পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]

পরীক্ষা৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৩৮
সিলেবাস
Exam - 14 Modern Muslim Philosophers: Shah Waliullah Dehlawi and Muhammad Iqbal. Indian Philosophy: Buddhism, Sakhya, Naya and Vedanta Schools [Source: Class - 09 and Relevant Books]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১]

৪৯তম বিসিএস ⎯ দর্শন [২১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩৮ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি  বৌদ্ধ দর্শনের আর্য সত্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দুঃখ আছে
  2. দুঃখের পরিণাম আছে
  3. দুঃখের নিবৃত্তি আছে
  4. দুঃখ-নিবৃত্তির মার্গ  আছে
সঠিক উত্তর:
দুঃখের পরিণাম আছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখের পরিণাম আছে
ব্যাখ্যা

চারিটি আর্য-সত্য (The Four Noble Truths) :

গভীর চিন্তার এবং কঠোর সাধনার ফলে বুদ্ধদেব যে চারিটি সত্যের সন্ধান পাইয়াছিলেন সেই সত্যগুলি হইল (১) দুঃখ আছে, (২) দুঃখের কারণ আছে, (3) দুঃখের নিবৃত্তি আছে, এবং (৪) দুঃখ-নিবৃত্তির মার্গ বা পথও আছে । এই চারিটি সত্যকে আর্য-সত্য বলা হয় । 

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

.
আল্লামা ইকবাল কোন প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বেলুচিস্তান
  2. কাশ্মীর
  3. খাইবার পাখতুন
  4. পাঞ্জাব
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা

আল্লামা ইকবাল(১৮৭৩-১৯৩৮ খ্রিঃ)

উপ-মহাদেশীয় মুসলিম চিন্তাধারার ক্ষেত্রে আল্লামা মোহাম্মদ ইকবাল ছিলেন একজন আলোড়ন সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব । তিনি ছিলেন একাধারে একজন বিখ্যাত কবি ও দার্শনিক। তাঁর চিন্তাধারার মূল লক্ষ্য ছিল ইসলাম ধর্মকে আধুনিক দর্শন ও বিজ্ঞানের আলোকে ব্যাখ্যা করা। নিষ্ক্রিয়তা ও জীবনবিমুখ বৈরাগ্য পরিহার করে মুসলমানদেরকে তিনি দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবমুখী ও সক্রিয় ইবার উপদেশ দেন। অবিভক্ত ভারতরে (বর্তমান পাকিস্তান) পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে ইকবালের জন্ম হয় ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে ২২শে ফেব্রুয়ারি। 

Source: মুসলিম দর্শন- ড. আমিনুল ইসলাম 

.
আল্লামা ইকবালের স্বজ্ঞা সম্পর্কিত দর্শনে কার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়?
  1. আল গাজালী 
  2. রাসেল
  3. বার্গসঁ
  4. ইবনে সিনা
সঠিক উত্তর:
বার্গসঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার্গসঁ
ব্যাখ্যা

মনোবিকাশের উচ্চতম পর্যায়ে তিনি এমন এক ধরনের বিশ্বাস করতেন যা দেশ-কাল-নির্ভর স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার স্তরের ঊর্ধ্বে । ইকবাল অস্তিত্বের এই স্তরকেই স্বজ্ঞা বলে অভিহিত করেছেন। অতীন্দ্রিয় অনুভূতির মাধ্যমে আমরা এই স্তরের জ্ঞান লাভ করি। এটি এমন এক ধরনের অনন্য বা অনুপম অভিজ্ঞতা যেখানে আমরা প্রত্যক্ষণ ও চিন্তনের সীমা অতিক্রম করতে পারি।উল্লেখ্য যে, ইকবাল ফরাসি দার্শনিক বার্গসোঁর চিন্তাধারা (১৮৫৯-১৯৪১) দ্বারা অনুপ্রাণিত ও প্রভাবিত হলেও, স্বজ্ঞা সম্পর্কিত তাঁর ধারণা বার্গসোঁর ধারণার চেয়ে ভিন্নতর। স্বজ্ঞা বলতে বার্গসোঁ বুঝেছিলেন এক ধরনের বৌদ্ধিক অনুভূতিকে । তাঁর মতে, স্মৃতি বিষয়ক উপকরণাদি স্বজ্ঞাত অনুভূতি থেকে বাদ দেয়া উচিত। কিন্তু ইকবালের মতে, এ ধরনের বিয়োজন অহমকে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের নামান্তর। কেননা, তাঁর মতে, স্মৃতির সমন্বয়ে অহমের ধারণা গঠিত হয়ে থাকে।
Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম 

.
ইকবালের মতে, খুদীর বিকাশের জন্য ব্যক্তির....................... অপরিহার্য। 
  1. দৈহিক বিকাশ
  2. কর্মবিমুখতা 
  3. অমরত্ব 
  4. ইচ্ছার স্বাধীনতা 
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছার স্বাধীনতা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছার স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

আল্লাম ইকবালের মতে, অহং বা খুদী অমর ও অবিনশ্বর। তবে খুদীর এই অমরত্ব অর্জন করা মানুষের জন্মগত অধিকার নয় । একে ক্রমাগত ব্যক্তি প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। অলস ও কর্মবিমুখ মানুষের মধ্যে খুদীর চৈতনা নাই বললেই চলে বা থাকলেও তা নিষ্প্রভ ও নিস্তেজ। এ কারণেই, অলস বা কর্মবিমুখ ব্যক্তিগন খুদীর স্থায়ী অস্তিত্বের অনুভূতি কখনো অনুভব বা অর্জন করতে পারে না । খুদীর বিকাশের জন্য ব্যক্তির ইচ্ছার স্বাধীনতা অপরিহার্য। তার মতে খুদী বা অহমের পূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে সমাজে অতি মানবের(superman) আবির্ভাব সম্ভব। 

Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী।

.
শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভীর প্রকৃত নাম কি?
  1. আবুল ইবনে আহমাদ কুতুবুদ্দীন
  2. আবুল ফায়াদ আহমাদ নিজামউদ্দিন 
  3. ইবনে ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন
  4. আবুল ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন
সঠিক উত্তর:
আবুল ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আবুল ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন
ব্যাখ্যা

শাহ ওয়ালী উল্লাহ ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবুল ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন। তিনি তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, উসূল, মানতিক, কালাম, তাসাউফ, চিকিৎসা শাস্ত্র, দর্শন, জ্যামিতি ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা লাভ করেন।

Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম।

.
হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা -  গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. শাহ ওয়ালীউল্লাহ 
  2. আল কিন্দি
  3. আল্লামা ইকবাল 
  4. আল ফারাবী
সঠিক উত্তর:
শাহ ওয়ালীউল্লাহ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহ ওয়ালীউল্লাহ 
ব্যাখ্যা

শাহ ওয়ালী উল্লাহ প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন। এর মধ্যে হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা, ইযারাতুল খাফা, ফাতহুর রাহমান ফী তরজমানুল কুরআন, আল-ফাওযূল কবীর, ফাতহুল খবীর, খায়র কাছীর, আল-কাওলুল জামীল,  বিশেষভাবে উল্লেখ্যযোগ্য।

Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম।

.
শাহ ওয়ালীউল্লাহ কোন মোঘল সম্রাটের আমলে ইন্তেকাল করেন?
  1. সম্রাট বাহাদুর শাহ
  2. সম্রাট হুমায়ুন 
  3. সম্রাট আলমগীর 
  4. সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীর
ব্যাখ্যা

শাহ ওয়ালী উল্লাহ ১৭০৩ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবুল ফায়াদ আহমাদ কুতুবুদ্দীন।
১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট দ্বিতীয় আলমগীরের শাসনকালে দিল্লীতেই অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ মুসলিম চিন্তানায়ক শাহ ওয়ালী উল্লাহ পরলোক গমন করেন ।
Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম 

.
দেশ ও কাল সম্পর্কে নিচের কোনটি শাহ ওয়ালীউল্লাহর মন্তব্য নয়?
  1. কাল ব্যতিরেকে দেশ এবং দেশ ব্যতিরেকে কাল অভাবনীয়
  2. দেশ কাল দুটি পৃথক ক্যাটাগরি
  3. দেশ-কালের আলোকেই জড়কে উপলব্ধি করা যায়
  4. জড়, দেশ-কালেরই বাহ্য আকার স্বরূপ 
সঠিক উত্তর:
দেশ কাল দুটি পৃথক ক্যাটাগরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেশ কাল দুটি পৃথক ক্যাটাগরি
ব্যাখ্যা

শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেশ ও কালের স্বরূপ প্রসঙ্গে বলেছেন, কাল ব্যতিরেকে দেশ এবং দেশ ব্যতিরেকে কাল অভাবনীয় । এ দুটি পৃথক ক্যাটাগরি নয়, বরং একই দেশ-কাল ধারাবাহিকতার অংশস্বরূপ। দেশ ও কাল অবিচ্ছেদ্য এবং তাদের সম্বন্ধ যদি তেমনটি না হতো তা হলে পৃথিবী অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় নিপতিত হতো এবং এর পরিণামে জগৎ অনিবার্য ধ্বংসের সম্মুখীন হতো। আমরা যাকে জড় বলি তা দেশ-কালেরই বাহ্য আকার স্বরূপ। বস্তুত দেশ-কালের আলোকেই জড়কে বোঝা ও উপলব্ধি করা যায়।
Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম 

.
গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কোথায়?
  1. অভয়নগর
  2. লুম্বিনী 
  3. তক্ষশীলায়
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লুম্বিনী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুম্বিনী 
ব্যাখ্যা

গৌতম বুদ্ধের  আদি নাম ছিল গৌতম বা সিদ্ধার্থ। তিনি জৈনধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মহাবীরের সমসাময়িক।
সিদ্ধার্থের পিতা ছিলেন শাক্য বংশীয় রাজা শুদ্ধোদন। মাতা মায়াদেবী। মায়াদেবী কপিলাবস্তু থেকে পিতার রাজ্যে যাবার পথে লুম্বিনি গ্রামে (অধুনা নেপালের অন্তর্গত) সিদ্ধার্থের জন্ম দেন।
Source: Britannica 
( বি. দ্র:  অপশনে লুম্বিনী না থাকলে কপিলাবস্তু দাগাবেন)

১০.
জগতের অভিব্যক্তি সম্পর্কে আল্লামা ইকবালের মতের সাথে কোন মতবাদের সাদৃশ্য পাওয়া যায়?
  1. যান্ত্রিকতাবাদ 
  2. জড়বাদ
  3. উদ্দেশ্যবাদ
  4. উন্মেষবাদ
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্যবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উদ্দেশ্যবাদ
ব্যাখ্যা

আল্লামা ইকবাল ইকবাল উদ্দেশ্যবাদ (teleology)-এর একজন ঘোর সমর্থক। তবে, উদ্দেশ্য বলতে বাইরের কোন নিয়ন্ত্রণকে তিনি বুঝেননি। তাঁর মতে, “জীবন যতই বিকশিত ও বিস্তৃত হচ্ছে, ততই নতুন নতুন লক্ষ্য, নতুন নতুন উদ্দেশ্য ও নতুন নতুন মূল্যমান বিকশিত হচ্ছে”। জগত স্থির নয়, নিয়ত পরিবর্তনশীল ও ক্রমশ বর্ধনশীল । প্রতিমুহূর্তে নতুন নতুন গুণের আবির্ভাব ঘটে এ জগতে। এই নতুন নতুন গুণের আবির্ভাবের পেছনে প্রজ্ঞা ও পরিকল্পনা উভয়ই কাজ করছে এবং একই লক্ষ্য অর্জনের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
Source- মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই তালুকদার।

১১.
নিচের কোনটি ত্রিপিটকের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. প্রণয় পিটক
  2. বিনয় পিটক
  3. সুত্ত পিটক
  4. অভিধম্ম পিটক
সঠিক উত্তর:
প্রণয় পিটক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রণয় পিটক
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেবের উপদেশাবলী প্রথমে মুখে মুখে প্রচারিত হইলেও পরে তাঁহার তিনজন বুদ্ধদেবের তিনজন প্রিয় প্রিয় শিষ্য তাঁহার উপদেশাবলীকে তিনটি গ্রন্থে পালিভাষায় লিপিবদ্ধ করেন। এই তিনটি গ্রন্থ 'ত্রিপিটক' (তিনটি পেটিকা) নামে খ্যাত। এই পিটকগুলির নাম—বিনয় পিটক, সুত্ত-পিটক এবং অভিধম্ম- পিটক। 

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১২.
কোন বৌদ্ধ মতাদর্শকে দক্ষিণ দেশীয় মতবাদ হিসেবে অভিহিত করা হয়?
  1. হীনযান মত
  2. মহাযান মত
  3. (ক) ও (খ) উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
হীনযান মত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হীনযান মত
ব্যাখ্যা

হীনযানপন্থীদের মতবাদ পালি ভাষায় লিখিত এবং ত্রিপিটকের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই মতবাদ প্রাচীনপন্থী স্থবিরদের মতবাদ হীনযানীদের মতবাদকে বলিয়া ইহাকে স্থবিরবাদ বা সেরাবাদও বলা হয়। সিংহল, ব্রহ্মদেশ, শ্যামদেশ প্রভৃতি দক্ষিণ দেশে এই ধর্মমত প্রচলিত ছিল বলিয়া হীনযান মতবাদকে দক্ষিণদেশীয় মতবাদ নামেও অভিহিত করা হয় । সৌত্রান্তিক ও বৈভাষিক দার্শনিক সম্প্রদায় হীনযান ধর্ম-সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১৩.
নিচের কোনটি সাংখ্য দর্শন সম্পর্কে সত্য নয়?
  1. 'সাংখ্য দর্শন' দ্বৈতবাদী দর্শন
  2. সাংখ্য দর্শনকে নিরীশ্বরবাদী
  3. সাংখ্য দর্শনের মতে পুরুষ হইতে জগতের সৃষ্টি
  4. দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তিকে পুরুষার্থ (চরম লক্ষ্য) 
সঠিক উত্তর:
সাংখ্য দর্শনের মতে পুরুষ হইতে জগতের সৃষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাংখ্য দর্শনের মতে পুরুষ হইতে জগতের সৃষ্টি
ব্যাখ্যা

'সাংখ্য দর্শন' দ্বৈতবাদী দর্শন। ইহাতে পুরুষ এবং প্রকৃতি, এই দুই মূল তত্ত্বকে স্বীকার করা হইয়াছে । সাংখ্য দর্শনকে নিরীশ্বর সাংখ্যও বলা হয়, যেহেতু সাংখ্য সূত্রে মহর্ষি কপিল ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেন নাই। ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনের মত সাংখ্য দর্শনও দুঃখের আত্যন্তিক নিবৃত্তিকে পুরুষার্থ (চরম লক্ষ্য) বলিয়া মনে করে। সাংখ্য দর্শনের প্রথম সূত্রেই বলা হইয়াছে যে, ত্রিবিধ দুঃখের (যথা, আধ্যাত্মিক, আধিদৈবিক এবং আধিভৌতিক) আত্যন্তিক নিবৃত্তিই পরম পুরুষার্থ (ত্রিবিধ দুঃখাত্যন্ত-নিবৃত্তিরত্যন্ত পুরুষার্থঃ)। সাংখ্য দর্শন দুইটি মূল তত্ত্বে বিশ্বাসী, – যথা, পুরুষ এবং প্রকৃতি। সাংখ্য দর্শনের মতে প্রকৃতি হইতে জগতের সৃষ্টি এবং প্রকৃতিতেই জগৎ লয়প্রাপ্ত হয়; এক এবং অদ্বিতীয় প্রকৃতিই জগতের উপাদান কারণ।
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১৪.
সাংখ্যমতে "প্রকৃতির" বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. প্রকৃতি জগতের মূল উপাদান কারণ
  2. ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতিকে জানা যায়
  3. প্রকৃতি অব্যক্ত
  4. উপর্যুক্ত সবগুলোই প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য 
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতিকে জানা যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতিকে জানা যায়
ব্যাখ্যা

প্রকৃতি সাংখ্য দর্শনের একটি মূল তত্ত্ব। প্রকৃতি প্রধান ও অব্যক্ত নামেও পরিচিত। সাংখ্য দার্শনিকদের মতে জড়জগতের আদি উপাদান কারণ হইল প্রকৃতি, তবে প্রকৃতি অব্যক্ত। ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে প্রকৃতিকে জানা যায় না, যেহেতু প্রকৃতি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নহে। প্রকৃতিকে জানিতে হয় অনুমানের সাহায্যে।প্রকৃতিই হইল জগতের মূল উপাদান কারণ । 

Source: ভারতীয় দর্শনে - অর্জুন বিকাশ।

১৫.
নিচের কোনটি আল্লামা ইকবালের "পরম খুদীর" বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. পরম খুদী সর্বশক্তিমান 
  2. পরম খুদী অনাদি ও অনন্ত 
  3. পরম খুদীর সাথে সসীম খুদীর সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব নয়
  4. পরম খুদী নিত্য
সঠিক উত্তর:
পরম খুদীর সাথে সসীম খুদীর সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পরম খুদীর সাথে সসীম খুদীর সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা

ইকবালের মতে, আল্লাহ পরম সত্তা এবং মহান ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এক খুদী । তিনি এক অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব । আল্লাহ স্বয়ং নিজেই পরমসত্তা ও পরিপূর্ণ অহম। তিনিই কেবল পরিপূর্ণ অহম চেতনা ও পূর্ণ স্বাতন্ত্রের অধিকারী। এই ব্যক্তিত্ব অর্জনই সব সসীম অহমের লক্ষ্য। 

পরম খুদীর বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ 

এক, পরম খুদী বা অহম সর্বজ্ঞাতা; পরম খুদীর ক্ষেত্রে জ্ঞাতা ও জ্ঞেয় বস্তু বা বিষয় ও বিষয়ী— এ দুই-ই অভিন্ন । সৃষ্টির কোন রহস্য তাঁর জানার বাইরে নয়।

দুই, পরম খুদী বা অহম সর্বশক্তিমান। আল্লাহর সর্বশক্তিমত্তা সুনির্দিষ্ট নিয়ম, ঐক্য ও শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে প্রকাশ পায় ।

তিন, পরম খুদী চিরন্তন। আল্লাহর সত্তার ক্ষেত্রে আদি বা অন্ত নেই। তিনি অনাদি ও অনন্ত ।

চার, পরম খুদী বা আল্লাহর সঙ্গে সসীম খুদীর সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব।

 Source : মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম।

১৬.
বৌদ্ধ ধর্মের দ্বিতীয় পিটকে কিসের উল্লেখ রয়েছে?
  1. বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আচরণ সম্পর্কীয় নিয়মাবলী
  2. দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা
  3. বুদ্ধদেব-কথিত উপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প 
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব-কথিত উপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধদেব-কথিত উপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প 
ব্যাখ্যা

পিটকগুলির নাম—বিনয় পিটক, সুত্ত-পিটক এবং অভিধম্ম- পিটক। প্রথম পিটকে আছে বৌদ্ধ সঙ্ঘের নিয়মাবলী, অর্থাৎ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আচরণ কি রকম হওয়া উচিত তৎসম্পর্কীয় নিয়মাবলী; দ্বিতীয় পিটকে আছে বুদ্ধদেব-কথিত উপদেশমূলক ছোট ছোট গল্প এবং তৃতীয় পিটকে আছে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা। 
 Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ 

১৭.
বুদ্ধদেবের মতে নিচের কোনটি সকাম কর্ম নয়?
  1. ধ্যান
  2. রাগ
  3. মোহ
  4. জাত
সঠিক উত্তর:
ধ্যান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্যান
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব দুই রকম কর্মের উল্লেখ করিয়াছেন; যথা, সকাম কর্ম এবং নিষ্কাম কর্ম। রাগ-দ্বেষ-মোহ-জাত কৰ্মই হইল সকাম কর্ম। মানুষের সকাম কর্মই তাহার মধ্যে বিষয়াসক্তি তথা বন্ধনের সৃষ্টি করিয়া তাহার পুনর্জন্ম ঘটায়; কিন্তু নিষ্কাম কর্ম (অর্থাৎ জগৎ ও জীবনের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞানলাভের পর যে-কর্ম করা হয়) বিষয়ানুরাগ সৃষ্টি করে না। সুতরাং নিষ্কাম কর্মের ফলে পুনর্জন্মের কোন সম্ভাবনা থাকে না। উক্ত দুই রকম কর্মের সঙ্গে বুদ্ধদেব দুই রকমের বীজ বপনের তুলনা করিয়াছেন। তাঁহার মতে সকাম কর্ম হইল ফলদায়ী বীজ বপন, আর নিষ্কাম কর্ম হইল শুষ্ক ও বন্ধ্যা বৌদ্ধ মতে বীজ বপন।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ।

১৮.
সাংখ্য মতে প্রমাণ কত প্রকার?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

সাংখ্য মতে প্রমাণ তিন প্রকার : প্রত্যক্ষ(Perception), অনুমান(Inference) ও শব্দ (Testimony)। উপমান (Comparison), অর্থাপত্তি (Postulation), অনুপলব্ধি (Non-cognition) প্রভৃতি অন্যান্য প্রমাণগুলি এই তিনটি প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত বলিয়া সাংখ্য দার্শনিকগণ ইহাদের স্বতন্ত্র প্রমাণ বলিয়া স্বীকার করেন নাই ।
source ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

১৯.
আল্লামা ইকবাল অনুসারে নিচের কোনটি খুদীর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. খুদী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তা
  2. খুদী বাস্তব সত্তা
  3. খুদী অমর
  4. উপর্যুক্ত সবগুলোই খুদীর বৈশিষ্ট্য 
সঠিক উত্তর:
খুদী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খুদী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সত্তা
ব্যাখ্যা

(ক) সঠিক নয়, কারণ খুদী ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কোনো সত্তা নয় বরং অতীন্দ্রিয় অনুভূতি তথা স্বজ্ঞার মাধ্যমে খুদীর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়। খুদী স্বাধীন, বাস্তব, অমর ও অবিনশ্বর। 
Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

২০.
বুদ্ধেদেব দ্বিতীয় আর্য সত্যতে কার্যকারণের নিয়মকে কি নামে অভিহিত করেন? 
  1. প্রতীত্যসমুৎপাদ 
  2. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতার নিয়ম
  3. সম্যক নিয়ম
  4. দ্বাদশ নিদান
সঠিক উত্তর:
প্রতীত্যসমুৎপাদ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীত্যসমুৎপাদ 
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় আর্য-সত্য-দুঃখের কারণ আছে (The Second Noble Truth-There is Cause of Suffering) :

বুদ্ধদেবের দ্বিতীয় সত্যটি স্বাভাবিক কার্য-কারণ' নিয়ম হইতে নিঃসৃত। কার্য কারণ নিয়ম অনুসারে কোন কিছুই সত্যহীন নয়, সবই শর্তাধীন। কারণ ব্যতিরেকে কার্যের সৃষ্টি হয় না। সুতরাং দুঃখেরও কারণ আছে। যে স্বাভাবিক কার্য-কারণ নিয়মে বুদ্ধদেব বিশ্বাসী, সেই নিয়মকে তিনি 'প্রতীত্যসমুৎপাদ' বলিতেন। এই নিয়ম অনুসারে তিনি দুঃখের কারণ নির্দেশ করিয়াছেন । বৌদ্ধ দর্শনে দুঃখের কারণকে ‘দুঃখ-সমুদায়' বলা হয়।
 Source: ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ

২১.
সাংখ্য দার্শনিকদের মতে ন্যায় অনুমানে কয়টি অবয়ব থাকে?




সঠিক উত্তর:

উত্তর
সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা

ন্যায় দার্শনিকদের মত সাংখ্য দার্শনিকগণও বলেন যে, প্রতিটি ন্যায় (Syllogism) অনুমানে পাঁচটি অবয়ব বা তর্কবাক্য থাকিবে; যথা (১) প্রতিজ্ঞা, (২) হেতু, (৩) উদাহরণ, (৪) উপনয় ও (৫) নিগমন । যেমন,

(১) পর্বতটি অগ্নিমান (প্রতিজ্ঞা)

২) কারণ ইহা ধূমবান (হেতু)

(৩) সকল ধূমবান বস্তুই অগ্নিমান (উদাহরণ)

(৪) পর্বতটি ধূমবান (উপনয়)

(৫) পর্বতটি অগ্নিমান (নিগমন) ।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ।

২২.
"একজন কৃষক কর্তৃক তাহার কৃষি সম্পর্কে বর্ণনা" - সাংখ্যমতে এটি কোন প্রকারের শব্দ প্রমাণ? 
  1. লৌকিক
  2. বৈদিক
  3. (ক) ও (খ) উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লৌকিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লৌকিক
ব্যাখ্যা

শব্দ বা আপ্তবাক্য (Testimony) – সাংখ্য মতে শব্দ বা আপ্তবাক্য তৃতীয় এবং সাংখ্য মতে শব্দ বা সর্বশেষ প্রমাণ। যে সকল বস্তুকে প্রত্যক্ষ বা অনুমানের সাহায্যে জানা যায় না তাহাদের শব্দ প্রমাণের সাহায্যে জানা যায় । সর্বশেষ প্ৰমাণ শব্দজ্ঞানের যাথার্থ্য (Validity) প্রধানত যে শর্তের উপর নির্ভর করে, সে শর্তটি হইল শব্দ বা আপ্ত-বাক্যের অর্থ উপলব্ধি করা। আপ্তবাক্যের সঠিকভাবে বুঝিতে না পারিলে যথার্থ জ্ঞান সম্ভব নহে ।

শব্দ দুই প্রকারের লৌকিক এবং বৈদিক। লৌকিক শব্দ হইল বিশেষ ও বিশ্বাসযোগ্য সাধারণ লোকের বচন, যেমন, একজন কৃষক কর্তৃক তাহার কৃষি সম্পর্কে বর্ণনা। সাংখ্য দার্শনিকগণ লৌকিক শব্দকে স্বতন্ত্র প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ করেন না । কারণ লৌকিক শব্দ-জ্ঞানকে প্রত্যক্ষ ও অনুমানের সাহায্যে লাভ করা যায়। 

সাংখ্য মতে কেবল বৈদিক শব্দ স্বতন্ত্র প্রমাণ । বৈদিক শব্দ হইল বেদের বচন। বেদ দেবতা, স্বর্গ, নরক, পাপ, পুণ্য প্রভৃতি প্রত্যক্ষের অতীত এবং অনুমানের অগম্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দান করে।
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

২৩.
অষ্টাঙ্গিক মার্গের অন্তর্ভুক্ত, "সম্যক সমাধি" দ্বারা কি বুঝায়?
  1. রাগ ও দ্বেষ, বর্জন করিবার দৃঢ় ইচ্ছা
  2. সদুপায়ে জীবনযাত্রা নির্বাহ
  3. মনে সৎ চিন্তা আনয়ন
  4. মনঃসংযোগ 
সঠিক উত্তর:
মনঃসংযোগ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনঃসংযোগ 
ব্যাখ্যা

অষ্টাঙ্গিক মার্গ(Eight fold path)

(১) সম্যক দৃষ্টি (Right views)—চারিটি আর্য-সত্য সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান হইল আর্য-সত্যগুলি সম্পর্কে সম্যক দৃষ্টি।

(২) সম্যক্ সংকল্প (Right determination) — পার্থিব বস্তু সম্পর্কে আসক্তি, ভোগবিলাস, হিংসা, রাগ ও দ্বেষ, বর্জন করিবার দৃঢ় ইচ্ছাই সম্যক সংকল্প।

(৩) সম্যক্ বাক্ বা বাক্ সংযম (Right speech)—মিথ্যাকথা, কটুকথা, অসার কথা, পরনিন্দা প্রভৃতি বর্জন করাই বাক সংযমের লক্ষণ। বুদ্ধদেব বলেন, কেবল সৎ- সংকল্প গ্রহণ করিলে মুক্তি আসিবে না, সংকল্প অনুসারে কাজও করিতে হইবে। এইজন্য প্রথমেই বাক্ সংযম প্রয়োজন। কারণ বাক্যের নিয়ন্ত্রণ হইতে মুক্তিকামীর আত্মনিয়ন্ত্রণ আরম্ভ হয় । 

(৪) সম্যক্ কর্মান্ত বা সংযত আচরণ (Right conduct)—অহিংসা, অস্তেয় (অচৌর্য), ব্রহ্মচর্য (অবৈধ ইন্দ্রিয়-সম্ভোগ-বিরতি), সত্য ও মাদকদ্রব্য বর্জন এই পঞ্চশীল (পঞ্চ আচরণ) সম্যক্ কর্মান্তেরই অন্তর্গত। 

(৫) সম্যক্ আজীব (Right livelihood)— সদুপায়ে জীবনযাত্রা নির্বাহ করাই হইল ‘সম্যক আজীব'। 

(৬) সম্যক্ ব্যায়াম(Right effort) মনে দৃঢ়মূল কুচিন্তার বিনাশ, নূতনভাবে কুচিন্তার উৎপত্তি নিবারণ, মনে সৎ চিন্তা আনয়ন ও তাহাকে সংরক্ষণ করিবার প্রচেষ্টাই সম্যক ব্যায়াম।

(৭) সম্যক স্মৃতি (Right mindfulness) জগৎ, শরীর, মন ও ইন্দ্রিয়াদি সবই অনিত্য, জীবন ক্ষণস্থায়ী প্রভৃতি তত্ত্বকথা সকল সময় স্মরণে রাখাই ‘সম্যক স্মৃতি' ।

(৮) সম্যক সমাধি (Right concentration) মনঃসংযোগের নামই সমাধি, সম্যক সমাধিই অষ্টমার্গের শেষ স্তর। যে-ব্যক্তি পূর্বোক্ত সাতটি নীতির অধিকারী হইয়াছে তিনিই 'সম্যক সমাধির মাধ্যমে নির্বাণ লাভ করিতে পারেন। সমাধি বা মনঃসংযোগের চারিটি স্তর আছে।

 Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

২৪.
"আমাকে যদি একটি মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক করা হতো,তাহলে প্রথমে সেই রাষ্ট্রকে একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতাম" - উক্তিটি কার?
  1. আল্লামা ইকবাল 
  2. আল ফারাবী
  3. ইবনে রুশদ
  4. শাহ ওয়ালীউল্লাহ 
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল 
ব্যাখ্যা

ইকবাল চরম পুজিবাদের( extreme capitalism) বা সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী। তার মতেই এটি জনগণের অর্থনৈতিক দুর্দশার মূল কারণ। তিনি একধরণের সমাজতন্ত্রের সমর্থন করেন। তার মতে ইসলাম ও সমাজতন্ত্র বিরোধী নয় বরং পরিপূরক। তিনি বলেন,

" একজন সমাজতন্ত্রী অজ্ঞাতে হলেও বহুলাংশে আল্লাহর কাজ করে থাকেন"  তিনি আরোও বলেন,

" আমাকে যদি একটি মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক করা হতো,তাহলে প্রথমে সেই রাষ্ট্রকে একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করতাম"

Source: মুসলিম দর্শন পরিচিতি - আব্দুল হাই ঢালী

২৫.
বৌদ্ধদের দ্বাদশ নিদানের ত্রিকালের ভবিষ্যৎ জীবনের অন্তর্গত কোনটি?
  1. অবিদ্যা
  2. ষড়ায়তন
  3. জাতি
  4. বেদনা
সঠিক উত্তর:
জাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাতি
ব্যাখ্যা

বৌদ্ধগণ উক্ত দ্বাদশ নিদান বা ভবচক্রকে ত্রিকালের হিসাবে ভাগ করেন: 

(১) অবিদ্যা ও (২) সংস্কার -  অতীত জীবন

(৩) বিজ্ঞান (৪) নামরূপ (৫) ষড়ায়তন (৬) স্পর্শ  

(৭) বেদনা  (৮) তৃষ্ণা (৯) উপাদান (১০) ভব   -  বর্তমান জীবন

(১১) জাতি ও (১২) জরা-মরণ -  ভবিষ্যৎ জীবন

Source: ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ

(বি. দ্র: লেকচার পিডিএফে "ষড়ায়তন" বানান ভুল রয়েছে, এখানে সংশোধিত হলো) 

২৬.
কোন দর্শনকে অক্ষপাদ দর্শন বলা হয়?
  1. ন্যায় দর্শন 
  2. বেদান্ত দর্শন 
  3. সাংখ্য দর্শন
  4. মীমাংসা দর্শন 
সঠিক উত্তর:
ন্যায় দর্শন 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ন্যায় দর্শন 
ব্যাখ্যা

'ন্যায়দর্শনের' প্রতিষ্ঠাতা হইলেন মহর্ষি গৌতম; তাঁহার আর এক নাম ছিল অক্ষপাদ । তাই ন্যায়দর্শনকে 'অক্ষপাদ-দর্শন'ও বলা হয়। কোন কোন নিয়ম অনুসরণ করিলে আমাদের চিন্তা বা তর্ক ফলপ্রদ হয় এবং কি কি উপায় অবলম্বন করিলে যথাযথ জ্ঞানলাভ করা যায়, এই সকল নির্দেশ দেয় বলিয়া 'ন্যায়দর্শনকে' তর্কশাস্ত্র ও ন্যায়বিদ্যা বলা হয়। প্রত্যক্ষের সাহায্যে যা জানা যায় তা পরবর্তীতে আলোচনা করার নাম অন্বীক্ষা। ন্যায়দর্শন এই অন্বীক্ষার সমাধা করে বলিয়া ন্যায়দর্শনকে আন্বীক্ষিকীও বলা হয় । ন্যায়দর্শন মুখ্যতঃ 'প্রমাণ' (যথার্থ জ্ঞানলাভের প্রণালী) সম্পর্কে আলোচনা করে বলিয়া ইহাকে প্রমাণশাস্ত্রও বলা হয়। প্রদীপ যেমন সকল বস্তুকে আলোকিত করে, তেমনি ন্যায়দর্শনও সর্বশাস্ত্রকে নির্ভুলভাবে প্রতিভাত হইতে সাহায্য করে। তাই ন্যায়দর্শনকে অনেকেই 'সর্ববিদ্যার প্রদীপ' বলিয়া অভিহিত করিয়াছেন।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

২৭.
ন্যায় মতে পদার্থ কত প্রকার? 

  1. ১৬
  2. ১২

সঠিক উত্তর:
১৬
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬
ব্যাখ্যা

পদের অর্থের নাম পদার্থ, অর্থাৎ কোন পদ দ্বারা যে অর্থ নির্দিষ্ট হয়, তাহাই পদার্থ । পদার্থসমূহের তত্ত্বজ্ঞান জীবের মুক্তিলাভের জন্য একান্ত প্রয়োজন । 'ন্যায়'-মতে পদার্থ ষোড়শ প্রকার; যথা—(১) প্রমাণ, (২) প্রমেয়, (৩) সংশয়, (৪) প্রয়োজন, (৫) দৃষ্টান্ত, (৬) সিদ্ধান্ত, (৭) অবয়ব, (৮) তর্ক, (৯) নির্ণয়, (১০) বাদ, (১১) জল্প (১২) বিতন্ডা, (১৩) হেত্বাভাস, (১৪) ছল, (১৫) জাতি এবং (১৬) নিগ্রহস্থান । 

Source: ভারতীয় দর্শনে- অর্জুন বিকাশ

২৮.
নিচের কোনটি ভারতীয় ন্যায় ও অ্যারিস্টটলীয় ন্যায়ের সাদৃশ্যমূলক বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. উভয় প্রকার ন্যায়ে তিনটি পদের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়
  2. উভয় ন্যায়ে সার্বিক সম্পর্ক বা ব্যাপ্তিজ্ঞানকে অনুমানের মূল ভিত্তিরূপে গণ্য করা হয়
  3. উভয় ন্যায়ে হেতুর মাধ্যমে পক্ষের সহিত সাধ্যের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় 
  4. উভয় ন্যায়ের লক্ষ্য আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করা
সঠিক উত্তর:
উভয় ন্যায়ের লক্ষ্য আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয় ন্যায়ের লক্ষ্য আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করা
ব্যাখ্যা

ভারতীয় ন্যায়ের সঙ্গে পাশ্চাত্ত্য বা অ্যারিস্টটলীয় ন্যায়ের কোন কোন বিষয়ে সাদৃশ্য এবং কোন কোন বিষয়ে বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। 

সাদৃশ্যগুলি:

(১) উভয় প্রকার ন্যায়ে তিনটি পদের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়; যথা, সাধ্য (Major), পক্ষ (Minor) এবং হেতু (Middle)। 

(২) উভয় ন্যায়ে হেতুর মাধ্যমে পক্ষের সহিত সাধ্যের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় ।

 (৩) উভয় ন্যায়ে সার্বিক সম্পর্ক বা ব্যাপ্তিজ্ঞানকে অনুমানের মূল ভিত্তিরূপে গণ্য করা হয় । 

(৪) পাশ্চাত্ত্য ন্যায় তিন অবয়ববিশিষ্ট, কোন কোন ক্ষেত্রে ভারতীয় ন্যায় ও "তিন অবয়ববিশিষ্ট । তিন অবয়ববিশিষ্ট ন্যায়ের সমর্থনকারী ন্যায়াচার্যগণ ন্যায়ে প্রতিজ্ঞা ও হেতু, এই দুই বচনের দুইবার উল্লেখ নিষ্প্রয়োজন মনে করেন। 

(৫) উভয় ন্যায়ে তর্কবাক্যের মধ্যে একটি সার্বিক বচন হইবে, এই কথা স্বীকার করা হইয়াছে।

বৈসাদৃশ্যগুলি: 

(১) পাশ্চাত্ত্য ন্যায় সকল সময় তিনটি অবয়ববিশিষ্ট; কিন্তু ভারতীয় ন্যায়ে পঞ্চ-অবয়বে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

 (২) তিন অবয়ববিশিষ্ট ভারতীয় ন্যায়ের অবয়বের ক্রম পাশ্চাত্ত্য ন্যায়ের অবয়বের বিপরীত । ভারতীয় তর্কবিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তকে প্রথমেই ব্যক্ত করেন এবং হেতু ও সাধ্যের সার্বিক সম্পর্ককে সর্বশেষে ব্যক্ত করেন; আর পাশ্চাত্ত্য তর্কবিজ্ঞানীরা হেতু ও সাধ্যের সার্বিক সম্পর্ককে প্রথমে ব্যক্ত করেন এবং সিদ্ধান্তকে সর্বশেষে ব্যক্ত করেন। 

(৩) পাশ্চাত্য তর্কবিজ্ঞানীরা ন্যায়ের বিভিন্ন সংস্থান (Figure) এবং বিভিন্ন মূর্তি (Mood) স্বীকার করেন; কিন্তু ভারতীয় তর্কবিজ্ঞানীরা ন্যায়ের সংস্থান বা মূর্তির কোনটাকেই স্বীকার করেন না। 

(৪) পাশ্চাত্ত্য ন্যায়ের লক্ষ্য অনুমানের কেবল আকারগত সত্যতাকে) প্রতিষ্ঠা করা; কিন্তু ভারতীয় ন্যায়ের লক্ষ্য অনুমানের আকারগত ও বস্তুগত উভয় প্রকার সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করা। 

(৫) পাশ্চাত্ত্য তর্কবিজ্ঞানীরা অনুমানকে অবরোহ এবং আরোহ এই দুইভাগে বিভক্ত করিয়াছেন; কিন্তু ভারতীয় তর্কবিজ্ঞানীগণ অবরোহ এবং আরোহ এই উভয় প্রকার অনুমানের সমন্বয় সাধন করিয়াছেন।

Source: ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ

২৯.
নিচের কোনটি  বৌদ্ধদর্শনের 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' (Eight-fold_path) এর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সম্যক সজীব
  2. সম্যক সংকল্প
  3. সম্যক বাক্
  4. সম্যক কর্মান্ত
সঠিক উত্তর:
সম্যক সজীব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্যক সজীব
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেবের চতুর্থ আর্য-সত্য হইল ‘দুঃখ-নিবৃত্তির মার্গ' বা পথও আছে। বুদ্ধদেবের মতে দুঃখের কারণ অপসারণ করিবার মার্গ বা পথই হইল দুঃখ-নিবৃত্তির পথ। এই পথের আটটি অঙ্গ বা স্তর আছে। তাই এই পথকে বৌদ্ধদর্শনে 'অষ্টাঙ্গিক মার্গ' (Eight-fold_path) বলা হয়। এই অষ্টাঙ্গিক মার্গের মধ্যেই বৌদ্ধ দর্শনের নীতিতত্ত্বকে প্রকাশ করা হইয়াছে । এই মার্গের আটটি স্তর হইল— (১) সম্যক দৃষ্টি (সম্মাদিখি), (২) সম্যক সংকল্প (সম্মাসংকল্প), (৩) সম্যক্ বাক্ বা বাক্ সংযম (সম্মাবাচা), (৪) সম্যক্ কর্মান্ত বা সংযত আচরণ (সম্মা-কম্মান্ত), (৫) সম্যক্ আজীব (সম্মা-আজীব), (৬) সম্যক্ ব্যায়াম (সম্মা-ব্যায়াম), (৭) সম্যক স্মৃতি (সম্মাসতি) এবং (৮) সম্যক সমাধি (সম্মা-সমাধি)।
Source: ভারতীয় দর্শন- রমেন্দ্রনাথ ঘোষ

৩০.
বেদের কোন অংশে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা রয়েছে?
  1. মন্ত্র
  2. উপনিষদ
  3. ব্রাহ্মণ 
  4. সংহিতা
সঠিক উত্তর:
উপনিষদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপনিষদ
ব্যাখ্যা

'বেদান্ত' শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হইল 'বেদের অন্ত বা শেষ'। বেদান্ত বলিতে মুখ্যতঃ উপনিষদকেই বুঝায় । এখন প্রশ্ন, উপনিষদকে বেদান্ত বলা হয় কেন? নানাদিক হইতে বিচার করিয়া উপনিষদকে বেদান্ত বলা হয়। প্রথমত, বেদের শেষ অংশ হইল উপনিষদ। বেদ চারি প্রকারের; যথা, ঋক, যজুঃ, সাম ও অথর্ব । প্রত্যেক বেদের আবার তিনটি অংশ; যথা: মন্ত্র,  ব্রাহ্মণ ও  উপনিষদ । মন্ত্র বা সংহিতা অংশে আছে বেদের মন্ত্রগুলি, ব্রাহ্মণ অংশে আছে সংহিতায় উক্ত যাগযজ্ঞাদির বিবরণ ও ব্যাখ্যা, আর উপনিষদে আছে দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা। 
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩১.
নিচের কোন বক্তব্যটি শংকরের দর্শন সম্পর্কে সত্য নয়?
  1. শংকরের অদ্বৈতবাদের মূল কথা : ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা।
  2. মায়া ব্রহ্মেরই একরকম শক্তি এবং ইহা অবর্ণনীয় 
  3. শংকরের মতে ব্রহ্ম জগতে পরিণত হন
  4. শঙ্কর কেবলাদ্বৈতবাদী
সঠিক উত্তর:
শংকরের মতে ব্রহ্ম জগতে পরিণত হন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শংকরের মতে ব্রহ্ম জগতে পরিণত হন
ব্যাখ্যা

পরিণামবাদ অনুসারে কারণ প্রকৃতপক্ষে কার্যে পরিণত হয়; যেমন, দুধ দধিতে পরিণত হয়। সুতরাং দধি হইল দুধেরই পরিণাম । আর বিবর্তবাদ অনুসারে কারণ কার্যে পরিণত হয় না, কার্যরূপে প্রতিভাত হয় মাত্র! রামানুজের মতে সৃষ্টির পূর্বে জগৎ ব্রহ্মের মধ্যে অব্যক্ত অবস্থায় ছিল এবং সৃষ্টির মাধ্যমে এই অব্যক্ত জগৎ ব্যক্ত হয় । সুতরাং এই দৃশ্যমান জগৎ কার্য এবং ব্রহ্মই ইহার কারণ । শঙ্কর কিন্তু এই মতের বিরোধী। তিনি বলেন, ব্রহ্ম জগতে পরিণত হন না, জগৎরূপে প্রতিভাত হন মাত্র; যেমন, রজ্জুতে যখন সর্পভ্রম হয়, তখন রজ্জু সর্পে পরিণত হয় না, সর্পরূপে প্রতিভাত হয় মাত্র।

Source: ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ

৩২.
শ্রীভাষ্য - গ্রন্থটির রচয়িতা কে? 
  1. রামানুজ
  2. শংকর
  3. গৌতম বুদ্ধ
  4. মহাবীর
সঠিক উত্তর:
রামানুজ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামানুজ
ব্যাখ্যা

রামানুজ বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের প্রবর্তক । দর্শনের পরব্রহ্মবাদ এবং ধার্মিকের ঈশ্বরবাদের সমন্বয় সাধনের চেষ্টাই বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। রামানুজের দর্শনকে উভয়-বেদান্ত নামেও অভিহিত করা হয় । রামানুজ তাঁহার বিভিন্ন গ্রন্থে বিশিষ্টাদ্বৈতবাদের বিশদ ব্যাখ্যা করিয়াছেন। ‘বেদান্ত সংগ্রহ’, ‘শ্রীভাষ্য’, ‘বেদান্তদীপ’, ‘বেদান্তসার’ প্রভৃতি বহু গ্রন্থ রামানুজ রচনা করিয়াছেন ।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩৩.
নিচের কোনটি রামানুজের ব্রহ্মের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. রামানুজের ব্রহ্ম ভেদহীন
  2. রামানুজের মতে ব্রহ্ম অসংখ্য সৎ গুণের অধিকারী
  3. রামানুজ ব্রহ্মকে রাজা এবং জড় ও জীবকে তার প্রজা বলেছেন
  4. রামানুজের ব্রহ্মবাদকে  বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ বলা হয়।
সঠিক উত্তর:
রামানুজের ব্রহ্ম ভেদহীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রামানুজের ব্রহ্ম ভেদহীন
ব্যাখ্যা

রামানুজ বলেন, ব্রহ্ম ভেদহীন নহে । অবশ্য ব্রহ্মের স্বজাতীয় ও বিজাতীয় ভেদ নাই, যেহেতু তাঁহার একজাতীয় বা ভিন্নজাতীয় কোন বস্তু নাই, কিন্তু ব্রহ্মের স্বজাতীয় ও তাঁহার স্বগত ভেদ (অঙ্গগত ভেদ) আছে, যেহেতু তাহার অভ্যন্তরে জীব ও জড় রহিয়াছে ।

Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩৪.
ন্যায় মতে প্রমেয় কত প্রকার?
  1. ১২



সঠিক উত্তর:
১২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২
ব্যাখ্যা

প্রমেয়—প্রমা বা যথার্থ জ্ঞানের বিষয়ই হইল প্রমেয়। 'ন্যায়'-মতে প্রমেয় দ্বাদশ প্রকার; যথা,—আত্মা, শরীর, ইন্দ্রিয়-বিষয় বা অর্থ, বুদ্ধি (Cognition), মন, প্রবৃত্তি (Activity), দোষ (Mental defects), প্রেত্যভাব (অর্থাৎ পুনর্জন্ম ও পুনঃপুনঃ মৃত্যু), ফল (অর্থাৎ দোষ ও প্রবৃত্তিজনিত সুখদুঃখের অনুভূতি), দুঃখ এবং অপবর্গ ।

source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩৫.
বৌদ্ধদের দ্বাদশ নিদানের "বিজ্ঞান বা চেতনার" কারণ কি?
  1. অবিদ্যা
  2. সংস্কার
  3. নামরূপ
  4. স্পর্শ 
সঠিক উত্তর:
সংস্কার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংস্কার
ব্যাখ্যা

কারণ হইতে কার্যের দিকে অগ্রসর হইলে দ্বাদশ নিদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাঁড়াইবে নিম্নরূপ :

(১) অবিদ্যা দুঃখের মূল কারণ; অবিদ্যা হইতে (২) সংস্কার, সংস্কার হইতে (৩) বিজ্ঞান বা চেতনা বিজ্ঞান হইতে (৪) নামরূপ বা দেহ-মন দ্বাদশ নিদান বা অবচক্রের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সংগঠন, নামরূপ হইতে (৫) ষড়ায়তন বা ষট ইন্দ্রিয়, ঘড়ায়তন হইতে (৬) স্পর্শ, স্পর্শ হইতে (৭) বেদনা বা ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা, বেদনা হইতে (৮) তৃষ্ণা বা ভোগস্পৃহা, তৃষ্ণা হইতে (৯) উপাদান বা জাগতিক বস্তুর প্রতি আসক্তি, উপাদান হইতে (১০) ভর বা জন্মলাভের বাসনা, ভব হইতে (১১) জাতি বা জন্ম, এবং জাতি হইতে (১২) জরা-মরণ উদ্ভূত হয়।

Source: ভারতীয় দর্শন - অর্জুন বিকাশ।

৩৬.
বুদ্ধের শিষ্যগণ ত্রিপিটক গুলো কোন ভাষায় লিপিবদ্ধ করেন?
  1. পালি
  2. সংস্কৃত
  3. অসমিয়া
  4. উড়িয়া
সঠিক উত্তর:
পালি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পালি
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেবের উপদেশাবলী প্রথমে মুখে মুখে প্রচারিত হইলেও পরে তাঁহার তিনজন বুদ্ধদেবের তিনজন প্রিয় প্রিয় শিষ্য তাঁহার উপদেশাবলীকে তিনটি গ্রন্থে পালিভাষায় লিপিবদ্ধ করেন। এই তিনটি গ্রন্থ 'ত্রিপিটক' (তিনটি পেটিকা) নামে খ্যাত। এই পিটকগুলির নাম—বিনয় পিটক, সুত্ত-পিটক এবং অভিধম্ম- পিটক।
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩৭.
বৌদ্ধ মহাযান সম্প্রদায় কোন দেশে প্রসার লাভ করেছিলো?
  1. ব্রহ্মদেশে
  2. শ্যামদেশে
  3. (ক) ও (খ) উভয়ই
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ধর্মের দিক হইতে বৌদ্ধেরা দুই সম্প্রদায়ে বিভক্ত হন, যথা— বৌদ্ধেরা দুই সম্প্রদায়ে হীনযান ও মহাযান। হীনযান সম্প্রদায় প্রসার লাভ করিয়াছিল সিংহল, বিভক্ত, যথা—হীনযান ব্রহ্মদেশ ও শ্যামে; আর মহাযান সম্প্রদায় প্রসার লাভ করিয়াছিল ও মহাযান তিব্বত, চীন ও জাপানে ।
Source: ভারতীয় দর্শন- অর্জুন বিকাশ

৩৮.
"আসসারে খুদী" - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শাহ ওয়ালীউল্লাহ 
  2. ইবনে রুশদ
  3. আল্লামা ইকবাল
  4. আল গাজালী
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আল্লামা ইকবাল
ব্যাখ্যা

আল্লামা ইকবাল অনেক কাব্যগ্রন্থ ও দার্শনিক গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী “আসরারে খুদী” (১৯২৫) এবং রুমুজ-ই-বিখুদী (১৯২৭) শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে মানুষের ব্যক্তিত্ব (খুদী), স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতার জয়গানে সোচ্চার হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও ‘পয়াম-ই- মাশরিক’ (১৯২৩), ‘জবর-ই-আযম' (১৯২৭), ‘জাবিদনামা' প্রভৃতি ফার্সী গ্রন্থগুলো তাঁর কাব্য রচনার মধ্যে বিখ্যাত । ইকবালের পরবর্তী উর্দু কাব্যগ্রন্থের মধ্যে “বাল-ই-জিব্রাইল’ ও ‘জাবর-ই-তালিম' বিশেষভাবে সুখ্যাত। ১৯২৮-২৯ খ্রিস্টাব্দে মাদ্রাজে প্রদত্ত তাঁর ছ'টি ভাষণের ওপর ভিত্তি করে “The Reconstruction of Religious Thought in Islam” গ্রন্থখানি পরে প্রকাশিত হয় ।
Source: মুসলিম দর্শন - আমিনুল ইসলাম