পরীক্ষা আর্কাইভ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

পরীক্ষা১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়35 minutes
মোট প্রশ্ন৩৬
সিলেবাস
বাংলা সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক]

১০০ দিনে বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৬ প্রশ্ন

.
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. খ) বলরাম দাস
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
‘রূপলাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর’ - পঙক্তিটির রচয়িতা জ্ঞানদাস।
জ্ঞানদাস একমাত্র কবি যিনি বাংলা ও ব্রজবুলি দুই ভাষা মিলিয়ে পদ রচনা করেছেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থ ‘মাথুর’ ও ‘মুরলীশিক্ষা’।
জ্ঞানদাস চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
.
নিচের কোনটি বিপ্রদাস পিপিলাই রচিত কাব্য?
  1. ক) মনসাবিজয়
  2. খ) কালকেতু উপাখ্যান
  3. গ) চৈতন্য মঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিপ্রদাস পিপিলাই মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি। তাঁর রচিত কাব্য 'মনসা বিজয়'। কাব্যটি ১৪৯৫ সালে গৌড়ের সুলতান হোসেন শাহের আমলে প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
.
রামায়ণ রচনা করেছেন কে?
  1. ক) রত্নাকর দস্যু
  2. খ) কৃত্তিবাস ওঝা
  3. গ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. ঘ) উপরের কেউই নয়
ব্যাখ্যা
‘রামায়ণ’ এর মূল রচয়িতা বাল্মীকির ছদ্মনাম ‘রত্নাকর’। তিনি আগে এই নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
‘বাল্মীক’ শব্দের অর্থ ‘উইপোকার ঢিবি’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
.
‘নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়’ - পঙক্তিটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) কালিকামঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
এটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।
এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
.
‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০), দেয়াল (১৯৮৫) ;
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০)। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।
গল্পগ্রন্থ: জীবন (১৯৪৮), শেষ রাত্রির তারা (১৯৬৬), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮), ল্যাংড়ী (১৯৮৪);
প্রবন্ধ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪), Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩), সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭), লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি।
এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন। শিল্পীর সাধনা (১৯৬৭) ও পার্ল বাকের সেরা গল্প (১৯৬৮) তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া]
.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পলাশী থেকে পাকিস্তান
  2. খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  3. গ) পলাশী থেকে ধানমণ্ডি
  4. ঘ) শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক। তিনি আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতা (১৯৫৩-৫৮ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতি) এবং যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতা। তাঁর রচিত রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ: আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।
‘পলাশী থেকে ধানমণ্ডি’ (২০০৭) নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী। আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত ‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’ (ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ, ১৯৬৮)। আবুল ফজল রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শেখ মুজিবঃ তাঁকে যেমন দেখেছি (১৯৭৮)।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক হলেন-
  1. ক) প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ঔপন্যাসিক বলা হয় প্যারীচাঁদ মিত্র’কে (১৮১৪-১৮৮৩)। তাঁর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) উপন্যাসের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে উপন্যাস ধারার সূচনা হয়। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের‌ প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দুর্গেশনন্দিনী’ (১৮৬৫)।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
.
‘কোন এক মাকে’- বিখ্যাত কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) -- তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থঃ - সাতনরী হার (১৯৫৫)।
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ -- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১,
তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ) -- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩), খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।
‘কোন এক মাকে’ তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
.
‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - শামসুর রাহমান।
তার রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এক ধরনের অহংকার, শূন্যতার শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, এক ফোঁটা কেমন অনল, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে, অবিরল জলাভূমি, বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি - কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর।
শামসুর রাহমানের উপন্যাস - অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
তার রচিত কয়েকটি শিশু-কিশোর সাহিত্য - এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১০.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আহুতি
  2. খ) পদচারণ
  3. গ) রায়তের কথা
  4. ঘ) তেল-নুন-লাকড়ী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬): বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক, ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
তিনি সম্পাদনা করেন সবুজ পত্র (১৯১৪) ও বিশ্ব ভারতী পত্রিকা।
কাব্য গ্রন্থঃ সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), পদচারণ (১৯১৯);
গল্পগ্রন্থঃ চার ইয়ারি কথা (১৯১৬), আহুতি (১৯১৯), নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ (১৯৪১);
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তেল- নুন -লাকড়ী (১৯০৬), বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা, ১৯১৬), নানাকথা (১৯১৯), আমাদের শিক্ষা (১৯২০), রায়তের কথা (১৯২৬), নানাচর্চা (১৯৩২), আত্নকথা (১৯৪৬)।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১১.
কোনটি আবু ইসহাকের রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) জাল
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) সূর্য দীঘল বাড়ি
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
উপন্যাসঃ
- সূর্য দীঘল বাড়ি’(একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।),
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।
গল্পগ্রন্থঃ হারেম, মহাপতঙ্গ ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ জোঁক।
তাঁর রচিত একমাত্র নাটক - ‘জয়ধ্বনি’।
তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘স্মৃতিবিচিত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া]
১২.
কোন দুইটি কাব্যগ্রন্থের জন্য আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’ ও ‘সোনালি কাবিন’
  2. খ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’
  3. গ) ‘সোনালি কাবিন’ ও ‘পানকৌড়ির রক্ত’
  4. ঘ) ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’
ব্যাখ্যা
মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি তিনি।
প্রধান সাহিত্যকর্ম-
কাব্যগ্রন্থঃ লোক লোকান্তর (প্রথম কাব্যগ্রন্থ, ১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন ( আল মাহমুদ এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়, ১৯৭৩), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৭৬), বখতিয়ারের ঘোড়া, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, দোয়েল ও দয়িতা ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থঃ পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিত, গন্ধবণিক, ময়ূরীর মুখ।
উপন্যাসঃ কবি ও কোলাহল (১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস), ডাহুকী, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, চেহারার চতুরঙ্গ, কাবিলের বোন ইত্যাদি।
১৯৬৮ সালে ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
১৩.
‘বিশ্বনবী’ রসুলুল্লাহর জীবনীমূলক গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) শহীদ আখন্দ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) আসাদুল্লাহ আল-গালিব
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪): কবি ও লেখক। গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
কাব্যগ্রন্থঃ রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি তাঁর মৌলিক কাব্য এবং মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) অনুবাদকাব্য।
গদ্যগ্রন্থঃ বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।
উপন্যাসঃ রূপের নেশা, ভাঙাবুক ও এক মন এক প্রাণ।
তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৪.
‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ কাব্যগ্রন্থের কবি-
  1. ক) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০): কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। তিনি প্রথমজীবনে ‘অশোক সৈয়দ’ ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
কবিতা- জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ (১৯৬৭), কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (১৯৮২), পরাবাস্তব কবিতা (১৯৮২), পার্ক স্ট্রিটে একরাত্রি (১৯৮৩), মাছ সিরিজ (১৯৮৪) ইত্যাদি।
ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ (১৯৬৮), চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩), মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা (১৯৭৭) ইত্যাদি।
উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী (১৯৭৪), পোড়ামাটির কাজ (১৯৮২), অ-তে অজগর (১৯৮২), গভীর গভীরতর অসুখ (১৯৮২), ক্ষুধা প্রেম আগুন (১৯৪৪), শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি (১৯৯৮) ইত্যাদি।
অনুবাদ- কবিতাঃ মাতাল মানচিত্র (১৯৭০)।
স্মৃতিকথাঃ আমার বিশ্বাস (১৯৮৮), স্মৃতির নোটবুক (২০০১), ভেসেছিলাম ভাঙ্গা ভেলায় (২০০৯) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। ]
১৫.
বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টিতে প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন-
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) ডি. এল রায়
  3. গ) মুনীর চৌধুরী
  4. ঘ) মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩): কবি, নাট্যকার, গীতিকার। বাংলা নাটকে সার্থক দ্বন্দ্বমূলক চরিত্র সৃষ্টিতে প্রথম কৃতিত্ব দেখিয়েছেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায় যিনি ডি. এল রায় নামে সমধিক পরিচিত।
দ্বিজেন্দ্রলালের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থঃ কাব্য- আর্যগাথা (২য় ভাগ, ১৮৯৩), মন্দ্র (১৯০২), আলেখ্য (১৯০৭), ত্রিবেণী (১৯১২) ইত্যাদি। প্রবন্ধগ্রন্থ- কালিদাস ও ভবভূতি (১৯১০-১১) প্রভৃতি।

তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকঃ
পৌরাণিক নাটক- পাষাণী (১৯০০), সীতা (১৯০৮), ভীষ্ম (১৯১৪);
সামাজিক নাটক- পরপারে (১৯১২), বঙ্গনারী (১৯১৬), নকশা-প্রহসন: একঘরে (১৮৮৯), কল্কি অবতার (১৮৯৫), ত্র্যহস্পর্শ (১৯০০), প্রায়শ্চিত্ত (১৯০২), পুনর্জন্ম (১৯১১);
ঐতিহাসিক নাটক- তারাবাই (১৯০৩), রানা প্রতাপসিংহ (১৯০৫), মেবার-পতন (১৯০৮), নূরজাহান (১৯০৮), সাজাহান (১৯০৯), চন্দ্রগুপ্ত (১৯১১) ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৬.
‘কালিন্দী’ উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১): কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তাঁর রচিত উপন্যাস - চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩২), ধাত্রীদেবতা (১৯৩৯), কালিন্দী (১৯৪০), গণদেবতা (১৯৪৩), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৪), কবি (১৯৪৪), হাঁসুলি বাঁকের উপকথা (১৯৪৭), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১৭.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাখালী
  2. খ) আর্যগাথা
  3. গ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  4. ঘ) সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪): কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরাপালক, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- ধূসর পাণ্ডুলিপি। অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা। এই কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে- রূপসী বাংলা ও বেলা অবেলা কালবেলা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছিলো। জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘কবিতার কথা’। তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি। বনলতা সেন জীবনানন্দ দাশের রচিত জনপ্রিয় কবিতা।
‘আর্যগাথা’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। ‘সোনালী কাবিন’ আল মাহমুদ রচিত কাব্য গ্রন্থ। ‘রাখালী’ পল্লীকবি জসীম উদ্দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
১৮.
‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি আশরাফ সিদ্দিকীর কোন সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত?
  1. ক) গুনীন
  2. খ) বিষকন্যা
  3. গ) আরশিনগর
  4. ঘ) গলির ধারের ছেলেটি
ব্যাখ্যা
আশরাফ সিদ্দিকী (১৯২৭-২০২০): বাঙালি সাহিত্যিক যিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম- কাব্যগ্রন্থ: তালেব মাষ্টার ও অন্যান্য কবিতা (১৯৫০), সাত ভাই চম্পা (১৯৫৩), বিষকন্যা (১৯৫৫), উত্তরের তারা, বৃক্ষ দাও, ছায়া দাও (১৯৮৪), দাঁড়াও পথিক বর (১৯৯০), সহস্র মুখের ভিড়ে (১৯৯৭) প্রভৃতি।
গল্পগ্রন্থ: রাবেয়া আপা (১৯৬৫), গলির ধারের ছেলেটি (১৯৮১), শেষ নালিশ (১৯৯২) প্রভৃতি।
লোকসাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ: লোকসাহিত্য (১৯৬৪), কিংবদন্তীর বাংলা (১৯৭৫), শুভ নববর্ষ (১৯৭৭), লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮), আবহমান বাংলা (১৯৮৭) প্রভৃতি।
উপন্যাস: শেষ কথা কে বলবে (১৯৮০), আরশিনগর (১৯৮৮), গুনীন (১৯৮৯)।
‘গলির ধারের ছেলেটি’ গল্পের অবলম্বনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত ‘ডুমুরের ফুল’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা]
১৯.
‘অরণ্যের ডাক’ - আবুল হোসেনের কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আবুল হোসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ ‘নববসন্ত’(তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে), বিরস সংলাপ (১৯৬৯), হাওয়া তোমার কি দুঃসাহস (১৯৮২), দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে (১৯৮৫), এখনও সময় আছে (১৯৯৬), রাজ রাজড়া (১৯৯৭), আর কিসের অপেক্ষা, রাজাকাহিনী।
‘আমার এই ছোট ভুবন’ হলো আবুল হোসেনের স্মৃতিকথা।
‘অরণ্যের ডাক’ (১৯৫৪) তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস।
[সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা]
২০.
'চির সুখীজন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।'- এই পঙ্কতির রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) মদনমোহন তর্কালংকার
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ - ‘সদ্ভাবশতক’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
বাল্যকালে তাঁর ছদ্মনাম ছিল - রামচন্দ্র দাস, সংক্ষেপে রাম। তাই পরিণত বয়সে তিনি ‘রামের ইতিবৃত্ত’ (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।
মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো - ‘মোহভোগ’ (১৮৭১)। ‘কৈবল্যতত্ত্ব’ (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক ‘রাবণবধ’।
তাঁর কবিতার অনেক পঙ্ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ, যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।’ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
২১.
‘কোকিলারা’ এক চরিত্রনির্ভর নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) নুরুল মোমেন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল মামুন (১৯৪২-২০০৮): -- একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক।
তাঁর প্রকাশিত বিখ্যাত নাটকগুলোঃ
শপথ (১৯৬৪), সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪), এখনও দুঃসময় (১৯৭৫), এবার ধরা দাও (১৯৭৭), শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪), এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪), কোকিলারা (১৯৯০) ইত্যাদি।
আবদুল্লাহ আল মামুন ৭টি উপন্যাস রচনা ও প্রকাশ করেন, সেগুলো -
মানব তোমার সারাজীবন (১৯৮৮), আহ্ দেবদাস (১৯৮৯), তাহাদের যৌবনকাল (১৯৯১), হায় পার্বতী (১৯৯১), এই চুনীলাল (১৯৯৩), গুন্ডাপান্ডার বাবা (১৯৯৩), খলনায়ক (১৯৯৭)।
আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত "কোকিলারা" একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। প্রথম কোকিলা, দ্বিতীয় কোকিলা, তৃতীয় কোকিলা - ইত্যাদি নামে নাটকের চরিত্রগুলো চিত্রিত করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাঃ ড. সৌমিত্র শেখর।

২২.
কোনটি অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত নাগরিক উপন্যাস?
  1. ক) রাঙ্গামাটি
  2. খ) সাদা হাওয়া
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) জীবন-তৃষা
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-১৯৫১): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (এটি ৪ খন্ডের উপন্যাস, যা প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দে। ১৯৫৬ সালে উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে তিতাস নদী ও নদী তীরবর্তী ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী সম্প্রদায়) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম-সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭৩ সালে এই উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মান করেন।),
- ‘সাদা হাওয়া’(১৯৯৬, নাগরিক ও রাজনৈতিক ধরনের উপন্যাস),
- ‘রাঙ্গামাটি’ (১৯৯৭)।
তাঁর রচিত অনুবাদ উপন্যাস - ‘জীবন-তৃষা’ আর্ভিং স্টোন এর উপন্যাস ‘Lust for Life’ এর অনুবাদ।
[সূত্রঃ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচনাবলী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
২৩.
‘হাতে-কলমে’ কোন সমাসের উদাহরণ?
  1. ক) অলুক তৎপুরুষ
  2. খ) অলুক দ্বন্দ্ব
  3. গ) সপ্তমী তৎপুরুষ
  4. ঘ) অলুক বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
যে সমাসে প্রত্যেকটি সমস্যমান পদের অর্থের সমান প্রাধান্য থাকে, তাকে দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন: দোয়াত-কলম, তাল-তমাল ইত্যাদি।
এবং যে দ্বন্দ্ব সমাসে কোন সমস্যমান পদের বিভক্তি লোপ হয় না, তাকে অলুক দ্বন্দ বলে।
যেমন: দুধে-ভাতে, হাতে-কলমে, জলে-স্থলে ইত্যাদি।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪.
নদী + অম্বু = কি হবে?
  1. ক) নদাম্বু
  2. খ) নদীম্বু
  3. গ) নদ্যম্বু
  4. ঘ) নদ্যাম্বু
ব্যাখ্যা
ই-কার কিংবা ঈ-কার এর পরে ই ও ঈ ভিন্ন অন্য কোন স্বর থাকলে ই বা ঈ এর স্থানে ‘য’ বা য-ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লিখা হয়।
যেমন-
অতি + অন্ত = অত্যন্ত
ইতি + আদি = ইত্যাদি
প্রতি + এক = প্রত্যেক
নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫.
‘প’ এর পরে ‘চ’ এবং ‘স’ এর পরে ‘ত’ এলে চ ও ত এর পরিবর্তে কোন বর্ণটি হয়?
  1. ক) শ
  2. খ) হ
  3. গ) ফ
  4. ঘ) ম
ব্যাখ্যা
‘প’ এর পরে ‘চ’ এবং ‘স’ এর পরে ‘ত’ এলে চ ও ত এর স্থলে শ হয়।
যেমন-
পাঁচ + শ = পাঁশ্‌শ ;
সাত + শ = সাশ্‌শ ;
পাঁচ + সিকা = পাঁশ্‌শিকা
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
কোন শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ?
  1. ক) চোষ্য
  2. খ) বিশিষ্টতা
  3. গ) রাজগণ
  4. ঘ) প্রাতরাশ
ব্যাখ্যা
‘চোষ্য’ শব্দটির প্রয়োগ অশুদ্ধ। এর সঠিক প্রয়োগ - ‘চূষ্য’।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২৭.
অপত্য অর্থে ‘ষ্ণ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে কোন শব্দে?
  1. ক) যাদব
  2. খ) বৈষ্ণব
  3. গ) শৈশব
  4. ঘ) শৈব
ব্যাখ্যা
অপত্য অর্থে ‘ষ্ণ’ প্রত্যয় যুক্ত হয়েছে যাদব (যদু + ষ্ণ) শব্দে। এরূপ মনু + ষ্ণ = মানব।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৮.
‘তোমার মঙ্গল হোক’ - এটা কি ধরনের বাক্য?
  1. ক) বিবৃতিমূলক বাক্য
  2. খ) ইচ্ছাসূচক বাক্য
  3. গ) আদেশ বাচক বাক্য
  4. ঘ) বিস্ময়সূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
উক্ত বাক্যটি ইচ্ছাসূচক বাক্য। এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্খা করা হয়।
এধরনের আরো কয়েকটি বাক্য - ঈশ্বর তোমাকে জয়ী করুন। পরীক্ষায় সফল হও। দীর্ঘজীবী হও।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯.
গৃহ শব্দের সমার্থ শব্দ নয় কোনটি?
  1. ক) নিকেতন
  2. খ) সদন
  3. গ) ধাম
  4. ঘ) নিধি
ব্যাখ্যা
গৃহ শব্দের সমার্থ শব্দ - আলয়, ভবন, নিলয়, নিকেতন, সদন, ধাম, বাটী, নিবাস, কক্ষ, নিকেত, আশ্রয়, বাসস্থান ইত্যাদি।
অন্যদিকে, নিধি শব্দের সমার্থক শব্দ - ধন, বিত্ত, অর্থ, সম্পদ, বিভব, বৈভব ইত্যাদি।
[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর]
৩০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) বিপদগ্রস্থকে সাহায্য কর।
  2. খ) কুপুরুষের মত কথা বল কেন?
  3. গ) শুধুমাত্র গায়ের জোড়ে কাজ হয় না।
  4. ঘ) তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
ব্যাখ্যা
শুদ্ধ বাক্যটি হলো - তারকারাজি আকাশে মিটমিট করে জ্বলছে।
অন্যান্য বাক্যের শুদ্ধরূপ :
- বিপদগ্রস্তকে সাহায্য কর।
- কাপুরুষের মতো কথা বল কেন?
- শুধু গায়ের জোরে কাজ হয় না।
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর
৩১.
কোনটি সন্ধিজনিত অশুদ্ধি?
  1. ক) অতলস্পর্শী
  2. খ) ফনীভূষণ
  3. গ) অহর্নিশি
  4. ঘ) শুধুমাত্র
ব্যাখ্যা
‘অতলস্পর্শী’ সন্ধিজনিত অশুদ্ধি। এর শুদ্ধরূপ - ‘অতলস্পর্শ’।
‘ফনীভূষণ’ ও ‘অহর্নিশি’ সমাসজনিত অশুদ্ধি। এগুলো শুদ্ধরূপ - ‘ফণিভূষণ’ ও ‘অহর্নিশ’।
‘শুধুমাত্র’ বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি। এর শুদ্ধরূপ - ‘শুধু’ অথবা ‘মাত্র’।
সূত্র: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৩২.
পুরস্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার”! - বাক্যটির নিম্নরেখ পদে স/ষ ব্যবহারে -
  1. ক) প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  2. খ) প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  3. গ) দুটোই শুদ্ধ
  4. ঘ) দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
র-ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে ‘ষ’ হয়। যথাঃ পরিষ্কার।
কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যেমন পুরস্কার।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৩৩.
Honorary শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কোনটি?
  1. ক) অনশন
  2. খ) স্নাতক
  3. গ) অবৈতনিক
  4. ঘ) জিম্মি
ব্যাখ্যা
Honorary শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ অবৈতনিক।
অনশন ধর্মঘট - hunger-strike
স্নাতক - Graduate
জিম্মি - Hostage
সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমির অভিধান।
৩৪.
‘বস্তু’ শব্দের যুক্তবর্ণটিকে বিশ্লেষণ করলে কি পাওয়া যাবে?
  1. ক) স + ত + ত
  2. খ) স + ত + উ
  3. গ) ষ + ত + ত
  4. ঘ) স + ও
ব্যাখ্যা
‘বস্তু’ শব্দের যুক্তবর্ণটিকে বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যাবে - স + ত + উ।
৩৫.
‘বাংলা’ শব্দে কয়টি অক্ষর রয়েছে?
  1. ক) ২ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৫ টি
ব্যাখ্যা
‘বাংলা’ শব্দে দুইটি অক্ষর আছে। বাগযন্ত্রের সাহায্যে একটি মাত্র প্রয়াসে উচ্চারিত শব্দাংশের নাম অক্ষর। অক্ষর আর বর্ণ এক জিনিস নয়। অক্ষর এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Syllable.
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ আর্কাইভ
৩৬.
কোন বাক্যে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি
  2. খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে
  3. গ) ঝির ঝির করে বাতাস বইছে
  4. ঘ) ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
ব্যাখ্যা
ভালো ভালো আম নিয়ে এসো বাক্যটিতে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য বাক্যগুলোতে -
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি (পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে)
ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে (আগ্রহ বোঝাতে)
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে (ধ্বনিব্যঞ্জনা)
রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ