as to maps or plans made by authority of Government):
আদালত অনুমান করবে যে- যেসব মানচিত্র (map) বা নকশা (plan) সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা নির্দেশে প্রস্তুত বলে প্রতীয়মান,
সেগুলো আসলেই সরকারের কর্তৃত্বে প্রস্তুত করা হয়েছে, এবং সেগুলো যথাযথভাবে সঠিক (accurate)।
তবে, যদি কোনো মানচিত্র বা নকশা কোনো মামলার উদ্দেশ্যে (for the purpose of any cause) তৈরি করা হয়ে থাকে, তাহলে সেটির সঠিকতা (accuracy) আদালতে প্রমাণ করতে হবে।
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৩৯ – দলিল উপস্থাপনের জন্য ডাকা ব্যক্তির জেরা:
কোন ব্যক্তি যদি কেবলমাত্র কোনো দলিল উপস্থাপন করার জন্য সমনপ্রাপ্ত হয়ে হাজির হন, তাহলে তিনি শুধুমাত্র সেই দলিলটি উপস্থাপন করার কারণে সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন না, এবং তাকে জেরা (cross-examination) করা যাবে না — যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়।
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ৩ অনুযায়ী, যদি কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন নির্ধারিত সীমা-সময়ের (period of limitation) পরে দায়ের করা হয়, তবে আদালত তা নিজে থেকেই (suo motu) খারিজ করবে — এমনকি বিবাদী (defendant) সীমা-সময় অতিক্রমের বিষয়টি প্রতিরক্ষা (defence) হিসেবে না তুললেও।
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ৩ – নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলে মামলা ইত্যাদি খারিজ:
ধারা ৪ থেকে ২৫ পর্যন্ত বিধানের অধীন, যে কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন যদি প্রথম তফসিলে নির্ধারিত তামাদি-সময়ের (period of limitation) পর দায়ের করা হয়, তবে তা খারিজ (dismiss) করা হবে, যদিও বিবাদী (defendant) তামাদি অতিক্রমের বিষয়টি প্রতিরক্ষা (defence) হিসেবে উল্লেখ না করে থাকে।
ব্যাখ্যা (Explanation):
সাধারণ ক্ষেত্রে (ordinary cases):
মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন বাদী (plaintiff) যথাযথ কর্মকর্তার (proper officer) নিকট আরজি/আবেদন (plaint/petition) দাখিল করেন।
দরিদ্র ব্যক্তি (pauper)-এর ক্ষেত্রে:
যখন তিনি দরিদ্র ব্যক্তি হিসেবে মামলা করার অনুমতির জন্য আবেদন করেন, তখন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে গণ্য হবে।
যে কোম্পানি আদালতের মাধ্যমে লিকুইডেশন (winding up) প্রক্রিয়ায় আছে, তার বিরুদ্ধে দাবি করলে:
তখন মামলা দায়ের হয়েছে বলে গণ্য হবে যখন দাবিদার প্রথমবার তার দাবি (claim) অফিসিয়াল লিকুইডেটর (official liquidator)-এর নিকট পেশ করেন।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ২৯: সংরক্ষণ (Savings):
(১) এই আইনের কোনো কিছুই ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের ধারা ২৫-কে প্রভাবিত করবে না।
(২) যদি কোনো বিশেষ আইন কোনো মোকদ্দমা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির একটি ভিন্ন মেয়াদ নির্ধারণ করে, যা প্রথম তফসিলে উল্লিখিত মেয়াদ থেকে আলাদা, তাহলে ধারা ৩-এর বিধান প্রযোজ্য হবে, যেন সেই মেয়াদ প্রথম তফসিলে উল্লিখিত হয়েছে। এবং কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ নির্ধারণের জন্য:
(ক) ধারা ৪, ধারা ৯ থেকে ১৮ এবং ধারা ২২-এর বিধানগুলো কেবল সেই পরিমাণে প্রযোজ্য হবে, যতটুকু সেই বিশেষ আইন দ্বারা স্পষ্টভাবে বাতিল করা হয়নি; এবং
(খ) এই আইনের অন্যান্য বিধানগুলো প্রযোজ্য হবে না।
(৩) এই আইনের কোনো কিছুই ডিভোর্স আইন (Divorce Act) এর অধীনে দায়েরকৃত মোকদ্দমাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
(৪) ধারা ২৬ এবং ২৭, এবং ধারা ২-এ উল্লিখিত "সুবিধা" (easement)-এর সংজ্ঞা, ১৮৮২ সালের সুবিধা আইন (Easements Act, 1882) যে অঞ্চলে প্রযোজ্য, সেই অঞ্চলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
The Limitation Act, 1908 এর সংজ্ঞাসমূহ (ধারা ২):
এই আইনে, যদি প্রেক্ষাপট বা বিষয়বস্তুর সাথে অসামঞ্জস্য না থাকে, তাহলে—
১. “আবেদনকারী” (Applicant): আবেদনকারীর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে আবেদনকারী তার আবেদন করার অধিকার লাভ করেছে।
২. “বিল অব এক্সচেঞ্জ” (Bill of Exchange): এর মধ্যে হুন্ডি ও চেক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
৩. “বন্ড” (Bond): এমন কোনো দলিল, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যজনকে টাকা পরিশোধ করার অঙ্গীকার করে, এই শর্তে যে, নির্দিষ্ট কোনো কাজ সম্পাদিত হলে বা না হলে (যথাযথ ক্ষেত্রে), সেই অঙ্গীকার অকার্যকর হবে।
৪. “বিবাদী” (Defendant): এর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে কোনো বিবাদী তার দায়-দায়িত্ব অর্জন করেছে, অর্থাৎ যার কারণে তাকে মামলা করা যেতে পারে।
৫. “সুখাধিকার” (Easement): এমন একটি অধিকার যা চুক্তি থেকে উদ্ভূত নয়, কিন্তু যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি অন্যের জমি থেকে নিজের স্বার্থে মাটি, গাছপালা বা অন্য কোনো জিনিস অপসারণ করে ব্যবহার করতে পারেন।
৬. “বিদেশি দেশ” (Foreign Country): বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য যেকোনো দেশ।
৭. “সদ্ভাব” (Good Faith): কোনো কাজ যদি যথাযথ যত্ন ও মনোযোগ ছাড়া সম্পাদিত হয়, তবে সেটি সদ্ভাবে (good faith) সম্পাদিত বলে গণ্য হবে না।
৮. “বাদী” (Plaintiff): এর মধ্যে সেই ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যার মাধ্যমে বা যার কাছ থেকে মামলাকারী তার মামলা করার অধিকার অর্জন করেছে।
৯. “প্রমিসরি নোট” (Promissory Note): এমন একটি দলিল, যার মাধ্যমে নির্মাতা (maker) নিঃশর্তভাবে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ে, অথবা দাবির ভিত্তিতে, অথবা দর্শনের ভিত্তিতে অপর পক্ষকে পরিশোধ করবেন।
১০. “মোকদ্দমা” (Suit): এর মধ্যে আপিল বা আবেদন অন্তর্ভুক্ত নয়।
১১. “ট্রাস্টি” (Trustee): এর মধ্যে বেনামি মালিক (benamider), ঋণ পরিশোধের পরও দখলে থাকা বন্ধকগ্রহীতা (mortgagee), বা অবৈধভাবে দখলকারী (wrong-doer) অন্তর্ভুক্ত নয়।
তামাদি আইন, ১৯০৮ (Limitation Act, 1908)-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, যদি কোনো দলিল প্রতারণার মাধ্যমে গোপন করা হয়, তবে বাদী উক্ত দলিল যখন উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে তখন থেকে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৮- মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে প্রতারণার ফলাফল-
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি একটি মামলা বা দরখাস্ত দাখিলের অধিকারী, কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে তাকে সেই অধিকারের বিষয়ে বা যে স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিত তা জানতে দেয়া হয় নাই অথবা উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যে দলির প্রয়োজন তা প্রতারণা করে গােপন রাখা হয়েছে, সেই সকল ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে বাদী যেদিন-
১। সর্বপ্রথম প্রতারণার কথা জানতে পারে সেদিন থেকে, অথবা
২। যেদিন গােপন রাখা দলিল উত্থাপন করতে পারবে, অথবা
৩। অপর পক্ষের কাছে থাকা দলিলটি যেদিন হাজির করতে বাধ্য করতে পারবে।
তামাদি আইনের ১২ ধারামতে, তামাদির মেয়াদ গণনার সময় নিম্নলিখিত দিনগুলো বাদ দিয়ে তামাদি গণনা করতে হবে। যথা-
i) তামাদির মেয়াদ আরম্ভের দিন বা যে তারিখ হতে তামাদি গণনা শুরু হবে (the day from which such period is to be reckoned shall be excluded);
ii) রায় ঘোষণার দিন (the day on which the judgment complained of was pronounced);
iii) রায় বা ডিক্রির নকল (certified copy) পেতে ব্যয়িত সময় (the time requisite for obtaining a copy of the decree, sentence or order appealed from or sought to be reviewed, shall be excluded);
iv) রোয়েদাদ নামঞ্জুর করার দরখাস্তের জন্য রোয়েদাদের নকল পেতে ব্যয় হওয়া সময় (for an application to set aside an award, the time requisite for obtaining a copy of the award shall be excluded)।
• তামাদি আইনের ৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে,
Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৯ অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা দায়ের করতে হয় ছয় মাসের মধ্যে, এবং এই ছয় মাসের সময়সীমা শুরু হয় যেদিন দখলচ্যুতি (dispossession) ঘটে, সেদিন থেকে।
⇒ যে কেউ যদি বেআইনিভাবে কাউকে স্থাবর সম্পত্তি (যেমন: জমি-বাড়ি) থেকে দখলচ্যুত করে, তাহলে দখলচ্যুত ব্যক্তি ৬ মাসের মধ্যে আদালতে গিয়ে দখল ফেরত চেয়ে মামলা করতে পারবেন।
সঠিক উত্তর হলো- (গ) নিলাম ক্রেতার।
তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ১৬ মূলত সেই ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করে, যিনি আদালতের ডিক্রির ভিত্তিতে নিলাম বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন (auction purchaser)।
⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ - ধারা ১৬- ডিক্রি জারিকৃত বিক্রয় বাতিলের কার্যক্রম চলাকালে সময় বাদ দেওয়া:
যে ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ডিক্রি জারির ভিত্তিতে নিলাম বিক্রয়ের মাধ্যমে ক্রেতা হয়ে দখল পাওয়ার জন্য মামলা দায়ের করে, সেই ক্ষেত্রে তামাদি সময় গণনার সময় বিক্রয় বাতিল করার জন্য যে সময়কাল মামলা বা কার্যক্রম চালানো হয়েছে, তা তামাদি সময় থেকে বাদ দেওয়া হবে।
⇒ যখন বিক্রয়টি বাতিল করার জন্য মামলা বা কার্যক্রম চলে, তখন এই সময়কাল তামাদি সময়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া হয় - অর্থাৎ, ক্রেতা যেন বিক্রয় বাতিল মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে তার দখল পুনরুদ্ধারের অধিকার হারিয়ে না ফেলে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ধারা প্রণীত হয়েছে।
তামাদি আইনের অনুচ্ছেদ-১০৪:
বিলম্বিত দেনমোহরের জন্য (deferred dower) একজন মুসলিম মহিলা কর্তৃক মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে
তামাদির মেয়াদকাল- ৩ বছর;
সময় গণনা শুরু- মৃত্যু অথবা তালাক দ্বারা যখন বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।
তামাদি আইন, ১৯০৮- অনুচ্ছেদ ৪৮- হারানো, চুরি বা অসাধুভাবে আত্মসাৎ করা অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা ক্ষতিপূরণের মামলা:
প্রযোজ্য ক্ষেত্র: এমন অস্থাবর সম্পত্তি যেটি-
▸ হারিয়ে গেছে,
▸ চুরি হয়েছে,
▸ অসাধুভাবে আত্মসাৎ (dishonest misappropriation) করা হয়েছে,
▸ অন্যায়ভাবে নেওয়া বা আটক রাখা হয়েছে।
মামলার ধরন: উক্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়া বা ক্ষতিপূরণ দাবিতে মামলা।
তামাদির মেয়াদ: ৩ বছর;
সময় গণনার শুরু: যেদিন সম্পত্তির অধিকারী প্রথমবার জানতে পারেন যে, ওই সম্পত্তি বর্তমানে কার নিকট আছে।
ধারা ২১: অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of persons under disability):
(১) ধারা ১৯ ও ২০-এ ব্যবহৃত “তার পক্ষে যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধি” (agent duly authorised in his behalf) বলতে, যদি ব্যক্তি কোনো অক্ষমতা (যেমন অপ্রাপ্তবয়স্ক, মানসিকভাবে অসক্ষম ইত্যাদি) অবস্থায় থাকে, তাহলে তার বৈধ অভিভাবক (lawful guardian), কমিটি (committee), ম্যানেজার (manager) অথবা ঐ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক যথাযথভাবে অনুমোদিত কোনো এজেন্টকেও বোঝাবে, যে ব্যক্তি উক্ত স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করতে বা অর্থপ্রদান করতে পারে।
(২) উল্লিখিত ধারাগুলির কোনো কিছুই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না যাতে একাধিক যৌথ ঠিকাদার (joint contractor), অংশীদার (partner), নির্বাহক (executor) বা বন্ধকগ্রহীতাদের (mortgagee) মধ্যে একজন কেবলমাত্র অন্যদের দ্বারা (অথবা তাদের এজেন্টদের দ্বারা) স্বাক্ষরিত কোনো লিখিত স্বীকারোক্তি বা প্রদত্ত অর্থের কারণে দায়ী (chargeable) হয়ে যায়।
(৩) উল্লিখিত ধারাগুলির প্রয়োজনে—
(ক) কোনো দায়ের ক্ষেত্রে, যদি কোনো হিন্দু বিধানাধীন বিধবা (widow) বা অন্য কোনো সীমিত মালিক (limited owner) স্বয়ং অথবা তার যথাযথভাবে অনুমোদিত এজেন্টের মাধ্যমে কোনো স্বীকারোক্তিতে স্বাক্ষর করেন বা অর্থপ্রদান করেন, তবে তা পরবর্তী উত্তরাধিকারী (reversioner)-এর বিরুদ্ধেও বৈধ স্বীকারোক্তি বা প্রদেয় হিসেবে গণ্য হবে।
(খ) যদি কোনো দায় হিন্দু যৌথ পরিবার (Hindu Undivided Family) কর্তৃক বা তার পক্ষে গৃহীত হয়, তবে পরিবারের তৎকালীন ব্যবস্থাপক (manager) বা তার যথাযথভাবে অনুমোদিত এজেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তি বা অর্থপ্রদান পুরো পরিবারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বলে গণ্য হবে।
The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ ২১:
(১) এই আদেশ ঘোষণা হইবার পূর্বে হাইকোর্ট আইন পেশা চর্চার উদ্দেশ্যে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যতিরেকে, কোনো এডভোকেটকেই হাইকোর্ট আইন পেশা চর্চার অনুমতিপ্রাপ্ত হইবেন না, যদি না তিনি-
(a) বাংলাদেশের যেকোনো অধঃস্তন আদালতে তিনি ২ (দুই) বছর ধরে আইন পেশা চর্চা করিয়াছেন ;
(b) তিনি আইন বিষয়ে অনার্স এবং সরকার কতৃর্ক সরকারি গেজেটে নোটিফিকেশন কতৃর্ক নির্ধারিত বাংলাদেশের বাইরের কোনো হাইকোর্টে এডভোকেট হিসেবে আইন পেশা চর্চা করিয়াছেন;
(c) তাকে, তার আইনগত প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার জন্য, বার কাউন্সিল উপরে বর্ণিত দফাসমূহের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হইতে অব্যাহতি দিয়াছেন।
(২) হাইকোর্টে আইন পেশা চর্চার লক্ষ্যে বার কাউন্সিল অনুমতি দিয়াছেন ইহা প্রমাণ সাপেক্ষে অনুচ্ছেদ—২২ এ নির্ধারিত ফি দেওয়া হইয়াছে এবং ক্লজ—১ এ বর্ণিত সংশ্লিষ্ট শর্তাদি সন্তোষজনকভাবে পূরণ করা হইয়াছে।
THE BANGLADESH LEGAL PRACTITIONERS AND BAR COUNCIL RULES, 1972 এর বিধি ৯ :
(১) সাধারণ আসনের ক্ষেত্রে যদি বৈধ প্রস্তাবের সংখ্যা ৭ (সাত) এবং দলীয় আসনের ক্ষেত্রে ১ (এক) অতিক্রম না করে তবে চেয়ারম্যান উক্ত প্রস্তাবকৃত প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা দিতে পারেন।
(২) বৈধ প্রস্তাবসমূহের একটি তালিকা এবং সমীক্ষার ফলাফল যেমন, ব্যক্তিগণের নির্বাচিত ঘোষণা এবং কোনো আসনের জন্য নির্বাচিত ঘোষণা করা হয় তাহা যত দ্রুত সম্ভব বার কাউন্সিলের নোটিশ বোর্ডে টানাইতে হইবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২ (দুই) দিনের মধ্যে টানাইতে হইবে।
• Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে।
অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য- ১১ টি বিধি;
২য় অধ্যায়- একজন আইনজীবীর তার মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ১৪ টি বিধি;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব প্রতি দায়িত্ব- ৯ টি বিধি;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব- ৮ টি বিধি।
একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য: “Canons of Professional Conduct and Etiquette” অংশের চতুর্থ অধ্যায়ের ১-৮ বিধি অনুযায়ী একজন আইনজীবীর জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য কী তা উল্লেখ করা হয়েছে-
- একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ৮টি:
[বিধি-১]-কোন ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিযুক্তি না নেওয়া: কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, হয়রানি করা বা মোকদ্দমা বিলম্বিত করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষে একজন আইনজীবী নিযুক্ত হবেন না।
[বিধি-২]- ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করা: একজন আইনজীবী সর্বদা তার ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করবেন। বিচার চলাকালে আইন বহির্ভুত কাজ করবেন না।
[বিধি-৩]- ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
[বিধি ৪]- পরামর্শ প্রদানে বাধ্যবাধকতা: কোন আইনজীবী প্রত্যেককে পরামর্শ প্রদান করতে বা আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন।
[বিধি-৫]- মোকদ্দমা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যতই ক্ষমতাবান হোক অথবা রাজনৈতিক মোকদ্দমা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
[বিধি-৬]- পরিচয় প্রকাশ করা: কোন আইনজীবী কোন সরকারি অফিসার, বোর্ড কমিটি ইত্যাদির নিকট পেশাগত দায়িত্বে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় দিবেন।
[বিধি-৭]- পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে: কোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।
[বিধি-৮]- ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য পেশার সাথে জড়িত না হওয়া: একজন আইনজীবী নিজের আইন পেশা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা, চাকুরি বা পেশার সাথে জড়িত হবে না।