• সঠিক উত্তর হলো: ক) Business to Business (B2B).
Business to Business (B2B) হলো সেই ধরনের লেনদেন যেখানে এক বা একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পণ্য বা সেবা বিক্রি বা ক্রয় করে। এখানে চূড়ান্ত ভোক্তা সরাসরি জড়িত থাকে না। উদাহরণ হিসেবে একটি কাঁচামাল সরবরাহকারী কোম্পানি যে উৎপাদনকারী ফার্মকে কাঁচামাল বিক্রি করে, সেটি B2B লেনদেন। এই ধরনের লেনদেন সাধারণত বৃহৎ পরিমাণে হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বা সরবরাহ চেইন ভিত্তিক হয়। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশ্বাস, মান নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রমাগত সরবরাহ নিশ্চিত করাই B2B-এর মূল বৈশিষ্ট্য। এটি খুচরা বিক্রয় বা ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি লেনদেনের তুলনায় আলাদা।
• কেন অন্য অপশন সঠিক নয়?
খ) Consumer to Business (C2B):
- এখানে ভোক্তা (Consumer) কোনো ব্যবসায়ীকে পণ্য বা সেবা দেয়।
- উদাহরণ: একজন ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার কোম্পানিকে লোগো ডিজাইন বিক্রি করছে।
- প্রশ্নে “একটি বা একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন” বলা হয়েছে, যা ভোক্তা জড়িত নয়। তাই C2B সঠিক নয়।
গ) Consumer to Consumer (C2C):
- এখানে ভোক্তা একে অপরের সঙ্গে বিক্রি/ক্রয় করে।
- উদাহরণ: OLX বা eBay-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তি একে অপরকে পণ্য বিক্রি করে।
- যেহেতু প্রশ্নে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জড়িত, C2C এখানে প্রযোজ্য নয়।
ঘ) Business to Consumer (B2C):
- এখানে ব্যবসায়ী সরাসরি ভোক্তাকে পণ্য বা সেবা বিক্রি করে।
- উদাহরণ: অ্যামাজন বা রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কেনা।
- প্রশ্নে বলা হয়েছে “বিজনেস টু বিজনেস লেনদেন”, তাই B2C নয়।
• ই-কমার্স:
- ডিজিটাল উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং সঞ্চারণের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় সংক্রান্ত আদান-প্রদানকে ই-কমার্স বলে।
- ই-কমার্স সিস্টেমে ইন্টারনেট, এক্সট্রানেট এবং ইন্ট্রানেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা, ভোক্তা এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মধ্যে সংযোগ সাধন করা হয়।
• সেবা ও পণ্য লেনদেনের ভিত্তিতে ই-কমার্সকে সাধারণত নিমোক্ত ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা যায়। যথা:
১. ব্যবসা থেকে ব্যবসা (Business to Business- B2B):
- দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাইকারি কেনাবেচাকে বিজনেস টু বিজনেস (B2B) বলা হয়।
- B2B ই-কমার্সের উদাহরণ : alibaba.com, sindabad.com ইত্যাদি।
২. ব্যবসা থেকে ভোক্তা (Business to Consumer- B2C):
- এক বা একাধিক ক্রেতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে খুচরা বা পাইকারি লেনদেনসমূহকে বিজনেস টু কনজিউমার এর অন্তর্গত।
- B2C ই-কমার্সের উদাহরণ : amazon.com, rokomari.com, othoba.com ইত্যাদি।
৩. ভোক্তা থেকে ব্যবসা (Consumer to Business- C2B):
- যখন কোনো ভোক্তা এককভাবে অন্য কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি লেনদেন করে তখন তাকে ভোক্তা থেকে ব্যবসায় বা কনজিউমার টু বিজনেস বলা হয়।
- এ ধরনের সিস্টেমে ভোক্তারা বা গ্রাহকরা সাধারণত কোনো বিজনেস সাইট থেকে পণ্য ক্রয়ের পরিবর্তে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করে থাকে।
- C2B ই-কমার্সের উদাহরণ : monster.com, ajkerdeal.com, daraz.com ইত্যাদি।
৪. ভোক্তা থেকে ভোক্তা (Consumer to Consumer- C2C):
- অন্য কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ ছাড়াই ভোক্তা থেকে ভোক্তার লেনদেনকে ভোক্তা থেকে ভোক্তা বা কনজিউমার টু কনজিউমার (C2C) বলা হয়।
- এ জাতীয় ব্যবসা কোনো বিজনেস মিডলম্যান থাকে না।
- C2C ই-কমার্সের উদাহরণ : ebay.com, taobao.com ইত্যাদি।
উৎস: ই-কমার্স, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।